15.11.2019 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - শান্তির গুণ হলো সবথেকে বড় গুণ, এই জন্য শান্তি সহকারে বলো, অশান্তি ছড়ানো বন্ধ করো"

প্রশ্নঃ -
সংগম যুগে বাবার থেকে বাচ্চাদের কী এমন আশীর্বাদ প্রাপ্ত হয় ? গুণবান বাচ্চার লক্ষণ কেমন হবে?

উত্তরঃ -
প্রথম আশীর্বাদ হল জ্ঞানের, দ্বিতীয় শান্তির, তৃতীয় গুণের। গুণবান বাচ্চারা সর্বদা খুশিতে থাকে। কারোর খারাপ গুণ দেখে না। কারোর প্রতি অভিযোগ করে না। যার মধ্যে খারাপ গুণ আছে, তার সঙ্গে মেলামেশাও করে না। কেউ কিছু বললে তাতে কর্ণপাত না করে আপন খুশিতে মত্ত থাকে।

ওম্ শান্তি ।
আত্মিক বাবা তাঁর আত্মিক সন্তানদের বোঝাচ্ছেন। এক তো হল, তোমরা বাবার থেকে জ্ঞানের আশীর্বাদ প্রাপ্ত করছো। বাবার থেকেও গুণ গ্রহণ করতে হবে আবার এই লক্ষ্মী-নারায়ণের চিত্র থেকেও গ্রহণ করতে হবে। বাবাকে বলা হয় শান্তির সাগর। তাহলে শান্তিও ধারণ করতে হবে। শান্তির জন্যই বাবা বোঝাচ্ছেন যে, তোমরা পরস্পরের সাথে শান্তিতে বার্তালাপ করো। এই গুণ ধারণ করো। জ্ঞানের গুণ তো ধারন হচ্ছে-ই। এই জ্ঞান পড়তে হবে। এই জ্ঞান কেবলমাত্র এক বিচিত্র বাবা-ই পড়ান। বিচিত্র আত্মারা অর্থাৎ সন্তানরাই সেই জ্ঞান পড়ে। এটা হলো এখানকার নতুন খুশির খবর। যেটা আর কেউ জানে না। কৃষ্ণের ন্যায় দৈবগুণও ধারণ করতে হবে। বাবা বোঝাচ্ছেন যে, আমি শান্তির সাগর, তাই এখানে শান্তি স্থাপন করতে হবে। অশান্তি সমাপ্ত করতে হবে। নিজের চাল-চলনকে দেখতে হবে, কতখানি আমি শান্ত স্বরূপ হতে পেরেছি ? এমনও অনেক আত্মা আছে, যারা শান্তি পছন্দ করে। এটাও বোঝে যে শান্ত থাকা ভালো। শান্তি হল শ্রেষ্ঠ গুণ, কিন্তু শান্তি কিভাবে স্থাপন হবে ? শান্তির অর্থ কি ? এসমস্ত কথা ভারতবাসী বাচ্চারা জানে না। বাবা ভারতবাসী বাচ্চাদের জন্যই বলেন। বাবা আসেন-ই এই ভারতে। এখন তোমরা বুঝে গেছো যে, আমাদের নিজেদের অন্তরেই শান্তি আছে। এমন নয় যে, কেউ অশান্ত করবে আর আমরাও অশান্ত হয়ে যাব। না। অশান্ত হওয়া - এটাও এক খারাপ গুণ। খারাপ গুণগুলিকে বের করতে হবে। প্রত্যেকের থেকে ভালো গুণ গ্রহণ করতে হবে। খারাপ গুণের দিকে দৃষ্টিপাত করবে না। হয়তো কানে আওয়াজ আসতে থাকবে, তথাপি নিজেকে শান্ত থাকতে হবে। কেননা বাবা আর দাদা দুজনেই শান্ত থাকেন। কখনো অশান্ত হন না। কখনো উচ্চবাচ্য করেন না। এই ব্রহ্মা বাবাও শিখেছেন, তাই না। যত পরিমাণে শান্ত থাকবে ততই ভালো। শান্তিতেই স্মরণ করতে পারবে। অশান্ত আত্মারা স্মরণ করতে