15.02.2021 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা -- এই সঙ্গমযুগ হলো উত্তরণ কলার যুগ, এখানে সকলেরই ভাল হয়, সেইজন্যই বলা হয়ে থাকে যে -- উত্তরণ কলা, তার কারণেই হয় সকলের মঙ্গল"

প্রশ্নঃ -
বাবা সমস্ত ব্রাহ্মণ বাচ্চাদের অভিনন্দন জানান -- কেন ?

উত্তরঃ -
কারণ বাবা বলেন -- তোমরা অর্থাৎ আমার বাচ্চারাই মানুষ থেকে দেবতা হও। তোমরা এখন রাবণের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হও, তোমরা স্বর্গের রাজত্ব প্রাপ্ত করো, পাস উইথ অনার হও। এগুলো আমি করি না সেইজন্যই বাবা তোমাদের অনেক-অনেক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। আত্মা-রূপী তোমরা হলে ঘুড়ি, তোমাদের সুতো আমার হাতে রয়েছে। আমি তোমাদের স্বর্গের মালিক বানিয়ে দিই।

গীতঃ-
অবশেষে সেই দিন এসেছে আজ......

ওম্ শান্তি ।
এই অমরকথা কে শোনাচ্ছেন ? অমর কথা বলো, সত্যনারায়ণের কথা বলো অথবা তিজরীর কথাই বলো -- এই তিনটিই মুখ্য। এখন তোমরা কার সম্মুখে বসে রয়েছো আর কে তোমাদের শোনাচ্ছেন ? সৎসঙ্গ তো ইনিও অনেক করেছেন। ওখানে তো সব মানুষকে দেখতে পাওয়া যায়। বলবে যে, অমুক সন্ন্যাসী কথা শোনায়। শিবানন্দ শোনায়। ভারতে তো প্রচুরসংখ্যক সৎসঙ্গ রয়েছে। অলি-গলিতে সৎসঙ্গ রয়েছে। মাতারাও পুস্তক নিয়ে(শাস্ত্র পাঠ) বসে-বসে সৎসঙ্গ করে। ওখানে তাই মানুষকেই দেখতে হয় কিন্তু এখানের কথা তো আশ্চর্যজনক। তোমাদের বুদ্ধিতে কে রয়েছে ? 'পরমাত্মা' । তোমরা বলো যে এখন বাবা সম্মুখে এসেছেন। নিরাকার বাবা আমাদের পড়ান। মানুষ বলবে -- সেই ঈশ্বর তো নাম-রূপের ঊর্ধ্বে। বাবা বোঝান, নাম-রূপের ঊর্ধ্বে কোনও বস্তু হয় না। বাচ্চারা, তোমরা জানো যে, এখানে কোনও সাকারী মানুষ পড়ায় না আর যেখানেই যাও, সমগ্র বিশ্বে সাকারীই পড়ায়। এখানে সুপ্রীম বাবা রয়েছেন, যাঁকে নিরাকার গডফাদার বলা হয়, তিনি নিরাকার সাকারের মধ্যে বসে পড়ান। এ হলো সম্পূর্ণ নতুন কথা। জন্ম-জন্মান্তর ধরে তোমরা শুনে এসেছো, এই অমুকে হলো পন্ডিত, গুরু। অনেক-অনেক নাম রয়েছে। ভারত তো অনেক বড়। যাকিছু শেখায়, বোঝায় তারা সব মানুষই। মানুষই শিষ্য হয়েছে। অনেকপ্রকারের মানুষ রয়েছে। অমুকে শোনায়। সর্বদাই শরীরের নাম নেওয়া হয়। ভক্তিমার্গে নিরাকারকে আবাহন করা হয় -- হে পতিত-পাবন এসো। তিনিই এসে বাচ্চাদের বোঝান। বাচ্চারা, তোমরা জানো যে প্রতি কল্পে সমগ্র দুনিয়া পতিত হয়ে যায়, তা পবিত্র করেন যিনি, তিনিই হলেন সেই একমাত্র নিরাকার বাবা। তোমরা এখানে যারা বসে রয়েছো, তোমাদের মধ্যেও কেউ কাঁচা, কেউ পাকা রয়েছে কারণ তোমরা অর্ধেক কল্পে দেহ-অভিমানী হয়ে গিয়েছিলে। এখন এই জন্মে দেহী-অভিমানী হতে হবে। তোমাদের দেহে নিবাসকারী যে আত্মা রয়েছে তাকে পরমাত্মা বসে বোঝান। আত্মাই সংস্কার নিয়ে যায়। আত্মাই অরগ্যান্স দ্বারা বলে যে -- আমি অমুক। কিন্তু আত্ম-অভিমানী তো কেউই নয়। বাবা বোঝান -- যারা এই ভারতে সূর্যবংশীয়-চন্দ্রবংশীয় ছিল, তারাই এইসময়ে এসে ব্রাহ্মণ হবে তারপর দেবতা হবে। মানুষ দেহ-অভিমানে থাকার অভ্যাসী তাই দেহী-অভিমানী হয়ে থাকতে ভুলে যায় সেইজন্য বাবা প্রতিমুহূর্তে বলেন যে, দেহী-অভিমানী হও। আত্মাই বিভিন্নরকমের বস্ত্র(শরীর) পরিধান করে তার ভূমিকা পালন করে। এ'সব হলো তার কর্মেন্দ্রিয়। এখন বাবা বাচ্চাদের বলেন -- মন্মনাভব। এছাড়া কেবলমাত্র গীতা পড়লেই কি কেউ রাজ্য-ভাগ্য লাভ করতে পারে, না তা পারে না। এখন তোমাদের ত্রিকালদর্শী বানানো হয়। রাত-দিনের পার্থক্য হয়ে যায়। বাবা বোঝান যে, আমি তোমাদের রাজযোগ শেখাই। কৃষ্ণ তো সত্যযুগের প্রিন্স। যারা সূর্যবংশীয় দেবতা ছিল তাদের মধ্যে জ্ঞান ছিল না। জ্ঞান তো প্রায় লুপ্ত হয়ে যাবে। এই জ্ঞান হলোই সদ্গতির জন্য। সত্যযুগে দুর্গতিতে কেউ থাকেই না। ওটা হলোই সত্যযুগ। এখন হলো কলিযুগ। ভারতে প্রথমে সূর্যবংশে ৮ জন্ম পুনরায় চন্দ্রবংশে ১২ জন্ম হয়। তোমাদের এখনের এই এক