18.07.2020 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - তোমরা হলে ডবল অহিংসক আত্মা রূপী সেনা, তোমাদের শ্রীমত অনুযায়ী দৈবী রাজধানী স্থাপন করতে হবে"

প্রশ্নঃ -
তোমারা অর্থাৎ আত্মা রূপী সেবাধারী বাচ্চারা কোন্ ব্যাপারে সকলকে সচেতন করো ?

উত্তরঃ -
তোমরা সকলকে সচেতন করো যে, এটা সেই মহাভারতের লড়াই এর সময়, এখন এই পুরানো দুনিয়ার বিনাশ হবে, বাবা নূতন দুনিয়া স্থাপন করাচ্ছেন। বিনাশের পরে আবার জয়জয়কার হবে। তোমাদের নিজেদের মধ্যে একত্রিত হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, বিনাশের পূর্বে সকলের কীভাবে বাবার পরিচয় প্রাপ্ত হবে

গীতঃ-
তুমি রাত কাটালে ঘুমিয়ে আর দিন কাটালে খেয়ে। হীরে তুল্য মানব জীবন কড়ি তুল্য হয়ে যায়...
(তুনে রাত গবাই সো কে----)

ওম্ শান্তি ।
বাবা বোঝাচ্ছেন যে উচ্চতমের চেয়েও উচ্চ হলেন ভগবান, আবার ওঁনাকে উচ্চতমের চেয়েও উচ্চ কমান্ডার ইন্ চিফ্ ইত্যাদিও বলো, কারণ তোমরা তো হলে যে সেনা। তোমাদের সুপ্রীম কমান্ডার কে ? এটাও জানো যে, দুই প্রকারের সেনা আছে - তারা হলো শরীরধারী, তোমরা হলে আত্মা রূপী । তারা হলো এই পার্থিব জগতের, তোমরা হলে অসীম জগতের। তোমাদের মধ্যে কমান্ডারস্ও আছে, জেনারেলও আছে, লেফটেন্যান্টও আছে। বাচ্চারা জানে যে, আমরা শ্রীমতের আধারে রাজধানী স্থাপন করছি। এখানে লড়াই ইত্যাদির কোনো ব্যাপার নেই। আমরা শ্রীমতের আধারে সমগ্র বিশ্বের উপর আবার নিজেদের দৈবী রাজ্য স্থাপন করছি। প্রতি কল্পে আমাদের এই পার্ট বেজে চলেছে। এই সব হলো অসীম জগতের কথা। সেই লড়াইতে এই সব কথা নেই। উচ্চতমের চেয়ে ও উচ্চ হলেন বাবা। ওঁনাকে যাদুকর, রত্নাকর, জ্ঞানের সাগরও বলা হয়। বাবার মহিমা হলো অপরম-অপার। তোমাদের শুধুমাত্র বুদ্ধি দ্বারা বাবাকে স্মরণ করতে হবে। মায়া স্মরণ করতে দেয় না। তোমরা হলে ডবল অহিংসক আত্মা রূপী সেনা। তোমাদের এটাই খেয়াল রাখতে হয় যে আমরা নিজেদের রাজ্য কীভাবে স্থাপন করবো। ড্রামা অবশ্যই করাবে। পুরুষার্থ তো করতেই হবে ! যে সব ভালো-ভালো বাচ্চারা আছে তাদের নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে হবে। শেষ পর্যন্ত তো তোমাদের মায়ার সাথে যুদ্ধ চলতে থাকবে। তোমরা এটাও জানো যে, মহাভারতের লড়াই আবশ্যই হবে। তা না হলে পুরানো দুনিয়ার বিনাশ হবে কীভাবে। বাবা আমাদের শ্রীমত দিচ্ছেন। আমাদের অর্থাৎ বাচ্চাদের আবার নিজেদের রাজ্য ভাগ্য স্থাপন করতে হবে। এই পুরানো দুনিয়ার বিনাশ হয়ে আবার ভারতে জয়জয়কার হতে হবে, যার নিমিত্ত হবে তোমরা। তাই নিজেদের মধ্যে মিলিত হতে হবে, কি-কি ভাবে আমরা সার্ভিস করবো। সকলকে কি বাবার ঈশ্বরীয় বার্তা শোনানো হয়েছে যে - এখন এই পুরানো দুনিয়ার বিনাশ হবে। বাবা নূতন দুনিয়ার স্থাপনা করছেন। লৌকিক বাবাও নূতন বাড়ী তৈরী করলে বাচ্চারা খুশী হয়। সেটা হলো পার্থিব জগতের ব্যাপার, এটা হলো সমগ্র বিশ্বের ব্যাপার। নূতন দুনিয়াকে সত্যযুগ আর পুরানো দুনিয়াকে কলিযুগ বলা হয়। এখন হলো পুরানো দুনিয়া তাই জানা দরকার- বাবা কখন আর কবে এসে নূতন দুনিয়া স্থাপন করেন। তোমাদের মধ্যে নম্বর অনুযায়ী পুরুষার্থ অনুসারে জানে। সবচেয়ে বড় হলেন বাবা, এছাড়া আবার নম্বর অনুযায়ী আছে মহারথী, ঘোড় সওয়ার, পেয়াদা। কমান্ডার, ক্যাপ্টেন তো শুধু উদাহরণ দিয়ে বোঝানো হয়। তাই বাচ্চাদের নিজেদের মধ্যে মিলিত হয়ে সিদ্ধান্তে আসতে হবে যে সবাইকে কীভাবে বাবার পরিচয় দেওয়া যায়, এটা হলো আত্মীক সেবা। আমরা নিজেদের ভাই-বোনদের কীভাবে সচেতনতা জাগাবো যে, বাবা নূতন দুনিয়া স্থাপন করার জন্য এসেছেন। পুরানো দুনিয়ার বিনাশও সামনে দাঁড়িয়ে আছে। এটা হলো সেই মহাভারত লড়াই। মানুষ তো এটাও বোঝে না যে মহাভারত লড়াই এর পর আবার কি !

