১৫-০৩-১৯ প্রাতঃমুরলী ওম্ শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


মিষ্টি বাচ্চারা - অন্তর্মুখী হয়ে বিচার সাগর মন্থন করো, তবে খুশী আর নেশা থাকবে, তোমরা বাবা সম টিচার হয়ে যাবে।

প্রশ্ন:-

কিসের ভিত্তিতে অন্তরের খুশী স্থায়ী হতে পারে ?

উত্তর:-

স্থায়ী খুশী তখনই থাকবে যখন অপরেরও কল্যাণ করে সবাইকে খুশী করবে। করুণাময় হতে পারলে খুশী থাকবে। যে করুণাময় হয় তার বুদ্ধিতে থাকে আহা ! আমাদেরকে সকল আত্মাদের পিতা পড়াচ্ছেন, পবিত্র বানাচ্ছেন, আমরা বিশ্বের মহারাজ হচ্ছি ! তারা এমন খুশীর দান করতে থাকে*।

ওম্ শান্তি ।

আত্মাদের পিতা আত্মা রূপী বাচ্চাদের জিজ্ঞাসা করেছেন - বাচ্চারা এই ওম্ শান্তি কে বলেছে ? (শিববাবা) হ্যাঁ শিববাবা বলেছেন, কারণ বাচ্চাদের জানা আছে ইনি সব আত্মাদের পিতা। উনি বলেন, আমি কল্প কল্প এই রথে এসেই পড়াই। এখন ইনি হলেন পড়ানোর টিচার। টিচার এলে বলবেন গুডমর্নিং। বাচ্চারাও বলবে গুডমর্নিং। বাচ্চারা এটা জানে যে পরমাত্মা আত্মাদের গুডমর্নিং করেন। লৌকিক নিয়মে তো গুডমর্নিং অনেকই করতে থাকে। ইনি তো অসীম জগতের (বেহদের) বাবা, যিনি এসে পড়ান। বাচ্চাদের সমস্ত কল্পবৃক্ষ এবং ড্রামার রহস্য বোঝান। তোমরা জানো যে, যে সকল আত্মারা আছে, তাদের সকলেরই যিনি পিতা, তিনি এসেছেন। এই দৃঢ় বিশ্বাস সারা দিন বুদ্ধিতে থাকুক যে অসীম জগতের (বেহদের) বাবা আমাদের পড়ান, তিনি হলেন আমাদের পিতা, টিচার, গুরু। ওঁনাকে রচয়িতাও বলা হয়-এটাও বোঝাতে হবে। তোমাদের এটাও বুঝতে হবে যে উনি আত্মাদের রচনা করেন না। তিনি বোঝান যে- আমি হলাম বীজরূপ। এই মনুষ্য সৃষ্টি রূপী বৃক্ষের নলেজ তোমাদের শোনাই। বীজ ব্যাতীত এই নলেজ কে দেবে ? এরকম বলা হবে না যে, বৃক্ষকে উনি রচনা করেছেন। তিনি বলেন - বাচ্চারা, এটা তো হল অনাদি। না হলে তো আমি তিথি-তারিখ সব কিছু বলব- কখন আর কি ভাবে রচনা করেছি। কিন্তু এ তো হল অনাদি রচনা। বাবাকে জ্ঞানের সাগর বলা হয়। জানি জাননহার অর্থাৎ যিনি বৃক্ষের আদি-মধ্য-অন্তের রহস্য জানেন। বাবা-ই হলেন মনুষ্য সৃষ্টির বীজরূপ, জ্ঞানের সাগর। ওঁনার মধ্যেই সমস্ত নলেজ আছে, তিনি এসে বাচ্চাদের পড়ান। সব মানুষ বলতে থাকে- শান্তি (পীস) কীভাবে স্থাপন হবে? তোমরা এখন বলবে যে শান্তি তো (পীস) শান্তির সাগরই স্থাপন করবেন। উনি হলেন শান্তি, সুখ আর জ্ঞানের সাগর। কোন্ জ্ঞান? সৃষ্টির আদি-মধ্য-অন্তের জ্ঞান। লোকেরা জ্ঞান বলতে তো শাস্ত্রকেও বোঝে। শাস্ত্র শোনানোর মতো তো অনেকে আছে। এই অসীম জগতের বাবা নিজেই এসে পরিচয় দেন আর সৃষ্টির আদি-মধ্য-অন্তের নলেজও দেন। তোমরা এটাও বোঝো যে ওঁনার আগমনেই পীস স্থাপন হয়ে যায়। ওখানে হলই পীস। এটাও কেউ জানে না যে শান্তিধামে সবাই শান্তিতে ছিল। লোকেরা বলতে থাকে যে এখানে পীস কীভাবে হবে ? এখানে অবশ্যই ছিল। শান্তির প্রয়োজন রাম রাজ্যে। রাম রাজ্য কবে ছিল- এটা কারও জানা নেই। বাবা জানেন কতো কতো আত্মা রয়েছে । আমি এদের সকলেরই পিতা। এরকম আর কেউ বলতে পারবে না। যত যত আত্মা আছে, সবাই এই সময় এখানে আছে। প্রথমে শান্তিধামে ছিল তারপর আবার সুখধাম থেকে দুঃখধামে এসেছে। সুখ- দুঃখের এই খেলা কেমন তৈরী হয়ে আছে- এটা কেউ জানে না। শুধু এমনিই বলে দেয় যে আসা যাওয়ার খেলা। এখন তোমাদের অর্থাৎ বাচ্চাদের বুদ্ধিতে আছে যে উনি আমাদের সব আত্মাদের পিতা। উনি আমাদের নলেজ শোনাচ্ছেন। উনি এসে আমাদের স্বর্গের রাজ্য স্থাপন করেন। আমাদের পড়ান। বলেন - বাচ্চারা, তোমরাই দেবতা ছিলে। এরকম তো আর কেউ বলবে না, সব আত্মাদের পিতা তোমাদের পড়াচ্ছেন। অসীম জগতের এই নাটক কতো বড়, তারা লক্ষ বছর বলে দেয়। তোমরা বলবে এই খেলা পাঁচ হাজার বছরের। *এখন তোমরা জেনে গেছ শান্তি হল দুই প্রকারের - এক হল শান্তিধামের, দ্বিতীয়, সুখধামের*। এটা তোমাদের অর্থাৎ বাচ্চাদের বুদ্ধিতে আছে যে, সব আত্মাদের বাবা আমাদের পড়াচ্ছেন। এটা তো কোন শাস্ত্রেই নেই। তিনি হলেন অসীম জগতের বাবা ! সব ধর্মের লোকই আল্লাহ্ , গডফাদার, প্রভু ইত্যাদি ইত্যাদি বলে। ওঁনার পঠনপাঠন অবশ্যই অত উচ্চ মানেরই হবে। এটা সারাদিন তোমাদের মনের মধ্যে থাকা চাই। বাবা বলেন, আমি তোমাদেরকে নতুন কথা শোনাচ্ছি। নতুন নিয়মে পড়াই। তোমরা আবার অন্যদের পড়াও। ভক্তি মার্গে দেবীদেরও অনেক সম্মান। বাস্তবে তো এই ব্রহ্মাও হলেন বড় মা। এঁনাকে (শিবকে) তো শুধু পিতা বলবে। মাতা-পিতা এঁদের দু'জনকেই বলা হবে । এই মাতার (ব্রহ্মা বাবা) দ্বারা বাবা তোমাদের অ্যাডপ্ট করেন। তোমাদেরকে বাচ্চারা বাচ্চারা বলতে থাকেন।