জন্ম সর্বাপেক্ষা ভালো জন্ম। তোমরা হলে প্রজাপিতা ব্রহ্মার মুখ-বংশজাত। এ হলো সর্বোত্তম ধর্ম। দেবতা ধর্মকে সর্বোত্তম ধর্ম বলা হবে না। ব্রাহ্মণ ধর্মই সর্বাপেক্ষা উচ্চ। দেবতারা তো প্রালব্ধ(ফল) ভোগ করে। এখন অনেক সমাজ-সেবী রয়েছে। তোমাদের হলো আধ্যাত্মিক সেবা। ওটা হলো শারীরিক অর্থাৎ স্থূল সেবা করা। আধ্যাত্মিক সেবা একবারই করা যায়। পূর্বে এই সমাজ-সেবী ইত্যাদিরা ছিল না। রাজা-রানী রাজত্ব করতো। সত্যযুগে দেবী-দেবতারা ছিল। তোমরাই পূজ্য ছিলে পুনরায় পূজারী হয়েছো। লক্ষ্মী-নারায়ণ দ্বাপরে যখন বাম-মার্গে চলে যায় তখন তাদের মন্দির তৈরী করা হয়। সর্বপ্রথমে শিবের তৈরী হয়। তিনিই হলেন সকলের সদ্গতি দাতা তাহলে ওঁনার পূজা তো অবশ্যই হওয়া উচিত। শিববাবাই আত্মাদের নির্বিকারী করেছিলেন, তাই না। তারপর হয় দেবতাদের পূজা। তোমরাই পূজ্য ছিলে পুনরায় পূজারী হয়েছো। বাবা বুঝিয়েছেন যে -- চক্রকে স্মরণ করতে থাকো। সিঁড়িতে নামতে-নামতে একদম মাটিতে এসে পড়েছো। এখন হলো তোমাদের আরোহন-কলা। কথিতও আছে যে, আরোহন-কলার মাধ্যমে সকলের মঙ্গল সাধিত হয়। সমগ্র দুনিয়ার সকল মানুষকেই এখন আরোহন-কলায় নিয়ে যাই। পতিত-পাবন এসে সকলকে পবিত্র করেন। যখন সত্যযুগ ছিল তখন আরোহন-কলা ছিল আর বাকি সকল আত্মারা মুক্তিধামে ছিল। বাবা বসে থেকে বোঝান যে -- মিষ্টি-মিষ্টি বাচ্চারা, আমার জন্ম ভারতেই হয়। শিববাবা এসেছিলেন, এর গায়ন রয়েছে। পুনরায় এখন এসেছেন। একে বলা হয় রাজস্ব অশ্বমেধ অবিনাশী রুদ্র জ্ঞান যজ্ঞ। স্বরাজ্য প্রাপ্ত করার জন্য যজ্ঞ রচিত হয়েছে। বিঘ্ন ঘটেছিল, এখনও ঘটছে। মাতাদের উপর অত্যাচার হয়। তারা বলে যে, বাবা এরা আমাদের নগ্ন করে(বিকারে নিয়ে যায়)। এরা আমাদের ছাড়ে না। বাবা আমাদের রক্ষা করো। দেখানো হয়েছে যে, দৌপদীকে রক্ষা করা হয়েছে। এখন তোমরা ২১ জন্মের জন্য অসীম জগতের বাবার থেকে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করতে এসেছো। স্মরণের যাত্রায় থেকে নিজেকে পবিত্র করো। পুনরায় বিকারে গেলেই শেষ, একদম অধঃপতনে যাবে তাই বাবা বলেন, অবশ্যই পবিত্র থাকতে হবে। যে কল্প-পূর্বে হয়েছিল সে-ই পবিত্রতার প্রতিজ্ঞা করবে, তারপরেও কেউ পবিত্র থাকতে পারে, কেউ পারে না। মুখ্য কথাই হলো স্মরণের। স্মরণ করবে, পবিত্র থাকবে আর স্বদর্শন-চক্র ঘোরাতে থাকবে তবেই উচ্চপদ লাভ করবে। বিষ্ণুর দ্বৈত-রূপ রাজ্য করে, তাই না! কিন্তু বিষ্ণুকে যে শঙ্খ, চক্র দিয়ে দেওয়া হয়েছে তা দেবতাদের ছিল না। লক্ষ্মী-নারায়ণেরও ছিল না। বিষ্ণু তো সূক্ষ্মলোকে থাকে, ওঁনার এই চক্রের জ্ঞানের প্রয়োজন নেই। ওখানে চলে মুভি। এখন তোমরা জানো যে, আমরা শান্তিধামের বাসিন্দা। ওটা হলো নিরাকারী দুনিয়া। এখন আত্মা কি বস্তু, সেটাও কোনো মানুষই জানে না। বলে দেয় -- আত্মাই পরমাত্মা। আত্মার উদ্দেশ্যে বলা হয় যে, এক উজ্জ্বল নক্ষত্র যা ভ্রুকুটির মধ্যভাগে থাকে। এই (স্থূল) নয়ন দ্বারা দেখতে পারবে না। অবশ্যই কেউ যতই প্রচেষ্টা করুক, কাঁচ ইত্যাদির মধ্যে বন্ধ করে রেখে যে দেখি, আত্মা কিভাবে বেরিয়ে যায় ? প্রচেষ্টা করে কিন্তু কেউই জানতে পারে না যে -- আত্মা কি জিনিস, কিভাবে বেরিয়ে যায় ? এছাড়া এতটা তো বলে যে, আত্মা নক্ষত্রের মতন। দিব্য-দৃষ্টি ব্যতীত তাকে দেখা যায় না। ভক্তিমার্গে অনেকের সাক্ষাৎকার হয়। লিখিত রয়েছে যে, অর্জুনের অখন্ড জ্যোতির সাক্ষাৎকার হয়েছে। অর্জুন বলেন যে, আমি সহন করতে পারছি না। বাবা বোঝান যে, এরকম তেজোময় ইত্যাদি কিছুই নেই। যেভাবে আত্মা এসে শরীরে প্রবেশ করে, বুঝতে পারা যায় নাকি! এখন তোমরাও জানো যে, বাবা কিভাবে প্রবেশ করে কথা বলেন। আত্মা এসে বলে। এ সবও ড্রামায় নির্ধারিত হয়ে আছে, এ কারোর শক্তির কথা নয়। আত্মা কোনো শরীর পরিত্যাগ করে যায় না। এ হলো সাক্ষাৎকারের কথা। বিস্ময়কর কথা, তাই না! বাবাও বলেন -- আমি সাধারণ শরীরে আসি। আত্মাকে আবাহনও করা হয়, তাই না! পূর্বে