18.03.2020 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - এই অসীম জগতের নাটককে যদি সদা স্মৃতিতে রাখো তাহলে অপার খুশী থাকবে, এই নাটকে যে ভালো পুরুষার্থী এবং অনন্য, তাঁর পূজাও অধিক হয়ে থাকে ।"

প্রশ্নঃ -
কোন্ স্মৃতি দুনিয়ার সব দুঃখ থেকে মুক্ত করে দেয়, প্রফুল্লিত থাকার যুক্তি কি ?

উত্তরঃ -
সদা এই কথা যেন স্মৃতিতে থাকে যে, এখন আমি ভবিষ্যতের নতুন দুনিয়ায় যাচ্ছি । ভবিষ্যতের খুশীতে থাকলে তোমরা দুঃখ ভুলে যাবে । বিঘ্নের দুনিয়াতে বিঘ্ন তো আসবেই, কিন্তু এই স্মৃতি যেন থাকে যে, এই দুনিয়াতে আমরা বাকি যে অল্প দিনই থাকবো, প্রফুল্লিত থাকবো ।

গীতঃ-
জাগো সজনীরা জাগো ....

ওম্ শান্তি ।
এই গান খুবই সুন্দর । এই গান শুনলেই উপর থেকে শুরু করে ৮৪ জন্মের রহস্য বুদ্ধিতে এসে যায় । বাচ্চাদের এও বোঝানো হয়েছে যে, *তোমরা যখন উপর থেকে আসো তাখন ভায়া সূক্ষ্মবতন হয়ে আসো না । এখন তোমাদের ভায়া সূক্ষ্মবতন হয়ে যেতে হবে* । বাবা এখনই তোমাদের সূক্ষ্মবতন দেখান । সত্যযুগ এবং ত্রেতাযুগে এই জ্ঞানের কথা থাকে না । না সেখানে কোনো চিত্র ইত্যাদি থাকে । ভক্তিমার্গে তো অনেক চিত্র আছে । দেবীদেরও অনেক পূজা হয় । দুর্গা, কালী, সরস্বতী তো একই কিন্তু কতো নাম রেখে দিয়েছে । যে ভালো পুরুষার্থ করবে, অনন্য থাকবে তাঁর পূজাও অনেক হবে । তোমরা জানো যে, আমরাই পূজ্য থেকে পূজারী হয়ে বাবার আর আমাদের পূজা করি । এই বাবাও তো নারায়ণের পূজাই করতেন, তাই না । এ এক আশ্চর্যের খেলা । নাটক দেখলে যেমন খুশী হয়, তেমনই এও এক অসীম জগতের নাটক, একে কেউই জানে না । তোমাদের বুদ্ধিতে এখন এই সম্পূর্ণ নাটকের রহস্য জানা আছে । এই দুনিয়াতে এখন অগাধ দুঃখ । তোমরা জানো যে, এখন অল্প কিছু সময় বাকি আছে, আমরা এখন নতুন দুনিয়াতে যাচ্ছি । ভবিষ্যতের খুশী থাকলে ব্যস্, এই দুঃখকে উড়িয়ে দেয় । অনেকে লিখে থাকে, বাবা অনেক বিঘ্ন আসে, ফলে ক্ষতি হয়ে যায় । বাবা বলেন, কিছু বিঘ্ন এলেই, আজ তোমরা লাখপতি তো কাল আবার দেউলিয়া হয়ে যাও । তোমাদের তো ভবিষ্যতের খুশীতে থাকতে হবে, তাই না । এ হলো রাবণের আসুরী দুনিয়া । চলতে চলতে কোনো না কোনো বিঘ্ন আসবে । এই দুনিয়াতে আমরা অল্প কিছুদিন আছি, তারপর আমরা অগাধ সুখের দুনিয়ায় যাবো । বাবা বলেন না --- কাল অসুন্দর (কালো) ছিলো, গাঁয়ের ছেলে ছিলো ---- বাবা এখন তোমাদের জ্ঞান দান করে সুন্দর করে তুলছেন । তোমরা জানো যে, বাবা হলেন বীজরূপ, তিনি সত্য, তিনিই চৈতন্য । তাঁকে সুপ্রীম সোল বলা হয় । তিনি উঁচুর থেকেও উঁচুতে থাকেন, তিনি পুনর্জন্মে আসেন না । আমরা সবাই জন্ম - মরণে আসি, তিনি রিজার্ভ থকেন । তাঁর তো অন্তিম সময়ে এসে সবাইকে সদগতি করতে হয় । ভক্তিমার্গে তোমরা জন্ম - জন্মান্তর ধরে গেয়ে এসেছো - বাবা, আপনি যখন আসবেন, আমি আপনারই হয়ে যাবো । আমার তো এক বাবা, দ্বিতীয় আর কেউই নেই । আমরা বাবার সঙ্গেই যাবো । এ হলো দুঃখের দুনিয়া । ভারত কতো গরীব । বাবা বলেন যে, আমি ভারতকেই বিত্তবান বানিয়েছিলাম, রাবণ তারপর নরক বানিয়ে দিয়েছে । তোমরা বাচ্চারা এখন বাবার সম্মুখে বসে আছো । গৃহস্থ জীবনেও অনেকেই থাকে । সবাই এসে তো আর এখানে বসবে না । তোমরা গৃহস্থ জীবনে থাকো, রঙ্গীন কাপড়ও পড়ো, কে তোমাদের বলে যে, সাদা কাপড় পড়ো । বাবা কখনোই কাউকে এমন বলেন নি । তোমাদের ভালো লাগে না, তাই তোমরা সাদা কাপড় পড়েছো । এখানে তোমরা যদিও সাদা কাপড় পড়ে থাকো, কিন্তু রঙ্গীন কাপড় যারা পড়ে, সেই পোশাকেও তারা অনেকেরই কল্যাণ করতে পারে । মাতাদের নিজেদের পতিদের বোঝাতে হবে -- ভগবান উবাচঃ হলো পবিত্র হতে হবে । দেবতারা পবিত্র, তাই তো তাঁদের সামনে মাথা নত করে । পবিত্র হওয়া তো ভালো, তাই না । তোমরা এখন জানো, এ হলো সৃষ্টির অন্ত । বেশী অর্থ দিয়ে কি করবে । আজকাল ডাকাতিও হয়, ঘুষখোর কতো বেড়ে গেছে । এ হলো এখনকার জন্য গায়ন -- ধুলায় চাপা পড়ে যাবে --- সেই সবই সফল হবে, যা বাবার নামে খরচ হবে -- ঈশ্বর তো এখন সম্মুখে বসে আছেন । বুদ্ধিমান বাচ্চারা এখন সবকিছুই বাবার নামে সফল করে নেয় ।