বাবা বলেন আমি প্রতি পাঁচ হাজার বছর বাদে তোমাদের এই নলেজ শোনাই। এই চক্রও তোমাদের বুদ্ধিতে আছে। তোমরা এক একটা শব্দ নতুন শোনো।জ্ঞান সাগর বাবার আত্মীক নলেজ আছে। আত্মা রূপী বাবা-ই হলেন জ্ঞানের সাগর। আত্মা বলে বাবা। বাচ্চারাও সব কথা ভালো ভাবে বুদ্ধিতে ধারণ করে। অন্তর্মুখী হয়ে যখন ঐরকম বিচার সাগর মন্থন করবে তখন সেই খুশী আর নেশা থাকবে। বড় টিচার তো হলেন শিববাবা। উনি আবার তোমাদেরকেও টিচার করে তোলেন। এর মধ্যেও আবার নম্বর অনুযায়ী রয়েছে । বাবা জানেন - এই বাচ্চা খুব ভালো পড়ায়। সবাই খুশী হয়। বলে এরকম বাবার কাছে আমাদের তাড়াতাড়ি নিয়ে চলো, যিনি তোমাকে এরকম তৈরী করেছেন। বাবা বলেন- আমি এনাকে অনেক জন্মের অন্তিম জন্মেরও অন্তিম কালে এনার মধ্যে প্রবেশ করে তোমাদের পড়াই। কতোবার, প্রত্যেক কল্পে আমি এই ভারতে এসেছি। তোমরা এই নতুন কথা শুনে বিস্মিত হও। অসীম জগতের বাবা আমাদের পড়াচ্ছেন। ওঁনারই ভক্তি মার্গে কতো নাম, তাঁকে পরমাত্মা, রাম, প্রভু, আল্লাহ্ ...বলে। একজন টিচারেরই দেখ কতো নাম রেখে দিয়েছে। টিচারের তো একই নাম হয়। অনেক হয় কি ? কত রকমের ভাষা আছে। তো কেউ খোদা, কেউ গড, নানান নামে ডাকে । তিনি নিজে বোঝেন আমি এসেছি বাচ্চাদের পড়াতে। যখন পড়াশুনা করে দেবতা হবে তখন বিনাশ হয়ে যাবে। এখন তো হল পুরোনো দুনিয়া, একে নতুন কে করবে ? বাবা বলেন আমারই পার্ট এটা। আমি ড্রামার বশ। এটাও বাচ্চারা জানে ভক্তির কত বিস্তার। এটাও হল খেলা।অর্ধ কল্প ভক্তির জন্য। এখন আবার বাবা এসেছেন, আমাদের ইনিই পড়ান। ইনিই শান্তি স্থাপন করেন। যখন এই লক্ষ্মী- নারায়ণের রাজ্য ছিল তো শান্তি ছিল। এখানে হল অশান্তি। এই পিতা একজনই । আত্মারা সংখ্যায় অনেক । কিরকম ওয়ান্ডারফুল খেলা। বাবা সব আত্মাদের পিতা, উনিই আমাদের পড়াচ্ছেন। কত খুশী হওয়া চাই।



