14.11.2019 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা -- দেহী-অভিমানী হয়ে সার্ভিস করো, তাহলে প্রতি পদক্ষেপে সফলতা প্রাপ্ত হতে থাকবে"

প্রশ্নঃ -
কোন্ স্মৃতিতে থাকলে দেহ-অভিমান আসবে না ?

উত্তরঃ -
যেন সদা স্মৃতি থাকে আমরা গডলি সার্ভেন্ট অর্থাৎ ঈশ্বরীয় সেবাধারী। সার্ভেন্ট বা সেবাধারীদের কখনও দেহ-অভিমান আসতে পারে না। যত যোগে থাকবে ততই দেহ-অভিমান ভঙ্গ হবে ।

প্রশ্নঃ -
দেহ-অভিমানীদের ড্রামা অনুযায়ী কোন দন্ড প্রাপ্ত হয় ?

উত্তরঃ -
তাদের বুদ্ধিতে এই জ্ঞান বসে না। ধনী ব্যক্তিদের ধনের কারণে দেহ-অভিমান থাকে, তাই তারা এই জ্ঞান বুঝতে পারেনা, এও একপ্রকার দন্ড যা তাদের প্রাপ্ত হয়। গরিব মানুষ সহজে বুঝে নেয় ।

ওম্ শান্তি ।
আত্মিক পিতা ব্রহ্মা দ্বারা জ্ঞান প্রদান করছেন। স্মরণ করো তাহলে এইরূপ হবে। সতোপ্রধান হয়ে নিজের স্বর্গে প্রবেশ করবে। এই কথা শুধু তোমাদের বলা হয় না বরং এই সংবাদ তো সম্পূর্ণ ভারতে এমনকি বিদেশেও যাবে সবার কাছে। অনেকের সাক্ষাৎকারও হবে। কার সাক্ষাৎকার হওয়া উচিত ? তাও বুদ্ধি দ্বারা বুঝে নেওয়া উচিত। বাবা ব্রহ্মা দ্বারা-ই সাক্ষাৎকার করিয়ে বলেন - প্রিন্স বা রাজপুত্র হতে হলে যাও ব্রহ্মা বা ব্রাহ্মণদের কাছে। ইউরোপবাসীরাও এই জ্ঞান বুঝতে চায়। ভারত যখন স্বর্গ ছিল তখন কাদের রাজত্ব ছিল ? এই কথা সম্পূর্ণ কেউ জানেনা। ভারত-ই হেভেন বা স্বর্গ ছিল। এখন তোমরা সবাইকে বোঝাচ্ছ। এই হল সহজ রাজযোগ, যার দ্বারা ভারত স্বর্গ বা হেভেনে পরিণত হয়। বিদেশিদের বুদ্ধি তবু অনেক ভালো। তারা চট করে বুঝে নেবে। অতএব এখন সার্ভিসেবল বাচ্চাদের কি করা উচিত ? তাদেরই ডাইরেকশন দিতে হয়। বাচ্চাদের প্রাচীন রাজযোগ শেখাতে হবে। তোমাদের কাছে মিউজিয়াম বা প্রদর্শনীতে অনেকেই আসে। তারা মতামত লিখে দেয় এরা খুব ভালো কাজ করছে। কিন্তু নিজেরা কিছু বোঝে না। একটু আধটু বুদ্ধিতে টাচ হয় তখন আসে তবুও গরিব মানুষ নিজের শ্রেষ্ঠ ভাগ্য নির্মাণ করবে এবং জ্ঞানকে বোঝার পুরুষার্থ করবে। ধনীদের তো পুরুষার্থ করার লক্ষ্য নেই। দেহ-অভিমান অনেক, তাই না। অতএব ড্রামা অনুসারে যেন বাবা তাদের দন্ড দিয়ে দিয়েছেন । যদিও তাদের দিয়েই সংবাদ প্রকাশিত করাতে হয়। বিদেশিরা তো এই জ্ঞান অর্জন করতে চায়। শুনে খুব খুশী হয় । গভর্নমেন্টের অফিসার শেষের দিকে কত পরিশ্রম করে, কিন্তু তাদের সময় নেই। তাদের যদিও ঘরে বসে সাক্ষাৎকারও হয়ে যাবে তবুও বুদ্ধিতে কিছুই থাকবে না। অতএব বাবা বাচ্চাদের পরামর্শ দেন, সকলের মতামত একত্র করে একটি ভালো বই বানাও। পরামর্শ দেওয়া যায় - দেখো, সবার কত ভালো লেগেছে। বিদেশি বা ভারতীয় সবাই সহজ রাজযোগ জানতে চায়। স্বর্গের দেবী-দেবতাদের রাজত্ব যা সহজ রাজযোগের দ্বারা ভারত প্রাপ্ত করে তাহলে এই মিউজিয়াম গভর্নমেন্ট হাউসের ভিতরে লাগালে কেমন হয়। যেখানে কনফারেন্স ইত্যাদি হতে থাকে। এইরূপ চিন্তা ভাবনা বাচ্চাদের চলা উচিত। এখন সময় লাগবে। এত শীঘ্র বুদ্ধি নরম হবে না। বুদ্ধিতে গোদরেজের তালা লাগানো আছে। এখন সংবাদ ছড়ালে তো রিভোলিউশন হয়ে যাবে। হ্যাঁ, সে তো নিশ্চয় হতে হবে। বলো, গভর্নমেন্ট হাউসেও মিউজিয়াম থাকলে অনেক বিদেশিরা এসে দেখবে। বিজয় তো বাচ্চাদের অবশ্যই হবে। তাই চিন্তন চলা উচিত। দেহী-অভিমানীদের এমন চিন্তন আসবে যে কি করা উচিত যাতে দুঃখী মানুষজন জানতে পারে ও বাবার কাছে অবিনাশী উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করতে পারে। আমরা লিখেও থাকি কোনও খরচ না করে...অতএব ভালো ভালো বাচ্চারা এসে পরামর্শ দেয়। ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার উদঘাটন করতে আসেন তো প্রাইম মিনিস্টার, প্রেসিডেন্ট তারাও আসবেন, কারণ তাদেরকে গিয়ে বলা হবে যে এই নলেজ কতখানি ওয়ান্ডারফুল। সত্য প্রকৃত শান্তি তো এভাবেই স্থাপন হবে। সঠিক অনুভব হবে। যুক্তিও দেওয়া হয়েছে সঠিকভাবে। আজ সঠিক অনুভব না হলে আগামী কাল নিশ্চয়ই অনুভব হবে। বাবা বলতেই থাকেন উচ্চ ব্যক্তি বিশেষের কাছে যাও। ভবিষ্যতে তারাও বুঝবে। মানুষের বুদ্ধি তমো প্রধান হয়েছে তাই উল্টো কাজ করে। দিন দিন আরও তমোপ্রধান হয়ে যাচ্ছে।

