17.11.2020 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


প্রশ্নঃ -
বাচ্চারা, তোমরা হলে নিশ্চিন্ত বাদশাহ, তবুও তোমাদের একটি মূল চিন্তা অবশ্যই থাকা উচিত - সেটা কি ?

উত্তরঃ -
তোমরা কিভাবে পতিত থেকে পবিত্র হবে, এই হলো মূল চিন্তা । এমন যেন না হয় যে, বাবার হয়ে বাবার সামনে সাজা ভোগ করতে হয় । সাজা থেকে মুক্ত থাকার চিন্তা থাকা চাই, না হলে সেইসময় অনেক লজ্জা হবে । বাকি তোমরা হলে বেপরোয়া বাদশাহ, তোমাদের সবাইকে বাবার পরিচয় দিতে হবে । কেউ যদি বুঝতে পারে তাহলে সে অসীম জগতের মালিক হয়ে যাবে, না বুঝতে পারলে তার ভাগ্য । তোমাদের কোনো পরোয়া নেই ।

ওম্ শান্তি ।
আত্মাদের পিতা, যাঁর নাম শিব, তিনি বসে তাঁর বাচ্চাদের বোঝান । সকল আত্মাদের পিতাই এক । সর্ব প্রথমে এই কথা বোঝাতে হবে, তার পরের দিকে বোঝাতে সহজ হবে । বাবার পরিচয়ই যদি না পায় তখন প্রশ্ন করতে থাকবে । সবার আগে তো একথা নিশ্চিত করতে হবে । সম্পূর্ণ দুনিয়া এই কথা জানেই না যে, গীতার ভগবান কে । ওরা কৃষ্ণের নাম বলে দেয়, আমরা বলি পরমপিতা পরমাত্মা শিব হলেন গীতার ভগবান । তিনিই জ্ঞানের সাগর । মুখ্য হলো সর্ব শাস্ত্র শিরোমণি গীতা । ভগবানের নামে বলা হয়, হে প্রভু, তোমার মতি - গতি আলাদা । কৃষ্ণের জন্য এমন কথা বলা হবে না । বাবা, যিনি সত্য, তিনি অবশ্যই সত্য কথা শোনাবেন । দুনিয়া প্রথমে নতুন সতোপ্রধান ছিলো । এখন দুনিয়া পুরানো তমোপ্রধান । এই দুনিয়ার পরিবর্তনকারী একমাত্র বাবা । বাবা কিভাবে তা পরিবর্তন করেন, তাও বুঝতে হবে । আত্মা যখন সতোপ্রধান হবে, তখনই এই দুনিয়াও সতোপ্রধান স্থাপন হবে । সবার আগে বাচ্চারা, তোমাদের অন্তর্মুখী হতে হবে । বেশী কথা বলবে না । ভেতরে যখন প্রবেশ করে তখন অনেক চিত্র দেখে জিজ্ঞেস করতেই থাকে । সবার প্রথমে একটা কথাই বোঝানোর প্রয়োজন, বেশী জিজ্ঞাসা করার অনুমতি যেন না পায় । বলো, প্রথমে তো একটি কথা নিশ্চিত করো, তারপর পরবর্তী কথা বোঝাবে, অবশেষে তোমরা ৮৪ জন্মের চক্র সম্বন্ধে বোঝাতে পারো । বাবা বলেন যে, আমি এনার অনেক জন্মের অন্তিম জন্মে এনার মধ্যে প্রবেশ করি । এনাকেও বাবা বলেন - তুমি তোমার জন্মকেই জানো না । বাবা আমাদের প্রজাপিতা ব্রহ্মার দ্বারা বোঝান । প্রথম - প্রথম অল্ফ(আল্লাহ ) এর উপর বোঝাতে হবে । অল্ফ (আল্লাহ ) সম্বন্ধে বোঝাতে পারলে তখন কোনো সংশয় হবে না । বলো যে, বাবা হলেন সত্য, তিনি অসত্য শোনাবেনই না । অসীম জগতের বাবাই রাজযোগ শেখান । শিবরাত্রির মহিমা করা হয়, তাহলে অবশ্যই শিব এখানে এসেছিলেন, তাই না । কৃষ্ণ জয়ন্তীও যেমন এখানে পালন করা হয় । বলা হয়, আমি ব্রহ্মার দ্বারা স্থাপনা করি । ওই এক নিরাকার বাবার সকলেই হলো সন্তান । তোমরাও তাঁর সন্তান, আবার তোমরা প্রজাপিতা ব্রহ্মারও সন্তান । প্রজাপিতা ব্রহ্মার দ্বারা স্থাপনা হয়েছে, তাহলে অবশ্যই ব্রাহ্মণ - ব্রহ্মাণীরাও থাকবে । সকলেই ভাই - বোন, এতে পবিত্রতাও থাকে । গৃহস্থ জীবনে থেকে পবিত্র থাকার এমন ভয় থাকে । ভাই - ভাই হলে কখনোই ক্রিমিনাল দৃষ্টি থাকা উচিত নয় । ২১ জন্মের জন্য এই দৃষ্টির পরিবর্তন হয়ে যায় । বাবাই তো বাচ্চাদের শিক্ষা দেবেন, তাই না । তিনি চরিত্রের পরিবর্তন করেন । এখন সম্পূর্ণ দুনিয়ার চরিত্রের পরিবর্তন করতে হবে । এই পুরানো পতিত দুনিয়ার কোনো চারিত্রিক গুণ নেই । সকলের মধ্যেই বিকার বর্তমান । এ হলো পতিত, বিকারী দুনিয়া । এরপর নির্বিকারী দুনিয়া কিভাবে তৈরী হবে ? বাবা ছাড়া কেউই তা তৈরী করতে পারবে না । বাবা এখন তোমাদের পবিত্র তৈরী করছেন । এ সব হলো গুপ্ত কথা । আমরা হলাম আত্মা, আত্মাকে পরমাত্মা বাবার সঙ্গে মিলিত হতে হবে । সকলেই ভগবানের সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য পুরুষার্থ করে । ভগবান হলেন এক, নিরাকার । ভগবানকেই উদ্ধারকর্তা, গাইড বলা হয় । অন্য ধর্মের যারা, তারা কাউকে উদ্ধারকর্তা বা গাইড বলবে না । পরমপিতা, পরমাত্মা এসেই উদ্ধার করেন অর্থাৎ তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান তৈরী করেন । তাঁকে গাইডও বলা হয়, তাই প্রথম - প্রথম এই একটি কথা বুদ্ধিতে বসাও । যদি না বুঝতে পারে তাহলে ছেড়ে দেওয়া উচিত । অল্ফকে (আল্লাহ ) যদি না বুঝতে পারে, তাহলে কি লাভ । যদি চলেও যায়, তাহলেও তোমরা ঝিমিয়ে যেও না । তোমরা হলে বেপরোয়া বাদশাহ । অসুরদের বিঘ্ন আসবেই । এ হলো রুদ্র জ্ঞান যজ্ঞ । তাই প্রথমে বাবার পরিচয় দিতে হবে । বাবা বলেন যে, "মনমনাভব" ।