18-10-2020 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 07-04-86 মধুবন


*"তপস্বী-মূর্তি, ত্যাগমূর্তি, বিধাতাই বিশ্ব রাজ্য অধিকারী"*


আজ আধ্যাত্মিক বহ্নিশিখা তাঁর আধ্যাত্মিক বহ্নি-পতঙ্গদেরকে দেখছেন। সকল আধ্যাত্মিক বহ্নি-পতঙ্গ, বহ্নিশিখার সাথে মিলিত হওয়ার জন্য চতুর্দিক থেকে এসে পৌঁছেছে। আধ্যাত্মিক বহ্নিশিখার ভালোবাসার কথা কেবল আধ্যাত্মিক বহ্নিশিখা জানে আর আধ্যাত্মিক বহ্নি-পতঙ্গ জানে। বাপদাদা জানেন, সকল বাচ্চাদের অন্তরের স্নেহই আকৃষ্ট করে এই অলৌকিক মেলাতে সকলকে নিয়ে এসেছে। এই অলৌকিক মেলা অলৌকিক বাচ্চারা জানে আর বাবা জানে। দুনিয়ার কাছে এই মেলা হল গুপ্ত। যদি কাউকে বলো যে, রূহানী মেলাতে যাচ্ছি, তো সে কী ভাববে ? এই মেলা হল সদাকালের জন্য মালামাল বানানোর মেলা। বাপদাদা সকল বাচ্চাদের অন্তরের উৎসাহ উদ্দীপনাকে দেখতে পাচ্ছেন। প্রত্যেকের মনে স্নেহের সাগরের ঢেউ তরঙ্গায়িত হচ্ছে। এটা বাপদাদা দেখছেনও আর জানেন যে, এই ভালোবাসা বাচ্চাদেরকে বিঘ্ন বিনাশক বানিয়ে মধুবন নিবাসী বানিয়ে নিয়েছে। সকল কথা স্নেহতেই সমাপ্ত হয়ে গেছে । এভারেডির রিহার্সাল করে দেখিয়েছে। এভারেডি হয়ে গেছ, তাই না ! এও সুইট ড্রামার সুইট পার্ট, তা দেখে বাপদাদা আর ব্রাহ্মণ বাচ্চারা প্রফুল্লিত হচ্ছে। স্নেহের কারণে সবকিছুই সহজই মনে হয় আর প্রিয়ও অনুভূত হয় । এইরকম যে ড্রামা রচিত হয়েছে, বাঃ ড্রামা বাঃ! কতবার এই রকম দৌড়ে দৌড়ে এসেছ। ট্রেনে করে এসেছ নাকি ডানা মেলে উড়ে এসেছ। একেই বলা হয় - যেখানে হৃদয় রয়েছে, সেখানে অসম্ভবও সম্ভব হয়ে যায়। স্নেহের স্বরূপ তো দেখিয়েছ, এখন আগে এরপর কী করবে ? এখনও পর্যন্ত যা কিছু হয়েছে, তা তো শ্রেষ্ঠই হয়েছে এবং শ্রেষ্ঠই হবে।

