16.01.2023 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - যত অন্যদের জ্ঞান শোনাবে, ততই তোমাদের বুদ্ধিতে জ্ঞান রিফাইন হতে থাকবে, তাই তোমাদের অবশ্যই সার্ভিস করতে হবে"

প্রশ্নঃ -
বাবার কাছে কোন্ দুই প্রকারের বাচ্চারা রয়েছে, এই দুই প্রকারের মধ্যে তফাৎ কি ?

উত্তরঃ  
বাবার কাছে রয়েছে এক হলো সৎ বাচ্চা আর দ্বিতীয় হলো প্রকৃত বাচ্চা । সৎ বাচ্চা মুখ থেকে কেবল বাবা - মাম্মা বলে, কিন্তু সম্পূর্ণ শ্রীমতে চলতে পারে না । সম্পূর্ণ বলিহারি যায় না । আর প্রকৃত বাচ্চারা তো তন - মন - ধন দিয়ে সম্পূর্ণ সমর্পণ করে অর্থাৎ ট্রাস্টি হয়ে যায় । প্রতি পদে শ্রীমৎ অনুসরণ করে । সৎ বাচ্চারা সেবা না করার কারণে চলতে - চলতে পড়ে যায় । তাদের সংশয় উৎপন্ন হয় । আর প্রকৃত বাচ্চারা সম্পূর্ণ নিশ্চয়বুদ্ধি হয় ।

গীতঃ-
শৈশবের দিন ভুলে যেও না, আজ হাসি কাল কাঁদতে থেকো না...

ওম্ শান্তি ।
বাবা বাচ্চাদের বুঝিয়ে বলেন । কোন্ বাবা ? বাস্তবে দুই বাবা । এক হলো আত্মিক, যাঁকে বাবা বলা হয়, দ্বিতীয় হলো দেহের, যাঁকে দাদা বলা হয় । এ তো সমস্ত সেন্টারের বাচ্চারা জানে যে, আমরা বাপদাদার বাচ্চা । রুহানী বা আত্মাদের বাবা হলেন শিব । তিনি হলেন সমস্ত আত্মাদের বাবা, আর ব্রহ্মা দাদা হলেন সমস্ত মনুষ্য ঝাড়ের হেড বা প্রধান । তোমরা এসে তাঁর বাচ্চা হয়েছো । এর মধ্যেও কেউ কেউ পাক্কা প্রকৃত বাচ্চা, আবার কেউ কেউ সৎ বাচ্চাও হবে । দুইই তো মাম্মা - বাবা বলে থাকে, কিন্তু সৎ বাচ্চারা বলিহারি যেতে পারে না । যারা বলিহারি যেতে পারে না, তারা এতো শক্তি পেতে পারে না অর্থাৎ নিজের বাবাকে তন - মন এবং ধনের ট্রাস্টি করতে পারে না । শ্রেষ্ঠ হওয়ার জন্য বাবার শ্রীমতেও চলতে পারে না । আর যারা প্রকৃত সন্তান, তারা বাবার সূক্ষ্ম সাহায্য পায়, কিন্তু তারাও খুব অল্প । যদিও প্রকৃত বাচ্চাও আছে কিন্তু তাদের এখনো পাকা বলা হবে না, যতক্ষণ না রেজাল্ট বের হয় । যদিও তারা এখানে থাকে, খুব ভালো, সেবাও অনেক করে, তবুও তারা নেমে যায় । এ হলো সম্পূর্ণ বুদ্ধিযোগের কথা । বাবাকে ভুলে গেলে চলবে না । বাবা এই ভারতের বাচ্চাদের সাহায্যেই স্বর্গ রচনা করেন । এমন মহিমাও আছে যে, শিব শক্তি সেনা । প্রত্যেককে নিজের সঙ্গে কথা বলতে হবে -- বরাবর আমরা শিব বাবার দত্তক সন্তান । বাবার থেকে আমরা স্বর্গের উত্তরাধিকার অর্জন করছি । দ্বাপর যুগ থেকে শুরু করে আমরা লৌকিক বাবার যে উত্তরাধিকার পেয়েছি, তা নরকেরই উত্তরাধিকার পেয়েছি । তাই দুঃখী হয়েই এসেছি । ভক্তিমার্গে তো হলোই অন্ধশ্রদ্ধা । যখন থেকে ভক্তি শুরু হয়েছে, তখন থেকে যতো বর্ষ অতীত হয়েছে, আমরা নেমেই এসেছি । ভক্তিও প্রথমে অব্যভিচারী ছিলো । একের পূজাই করতো । এরপরে সবাই একের পরিবর্তে অনেকের পূজা করে এসেছে । এখন এই সব কথা ঋষি - মুনি, সন্ত ইত্যাদিরা জানেন না যে, মুক্তি কবে শুরু হয় । শাস্ত্রেও আছে, ব্রহ্মার দিন আর ব্রহ্মার রাত । যদিও ব্রহ্মা আর সরস্বতীই লক্ষ্মী - নারায়ণ হন, কিন্তু নাম ব্রহ্মার দিয়ে দিয়েছে । ব্রহ্মার সঙ্গে অনেক বাচ্চারাও আছে । লক্ষ্মী - নারায়ণের তো আর অনেক বাচ্চা হবে না । তাঁদের প্রজাপিতাও বলা হবে না । এখন নতুন প্রজা তৈরী হচ্ছে । ব্রাহ্মণদেরই নতুন প্রজা তৈরী হয় । ব্রাহ্মণরাই নিজেদের ঈশ্বরীয় সন্তান মনে করে । দেবতা তো আর মনে করবে না । তাঁরা চক্রের কথাও জানে না ।

