16.02.2021 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - তোমরা নিজের জীবনের ডোর এক বাবার সঙ্গেই বেঁধেছো, তোমাদের সম্পর্ক একের সঙ্গেই, অন্য সব সম্পর্ক ছিন্ন করে একের সঙ্গেই সম্পর্ক রক্ষা করতে হবে"

প্রশ্নঃ -
সঙ্গম যুগে আত্মা নিজের ডোর এক পরমাত্মার সঙ্গেই জোড়ে, অজ্ঞান অবস্থায় এই নিয়ম কোন্ রীতিতে চলে আসছে ?

উত্তরঃ -
বিয়ের সময় স্ত্রীর আঁচল পতির সঙ্গে বেঁধে দেওয়া হয় । স্ত্রী মনে করে সম্পূর্ণ জীবন তার সাথী হয়েই থাকতে হবে । তোমরা তো এখন তোমাদের আঁচল বাবার সঙ্গে জুড়েছো । তোমরা জানো যে, অর্ধেক কল্প ধরে তোমাদের পালন বাবার দ্বারাই হবে ।

গীতঃ-
জীবনের ডোর তোমার সঙ্গেই বেঁধেছি --

ওম্ শান্তি ।
দেখো, গানে বলা হয়েছে, জীবন ডোর তোমার সঙ্গে বেঁধেছি । যেমন কোনো কন্যা, সে তার জীবনের ডোর স্বামীর সঙ্গে বাঁধে । সে মনে করে, সম্পূর্ণ জীবন তার সাথী হয়েই থাকতে হবে । তারই পালনে থাকতে হবে । এমন নয় যে, কন্যাকে তার স্বামীর পালন করতে হবে । তা নয়, সম্পূর্ণ জীবন স্বামীর পালনেই থাকতে হবে । বাচ্চারা, তোমরাও জীবন ডোর বেঁধেছো । অসীম জগতের বাবাই বলো, টিচার বলো, গুরু বলো, আর যাই বলো -- এই আত্মাদের জীবনের ডোর পরমাত্মার সঙ্গে বাঁধতে হবে । ওটা হলো জাগতিক স্থূল কথা, আর এ হলো সূক্ষ্ম কথা । কন্যার জীবনের সূত্র পতির সাথে বেঁধে দেওয়া হয় । সে তার ঘরে যায় । দেখো, প্রতিটি কথা বোঝার মতো বুদ্ধি চাই । কলিযুগে সব হলো আসুরী মতের কথা । তোমরা জানো যে, আমরা জীবনের ডোর এক-এর সঙ্গে বেঁধেছি । তোমাদের সম্পর্ক একের সঙ্গেই । একের সঙ্গেই সম্বন্ধ রাখতে হবে, কেননা আমরা তাঁর কাছ থেকেই অনেক সুখ পাই । তিনি তো আমাদের স্বর্গের মালিক বানান । তাই এমন বাবার শ্রীমতে চলতে হবে । এ হলো আত্মিকতার ডোর । আত্মা রূপী পিতাই শ্রীমৎ দান করেন । আসুরী মত নেওয়াতে তোমরা নীচে নেমে গেছো । এখন আত্মা রূপী পিতার শ্রীমতে চলতে হবে ।

