15.01.2020 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা- পাশ উইথ অনার হতে চাও তো শ্রীমতের আধারে চলতে থাকো, কুসঙ্গ আর মায়ার ঝড় থেকে নিজেকে সামলে রাখো"

প্রশ্নঃ -
বাবা বাচ্চাদের প্রতি কি সেবা করেছেন, যেটা বাচ্চাদেরও করতে হবে?

উত্তরঃ -
বাবা আদরের বাচ্চা বলে হীরে তুল্য তৈরী করার সেবা করেছেন। সেরকম আমরা অর্থাৎ বাচ্চাদেরও মিষ্টি ভাইদের হীরে তুল্য তৈরী করতে হবে। এর মধ্যে কোনো কষ্টকর ব্যাপার নেই, শুধুমাত্র বলতে হবে যে বাবাকে স্মরণ করলে হীরে তুল্য হয়ে যাবে।

প্রশ্নঃ -
বাবা তাঁর বাচ্চাদের কি আদেশ দিয়েছেন?

উত্তরঃ -
বাচ্চারা, তোমরা সত্যিকারের উপার্জন করো আর করাও। তোমাদের কারোর থেকেই ধার নেওয়ার অনুমোদন নেই।

গীতঃ-
এই পাপের দুনিয়া থেকে দূরে কোথাও নিয়ে চলো ...(ইস পাপ কি দুনিয়া সে..)