এখন তোমরা জানো যে, আমরা শিব বাবার বাচ্চা হয়েছি । তিনিই আমাদের ৮৪ র চক্র বুঝিয়ে বলেছেন । তাঁর সাহায্যেই আমরা ভারতকে আবারও দৈবী পবিত্র রাজস্থান তৈরী করছি । এ হলো খুবই বোঝার মতো কথা । কাউকে বোঝানোর জন্যও সাহসের প্রয়োজন । তোমরা হলে শিব শক্তি পাণ্ডব সেনা । তোমরা হলে পাণ্ডা, তোমরা সবাইকে পথ বলে দাও । তোমরা ছাড়া রুহানি সুইট হোমের রাস্তা কেউই বলে দিতে পারে না । ওই পান্ডারা তো খুব করে অমরনাথে বা অন্য তীর্থে নিয়ে যায় । তোমরা বি, কেরা তো সবার থেকে দূরে পরমধামে নিয়ে যাও । ওরা হলো লৌকিক গাইড, ধাক্কা খাওয়ানোর জন্য । তোমরা সবাইকে বাবার কাছে শান্তিধামে নিয়ে যাও । তাই সর্বদা এই কথা স্মরণে রাখতে হবে যে -- আমরা ভারতকে আবার দৈবী রাজস্থান বানাচ্ছি । এ তো যে কেউই মেনে নেবে । ভারতের ছিলো আদি সনাতন দেবী - দেবতা ধর্ম । সত্যযুগে ভারত অসীম জগতের দৈবী পাবন রাজস্থান ছিলো, তারপর পাবন ক্ষত্রিয় রাজস্থান হয়েছিলো তারপর মায়ার প্রবেশ হওয়ার কারণে আসুরী রাজস্থান হয়ে যায় । এখানেও প্রথমে রাজা - রানী রাজত্ব করতো, কিন্তু লাইটের মুকুট ছাড়া রাজত্ব চলে এসেছে । দৈবী রাজস্থানের পরে হয় আসুরী পতিত রাজস্থান, এখন তো পতিত প্রজার স্থান, পঞ্চায়েতি রাজস্থান । বাস্তবে একে রাজস্থান বলা যায় না, কিন্তু নাম লাগিয়ে দিয়েছে । রাজত্ব তো আর নেই । এই ড্রামাও বানানো আছে । এই লক্ষ্মী - নারায়ণের চিত্র তোমাদের অনেক কাজে আসবে । এর উপর বোঝাতে হবে যে, ভারত এমন ডবল মুকুটধারী ছিলো । এই লক্ষ্মী - নারায়ণের রাজত্ব ছিলো, যাঁরা ছোটোবেলায় রাধাকৃষ্ণ ছিলো, তারপর ত্রেতাতে রাম রাজ্য হয়েছিলো, পরবর্তীকালে দ্বাপরে মায়া প্রবেশ করেছিলো । এ তো খুবই সহজ, তাই না ।