আত্মাদের আহ্বান করে তাদের জিজ্ঞাসাও করা হতো। এখন তো তমোপ্রধান হয়ে গেছে, তাই না! বাবা আসেনই এইজন্য যে, আমি গিয়ে পতিতদের পবিত্র করবো। বলেও যে, ৮৪ জন্ম। তাহলে বোঝান উচিত যে যারা প্রথমে এসেছে অবশ্যই তারাই ৮৪ জন্ম নিয়েছে। ওরা তো লক্ষ-লক্ষ বছর বলে দেয়। এখন বাবা বোঝান যে, তোমাদের স্বর্গে পাঠিয়েছিলাম। তোমরা গিয়ে রাজ্য করেছিলে। তোমাদের ভারতবাসীদের স্বর্গে পাঠিয়েছিলাম। সঙ্গমে রাজযোগ শিখিয়েছিলাম। বাবা বলেন -- আমি কল্পের সঙ্গম যুগে আসি। গীতায় আবার যুগে-যুগে শব্দটি লিখে দিয়েছে। এখন তোমরা জানো যে, আমরা কিভাবে সিঁড়ি দিয়ে নীচে নামি পুনরায় চড়ি। আরোহন-কলা তারপর অবরোহন-কলা। এখন এ হলো সঙ্গমযুগ, সকলের আরোহন-কলার যুগ। সকলেই চড়তে থাকে। সকলেই উপরে যাবে পুনরায় তোমরা স্বর্গে আসবে নিজ ভূমিকা পালন করতে। সত্যযুগে দ্বিতীয় আর কোনো ধর্ম ছিল না। তাকে বলা হয় নির্বিকারী দুনিয়া। পুনরায় দেবী-দেবতারা বাম-মার্গে গিয়ে বিকারী হতে থাকে, যেমন রাজা-রানী তেমনই প্রজা। বাবা বোঝান -- হে ভারতবাসী, তোমরা নির্বিকারী দুনিয়ায় ছিলে। এখন হলো বিকারী দুনিয়া। অনেক ধর্মই রয়েছে কেবল এক দেবী-দেবতা ধর্মই নেই। অবশ্যই যখন থাকবে না পুনরায় তখনই তো স্থাপিত হবে। বাবা বলেন -- আমি এসে ব্রহ্মার দ্বারা আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্মের স্থাপনা করি। এখানেই তো করবো, তাই না! সূক্ষ্মলোকে তো করবো না। লিখিত রয়েছে যে, ব্রহ্মার দ্বারা আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্ম রচনা করেন। এইসময় তোমাদের পবিত্র বলা যাবে না। তোমরা পবিত্র হচ্ছো। সময় তো লাগে, তাই না! পতিত থেকে পবিত্র কিভাবে হবে, একথা কোনো শাস্ত্রে নেই। বাস্তবে মহিমা তো কেবল একমাত্র বাবারই। সেই বাবাকে ভুলে যাওয়ার জন্যই অনাথ হয়ে পড়েছে। লড়াই-ঝগড়া করতে থাকে। আবার এও বলে যে, সকলে মিলেমিশে এক কিভাবে হবো ? ভাই-ভাই তো, তাই না! বাবা তো অনুভবী। ভক্তিও ইনি সম্পূর্ণ করেছেন। সর্বাধিক গুরুও করেছেন। এখন বাবা বলেন -- এই সমস্তকিছু পরিত্যাগ করো। এখন তুমি আমায় পেয়েছো। বলাও হয় যে, সকলের সদ্গতিদাতা হলেন সৎশ্রী অকাল, তাই না! অর্থ কিছুই বোঝে না। অনেক তো পড়তে থাকে। বাবা বোঝান যে, এখন সবকিছুই অপবিত্র পুনরায় পবিত্র দুনিয়া তৈরী হবে। ভারতই অবিনাশী। তা কারোরই জানা নেই। ভারতের বিনাশ কখনই হয় না আর না কখনও প্রলয় হয়। এই যে দেখানো হয় সমুদ্রের মাঝে অশত্থ পাতায় করে শ্রীকৃষ্ণ আসে -- এখন অশত্থ পাতায় করে তো কোনও শিশু আসতে পারে না। বাবা বোঝাতে থাকেন যে, তোমরা (মাতৃ) গর্ভ থেকে জন্মগ্রহণ করবে, অতি স্বাচ্ছন্দ্যে (আরামপূর্বক)। ওখানে একে গর্ভ-মহল বলা হয়, আর এ হলো গর্ভ-জেল। সত্যযুগে হলো গর্ভ-মহল। তা পূর্বেই আত্মার সাক্ষাৎকার হয়। এই শরীর পরিত্যাগ করে অন্য ধারণ করতে হবে। ওখানে আত্ম-অভিমানী থাকে। মানুষ তো না রচয়িতাকে, না রচনার আদি-মধ্য-অন্তকে জানে। এখন তোমরা জানো যে, বাবা হলেন জ্ঞানের সাগর। তোমরা হলে মাস্টার সাগর।তোমরা (মাতারা) হলে নদী আর এই গোপেরা (ভ্রাতারা) হলো জ্ঞানের মানস-সরোবর। এরা হলো জ্ঞানের নদী। তোমরা হলে সরোবর। প্রবৃত্তিমার্গ চাই, তাই না। তোমাদের পবিত্র গৃহস্থ-আশ্রম ছিল। এখন তা পতিত। বাবা বলেন -- একথা সদা স্মরণে রেখো যে আমরা হলাম আত্মা। একমাত্র বাবাকেই স্মরণ করতে হবে। বাবা আদেশ করেছেন যে, কোনও দেহধারীকে স্মরণ কোরো না। এই নয়নের দ্বারা যা কিছু দেখো তা সবকিছুই শেষ হয়ে যাবে তাই বাবা বলেন -- মন্মনাভব, মধ্যাজীভব। এই কবরস্থানকে ভুলতে থাকো। মায়ার ঝড় অনেক আসবে, একে ভয় পেয়ো না। ঝড় অনেক আসবে কিন্তু কর্মেন্দ্রিয়ের দ্বারা (বিকারী) কর্ম করবে না। ঝড় তখনই আসে যখন তোমরা বাবাকে ভুলে যাও। এই স্মরণের যাত্রা একবারই হয়। ওটা হলো মৃত্যুলোকের যাত্রা, আর এ হলো অমরলোকের যাত্রা। সে'জন্য বাবা এখন বলেন, কোনও দেহধারীকে স্মরণ কোরো না।