পারে না। প্রত্যেকের থেকে ভালো গুণ গ্রহণ করতেই হবে। ঋষি দত্তাত্রেয়র ন্যায় হতে হবে। দেবতাদের মত গুণবান আর কেউ হতে পারে না। একটি বিকার হলো প্রধান। তার ওপর তোমরা বিজয় প্রাপ্ত করছো, করতেও থাকবে। কর্মেন্দ্রিয় উপর বিজয় পেতে হবে। খারাপ গুনণগুলিকে বের করে দিতে হবে। দেখবেও না, বলবেও না, যার মধ্যে ভালো গুণ আছে, তাদের কাছেই যাবে, থাকতেও হবে খুব মিষ্টি এবং শান্ত হয়ে। অল্প একটু কথাতেই তোমরা সব কাজ করে ফেলতে পারো। সবার থেকে গুণ গ্রহণ করে গুণবান হতে হবে। বুঝেছ। সুবুদ্ধি সম্পন্ন এবং প্রজ্ঞ বাচ্চারা খুব শান্ত থাকা পছন্দ করে। কিছু ভক্ত আত্মা, জ্ঞানী আত্মাদের থেকেও প্রজ্ঞ, নির্মাণচিত্ত হয়। বাবা তো অনুভাবী, তাইনা ! ইনি যে লৌকিক বাবার সন্তান ছিলেন, তিনি ছিলেন একজন শিক্ষক। খুব নির্মাণচিত্ত এবং শান্ত থাকতেন। কখনো ক্রোধ করতেন না। যেরকম সাধু আত্মারা হয়। তাই তাঁদের মহিমাও করা হয়ে থাকে। ভগবানের সাথে মিলন মানানোর জন্য পুরুষার্থ করতে থাকে, তাই না। কাশিতে, হরিদ্বারে গিয়ে থাকে। বাচ্চাদেরকে খুব শান্ত এবং মিষ্টি হয়ে থাকতে হবে। এখানে কেউ অশান্ত থাকলে, সে শান্তির বাতাবরণ তৈরি করার নিমিত্ত হতে পারে না। অশান্ত আত্মাদের সঙ্গে কথাও বলা উচিত নয়। তাদের থেকে দূরে থাকতে হবে। পার্থক্য তো আছে, তাই না! তারা হলো বক আর তোমরা হলে রাজহংস। রাজহংস সারাদিন মোতি ঠোকরায়। উঠতে-বসতে চলতে-ফিরতে এই জ্ঞানকে স্মরণ করতে থাকো। সারাদিন বুদ্ধিতে এটাই যেন থাকে যে, - কাকে কিভাবে বোঝাবো, বাবার পরিচয় কিভাবে দেবো।

বাবা বোঝাচ্ছেন যে, যে সমস্ত বাচ্চারা এখানে আসে তাদেরকে ফর্ম ভরতে দাও। সেন্টারে যখন কেউ কোর্স করতে আসে, তখন তাদেরকে এই ফর্ম দাও। কোর্স করতে না চাইলে ফর্ম ভরানোর দরকার নেই। ফর্ম এইজন্য ভরানো হয়, যাতে তারা বুঝতে পারে যে, এখানে কী কী আছে ? কী কী বোঝানো হয় ? কেননা দুনিয়াতে তো এসব কথা কেউ বোঝে না। তাই তারা এই ফর্মের দ্বারা সমস্ত বিষয়টা অবগত হয়ে যায়। বাবার সঙ্গে কেউ যদি মিলন করতে চায় তবে তাদেরকেও ফর্ম ভরতে হয়। তাহলে বোঝা যায় যে, তারা কেন মিলন করতে এসেছে ? কেউ যদি আসে তবে তাকে তার এই লৌকিক জগতের এবং অসীম জগতের বাবার পরিচয় দিতে হবে। কেননা তোমাদেরকে এই অসীম জগতের বাবা এসে নিজের পরিচয় দিয়েছেন। তাই তোমরাও অন্যদেরকে বাবার পরিচয় দিতে থাকো। তাঁর নাম হলো শিব বাবা। "শিব পরমাত্মায় নমঃ" - বলে তাইনা! তারা তো কৃষ্ণকে - "দেবতায় নমঃ" বলে। শিবকে বলে - "শিব পরমাত্মায় নমঃ"। বাবা বলেন যে, আমাকে স্মরণ করলে তোমাদের সমস্ত পাপ কেটে যাবে। মুক্তি-জীবনমুক্তির অবিনাশী উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করার জন্য পবিত্র আত্মা অবশ্যই হতে হবে। সেটা হলই পবিত্র দুনিয়া, যাকে সতোপ্রধান দুনিয়াও বলা হয়ে থাকে। সেখানে যেতে হলে, বাবা বলেন যে, "আমাকে স্মরণ করো"। এটা তো খুবই সহজ বিষয়। যেকোন কাউকে ফর্ম ভরিয়ে তারপর তুমি তাকে কোর্স করাতে পারো। একদিন ভরাও, তারপর বোঝাও। তারপর আবার ফর্ম ভরাও। তাহলে বুঝতে পারবে যে, আমাকে উনি বুঝিয়েছেন, তাঁর স্মরণ থাকে কিনা তা বোঝা যাবে। তুমি লক্ষ্য করবে, দুদিনের ফর্মের মধ্যে অনেক পার্থক্য থাকবে। তুমি তাড়াতাড়ি বুঝতে পেরে যাবে যে, সে কি বুঝেছে ? আমার বোঝানোর উপর সে কিছু চিন্তন করেছে কিনা ? এই ফর্ম সকলের কাছে হওয়া চাই। বাবা মুরলীর মাধ্যমে নির্দেশ দেন। তাই বড় বড় সেন্টার গুলিকে তৎক্ষণাৎ সেই নির্দেশকে বাস্তবে রূপদান করতে হবে। ফর্ম রাখতে হবে। নাহলে বোঝা যাবে কি করে ? সে নিজেই অনুভব করবে যে - কাল কি লিখেছিলাম, আজ কি লিখছি। ফর্ম তো খুব জরুরী। আলাদা আলাদা ছাপাও তাতেও কোনো অসুবিধা নেই। কিংবা একজায়গায় ছাপিয়ে সব সেন্টারে বিলিয়ে দাও। এটা হল অপরকে কল্যাণ করা। তোমরা বাচ্চারা এখানে এসেছো দেবী-দেবতা হওয়ার জন্য। 'দেবতা' এই শব্দটি অনেক শ্রেষ্ঠ। দৈবগুণ ধারণ করা আত্মাকে 'দেবতা' বলা হয়। এখন তোমরা দৈবগুণ ধারণ করছো, তাই যেখানে প্রদর্শনী বা মিউজিয়াম হয় সেখানে এই ফর্ম অবশ্যই রাখতে হবে। তাহলে বোঝা যাবে কেমন অবস্থায় আছে। সেই আত্মাকে বুঝে তারপর তাকে বোঝানো যাবে। বাচ্চাদেরকে তো সর্বদা গুণের কথাই বর্ণন করতে হবে। খারাপ গুন কখনোই নয়। তোমরা গুণবান হচ্ছো, তাই না। যার মধ্যে অনেক গুণ থাকবে সে অপরকেও গুন দান করতে পারবে। খারাপ গুণযুক্ত আত্মারা কখনোই গুণদান করতে পারেনা। বাচ্চারা জেনে গেছে যে, সময় আর বেশি নেই। পুরুষার্থ অনেক করতে হবে। বাবা বুঝিয়েছেন যে, তোমরা রোজ তীর্থযাত্রা করছো। এই যে গায়ন আছে, অতীন্দ্রিয় সুখ কেমন হয় তা গোপ গোপীদের জিজ্ঞাসা করো। এটাতো হলো অতীতের কথা। এখন তো নম্বরের ক্রম আছে। কেউতো অন্তরে অন্তরে খুশির গীত গাইতে থাকে - অহো! পরমপিতা পরমাত্মাকে আমি প্রাপ্ত করেছি, তার থেকে আমি অবিনাশী উত্তরাধিকার নিচ্ছি। তার কাছে কোনো অভিযোগ থাকতে পারেনা। কেউ কিছু বললেও সেসব কথায় কর্ণপাত না করে আপন খুশিতে মত্ত থাকে। কোন অসুখ-বিসুখ বা