ভারতের হিস্ট্রি - জিওগ্রাফি সংক্ষেপে বোঝানো হয় । দ্বাপরে আবার সেই পবিত্র রাজা - রানী লক্ষ্মী - নারায়ণের মন্দির তৈরী হয় । দেবতারা তো স্বয়ং বামমার্গে চলে গিয়েছিলেন । পতিত হয়ে গিয়েছিলেন । এরপর যে পাবন দেবতারা জন্ম নিয়েছিলেন, তাঁদের মন্দির তৈরী করে পুজো শুরু হয়েছিলো । পতিতই পাবনের সামনে মাথা নত করে । যতক্ষণ ব্রিটিশ গভর্নমেন্টের রাজত্ব ছিলো, তখন রাজা - রানী ছিলো । জমিদাররাও রাজা - রানীর টাইটেল ধারণ করতো, এতে তারা দরবারে সম্মান পেতো । এখন তো কোনো রাজা আর নেই । এর পরে যখন নিজেদের মধ্যেলড়াই করেছিলো তারপর মুসলমান আদি এসেছিলো । তোমরা বাচ্চারা এখন জানো যে, আবার কলিযুগের অন্তিম সময় উপস্থিত । বিনাশও সামনে দাঁড়িয়ে আছে । বাবা আবার রাজযোগ শেখাচ্ছেন । কিভাবে স্থাপনা হয়, সে তো তোমরা জানো, এরপর এই হিস্ট্রি - জিওগ্রাফি সব হারিয়ে যায় । তারপর আবার ভক্তিতে মানুষ নিজের মতো গীতা রচনা করে, এতে অনেক তফাৎ হয়ে যায় । ভক্তির জন্য তাদের দেবী - দেবতা ধর্মের পুস্তক অবশ্যই চাই । তাই ড্রামা অনুসারে গীতা বানানো হয়েছে । এমন নয় যে, ভক্তিমার্গের ওই গীতার দ্বারা কেউ রাজত্ব স্থাপন করবে বা নর থেকে নারায়ণ হবে । একদমই নয় ।

