16.01.2020 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা -- নিজেদের যোগবলের দ্বারাই তোমাদের বিকর্ম বিনাশ করে, পবিত্র হয়ে পবিত্র দুনিয়া স্থাপন করতে হবে, এটাই তোমাদের সেবা"

প্রশ্নঃ -
দেবতা ধর্মের কোন্ বিশেষত্বের গায়ন রয়েছে ?

উত্তরঃ -
দেবী-দেবতা ধর্মই অত্যন্ত সুখ প্রদান করে। ওখানে দুঃখের কোনো নাম-চিহ্নই থাকে না। বাচ্চারা, তোমরা তিন-চতুর্থাংশ সুখ পাও। যদি অর্ধেক সুখ, অর্ধেক দুঃখ হয় তবে সেই আনন্দই থাকবে না।

ওম্ শান্তি ।
ভগবানুবাচ। ভগবান বুঝিয়েছেন যে, কোনো মানুষকেই ভগবান বলা যায় না। দেবতাদেরও ভগবান বলা যাবে না। ভগবান নিরাকার, ওঁনার কোনো সাকারী বা আকারী রূপ নেই। সূক্ষ্মলোক-নিবাসীদেরও সূক্ষ্ম আকার আছে তাই তাকে বলা হয় সূক্ষ্মলোক। আর এখানে সাকারী মনুষ্য শরীর রয়েছে, তাই একে বলা হয় স্থূললোক। সূক্ষ্মলোকে এই স্থূল ৫ তত্বের শরীর থাকে না। এই যে ৫ তত্বের মনুষ্য শরীর গঠিত হয়েছে, একে বলা হয় মাটির পুতুল। সূক্ষ্মলোক-নিবাসীদের মাটির পুতুল বলা হয় না। দৈবী (দেবতা) ধর্মাবলম্বীরাও মানুষ, কিন্তু তাদের বলা হবে দৈব-গুণসম্পন্ন মানুষ। তারা এটা প্রাপ্ত করেছে শিব বাবার কাছ থেকে। দিব্যগুণসম্পন্ন মানুষ আর আসুরী গুণ সম্পন্ন মানুষের মধ্যে কত পার্থক্য। মানুষই শিবালয় বা বেশ্যালয়ে থাকার যোগ্য হয়। সত্যযুগকে বলা হয় শিবালয়। সত্যযুগও এখানেই।কোন মূললোক (পরমধাম) বা সূক্ষ্মলোকে সত্যযুগ হয়না। বাচ্চারা, তোমরা জানো যে, ওটাই শিববাবার স্থাপন করা শিবালয়। কখন স্থাপন করেছিলেন ? সঙ্গমে। এ হলো পুরুষোত্তম সঙ্গমযুগ। এখন এই দুনিয়া হলো পতিত তমোপ্রধান। একে সতোপ্রধান, নতুন দুনিয়া বলা যাবেনা। নতুন দুনিয়াকে সতোপ্রধান বলা হয়। সেটাই পরে যখন পুরানো হয় তখন তাকে তমোপ্রধান বলা হয়। পুনরায় সতোপ্রধান কিভাবে হয় ? বাচ্চারা, তোমাদের যোগবলের দ্বারা। যোগবলের দ্বারাই তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হয় আর তোমরা পবিত্র হয়ে যাও। পবিত্রদের জন্য পুনরায় অবশ্যই পবিত্র দুনিয়া চাই। নতুন দুনিয়াকে পবিত্র, পুরানো দুনিয়াকে অপবিত্র বলা হয়। পবিত্র দুনিয়া বাবা স্থাপন করেন, পতিত দুনিয়া রাবণ স্থাপন করে। এই কথা কোন মানুষই জানে না। যদি এই ৫ বিকার না থাকতো তাহলে মানুষ দুঃখী হয়ে বাবাকে কেন স্মরণ করে ? বাবা বলেন, আমিই দুঃখহরণকারী, সুখ প্রদানকারী (দুঃখহর্তা-সুখকর্তা)। ১০ মস্তকধারী রাবণের ৫ বিকারের পুতুল বানিয়েছে। সেই রাবণকে শত্রু মনে করে দাহ করা হয়। তাও এমন নয় যে, দ্বাপরাদি থেকেই জ্বালানো শুরু হয়েছে। না, যখন তমোপ্রধান হয়ে গেছে তখন কোনো না কোনো মতাবলম্বী বসে এই নতুন কথা (নিয়ম) বের করেছে। যখন কেউ অত্যন্ত দুঃখ দেয় তখন তার এফিজি (কুশপুতুল) বানানো হয়। এখানেও মানুষ যখন অত্যন্ত দুঃখ পায়, তখন এই রাবণের ভূত (কুশ-পুত্তলিকা) বানিয়ে দাহ করে। বাচ্চারা, তোমদের তিন-চতুর্থাংশ (কাল) সুখ থাকে। যদি দুঃখ অর্ধেক হতো, তাহলে তার আনন্দই বা কি থাকতো ! বাবা বলেন, তোমাদের এই দেবী-দেবতা ধর্ম অত্যন্ত সুখ প্রদান করে। সৃষ্টি অনাদি। একথা কেউ জিজ্ঞাসা করতে পারেনা যে, সৃষ্টি কেন স্থাপিত হয়েছে ? পুনরায় কবে সমাপ্ত হবে ? এই চক্র আবর্তিত হতেই থাকে। শাস্ত্রে কল্পের আয়ু লক্ষ-লক্ষ বছর লেখা আছে। অবশ্যই সঙ্গমযুগও থাকবে, যখন সৃষ্টি পরিবর্তন হবে। এখন যেমন তোমরা অনুভব করো, তেমনভাবে আর কেউ বোঝে না। এতটুকুও বোঝেনা যে -- শৈশবে রাধা কৃষ্ণ নাম, পুনরায় তাঁদের স্বয়ংবর হয়। দুজনেই পৃথক-পৃথক