এখন সময় অনুসারে সর্ব স্নেহী, সর্বশ্রেষ্ঠ বাচ্চাদের কাছে বাপদাদা বিশেষ কী চান ? এমনিতে তো সম্পূর্ণ সীজনেই সময়ে সময়ে বাপদাদা ইশারা দিয়েছেনই। এখন সেই ইশারা গুলিকে প্রত্যক্ষ রূপে দেখবার সময় আগত। তোমরা হলে স্নেহী আত্মা, সহযোগী আত্মা। সেবাধারী আত্মাও। এখন মহাতপস্বী আত্মা হও। তোমাদের সংগঠিত স্বরূপের তপস্যার অগ্নির (জ্বালা) দ্বারা সকল আত্মাদেরকে দুঃখ অশান্তির থেকে মুক্ত করবার মহান কার্য করবার সময় এখন। একদিকে যেমন বীভৎস হত্যা লীলা খেলার ঢেউ ক্রমবর্ধমান। সকল আত্মারা নিজেদেরকে নিরাশ্রয় অনুভব করছে। এইরকম সময়ে সকলকে আশ্রয়ের অনুভূতি করানোর নিমিত্ত তোমরা হলে মহাতপস্বী আত্মা । চতুর্দিকে এই তপস্বী স্বরূপের দ্বারা আত্মাদেরকে আধ্যাত্মিক নিশ্চিন্ততা অনুভব করাতে হবে। সমগ্র বিশ্বের আত্মারা প্রাকৃতিক কারণে, বায়ুমন্ডলের কারণে, মনুষ্য আত্মাদের কারণে, নিজেদের মনের নানান সমস্যার কারণে, শারীরিক কারণে অত্যন্ত অশান্তিতে রয়েছে। এইসব আত্মাদেরকে সুখ আর স্বস্তির এক সেকেন্ডের অনুভব যদি করাও, তবে তারা বারবার তোমাদেরকে অন্তর থেকে ধন্যবাদ জানাবে। বর্তমান সময়ে সংগঠিত রূপের জ্বালা স্বরূপের প্রয়োজন। এখন বিধাতার সন্তান বিধাতা স্বরূপে স্থিত থেকে, সব সময় দিতে থাকো। অখন্ড মহান লঙ্গরখানা লাগাও ।কেননা রয়্যাল ভিখারী অনেক রয়েছে। ধনের ভিখারীই কেবল ভিখারী হয় না, মনের ভিখারীও অনেক প্রকারের রয়েছে। অপ্রাপ্ত আত্মারা এক ফোঁটা প্রাপ্তির পিপাসার্থী, এমনও কম নেই। সেইজন্য এখন সংগঠনে বিধাতাভাবের তরঙ্গ ছড়িয়ে দাও। যে সম্পদ (খাজানা) জমা করেছ, মাস্টার বিধাতা হয়ে সে সব যত বেশী পরিমাণে দিতে থাকবে, ততই পূর্ণ হতে থাকবে। কত কিছু শুনেছো ! এখন হল করবার সময়। তপস্বী মূর্তির অর্থ হল - তপস্যা দ্বারা শান্তির শক্তির কিরণ চতুর্দিকে ছড়িয়ে যাচ্ছে এমন যেন অনুভব হয়। কেবল নিজের প্রতি স্মরণ স্বরূপ হয়ে শক্তি সেনার মিলন উদযাপন করা। সেটা হল অন্য ব্যাপার। বরং তপস্বী স্বরূপ হল অন্যদেরকে দেওয়ার স্বরূপ। সূর্য যেমন বিশ্বকে আলোকিত করে আর অসংখ্য বিনাশী প্রাপ্তির অনুভূতি করায়। তেমনই মহান তপস্বী রূপ দ্বারা প্রাপ্তির কিরণের অনুভূতি করাও। তার জন্য প্রথমে জমার খাতা বৃদ্ধি করো। এমন নয় যে স্মরণের দ্বারা কিম্বা জ্ঞানের মননের দ্বারা নিজেকে শ্রেষ্ঠ বানালে, মায়াজিৎ বিজয়ী বানালে, কেবল এতেই খুশি হয়ো না। বরং সকল সম্পদের দ্বারা সারাদিনে কত সংখ্যক আত্মার প্রতি বিধাতা হলে ? সকল সম্পদ প্রতিদিন কার্যে নিয়োজিত করলে, নাকি দেখে দেখেই খুশী থাকলে ? এখন এই চার্ট রাখো যে, খুশীর সম্পদ শান্তির সম্পদ, শক্তি সমূহের সম্পদ, জ্ঞানের সম্পদ, গুণাবলীর সম্পদ, সহযোগ প্রদান করার সম্পদ কতখানি বন্টন করেছ ? এর ফলে সেই কমন চার্ট যা কিনা প্রতিদিন রেখে থাকো, সেটি স্বতঃতই শ্রেষ্ঠ হয়ে যাবে। বুঝতে পেরেছ এখন কোন্ চার্ট রাখতে হবে ? এ হল তপস্বী স্বরূপের চার্ট - বিশ্ব কল্যাণকারী হও।অতএব, কতজনের কল্যাণ করেছ ! নাকি স্ব কল্যাণেই সময় অতিবাহিত হয়ে যাচ্ছে ? স্ব কল্যাণ করবার পিছনে সময় অনেকটাই দিয়েছ, এখন বিধাতা হওয়ার সময় এসে গেছে। সেইজন্য বাপদাদা পুনরায় সময়ের দিকে ইশারা করছেন। এখনও পর্যন্ত যদি বিধাতা ভাবের স্থিতির অনুভব না করে থাকো, তবে অনেক জন্ম বিশ্ব রাজ্য অধিকারী হওয়ার পদ্মাপদম ভাগ্যকে প্রাপ্ত করতে পারবে না। কেননা বিশ্বরাজন হলেন বিশ্বের মাতা - পিতা অর্থাৎ বিধাতা । বর্তমানের বিধাতাভাবের সংস্কার অনেক জন্মের প্রাপ্তি করাতে থাকবে। এখনও পর্যন্ত যদি নেওয়ার সংস্কার যে কোনো রূপে থাকে, তবে নাম হয়ে যাবে লেবতা (দেবতা = দাতা, লেবতা = গ্রহীতা) । গৌরব, লেবতা বা কোনো প্রকারের লেবতার সংস্কার বিধাতা কখনোই বানাবে না।