তোমরা এখন ফিল(অনুভব) করো যে, এখন আমরা সঙ্গমযুগে পুরুষোত্তম হয়ে উঠছি। বাবা এখন এসেছেন পুরুষোত্তম করে তুলতে। এতে লড়াই ইত্যাদির কোনো ব্যাপারই নেই। বাবা বোঝান- বাচ্চারা, পতিত দুনিয়াতে এক জনও পবিত্র থাকতে পারে না আর পবিত্র দুনিয়াতে আবার একজনও পতিত থাকতে পারে না। এই ছোট্ট কথাটাও কেউ বোঝে না। বাচ্চারা, তোমাদের সবাইকে চিত্র ইত্যাদির সার বোঝানো হয়। ভক্তি মার্গে মানুষ জপ-তপ, দান-পূণ্য ইত্যাদি যা কিছু করে, ওতে অল্প সময়ের জন্য কাক বিষ্ঠার সমান সুখের প্রাপ্তি হয়। কিন্তু কেউ যদি এখানে এসে বোঝে তখন এই কথা বুদ্ধিতে বসবে। এটা হলোই ভক্তির রাজ্য। জ্ঞানের লেশ মাত্রও নেই। পতিত দুনিয়াতে যেমন একজনও পবিত্র নেই, সেরকম জ্ঞানও একজন ছাড়া আর কারোর মধ্যে নেই। বেদ-শাস্ত্র ইত্যাদি সব হলো ভক্তি মার্গের। সিঁড়ি দিয়ে নামতেই হবে। তোমরা এখন ব্রাহ্মণ হয়েছো, এতে নম্বর অনুযায়ী সেনা আছে। মুখ্য-মুখ্য যে কমান্ডার, ক্যাপ্টেন, জেনারেল ইত্যাদি আছে, তাদের নিজেদের মধ্যে একত্রিত হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে-আমরা বাবার সংবাদ কীভাবে দেবো। বাচ্চাদের বোঝানো হয়- মেসেঞ্জার(দূত), ঈশ্বরীয় দূত অথবা গুরু এক-ই হয়। বাকি সব হলো ভক্তি মার্গের। তোমরা হলে শুধু সঙ্গমযুগী। এই লক্ষ্মী-নারায়ণ এইম্ অবজেক্ট একদম হলো অ্যাকিউরেট (সঠিক)। ভক্তি মার্গে সত্যনারায়ণের কথা, তিজরির কথা, অমর কথা বসে শোনানো হয়। বাবা এখন তোমাদের সত্যিকারের সত্যনারায়ণের কথা শোনাচ্ছেন। ভক্তি মার্গে হলো পাস্টের কথা (পুরানো কথা), যারা এক সময় ছিল, পরবর্তী কালে তাদেরই মন্দির ইত্যাদি তৈরী করা হয়। বাবা যেমন তোমাদের এখন পড়াচ্ছেন আবার তোমাদেরকেই ভক্তিমার্গের স্মরণিক করে তুলবেন। সত্যযুগে শিব বা লক্ষ্মী-নারায়ণ ইত্যাদির কোনো চিত্র হয় না। জ্ঞান আর ভক্তি সম্পূর্ণ আলাদা। এটাও তোমরা জানো, সেইজন্য বাবা বলেছেন *হিয়ার নো ইভিল, টক্ নো ইভিল...*