মানুষ তো সব পতিত পতিতকেই দান করে । এখানে তো পুণ্য আত্মাদের দান নিতে হবে । ব্রাহ্মণ ছাড়া আর কারোর সঙ্গেই কোনো যোগ নেই । তোমরা হলে পুণ্য আত্মা । তোমরা পুণ্যেরই কাজ করো । এই যে বাড়ী বানানো হয়, সেখানেও তোমরাই থাকো । পাপের তো কোনো কথাই নেই । যা কিছুই অর্থ থাকে তা ভারতকেই স্বর্গ বানানোর জন্য খরচ করতে থাকে । অনেকে নিজের পেটে পট্টি বেঁধেও বলে -- বাবা, আমার একটি ইটও এখানে লাগিয়ে দাও তাহলে ওখানে আমি মহল পেয়ে যাবো । বাচ্চারা কতো বুদ্ধিমান । পাথরের পরিবর্তে সোনা পেয়ে যায় । সময় অল্পই আছে । তোমরা কতো সেবা করো । প্রদর্শনী মেলাও বৃদ্ধি পাচ্ছে । কেবল বাচ্চারা যেন তীক্ষ্ণ হয়ে যায় । ওরা অসীম জগতের বাবার হতে পারে না কারণ মোহ ছাড়েই না । বাবা বলেন যে, আমি তোমাদের স্বর্গে পাঠিয়েছিলাম, আবার এখন তোমাদের স্বর্গের জন্য তৈরী করছি । তোমরা যদি শ্রীমতে চলো তাহলে উঁচু পদ পাবে । এই কথা আর কেউই বোঝাতে পারে না । এই সম্পূর্ণ সৃষ্টিচক্র তোমাদের বুদ্ধিতে আছে -- মূল বতন, সূক্ষ্ম বতন আর স্থূল বতন । বাবা বলেন - বাচ্চারা, তোমরা স্বদর্শন চক্রধারী হও, অন্যদেরও বোঝাতে থাকো । এই কাজ দেখো কেমন । নিজেকেই ধনবান, স্বর্গের মালিক হতে হবে, অন্যদেরও তেমন বানাতে হবে । বুদ্ধিতে এই কথা থাকা উচিত --- কাউকে কিভাবে পথ বলে দেবো ? ড্রামা অনুসারে যা অতীত হয়েছে তা ড্রামা । সেকেণ্ড বাই সেকেণ্ড যা হয়, তা আমরা সাক্ষী হয়ে দেখি । বাবা বাচ্চাদের দিব্যদৃষ্টির দ্বারা সাক্ষাৎকারও করান । এর পরের দিকেও তোমরা অনেক সাক্ষাৎকার করবে । মানুষ দুঃখে ত্রাহি - ত্রাহি করতে থাকবে আর তোমরা খুশীতে তালি বাজাতে থাকবে । আমরা মানুষ থেকে দেবতা হই, তাই অবশ্যই নতুন দুনিয়ার প্রয়োজন । এরজন্যই এই বিনাশ উপস্থিত । এ তো ভালোই হলো, তাই না । মানুষ মনে করে, নিজেদের মধ্যে লড়াই করবো না, কিন্তু শান্তি এসে যাক । ব্যস্, কিন্তু এ তো এই নাটকেই লিপিবদ্ধ আছে । দুই বানর নিজেদের মধ্যে লড়াই করে আর মাখন মাঝ থেকে তৃতীয় জন পেয়ে গেলো । তাই বাবা এখন বলছেন - আমি তোমাদের বাবা, তোমরা আমাকে স্মরণ করো আর সকলকেই পথ বলে দাও । তোমাদের সাধারণ ভাবে থাকতে হবে আর সাধারণ খাবার খেতে হবে । কখনো - কখনো খাতিরও করা হয় । যেই ভাণ্ডার থেকে খায়, বলে যে, বাবা এ সবই আপনার । বাবা বলেন, তোমরা ট্রাস্টি হয়ে দেখাশোনা করো । বাবা এ সবকিছুই আপনার দেওয়া । ভক্তিমার্গে কেবল বলার জন্য বলে । এখন আমি তোমাদের বলছি, তোমরা ট্রাস্টি হও । এখন আমি তোমাদের সম্মুখে বসে আছি । আমিও ট্রাস্টি হয়ে তারপর তোমাদের ট্রাস্টি বানাই । তোমরা যা কিছুই করো, জিজ্ঞেস করে করো । বাবা প্রতিটা কথায়ই রায় দিতে থাকবেন । বাবা, বাড়ী বানাবো, এটা করবো, বাবা