রাজধানীর, পুনরায় তাঁদের স্বয়ংবর হয় তখন লক্ষী-নারায়ণ হয়। এইসব কথা বাবা তোমাদের বোঝান। বাবা হলেন নলেজ ফুল। এমনও নয় যে, বাবা সর্বজ্ঞ (জানি জননহার)। বাচ্চারা, এখন তোমরা জানো, বাবা এসে তোমাদের নলেজ দেন। নলেজ পাঠশালায় পাওয়া যায়। পাঠশালায় এইম অবজেক্ট তো অবশ্যই থাকা উচিত। এখন তোমরা পড়াশোনা করছো। অপবিত্র দুনিয়ায় তোমরা রাজত্ব করতে পারবে না। রাজত্ব করবে ফুল-সদৃশ (পবিত্র) দুনিয়ায়। রাজযোগ কী সত্যযুগে শেখাবে, না শেখাবে না। সঙ্গমযুগেই বাবা রাজযোগ শেখান। এ হলো অসীম জগতের কথা। বাবা কখন আসেন, কারোরই জানা নেই। গভীর অন্ধকারে রয়েছে। জাপানে জ্ঞান-সূর্য নামে ওরা নিজেদেরকে সূর্যবংশীয় বলে। বাস্তবে দেবতারাই হলেন সূর্যবংশীয়। সূর্যবংশীয়দের রাজ্য সত্যযুগেই ছিল। গায়নও করা হয় যে, জ্ঞান-সূর্য উদিত হয়েছে...... তখন ভক্তিমার্গের অন্ধকারের বিনাশ হয়েছে। নতুন দুনিয়াই পুরানো, পুনরায় পুরানো দুনিয়াই নতুন হয়। এ হলো অসীম জগতের বড় ঘর। কত বড় ব্রহ্মান্ড। সূর্য, চন্দ্র, তারা সবই কত কার্যকরী। রাত্রিতে কত কার্য করা হয়। এমনও অনেক রাজা আছে, যারা দিনে ঘুমায় আর রাতে নিজের সভাদি বসায়, বেচা-কেনা করে। এখনও এমন কোথাও-কোথাও হয়। মিলস্ (কারখানা) ইত্যাদিও রাতে চালু থাকে। এ হলো পার্থিব জগতের দিন-রাত। আর ওটা হলো অসীম জগতের কথা। এসব কথা তোমরা ব্যতীত আর কারো বুদ্ধিতে নেই। শিববাবাকেও জানে না। বাবা প্রতিটি কথা বোঝাতে থাকেন। ব্রহ্মার উদ্দেশ্যেও বুঝিয়েছেন যে -- ইনি হলেন প্রজাপিতা ব্রহ্মা। বাবা যখন সৃষ্টি রচনা করেন, তখন অবশ্যই কারোর মধ্যে প্রবেশ করেই করবেন। পবিত্র মানুষ তো সত্যযুগে হয়। কলিযুগে তো সবাই বিকারের দ্বারা জন্মগ্রহণ করে, তাই পতিত বলা হয়। তারা বলে, বিকার ছাড়া সৃষ্টি কিভাবে চলবে ? আরে দেবতাদের উদ্দেশ্যে তোমরা বলো যে, সম্পূর্ণ নির্বিকারী। কত শুদ্ধতার সঙ্গে তাঁদের মন্দির বানানো হয়। ব্রাহ্মণ ব্যতীত কাউকে ভিতরে প্রবেশের অনুমতি দেবে না। বাস্তবে কোনো বিকারী মানুষ এই দেবতাদের স্পর্শ করতে পারে না। কিন্তু আজকাল পয়সার দ্বারাই সবকিছু হয়। কেউ আবার ঘরেই মন্দিরাদি নির্মাণ করে তাতেও ব্রাহ্মণদেরই ডাকা হয়। এখন বিকারী তো এই ব্রাহ্মণরাও, শুধু নামটাই ব্রাহ্মণ। এই দুনিয়াই তো সম্পূর্ণ বিকারী, তাই পূজাও বিকারীরাই করে। এখানে নির্বিকারী কোথা থেকে আসবে ? নির্বিকারীরা থাকেই সত্যযুগে। এমনও নয় যে, যারা বিকারে যান না, তাদের নির্বিকারী বলা হবে। শরীরের জন্ম তো বিকারের মধ্যমেই হয়েছে, তাই না। বাবা একটি কথাই বলেছেন যে, এখন সমগ্র দুনিয়াই রাবণ-রাজ্য। রামরাজ্যে হয় সম্পূর্ণ নির্বিকারী, রাবণ-রাজ্যে হয় বিকারী। সত্যযুগে পবিত্রতা ছিল তাই পিস, প্রসপারিটি (শান্তি-সমৃদ্ধি) ছিল। তোমরা দেখাতে পারো যে, সত্যযুগে এই লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজ্য ছিল, তাই না। সেখানে ৫ বিকার থাকেই না। ওটা হলোই পবিত্র রাজ্য, যা ঈশ্বর স্থাপন করেন। ঈশ্বর কী অপবিত্র রাজ্য স্থাপন করেন, না করেন না। সত্যযুগে যদি অপবিতত্রতা থাকত তাহলে তারা ভগবানকে ডাকতো, তাই না। ওখানে তো কেউ ডাকেই না। সুখের সময় কেউ স্মরণ করে না। পরমাত্মার মহিমাও করে -- সুখের সাগর, পবিত্রতার সাগর....। তারা বলেও যে, শান্তি থাকুক। এখন মানুষ সমগ্র দুনিয়ায় শান্তি স্থাপন কিভাবে করবে ? শান্তির রাজ্য তো একমাত্র স্বর্গেই ছিল। যখন কেউ পরস্পরের মধ্যে লড়াই-ঝগড়া করে তখন মধ্যস্থতা (শান্ত করা) করাতে হয়। ওখানে তো একটাই রাজ্য।