ওম্ শান্তি ।
নূতন দুনিয়াতে চলতে সক্ষম, মিষ্টি-মিষ্টি আত্মা রূপী বাচ্চাদের প্রতি বাবা গুডমর্ণিং করছেন। আত্মা রূপী বাচ্চারা নম্বর অনুযায়ী পুরুষার্থ অনুসারে জানে যে প্রতিবার আমরা এই দুনিয়া থেকে দূরে চলে যাচ্ছি। কোথায়? নিজেদের সুইট সাইলেন্স হোমে। শান্তিধাম হলো দূরে, যেখান থেকে আমরা অর্থাৎ এই আত্মারা এসেছি সেটা হলো মূলবতন, এটা হলো স্থূল বতন। ওটা হলো আমাদের আত্মাদের গৃহ। সেই গৃহে তো বাবা ব্যতীত আর কেউ নিয়ে যেতে পারে না। তোমরা এই সকল ব্রাহ্মণ-ব্রাহ্মণীরা আত্মীক সার্ভিস করছো। কে শিখিয়েছেন? দূরে নিয়ে যেতে পারেন যে বাবা। কতো জনকে দূরে নিয়ে যাবেন? অগণিত। এক পান্ডার বাচ্চারা, তোমরা সকলেই হলে পান্ডা। তোমাদের নামই হলো পান্ডব সেনা। তোমরা অর্থাৎ বাচ্চারা প্রত্যেককে দূরে নিয়ে যাওয়ার যুক্তি বলে দাও- মন্মনাভব, বাবাকে স্মরণ করো। বলেও যে- বাবা, এই দুনিয়া থেকে দূরে কোথাও নিয়ে চলো, এখানে নিশ্চিন্ততা নেই। এর নামই হলো দুঃখধাম এখন বাবা তোমাদের কোনো ধাক্কা খাওয়ায় না। ভক্তি মার্গে বাবাকে খুঁজে পেতে তোমরা কতো ধাক্কা খাও। বাবা নিজেই বলেন আমি হলামই গুপ্ত। এই চোখের দ্বারা (চর্মচক্ষে) কেউ আমাকে দেখতে পারে না। কৃষ্ণের মন্দিরে মাথা ঠোকার জন্য কাঠের খড়ম রাখে, আমার তো পা নেই যে তোমাদের মাথা ঠুকতে হবে। তোমাদের তো শুধু বলি- আদরের বাচ্চারা, তোমরাও অন্যান্যদের বলো- মিষ্টি ভাইয়েরা, পারলৌকিক বাবাকে স্মরণ করলে তবে বিকর্ম বিনাশ হবে। ব্যাস আর কোনো কষ্ট নেই। বাবা যেমন হীরে তুল্য করে তোলেন, বাচ্চারাও অন্যান্যদের হীরে তুল্য করে তোলেন। এটাই শেখার আছে- মানুষকে হীরে তুল্য কীভাবে তৈরী করবে? ড্রামা অনুসারে পূর্ব কল্পের ন্যায় প্রতি কল্পের সন্ধিকালে বাবা এসে আমাদের শিখিয়ে দেন। আমরা আবার অন্য সকলকে শেখাই। বাবা হীরে তুল্য গড়ে তুলছেন। তোমাদের জানা আছে মুসলমান (খোজোর) গুরু আগা খাঁকে সোনা, রূপা, হীরে দিয়ে ওজন করা হয়েছিলো। নেহেরুকে সোনা দিয়ে ওজন করেছিলো। এখন তারা তো কাউকে হীরে তুল্য গড়ে তুলতে পারে না। বাবা তো তোমাদের হীরে তুল্য করে গড়তে তুলছেন। ওনাকে তোমরা কিসে ওজন করবে? তোমাদের তো দরকারই নেই। কিছু লোক তো রেসে অনেক পয়সা ওড়ায়। অট্টালিকা, প্রপার্টি ইত্যাদি তৈরী করতে থাকে। বাচ্চারা, তোমরা তো সত্যিকারের উপার্জন করছো। তোমরা কারোর থেকে ধার করলে তা আবার ২১ জন্ম ধরে দিতে হবে। তোমাদের কারোর থেকে ধার নেওয়ার অনুমতি নেই। তোমরা জানো যে এই সময় হলো মিথ্যা উপার্জন, যা বিনষ্ট হয়ে যাবে। বাবা দেখেছেন এসব হলো কড়ি, আমাদের হীরে প্রাপ্তি হয়, তবে আবার এই কড়ি কি করবে? বাবার থেকে কেন অসীম জগতের উত্তরাধিকার নেবে না। দুটো খাওয়ার তো তুমিই পাবে। একটা কথা আছে- যাদের হাত ক্রমাগত প্রদান করে তারা প্রথম নম্বর অর্জন করে। বাবাকে শেয়ারের দালালও বলা হয় যে। বাবা তাই বলেন তোমাদের পুরানো জিনিস এক্সচেঞ্জ করি। কেউ মারা গেলে তো পুরানো জিনিস শ্মশানের ব্রাহ্মণকে (করনীঘোরকে) দিয়ে দেয় যে না! বাবা বলেন তোমাদের থেকে কি নিই তার স্যাম্পল দেখো। দ্রৌপদীও যে একজন ছিল না। তোমরা সকলে হলে দ্রৌপদী। অনেক ডাকতো বাবা আমাকে নগ্ন হওয়ার থেকে বাঁচাও। বাবা কতো ভালোবেসে বোঝান- বাচ্চারা, এই অন্তিম জন্ম পবিত্র হও। বাবা বলেন যে না বাচ্চাদের, যে আমার দাঁড়ির সম্মান রাখো, কুলে কলঙ্ক লাগিও না। তোমাদের অর্থাৎ মিষ্টি-মিষ্টি বাচ্চাদের কতো নিশ্চিন্ত হওয়া উচিত। বাবা তোমাদের হীরে তুল্য করে তোলেন, এঁনাকেও (ব্রহ্মাবাবা) সেই বাবা(শিববাবা) হীরে তুল্য করে তুলছেন।স্মরণ ওনাকে করতে হবে। এই ব্রহ্মা বাবা বলেন আমাকে স্মরণ করলে তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে না। আমি তোমাদের গুরু নই। তিনি আমাকে শেখান, আমি আবার তোমাদের শেখাই। হীরে তুল্য হতে গেলে বাবাকে স্মরণ করো। বাবা বুঝিয়েছেন যে ভক্তি মার্গে যদি কেউ দেবতাকে ভক্তিও করে, তবুও বুদ্ধি দোকান, ব্যবসা ইত্যাদির দিকে পালাতে থাকে, কারণ সেখানে প্রাপ্তি হয়। বাবা নিজের অনুভবও শোনান যে, যখন বুদ্ধি এদিক ওদিক পালাতো তো নিজেকে চাঁটি মারতেন- এটা কেন মনে আসছে? এখন আমাদের অর্থাৎ আত্মাদের এক বাবাকে স্মরণ করতে হবে, কিন্তু মায়া ক্ষণে-ক্ষণে ভুলিয়ে দেয়, ঘুঁষি মারে। মায়া বুদ্ধিযোগ ছিন্ন করে দেয়। নিজের সাথে এরকম ধরনের কথা বলা উচিত। বাবা বলেন- এখন নিজের কল্যাণ করলে, তবে অন্যান্যদেরও কল্যাণ করো, সেন্টার খোলো। এরকম অনেক বাচ্চা বলে- বাবা, অমুক জায়গায় সেন্টার খুলবো? বাবা বলেন আমি তো হলাম দাতা। আমার কিছু দরকার নেই। বাচ্চারা, এই অট্টালিকা ইত্যাদিও তোমাদের জন্যই তৈরী হচ্ছে। শিববাবা তো তোমাদের হীরে তুল্য করে তুলতে এসেছেন। তোমরা যা কিছু করো সেটা তোমাদেরই কাজে আসে। এখানে কোনো গুরু নেই, যে চেলা ইত্যাদি তৈরী করবে, বাড়ী তৈরী করে বাচ্চারাই, নিজেদের থাকার জন্য। হ্যাঁ, বাড়ী যারা তৈরী করান তারা যখন আসে তো আপ্যায়ন করা হয়, যেন আপনি উপরে নূতন বাড়ীতে গিয়ে থাকেন।কেউ তো বলে আমি কেন নূতন বাড়ীতে থাকবো, আমার তো পুরানোই ভালো লাগে। আপনি যেমন থাকেন, আমিও থাকবো। আমি দাতা বলে আমার এমন কোনো অহঙ্কার নেই। বাপদাদাই থাকবেন না তো আমি কেন থাকবো? আমাকেও আপনার সাথে রাখুন। যতো আপনার সান্নিধ্যে থাকবো তত ভালো। বাবা বোঝান- যতো পুরুষার্থ করবে তো সুখধামে উচ্চ পদ প্রাপ্ত করতে পারবে। স্বর্গে তো সবাই যাবে যে না! ভারতবাসী জানে, ভারত পূণ্য আত্মাদের দুনিয়া ছিলো, পাপের লেশ মাত্র ছিলো না। এখন তো পাপ আত্মা হয়ে গেছে। এটা হলো রাবণ রাজ্য। সত্যযুগে রাবণ হয় না। রাবণ রাজ্য হয়ই অর্ধ-কল্প পরে। বাবা এতো বোঝান তাও বোঝে না। কল্প-কল্প এমনই হয়ে এসেছে। নূতন কথা নয়। তোমরা প্রদর্শনী করো, কতো-শতো জন আসে। প্রজা তো অনেক হবে। হীরে তুল্য হতে তো টাইম লাগে। প্রজা হয়ে যাবে সেটাও