বলবেন, করো । কিন্তু পাপাত্মাদের দিও না । সন্তান যদি জ্ঞানে না চলে, যদি বিয়ে করতে চায়, তাহলে কি আর করা যেতে পারে । বাবা তো বোঝান, তোমরা কেন অপবিত্র হও, কিন্তু কারোর ভাগ্যে যদি না থাকে তো পতিত হয়ে যায় । অনেক প্রকারের ঘটনা হতে থাকে । পবিত্র থাকা সত্ত্বেও মায়ার থাপ্পড় লেগে যায়, খারাপ হয়ে যায় । মায়া খুবই প্রবল । সেও কামের বশ হয়ে যায়, তখন বলা হয় ড্রামার ভবিতব্য । এই মুহূর্ত পর্যন্ত যা কিছুই হয়েছে, পূর্ব কল্পেও এমনই হয়েছিলো । নতুন কিছুই নয় । ভালো কাজ করাতে বিঘ্ন সৃষ্টি করে, এ কোনো নতুন কথা নয় । আমাদের তো তন - মন এবং ধনের সাহায্যে ভারতকে অবশ্যই স্বর্গ বানাতে হবে । আমরা সবকিছুই বাবাকে স্বাহা করে দেবো । বাচ্চারা, তোমরা জানো যে -- আমরা শ্রীমতে চলে এই ভারতের আধ্যাত্মিক সেবা করছি । তোমাদের বুদ্ধিতে আছে যে, আমরা আবার আমাদের রাজ্য স্থাপন করছি । বাবা বলেন, এই আধ্যাত্মিক হসপিটাল কাম ইউনিভার্সিটি তিন পদ পৃথিবীর জমিতে খুলে দাও, যাতে মানুষ চিরসুস্থ এব্ং সম্পদবান হতে পারে । এই তিন পদ পৃথিবীর জমিও কেউ দেয় না । ওরা বলে যে, বিকেরা জাদু করবে, ভাই - বোন বানিয়ে দেবে । তোমাদের জন্য এই ড্রামাতে খুব ভালো যুক্তি রাখা হয়েছে । ভাই -বোন কখনোই কুদৃষ্টি রাখতে পারে না । আজকাল তো দুনিয়া এতো নোংরা হয়ে গেছে যে, সেকথা আর জিজ্ঞেস করো না । তাই বাবার যেমন দয়া হয়, বাচ্চারা, তোমাদেরও তেমনই দয়া আসা উচিত । বাবা যেমন এই নরককে স্বর্গ বানাচ্ছেন, তেমনই তোমরা দয়ালু বাচ্চাদেরও বাবার সাহায্যকারী হতে হবে । অর্থ থাকলে হসপিটাল কাম ইউনিভার্সিটি খুলতে থাকো । এতে বেশী খরচের তো কোনো কথাই নেই । কেবল চিত্র রেখে দাও । যে পূর্ব কল্পে এই জ্ঞান গ্রহণ করেছিলো তারই বুদ্ধির তালা খুলতে থাকবে । তারা আসতে থাকবে । কতো বাচ্চা দূর দূর থেকে আসে এই পড়ার জন্য । বাবা এমনও দেখেছেন, রাতে গ্রাম থেকে চলে আসে, তারপর ভোরবেলা সেন্টারে এসে ঝুলি ভরে নিয়ে যায় । আবার ঝুলি এমনও না হয় যা থেকে বেরিয়ে গেলো । তারা তখন কি পদ পাবে ? বাচ্চারা, তোমাদের তো খুবই খুশী হওয়া উচিত । অসীম জগতের পিতা আমাদের পড়ান, এই অসীম জগতের উত্তরাধিকার দেওয়ার জন্য । এই জ্ঞান কতো সহজ । বাবা বুঝতে পারেন, যে সম্পূর্ণ পাথর বুদ্ধির, তাকে পরশ পাথর তুল্য বুদ্ধির বানাতে হবে । বাবা তো খুব খুশী থাকেন । এ তো গুপ্ত, তাই না । এই জ্ঞানও গুপ্ত । মাম্মা - বাবা তো লক্ষ্মী - নারায়ণ হন, তাহলে আমরা কি কম হবো নাকি ! আমরাও এই সেবা করবো । এই নেশাই থাকা উচিত । আমরা যোগবলের দ্বারা এই রাজধানী স্থাপন করছি । এখন আমরা স্বর্গের মালিক হচ্ছি । সেখানে কিন্তু এই জ্ঞান থাকবে না । এই জ্ঞান কেবল এখনকার জন্য । আচ্ছা ।

