15-11-2020 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 18-01-87 মধুবন


"কর্মাতীত স্থিতির লক্ষণ সমূহ"


আজ অব্যক্ত বাপদাদা 'অব্যক্ত স্থিতি ভব' এই বরদানপ্রাপ্ত তাঁর আপন বাচ্চাদের তথা অ-ব্যক্ত ফরিস্তাদের সাথে মিলিত হতে এসেছেন l এই অব্যক্ত মিলন এই সারা কল্পে এখন এই একবারই সঙ্গমে হয় l সত্যযুগেও দেব মিলন হবে, কিন্তু ফরিস্তাদের মিলন, অব্যক্ত মিলন এই সময়ই হয় l নিরাকার বাবাও অব্যক্ত ব্রহ্মাবাবার দ্বারা মিলন উদযাপন করেন l নিরাকারেরও ফরিস্তাদের এই জলসা অতি প্রিয়, সেইজন্য নিজধাম ছেড়ে আকার বা সাকার দুনিয়ায় মিলন উদযাপন করতে এসেছেন l ফরিস্তা বাচ্চাদের স্নেহের আকর্ষণে বাবাকেও রূপ বদল করে, বেশ বদল করে বাচ্চাদের সংসারে আসতেই হয় l এই সঙ্গমযুগ বাবা আর বাচ্চাদের অতি প্রিয় ও অনুপম সংসার l স্নেহ আকর্ষণের সবচাইতে বড় শক্তি, যা বন্ধনমুক্ত, দেহ-মুক্ত পরম- আত্মাকেও স্নেহের বন্ধনে বেঁধে দেয়, অশরীরীকেও লোনের শরীরধারী বানায় l এটাই বাচ্চাদের স্নেহের প্রত্যক্ষ প্রমাণ l আজকের দিনে চতুর্দিকের অনেক বাচ্চার স্নেহধারা, স্নেহের সাগরে অন্তর্লীন হওয়ার দিন l বাচ্চারা বলে আমরা বাপদাদার সাথে মিলিত হতে এসেছি l বাচ্চারা মিলিত হতে এসেছে, নাকি বাচ্চাদের সাথে বাবা মিলিত হতে এসেছেন ? নাকি উভয়েই মধুবনে মিলিত হতে এসেছেন ? বাচ্চারা স্নেহের সাগরে অবগাহন করতে এসেছে, কিন্তু বাবা হাজার হাজার গঙ্গায় অবগাহন করতে আসেন, সেইজন্য গঙ্গা-সাগরের মেলা বিচিত্র মেলা l তোমরা স্নেহের সাগরে মিশে সাগর সমান হয়ে যাও l আজকের দিনকে বাবা সমান হওয়ার স্মৃতি দিবস অর্থাৎ শক্তি-দিবস বলা হয় l কেন ? আজকের দিন ব্রহ্মাবাবার বাবা সমান সম্পন্ন আর সম্পূৰ্ণ হওয়ার স্মারক দিবস l ব্রহ্মা বাচ্চা তথা বাবা, কারণ ব্রহ্মা বাচ্চাও, বাবাও l আজকের দিনে,

● ব্রহ্মা বাচ্চারূপে স্নেহ-স্বরূপে সুযোগ্য বাচ্চা হওয়ার প্রমাণ দিয়েছেন l

● তিনি সমান হওয়ার প্রমাণ দিয়েছেন l

● অতিশয় প্রিয় এবং সম্পূৰ্ণ স্বতন্ত্রতার প্রমাণ দিয়েছেন l

● বাবা সমান কর্মাতীত অর্থাৎ কর্মের বন্ধন থেকে মুক্ত, স্বতন্ত্র হওয়ার প্রমাণ দিয়েছেন l