তোমরা মনে করো গোপ-গোপী তো আমরাই আর গোপীবল্লভ হলেন বাবা। শুধু আত্মাদের গোপ-গোপী বলা হয় না। শরীর থাকলে তবে গোপ-গোপী অথবা ভাই-বোন বলা যায়। গোপীবল্লভ হল শিববাবার সন্তান । গোপ-গোপী শব্দটাই মধুর। মহিমাও আছে "অচ্যুতম্ কেশবম্ গোপীবল্লভম্ জানকী নাথম্" ... এই মহিমাও এই সময়ের। কিন্তু অজানা থাকায় সব কথার মিশ্রণ হয়ে জট বেঁধে যায়। এই বাবা বসে ওয়ার্ল্ডের হিস্ট্রি-জিওগ্রাফি শোনাচ্ছেন। লোকেরা তো শুধু এই খন্ডকেই জানে। সত্যযুগে কার রাজ্য ছিল, কতো সময় রাজত্ব চলেছিল - এসব জানে না। কারণ কল্পের আয়ু লক্ষ বছর বলে দিয়েছে। একদম ঘোর অন্ধকারে আছে। এখন বাবা এসে তোমাদের সৃষ্টি চক্রের নলেজ দিচ্ছেন। যেটা জানার ফলে তোমরা ত্রিকালদর্শী, ত্রিনয়নী হয়ে যাও। এটা হল পঠনপাঠন । বাবা নিজে বলেন- আমি প্রতি কল্পের সঙ্গম যুগের এসে তোমাদের পুরুষোত্তম করে তুলি। নম্বর অনুযায়ী তোমরাই হও। এই ঈশ্বরীয় পঠনপাঠনের থেকেই পদ-মর্যাদা প্রাপ্ত করা যায়। তোমরা জানো আমাদের অসীম জগতের বাবা পড়ান। ওরা তো বলে দেয় পরমাত্মা নাম-রূপের থেকে পৃথক, মাটির পাত্রের টুকরো, পাথরের টুকরো এই সবের মধ্যেও আছেন । কি কি সব বলে। দেবীদেরও কত গুলো হাত দিয়ে দিয়েছে। রাবণকে ১০মাথা দিয়েছে। বাচ্চাদের হৃদয়ঙ্গম হওয়া চাই যে, সব আত্মাদের পিতা আমাদের পড়াচ্ছেন, পবিত্র করছেন তাই মনের মধ্যে কত খুশী থাকা চাই। কিন্তু সেই খুশীও তখনই আসবে, যখন আবার অন্যদের কল্যাণ করে সবাইকে খুশী করবে, করুণাময় হও। আহা! বাবা আমাদের বিশ্বের মহারাজা করে দিচ্ছেন। রাজা, রাণী, প্রজা সব বিশ্বের মালিক হবে তো। ওখানে মন্ত্রী বা উপদেষ্টা (উজির) থাকে না। এখন রাজারা নেই তাই আছে মন্ত্রী আর মন্ত্রী । এখন তো প্রজা উপরে প্রজার রাজত্ব, তাই বারংবার বুদ্ধিতে এটা আসা চাই যে অসীম জগতের বাবা আমাদের কি পড়াচ্ছেন। যে ভালো করে পড়ে সে-ই প্রথমে আসবে আর উঁচু পদ প্রাপ্ত করবে। এই লক্ষ্মী-নারায়ণ এত ধনী কি করে হল ? কি করেছিল ? ভক্তি মার্গে কেউ খুব ধনী হলে বোঝা যায় ইনি সেরকম উচ্চ কর্ম করেছিলেন। ঈশ্বরের নামে দান-পূণ্যও করে। মনে করে এর পরিবর্তে আমার অনেক কিছু মিলবে। তাই পরবর্তী জন্মে ধনী হয়ে যায়। কিন্তু তারা দেয় ইনডায়রেক্ট, যাতে অল্পকালের জন্য কিছু প্রাপ্ত হয়। এখন বাবা ডায়রেক্ট এসেছেন। সবাই ওঁনাকে স্মরণ করে, বলে এসে পবিত্র করো। এরকম বলে না যে এই নলেজ দিয়ে আমাদের ঐরকম লক্ষ্মী-নারায়ণ করো। মানুষের বুদ্ধিতে তো কৃষ্ণই স্মরণে আসে। বাবাকে না জানার কারণে কত দুঃখী হয়ে পড়ে। এখন বাবা তোমাদের দৈবী সম্প্রদায়ের করে তোলেন। তোমরা শান্তিধামে গিয়ে আবার সুখধামে আসবে।