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১) বুদ্ধিমান হয়ে নিজের সবকিছুই বাবাকে (ধনীকে ) সমর্পণ করতে হবে । পতিতদের দান করবে না । ব্রাহ্মণ ছাড়া আর কারোর সঙ্গেই কোনো যোগ রাখবে না ।

২) বুদ্ধি রূপী ঝুলিতে এমন ছিদ্র যেন না হয় যাতে জ্ঞান বেরিয়ে যায় । অসীম জগতের পিতা, অসীম জগতের উত্তরাধিকার দেওয়ার জন্য পড়াচ্ছেন, এই গুপ্ত খুশীতে থাকতে হবে বাবার তুল্য দয়ালু হতে হবে ।

বরদান:-
সকলকে উৎসাহ - উদ্দীপনার সহযোগ দান করে শক্তিশালী বানিয়ে প্রকৃত সেবাধারী ভব

সেবাধারীর অর্থ, সবাইকে উৎসাহ - উদ্দীপনার সহযোগ দান করে যে শক্তিশালী বানায় । সময় এখন কম এবং রচনা আরো বেশী করে আসবে । এমন সংখ্যাতেই খুশী হয়ে যেও না যে, অনেকেই এসে গেছে । এখনো তো অনেক সংখ্যাই বৃদ্ধি পাবে। তাই তোমরা নিজেরা যে পালনা নিয়েছো তার রিটার্ন দাও । আগত নির্বল আত্মাদের সহযোগী হয়ে তাদের সমর্থ, অচল, অটল বানাও, তখনই বলা হবে প্রকৃত সেবাধারী ।

স্লোগান:-
আত্মাকে যখন, যেখানে আর যেমনভাবে চাও, স্থিত করে নাও --- এই হলো আত্মিক ড্রিল ।