তোমরা জানো যে, আমরা আমাদের আত্মার ডোর পরমাত্মার সঙ্গে বাঁধি, এতে আমরা ২১ জন্মের জন্য সদা সুখের উত্তরাধিকার লাভ করি । ওই অল্পকালের জীবন ডোরে তো নীচে নেমে এসেছি । এ হলো ২১ জন্মের জন্য গ্যারেন্টি । তোমাদের কতো জোরদার উপার্জন । এতে কোনো গাফিলতি করা উচিত নয় । মায়া অনেক গাফিলতি করায় । এই লক্ষ্মী - নারায়ণ অবশ্যই কারোর সঙ্গে জীবন ডোর বেঁধেছিলেন, যাতে ২১ জন্মের উত্তরাধিকার পেয়েছিলেন । কল্প - কল্প তোমাদের আত্মাদের জীবন ডোর পরমাত্মার সঙ্গে বাঁধা হয় । কত কল্প যে তা তো গণনা করা যায় না । বুদ্ধিতে বসে যে - আমরা শিববাবার হয়েছি, তাঁর সঙ্গে জীবন ডোর বেঁধেছি । বাবা প্রতিটি কথা বসে বুঝিয়ে বলেন । তোমরা জানো যে, কল্প পূর্বেও আমরা বেঁধেছিলাম । মানুষ এখন শিব জয়ন্তী পালন করে, কিন্তু কার পালন করে, তা জানেই না । শিব বাবা, যিনি পতিত পাবন, তিনি অবশ্যই সঙ্গমে আসবেন । এ কথা তোমরাই জানো, দুনিয়ার মানুষ জানে না, তাই গায়ন আছে যে, কোটিতে কয়েকজন । আদি সনাতন দেবী দেবতা ধর্ম প্রায় লোপ হয়ে গেছে, আর সবই হলো শাস্ত্র - কাহিনী । এই ধর্মই এখন নেই যে, কিভাবে জানবে । এখন তোমরা জীবনের ডোর বাঁধছো । আত্মার পরমাত্মার সঙ্গে ডোর জুড়েছে, এতে শরীরের কোনো কথা নেই । যদিও ঘরে বসে থাকো, তাও বুদ্ধির দ্বারা স্মরণ করতে হবে । তোমাদের আত্মাদের জীবনের ডোর বাঁধা হয়েছে যেমন আঁচল বাঁধে, তাই না । ও হলো স্থূল আঁচল, আর এ হলো আত্মার পরমাত্মার সঙ্গে যোগ । ভারতে শিব জয়ন্তীও পালন করা হয়, কিন্তু তিনি কবে এসেছিলেন, তা কেউই জানে না । কৃষ্ণের জয়ন্তী কবে, রামের জয়ন্তী কবে, এও জানে না । বাচ্চারা, তোমরা ত্রিমূর্তি শিব জয়ন্তী অক্ষর লেখো, কিন্তু এই সময় তিন মূর্তি তো নেই । তোমরা বলবে, শিববাবা ব্রহ্মার দ্বারা সৃষ্টির রচনা করেন, তাহলে ব্রহ্মাকে তো সাকারে অবশ্যই চাই, তাই না । বাকি বিষ্ণু এবং শঙ্কর এই সময় কই, যাতে তোমরা ত্রিমূর্তি বলো । এ খুবই বোঝার মতো কথা । ত্রিমূর্তির অর্থই হলো - ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং শঙ্কর । ব্রহ্মার দ্বারা স্থাপনা, সে তো এই সময়ই হয় । বিষ্ণুর দ্বারা সত্যযুগে পালনা হবে । বিনাশের কার্য অন্তিম সময়ে হবে । এই আদি সনাতন দেবী - দেবতা ধর্ম হলো ভারতেরই । ওরা তো সবাই ধর্ম স্থাপনা করতে আসে । প্রত্যেকেই জানে, ইনি ধর্ম স্থাপন করেছেন, এবং তার সম্বৎ হলো এই । অমুক সময়ে অমুক ধর্ম স্থাপন করেছিলেন । ভারতের কথা কেউই জানে না । গীতা জয়ন্তী, শিব জয়ন্তী কবে হয়েছিলো, কেউই জানে না । কৃষ্ণ এবং রাধার বয়সে দুই - তিন বছরের তফাৎ থাকবে । সত্যযুগে অবশ্যই কৃষ্ণ প্রথমে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, তারপর রাধা, কিন্তু সেই সত্যযুগ কবে ছিলো, সেকথা কেউই জানে না । তোমাদেরও বুঝতে অনেক বছর লেগেছে, তাই দু'দিনে কে আর কতটা বুঝবে । বাবা তো অনেক সহজ করে বলেন, তিনি হলেন অসীম জগতের পিতা, অবশ্যই তাঁর কাছে সকলেরই উত্তরাধিকার লাভ করা চাই, তাই না । ওরা গড ফাদার বলে স্মরণ করে । লক্ষ্মী - নারায়ণের মন্দির আছে । তাঁরা স্বর্গে রাজত্ব করতেন, কিন্তু তাঁদের এই উত্তরাধিকার কে দিয়েছিলেন ? অবশ্যই স্বর্গের রচয়িতাই দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি কবে এবং কিভাবে দিয়েছিলেন, তা কেউই জানে না । বাচ্চারা, তোমরা জানো যে, যখন সত্যযুগ ছিলো, তখন অন্য কোনো ধর্ম ছিলো না । সত্যযুগে আমরা পবিত্র ছিলাম, কলিযুগে আমরা পতিত । তাহলে তিনি অবশ্যই সঙ্গমেই জ্ঞান দিয়ে থাকবেন, সত্যযুগে নয় । ওখানে তো প্রালব্ধ । অবশ্যই পূর্ব জন্মে জ্ঞান প্রাপ্ত করে থাকবে । তোমরাও এখন তাই নিচ্ছো । তোমরা জানো যে, আদি সনাতন দেবী দেবতা ধর্মের স্থাপনা বাবাই করবেন । কৃষ্ণ তো সত্যযুগে ছিলেন, তিনি এই প্রালব্ধ কোথা থেকে পেয়েছিলেন ? লক্ষ্মী - নারায়ণই রাধা - কৃষ্ণ ছিলেন, এ কেউই জানে না । বাবা বলেন যে, যারা পূর্ব কল্পে বুঝেছিলো, তারাই বুঝবে । এই চারা এখন লাগে । সবথেকে