বাবা কত ভালো ভাবে বোঝান। যদিও শোনে কিন্তু যেন শোনেই নি এমন। পাথর বুদ্ধি থেকে স্পর্শ বুদ্ধি হয়ই না। সারাদিন বাবা-বাবা-ই স্মরণে থাকা দরকার। স্ত্রীর স্বামীর প্রতি কেমন কন্ঠাগত প্রাণ হয়ে যায় ! স্বামীর প্রতি স্ত্রীর গভীর প্রেম থাকে। এখানে তো তোমরা সবাই হলে সন্তান, তবুও নম্বর অনুযায়ী তো না ! তোমরা জান, এমন অসীম জগতের পিতাকে আমরা বারে বারে ভুলে যাই। বাবা বলেন আমাকে স্মরণ করলে তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে। আবারও ভুলে যায়। আরে এমন বাবা, যিনি তোমাদের বিশ্বের মালিক করেন, ওঁনাকে তোমরা কেন ভুলে যাও ? মায়ার ঝড় আসবে, তবুও তোমরা চেষ্টা করতে থাকো। বাবাকে স্মরণ করলে তবে স্বর্গের উত্তরাধিকার পেয়ে যাবে। স্বর্গবাসী দেবতা তো সবাই হয়ে যায়। বাকীরা আবার শাস্তি পেয়ে হয়, আবার পদও অনেক কম হয়ে যায়। এ সব হল নতুন কথা। তখনই মনে আসবে যখন বাবাকে, টিচারকে স্মরণ করতে থাকবে। তোমরা টিচারকেও ভুলে যাও। *বাবা বলেন যতক্ষণ আমি আছি, বিনাশের সময় আসবে আর সব কিছু এই জ্ঞান যজ্ঞতে অর্পণ হয়ে যাবে ততক্ষণ পড়া চলতে থাকে। তোমরা তো বলবে সব কিছুই তো পড়ানো হয়েছে আবার কি পড়াবে ? বাবা বলেন নতুন নতুন পয়েন্টস বেরোতে থাকে। তোমরা তা শুনে খুশী হও তো। তাই ভালো ভাবে পড়াশুনা করো আর সুদামার মতো যা ট্রান্সফার করতে হবে সেটাও করতে থাকো। এটাও হল অনেক বড় ব্যবসা। ব্রহ্মা বাবা ব্যবসাতে অনেক উদার মনের ছিলেন।উপার্জনের দশ ভাগের এক ভাগ ধর্মের নামে রাখতেন। যদিও তার ফলে ব্যবসায় লাভ থাকত না, তবুও সবার আগে আমাকেই দিতে হত। বলা হত তোমরা যত উদার হস্তে দান করবে, তোমাদের দেখে সবাই করবে। এতে অনেকের কল্যাণ হয়ে যাবে। সেখানে ছিল ভক্তি মার্গ, এখানে তো সব-কিছু বাবাকে দিয়ে দিয়েছি। বাবা এই সব কিছু নাও। বাবা বলেন তোমাদের সমস্ত বিশ্বের বাদশাহী দিচ্ছি। বিনাশের সাক্ষাৎকার, চতুর্ভুজেরও সাক্ষাৎকার হয়েছে। ঐ সময় বোঝা গেছে যে আমি বিশ্বের অধিপতি হব। বাবার প্রবেশতা ছিল তো। বিনাশ দেখেছি। ব্যাস্, এই দুনিয়া শেষ হয়ে যাচ্ছে, এই কারবার ইত্যাদি কি করব ! গাধার কাজ ছাড়ো, আমার রাজ্যত্ব প্রাপ্তি হবে। এখন বাবা তোমাদেরকেও বোঝাচ্ছেন যে, সমস্ত পুরানো দুনিয়া বিনাশ হতে চলেছে। তোমাদের কুম্ভকর্ণের নিদ্রা থেকে জাগানোর কত পুরুষার্থ করাচ্ছেন, তাও তোমরা জেগে উঠছ না। বাচ্চাদের তো এক বাবাকেই স্মরণ করতে হবে। সব কিছু বাবাকে দিয়ে দিলে তো অবশ্যই এক বাবা-ই স্মরণে আসবে। তোমরা অর্থাৎ বাচ্চারা বেশী করে স্মরণ করতে পার। বাবার অনেক দায়িত্ব...কত বন্ধনযুক্তদের সংবাদ আসে, বেচারিরা মার খায়। স্বামী কত বিরক্ত করে। যদিও বোঝে এটা ড্রামায় আছে, আমি আর কি করতে পারব। পূর্ব কল্পেও অবলাদের উপর অত্যাচার হয়েছিল। নতুন দুনিয়ার স্থাপনা তো হতেই হবে। বাবা তো বলেন অনেক জন্মের অন্তে, অন্তিম জন্মেরও অন্তিমে আমি প্রবেশ করি। আমি (ব্রহ্মা বাবা) নিশ্চয়ই সুন্দর ছিলাম, এখন শ্যাম হয়ে গেছি। আমিই প্রথম নম্বরে যাব। আমি গিয়ে কৃষ্ণ হব। এই চিত্রটি দেখি তো মনে হয় গিয়ে কৃষ্ণ হব। তো বাবা বাচ্চাদেরকে ভালো ভাবে বোঝান, এখন বাচ্চাদের কাজ হল নিজে বুঝে অন্যদেরকে বোঝানো। আচ্ছা!



মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্নেহ-সুমন, স্মরণ-ভালবাসা আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার:-

১. আমরা হলাম গোপী- বল্লভের গোপ-গোপী- এই খুশী বা নেশাতে থাকো। অন্তর্মুখী হয়ে বিচার সাগর মন্থন করে বাবার সমান টিচার হতে হবে।

২. সুদামার মতো নিজের সব কিছু ট্রান্সফার করার সাথে সাথে পড়াশুনাও ভালো ভাবে করতে হবে। বিনাশের আগে বাবার থেকে সম্পূর্ণ উত্তরাধিকার নিতে হবে। কুম্ভকর্ণের নিদ্রায় যারা নিদ্রিত আছে, তাদের জাগাতে হবে।

বরদান:-

ত্রিকালদর্শী হয়ে দিব্যবুদ্ধির বরদানকে কাজে লাগানোতে সক্ষম সফলতা সম্পন্ন ভব

বাপদাদা প্রত্যেক বাচ্চাকে দিব্য বুদ্ধির বরদান দিয়েছেন । দিব্য বুদ্ধি দ্বারাই বাবাকে, নিজে নিজেকে আর তিন কালকে স্পষ্ট জানতে পার। সর্ব শক্তি সমূহকে ধারণ করতে পার। দিব্য বুদ্ধি সম্পন্ন আত্মা যে কোনো সংকল্পকে কর্ম বা বাণীতে নিয়ে আসার আগে প্রতিটি কথা বা কর্মের তিন কাল জেনে প্র্যাকটিক্যালে আসে। তার সামনে পাস্ট আর ফিউচারও এত স্পষ্ট ভাবে প্রতীয়মান হয়, যতটা প্রেজেন্ট স্পষ্ট। ঐরকম দিব্য বুদ্ধি সম্পন্ন ত্রিকালদর্শী হওয়ার জন্য সর্বদা সফলতা সম্পন্ন হয়ে যাবে।

স্লোগান:-

সম্পূর্ণ পবিত্রতাকে ধারণ করে যে সে-ই পরমানন্দের অনুভব করতে পারে*।