18.02.2021 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


মিষ্টি বাচ্চারা - সুখ প্রদানকারী এক বাবাকে স্মরণ করো, এই অল্প সময়ের মধ্যে যোগবল জমা করো, তবে অন্তিম সময়ে অনেক কাজে আসবে

প্রশ্নঃ -
অসীম জগতের বৈরাগী বাচ্চারা, তোমাদের কোন্ স্মৃতি সর্বদা স্মরণে রাখতে হবে ?

উত্তরঃ -
এটা হল আমাদের নোংরা ছিঃ-ছিঃ শরীর, একে ছেড়ে পুনরায় বাড়ি ফিরে যেতে হবে - এই স্মৃতি যেন সর্বদা থাকে। বাবা আর অবিনাশী উত্তরাধিকার যেন সর্বদা স্মরণে থাকে, দ্বিতীয় আর কিছুই যেন স্মরণে না আসে। এটাই হল অসীম জগতের বৈরাগ্য। কর্ম করতে করতে স্মরণে থাকার এইরকম পুরুষার্থ করতে হবে, যাতে পাপের বোঝা মাথা থেকে নেমে যায়। আত্মা তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হয়ে যায়।

ওম্ শান্তি ।
বাবা বাচ্চাদেরকে প্রতিদিন খুব সহজ কথা বোঝান। এটা হল ঈশ্বরীয় পাঠশালা। বরাবর গীতাতেও বলা হয়েছে ভগবানুবাচ। ভগবান বাবা সকলের এক-ই। সবাই ভগবান হতে পারে না। হ্যাঁ, সবাই এক বাবার বাচ্চা হতে পারে। এটা অবশ্যই বুদ্ধিতে আনতে হবে যে, বাবা হলেন স্বর্গ, নতুন দুনিয়ার স্থাপন কর্তা। সেই বাবার থেকে আমাদের স্বর্গের অবিনাশী উত্তরাধিকার অবশ্যই প্রাপ্ত হয়। ভারতেই শিব জয়ন্তী গাওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু শিব জয়ন্তী কিভাবে হয়, এটা তো বাবা-ই এসে বুঝিয়ে দেন। বাবা আসেনই কল্পের সঙ্গম যুগে। বাচ্চাদেরকে পুনরায় পতিত থেকে পবিত্র বানাতে অর্থাৎ অবিনাশী উত্তরাধিকার প্রদান করতে। এইসময় সকলের উপরেই রাবণের অভিশাপ আছে এইজন্য এখন সবাই দুঃখী হয়ে পড়েছে। এখন হল কলিযুগী পুরানো দুনিয়া। এটা সর্বদা স্মরণে রাখো যে আমরা হলাম ব্রহ্মামুখ বংশাবলি ব্রাহ্মণ। যারা নিজেদেরকে ব্রহ্মাকুমার কুমারী মনে করে, তাদেরকে অবশ্যই এটা বুঝতে হবে যে কল্প-কল্প ঠাকুরদাদার থেকে ব্রহ্মা বাবার দ্বারা অবিনাশী উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করে। এতো অগণিত বাচ্চা আর কারোরই হতে পারে না। তিনি হলেন সকলের বাবা। ব্রহ্মাও হলেন তাঁর বাচ্চা। সকল বাচ্চাদের অবিনাশের উত্তরাধিকার ঠাকুরদাদার থেকেই প্রাপ্ত হয়। তাঁর অবিনাশী উত্তরাধিকার হল সত্য যুগের রাজধানী। এই অসীম জগতের বাবা যখন স্বর্গের রচয়িতা, তখন অবশ্যই আমাদের স্বর্গের রাজত্ব হওয়া চাই। কিন্তু এটা ভুলে গিয়েছে। আমাদেরই স্বর্গের রাজত্ব ছিল। কিন্তু নিরাকার বাবা কিভাবে সেই রাজত্ব প্রদান করেন, অবশ্যই ব্রহ্মার দ্বারা দেবেন। ভারতেই এঁনার রাজত্ব ছিল। এখন হলো কল্পের সঙ্গম। সঙ্গমেই ব্রহ্মা আছেন তবেই তো বি.