মাতেশ্বরী জীর অমূল্য মহাবাক্য

১) "পরমাত্মা গুরু, টিচার, পিতা রূপে ভিন্ন - ভিন্ন সম্বন্ধের অবিনাশী উত্তরাধিকার প্রদান করেন"
দেখো, পরমাত্মা তিন রূপ ধারণ করে অবিনাশী উত্তরাধিকার প্রদান করেন । তিনি আমাদের যেমন বাবাও, টিচারও আবার গুরুও । এখন পিতার সঙ্গে পিতার সম্বন্ধ, টিচারের সঙ্গে টিচারের সম্বন্ধ আর গুরুর সঙ্গে গুরুর সম্বন্ধ । পিতার থেকে যদি তালাক নিয়ে নিই, তাহলে উত্তরাধিকার কিভাবে পাবো ? যখন উত্তীর্ণ হয়ে টিচারের কাছ থেকে সার্টিফিকেট নেবে, তখন টিচারকে সাথে পাবে । যদি বাবার বিশ্বাসী, আজ্ঞা পালনকারী বাচ্চা হয়েও বাবার নির্দেশে না চলো, তাহলে ভবিষ্যত প্রালব্ধ তৈরী হবে না । তখন পূর্ণ সদগতিও প্রাপ্ত করতে পারবে না, বাবার থেকে পবিত্রতার অবিনাশী উত্তরাধিকারও নিতে পারবে না । পরমাত্মার প্রতিজ্ঞা হলো, তোমরা যদি তীব্র পুরুষার্থ করো, তাহলে আমি তোমাদের ১০০ গুণ লাভ প্রদান করবো । শুধুমাত্র বলার জন্য নয়, তাঁর সঙ্গে গভীর সম্বন্ধেরও প্রয়োজন । অর্জুনকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিলো যে, সবাইকে হত্যা করো, আমাকে নিরন্তর স্মরণ করো । পরমাত্মা তো সমর্থ, সর্বশক্তিমান, তিনি তাঁর প্রতিজ্ঞা অবশ্যই পালন করবেন, কিন্তু বাচ্চারাও যখন লৌকিক সম্পর্ক ছিন্ন করে এক বাবার সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে যখন সকলের থেকে বুদ্ধিযোগ ছিন্ন করে এক পরমাত্মার সঙ্গে জুড়বে, তখনই তাঁর থেকে সম্পূর্ণ উত্তরাধিকার পাবে ।

২) "সর্ব মনুষ্য আত্মা পুনর্জন্মে আসে"
দেখো, যে ধর্ম স্থাপন করতে আসে, সে-ই পুনর্জন্ম নিয়ে নিজের ধর্মের পালন করতে আসে। সে না নিজে মুক্ত হতে পারে, আর না পারে অন্যকে মুক্ত করতে, যদি এইভাবেই মুক্ত হতে থাকে, তাহলে বাকি যারা মুক্তি পায় না, তারাই এই সৃষ্টিতে বাঁচবে, কিন্তু এমন তো হতে পারবে না যে, পাপাত্মা থেকে যাবে আর পুণ্যাত্মা চলে যাবে । যেমন সন্ন্যাসীরা নির্বিকারী হয়, যদি তাঁরা মুক্ত হয়ে যায়, তাহলে তো পাপাত্মারা থেকে যাবে, আর পুণ্যাত্মারা থেকে যাবে । তখন না সন্ন্যাসীদের বৃদ্ধি দেখা যাবে, আর না সৃষ্টি এইভাবে চলতে পারে । পুণ্য আত্মারা এই সৃষ্টিকে আটকে রাখে তাঁদের নির্বিকারী শক্তির দ্বারা, তো সৃষ্টি চলতে থাকে । তা না হলে কামাগ্নিতে এই সৃষ্টি জ্বলে যাবে । তাই এই নিয়ম নেই যে, মাঝখান থেকে কোনো আত্মা মুক্তি পদে চলে যাবে । বৃক্ষের একটি পাতাও যেমন বীজের মধ্যে থাকতে পারে না, গাছের জন্ম হলে যেমন বৃদ্ধি পায় তারপর জরাজীর্ণ হয়ে যায়, তারপর আবার নতুন গাছের উৎপত্তি হয়, তেমনই যে-ই ধর্ম স্থাপন করতে আসে, সে (তার শিষ্যদের) অবশ্যই পালনা করে, কিন্তু আমরা যাঁকে অবলম্বন (পরমাত্মাকে) করেছি, তিনি যখন অনেক ধর্মের বিনাশ করেন, তখন এক ধর্মের স্থাপন হয় । ইনি স্থাপনা, বিনাশ এবং পালনার কার্য করেন, আর ধর্মপিতারা কেবল স্থাপনার কার্য করেন, বিনাশের কার্য করেন না । বিনাশের কার্য করানো, সে তো পরমাত্মার হাতে, তাই তাঁকে ত্রিমূর্তি বলা হয় । আচ্ছা । ওম্ শান্তি ।