দুঃখ আদি হলে তখন কেবল স্মরণে থাকো। এই হিসেব-নিকেশ এখনই সমাপ্ত করতে হবে। তবেই তো তুমি একুশ জন্মের জন্য ফুল হতে পারবে। সেখানে তো দুঃখের কথাই থাকবে না। বলা হয়ে থাকে, খুশির সমান অন্য কোন খাদ্য নেই। তারপর আবার বিশ্রাম আদি সব সমাপ্ত হয়ে যায়। এখানে এটাই হলো সত্যি কারের খুশি, আর সেটা হলো মিথ্যা খুশি। ধন-সম্পদ প্রাপ্ত হলে বা স্বর্ণ প্রভৃতি প্রাপ্ত হলে খুশি হয়। কিন্তু এখানে হলো অসীম জগতের কথা। তোমাদেরকে তো অসীম খুশিতে থাকতে হবে। তোমরা তো জেনে গেছো যে, আমরা ২১ জন্মের জন্য সর্বদা সুখে থাকবো। এই স্মরণে থাকো - আমি কি হতে চলেছি। মুখ থেকে বাবা বললেই দুঃখ দূর হয়ে যাওয়া চাই। এটা তো হল ২১ জন্মের খুশি। আর বাকি অল্প দিন-ই অবশিষ্ট আছে। আমরা যাচ্ছি আমাদের সুখধামে। তারপর তো আর কিছুই স্মরণে থাকবে না। এই বাবাও নিজের অনুভবের কথা শোনাচ্ছেন। কত সমাচার আসতে থাকে। নানা প্রকারের মতান্তর বা বিবাদ চলতে থাকে। বাবার কোনো কথায় দুঃখ হয় কি ? শ্রবণ করে, আচ্ছা এটাই ভবিতব্য, এটা তো কিছুই নয়, আমরা তো এই জগতের মালিক হতে চলেছি, নিজের সঙ্গে কথা বললেই খুশি আসে। অনেক শান্তিতে থাকতে হবে। তার চেহারার মধ্যে অনেক প্রফুল্লতা থাকবে। স্কলারশিপ পেলে চেহারার মধ্যে কত উৎফুল্লতা থাকে, তাই না। তোমরা পুরুষার্থ করছো এই লক্ষ্মী-নারায়ণের মত প্রফুল্ল থাকার জন্য। এনাদের মধ্যে জ্ঞান তো নেই। তোমাদের মধ্যে জ্ঞান আছে। তাই তোমাদেরকে খুশিতে থাকতে হবে। প্রফুল্ল চিত্ত থাকতে হবে। এই দেবতাদের থেকেও তোমরা অনেক শ্রেষ্ঠ। জ্ঞানের সাগর বাবা আমাদেরকে কত শ্রেষ্ঠ জ্ঞান দিচ্ছেন। অবিনাশী জ্ঞান রত্নের লটারী পেয়ে গেছো, তাহলে কত খুশিতে থাকতে হবে। তোমাদের এই জন্ম হীরের সমান বলা হয়ে থাকে। জ্ঞানের সাগর, এক বাবাকেই বলা হয়। এই দেবতাদেরকেও বলা হয় না। তোমরা ব্রাহ্মণরাই জ্ঞানবান হচ্ছ। তোমাদের মধ্যে এই জ্ঞানের খুশি থাকা চাই। এক তো হল বাবাকে প্রাপ্ত করার খুশি। তোমাদের ছাড়া আর কেউ এই খুশিতে থাকতে পারে না। ভক্তি মার্গে চিরস্থায়ী সুখ থাকে না। ভক্তি মার্গে হলো কৃত্রিমভাবে প্রাপ্ত অল্পকালের সুখ। আর তার নামই তো হল স্বর্গ, সুখধাম, হেভেন। সেখানে হল সীমাহীন সুখ। আর এখানে হলো সীমাহীন দুঃখ। এখন বাচ্চারা বুঝতে পেরেছে যে রাবন রাজ্যে আমরা কতটাই ছি ছি হয়ে গিয়েছিলাম। আস্তে আস্তে অধঃপতনে গমন করছিলাম। এসব তো হলোই বিষয় বিষের সাগর। এখন বাবা এই বিষের সাগর থেকে বের করে তোমাদেরকে ক্ষীরের সাগরে নিয়ে