তপস্যা স্বরূপ অর্থাৎ লেবতার ত্যাগ মূর্তি ।এই সীমিত জিনিসের লেবতা, ত্যাগমূর্তি, তপস্বী মূর্তি হতে দেয় না। সেইজন্য তপস্বী মূর্তি অর্থাৎ সীমিত জিনিসের ইচ্ছা মাত্রম্ অবিদ্যা রূপ। যে নেওয়ার কথা ভাবে, সে অল্পকালের জন্য নিচ্ছে, কিন্তু চিরকালের জন্য হারাচ্ছে। সেইজন্য বাপদাদা বারবার এই বিষয়েই ইশারা দিচ্ছেন। তপস্বী রূপে বিশেষ বিঘ্ন রূপ হল এটাই - অল্প কালের ইচ্ছা। সেইজন্য এখন বিশেষ ভাবে তপস্যার অভ্যাস করো। সমান হওয়ার এই প্রমাণ এখন দেখাতে হবে। স্নেহের প্রমাণ দেখিয়েছ। সে তো আনন্দের কথা। এখন তপস্বী মূর্তি হওয়ার প্রমাণ দাও। বুঝতে পেরেছ ? ভ্যারাইটি সংস্কার থাকা সত্ত্বেও বিধাতা ভাবের সংস্কার অন্য সব সংস্কার গুলিকে চাপা দিয়ে দেবে। তাই এখন এই সংস্কারকে ইমার্জ করো। যেমন মধুবনে ছূটে চলে এসেছ, ঠিক তেমনি তপস্বী স্থিতির লক্ষ্যে ছুটে যাও। আচ্ছা, এসেছ খুব ভালো। সকলে এমন ভাবে ছুটে এসেছে যেন এখনই বিনাশ হবে। যা কিছুই করেছ, যা কিছুই হয়েছে, বাপদাদার খুব পছন্দ হয়েছে। কারণ বাচ্চারাই যে বাপদাদার প্রিয়। প্রত্যেকে এটাই ভেবেছে যে, আমি যাচ্ছি। কিন্তু অন্যরাও যে আসছে এটা কেউ ভাবছে না। সত্যিকারের কুম্ভ মেলা তো এখানেই লেগেছে। এখন অন্তিম মিলন, অন্তিম ডুব দিতে এসেছে। এটাই ভেবেছে, এত এত সংখ্যায় যাচ্ছে, মিলন কী করে সম্ভব হবে ? এই সুধ-বুধও চলে গেছে। না স্থান আছে দেখেছে, না রিজার্ভেশন আছে কিনা দেখেছে। এরপর কখনোই আর এই অজুহাত দিতে পারবে না যে, রিজার্ভেশন পাইনি। ড্রামাতে এও একটা রিহার্সাল হয়ে গেল। সঙ্গমযুগে তোমাদের রাজত্ব নেই। স্বরাজ রয়েছে। কিন্তু ধরিত্রীর রাজত্বও নেই, বাপদাদার নিজের রথও নেই। পরের তনে আসতে হয়। সেইজন্য সময়ানুসারে নতুন বিধির সূচনা করবার জন্য এই সীজনটাই হয়ে গেল। এখানে তো জলের কথা ভাবতে হয় (shortage) । সেখানে তো ঝর্ণার জলে স্নান করবে। যারাই এসেছ, যত সংখ্যক এসেছ, বাপদাদা স্নেহের রেসপন্সে স্নেহের দ্বারা স্বাগত জানাচ্ছেন।