বাবা এখন বোঝান যে, তোমরা হলে গুপ্ত সেনা । বাবাও গুপ্ত । তোমাদেরও গুপ্ত যোগবলের দ্বারা তিনি রাজত্ব প্রাপ্ত করাচ্ছেন । বাহুবলের দ্বারা জাগতিক রাজত্ব প্রাপ্ত হয় । যোগবলের দ্বারা অসীম জগতের রাজত্ব প্রাপ্ত হয় । বাচ্চারা তোমাদের হৃদয়ে এই নিশ্চয় আছে যে, আমরা এখন ভারতকে সেই দৈবী রাজস্থান তৈরী করছি । যে পরিশ্রম করে, তার পরিশ্রম লুকানো থাকে না । বিনাশ তো হতেই হবে । গীতাতেও এই কথা আছে । মানুষ জিজ্ঞাসা করে, এই সময়ের পরিশ্রম অনুসারে আমরা ভবিষ্যতে কি পদ প্রাপ্ত করবো ? এখানেও কেউ যখন শরীর ত্যাগ করে, তখন সঙ্কল্প চলে যে, ইনি কেমন পদ প্রাপ্ত করবেন ? সে তো বাবাই জানে যে, ইনি কিভাবে তন - মন এবং ধনের দ্বারা সেবা করেছেন । এ বাচ্চারা জানতে পারে না, বাপদাদাই জানে । বলেও দেওয়া যেতে পারে যে, তোমরা এই প্রকারের সেবা করেছো । জ্ঞান ধারণ করো নি কিন্তু সাহায্য তো অনেকই করেছো । মানুষ যেমন দান করে, মনে করে যে এই সংস্থা খুবই ভালো । খুব ভালো কার্য করছে কিন্তু আমার পবিত্র থাকার শক্তি নেই । আমি এই যজ্ঞে সাহায্য করি । তখন তারও রিটার্ন সে প্রাপ্ত করে । মানুষ যেমন মানুষের জন্য কলেজ তৈরী করে, হসপিটাল তৈরী করে । এমন বলবে না যে, আমি অসুস্থ হলে ওই হসপিটালে যাবো । যা কিছুই বানায়, অন্যদের জন্য । তখন তার ফলও প্রাপ্ত করে, একে দান বলা হয় । ওখানে তখন কি হয় । আশীর্বাদ দেওয়া হয় যে, তোমাদের লোক - পরলোক সুন্দর হোক । তোমরা সুখী হও । লোক আর পরলোক, সে তো এই সঙ্গম যুগেরই কথা । আর এ হলো মৃত্যুলোকের জন্ম আর অমরলোকের জন্ম, দুইই সফল হোক । বরাবর তোমাদের এখন এই জন্ম সফল হচ্ছে, এখানে কেউ তন দিয়ে, কেউ মন দিয়ে, কেউ আবার ধন দিয়ে সেবা করে । এমন অনেকেই আছে, যারা জ্ঞান ধারণ করতে পারে না, তারা বলে - বাবা, আমার সেই শক্তি নেই । বাকি আমি সাহায্য করতে পারি । তখন বাবা বলে দেবেন যে, তুমি এতটা ধনবান হতে পারো । কোনো কথা মনে এলে জিজ্ঞাসা করতে পারো । বাবাকে যখন অনুসরণ করতে হবে তখন তো জিজ্ঞাসাও তাঁকেই করতে হবে, এই অবস্থায় আমি কি করবো ? শ্রীমৎ দানকারী বাবা তো বসে আছেন । তাঁকে জিজ্ঞাসা করতে হবে, লুকানো যাবে না । না হলে অসুস্থতা বৃদ্ধি পাবে । প্রতি পদে যদি শ্রীমৎ অনুযায়ী না চলো তখন ভুল হয়ে যাবে । বাবা তো দূরে নেই । তাই সম্মুখে এসেই জিজ্ঞাসা করা উচিত । এমন বাপদাদার কাছে বারবার আসা উচিত । বাস্তবে এমন অতি প্রিয় বাবার সঙ্গে তো একত্রিত হয়ে থাকা উচিত । প্রেমিককে আঁকড়ে ধরা উচিত, উনি হলেন দেহের, আর ইনি হলেন রুহানি । এনার সঙ্গে আটকে যাওয়ার কোনো কথা নেই, এখানে সবাইকে বসিয়েও দেবেন না । এ এমনই জিনিস, ব্যস সামনে বসেই থাকবে, শুনতেই থাকবে । তাঁর মতে চলতেই থাকবে কিন্তু বাবা বলবেন, এখানে বসে গেলে চলবে না । গঙ্গা নদী হও, গিয়ে সার্ভিস করো । বাচ্চাদের এমন প্রেম হওয়া উচিত -- যেমন উচ্ছাস হয়, কিন্তু সার্ভিসও তো করতে হবে । যারা নিশ্চয়বুদ্ধি তারা তো একদমই আটকে যায় । বাচ্চারা লিখে থাকে, অমুকে খুব ভালো নিশ্চয়বুদ্ধির । আমি লিখি, কিছুই বোঝে নি । যদি নিশ্চয়বুদ্ধির হয় যে, স্বর্গের মালিক বানান যে বাবা, তিনি এসে গেছেন তাহলে এক সেকেন্ডও মিলন ছাড়া থাকতে পারবে না । অনেক বাচ্চা আছে যারা ছটফট করতে থাকে । তখন ঘরে বসেই তাদের ব্রহ্মা আর কৃষ্ণের সাক্ষাৎকার হয় । নিশ্চয় যদি থাকে যে, বাবা পরমধাম থেকে আমাদের রাজধানী দান করতে এসেছেন তখন এসে বাবার সঙ্গে মিলিত হবে । এমনও