বাচ্চারা,শিব-জয়ন্তীর জন্য কত টেলিগ্রাম (তার) পাঠায়। বাবা বলেন -- তত্বতম অর্থাৎ তোমাদের ক্ষেত্রেও এটি সমানভাবে প্রযোজ্য। বাচ্চারা, তোমাদেরকেও বাবা অভিনন্দন জানান। বাস্তবে তোমাদেরকেই অভিনন্দন জানানো উচিত কারণ তোমরাই মানুষ থেকে দেবতায় পরিনত হও। আবার যারা পাস উইথ অনার হবে তারা অধিক এবং ভালো নম্বর প্রাপ্ত করবে। বাবা তোমাদের এরজন্য অভিনন্দন জানান যে, এখন তোমরা রাবণের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়ে যাও। সকল আত্মাই ঘুড়ি। সকলের সূতোই বাবা হাতে রয়েছে। তিনিই সকলকে নিয়ে যাবেন। তিনি সকলের সদ্গতিদাতা। তোমরা কিন্তু স্বর্গের রাজত্ব প্রাপ্ত করার জন্য পুরুষার্থ করছো। আচ্ছা!

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আধ্যাত্মিক পিতা তাঁর আত্মা-রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) পাস উইথ অনার হওয়ার জন্য একমাত্র বাবাকেই স্মরণ করতে হবে, কোনও দেহধারীকে নয়। এই (স্থূল) নয়নের দ্বারা যা কিছু দেখা যায় তা দেখেও দেখো না।