ভালো। এখন হলোই প্রলয়ের সময়। হিসেব-নিকেশ চুকে যায়। ৮এর মালা যাঁরা হয়েছেন তাঁরা হলেন পাশ উইথ অনার্সের। ৮ দানাই নম্বর ওয়ানে যায়, যাঁদের লেশ মাত্রও সাজা প্রাপ্তি হয় না। কর্মাতীত অবস্থাকে প্রাপ্ত করে নেন। এরপর হলো ১০৮, নম্বর অনুযায়ী তো বলবে যে না। এটা হলো পূর্ব- নির্ধারিত হয়ে আসা অনাদি ড্রামা, যেটার সাক্ষী হয়ে দেখে কে ভালো পুরুষার্থ করে? কোনো কোনো বাচ্চারা পরে এসে, শ্রীমতে চলতে থাকে। এরকমই শ্রীমত অনুযায়ী চলতে থাকলে তো পাশ উইথ অনার্স হয়ে ৮ এর মালাতে আসতে পারে। হ্যাঁ, চলতে-চলতে কখনো খারাপ লক্ষণ দেখা যায়। এই চড়াই-উতরাই সকলের সামনেই আসে। এটা হলো উপার্জন। কখনো অনেক খুশীতে থাকবে, কখনো কম। মায়ার ঝড়ে অথবা কুসঙ্গ পিছু হঠিয়ে দেয়। খুশী লোপ পেয়ে যায়। কথায় আছে সাধু সঙ্গে স্বর্গবাস, কু-সঙ্গে নরক বাস। এখন রাবণের সঙ্গ ডুবিয়ে মারে, রামের সঙ্গ পারা করে দেয়। রাবণের মত অনুযায়ী এরকম হয়েছো। দেবতারাও বামমার্গে বা পাপের পথে যায়। তাদের কিরকম নোংরা চিত্র দেখায়। এটা হলো বামমার্গে যাওয়ার চিহ্ন। ভারতেই রাম রাজ্য ছিলো, ভারতেই এখন রাম রাজ্য। রাবণ রাজ্যে ১০০ পারসেন্ট দুঃখী হয়ে পড়ে। এটা হলো খেলা। এই নলেজ যে কাউকেই বোঝানো কতো সহজ। (এক নার্স বাবার সামনে বসে আছে)- বাবা এই কন্যাকে বলতে থাকেন তুমি হলে নার্স, সেই সার্ভিসও করতে থাকো, সাথে-সাথে তোমরা এই সার্ভিসও করতে পারো। পেরেন্টস কেও এই জ্ঞান শোনাতে থাকো যে বাবাকে স্মরণ করলে বিকর্ম বিনাশ হবে। আবার 21 জন্মের জন্য তোমরা রোগী হবে না। যোগের দ্বারাই হেল্থ আর এই চুরাশি জন্মের চক্রকে জানার ফলে ওয়েল্থ (অবিনাশী ধন) প্রাপ্ত হয়। তোমরা তো অনেক সার্ভিস করতে পারো, অনেকের কল্যাণ করবে। পয়সাও যা প্রাপ্ত করবে, ব্যাস- এই আত্মীক সেবাতে নিয়োগ করবে। বাস্তবে তো তোমরা সকলে হলে নার্স যে না! ছি-ছি নোংরা মানুষদের দেবতায় পরিণত করা- এটা নার্সের মতো সেবা হলো যে না! বাবাও বলেন আমাকে পতিত মানুষ ডাকে যে, এসে পবিত্র করে তোলো। তোমরাও রোগীদের এই সেবা করো, তোমার প্রতি নিজেকে সঁপে দেবে। তোমাদের দ্বারা সাক্ষাৎকারও হতে পারে। যদি যোগ-যুক্ত থাকো তো বড়-বড় সার্জেনরা ইত্যাদি সব তোমাদের চরণে এসে পড়বে। তোমরা করে দেখো। এখানে বর্ষণ করো রিফ্রেস হতে। আবার গিয়ে (জ্ঞান)বর্ষণ করে অন্যদের রিফ্রেস করবে। কোনো বাচ্চাদের এটাও জানা থাকে না যে বৃষ্টি কোথা থেকে আসে? মনে করে ইন্দ্র বর্ষণ করায়। ইন্দ্র-ধনু বলে যে না! শাস্ত্রে তো কতো কথা লিখে দিয়েছে। বাবা বলেন এটা আবার হবে, যা ড্রামা তে পূর্ব নির্ধারিত হয়ে আছে। আমি কারোর গ্লানি করি না, এটা তো হলো যা হয়েছিলো সেই পূর্ব নির্ধারিত অনাদি ড্রামা। বোঝানো হয় যে এটা হলো ভক্তি মার্গ। বলেও যে জ্ঞান, ভক্তি, বৈরাগ্য।