18.11.2019 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - মিষ্টি বাচ্চারা - লৌকিক জগতের এই সংসারের অপ্রয়োজনীয় কথায় নিজের সময় নষ্ট কোরো না, তোমাদের বুদ্ধিতে যেন সর্বদা রাজকীয় চিন্তন চলতে থাকে।

প্রশ্নঃ -
কোন্ বাচ্চারা বাবার প্রতিটি নির্দেশকে অভ্যাসে আনতে পারে ?

উত্তরঃ -
যারা অন্তর্মুখী, যারা নিজেদের প্রদর্শন করায় না, যারা আত্মিক নেশায় থাকে, তারাই বাবার প্রতিটি নির্দেশকে অভ্যাসে আনতে পারে । তোমাদের কখনোই মিথ্যা অহংকার আসা উচিত নয় । অন্তরের স্বচ্ছতা যেন বজায় থাকে । আত্মা যেন খুব সুন্দর হয়, এক বাবার প্রতিই তার যেন প্রকৃত প্রেম থাকে । কখনোই নুনজল অর্থাৎ ক্ষারের সংস্কার যেন না থাকে । তখনই বাবার প্রতিটি নির্দেশ অভ্যাসে পরিণত হবে ।

ওম্ শান্তি ।
বাচ্চারা কেবল স্মরণের যাত্রাতেই বসে নেই । বাচ্চাদের এই নেশা আছে যে, আমরা শ্রীমতে নিজেদের পরীস্থান স্থাপন করছি । তোমাদের এতটাই উৎসাহ আর খুশী থাকা উচিত । আবর্জনার সমস্ত অপ্রয়োজনীয় কথা বের হয়ে যাওয়া উচিত । অসীম জগতের বাবাকে দেখে উল্লাস আসা উচিত । তোমরা যত স্মরণের যাত্রায় থাকবে, ততই তোমাদের উন্নতি হতে থাকবে । বাবা বলেন যে, বাচ্চাদের জন্য আত্মিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া উচিত । তোমাদের হলো ওয়ার্ল্ড স্পিরিচুয়াল ইউনিভার্সিটি । তাহলে ওই ইউনিভার্সিটি কোথায় ? ইউনিভার্সিটি বিশেষভাবে স্থাপন করা হয় । এর সাথে অনেক বড় রাজকীয় হোস্টেলের প্রয়োজন । তোমাদের চিন্তাধারা কতো রাজকীয় হওয়া উচিত । বাবার তো রাতদিন এই খেয়ালই থাকে - বাচ্চাদের কিভাবে পড়িয়ে এই বড় পরীক্ষায় পাস করাবে ? যাতে এরা আবার বিশ্বের মালিক হতে পারে । প্রকৃতপক্ষে তোমাদের আত্মা শুদ্ধ সতোপ্রধান ছিলো তাই শরীরও কতো সুন্দর সতোপ্রধান ছিলো । তোমাদের রাজত্বও কতো উচ্চ ছিলো । তোমাদের এই লৌকিক সংসারের আবর্জনার কথায় অনেক সময় নষ্ট হয় । তোমাদের মতো ছাত্রদের অন্তরে এই আবর্জনার খেয়াল থাকা উচিত নয় । কমেটি ইত্যাদি তো খুব সুন্দর - সুন্দর তৈরী করা হয় কিন্তু যোগবল নেই । অনেক গালগল্প করে ---আমরা এই করবো, ওই করবো । মায়াও বলে, আমি এর নাক পাকড়ে ধরবো । এদের বাবার প্রতি কোনো প্রেমই থাকে না । বলা হয় না - মানুষ চায় এক, হয় অন্যকিছু - তো মায়াও কিছু করতে দেয় না । মায়া অনেক ঠকায়, কানও কেটে নেয় । বাবা বাচ্চাদের কতো উচ্চ তৈরী করেন, তিনি নির্দেশও দেন -- এই এই করো । বাবা অনেক রাজকীয় বাচ্চাদের পাঠিয়ে দেন । কেউ কেউ বলে, বাবা, আমি ট্রেনিং নিয়ে যাবো ? বাবা বলেন, বাচ্চারা, তোমরা প্রথমে নিজের দুর্বলতা তো দূর করো । নিজেদের দেখো যে, আমাদের মধ্যে কতো অপগুণ আছে ? খুব ভালো ভালো মহারথীদেরও মায়া একদম নুন - জল করে দেয় । এমন ক্ষার বাচ্চারা কখনোই বাবাকে স্মরণ করে না । তারা জ্ঞানের গ-ও জানে না । তারা বাইরের প্রদর্শন অনেকই করে । এতে অনেক অন্তর্মুখী হওয়ার প্রয়োজন, কিন্তু কারোর - কারোর তো এমন চালচলন হয় যে, যেন অশিক্ষিত মানুষ । সামান্য অর্থ হলেই তাদের সেই নেশা চড়ে যায় । এ কথা বুঝতেই পারে না যে, আরে, আমরা তো কাঙ্গাল । মায়া তাদের বুঝতেই দেয় না । মায়া খুবই জোরদার । বাবা সামান্য গুণগান করলেই তাতে খুব খুশী হয়ে যায় ।