মিষ্টি বৃক্ষের কলম এখন লাগে । তোমরা জানো যে, আজ থেকে পাঁচ হাজার বছর পূর্বে বাবা এসে মানুষকে দেবতা বানিয়েছিলেন । এখন তোমরা ট্রান্সফার হচ্ছো । তোমাদের প্রথমে ব্রাহ্মণ হতে হবে । ডিগবাজির খেলা যখন খেলে তখন টিকি অবশ্যই আসবে । বরাবর আমরা এখনই ব্রাহ্মণ হয়েছি । যজ্ঞতে তো অবশ্যই ব্রাহ্মণের প্রয়োজন । এ হলো শিব বা রুদ্রের যজ্ঞ । রুদ্র জ্ঞান যজ্ঞই বলা হয় । কৃষ্ণ কখনো যজ্ঞ রচনা করেননি । এই রুদ্র জ্ঞান যজ্ঞের থেকে বিনাশের অগ্নি (জ্বালা) প্রজ্জ্বলিত হয় । শিববাবার এই যজ্ঞ হলো পতিতকে পবিত্র করার জন্য । রুদ্র শিববাবা হলেন নিরাকার, তিনি কিভাবে যজ্ঞ রচনা করবেন, যতক্ষণ তিনি না মনুষ্য শরীরে আসবেন ? মানুষই যজ্ঞ রচনা করে । সূক্ষ্ম বা মূল বতনে এই সব বিষয় থাকে না । বাবা বোঝান যে, এ হলো সঙ্গম যুগ । লক্ষ্মী - নারায়ণের যখন রাজত্ব ছিলো, তখন ছিলো সত্যযুগ । এখন তোমরা আবার তেমন তৈরী হচ্ছো । এই জীবনের ডোর আত্মাদের হলো পরমাত্মার সঙ্গে । এই ডোর কেন বাঁধা হয়েছে ? সদা সুখের উত্তরাধিকার পাওয়ার জন্য । তোমরা জানো যে, অসীম জগতের বাবার দ্বারা আমরা এমন লক্ষ্মী - নারায়ণ হই । বাবা বুঝিয়েছেন যে, তোমরা এমন দেবী - দেবতা ধর্মের ছিলে । তোমাদের রাজ্য ছিলো । পরের দিকে তোমরা জন্মগ্রহণ করতে করতে ক্ষত্রিয় ধর্মে এসেছো । সূর্যবংশী রাজত্বের পর চন্দ্রবংশী রাজত্ব এসেছিলো । তোমরা জানো যে, আমরা এই চক্র কিভাবে সম্পূর্ণ করি । আমরা এতো - এতো জন্মগ্রহণ করেছি । ভগবান উবাচঃ - হে বাচ্চারা, তোমরা নিজেদের জন্মকে জানো না, আমি জানি । এখন এই সময় এই শরীরে দুটি মূর্তি । ব্রহ্মার আত্মা এবং শিব পরমাত্মা । এই সময় দুই মূর্তি একত্রিত - ব্রহ্মা আর শিব । শঙ্কর তো কখনো পার্টে আসে না । বাকি বিষ্ণু আসে সত্যযুগে । এখন তোমরা ব্রাহ্মণ থেকে দেবতা হবে । আমিই সেই ( হাম সো ) এর অর্থ বাস্তবে এটাই । ওরা বলে দিয়েছে আত্মাই পরমাত্মা । পরমাত্মাই আত্মা । এ কতো তফাৎ । রাবণ আসামাত্রই রাবণের মত শুরু হয়ে গিয়েছিলো । সত্যযুগে এই জ্ঞান তো প্রায় লোপ হয়ে যাবে । এইসব হওয়া ড্রামাতেই লিপিবদ্ধ আছে, তাই তো বাবা এসে স্থাপনা করেন । এখন হলো সঙ্গম । বাবা বলেন যে, আমি কল্প - কল্প, কল্পের সঙ্গম যুগে এসে তোমাদের মনুষ্য থেকে দেবতা বানাই । আমি জ্ঞান যজ্ঞের রচনা করি । বাকি যা আছে, সে সবই এই যজ্ঞে স্বাহা হয়ে যাবে । এই বিনাশ জ্বালা এই যজ্ঞ থেকেই প্রজ্জ্বলিত হতে হবে। পতিত দুনিয়ার তো বিনাশ হতে হবে । না হলে পবিত্র দুনিয়া কিভাবে হবে ? তোমরা বলেও থাকো, পতিত পাবন এসো, তাহলে পতিত দুনিয়া, পবিত্র দুনিয়া একসাথে থাকবে কি ? পতিত দুনিয়ার তো বিনাশ হবে, এতে তো খুশী হওয়া চাই । মহাভারতের লড়াই লেগেছিলো, যাতে স্বর্গের গেট খুলেছিলো । বলা হয়, এ হলো সেই মহাভারতের লড়াই । এ তো ভালোই, পতিত দুনিয়া শেষ হয়ে যাবে । শান্তির জন্য মাথা ঠোকার দরকার কি ? তোমরা এখন যে তৃতীয় নেত্র পেয়েছো, তা আর কারোরই নেই । বাচ্চারা, তোমাদের খুশী হওয়া উচিত - আমরা অসীম জগতের বাবার কাছ থেকে আবার উত্তরাধিকার গ্রহণ করছি । বাবা, আমরা অনেকবার আপনার থেকে উত্তরাধিকার গ্রহণ করেছি । রাবণ আবার অভিশাপ দিয়েছে । এই কথা স্মরণ করা সহজ । বাকি সবই হলো চর্চিত কাহিনী । তোমাদের এতো বিত্তবান করা হয়েছিলো, তারপর গরীব কিভাবে হয়েছো ? এ সবই ড্রামাতে লিপিবদ্ধ । এমন গায়নও আছে যে - জ্ঞান, ভক্তি এবং বৈরাগ্য । ভক্তির দ্বারা বৈরাগ্য তখনই হবে যখন জ্ঞান পাবে । তোমরা জ্ঞান পেয়েছো, তখন ভক্তির থেকে বৈরাগ্য হয়েছে । সম্পূর্ণ পুরানো দুনিয়ার প্রতি বৈরাগ্য । এ তো হলো কবরখানা । তোমরা ৮৪ জন্মের চক্র সম্পূর্ণ করেছো । এখন তোমাদের ঘরে ফিরে যেতে হবে । আমাকে যদি স্মরণ করো, তাহলে তোমরা আমার কাছে চলে আসবে । তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হয়ে যাবে, এছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই । গঙ্গা স্নানের দ্বারা নয়, যোগ অগ্নির দ্বারা পাপ ভস্ম হবে ।