● সারা কল্পের কর্মের হিসেব-নিকেশ থেকে মুক্ত হওয়ার প্রমাণ দিয়েছেন l

সেবার জন্য স্নেহের বন্ধন ব্যতীত অন্য কোনও বন্ধন নেই l সেবাতেও সেবার বন্ধনে তিনি আবদ্ধ সেবাধারী নন, কেননা, সেবাতে কেউ কেউ বন্ধনমুক্ত হয়ে সেবা করে আর কেউ কেউ বন্ধনযুক্ত হয়ে l ব্রহ্মাবাবাও সেবাধারী l কিন্তু সেবায় সীমিত পরিসরের ইচ্ছাগুলোর রয়্যাল রূপ সেবারও হিসেব-নিকেশের বন্ধনে বাঁধা l যেমনই হোক, প্রকৃত সেবাধারী এই হিসেব-নিকেশ থেকেও মুক্ত l একেই বলে, কর্মাতীত স্থিতি l ঠিক যেমন দেহের বন্ধন, দেহের সম্বন্ধের বন্ধন, সেইরকমই সেবাতে স্বার্থের উদ্দেশ্যও বন্ধন, কর্মাতীত হওয়া অর্থাৎ এই রয়্যাল হিসেব-নিকেশ থেকেও মুক্ত l

মেজরিটি যারা এসেছে গীতা পাঠশালার নিমিত্ত সেবাধারী, তাই না ! সুতরাং সেবা অর্থাৎ অন্যদেরও মুক্ত বানানো l অন্যকে মুক্ত করতে করতে নিজেকে বন্ধনে বেঁধে দাও না তো ? নষ্টমোহ হওয়ার পরিবর্তে লৌকিক বাচ্চা প্রভৃতি এদের থেকে মোহ ত্যাগ করে স্টুডেন্টের প্রতি মোহ থাকে না তো ? ইনি খুব ভালো, খুব ভালো, ভালো-ভালো মনে করে আমিত্বভাবের ইচ্ছার বন্ধনে বেঁধে যাও না তো ? সোনার শিকলে তো ভালো লাগে না, তাই না ? সুতরাং আজকের দিন সীমিত পরিসরের আমিত্ব থেকে মুক্ত হওয়ার অর্থাৎ কর্মাতীত হওয়ার অব্যক্ত

দিবস উদযাপন করো l একেই স্নেহের প্রমাণ বলে l কর্মাতীত হওয়া - সবার এই লক্ষ্য তো ভালো l এখন চেক করো - কর্মের বন্ধন থেকে কতখানি স্বতন্ত্র তথা মুক্ত হয়েছ ? প্রথমতঃ, লৌকিক এবং অলৌকিক, কর্ম আর সম্বন্ধ উভয়তঃ স্বার্থ ভাব থেকে মুক্ত l দ্বিতীয়তঃ, বিগত জন্মের কর্মের হিসেব-নিকেশ এবং বর্তমান পুরুষার্থের দুর্বলতার কারণে কোনরকম ব্যর্থ সংস্কার-স্বভাবের বশবর্তী হওয়া থেকে মুক্ত হয়েছ ? কখনও কোনও দুর্বল স্বভাব- সংস্কার অথবা বিগত সংস্কার-স্বভাব যদি তোমাদের প্রভাবিত করে তাহলে তোমরা বন্ধনযুক্ত, বন্ধনমুক্ত নও l এইরকম ভেবোনা যে আমি চাই না কিন্তু স্বভাব কিংবা সংস্কার আমাকে দিয়ে করায় l এটাও বন্ধনমুক্ত হওয়ার লক্ষণ নয়, বরং বন্ধনযুক্ত থাকা l আরেকটা ব্যাপার হলো, যে কোনও সেবার, সংগঠনের, প্রকৃতির পরিস্থিতি তোমার স্বস্থিতিকে তথা শ্রেষ্ঠ স্থিতিকে যদি টলোমলো করে দেয়, তাহলে সেটাও বন্ধনমুক্ত স্থিতি নয় l এই বন্ধন থেকেও মুক্ত হও l আর তৃতীয়তঃ, পুরানো দুনিয়ায় পুরানো অন্তিম শরীরে কোনরকম ব্যাধি হয়তো তোমার শ্রেষ্ঠ স্থিতিকে অস্থির করে তুলবে, এর থেকেও মুক্ত হও l এক হলো, ব্যাধি আসা, কিন্তু আরেকটা বিষয় হলো ব্যাধির তোমাদেরকে নড়বড়ে করে দেওয়া l সুতরাং ব্যাধি আসা ভবিতব্য, কিন্তু স্থিতি নড়বড়ে হয়ে যাওয়া বন্ধনযুক্ত হওয়ার লক্ষণ l স্বচিন্তন, জ্ঞান চিন্তন, শুভচিন্তক হওয়ার চিন্তনের পরিবর্তে শরীরের ব্যাধির চিন্তনকারী হওয়া থেকে মুক্ত হও, কারণ প্রকৃতির অর্থাৎ শরীরের অধিক চিন্তন চিন্তার রূপে বদলে যায় l সুতরাং এর থেকে মুক্ত হওয়াকেই বলে কর্মাতীত স্থিতি l এই সব বন্ধনকে পরিত্যাগ করাই কর্মাতীত স্থিতির লক্ষণ l ব্রহ্মাবাবা এই সব বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে কর্মাতীত স্থিতি প্রাপ্ত করেছেন l সুতরাং আজ এই দিবস ব্রহ্মাবাবা সমান কর্মাতীত হওয়ার দিবস l আজকের এই দিবসের মহত্ত্ব বুঝেছ ? আচ্ছা l