বাচ্চারা, তোমাদের মধ্যে এখন কতো খুশী রয়েছে, নূতন দুনিয়া স্থাপন হচ্ছে। সুখধামের স্থাপনার জন্য বাবা আমাদের আবার ডায়রেক্শন দিচ্ছেন, তাতেও নম্বর অনুযায়ী ডায়রেক্শন প্রাপ্ত হয়, পবিত্র হও। সবাই তো হলো পতিত, তাই না ! তাই ভালো-ভালো বাচ্চা যারা, তাদের নিজেদের মধ্যে একত্রিত হয়ে আলোচনা করতে হবে যে, কীভাবে সার্ভিস বৃদ্ধি করা যেতে পারে, গরীবকে কীভাবে মেসেজ দেওয়া হবে, বাবা তো পূর্ব কল্পের মতনই এসেছেন। তিনি বলেন, নিজেকে আত্মা মনে করে আমাকে অর্থাৎ এই বাবাকে স্মরণ করো। রাজধানী অবশ্যই স্থাপন হবে। অবশ্যই বুঝতে পারবে। যারা দেবী-দেবতা ধর্মের নয় তারা বুঝতে পারবে না। বিনাশের সময় ঈশ্বরের প্রতি বিপরীত বুদ্ধি হয় যে না। তোমরা অর্থাৎ বাচ্চারা জানো যে আমাদের দৌলত আছে সেইজন্য তোমাদের না বিকারে যেতে হয় না লড়াই-ঝগড়া করতে হয়। তোমাদের ব্রাহ্মণ ধর্ম হলো অনেক উচ্চ মানের। ওরা শূদ্র ধর্মের, তোমরা ব্রাহ্মণ ধর্মের। তোমরা উচ্চ শিখর, ওরা পা। উচ্চ শিখরের ঊর্ধ্বে হলেন উচ্চতমের চেয়েও উচ্চ ভগবান, নিরাকার। *এই চোখ দ্বারা না দেখার কারণে বিরাট রূপে উচ্চ শিখর বা ব্রাহ্মণ আর শিববাবাকে দেখানো হয় না। শুধুমাত্র বলে দেবতা, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র দেখানো হয় ।* যারা দেবতা হয় তারাই আবার পুনর্জন্ম নিয়ে ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র হয়ে ওঠে। *বিরাট রূপের অর্থও কেউ জানে না*। এখন তোমরা জানো বলে কারেক্ট(সঠিক) চিত্র তৈরী করতে হবে। শিববাবাকেও দেখানো হয়েছে আর ব্রাহ্মণও দেখানো হয়েছে, তোমাদের এখন সবাইকে এই মেসেজ দিতে হবে যে, নিজেকে আত্মা মনে করে বাবাকে স্মরণ করো। তোমাদের কাজ হলো মেসেজ(সংবাদ) দেওয়া। বাবার মহিমা যেমন অপরম অপার, সেইরকম ভারতেরও অনেক মহিমা সুখ্যাত। *এটাও কেউ সাতদিন ধরে শুনলে তখন বুদ্ধিতে বসবে*। বলে সময় নেই। আরে অর্ধেক-কল্প ধরে ডেকে এসেছো, এখন তিনি প্র্যাকটিক্যালি এসেছেন। বাবাকে আসতেই হয় শেষে (কলিযুগের অন্তে) । এটাও তোমরা ব্রাহ্মণরা জানো নম্বর অনুযায়ী পুরুষার্থ অনুসারে। অধ্যয়ণ শুরু করলে আর দৃঢ় বিশ্বাস জন্মালো। প্রিয়তম এসেছেন, যাকে আমরা ডেকে এসেছি, অবশ্যই কোনো শরীরে এসে থাকেন। ওঁনার তো নিজের শরীর নেই। বাবা বলেন, আমি এঁনার মধ্যে প্রবেশ করে তোমাদের অর্থাৎ বাচ্চাদের সৃষ্টি চক্রের, রচয়িতা আর রচনার নলেজ দিই। এটা আর কেউ জানে না। এটা হলো অধ্যয়ণ। অনেক সহজ করে বোঝানো হয়। বাবা বলেন, আমি তোমাদের কতো ধনবান করি। কল্প-কল্প তোমাদের মতোন পবিত্র আর সুখী কেউ নেই। বাচ্চারা, তোমরা এই সময় সকলকে জ্ঞান প্রদান করো। বাবা তোমাদের রত্নের দান দেন, তোমরা অপরকে তা দাও। ভারতকে স্বর্গ করে তোলো। তোমরা নিজেদের তন-মন-ধন দিয়ে শ্রীমতের আধারে ভারতকে স্বর্গ করে তুলছো। কতো উচ্চ কার্য। তোমরা হলে গুপ্ত সেনা, কারোরই জানা নেই। তোমরা জানো যে আমরা বিশ্বের বাদশাহী প্রাপ্ত করছি, শ্রীমত দ্বারা শ্রেষ্ঠ হচ্ছি। বাবা এখন বলেন মামেকম্ (একমাত্র আমাকে) স্মরণ করো। কৃষ্ণ তো বলতে পারে না, তিনি তো ছিলেন প্রিন্স। তোমরা তো প্রিন্স হচ্ছো ! সত্যযুগ-ত্রেতাতে হলো পবিত্র প্রবৃত্তি মার্গ। অপবিত্র রাজারা পবিত্র রাজা-রাণী লক্ষ্মী-নারায়ণের পূজা করে। পবিত্র প্রবৃত্তি মার্গের যারা তাদের রাজ্য চলতে থাকে আবার হয়ে যায় অপবিত্র প্রবৃত্তি মার্গ। অর্ধেক-অর্ধেক হলো, তাই না। দিন আর রাত। *লক্ষ বছরের ব্যাপার হলে তবে তো অর্ধেক অর্ধেক হতে পারে না। লক্ষ বছর হলে তবে হিন্দু যারা বাস্তবে দেবতা ধর্মের তাদের সংখ্যা অনেক বড় হওয়া উচিত। অগণিত হওয়া উচিত। এখন তো জনগণনা করা হয়, তাই না !* এটা ড্রামাতে নির্ধারিত আছে, আবারও হবে। মৃত্যু সামনে দাঁড়িয়ে আছে। এটা সেই মহাভারত লড়াই। তাই নিজেদের মধ্যে মিলিত হয়ে সার্ভিসের প্ল্যান তৈরী করতে হবে। সার্ভিস করতেও থাকতে হবে। নূতন-নূতন চিত্র বের করে, প্রদর্শনীও করা হয়। আচ্ছা, তবে কি করা যায় ? খুব সুন্দর করে আধ্যাত্মিক মিউজিয়াম তৈরী করো। কেউ নিজে দেখে গেলে আবার অপরকে পাঠাবে। গরীব বা বিত্তশালীদের মধ্যে থেকে ধার্মিক তো বের হবেই ! বিত্তশালীদের হলে বেশী করে সরিয়ে রাখবে, এখানেও সেই রকম। কেউ এক হাজার বের করবে, কেউ কম। কেউ দু' টাকাও পাঠিয়ে দেয়। বলে এক টাকার ইট লাগিয়ে দিও। এক টাকা ২১ জন্মের জন্য জমা হয়ে যায় । এট হলো গুপ্ত। গরীবের এক টাকা, বিত্তশালীর এক হাজারের সমান হয়ে যায়। গরীবের কাছে থাকেই কম তো কি আর করবে। এরও হিসাব আছে। কোনো ব্যাবসায়ী, সে যদি ধার্মিক হয়, তখন কি করা উচিত। বাবাকে সহযোগ দিতে হবে। বাবা আবার রিটার্নে ২১ জন্মের জন্য দেন। বাবা এসে গরিবদের সাহায্য করেন। এখন তো এই দুনিয়াই থাকবে না। সব মাটিতে মিশে যাবে। তোমরা এটাও জানো যে, স্থাপনা অবশ্যই হবে পূর্ব কল্পের অনুরূপ। নিরাকার বাবা বলেন - বাচ্চারা, দেহের সকল ধর্ম ত্যাগ করে এক বাবাকে স্মরণ করো। *এই ব্রহ্মাও তো হলেন (শিব বাবার) রচনা। ব্রহ্মা কার বাচ্চা, কে ক্রিয়েট করেছেন। ব্রহ্মা-বিষ্ণু-শঙ্করকে কীভাবে ক্রিয়েট (সৃষ্টি) করে, এটাও কেউ জানে না। বাবা এসে সত্য কথা বোঝান। ব্রহ্মাও অবশ্যই মনুষ্য সৃষ্টির মধ্যেই পড়বে। ব্রহ্মার বংশ তালিকা গাওয়া হয়ে থাকে। ভগবান মানুষ সৃষ্টির রচনা কীভাবে রচয়িত করেন, এটা কেউ জানে না। ব্রহ্মার তো এখানে থাকা চাই। বাবা বলেন - যার মধ্যে আমি প্রবেশ করেছি, ইনিও অনেক জন্মের শেষ জন্ম অতিবাহিত করছেন। ইনি সম্পূর্ণ ৮৪ জন্ম গ্রহণ করেছেন। ব্রহ্মা কোনো ক্রিয়েটার নন। ক্রিয়েটার তো একই- নিরাকার। আত্মারাও হলো নিরাকার। আত্মারা হল অনাদি। কেউই ক্রিয়েট করেনি। তবে ব্রহ্মা কোথা থেকে এলেন। বাবা বলেন - আমি এনার মধ্যে প্রবেশ করে নাম পরিবর্তন করে দিয়েছি। তোমাদের অর্থাৎ ব্রাহ্মণদেরও নাম পরিবর্তন করেছিলাম । তোমরা হলে রাজঋষি। যজ্ঞের শুরুতে সন্ন্যাস করে সাথে থেকেছো বলে তোমাদের নাম পরিবর্তন করে দিয়েছিলাম। দেখলাম মায়া তোমাদেরকে খেয়ে ফেলছে (গ্রাস করেছে), তাই মালা তৈরী করা, নাম রাখা ছেড়ে দিয়েছি।