তোমরা যত পুরুষার্থ করবে, সেই অনুসারে পদ প্রাপ্ত করবে । এখন আদি সনাতন দেবী দেবতার রাজ্য স্থাপন হচ্ছে । এই সাম্রাজ্য হলো লক্ষ্মী - নারায়ণের । অন্য ধর্মের যারা, তারা কোনো সাম্রাজ্য স্থাপন করেন না । বাবা তো এসে সকলকেই মুক্ত করেন । তারপর অন্য - অন্য ধর্মস্থাপকদের তাদের নিজের - নিজের সময়ে এসে ধর্ম স্থাপন করতে হবে । এই বৃদ্ধি হতে হবে । পতিতও হতেই হবে । পতিত থেকে পবিত্র করা, এ তো হলো বাবার কাজ । ওনারা তো কেবল এসে ধর্ম স্থাপন করবেন । এখানে বড়াই করার মতো কোনো কথাই নেই । মহিমা তো হলো একজনেরই । ওরা তো ক্রাইস্টের জন্য কতকিছু করে । ওদেরও বোঝাতে হবে যে, উদ্ধারকর্তা এবং গাইড তো গড ফাদারই । বাকি ক্রাইস্ট কি করেছেন ? ওনার পরে খৃষ্টান ধর্মের আত্মারা আসতে থাকে, তারপর নীচে নামতে থাকে । এক বাবাই তো দুঃখ থেকে মুক্তি দেন । এই সব পয়েন্টস বুদ্ধিতে খুব ভালোভাবে ধারণ করতে হবে । এক ভগবানকেই দয়ালু বলা হয় । ক্রাইস্ট কোনো দয়া করেন না । একজন মানুষও কারোর প্রতি দয়া করে না । দয়া হয় অসীম জগতের । এক বাবাই সকলের উপর দয়া করেন । সত্যযুগে সবাই সুখ - শান্তিতে থাকে । সেখানে দুঃখের কোনো কথাই নেই । বাচ্চারা, এই একটি কথা, অল্ফের উপর কাউকে নিশ্চিত করায় না, অন্য - অন্য কথায় চলে যায়, তারপর বলে গলাই খারাপ হয়ে গেলো । তোমাদের প্রথমদিকে বাবার পরিচয় দিতে হবে । তোমরা অন্য কোনো বিষয়ে যেও না । বলো, বাবা তো সত্য কথাই বলবেন, তাই না । আমাদের মতো বি.কে.দের বাবাই শোনান । এই চিত্র সব উনিই বানিয়েছেন, এতে সংশয় আনা উচিত নয় । সংশয়বুদ্ধি বিনশ্যন্তি । প্রথমে তোমরা নিজেকে আত্মা মনে করে যদি বাবাকে স্মরণ করো, তাহলে তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে । আর কোনো উপায় নেই । পতিত - পাবন তো একজনই, তাই না । বাবা বলেন যে, দেহের সব সম্বন্ধ ত্যাগ করে মামেকম ( আমাকে ) স্মরণ করো । বাবা যাঁর মধ্যে প্রবেশ করেন, তাঁকেও পুরুষার্থ করে সতোপ্রধান হতে হবে । পুরুষার্থের দ্বারাই এমন তৈরী হয়, তারপর ব্রহ্মা এবং বিষ্ণুর সম্পর্কও বলে দেন । বাবা তোমাদের মতো ব্রাহ্মণদের রাজযোগ শেখান, তখন তোমরা বিষ্ণুপুরীর মালিক হয়ে যাও । তারপর আবার তোমরাই ৮৪ জন্মগ্রহণ করে শূদ্র হয়ে যাও । তখন বাবা আবার এসে তোমাদের শূদ্র থেকে ব্রাহ্মণ তৈরী করেন । এমনভাবে আর কেউই বলতে পারে না । প্রথম কথাই হলো, বাবার পরিচয় দেওয়া । বাবা বলেন, আমাকেই পতিত থেকে পবিত্র করার জন্য এখানে আসতে হয় । এমন নয় যে, আমি উপর থেকে প্রেরণা দিই । এনার নামই হলো ভাগীরথ । তাহলে অবশ্যই এনার মধ্যেই প্রবেশ করবেন । এ হলো এনার অনেক জন্মের অন্তিম জন্ম । তারপর তিনি সতোপ্রধান হন । এরজন্য বাবা যুক্তি বলে দেন যে, নিজেকে আত্মা মনে করে আমাকে স্মরণ করো । আমিই হলাম সর্বশক্তিমান । আমাকে স্মরণ করলে তোমাদের মধ্যে শক্তি আসবে । তোমরা বিশ্বের মালিক হতে পারবে । এই লক্ষ্মী - নারায়ণ এই উত্তরাধিকার এই বাবার থেকেই পেয়েছেন । কিভাবে পেয়েছেন, তাই বাবা বোঝান । প্রদর্শনী, মিউজিয়ামেও তোমরা বলে দাও যে, প্রথমে একটা কথা বোঝো, তারপর অন্য বিষয়ে যেও । একথা বোঝা অত্যন্ত জরুরী । নাহলে তোমরা দুঃখ থেকে মুক্ত হতে পারবে না । প্রথমে তোমরা যদি নিশ্চিত না করো তাহলে কিছুই বুঝতে পারবে না । এই সময় হলোই ভ্রষ্টাচারী দুনিয়া । দেবী - দেবতাদের দুনিয়া শ্রেষ্ঠাচারী ছিলো । তোমাদের এমনভাবে বোঝাতে হবে । মানুষের নারিও দেখা চাই - কিছু বুঝতে পেরেছে কি, নাকি না বুঝেই অবুঝের মতো বসে আছে ? যদি অবুঝ হয়, তাহলে ছেড়ে দেওয়া উচিত । যারা বুঝতে পারবে, তাদের চেহারারও পরিবর্তন হয়ে যাবে । প্রথম - প্রথম খুশীর খবর দিতে হবে । অসীম জগতের পিতার কাছ থেকে অসীম জগতের উত্তরাধিকার পাওয়া যায়, তাই না । বাবা জানেন যে, স্মরণের যাত্রায় বাচ্চারা খুব ঢিলা । বাবাকে স্মরণ করারই পরিশ্রম । তাতেই মায়া অনেক বিঘ্ন উপস্থিত করে । এক খেলাও বানানো আছে । বাবা বসে বোঝান - কেমনভাবে এই খেলা বানানো আছে । দুনিয়ার মানুষ তো সামান্যতমও কিছু জানে না ।