এখন সময় দেওয়া হয়েছে বিশেষ ফাইনাল পরীক্ষার পূর্বের প্রস্তুতির জন্য। ফাইনাল পরীক্ষার পূর্ব ছুটি দেওয়া হয় তাই না ! তো বাপদাদা অনেক রহস্য পূর্ণ এই বিশেষ সময় দিচ্ছেন। কিছু রহস্য গুপ্ত, কিন্তু হল প্রত্যক্ষ। কিন্তু বিশেষ ভাবে প্রত্যেকে এই অ্যাটেনশন রাখবে যে, সদা 'বিন্দু' লাগাতে হবে, অর্থাৎ বিগতকে পূর্ণ যতি দিতে হবে। আর বিন্দু স্থিতিতে স্থিত হয়ে রাজ্য অধিকারী হয়ে কার্য করতে হবে। সর্ব সম্পদের 'বিন্দু' সকলের প্রতি বিধাতা হয়ে, সিন্ধু হয়ে সকলকে ভরপুর বানাতে হবে। তো 'বিন্দু' আর 'সিন্ধু' এই দুটি বিষয় স্মৃতিতে রেখে শ্রেষ্ঠ সার্টিফিকেট নিতে হবে। সর্বদা শ্রেষ্ঠ সংকল্পের সফলতার দ্বারা এগিয়ে যেতে হবে। তো "বিন্দু হওয়া, সিন্ধু হওয়া", এটাই সফল বাচ্চাদের প্রতি বরদাতার বরদান । বরদান নেওয়ার জন্য ছুট লাগিয়েছ, তাই না ! বরদাতার বরদানকে স্মৃতিতে রাখবে। আচ্ছা।

চতুর্দিকের সর্ব স্নেহী, সহযোগী বাচ্চাদেরকে, সদা বাবার আজ্ঞা পালনকারী আজ্ঞাকারী বাচ্চাদেরকে, সদা উদারচিত্ত, বড় মনের, সকলকে সর্ব সম্পদ বন্টনকারী, মহান পুণ্য আত্মা বাচ্চাদেরকে সদা বাবা সম হওয়ার উৎসাহ উদ্দীপনার দ্বারা উড়তি কলায় উড়তে থাকা বাচ্চাদেরকে বিধাতা, বরদাতা সর্ব সম্পদের (খাজানার) সিন্ধু বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর নমস্কার।