বাবা বলেন, এখনই এই পুরানো দুনিয়াকে শেষ হতে হবে। এই মহাভারত লড়াইতে সবকিছুই বিনাশপ্রাপ্ত হবে। বিনাশকালে বিপরীতবুদ্ধি -- এই শব্দও লেখা আছে। অবশ্যই তোমরা হলে পান্ডব, তাই না। তোমরা হলে আধ্যাত্বিক পান্ডা। সবাইকে মুক্তিধামের রাস্তা বলে দাও। ওটা হলো আত্মাদের ঘর, শান্তিধাম। এ হলো দুঃখধাম। এখন বাবা বলেন, এই দুঃখধামকে দেখেও ভুলে যাও। ব্যস্, এখন আমাদের ‌শান্তিধামে যেতে হবে। একথা আত্মা বলে, আত্মাই রিয়েলাইজ করে। আত্মার স্মৃতিতে এসেছে যে, 'আমি আত্মা'। বাবা বলেন -- আমি যা, আমি যেমন.....আর তো কেউই বুঝতে পারেনা। তোমাদেরই বুঝিয়েছি যে -- আমি বিন্দু। প্রতিমুহূর্তে তোমাদের একথা স্মরণে রাখা উচিত যে, আমরাই চুরাশির চক্র আবর্তন করেছি। এতেই বাবাও স্মরণে আসবে, ঘরও স্মরণে আসবে, চক্রও স্মরণে আসবে। এই ওয়ার্ল্ডের হিস্ট্রি-জিওগ্রাফি শুধু তোমরাই জানো। কত খন্ড রয়েছে। কত যুদ্ধাদি হয়েছে। সত্যযুগে যুদ্ধাদির কোনো কথাই নেই। কোথায় রাম-রাজ্য, কোথায় রাবণ-রাজ্য। বাবা বলেন, এখন যেমন তোমরা ঈশ্বরীয় রাজ্যে রয়েছ কারণ ঈশ্বর এখানে এসেছেন রাজ্য স্থাপন করতে। ঈশ্বর স্বয়ং রাজ্য করেন না, স্বয়ং রাজত্ব নেন না। তিনি নিষ্কাম সেবা করেন। সর্বোচ্চ হলেন ভগবান, তিনি সর্ব আত্মাদের পিতা। 'বাবা' বলতেই খুশির পারদ সম্পূর্ণ ঊর্ধ্বগামী হয়ে যাওয়া উচিত। অতীন্দ্রিয়সুখ অর্থাৎ তোমাদের অন্তিম অবস্থার গায়নও করা হয়েছে। যখন পরীক্ষার সময় নিকটে চলে আসে, সেইসময় সব সাক্ষাৎকার হয়। বাচ্চারা অতীন্দ্রিয় সুখও নম্বরের ক্রমানুসারে প্রাপ্ত করে। কেউ তো বাবাকে স্মরণ করে অত্যন্ত খুশিতে থাকে। বাচ্চারা, তোমাদের সারাদিন যেন এমন ফিলিং থাকে যে -- ও বাবা! তুমি আমাদের কি থেকে কি বানিয়ে দিয়েছ ! তোমার থেকে আমরা কতই না সুখ পাই......বাবাকে স্মরণ করলে প্রেমে অশ্রু এসে যায়। তুমি এসে আমাদের দুঃখ থেকে মুক্ত কর, বিষয়সাগর থেকে ক্ষীরসাগরে নিয়ে যাও, সারাদিন এমন অনুভবই থাকা উচিত। বাবা যেসময় তোমাদের স্মরণ করায়, তখন তোমরা (খুশীতে) কত আহ্লাদিত হয়ে যাও। শিববাবা আমাদের রাজযোগ শেখাচ্ছেন। অবশ্যই শিবরাত্রি পালন করা হয়। কিন্তু মানুষ গীতায় শিববাবার বদলে কৃষ্ণের নাম দিয়ে দিয়েছে। এটাই সর্বাপেক্ষা বড় একমাত্র ভূল। গীতাতেই এই একমাত্র ভূল করে দিয়েছে। ড্রামাই এভাবে রচিত হয়েছে। বাবা-ই এসে এই ভূলের কথা বলেন যে, পতিত-পাবন আমি না কৃষ্ণ ? আমি তোমাদের রাজযোগ শিখিয়ে মানুষ থেকে দেবতায় পরিণত করেছি। প্রশস্তীও তো আমারই হয়, তাই না ! অকাল-মূর্তি, অযোনী.... কৃষ্ণের উদ্দেশ্যে এই মহিমা কি করতে পারবে, না পারবে না। তিনি(কৃষ্ণ) তো পুনর্জন্মে আসবেন। বাচ্চারা, তোমাদের মধ্যেও নম্বরের ক্রমানুসার হয়, যাদের বুদ্ধিতে এসবকথা থাকে। জ্ঞানের সঙ্গে-সঙ্গে আচার-আচরণও ভাল হওয়া উচিত। মায়াও কম কিছু নয়। যে প্রথমে আসবে, সে অবশ্যই অত্যন্ত শক্তিসম্পন্ন হবে। ভূমিকা পালনকারীরাও (পার্টধারী) বিভিন্ন ধরণের হয়, তাই না। নায়ক-নায়িকার ভূমিকা ভারতবাসীরাই প্রাপ্ত করেছে। তোমরা সকলকে রাবণ-রাজ্য থেকে মুক্ত কর। শ্রীমতের দ্বারা তোমরা কত বল প্রাপ্ত কর। মায়াও অত্যন্ত দুর্বার, চলতে-ফিরতে ধোঁকা দিয়ে দেয়।