বাবার স্মরণে থাকলে তোমরা কাউকে বোঝানোতেও একরস থাকবে । না হলে কিছু না কিছু দুর্বলতা বের করতে থাকবে । বাবা বলেন যে, তোমরা খুব বেশী চিন্তাও করো না । স্থাপনা তো অবশ্যই হতে হবে । ভবিতব্যকে কেউই টলাতে পারবে না । উল্লাসের সঙ্গে থাকা চাই । বাবার থেকে আমরা অসীম জগতের উত্তরাধিকার গ্রহণ করছি । বাবা বলেন যে, মামেকম্ ( একমাত্র আমাকে ) স্মরণ করো । তিনি খুব ভালোবেসে বসে বোঝান । বাবাকে স্মরণ করতে করতে প্রেমের অশ্রু বের হওয়া উচিত । আর তো সব সম্বন্ধই হলো কলিযুগী । এ হলো আত্মাদের পিতার সঙ্গে সম্বন্ধ । তোমাদের এই চোখের জলও বিজয় মালার দানা হয় । খুব অল্পই আছে যারা এমনভাবে ভালোবেসে বাবাকে স্মরণ করে । যতটা সম্ভব খুব চেষ্টা করে সময় বের করে নিজের ভবিষ্যৎকে উঁচু বানানো চাই । প্রদর্শনীতে এতো বেশী বাচ্চা থাকা উচিত নয় । না এতো চিত্রের প্রয়োজন আছে । এক নম্বর চিত্র হলো গীতার ভগবান কে ? তার পাশে লক্ষ্মী-নারায়ণ এবং সিঁড়ির । ব্যস্ । বাকি এতো চিত্র কোনো কাজের নয় । বাচ্চারা, তোমাদের যতটা সম্ভব স্মরণের যাত্রাকে বৃদ্ধি করতে হবে । মূল চিন্তা করতে হবে যে, পতিত থেকে পবিত্র কিভাবে হবে । বাবার হয়ে তারপর বাবার কাছে গিয়ে সাজা ভোগ করবে, তখন সেই সময় খুবই অনুতাপ হবে । সাজা যাতে না ভোগ করতে হয়, এই ইচ্ছা সবথেকে বেশী থাকতে হবে । তোমরা যেমন রূপও তেমনই বসন্তও । বাবাও বলেন, আমি রূপও, আবার বসন্তও । আমি ছোটো এক বিন্দু, আবার আমি জ্ঞানের সাগরও । আমি তোমাদের আত্মার মধ্যে সম্পূর্ণ জ্ঞান ভরে দিই । তাই ৮৪ জন্মের সম্পূর্ণ রহস্য তোমাদের বুদ্ধিতে আছে । তোমরা জ্ঞানের স্বরূপ হয়ে জ্ঞানের বর্ষণ করো । জ্ঞানের এক - এক রত্ন কতো অমূল্য, এর মূল্য কেউই দিতে পারে না, তাই বাবা বলেন, তোমরা পদমাপদম ভাগ্যশালী । তোমাদের চরণে পদ্মের নিদর্শনও দেখানো হয়, একথা কেউই বুঝতে পারে না । মানুষ পদ্মপতি নাম রাখে । মনে করে এনার কাছে অনেক ধন আছে । পদমপতি নামে পদবীও রাখা হয় । বাবা সব কথা বুঝিয়ে বলেন । আবারও বলেন - মূল কথা হলো বাবাকে আর ৮৪ জন্মের চক্রকে স্মরণ করো । এই জ্ঞান হলো ভারতবাসীদের জন্য । তোমরাই ৮৪ জন্মগ্রহণ করো । এও তো বোঝার মতো কথা, তাই না । আর কোনো সন্ন্যাসীদের স্বদর্শন চক্রধারী বলা হবে না । দেবতাদেরও বলা হবে না । দেবতাদের মধ্যে জ্ঞান থাকে না । তোমরা বলবে যে, আমাদের মধ্যে সম্পূর্ণ জ্ঞান আছে, যা এই লক্ষ্মী - নারায়ণের মধ্যে নেই । বাবা তো যথার্থ কথা বুঝিয়ে বলেন ।