তোমরা বোঝানোর চেষ্টা কর যে, বিকারী আচরণ বন্ধ করো, নিজের উন্নতি করো। বাবা এসেছেন পবিত্র দেবতায় পরিণত করতে। সেই দিনও আসবে যেদিন গভর্নমেন্ট হাউসে মিউজিয়াম থাকবে। তাদের বলো, খরচ তো আমাদের নিজের হবে। গভর্নমেন্ট তো টাকা দেবে না। তোমরা বাচ্চারা বলবে নিজের খরচায় গভর্নমেন্ট হাউসে মিউজিয়াম লাগাতে পারি। একটি বড় গভর্নমেন্ট হাউসে হয়ে গেলে সব গুলোতেই হয়ে যাবে। বোঝানোর জন্য কেউ থাকা চাই। তাদের বলো সময় নির্দিষ্ট করে দিতে, সেই সময় কেউ এসে কেউ এসে বোঝানোর কাজটা করবে । কোনো রূপ খরচা না করেই জীবন নির্মাণের পথ বলে দেওয়া হবে । এইসব ভবিষ্যতে হবে । কিন্তু বাবা বাচ্চাদের দিয়েই বলেন। ভালো ভালো বাচ্চারা, যারা নিজেদের মহাবীর ভাবে তাদেরকে মায়া আক্রমণ করে। খুব উঁচুতে এই লক্ষ্য। একটুও যেন দেহের অভিমান না আসে ' আমি এই সার্ভিস করি, সেই সার্ভিস করি....'। আমরা তো হলাম ঈশ্বরীয় সেবাধারী (গডলি সার্ভেন্ট)। আমাদের সংবাদ পৌঁছে দিতে হবে, এতেই গুপ্ত পরিশ্রম আছে। তোমরা জ্ঞান ও যোগবলের দ্বারা নিজেদের বোঝাও। এতে গুপ্ত থেকে বিচার সাগর মন্থন করলে নেশা বাড়বে। খুব স্নেহের সাথে বোঝাবে, বেহদের অর্থাৎ অসীম জগতের বাবার অবিনাশী উত্তরাধিকার (বর্সা) প্রতি কল্পে ভারতবাসীরাই প্রাপ্ত করে। ৫ হাজার বছর পূর্বে এই লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজত্ব ছিল। এখন তো বলা হয় বেশ্যালয় । সত্যযুগ হল শিবালয়। ওই হল শিববাবার স্থাপনা, এই হল রাবণের স্থাপনা। রাত-দিনের তফাৎ আছে। বাচ্চারা অনুভব করে যথাযথভাবে আমরা কি রূপে পরিণত হয়েছিলাম। বাবা নিজ সম তৈরি করেন। মূল কথা হল দেহী-অভিমানী হওয়া। দেহী-অভিমানী হয়ে বিচার করতে হয় যে আজ আমাদের অমুক প্রাইম মিনিস্টারকে গিয়ে বোঝাতে হবে। তার দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলে সাক্ষাৎকার হতে পারে। তোমরা দৃষ্টি দিতে পারো। যদি দেহী-অভিমানী হয়ে থাকবে তাহলে তোমাদের ব্যাটারি ভরে যাবে। দেহী-অভিমানী হয়ে বসো, নিজেকে আত্মা নিশ্চয় করে বাবার সঙ্গে যোগ যুক্ত হলে তবেই ব্যাটারি ভরপুর হবে। গরিব মানুষ চট করে নিজের ব্যাটারি ভরতে পারে কারণ বাবাকে অনেক স্মরণ করে। জ্ঞান ভালো আছে কিন্তু যোগ কম তাহলে ব্যাটারি ভরবে না। কারণ দেহের অহংকার অনেক থাকে। যোগ একেবারেই নেই, তাই জ্ঞানবাণ শক্তিশালী নয়। তলোয়ারেও ধার বা শক্তি থাকে। সেই তলোয়ার ১০ টাকারও হয়, ৫০ টাকারও হয়। গুরু গোবিন্দ সিং এর তলোয়ারের সুখ্যাতি আছে। এতে হিংসার কোনো ব্যাপার নেই। দেবতারা হলেন ডবল অহিংসক। আজ ভারত এমন, কালকের ভারত অন্যরকম হবে। অতএব বাচ্চাদের কতখানি খুশীর অনুভব হওয়া উচিত। গতকাল আমরা রাবণ রাজ্যে ছিলাম তখন অশান্তির সীমা ছিল না। আজ আমরা পরমপিতা পরমাত্মার সঙ্গে আছি।