বাচ্চারা, বাবা প্রেমের সাগর তাই তোমাদেরকেও প্রেমের সাগর হতে হবে। কখনো রুক্ষভাবে কথা বোলো না। কাউকে দুঃখ দিলে দুঃখী হয়ে মৃত্যুবরণ করবে। এইসমস্ত অভ্যাস সমাপ্ত করা উচিত। সর্বাপেক্ষা খারাপ অভ্যাস হলো বিষয়সাগরে হাবুডুবু খাওয়া। বাবাও বলেন, কাম-বিকার হলো মহাশত্রু। কত বাচ্চারা(কন্যা) মার খায়। কেউ-কেউ বাচ্চাদের বলে দেয় যে, অবশ্যই পবিত্র হও। আরে! প্রথমে নিজে তো পবিত্র হও। কন্যাসন্তানকে দিয়ে দেয়, আর খরচপত্রাদির বোঝ থেকে বেঁচে যায় কারণ তারা মনে করে যে -- জানি না, এদের ভাগ্যে কি আছে, কোন সুখী (ভাল) ঘর পাবে কি, পাবে না। আজকাল খরচও অনেকবেশী। গরীবরা তো তৎক্ষনাৎ দিয়ে দেয়। কারোর আবার মোহও থাকে। পূর্বে এক ভিলনী (নিম্নজাতির লোক) আসত, তাকে জ্ঞানে আসতে দেওয়া হয়নি, কারণ জাদুমন্ত্রের ভয় ছিল। ভগবানকে জাদুকরও বলা হয়। দয়াময়ও ভগবানকেই বলা হয়। কৃষ্ণকেও কি বলবে, না বলবে না। দয়াময় সেই, যে নির্দয়ীর থেকে মুক্ত করে। নির্দয়ী হলো রাবণ।