২ ) আমরা অমরলোকের যাত্রাপথে চলেছি, তাই মৃত্যুলোকের কিছুই যেন স্মরণে না থাকে, এই কর্মেন্দ্রিয়গুলির দ্বারা কোনো বিকর্ম যেন না হয়, সেইদিকে ধ্যান রাখতে হবে।

বরদান:-
অতীন্দ্রিয় সুখ-সমৃদ্ধ স্থিতির দ্বারা অনেক আত্মাদের আহ্বানকারী বিশ্ব কল্যাণকারী ভব

অন্তিমের কর্মাতীত স্টেজ যত সমীপে আসতে থাকবে ততই শব্দধ্বনি থেকে পৃথক হয়ে শান্ত-স্বরূপ স্থিতিই অধিক প্রিয় বলে অনুভূত হবে -- এই স্থিতিতে সদা অতীন্দ্রিয় সুখের অনুভূতি হবে এবং এই অতীন্দ্রিয় সুখময় স্থিতি দ্বারা অসংখ্য আত্মাদের সহজেই আহ্বান করতে পারবে। এইরকম শক্তিশালী স্থিতিই হলো বিশ্ব কল্যাণকারী স্থিতি। এই স্থিতির দ্বারা কতদূরে বসবাসকারী আত্মাকে সমাচার পৌঁছে দিতে পারো।

স্লোগান:-
প্রত্যেকের বিশেষত্বকে স্মৃতিতে রেখে বিশ্বাসভাজন হও তবেই সংগঠন একমত হয়ে যাবে।