কে. বলে হয়ে থাকে। অন্ধশ্রদ্ধার কোনও কথাই হতে পারে না। দত্তক নেওয়া হয়। আমরা হলাম ব্রহ্মাকুমার কুমারী। ব্রহ্মা হলেন শিব বাবার বাচ্চা, আমরা শিব বাবার থেকে পুনরায় স্বর্গের রাজত্ব প্রাপ্ত করছি। পূর্বেও প্রাপ্ত হয়েছিল, যার ৫০০০ বছর পূর্ণ হয়েছে। আমরা দেবী দেবতা ধর্মের ছিলাম। অন্তিম সময় পর্যন্ত বৃদ্ধি হতে থাকবে। এরকম যীশুখ্রীষ্ট এসেছিলেন, খ্রিস্টান ধর্ম এখনও পর্যন্ত আছে। বৃদ্ধি হতে থাকে। তারা জানে যে যিশুখ্রিস্টের দ্বারা আমরা খ্রিস্টান হয়েছি। আজ থেকে ২ হাজার বছর পূর্বে যীশু খ্রীষ্ট এসেছিলেন। এখনও বৃদ্ধি হচ্ছে। প্রথমে প্রথমে সতোপ্রধান তারপর রজো, তমোতে আসতে হয়। তোমরা সত্যযুগে সতপ্রধান ছিলে তারপর রজো, তমোতে এসেছো। তমোপ্রধান সৃষ্টি থেকে পুনরায় সতোপ্রধান অবশ্যই হয়। নতুন দুনিয়াতে আদি সনাতন ধর্ম ছিল। মুখ্য ধর্ম হল চারটি। তোমাদের ধর্ম অর্ধেক কল্প চলতে থাকে। এখানেও তোমরা সেই ধর্মের আছো। কিন্তু বিকারী হওয়ার কারণে তোমরা নিজেদেরকে দেবী দেবতা বলতে পারো না। তোমরা ছিলে আদি সনাতন ধর্মের কিন্তু বাম মার্গে যাওয়ার কারণে তোমরা পতিত হয়ে গেছো। এইজন্য নিজেদেরকে হিন্দু বলে দেয় । এখন তোমরা ব্রাহ্মণ হয়েছ। উঁচুর থেকেও উঁচু হলেন শিব বাবা। তারপর হলে তোমরা ব্রাহ্মণেরা। তোমাদের ব্রাহ্মণদের বর্ণ হল উঁচুর থেকেও উঁচু। ব্রহ্মার বাচ্চা হয়েছো। কিন্তু অবিনাশী উত্তরাধিকার ব্রহ্মার দ্বারা পাওয়া যায়না। শিব বাবা ব্রহ্মার দ্বারা স্বর্গের স্থাপনা করছেন। তোমাদের আত্মা এখন বাবাকে জেনে গেছে। বাবা বলছেন যে, আমার দ্বারা আমাকে জানার কারণে সমগ্র সৃষ্টিচক্রের আদি মধ্য অন্তের জ্ঞান বুঝতে পারবে। সেই জ্ঞান আমারই প্রদত্ত। আমি হলাম জ্ঞানের সাগর, আনন্দের সাগর, পবিত্রতার সাগর। ২১ জন্ম তোমরা পবিত্র হয়ে পুনরায় বিষয়ে সাগরে পড়ে যাও। এখন জ্ঞানের সাগর বাবা তোমাদেরকে পতিত থেকে পবিত্র বানাচ্ছেন। কোনও গঙ্গার জল পবিত্র বানাতে পারেনা। স্নান করতে যায় কিন্তু সেই জল কোন পতিত-পাবন নয়। এই নদীগুলি তো সত্যযুগেও ছিল, তাই কলিযুগেও আছে। জলের পার্থক্য থাকে না। বলেও যে সকলের সদ্গতি দাতা হলেন এক রাম। তিনিই হলেন জ্ঞানের সাগর পতিত-পাবন।