সর্বপ্রথমে হলো জ্ঞান। জ্ঞান, ভক্তি আর বৈরাগ্য। এমনও নয় যে বলবে ভক্তি, জ্ঞান, পুনরায় বৈরাগ্য। জ্ঞানের বৈরাগ্য কি বলবে, না বলবে না। ভক্তিতে বৈরাগ্য আসে তাই জ্ঞান, ভক্তি, বৈরাগ্য -- এই শব্দগুলি সঠিক। বাবা তোমাদের অসীম জগতের অর্থাৎ পুরানো দুনিয়ার (মোহ) থেকে বৈরাগ্য করান। সন্ন্যাসীরা তো শুধু ঘর-পরিবার থেকে বৈরাগ্য করায়। এও ড্রামায় নির্ধারিত। মানুষের বুদ্ধিতে বসেই না। ভারত ১০০ শতাংশ সমৃদ্ধশালী, নির্বিকারী, হেল্দী ছিল, কখনও অকালমৃত্যু হতো না। এসবের (কথার) ধারণা অতি অল্প সংখ্যকেরই আছে। যে ভালো সার্ভিস করবে, সে অতি ধনবান হবে। সারাদিন বাচ্চাদের শুধুমাত্র বাবা-বাবা-ই স্মরণে থাকা উচিত। কিন্তু মায়া থাকতেই দেয় না। বাবা বলেন, যদি সতোপ্রধান হতে হয় তবে চলতে-ফিরতে, ভোজন করার সময় আমাকেই স্মরণ কর। আমি তোমাদের বিশ্বের মালিক বানাই, তোমরা (আমাকে) স্মরণ করবে না ! অনেকেরই প্রচুর মায়ার তুফান আসে। বাবা বোঝাতে থাকেন -- এমন তো হবেই। এ ড্রামায় নির্ধারিত। স্বর্গ স্থাপন তো হবেই। নতুন দুনিয়া সর্বদাই তো থাকতে পারবে না। চক্র যখন আবর্তিত হবে তখন নীচে অবশ্যই নামবে। প্রত্যেকটা জিনিসই নতুন থেকে পুনরায় পুরানো অবশ্যই হবে। এইসময় মায়া সকলকে এপ্রিলফুল বানিয়েছে, বাবা এসে ফুলে পরিনত করেন।‌ আচ্ছা!

মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা-রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১) বাবার সমান প্রেমের সাগর হতে হবে। কখনো কাউকে দুঃখ দেবে না। রুক্ষ ভাবে কথা বলা উচিত নয়। কু-অভ্যাস পরিত্যাগ করা উচিত।

২) বাবার সঙ্গে মিষ্টি-মিষ্টি কথা বলার সময়, এই অনুভবে থাকা উচিত যে -- ও বাবা! তুমি আমাদের কি থেকে কি বানিয়ে দিয়েছ। তুমি আমাদের কত সুখ প্রদান করেছ। বাবা তুমি ক্ষীরসাগরে নিয়ে যাও..... সারাদিন যেন বাবার কথাই স্মরণে থাকে।

বরদান:-
নিজের প্রতিটি কর্ম বা বিশেষত্বের মাধ্যমে দাতার (বাবা) প্রতি ইঙ্গিত বা দিক্ নির্দেশকারী সত্যিকারের সেবাধারী ভব

সত্যিকারের সেবাধারী কখনো কোনো আত্মাকে সহযোগীতা প্রদান করে নিজের দিকে আকৃষ্ট করবে না। সে বাবার সঙ্গে সকলের যোগসূত্র স্থাপন করবে। তার প্রতিটি বাণী বাবাকে স্মরণ করাবে। তার প্রতিটি কর্মে বাবা প্রত্যক্ষ হবে। তার একথা সঙ্কল্পও আসবে না যে, আমার বিশেষত্বের কারণেই এ আমার সহযোগী। যদি সে তোমাকে দেখে, বাবাকে নয় তবে সে সেবা করেনি, কারণ সে বাবাকেই ভুলিয়ে দিয়েছে। সত্যিকারের সেবাধারী সদা সত্যের সঙ্গে সকলের যোগসূত্র স্থাপন করাবে, নিজের সঙ্গে নয়।

স্লোগান:-
যেকোনো প্রকারের আর্জির (অনুরোধ) পরিবর্তে সদা রাজী থাকো।


অব্যক্ত স্থিতির অনুভব করার জন্য বিশেষ হোম-ওয়ার্ক :

অভ্যাস করো যে, এই স্থূল দেহের মধ্যে প্রবেশ করে কর্মেন্দ্রিয় দ্বারা কার্যসম্পন্ন করছি। যখন ইচ্ছা শরীরে প্রবেশ কর, যখন ইচ্ছা (শরীর থেকে) পৃথক হয়ে যাও। এক সেকেন্ডে (শরীর) ধারণ কর, আর এক সেকেন্ডে দেহ-ভানকে পরিত্যাগ করে দেহী হয়ে যাও। এই অভ্যাসই অব্যক্ত স্থিতির ভিত বা আধার।