এই জ্ঞান খুব আশ্চর্যের । তোমরা কতো গুপ্ত ছাত্র । তোমরা বলবে যে, আমরা পাঠশালাতে যাই, ভগবান আমাদের পড়ান । এইম অবজেক্ট কি ? আমরা এমন ( লক্ষ্মী - নারায়ণ ) হবো । মানুষ শুনে আশ্চর্য হয়ে যাবে । আমরা আমাদের হেড অফিসে যাই । সেখানে কি পড়ো ? মানুষ থেকে দেবতা, বেগার থেকে প্রিন্স হওয়ার পড়া পড়ছো । তোমাদের চিত্রও একনম্বর । ধন দানও সবসময় পাত্র বুঝে করা হয় । এই পাত্র তোমরা কোথায় পাবে ? শিব, লক্ষ্মী - নারায়ণ, রাম - সীতার মন্দিরে । ওখানে গিয়ে তোমরা ওদের সেবা করো । নিজেদের সময় নষ্ট করো না । গঙ্গা নদীতে গিয়েও তোমরা বোঝাও - পতিত পাবন কি গঙ্গা, নাকি পরমপিতা পরমাত্মা ? সকলের সদগতি কি জল করবে, নাকি অসীম জগতের পিতা করবেন ? তোমরা এর উপর খুব ভালোভাবে বোঝাতে পারো । তোমরা এই বিশ্বের মালিক হওয়ার পথ বলে দাও । তোমরা দান করো, কড়ি তুল্য মানুষকে হীরের সমান বিশ্বের মালিক বানাও । ভারত তো বিশ্বের মালিক ছিলো, তাই না । তোমাদের মতো ব্রাহ্মণদের কুল হলো দেবতাদের থেকেও উত্তম । এই বাবা তো বোঝান - আমি বাবার একমাত্র হারানিধি বাচ্চা । বাবা আমার এই শরীর ধার হিসাবে নিয়েছেন । তোমরা ছাড়া আর কেউই এই কথা বুঝতে পারবে না । বাবা আমার উপর সাওয়ার হয়েছেন । আমি বাবাকে কাঁধে বসিয়েছি অর্থাৎ এই শরীর দিয়েছি যে এর দ্বারা সেবা করো । এর পরিবর্তে তিনি কতকিছু দেন, তিনি আমাদের কতো উঁচু কাঁধে চড়ান । মা তো বাচ্চাকে কোলে নিতে পারে, কিন্তু বাবা বাচ্চাকে কাঁধে চড়ায়, তাই না । পাঠশালাকে কখনো কল্পনা বলা হয় না । স্কুলে হিস্ট্রি - জিওগ্রাফি পড়ায়, সে কি কল্পনা হলো ? এও তো এই ওয়ার্ল্ডের হিস্ট্রি - জিওগ্রাফি, তাই না । আচ্ছা ।