বাবা এসে জ্ঞান বোঝাচ্ছেন যার দ্বারা তোমরা স্বর্গের মালিক হচ্ছো। সত্যযুগ ত্রেতাতে ভক্তি শাস্ত্র ইত্যাদি কিছুই থাকেনা। তোমরা বাবার থেকে সর্বদা সুখের অবিনাশী উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করছো। এমন নয় যে সেখানে তোমাদেরকে গঙ্গা স্নান করতে হবে বা কোনো যাত্রা করতে হয়। এটা হলো তোমাদের আধ্যাত্মিক যাত্রা যেটা কোনও মানুষ শেখাতে পারে না। বাবা হলেন সকল আত্মাদের বাবা, দৈহিক বাবা তো অনেক হয়ে থাকে। কিন্তু আধ্যাত্মিক বাবা হলেন এক। এটা পাকাপাকি ভাবে স্মরণ করো। বাবা জিজ্ঞাসা করছেন যে, তোমাদেরকে কতগুলো বাবা আছে তখন ইতস্তত হয়ে পরে যে এসব কী জিজ্ঞাসা করছেন? আধ্যাত্মিক বাবা তো সকলের একটাই হয়ে থাকে। দুই-তিন বাবা কিভাবে হবে। বাবা বোঝাচ্ছেন যে সেই পরমাত্মা বাবাকে দুঃখের সময় স্মরণ করে থাকো। দুঃখ হলে সর্বদা বলতে থাকো যে, হে পরমপিতা পরমাত্মা আমাকে দুঃখ থেকে মুক্ত করো। তাই দু'জন বাবা হয়ে গেল, তাই না। এক হল দৈহিক বাবা আর অন্যটি হল আধ্যাত্মিক বাবা। যাঁর মহিমা গাইতে থাকো, তুমি মাতা-পিতা আমি বালক তোমার.... তোমার কৃপাতেই অপার সুখ প্রাপ্ত হয়। লৌকিক মা-বাবার থেকে অপার সুখ পাওয়া যায় না। যখন দুঃখ হয় তখন সেই বাবাকে স্মরণ করতে থাকে। এই বাবা-ই এমন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেন, অন্যরা তো কেউ জিজ্ঞাসা করতে পারেনা।