আজকের সভা বিশেষ সেবাধারী অর্থাৎ যারা পুণ্য আত্মা হতে চলেছে তাদের সভা l গীতা পাঠশালা খোলা অর্থাৎ পুণ্য আত্মা হওয়া l সবচাইতে বড় পুণ্য সব আত্মাকে সদাসর্বদার জন্য অর্থাৎ অনেক জন্মের পাপ থেকে মুক্ত করা, এটাই পুণ্য l নাম খুব সুন্দর - 'গীতা পাঠশালা l' সুতরাং যারা গীতা পাঠশালার অর্থাৎ যারা নিজেরা সদা গীতা পাঠ করে এবং পড়ায় l গীতা-জ্ঞানের প্রথম পাঠ হলো অশরীরী আত্মা হওয়া আর অন্তিম পাঠ - নষ্টমোহ, স্মৃতিস্বরূপ হওয়া l সুতরাং প্রথম পাঠ বিধি আর অন্তিম পাঠ বিধি দ্বারা সিদ্ধি l তাইতো যারা গীতা পাঠশালার তারা সবসময় এই পাঠ পড়ে নাকি শুধু মুরলী শোনায় ? কারণ প্রকৃত গীতা পাঠশালার বিধি এটাই, প্রথমে নিজের জন্য পড়া অর্থাৎ সেইরকম নিজেকে তৈরি করে তারপরে অন্যকে নিমিত্ত হয়ে পড়ানো l তাহলে, গীতা পাঠশালার তোমরা সবাই এই বিধিতে সেবা করো ? কারণ তোমরা সবাই এই বিশ্বের সামনে পরমাত্ম- পাঠের স্যাম্পল l তাইতো, স্যাম্পেলের মহত্ব আছে l স্যাম্পল অনেক আত্মাকে এইরকম হওয়ার প্রেরণা দেয় l সুতরাং যারা গীতা পাঠশালার তাদের উপরে অনেক বড় দায়িত্ব l যদি স্যাম্পল হওয়াতে তোমরা সামান্য দুর্বলতাও দেখাও তাহলে অনেক আত্মার ভাগ্য বানানোর পরিবর্তে, তাদের ভাগ্য বানানো থেকে বঞ্চিত করার নিমিত্ত হয়ে যাবে কারণ, যারা তোমরা সব নিমিত্ত আত্মাকে দেখে বা শোনে, সাকার রূপে তারা সেটাই করে l বাবা গুপ্ত, তাই না ! সেইজন্য এমন শ্রেষ্ঠ কর্ম করে দেখাও যাতে তোমাদের শ্রেষ্ঠ কর্মকে দেখে, অনেক আত্মা শ্রেষ্ঠ কর্ম করে নিজের ভাগ্যের রেখা শ্রেষ্ঠ বানাতে পারে l সুতরাং এক তো নিজেদেরকে সদা স্যাম্পল মনে করা, আর দুই, সদা নিজের সিম্বল স্মরণে রাখা l যারা গীতা পাঠশালার, সিম্বল কি জানো তোমরা ? কমল পুষ্প l বাপদাদা তোমাদের বলেছেন কমল পুষ্প হতে আর এইরকমই আচরণ করতে l কমল হওয়ার সাধন হলো অভ্যাসে পরিণত করা l যদি অভ্যাস না করতে পারো তাহলে কমল হতে পারবে না, সেইজন্য 'স্যাম্পল' আর 'কমল পুষ্পের' সিম্বল সদা বুদ্ধিতে রাখো l সেবা যতই বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হোক, সেবা করার সময় কিন্তু স্বতন্ত্রতা বজায় রেখে প্রিয় হও l শুধু প্রিয় হয়োনা, স্বতন্ত্র অথচ প্রিয় হও, কারণ সেবার প্রতি ভালোবাসা ভালো ব্যাপার কিন্তু তোমাদের নিশ্চিত হতে হবে যে সেই ভালোবাসা মোহরূপে পরিবর্তিত হয়ে যাবে না l একেই বলে, স্বতন্ত্র হয়েও প্রিয় হওয়া l সেবার নিমিত্ত হয়েছ, এতো খুব ভালো করেছ l পুণ্য আত্মার টাইটেল তো পেয়েই গেছ, সেইজন্যই দেখ তোমাদের বিশেষ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, কারণ পুণ্যের কাজ করেছ l এখন, বাবা যে সিদ্ধির পাঠ তোমাদের পড়িয়েছেন, সেই সিদ্ধির স্থিতি দ্বারা ভবিষ্যতে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হতে থাকো l বুঝেছ, কি করতে হবে ? আচ্ছা l