আজকাল দুনিয়াতে প্রতিটা ব্যাপারে অনেক শঠ লোক আছে। দুধের জন্যও শঠতা। সত্যিকারের জিনিস তো পাওয়া যায় না। বাবার বিষয়েও শঠতা। নিজেকেই ভগবান বলতে থাকে। এখন তোমরা বাচ্চারা জানো যে - আত্মা কি, পরমাত্মা কি। তোমাদের মধ্যেও নম্বর অনুযায়ী পুরুষার্থ অনুসারে আছে। বাবা জানেন কে কীভাবে পড়ে আর আবার পড়ায় কীভাবে, কি পদ প্রাপ্ত করবে। তোমাদের দৃঢ় বিশ্বাস আছে যে, আমরা বাবার দ্বারা ওয়ার্ল্ডের ক্রাউন প্রিন্স হচ্ছি। তো এরকম পুরুষার্থ করে দেখাতে হবে। আমি রাজমুকুট শোভিত প্রিন্স (ক্রাউন প্রিন্স) হয়েছি। আবার ৮৪ জন্মের চক্রে আবর্তিত হয়ে এখন আবার হচ্ছি। এটা হলো নরক, এতে কিছুই নেই। আবার বাবা এসে ভান্ডার ভরিয়ে দিয়ে মৃত্যু কন্টক দূর করে দেন। তোমরা সবাইকে জিজ্ঞাসা করো এখানে ভান্ডার ভরিয়ে নিয়ে যেতে এসেছো যে না! অমরপুরীতে মৃত্যু আসতে পারে না। বাবা এসেই থাকেন ভান্ডার ভরিয়ে তুলে কাল(মৃত্যু) কন্টক দূর করে দিতে। সেটা হলো অমরলোক, এটা হলো মৃত্যুলোক। এইরকম মিষ্টি-মিষ্টি কথা শুনে নিয়ে শোনাতে হবে। ফালতু নয়। আচ্ছা !