এখন তোমরা হলে ঈশ্বরীয় পরিবারের সদস্য। সত্যযুগে তোমরা থাকবে দৈবী পরিবারের। এখন স্বয়ং ভগবান আমাদের পড়াচ্ছেন, আমরা কত স্নেহ ভালোবাসা প্রাপ্ত করি ভগবানের কাছে। অর্ধকল্প রাবণের স্নেহ প্রাপ্ত করে বানরে পরিণত হই। এখন অসীম জগতের (বেহদের) বাবার ভালোবাসা পেয়ে তোমরা দেবতায় পরিণত হও। ৫ হাজার বছরের কথা। তারা লক্ষ বছর লিখে দিয়েছে। ব্রহ্মবাবাও তোমাদের মতন পূজারী ছিল। বৃক্ষের সবচেয়ে শেষে দাঁড়িয়ে আছে। সত্যযুগে তোমাদের কাছে অসীম ধন সম্পদ ছিল। তারপরে যে মন্দির গুলি নির্মাণ হয়েছে সেখানেও অসীম ধনরাশি ছিল, যা লুট হয়েছে। মন্দির তো আরও অনেক হবে। প্রজাদেরও মন্দির থাকবে। প্রজা তো আরও বেশি ধনী হয়। প্রজার কাছে রাজা রা অর্থ ঋণ নেয়। এই দুনিয়া খুবই নোংরা। সবচেয়ে নোংরা শহর হল কলকাতা। এই স্থান কে পরিবর্তন করার পরিশ্রম বাচ্চারা তোমাদেরই করতে হবে। যে করবে সে পাবে। দেহ-অভিমান হলেই পতন হবে। মন্মনাভবের অর্থ বোঝে না। শুধু শ্লোক মুখস্থ করে নেয়। জ্ঞান তো তাদের বুদ্ধিতে থাকতে পারে না - শুধুমাত্র বাচ্চারা তোমাদের ছাড়া। কোনও মঠ, পন্থী দেবতা হতে পারে না। প্রজাপিতা ব্রহ্মাকুমার - কুমারীরা ব্রাহ্মণ না হলে দেবতায় পরিণত হবে কীভাবে। যারা কল্প পূর্বে হয়েছে তারা-ই হবে। সময় লাগে। কল্পবৃক্ষটি বড় হলে বৃদ্ধি তো হতেই থাকবে। পিপিলিকার পথ চলা থেকে বিহঙ্গ মার্গ হবে। বাবা বোঝান - মিষ্টি বাচ্চারা, বাবাকে স্মরণ করো, স্বদর্শন চক্র ঘোরাও। তোমাদের বুদ্ধিতে সম্পূর্ণ ৮৪-র চক্র আছে। তোমরা ব্রাহ্মণরাই আবার দেবতা ও ক্ষত্রিয় কুলের বংশধর হও। সূর্য বংশী - চন্দ্র বংশীর অর্থও কেউ বোঝে না। পরিশ্রম করে বোঝানো হয়। তবুও বোঝে না তো বুঝে নিতে হয় এখনও সময় হয় নি। তবুও আসে। তারা ভাবে বাইরে ব্রহ্মাকুমারীদের এমন নাম। ভিতরে গিয়ে দেখি তো তারা কি বলে, এরা তো খুব ভালো কাজ করছে। এরা তো মানুষ মাত্রের চরিত্র শুদ্ধ করে। দেবতাদের চরিত্র দেখো কেমন। সম্পূর্ণ নির্বিকারী .... বাবা বলেন কাম হল মহা শত্রু। এই ৫-টি ভূতের জন্যেই তোমাদের চরিত্র খারাপ হয়েছে। যে সময় বোঝানো হয় সেই সময় ভালো হয়। বাইরে গিয়ে সবকিছু ভুলে যায়। তখন বলা হয় শত শত বার করা হয় শৃঙ্গার ....। এই বাবা