সবাই তোমরা বিশেষ একটা ব্যাপারে প্রতীক্ষায় আছ, সেটা কোন বিষয় ? (বাবা তোমাদের রেজাল্ট শোনাবেন ) রেজাল্ট তোমরা শোনাবে নাকি বাবা শোনাবেন ? বাপদাদা কি বলেছিলেন - রেজাল্ট নেবেন নাকি দেবেন ? ড্রামা প্ল্যান অনুসারে যা কিছু ঘটে, যেভাবে ঘটে সেটাকে ভালোই বলা হবে l সবাই তোমরা ভালো লক্ষ্য বজায় রেখেছ এবং যথাশক্তি অনুযায়ী তোমাদের কর্মের মাধ্যমে লক্ষণ প্রদর্শন করেছ l বহুকালের বরদান নম্বর অনুক্রমে তোমরা ধারণও করেছ আর যে বরদান তোমরা প্রাপ্ত করেছ, এমনকি এখনও তা' বরদানীমূর্ত হয়ে বাবা সমান নিরন্তর বরদান-দাতা হতে থাকো l এখন বাপদাদা কি চান ? তোমরা বরদান প্রাপ্ত করেছ, আর এখন এই বছর বহুকাল বন্ধনমুক্ত অর্থাৎ বাবা সমান কর্মাতীত স্থিতির বিশেষ অভ্যাস করে দুনিয়াকে 'স্বতন্ত্র অথচ প্রিয়' হওয়ার অনুভব করাও l কখনো কখনো অনুভব করার এই বিধি এখন বদল করে বহুকালের অটল, অনড়, নির্বিঘ্ন, নির্বন্ধন, নির্বিকল্প, নির্বিকর্ম অর্থাৎ নিরাকার, নির্বিকার, নিরহঙ্কারের স্পষ্ট অনুভূতির এই স্থিতি দুনিয়ার সামনে প্রত্যক্ষ রূপে নিয়ে এসো l একেই বলে, বাবা সমান হওয়া l বুঝেছ ?