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) বাবা বিশ্বের মালিক হয়ে ওঠার পড়াশুনা পড়াতে এসেছেন, সেইজন্য এরকম ব'লো না যে, লেশ মাত্রও সময় নেই। শ্রীমতের আধারে তন-মন-ধন দ্বারা ভারতকে স্বর্গ করে তোলার সেবা করতে হবে।

২ ) নিজেদের মধ্যে অনেক মিষ্টি-মিষ্টি জ্ঞানের কথা শুনতে আর শোনাতে হবে। বাবার এই ডায়রেক্শন সর্বদা স্মরণে থাকে- হিয়ার নো ইভিল, টক্ নো ইভিল্...।

বরদান:-
পুরুষার্থের সূক্ষ্ম আলস্যকেও ত্যাগ করতে সমর্থ অলরাউন্ডার অ্যালার্ট ভব

পুরুষার্থে ক্লান্তি আসা হল আলস্যের লক্ষণ । আলস্য যাদের থাকে তারা শীঘ্রই ক্লান্ত হয়ে পড়ে, উৎসাহ-উদ্দীপনা যাদের থাকে তারা অক্লান্ত থাকে। পুরুষার্থ করতে করতে যারা মনমরা হয়ে পড়ে তাদেরই আলস্য আসে, তারা ভাবে কি করবো এতোটাই হতে পারে, বেশী হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সাহস নেই, চলছি তো, করছি তো - এখন এই সূক্ষ্ম আলস্যেরও নামমাত্রও-চিহ্ন যেন না থাকে, এর জন্য সর্বদা অ্যালার্ট, এভারেডি আর অলরাউন্ডার হয়ে ওঠো।

স্লোগান:-
সময়ের মহত্বকে সামনে রেখে সর্ব প্রাপ্তির খাতা ফুল(সম্পূর্ণ) জমা করো।