বাচ্চারা, তোমাদের এই পুরানো দুনিয়ার প্রতি বৈরাগ্য আছে। তুমি মরলে তো দুনিয়াও তোমার কাছে মরে গেল। আত্মা শরীর থেকে পৃথক হয়ে গেলে তো সেখানেই দুনিয়া সমাপ্ত। বাবা বাচ্চাদের বোঝান - মিষ্টি বাচ্চারা পড়াশুনার প্রতি উদাসীন হয়ো না। সব কিছু নির্ভর করে পড়াশুনার উপর। কোনো ব্যারিস্টার তো লক্ষ টাকা উপার্জন করে আর কোনো ব্যরিস্টারের তো পড়ার জন্য কোট পর্যন্ত থাকে না। পড়াশুনার উপর সম্পূর্ণ নির্ভর করে। এই অধ্যয়ণ তো খুবই সহজ।স্বদর্শন চক্রধারী হতে হবে অর্থাৎ নিজের ৮৪ জন্মের আদি-মধ্য-অন্তকে জানতে হবে। এখন এই বৃক্ষের সমস্তটাই জরাজীর্ণ হয়ে আছে, ফাউন্ডেশন নেই। এছাড়া সমস্ত বৃক্ষ দাঁড়িয়ে আছে। সেরকম এই আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্ম যেটা ছিলো, গোঁড়া ছিলো, সেটা এখন নেই। ধর্ম ভ্রষ্ট, কর্ম ভ্রষ্ট হয়ে গেছে। মানুষ কারোর সদ্গতি দিতে পারে না। বাবা বসে এইসব কথা বোঝাচ্ছেন, তোমরা চিরকালের জন্য সুখী হয়ে যাও। কখনো অকাল মৃত্যু হয় না। অমুকে মরে গেছে, এই কথা সেখানে থাকে না। বাবা তাই আদেশ দেন, অনেককে রাস্তা বলে দেবে তো তারা তোমার কাছে নিজেকে সঁপে দেবে। কারোর সাক্ষাতকারও হতে পারে। সাক্ষাৎকার হলো শুধুমাত্র এম অবজেক্ট। ওর জন্য অধ্যায়ণ করতে হয় যে না। বিনা পড়াশুনায় কি আর ব্যারিস্টার হয়ে যাবে! এরকম নয় যে, সাক্ষাৎকার হলো মানে মুক্ত হয়ে গেলে, মীরার সাক্ষাৎকার হয়ে ছিলো, তাই বলে কৃষ্ণ পুরীতে যায়নি। নৌধা ভক্তি অর্থাৎ নয়টি পর্যায়ে পরিপূর্ণ ভক্তি করলে সাক্ষাৎকার হয়। এখানে হলো আবার নৌধা স্মরণ। সন্ন্যাসী আবার ব্রহ্ম জ্ঞানী, তত্ত্ব জ্ঞানী হয়ে যায়। ব্যাস ব্রহ্মতে লীন হতে হবে। এখন ব্রহ্ম তো পরমাত্মা নয়। এখন বাবা বোঝান যদিও নিজের ধান্ধা ইত্যাদি শরীর নির্বাহ করার জন্যও করো কিন্তু নিজেকে ট্রাস্টি মনে করে, তবে উচ্চ পদ প্রাপ্ত হবে। আবার মায়া-মমতা ঘুচে যাবে। বাবা এসব নিয়ে কি করবেন? ইনি তো সব কিছু ছেড়ে ছিলেন যে। পরিবার বা মহল ইত্যাদি তো তৈরী করার নেই। এই বাড়ী তৈরী করা হয় কারণ অনেক বাচ্চারা আসবে। আবু রোড থেকে এখান পর্যন্ত কিউ(লাইন)লেগে যাবে। তোমাদের এখন প্রভাব বিস্তার হলে মাথাই খারাপ করে দেবে। বড় মানুষেরা এলে ভীড় হয়ে যায়। তোমাদের প্রভাব শেষের দিকে বের হবে, এখন না। বাবাকে স্মরণ করার অভ্যাস করতে হবে, যাতে পাপ খন্ডন হয়। এই প্রকার স্মরণে শরীর ছাড়তে হবে। সত্যযুগে শরীর ছাড়বে, মনে হবে একটা ছেড়ে দ্বিতীয় নূতন নেব। এখানে তো কতো দেহ-অভিমান থাকে। পার্থক্য আছে যে না। এই সব কথা নোট করতে আর করাতে হবে। অন্যান্যদেরও নিজের সমান হীরে তুল্য করে তুলতে হবে। যতো পুরুষার্থ করবে, ততই উচ্চ পদ প্রাপ্ত করবে। এই বাবা বোঝান, এখানে কোনো সাধু-মহাত্মা নেই। এই জ্ঞান বড় মজার, একে ভালো মতো ধারণ করতে হবে। এরকম নয় যে বাবার থেকে শুনে, আবার যেমনকার তেমনই রইল। গানেও শুনলে যে না, বলে সাথে নিয়ে যাও। তোমরা এই কথা আগে বুঝতে না, এখন বাবা বুঝিয়েছেন তাই বুঝেছো। আচ্ছা!