অনেকে আসে, তখন তাদের বোঝানো হয় যে, জ্ঞান গঙ্গা হও । প্রজা তো অনেক প্রয়োজন । রাজধানী স্থাপন হচ্ছে । এই চিত্র বোঝানোর জন্য খুবই সুন্দর । তোমরা যে কাউকেই বলতে পারো যে, আমরা আবারও রাজধানী স্থাপন করছি । বিনাশও সামনে উপস্থিত । মৃত্যুর পূর্বে বাবার থেকে উত্তরাধিকার গ্রহণ করতে হবে । সকলেই চায় যে, এক অলমাইটি গভর্নমেন্ট হোক । এখন সবাই মিলে এক তো হতেই পারে না । এক রাজ্য তো অবশ্যই ছিলো, যার গায়নও আছে । সত্যযুগের নাম অতি উজ্জ্বল । আবার সেই যুগের স্থাপনা হচ্ছে । কেউ এই বিষয়কে চট্ করে স্বীকার করবে, কেউ আবার স্বীকার করবে না । পাঁচ হাজার বছর পূর্বে লক্ষ্মী - নারায়ণের রাজত্ব ছিলো তারপর এই রাজাদের রাজ্য হয়ে গেছে । রাজারাও এখন পতিত হয়ে গেছে । আবার সেই পাবন লক্ষ্মী - নারায়ণের রাজত্ব হবে । তোমাদের জন্য এই কথা বোঝানো তো খুবই সহজ । আমরা শিব বাবার শ্রীমৎ এবং সাহায্যে আবার সেই দৈবী রাজধানী স্থাপন করছি । শিব বাবার থেকে শক্তিও প্রাপ্ত হয় । তোমাদের এই নেশা থাকা উচিত । তোমরা হলে উত্তরাধিকারী । মন্দিরে গিয়েও তোমরা বোঝাতে পারো যে, স্বর্গের স্থাপনা তো অবশ্যই রচয়িতার দ্বারাই হবে, তাই না । তোমরা জানো যে, অসীম জগতের পিতা হলেন একজনই । তিনি তোমাদের সম্মুখে তোমাদের জ্ঞান শৃঙ্গার করাচ্ছেন । তিনি তোমাদের রাজযোগ শেখাচ্ছেন । ওই গীতা যারা শোনায় তারা কখনোই রাজযোগ শেখাতে পারে না । বাচ্চারা, এই নেশা এখনই এখনই তোমাদের বুদ্ধিতে চড়ানো হয় । বাবা এসেছেন স্বর্গের স্থাপনা করতে । স্বর্গ হলো পাবন রাজস্থান । মানুষ তো লক্ষ্মী - নারায়ণের রাজত্বকেই ভুলে গেছে । বাবা এখন সম্মুখে বসে বোঝাচ্ছেন যে, তোমরা যে কোনো গীতা পাঠশালা ইত্যাদিতে চলে যাও । সম্পূর্ণ হিস্ট্রি - জিওগ্রাফি অথবা ৮৪ জন্মের সমাচার আর কেউই শোনাতে পারবে না । লক্ষ্মী - নারায়ণের চিত্রের সঙ্গে সঙ্গে রাধাকৃষ্ণের চিত্র যদি থাকে তাহলে বোঝাতে সহজ হবে । এই হলো সঠিক চিত্র । লেখাও যেন সঠিক, সুন্দর হয় । তোমাদের বুদ্ধিতে সম্পূর্ণ চক্র স্মরণে আছে । সাথে এই চক্র যিনি বোঝান, তিনিও স্মরণে আছেন । বাকি, নিরন্তর স্মরণের অভ্যাসে পরিশ্রম প্রচুর । নিরন্তর স্মরণ যেন এমন দৃঢ় হয় যাতে অন্তিম সময়ে কোনো আবর্জনা যেন স্মরণে না আসে । বাবাকে কখনোই ভুলে যাওয়া যাবে না । ছোটো বাচ্চা তার বাবাকে খুবই মনে করে কিন্তু বাচ্চা যখন বড় হয়ে যায়, তখন ধনের প্রতি আকর্ষণ এসে যায়, ধনের কথা মনে করে । তোমরাও ধন প্রাপ্ত করো, যা খুব ভালোভাবে ধারণ করে দান করা উচিত । সম্পূর্ণ পরোপকারী হতে হবে । আমি তোমাদের সম্মুখে এসে রাজযোগ শেখাই । ওই গীতা তো জন্ম - জন্মান্তর ধরে পড়েছো, তাতে কিছুই প্রাপ্তি হয় নি । এখানে তো তোমাদের নর থেকে নারায়ণ হওয়ার জন্য এই শিক্ষা দান করছি । ও হলো ভক্তিমার্গ । এখানেও কোটিতে কয়েকজনই বের হবে যারা তোমাদের দৈবী ঘরানার হবে । তারা ব্রাহ্মণ হতে তো অবশ্যই আসবে, তারপর রাজা - রানীই হোক বা প্রজা । তাদের মধ্যেও আবার কেউ কেউ শুনন্তি, কথন্তি আর ভাগন্তি হয়ে যায় । যে বাচ্চা হয়ে আবার তালাক দিয়ে দেয়, তার অনেক বড় দণ্ড ভোগ করতে হয় । অনেক কড়া সাজা । এই সময় এমন কেউই বলতে পারে না যে, আমি নিরন্তর স্মরণ করি । কেউ যদি বলে তাহলে চার্ট লিখে পাঠাও, বাবা সব বুঝে যাবেন । ভারতের সেবাতেই তোমরা তন - মন - ধন লাগাচ্ছো । লক্ষ্মী - নারায়ণের চিত্র যেন সদা পকেটে থাকে । বাচ্চাদের খুবই নেশা থাকা উচিত ।