বাবার তো রাতদিন এই চিন্তাই থাকে যে, ইউনিভার্সিটি খুবই এক নম্বর হওয়া উচিত, যেখানে বাচ্চারা খুব ভালোভাবে পড়তে পারবে । তোমরা জানো যে, আমরা স্বর্গে যাচ্ছি, তাই খুশীর পারদ চড়ে থাকা উচিত, তাই না । এখানে বাবা নেশা চড়ানোর জন্য নানা ধরণের ডোজ দেন । কেউ যদি দেউলিয়া হয়ে যায়, তাকে মদ্যপান করালে মনে করবে, আমি বাদশাহ । নেশা ছেড়ে গেলে আবার যেমন ছিলো তেমন হয়ে যাবে । এখন এ তো হলো আত্মিক নেশা । তোমরা জানো যে, অসীম জগতের পিতা শিক্ষক হয়ে আমাদের পড়ান, আর নির্দেশ দেন -- তোমরা এমন - এমন করো । কোনো - কোনো সময়ে কারোর মিথ্যা অহংকারও এসে যায় । এ তো মায়া, তাই না । এমন - এমন কথা বানায় যে, সেকথা জিজ্ঞেস কোরো না । বাবা বুঝতে পারেন, এ এই পথে চলতে পারবে না । অন্তরের অনেক স্বচ্ছতার প্রয়োজন । আত্মাও অনেক সুন্দর হওয়ার প্রয়োজন । তোমাদের তো প্রেমের বিবাহ হয়েছে, তাই না । প্রেমের বিবাহে কতো ভালোবাসা থাকে, আর ইনি তো পতিরও পতি । তাও কতজনের এই প্রেমের বিবাহ হয় । একজনের তো হয়ই না । সকলেই বলে, আমার তো শিববাবার সঙ্গে বিবাহ চুক্তি হয়ে গেছে । আমি তো স্বর্গে গিয়ে বসবো । এ তো খুশীর কথা, তাই না । মনে তো এই কথা আসা উচিত যে, বাবা আমাদের কতোভাবে সাজান । শিববাবা এনার দ্বারা তোমাদের শৃঙ্গার করান । তোমাদের বুদ্ধিতে এই কথা আছে যে, আমরা বাবাকে স্মরণ করতে করতে সতোপ্রধান হয়ে যাবো । এই জ্ঞানকে আর কেউই জানে না । এতে অনেক নেশা থাকে । এখনো এতো তীব্র নেশা চড়ে নি । তবে তা অবশ্যই হতে হবে । এমন গানও আছে যে, অতীন্দ্রিয় সুখ গোপ - গোপীদের জিজ্ঞাসা করো । তোমাদের আত্মা এখন কতো ছিঃ ছিঃ । যেন অনেক ছিঃ ছিঃ আবর্জনার মধ্যে বসে আছে । বাবা এসে এদের পরিবর্তন করান, নবজীবন প্রদান করেন । মানুষ যখন গ্ল্যান্ড চেঞ্জ করায়, তখন কতো খুশী হয় । তোমরা তো এখন বাবাকে পেয়েছো, তোমাদের তো তরী পার হয়েই গেছে । তোমরা মনে করো, আমরা যখন অসীম জগতের বাবার হয়েছি, তখন আমাদের কতো শীঘ্র পরিবর্তন হওয়ার প্রয়োজন । রাতদিন যেন এই খুশী, এই চিন্তন থাকে যে --তোমরা দেখো সেনাপতি হিসাবে কাকে পেয়েছো । রাতদিন এই খুশীতে থাকতে হয়। যারা খুব ভালোভাবে বুঝতে পারে, চিনতে পারে, তারা তো যেন উড়তে থাকে ।