যাচ্ছেন। বাচ্চাদের এখানকার সবকিছুই খুব মিষ্টি লাগে। কিন্তু পুনরায় ভুলে যাওয়ার ফলে কিরকম অবস্থা হয়ে যায়। বাবা কিভাবে খুশির পারদ চড়িয়ে দেন। এই জ্ঞান অমৃতের ই গায়ন আছে। জ্ঞান অমৃতের গ্লাস পান করতে হবে। এখানে তোমাদের খুব ভালোভাবে নেশা চড়ে যায় কিন্তু বাহিরে গিয়ে সমস্ত নেশা কম হয়ে যায়। বাবা নিজেই অনুভব করেন যে, এখানে বাচ্চাদের খুব ভালো অনুভব হয়। আমরা নিজেদের ঘরে ফিরে যাচ্ছি। আমরা বাবার শ্রীমতে রাজধানী স্থাপন করছি। আমরাই হলাম সবথেকে বড় উত্তরাধিকারী। এইসব বুদ্ধির মধ্যে জ্ঞান আছে। যার জন্য তোমরা এত বড় পদ প্রাপ্ত করছো। কে পড়াচ্ছেন দেখো! অসীম জগতের বাবা, একদম পরিবর্তন করে দেন। তাহলে বাচ্চাদের হৃদয়ে কতইনা খুশি থাকা উচিত। এসব কিছু হৃদয়ে থাকতে হবে, অন্যদেরকেও খুশি প্রদান করতে হবে। রাবণের হল অভিশাপ আর বাবার হল আশীর্বাদ। রাবণের অভিশাপে তোমরা কতই না দুঃখী অশান্ত হয়ে গেছো। অনেক গোপও আছে যাদের হৃদয়ে সেবা করার ইচ্ছা থাকে, কিন্তু জ্ঞানের কলষ মাতাদেরকে দেওয়া হয়েছে। শক্তি দল, তাইনা। বন্দেমাতরম্ - গাওয়া হয়। সাথে বন্দেপিতরম্ তো আছেই। কিন্তু নাম মাতাদের আছে। প্রথমে লক্ষ্মী তারপর নারায়ণ, প্রথমে সীতা পরে রাম নাকি প্রথমে পুরুষের নাম পরে স্ত্রীর নাম। লেখা হয় এটাও এক খেলা, তাই না ! বাবা তো সবকিছুই বুঝিয়ে বলেন। ভক্তি মার্গের রহস্য বলে দেন। ভক্তিতে কি কি হয়। যতক্ষণ জ্ঞান নেই ততক্ষণ তো এসব কিছুই জানা যেত না। এখন তোমাদের সকলের চরিত্র শুদ্ধ হচ্ছে। তোমাদের দৈবী চরিত্র তৈরি হচ্ছে। ৫ বিকার থেকে তোমাদের আসুরি চরিত্র তৈরি হয়। কতখানি পরিবর্তন হচ্ছে। তাই পরিবর্তনে আসতে হবে, তাই না। শরীর ছেড়ে দিলে তারপর কি আর নিজেকে পরিবর্তন করতে পারবে। বাবার মধ্যে শক্তি আছে। সবাইকে পরিবর্তন করে দেন। কোনো কোনো বাচ্চা নিজের অনুভবের কথা শোনায় - আমি অনেক কামি, মদাসক্ত ছিলাম, আমার মধ্যে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এখন আমি অনেক প্রেমপূর্ণভাবে থাকি। প্রেমের অশ্রু ঝরতে থাকে। বাবা তো অনেককিছু বোঝান কিন্তু এই সমস্ত কথা সবাই ভুলে যায়। না হলে তো খুশির পারদ সর্বদাই ঊর্ধ্বে থাকবে। আমরা অনেক জনকে কল্যাণ করে থাকি। মানুষ অনেক দুঃখী হয়ে গেছে। তাদেরকে সঠিক রাস্তা বলে দিই। বোঝানোর জন্য অনেক পরিশ্রম করতে হয়। গালিগালাজও খেতে হয়। প্রথম থেকেই এই শব্দ শোনা যায় যে, এখানে তো সবাইকে ভাই-বোন বানিয়ে দেয়। আরে ভাই-বোনের সম্বন্ধ তো খুব ভালো, তাই না! তোমরা আত্মারা তো ভাই-ভাই আছো। কিন্তু জন্ম-জন্মান্তরের কুদৃষ্টি যেটা পাকাপোক্ত হয়ে গেছে, সেটা ছাড়তে চায় না। বাবার কাছে তো অনেক সমাচার আসতে থাকে। বাবা বোঝান যে, এই ছিঃ ছিঃ দুনিয়া থেকে তোমাদের বাচ্চাদের মন সরিয়ে নিতে হবে। খুব সুন্দর ফুল হতে হবে। কত জ্ঞান শুনেও ভুলে যাও। সমস্ত জ্ঞান উড়ে যায়। কাম মহাশত্রু, তাই না। বাবা তো অনেক অনুভাবী আছেন। এই বিকারের পিছনে অনেক রাজারাও তাদের রাজত্ব হারিয়েছেন। কাম খুব খারাপ। সবাই বলতে থাকে যে বাবা এটা খুব ক্ষতিকারক শত্রু। বাবা বলেন যে কামকে জিতলেই তোমরা বিশ্বের মালিক হতে পারবে। কিন্তু কাম বিকার এতটাই তীব্র প্রকৃতির হয় যে, প্রতিজ্ঞা করেও পরাজিত হয়ে যায়। খুব কম সংখ্যকই এতে পাস হতে পারে। এই সময় সমস্ত দুনিয়ার চরিত্র খারাপ হয়ে গেছে। পবিত্র দুনিয়া কবে ছিল ? কিভাবে হয়েছিল ? এঁনারা রাজ্য ভাগ্য কিভাবে পেয়েছিলেন ? কেউ কিছু বলতে পারেনা। ভবিষ্যতে এমন সময়ও আসবে, তোমরা বিদেশে যাবে। তারাও সব শুনবে। স্বর্গোদ্যান কিভাবে স্থাপন হয়েছিল। তোমাদের বুদ্ধিতে এসমস্ত কথা খুব ভালো রীতিতে আছে। এখন এই গভীর বিষয়টিই তোমাদের বুদ্ধিতে বিশেষ ভাবে রাখা উচিত, অন্য সমস্ত কথা ভুলে যেতে হবে। আচ্ছা !

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) উঠতে - বসতে, চলতে - ফিরতে জ্ঞানের স্মরণ করে মুক্ত আহরণকারী রাজহংস হতে হবে। সবার থেকে গুন গ্রহণ করতে হবে। পরস্পরের মধ্যে গুণের আদান প্রদান করতে হবে।

২ ) নিজের চেহারা সর্বদা প্রফুল্ল রাখার জন্য নিজের সাথেই নিজেকে কথা বলতে হবে - অহো! আমি তো অবিনাশী সম্পত্তির মালিক হতে চলেছি। জ্ঞানের সাগর বাবার দ্বারা আমরা জ্ঞান রত্নের লটারি প্রাপ্ত করেছি।

বরদান:-
সদা সন্তুষ্ট থেকে নিজের দৃষ্টি, বৃত্তি, কৃতী দ্বারা সন্তুষ্টতার অনুভূতি করিয়ে সন্তুষ্টমণি ভব

ব্যাখা : ব্রাহ্মণ বংশে (কুলে) বিশেষ আত্মা তারাই, যারা সদা সন্তুষ্টতার বিশেষত্ব দ্বারা নিজেও যেমন সন্তুষ্ট থাকে, তেমনি নিজের দৃষ্টি, বৃত্তি আর কৃতি দ্বারা অন্যদেরও সন্তুষ্টতার অনুভূতি করাতে পারে। তারাই সন্তুষ্টমণি, যাদের সংকল্প, বাণী, সংগঠনের সম্বন্ধ-সম্পর্ক বা কর্মে বাপদাদা দ্বারা নিজের উপর সন্তুষ্টতার স্বর্ণ পুষ্পের বর্ষণ অনুভব করে। এইরকম সন্তুষ্টমনিরাই বাপদাদার গলার মালা হয়, রাজ্য অধিকারী হয় আর ভক্তদের জপমালাও হয়।

স্লোগান:-
নেতিবাচক আর ব্যর্থকে সমাপ্ত করে পরিশ্রম মুক্ত হও।