বাবা বলেন যে, মায়া তোমাদের মূর্খ করে দিয়েছে, এপ্রিল ফুল তো বলা হয়, তাই না । এখন আমি তোমাদের লক্ষ্মী - নারায়ণের মতো বানাতে এসেছি । চিত্র তো খুবই সুন্দর - আজ আমরা কি, কাল আমরা কি হবো ? মায়া কিন্তু কম নয় । মায়া বাবার সঙ্গে ডোর বাঁধতে দেয় না । টানাপোড়েন হতে থাকে । আমরা বাবাকে স্মরণ করি, তারপর কি জানি কি হয়ে যায় ? সব ভুলে যায় । এতে অনেক পরিশ্রম আছে, তাই ভারতের প্রাচীন যোগ বিখ্যাত । এঁদের কে উত্তরাধিকার দান করেছেন, এ কেউই বোঝে না । বাবা বলেন যে - বাচ্চারা, আমি তোমাদের আবার উত্তরাধিকার প্রদান করতে এসেছি । এ তো বাবার কাজ । এই সময় সকলেই নরকবাসী । তোমরা এখন খুশী হচ্ছো । এখানে যদি কেউ আসে আর বুঝতে পারে, তাহলে খুশী হয়, বরাবর এ হলো ঠিক । এখানে ৮৪ জন্মের হিসেব । বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার গ্রহণ করতে হবে । বাবা জানেন যে, অর্ধেক কল্প তোমরা ভক্তি করে পরিশ্রান্ত হয়ে গেছো । মিষ্টি বাচ্চারা - বাবা তোমাদের সব ক্লান্তি দূর করে দেবেন । এখন অন্ধকার ভক্তির মার্গ সমাপ্ত হয়ে এসেছে । কোথায় এই দুঃখধাম, আর কোথায় ওই সুখধাম । আমি দুঃখধামকে সুখধাম বানাতে কল্পের সঙ্গম যুগে আসি । বাবার পরিচয় দান করতে হবে । বাবা আমাদের অসীম জগতের উত্তরাধিকার দান করেন । এই একেরই মহিমা । শিববাবা না থাকলে তোমাদের পবিত্র কে বানাতেন । ড্রামাতে সকলই লিপিবদ্ধ আছে । কল্প - কল্প তোমরা ডাকো - হে পতিত পাবন, এসো । শিবের জয়ন্তী হয় । বলা হয় যে, ব্রহ্মা স্বর্গের স্থাপনা করেছিলেন, তাহলে শিব কি করেছিলেন যে, শিব জয়ন্তী পালন করা হয় । মানুষ কিছুই বোঝে না । তোমাদের বুদ্ধিতে একদম জ্ঞান বসে যাওয়া চাই । ডোর যখন একজনের সঙ্গে বেঁধেছো, তখন অন্য কারোর সঙ্গে বেঁধো না । না হলে তোমরা নেমে যাবে । তোমাদের পারলৌকিক বাবা অতি সাধারণ । তাঁর কোনো ঠাট - বাট নেই । ওই বাবা তো মোটর আর এরোপ্লেনে ঘোরেন । অসীম জগতের এই বাবা বলেন - আমি পতিত দুনিয়া, পতিত শরীরে বাচ্চাদের সেবা করার জন্য এসেছি । তোমরা আমাকে ডেকেছো - হে অবিনাশী সার্জন এসো, এসে আমাদের ইনজেকশন লাগাও । এখন ইনজেকশন লাগছে । বাবা বলেন যে, তোমরা যোগ লাগাও, তাহলে তোমাদের পাপ ভস্ম হয়ে যাবে । বাবা হলেন ৬৩ জন্মের দুঃখ হর্তা, ২১ জন্মের সুখ কর্তা । আচ্ছা ।