বাচ্চারা, তোমরা এখন সঙ্গম যুগে রয়েছো । বাকি এরা সবাই তো আবর্জনায় পড়ে আছে । যেমন আবর্জনার ধারে ঝুপড়ি তৈরী করে সেই আবর্জনাতেই বসে থাকে, তাই না । কতো কাদামাটি আবর্জনা হয়ে থাকে । এ তো হলো অসীম জগতের কথা । এখন এর থেকে বের হওয়ার জন্য শিববাবা তোমাদের অনেক সহজ যুক্তি বলে দেন । মিষ্টি - মিষ্টি বাচ্চারা, তোমরা তো জানো, এইসময় তোমাদের আত্মা এবং শরীর দুইই পতিত । এখন তোমরা তার থেকে বেরিয়ে এসেছো । যারা যারা বেরিয়ে এসেছে, তাদের মধ্যে জ্ঞানের পরাকাষ্ঠা আছে, তাই না । তোমরা তো বাবাকে পেয়েছো, আর কি ? এই নেশা যখন চড়বে, তখনই তোমরা কাউকে বোঝাতে পারো । বাবা এখন এসেছেন । বাবা আমাদের আত্মাকে পবিত্র করে দেন । আত্মা পবিত্র হলে তখন শরীরও একনম্বর পাওয়া যায় । তোমাদের আত্মা এখন কোথায় বসে আছে ? এই শরীরে বসে আছে । এই দুনিয়া তো তমোপ্রধান, তাই না । সকলেই আবর্জনার ধারে এসে বসে আছে । তোমরা বিচার করো যে, আমরা কোথা থেকে বের হয়ে এসেছি । বাবা আমাদের দুর্গন্ধের নর্দমা থেকে বের করেছেন । এখন আমাদের আত্মা স্বচ্ছ হয়ে যাবে । যারা ওখানে থাকবে, তারা এক নম্বর মহল তৈরী করবে । বাবা আমাদের আত্মাকে শৃঙ্গার করে স্বর্গে নিয়ে যাচ্ছেন । বাচ্চাদের ভিতরে এমন - এমন খেয়াল আসা উচিত । বাবা কতো নেশা চড়িয়ে দেন । তোমরা এতো উচ্চ ছিলে, তারপর নামতে নামতে নীচে এসে পড়েছো । তোমরা যখন শিবালয়ে ছিলে, তখন তোমাদের আত্মা কতো শুদ্ধ ছিলো । তাই নিজেদের মধ্যে মিলেমিশে খুব শীঘ্রই শিবালয়ে যাওয়ার উপায় করা উচিত ।