তোমাদের মধ্যে কতজন রেজাল্টে প্রথমে নিজের প্রতি নিজে সন্তুষ্ট থেকেছে ? কারণ, এক তো নিজের সন্তুষ্টতা, দ্বিতীয় হলো ব্রাহ্মণ পরিবারের সন্তুষ্টতা, তৃতীয় বাবার সন্তুষ্টতা l তিনের রেজাল্টে এখন আরও মার্কস নিতে হবে l সুতরাং সন্তুষ্ট হও, সন্তুষ্ট করো l বাবার সন্তুষ্টমণি হয়ে সদা নিরন্তর ঝলমলে থাকো l বাপদাদার বাচ্চাদের জন্য রিগার্ড থাকে, সেইজন্য গুপ্ত রেকর্ড বানান l ভবিষ্যতে তোমরা এইররকমই হতে চলেছ, সেইজন্য বাবা সদা সম্পন্নতার স্টেজ দেখেন l আচ্ছা l

সবাই তোমরা সন্তুষ্টমণি, তাই না ! বৃদ্ধি দেখে খুশি হও l তোমরা সবাই তো অপেক্ষায় আছ যে আবু রোড পর্যন্ত ক্যু হবে ! এখন তো শুধু হল ভরেছে, তারপরে তোমরা কি করবে ? তারপরে নিদ্রা যাবে নাকি অখন্ড যোগ করবে ? এটাও ঘটবে, সেইজন্য অল্পেই খুশি থাকো l তিন পা জমির পরিবর্তে যদি এক পা জমিও পাও, তাহলেও সন্তুষ্ট থাকো l আগে এইরকম হতো - এটা ভেবোনা l পরিবার বৃদ্ধির খুশি উদযাপন করো l আকাশ আর মাটি তো শেষ হয়ে যাবে না, তাই না ! পাহাড়ও তো অনেক আছে l যখন তোমরা ভাবো, এটা হওয়া উচিত ছিল, এটা পাওয়া উচিত ছিল তখনই বিষয়টা বড় হয়ে যায় l তখন দাদীদেরও ভাবনা হয় যে কি করা যায়..কীভাবে করা যায় ! এমন দিনও আসবে যে দিন- দুপুরে ঘুমাতে যাবে, রাতে জাগবে l তারা নিজেদের গরম রাখতে আগুন জ্বালিয়ে তার চারপাশে বসে যায়, তোমরা যোগ অগ্নি জ্বালিয়ে বসে যাবে l এটা পছন্দ নাকি খাটিয়া চাই ? বসার জন্য চেয়ার চাই ? পাহাড়ের এই পিঠকে চেয়ার বানিয়ে নিও l যতক্ষণ সাধন আছে সুখ নাও, না থাকে তো পাহাড়-পৃষ্ঠকে চেয়ার (আরাম কেদারা) বানিয়ে নিও l পিঠেরই তো আরাম চাই, আর কিছু তো না ! পাঁচ হাজার লোক যদি আসে চেয়ার তো নিয়ে নিতেই হবে, তাই না ! আর যখন ক্যু হবে তখন বিছানাও ছাড়তে হবে l এভাররেডি থাকো l যদি বিছানা পাও তাহলেও সম্মতি - 'হাঁ জী' আর মাটি পেলেও 'হাঁ জী' l শুরুতে এইরকম অনেক অভ্যাস তোমাদের করানো হয়েছে l ১৫-১৫ দিন পর্যন্ত ওষুধের দোকান বন্ধ থাকতো l এমনকি হাঁপানি পেশেন্টও বাজরার রুটি আর লস্যি পান করতো l কিন্তু অসুস্থ হয়নি, সবাই সুস্থ হয়ে গেছিল l এতো শুরুতেই অভ্যাসের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে, সুতরাং অন্তেও তো হবে, তাই না ! তা' নয়তো ভাবো, হাঁপের পেশেন্ট আর তাকে যদি লস্যি দাও তাহলে আগেই সে ঘাবড়ে যাবে l কিন্তু আশীর্বাদের ওষুধ এর সাথে মিশে থাকে, সেইজন্য মন উল্লসিত হয় অর্থাৎ অব্যর্থ ও অত্যুৎকৃষ্ট ওষুধে পরিণত হয়ে যায় l তখন সেটা পেপার বলে মনে হয় না l কঠিন মনে হয় না l ত্যাগ নয়, এক্সকার্শন হয়ে যায় l সুতরাং সবাই প্রস্তুত আছ তো নাকি ব্যবস্থাপকের কাছে টিচার্স লিস্ট নিয়ে যাবে ? এই কারণেই অনেককে ডাকা হয়নি, তাই না !