ভক্তি মার্গে তোমরা গাইতে থাকো যে, বাবা আপনি এলে আমরা আপনাকে ছাড়া আর কারো কথা শুনবো না। অন্যরা তো সবাই দুঃখ-ই দিতে থাকে, আপনিই হলেন সুখের দাতা। তাই বাবা এসে তোমাদের সেই কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তোমরা জানো, তোমরাই নিজেদেকে ব্রহ্মাকুমার কুমারী বলে থাকো। মানুষের বুদ্ধি এমনই পাথরসম হয়ে গেছে যে তারা এটাও বুঝতে পারে না, বি.কে কি! মাম্মা বাবা কে ! এঁনারা কোনও সাধু-সন্ত নন। সাধু-সন্ন্যাসীকে গুরু বলা যায়, মাতা-পিতা বলা যায় না। এই বাবা তো এসে দৈবী ধর্মের রাজ্য স্থাপন করছেন। যেখানে এই লক্ষ্মী-নারায়ণ রাজা-রানী রাজ্য করেছিলেন। প্রথমে পবিত্র ছিলেন পরে অপবিত্র হয়ে গেছেন। যাঁরা পূজ্য ছিলেন, তাঁরাই পুনরায় ৮৪ জন্মগ্রহণ করেন। প্রথমে অসীম জগতের বাবার থেকে ২১ জন্মের সুখের অবিনাশী উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয়। কুমারী সে, যে ২১ কুলের উদ্ধার করে। এটা তোমাদেরই গায়ন আছে। তোমরা হলে কুমারী, গৃহস্থী নও। যদিও বয়সে বড় কিন্তু জীবিত থেকেও কলিযুগী দুনিয়ার থেকে মৃত হয়ে সবাই বাবার বাচ্চা বাচ্চী হয়েছ। প্রজাপিতা ব্রহ্মার অনেক বাচ্চা আছে আরও বৃদ্ধি হতে থাকবে। তারপর এরা সবাই দেবতা হবে। এটা হল শিব বাবার যজ্ঞ। একে বলা যায় রাজস্ব যজ্ঞ, স্বরাজ্য পাওয়ার যজ্ঞ। বাবার থেকে আত্মাদের স্বর্গ রাজ্যের অবিনাশী উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয়। এই রাজস্ব অশ্বমেধ জ্ঞান যজ্ঞের মধ্যে কি করতে হয় ? শরীরের সাথে যা কিছু আছে, সেই সবকিছু সমর্পন করতে হয় অথবা স্বাহা করতে হয়। এই যজ্ঞের দ্বারা তোমরা পুনরায় রাজ্য প্রাপ্ত করবে। বাবা মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, ভক্তি মার্গে তোমরা এই গান গাইতে যে, হে বাবা আপনি যখন আসবেন, তখন আমরা আপনার কাছে সমর্পিত হয়ে যাব, অধিকারী হয়ে যাব। এখন তোমরা নিজেদেরকে ব্রহ্মাকুমার কুমারী মনে করো। যদিও থাকো নিজের গৃহস্থ ব্যবহারে কিন্তু পবিত্র থাকতে হবে, কমল পুষ্পের সমান। নিজেকে আত্মা মনে করো। আমরা হলাম বাবার বাচ্চা। তোমরা আত্মারা হলে প্রেমিকা। বাবা বলছেন যে, আমি হলাম এক প্রেমিক। তোমরা আমাকে অর্থাৎ এই প্রেমিককে আহ্বান করেছিলে। তোমরা হলে অর্ধেক কল্পের প্রেমিকা। যাঁকে পরমপিতা পরমাত্মা বলা যায়, তিনি হলেন নিরাকার। আত্মাও হল নিরাকার, যে এই শরীরের দ্বারা পার্ট অভিনয় করছে। ভক্তি মার্গেও তোমাদের পার্ট অভিনয় করতে হয়। ভক্তি হলই রাত, অন্ধকারে মানুষ ধাক্কা খেতে থাকে। দ্বাপর থেকে শুরু করে তোমরা ধাক্কা খেয়ে এসেছ। এই সময় তোমরা মহা দুঃখী হয়ে গেছ। এখন পুরানো দুনিয়ার অন্ত হবে। এই পয়সা ইত্যাদি সবকিছুই মাটিতে মিশে যাবে। সে কোটিপতি হোক কিম্বা রাজা, বাচ্চার জন্ম হলে মনে করে এই ধন আমার বাচ্চার জন্য। আমার পুত্র পৌত্র ভোগ করবে। বাবা বলেন যে, কিছুই ভোগ করতে পারবে না। কারণ এই দুনিয়াই তো শেষ হয়ে যাবে। আর বাকি কিছু সময় অবশিষ্ট আছে। অনেক বিঘ্ন আসবে। নিজেদের মধ্যে লড়াই করবে। অন্তিম সময়ে এমন লড়াই করবে যে রক্তের নদী বয়ে যাবে। তোমাদের তো কারো সাথে লড়াই করতে হয় না। তোমরা যোগবলে থাকো। তোমরা স্মরণের যাত্রায় থাকলে তো যদি কেই খারাপ সংকল্প নিয়ে তোমাদের সামনে আসে তো তার ভয়ঙ্কর সাক্ষাৎকার হয়ে যাবে আর দ্রুত পালিয়ে যাবে। তোমরা শিববাবাকে স্মরণ করবে আর তারা পালিয়ে যাবে। যারা পাক্কা বাচ্চা হবে, এই পুরুষার্থ করবে যে আমার তো এক শিব বাবা দ্বিতীয় কেউ নেই। বাবা বোঝাচ্ছেন যে, হাত দিয়ে কাজ করো আর হৃদয় দিয়ে বাবাকে স্মরণ করো। বাচ্চাদেরকে ঘরকেও সামলাতে হবে। কিন্তু তোমরা আত্মারা বাবাকে স্মরণ করো তো পাপের বোঝাও মাথা থেকে নেমে যাবে। কেবল আমাকে স্মরণ করো তো তোমরা তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হয়ে যাবে, কিন্তু নম্বরের ক্রমে পুরুষার্থ অনুসারে। তারপর তোমরা সবাই এই শরীর ত্যাগ করবে, বাবা সকল আত্মাদেরকে মশার ঝাঁকের মতো করে নিয়ে যাবেন। বাকি সমস্ত দুনিয়াকে শাস্তি ভোগ করতে হবে। ভারতে বাকি অল্প কিছু আত্মা গিয়ে থাকবে। তাদের জন্যই এই মহাভারত লড়াই হবে। এখানে তো অনেক বৃদ্ধি হবে। প্রদর্শনী, প্রজেক্টর ইত্যাদির দ্বারা অনেকে শুনবে। তারা প্রজা হয়ে যাবে। রাজা তো একজনই হয়, বাকি সকলে হয় প্রজা। মন্ত্রীও প্রজার লাইনে এসে যায়। অনেক প্রজা হয়ে থাকে। এক রাজার এক লক্ষের মত প্রজা হয়ে থাকে। তাই রাজা রানীকে পরিশ্রম তো করতেই হবে তাই না।