গাল মন্দ করেন না, বোঝান। দৈব আচার আচরণ রাখো, ক্রোধের বশে চিৎকার করো কেন ! স্বর্গে ক্রোধ হয় না। বাবা সবকিছু সামনে বোঝাতেন, কখনও রাগারাগি করতেন না। বাবা সব রিফাইন করে বোঝান। ড্রামা নিয়ম অনুযায়ী চলতে থাকে। ড্রামায় কোনও ভুল নেই। অনাদি অবিনাশী নির্দিষ্ট আছে। ভালো ভালো যা অ্যাক্ট চলে সেসব আবার ৫ হাজার বছর পরে হবে। অনেকে বলে এই পাহাড় ভেঙে পড়ে গেলে আবার তৈরি হবে কীভাবে। নাটক দেখো, মহল ভাঙে, নাটক আবার রিপিট হলে সেই অক্ষত মহল আবার দেখবে। এইরূপ হুবহু রিপিট হয়। বুঝতে বুদ্ধির প্রয়োজন আছে। কারো বুদ্ধিতে বসানো খুব মুশকিল হয়ে যায়। বিশ্বের হিস্ট্রি-জিওগ্রাফি কিনা। রামরাজ্যে এই দেবী-দেবতাদের রাজত্ব ছিল, তাঁদের পুজো হত। বাবা বুঝিয়েছেন তোমরা-ই পূজ্য ছিলে এবং তোমরা-ই পূজারী হও। আমরা-ই সেই এর অর্থ বাচ্চাদের বুঝিয়েছেন। আমরা-ই সেই দেবতা, আমরা-ই সেই ক্ষত্রিয় ... বাজোলি অর্থাৎ ডিগবাজির খেলা তাইনা। একেই ভালো ভাবে বুঝতে হবে এবং বোঝানোর চেষ্টা করতে হবে। বাবা এমন বলেন না ব্যবসা ত্যাগ করো। না । শুধুমাত্র সতোপ্রধান হতে হবে, হিস্ট্রি-জিওগ্রাফির রহস্য নিজে বুঝে অন্যকে বোঝাও। মূল কথা হল মন্মনাভব। নিজেকে আত্মা ভেবে বাবাকে স্মরণ করো তো সতোপ্রধান হবে। স্মরণের যাত্রা হল এক নম্বর। বাবা বলেন আমি সব বাচ্চাদেরকে সঙ্গে নিয়ে যাব। সত্যযুগে খুব কম মানুষ থাকে। কলিযুগে থাকে অসংখ্য মানুষ । কে সবাইকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। এত বিশাল জঙ্গলের সাফাই কে করেছে ? বাগানের মালি, মাঝি বাবাকেই বলা হয়। তিনিই দুঃখ থেকে মুক্ত করে ওই পারে নিয়ে যান। পড়াশোনা কতখানি মিষ্টি লাগে কারণ নলেজ হল উপার্জনের স্রোত। তোমরা তো অসীম খাজানা প্রাপ্ত করেছ। ভক্তিতে কিছুই প্রাপ্তি নেই। এখানে পায়ে মাথা ঠেকানোর কথা নেই। তারা গুরুর পায়ে শুয়ে পড়ে, এইসব থেকে বাবা মুক্ত করেন। এমন বাবাকে স্মরণ করা উচিত। তিনি আমাদের পিতা, এই কথা বুঝে নিয়েছ তাইনা। বাবার কাছে অবিনাশী উত্তরাধিকার অবশ্যই প্রাপ্ত হয়। সেই খুশী থাকে। তারা লেখে আমরা ধনীদের কাছে গেলে লজ্জা বোধ হত, আমরা গরিব। বাবা বলেন গরিব হলে আরও ভালো কথা। ধনী হলে তো আর এখানে আসতে না। আচ্ছা !

মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) সর্বদা এই খুশীতে বা নেশায় থাকতে হবে যে, এখন আমরা হলাম ঈশ্বরীয় পরিবারের সদস্য, স্বয়ং ভগবান আমাদের পড়াচ্ছেন, তাঁর স্নেহ ভালোবাসা আমরা প্রাপ্ত করছি, যে ভালোবাসার ফলস্বরূপ আমরা দেবতায় পরিণত হব।

২ ) এই সম্পূর্ণ পূর্ব রচিত ড্রামাটি সঠিকভাবে বুঝতে হবে, এর মধ্যে কোনও ভুল হতে পারে না। যা কিছু অ্যাক্ট হয়েছে সেসব রিপিট হবে। এই কথাটি ভালোভাবে বুদ্ধি দিয়ে বুঝে চললে কখনও ক্রোধ অনুভব হবে না।

বরদান:-
জ্ঞানের শ্রেষ্ঠ খাজানা গুলি মহাদানী হয়ে দান করে মাস্টার জ্ঞানের সাগর ভব

ব্যাখা: যেমন বাবা হলেন জ্ঞানের সাগর, এমন মাস্টার জ্ঞানের সাগর হয়ে সদা অন্যদের জ্ঞান প্রদান করো। জ্ঞানের কত শ্রেষ্ঠ খাজানা বাচ্চারা তোমাদের কাছে আছে। সেই খাজানায় ভরপুর হয়ে, স্মরণের অনুভব দ্বারা অন্যদের সেবা করো। যা খাজানা প্রাপ্ত হয়েছে মহাদানী হয়ে সেসব দান করতে থাকো, কারণ এই খাজানা যত দান করবে ততই বাড়বে। মহাদানী হওয়া অর্থাৎ দেওয়া নয় বরং আরো ভরপুর হওয়া।

স্লোগান:-
জীবনমুক্ত হওয়ার সাথে সাথে দেহ থেকে নির্লিপ্ত বিদেহী স্বরূপ হও - এটাই হল পুরুষার্থের লাস্ট স্টেজ ।