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্নেহ-সুমন স্মরণ-ভালবাসা আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী সন্তানদের জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১| অধ্যয়ণের প্রতি কখনো উদাসীন হতে নেই। স্বদর্শন চক্রধারী হয়ে থাকতে হবে। হীরে তুল্য গড়ে তোলার সেবা করতে হবে।

২| সত্যিকারের উপার্জন করতে আর করাতে হবে। নিজের সমস্ত পুরানো জিনিস এক্সচেঞ্জ করতে হবে। কুসঙ্গ থেকে নিজেকে সামলাতে হবে।

বরদান:-
সত্যিকারের আত্মীক স্নেহের অনুভূতি করাতে সক্ষম মাস্টার স্নেহের সাগর ভব

সাগরের তটে গেলে যেমন শীতলতার অনুভব হয় সেরকম তোমরা অর্থাৎ বাচ্চারা মাস্টার স্নেহের সাগর হলে, যে কোনো আত্মাই তোমাদের সামনে এলে সেই অনুভব করবে যেন স্নেহের মাস্টার সাগরের ঢেউ স্নেহের অনুভূতি করাচ্ছে, কারণ আজকের দুনিয়া সত্যিকারের আত্মীক স্নেহের জন্য খুদার্ত। স্বার্থ সম্পন্ন স্নেহ দেখে-দেখে সেই স্নেহ থেকে হৃদয় বিমুখ হয়ে গেছে, সেইজন্য আত্মীক স্নেহের সামান্যতম সময়ের অনুভূতিও জীবনের অবলম্বন বলে মনে হবে।
 

স্লোগান:-
জ্ঞান ধনের দ্বারা ভরপুর থাকলে স্থূল ধনের প্রাপ্তি স্বতঃই হতে থাকবে।


স্থিতির অনুভব করার জন্য বিশেষ হোমওয়ার্ক
নিজের প্রতিটা সংকল্পকে, প্রতিটা কার্যকে, অব্যক্ত শক্তি দ্বারা অব্যক্ত রূপ দ্বারা ভেরিফাই(যাচাই) করতে হবে।বাপদাদাকে অব্যক্ত রূপে সর্বদা সম্মুখে আর সাথে রেখে প্রতিটা সংকল্প, প্রতিটা কার্য করতে হবে। "সাথী" আর "সাথ"এর অনুভব দ্বারা বাবার সমান সাক্ষী অর্থাৎ নির্লিপ্ত ও প্রিয় হতে হবে।