*অব্যক্ত বাপদাদার সাথে পার্টিদের সাক্ষাৎকার -*

*১ )* নিজেকে পদ্মাপদম (লক্ষ কোটি গুণ) ভাগ্যবান অনুভব করো ? কেননা প্রদাতা বাবা, এত পরিমাণ দেন যে, এক জন্ম তো ভাগ্যবান হয়ে যাওই, অনেক জন্ম পর্যন্ত এই অবিনাশী ভাগ্য চলতে থাকবে। এমন অবিনাশী ভাগ্য কখনো স্বপ্নেও ভেবেছিলে কী ? অসম্ভব মনে হত না কী ? কিন্তু সম্ভব হয়ে গেছে। তো এমন শ্রেষ্ঠ আত্মা আমরা - এই আনন্দ থাকে ? কখনো কখনো পরিস্থিতিতে খুশী গায়েব হয়ে যায় না তো ? কেননা বাবার থেকে খুশীর খাজানা রোজ প্রাপ্ত হয় । তাই যে জিনিস রোজ পাওয়া যায়, সে তো বাড়বেই, তাই না ! কখনোই খুশী কম হতে পারে না। কেননা আনন্দের সাগরের থেকে প্রাপ্ত হতেই থাকে। অনন্ত সম্পদ। কখনোই কোনো কিছুতে চিন্তিত থাকে, এমন নয়। প্রপার্টির কী হবে ? পরিবারের কী হবে ? এই চিন্তাই করে না। নিশ্চিন্ত (বেফিকর) । পুরানো দুনিয়ার কী হবে ! পরিবর্তন হবে তো ? পুরানো দুনিয়াতে যত শ্রেষ্ঠ জিনিসই থাকুক, সব তো পুরানোই । সেইজন্য নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে। কী জানি আজ আছে, কাল থাকবে কী থাকবে না - এই চিন্তাও নেই। যা হবে ভালোই হবে। ব্রাহ্মণদের জন্য সব কিছুই ভালো। কোনো কিছুই খারাপ নয়। তোমরা তো হলে আগেই বাদশাহ। এখনও বাদশাহ। ভবিষ্যতেও বাদশাহ। যখন সব সময়ের বাদশাহ হয় গেছ, এমন বাদশাহী, যা কিনা কেউই ছিনিয়ে নিতে পারে না। বন্দুকের জোরেও কেউ এই বাদশাহী উড়িয়ে নিতে পারে না। এই খুশী যেন সর্বদা থাকে আর অন্যদেরকেও দিতে থাকো। অন্যদেরকেও নিশ্চিন্ত বাদশাহ বানাও। আচ্ছা ।

*২ )* সর্বদা নিজেকে বাবার স্মরণের ছত্রছায়াতে থাকা শ্রেষ্ঠ আত্মা অনুভব করো ? এই স্মরণের ছত্রছায়া সকল বিঘ্নের থেকে সেফ করে দেয়। কোনো প্রকারেরই বিঘ্ন ছত্রছায়ার নীচে যারা থাকে, তাদের কাছে আসতে পারে না। ছত্রছায়াতে যারা থাকে, তারা নিশ্চিত বিজয়ীই হয়। তাহলে এমন হয়েছ ? ছত্রছায়াতে যদি সংকল্প রূপী চরণও বাইরে প্রসারিত হয়ে যায়, তবে মায়া প্রহার করতে উদ্যত হয়ে যাবে। যে পরিস্থিতিই আসুক, ছত্রছায়ায় যারা থাকে, তাদের কাছে কঠিন থেকে কঠিনতম বিষয়ও সহজ হয়ে যায়। পাহাড় সম বিষয় সর্ষে সম অনুভূত হবে। এমনই কামাল হল ছত্রছায়ার। যখন এইরূপ ছত্রছায়া প্রাপ্ত হয়, তখন কী করা উচিত ? অল্প কালের যে কোনো জিনিসের আকর্ষণই থাকুক না কেন, যদি ছত্রছায়ার বাইরে যায় তো গেল। সেইজন্য তোমরা অল্পকালের আকর্ষণের সম্বন্ধেও জেনে গেছ। এই সব আকর্ষণের থেকে সব সময় দূরে থাকবে। সীমিত জিনিসের প্রাপ্তি তো এই এক জন্মে সমাপ্ত হয়ে যাবে । কিন্তু অসীমের প্রাপ্তি সর্বদা সাথে থাকে। অতএব অসীমের প্রাপ্তি যারা করে অর্থাৎ ছত্রছায়ার নীচে যারা থাকে, তারা হল বিশেষ আত্মা, সাধারণ নয়। এই স্মৃতি সব সময়ের জন্য শক্তিশালী বানিয়ে দেবে। হারানিধি, আদরের যারা, তারা সর্বদা ছত্রছায়ার মধ্যে থাকে। *স্মরণই হল ছত্রছায়া।* এই ছত্রছায়ার থেকে সংকল্প রূপী চরণও যদি বাইরে প্রসারিত করো, তবে মায়া এসে যাবে। এই ছত্রছায়া মায়াকে সামনে আসতে দেয় না। মায়ার ক্ষমতা নেই - ছত্রছায়ার মধ্যে আসার। তারা সর্বদা মায়ার উপরে বিজয়ী হয়ে যায়। বাবার বাচ্চা হওয়া অর্থাৎ ছত্রছায়ার মধ্যে থাকা। এও বাবারই ভালোবাসা যে, সব সময় বাচ্চাদেরকে ছত্রছায়ার নীচে রাখেন। অতএব এই বিশেষ বরদান স্মরণে রাখবে যে, আদরের হয়ে গেছ, ছত্রছায়া পেয়ে গেছ। এই বরদান সর্বদা তোমাদেরকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