বাবা বলেন - সবকিছু করেও নিরন্তর আমাকে স্মরণ করো। যেরকম প্রেমিক-প্রেমিকারা হয়, তাদের মধ্যে শারীরিক ভালোবাসা থাকে। বাচ্চারা, এই সময় তোমরা হলে প্রিয়তমা। তোমাদের প্রেমিক এসে গেছেন। তোমাদেরকে পড়াচ্ছেন। পড়তে পড়তে তোমরা দেবতা হয়ে যাবে। স্মরণের দ্বারা বিকর্ম বিনাশ হবে আর তোমরা সদাকালের জন্য নিরোগী হয়ে যাবে। এছাড়াও চুরাশির চক্রকেও স্মরণে রাখতে হবে। সত্যযুগে এত জন্ম, ত্রেতাতে এত জন্ম। আমরা দেবী দেবতা ধর্মের আত্মারা সম্পূর্ণ চুরাশির চক্র লাগিয়েছি। পরবর্তীকালে তোমাদের অনেক বৃদ্ধি হবে। তোমাদের সেন্টারের সংখ্যা হাজারের মতো হয়ে যাবে। গলিতে-গলিতে বোঝাতে থাকবে যে কেবল বাবাকে আর অবিনাশী উত্তরাধিকারকে স্মরণ করো। এখন পুনরায় বাড়ি ফিরে চলো। এটা তো ছিঃ-ছিঃ নোংরা শরীর। এটা হল অসীম জগতের বৈরাগ্য। সন্ন্যাসীরা তো কেবল লৌকিকের ঘর-বাড়ি পরিত্যাগ করে। তারা হল হঠযোগী। তারা রাজযোগ শেখাতে পারে না। বলে যে - এই ভক্তি হল অনাদি। বাবা বলেন, এই ভক্তি তো দ্বাপর থেকে শুরু হয়। ৮৪ সিঁড়ি অতিক্রম করে তোমরা এখন তমোপ্রধান হয়েছ। তোমরাই দেবী দেবতা ছিলে। খ্রিস্টানরা বলবে যে আমরাই খ্রিস্টান ছিলাম। তোমরা জানো যে আমরা সত্যযুগে ছিলাম। বাবা দেবী-দেবতা ধর্ম স্থাপন করেছিলেন। এই যে লক্ষ্মী-নারায়ণ, এঁনারা এখন ব্রাহ্মণ হয়েছেন। সত্যযুগে এক রাজা-রানী ছিল, একটাই ভাষা ছিল। এটাও বাচ্চারা সাক্ষাৎকার করেছে। তোমরা সবাই হলে আদি সনাতন দেবী দেবতা ধর্মের। তোমরাই ৮৪ জন্ম নিয়ে থাকো। তারা, যারা বলে যে আত্মা হল নির্লেপ বা ঈশ্বর হলেন সর্বব্যাপী, এসব কিছুই হলো মিথ্যা। সকলের মধ্যে আত্মা আছে, পুনরায় কিভাবে বলে যে আমাদের মধ্যে পরমাত্মা আছে। তাহলে তো সবাই বাবা হয়ে যায়। কতোই না তমোপ্রধান হয়ে গেছে! আগে যা কিছু শুনেছে সবই মেনে নিয়েছে। এখন বাবা এসে সত্যকথা শোনাচ্ছেন। তোমাদেরকে এখন জ্ঞানের তৃতীয় নেত্র দিয়েছেন যার দ্বারা তোমরা সৃষ্টির আদি মধ্য অন্তকে জানতে পারো। এটাই হল অমর কথা। তাছাড়া সূক্ষ্ম বতনে তো কথা ইত্যাদি হয় না। এসব হল ভক্তিমার্গের চারা গাছ। তোমরা অমর হওয়ার জন্য অমর কথা শুনছো। সেখানে তোমরা খুশীর সাথে এক শরীর ছেড়ে দ্বিতীয় শরীর ধারণ করবে। এখানে কেউ মারা গেলে তো কান্নাকাটি করতে থাকে। সেখানে অসুখ-বিসুখ ইত্যাদি হয়না। সর্বদাই সুস্বাস্থ্যবান থাকে। আয়ুও বড় হয়ে থাকে। সেখানে নোংরামো হয় না। এখন এটা পাক্কা করে নিতে হবে যে আমরা চুরাশির চক্র সম্পন্ন করেছি। এখন বাবা আমাদেরকে নিতে এসেছেন। পবিত্র হওয়ার যুক্তিও তোমাদেরকে বলে দিয়েছেন। কেবল আমাকে, এক বাবাকে আর অবিনাশী উত্তরাধিকারকে স্মরণ করো। সত্যযুগে ষোলো কলা সম্পূর্ণ তারপর কলা কম হয়ে যায়। এখন তোমাদের মধ্যে কোনও কলা নেই। বাবা-ই দুঃখ থেকে মুক্ত করে সুখের রাজ্যে নিয়ে যাচ্ছেন এইজন্য তাঁকে মুক্তিদাতা বলা যায়। সবাইকে নিজের সাথে করে নিয়ে যাবেন। তোমাদের গুরু থোড়াই তোমাদেরকে সাথে নিয়ে যাবেন। সেই গুরু চলে গেলে তো তার শিষ্যরা সেই গদিতে বসে তারপর তো শিষ্যদের মধ্যে অনেক গন্ডগোল হয়ে যায়। গদিতে জন্য নিজেদের মধ্যে লড়াই করতে থাকে। বাবা বলেন যে আমি তোমাদের আত্মাদেরকে সাথে করে নিয়ে যাব। তোমরা সম্পূর্ণ না হলে তো শাস্তি খাবে আর পথ ভ্রষ্ট হবে। এখানে রাজধানী স্থাপন হচ্ছে। আচ্ছা!