সময়মতো এইসব সাধনের ঊর্ধ্বে সাধনার সিদ্ধি রূপে অনুভব করবে l তোমরা আধ্যাত্মিক মিলিটারিও তো বটে, তাই না ! মিলিটারির পার্টও তো পালন করতে হবে ! এতো এখন স্নেহী পরিবার, ঘর - তোমরা এটাও তো অনুভব করছ ! কিন্তু সময়মতো আত্মন-আশ্রয় মিলিটারি হয়ে উপস্থিত পরিস্থিতিকে সেই স্নেহ দ্বারা পরাস্ত করতে হবে, এটাও মিলিটারির বিশেষত্ব l আচ্ছা l

গুজরাটের এভাররেডি থাকার বিশেষ বরদান আছে l তোমরা কোনও অজুহাত দাও না - কি করবে, কীভাবে আসবে, রিজার্ভেশন পাওয়া যায় না - কিন্তু এখানে পৌঁছে গেছ l কাছে হওয়াতে সুবিধা l গুজরাটের আজ্ঞাকারী হওয়ার বিশেষ বরদান আছে, কারণ সেবাতেও তোমরা 'হাঁ জী' বলো অর্থাৎ সদা সম্মত, তাই না ! পরিশ্রমের সেবা সদা গুজরাটকে দেওয়া হয়, নয় কি ! রুটি বানানোর সেবা কে করে ? থাকার জায়গা দেওয়ার, দৌড়ঝাঁপ করার সেবা গুজরাট করে l বাপদাদা সব দেখেন l এমন নয় যে বাপদাদা জানতে পারেন না l যারা পরিশ্রম করে তাদের প্রিয়'র প্রীতি প্রাপ্ত হয় l কাছে হওয়ার ভাগ্য আছে তোমাদের আর ভাগ্য-বৃদ্ধির ভালো যুক্তি বজায় রেখেছ l সবাই ভাগ্য-বৃদ্ধি করতে জানে না l কারও কারও ভাগ্যপ্রাপ্ত হয় ঠিকই, কিন্তু সেই পর্যন্তই থেকে যায়, কীভাবে বাড়াতে হয় জানে না l কিন্তু গুজরাট থেকে আগতদের ভাগ্য আছে আর তারা জানে কীভাবে তা' বাড়াতে হবে, সেইভাবে তোমরা তোমাদের ভাগ্য বাড়িয়ে যাচ্ছ - এটা দেখে বাপদাদাও খুশি l সুতরাং বাবার থেকে বিশেষ আশীর্বাদ প্রাপ্তিও ভাগ্যের একটা লক্ষণ l বুঝেছ ?