*বিদায় নেওয়ার সময় :*

সকলে জাগরণ করেছ। তোমাদের ভক্তরা জাগরণ করে, ভক্তদেরকে তো তোমরাই শিখিয়ে থাকো, তাদের ইষ্টদেব হও তোমরা।যখন এখানে ইষ্টদেব জাগরণ করবে, তখন ভক্তরাও কপি করবে। তাই তোমরা সকলে জাগরণ করেছ, অর্থাৎ নিজের খাতায় উপার্জন জমা করেছ। অতএব আজকের রাত উপার্জনের সীজনের রাত হয়ে গেল। যেমন ইনকাম করবার সীজন আসে, তখন সেই সময় জাগতে হয়। তো এ হল উপার্জন করবার সীজন । সেইজন্য জেগে থাকা অর্থাৎ ইনকাম করা। তো প্রত্যেকে নিজের নিজের যথাশক্তি জমা করেছ আর জমাকে মহাদানী হয়ে সকলকেও যদি দিতে থাকো, তবে নিজেও অনেক জন্ম ধরে খেতে থাকবে। এখন সকল বাচ্চাদেরকে পরমাত্ম মেলার গোল্ডেন চান্সের গোল্ডেন মর্নিং করছেন। এমনিতে তো গোল্ডেনের থেকেও এ হল ডায়মন্ড মর্নিং। তোমরা নিজেরাও হলে ডায়মন্ড আর মর্নিংও হল ডায়মন্ড এবং জমাও ডায়মন্ডই করছো। তাহলে সবই ডায়মন্ডই ডায়মন্ড। সেইজন্য ডায়মন্ড মর্নিং করছেন। আচ্ছা।

বরদান:-
সংকল্পকেও চেক করে ব্যর্থের খাতাকে সমাপ্তকারী শ্রেষ্ঠ সেবাধারী ভব

শ্রেষ্ঠ সেবাধারী সে'ই, যার প্রতিটি সংকল্প পাওয়ারফুল হবে। একটি সংকল্পও কোথাও ব্যর্থ না যায়। কেননা সেবাধারী অর্থাৎ বিশ্বের স্টেজে ভূমিকা পালনকারী (অ্যাক্ট) । সমগ্র বিশ্ব তোমাদেরকে কপি করে। যদি তোমরা একটিও ব্যর্থ সংকল্প করেছো, তবে কেবল নিজের জন্যই ব্যর্থ করে ফেললে না বরং অনেকের ব্যর্থের নিমিত্ত হয়ে যাবে। সেইজন্য এখন ব্যর্থের খাতাকে সমাপ্ত করে শ্রেষ্ঠ সেবাধারী হও।

স্লোগান:-
সেবার ভাইব্রেশনের সাথে সাথে অসীম জগতের বৈরাগ্য বৃত্তির বায়ুমন্ডল বানাও।


*সূচনাঃ-*
আজ মাসের তৃতীয় রবিবার, সব রাজযোগী তপস্বী ভাই বোনেরা, সন্ধ্যা ৬ :৩০ থেকে ৭ : ৩০ পর্যন্ত বিশেষ যোগ অভ্যাসের সময় মাস্টার সর্বশক্তিমানের শক্তিশালী স্বরূপে স্থিত হয়ে প্রকৃতি সহ সকল আত্মাদেরকে পবিত্রতার কিরণ দাও। সতোপ্রধান বানানোর সেবা করো।