সোশ্যাল ওয়ার্কাররা তোমাদের জিজ্ঞাসা জিজ্ঞাসা করে যে, তোমরা ভারতের কি সেবা করছো ? বলো, আমরা আমাদের তন - মন - ধনের সাহায্যে ভারতকে দৈবী রাজস্থান তৈরী করছি । এমন সেবা আর কেউই করতে পারে না । তোমরা যতো সার্ভিস করবে, ততই তোমাদের বুদ্ধি রিফাইন হতে থাকবে । এমনও অনেক বাচ্চা আছে যারা সঠিকভাবে বোঝাতে পারে না, তখন নাম বদনাম হয়ে যায় । কারোর মধ্যে ক্রোধের ভূতও আছে, এও তো বিনাশকারী কাজই হলো, তাই না । তাদের বলবে, তোমরা নিজের মুখ তো দেখো । তোমরা লক্ষ্মী - নারায়ণের বরণের উপযুক্ত হয়েছো কি ? এমন যে সব বাচ্চা সম্মান নষ্ট করে, তারা কি পদ প্রাপ্ত করবে ? তারা পেয়াদার লাইনে এসে যায় । তোমরাও তো সেনা, তাই না । আচ্ছা !

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) অবিনাশী জ্ঞান রত্নের মহাদানী হতে হবে । তন - মন - ধনের দ্বারা ভারতকে স্বর্গ বানানোর সেবা করতে হবে ।

২ ) কোনো বিনাশকারী কার্য করো না । নিরন্তর স্মরণে থাকার অভ্যাস করতে হবে ।

বরদান:-
একরস আর নিরন্তর খুশীর অনুভূতির দ্বারা প্রথম নম্বর প্রাপ্তকারী অগাধ সম্পদে সম্পন্ন ভব

এক নম্বরে আসার জন্য একরস আর নিরন্তর খুশীর অনুভব করতে থাকো, কোনো ঝামেলাতে যেও না । ঝামেলাতে গেলে খুশীর দোলা ঢিলা হয়ে যায়, তখন তীব্র দোল খেতে পারো না, তাই সদা আর একরস খুশীর দোলায় দুলতে থাকো । বাপদাদার দ্বারা সমস্ত বাচ্চারা অবিনাশী, অগাধ আর অনন্ত সম্পদ প্রাপ্ত করে । তাই সদা সেই সম্পদের প্রাপ্তিতে একরস আর সম্পন্ন থাকো । সঙ্গম যুগের বিশেষত্ব হলো অনুভব, এই যুগের বিশেষত্বের লাভ নাও ।

স্লোগান:-
মনসা (মনের দ্বারা) মহাদানী হতে হলে আত্মিক স্থিতিতে সদা স্থিত থাকো ।