চারিদিক থেকে যে স্নেহী বাচ্চারা এখানে পৌঁছেছে, বাপদাদাও সেই সব দেশ, বিদেশ উভয় দিকের স্নেহী বাচ্চাদের স্নেহের রিটার্ণে 'সদা অবিনাশী ভব'-র বরদান দিচ্ছেন l স্নেহবশতঃ যেভাবে তোমরা দূর দূরান্ত থেকে দৌড়ে এসেছ, সেইরকমই, স্থূলভাবে যেমন দৌড়েছ, নিকটে পৌঁছেছ, সমুখে পৌঁছেছ, ঠিক সেইভাবে পুরুষার্থেও বিশেষ উড়তি কলা দ্বারা বাবা সমান হও অর্থাৎ সদা বাবার কাছেই থাক l বুঝেছ, কি করতে হবে ? এই স্নেহ, হৃদয়ের স্নেহ দিলারাম বাবার কাছে তোমরা পৌঁছাবার আগেই পৌঁছে যায় l হয় সমুখে আছ অথবা আজকের দিনে দেশে বিদেশে শারীরিকভাবে দূরে আছ, কিন্তু দূরে থেকেও সব বাচ্চা সবচেয়ে কাছে, হৃদয় সিংহাসনাসীন l সুতরাং সর্বাধিক কাছের স্থান হৃদয় l অতএব, দেশে-বিদেশে বসে থাকা নয়, তোমরা হৃদয় সিংহাসনাসনে বসে আছ l তাহলে কাছেই তো আছ, তাই না ! সব বাচ্চার স্মরণ-স্নেহ, অনুযোগ, মিষ্টি মিষ্টি আত্মিক বার্তালাপ, উপহার - সবকিছু বাবার কাছে পৌঁছে গেছে l বাপদাদাও স্নেহী বাচ্চাদের 'সদা

পরিশ্রম থেকে মুক্ত হয়ে ভালোবাসায় মগ্ন হওয়ার এই বরদান দিচ্ছেন l তাহলে সবার রিটার্ন তো পেয়ে গেছ, তাই না ! আচ্ছা l

সব স্নেহী আত্মাকে, সদা কাছে থাকা আত্মাদের, সদা বন্ধনমুক্ত, কর্মাতীত স্থিতিতে বহুকালের অনুভব ক'রে বিশেষ আত্মাদের, হৃদয় সিংহাসনাসীন সব সন্তুষ্টমণিকে বাপদাদার 'অব্যক্ত স্থিতি ভব'র বরদানের সাথে স্মরণ-স্নেহ আর গুড নাইট আর গুড মর্নিং l


বরদান:-
পুরানো হিসেব সমাপ্ত করে, নতুন সংস্কার রূপী বস্ত্র ধারণ করে বাবা সমান সম্পন্ন ভব

যেমন দীপাবলীতে নতুন বস্ত্র ধারণ করে, সেইরকম তোমরা বাচ্চারা এই মরজীবা নতুন জন্মে, নতুন সংস্কার রূপী বস্ত্র ধারণ করে নতুন বছর উদযাপন কর l নিজের দুর্বলতা, অপূর্ণতা, শক্তির ঘাটতি, কোমলতা প্রভৃতির যা কিছু পুরানো হিসেব এখনও রয়েছে, সেইসব সমাপ্ত করে প্রকৃত দীপাবলী উদযাপন কর l এই নতুন জন্মে নতুন সংস্কার যদি ধারণ করে নাও, তাহলে বাবা সমান সম্পন্ন হয়ে যাবে l

স্লোগান:-
শুদ্ধ সঙ্কল্পের ভান্ডার সঞ্চিত হলে তবে ব্যর্থ সঙ্কল্পে সময় নষ্ট হবে না l


সূচনাঃ- আজ মাসের তৃতীয় রবিবার, সব রাজযোগী তপস্বী ভাই-বোনেরা সন্ধ্যা ৬:৩০ থেকে ৭:৩০ পর্যন্ত, বিশেষ যোগ অভ্যাসের সময় নিজের শুভ ভাবনার শ্রেষ্ঠ বৃত্তি দ্বারা মন্সা মহাদানী হয়ে সবাইকে নির্ভীক হওয়ার বরদান দেওয়ার সেবা করুন l