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) নিজের বুদ্ধির রুহানী (আত্মিকতার) ডোর এক বাবার সঙ্গে বাঁধতে হবে । একের শ্রীমতেই চলতে হবে ।

২ ) আমরা অতি মিষ্টি বৃক্ষের কলম লাগাচ্ছি, তাই প্রথমে নিজেকে খুবই মিষ্টি বানাতে হবে । স্মরণের যাত্রায় তৎপর হয়ে বিকর্ম বিনাশ করতে হবে ।

বরদান:-
সর্ব সম্পদকে (খাজানা) বিশ্ব কল্যাণে ব্যবহারকারী সিদ্ধি স্বরূপ ভব

যেমন নিজের জাগতিক প্রবৃত্তিতে, নিজের জাগতিক স্বভাব - সংস্কারের প্রবৃত্তিতে অনেক সময় নিয়োজিত করে থাকো, কিন্তু তোমরা যদি নিজের - নিজের প্রবৃত্তি থেকে ঊর্ধে থাকো, আর প্রতিটি সঙ্কল্প, বাণী, কর্ম এবং সম্বন্ধ - সম্পর্কে ভারসাম্য রাখো, তাহলে সর্ব সম্পদের ইকোনমির দ্বারা কম খরচে বেশী লাভদায়ী হয়ে যাবে । এখন সময় রূপী সম্পদ, এনার্জির সম্পদ আর স্থূল সম্পদে কম খরচে বেশী লাভজনক হও। একে নিজের পরিবর্তে বিশ্ব কল্যাণের প্রতি ব্যবহার করো, তাহলে সিদ্ধি স্বরূপ হয়ে যাবে ।

স্লোগান:-
একের একাগ্রতায় (ভালবাসায়) সদা মগ্ন থাকো, তাহলেই নির্বিঘ্ন হয়ে যাবে ।