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) খুব প্রেমের সঙ্গে বসে আত্মিক পিতাকে স্মরণ করতে হবে । এই স্মরণে যদি প্রেমের অশ্রু এসে যায় তাহলে তা বিজয় মালার দানা হয়ে যাবে । নিজের সময় ভবিষ্যতের প্রালব্ধ তৈরীতে সফল করতে হবে ।

২ ) অন্তর্মুখী হয়ে সকলকে অল্ফের ( আল্লাহ ) পরিচয় দিতে হবে, বেশী কথা বলতে হবে না । একই যেন নেশা থাকে যে, এমন কোনো কর্তব্য না হয় যাতে সাজা ভোগ করতে হয় ।

বরদান:-
শুভ ভাবনার দ্বারা সেবা করে বাবার সমান অপকারীদেরও উপকারী ভব

বাবা যেমন অপকারীদেরও উপকার করেন, তেমনই তোমাদের সামনে যেমনই আত্মা আসুক না কেন, তোমরা কিন্তু তোমাদের দয়ার বৃত্তিতে, শুভ ভাবনার দ্বারা তাকে পরিবর্তন করে দাও - এই হলো প্রকৃত সেবা । বৈজ্ঞানিকরা যেমন বালির জমিতেও ফসল ফলিয়ে দেয়, তেমনই শান্তির শক্তির দ্বারা দয়ালু হয়ে অপকারীদেরও উপকার করে এই ধরণীকে পরিবর্তন করো । স্ব পরিবর্তনের দ্বারা, শুভ ভাবনার দ্বারা যেমনই আত্মা হোক না কেনপরিবর্তিত হয়ে যাবে কেননা শুভ ভাবনা অবশ্যই সফলতা প্রাপ্ত করায় ।

স্লোগান:-
জ্ঞানের স্মরণ করাই হলো সদা আনন্দিত থাকার আধার ।