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) স্মরণের এমন অভ্যাস করতে হবে যে খারাপ চিন্তা করা আত্মারা সামনে আসতেই পরিবর্তন হয়ে যাবে। আমার তো এক শিববাবা, দ্বিতীয় কেউ নেই... এই পুরুষার্থ করতে হবে।

২ ) স্বরাজ্য প্রাপ্ত করার জন্য শরীর সহ যা কিছু আছে, সেসব কিছু সহ সমর্পিত হয়ে যেতে হবে। যখন এই রুদ্র যজ্ঞে সবকিছু স্বাহা করবে তখন রাজ্য পদ প্রাপ্ত হবে।

বরদান:-
জ্ঞানী আত্মা হয়ে জ্ঞান সাগরে আর জ্ঞানে সমায়িত হওয়া সর্ব প্রাপ্তি স্বরূপ ভব

যে জ্ঞানী আত্মা সে সর্বদা জ্ঞান সাগর আর জ্ঞানে সমায়িত থাকে, সর্ব প্রাপ্তি স্বরূপ হওয়ার কারণে ইচ্ছা মাত্রম্ অবিদ্যার স্থিতি স্বততঃই থাকে। যে অংশমাত্রও কোনও স্বভাব-সংস্কারের বশীভূত হয়, নাম-মান-শানের ইচ্ছা রাখে, কি, কেন-র প্রশ্নে চিৎকার করে, যারা আহ্বান করে, অন্তরে এক বাইরে অন্যরূপ - তাকে জ্ঞানী আত্মা বলা যাবে না।

স্লোগান:-
এই জীবনে অতীন্দ্রিয় সুখ এবং আনন্দের অনুভূতি যে করতে পারে, সে-ই হল সহজযোগী।