বাবার তো আশ্চর্য লাগে ---বাচ্চাদের সেই বুদ্ধি নেই । বাবা আমাদের কোথা থেকে বের করেন । এই পাণ্ডব গভর্নমেন্ট বাবাই স্থাপন করেন । যে ভারত একদিন স্বর্গ ছিলো তা আজ নরক হয়ে গেছে । এ আত্মারই কথা । আত্মার উপরই দুঃখ আসে । আত্মা একদম তমোপ্রধান দুনিয়ায় এসে বসেছে, তাই বাবাকে স্মরণ করে -- বাবা, আমাকে ওখানে নিয়ে যাও । এখানে বসেও তোমাদের এই খেয়ালই চলা উচিত, তাই বাবা বলেন, বাচ্চাদের জন্য একনম্বর ইউনিভার্সিটি বানাও । কল্প - কল্প এমন তৈরী হয় । তোমাদের চিন্তাধারা চমকপ্রদ হওয়া উচিত । এখনো তোমাদের সেই নেশা হয় নি । তেমন নেশা হলে কি জানি কি করে দেখাতে । বাচ্চারা ইউনিভার্সিটির অর্থ বুঝতে পারে না । সেই রাজকীয় নেশায় তারা থাকে না । তাদের উপর মায়া চেপে বসে আছে । বাবা বোঝান, বাচ্চারা, তোমরা উল্টো নেশা বৃদ্ধি করো না । প্রত্যেকে নিজেদের যোগ্যতা দেখো । আমরা কিভাবে পড়াশোনা করি, কিভাবে সেবা বা সাহায্য করি -- কেবল কথার ফুলুরি খেলে চলবে না । যা বলো, তাই করতে হবে । কোনো গল্প নয় যে, এমন করবো - তেমন করবো । আজ বলবে, এই করবো, কাল মৃত্যু আসবে তো সব শেষ হয়ে যাবে । সত্যযুগে তো কেউ এমন কথা বলবে না । ওখানে কখনোই অকালমৃত্যু হয় না । কাল ওখানে আসতে পারে না । সে হলো সুখধাম । সুখধামে কালের আসার অনুমতি নেই । রাবণ রাজ্য আর রাম রাজ্যের অর্থও বুঝতে হবে । এখন তোমাদের লড়াই হলো রাবণের সঙ্গে । দেহ - অভিমানও জাদু করে দেয়, যা সম্পূর্ণ পতিত বানিয়ে দেয় । দেহী অভিমানী হলে আত্মা শুদ্ধ হয়ে যায় । তোমরা তো বুঝতে পারো যে, ওখানে আমাদের কেমন মহল তৈরী হবে । তোমরা তো এখন সঙ্গম যুগে এসে গেছো । নম্বরের ক্রমানুসারে তোমরা নিজেদের পরিবর্তন করছো, যোগ্যও তৈরী হচ্ছো । তোমাদের আত্মা পতিত হওয়ার কারণে তোমরা এই শরীরও পতিত পেয়েছো । আমি এখন এসেছি তোমাদের স্বর্গবাসী করার জন্য । তাই স্মরণের সঙ্গে সঙ্গে দৈবী গুণেরও প্রয়োজন । এ তো মাসির বাড়ি নয় । তোমরা বুঝতে পারো যে, বাবা এসেছেন আমাদের নর থেকে নারায়ণ তৈরী করতে কিন্তু মায়ার সঙ্গে গুপ্ত মোকাবিলা থাকে । তোমাদের লড়াই হলো গুপ্ত তাই তোমাদের অজ্ঞাত যোদ্ধা বলা হয় । অজ্ঞাত যোদ্ধা আর কেউই হয় না । তোমাদের নামই হলো যোদ্ধা । আর তো সকলের নাম রেজিস্টারে নেই । তোমাদের মতো অজ্ঞাত যোদ্ধাদের নিদর্শন ওরা নিয়েছে । তোমরা কতটা গুপ্ত, কেউই তা জানে না । মায়াকে বশীভূত করে তোমরা এই বিশ্বকে জয় করছো । তোমরা বাবাকে স্মরণ করো কিন্তু মায়া তোমাদের ভুলিয়ে দেয় । কল্প - কল্প তোমরা নিজেদের রাজ্য স্থাপন করো । তাই তোমরাই হলে সেই অজ্ঞাত যোদ্ধা যারা বাবাকে স্মরণ করো । এই যুদ্ধে তোমরা হাত - পা কিছুই চালাও না । এই স্মরণের জন্য বাবা অনেক যুক্তি বলে দেন । চলতে - ফিরতে তোমরা এই স্মরণের যাত্রা করো, আমার এই ঈশ্বরীয় পাঠও করো । এখন তোমরা বুঝতে পারো যে, আমরা কি ছিলাম আর এখন কি হয়েছি । আর বাবা এখন আমাদের কি তৈরী করছেন । তিনি কতো সহজ যুক্তি বলে দেন । তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, বাবাকে স্মরণ করো, তো তোমাদের জং দূর হয়ে যাবে । বাবা কল্প - কল্প এই যুক্তি বলে দিতে থাকেন । নিজেদের আত্মা মনে করে বাবাকে যদি স্মরণ করো তাহলে তোমরা সতোপ্রধান হবে, এখানে আর কোনো বন্ধন নেই । বাথরুমে গিয়েও যদি নিজেকে আত্মা মনে করে বাবাকে স্মরণ করো তো আবর্জনা দূর হয়ে যাবে । আত্মাকে কোনো তিলক লাগাতে হয় না, এ সব তো ভক্তিমার্গের নিদর্শন । এই জ্ঞান মার্গে এর কোনো দরকার নেই, এক পয়সারও খরচ নেই । তোমরা ঘরে বসে স্মরণ করতে থাকো । এ কতো সহজ । ওই বাবা আমাদের যেমন বাবা, আবার শিক্ষক এবং সদগুরুও ।

প্রথমে বাবাকে স্মরণ, তারপর শিক্ষক এবং গুরুকে, নিয়ম এমনই বলে । শিক্ষককে তো অবশ্যই স্মরণ করবে, তাঁর থেকে শিক্ষা পাওয়া যায় আর বানপ্রস্থ অবস্থাতে গুরু করা হয় । বাবা তো সব হোলসেলে দিয়ে দেন । তোমাদের ২১ জন্মের রাজত্ব তিনি হোলসেলে দিয়ে দেন । বিয়েতে মেয়েকে পণ তো গুপ্তভাবে দেওয়া হয়, তাই না । প্রদর্শন করানোর প্রয়োজন হয় না । বলা হয় গুপ্ত দান । শিববাবাও তো গুপ্ত, তাঁর মধ্যে অহংকারের কোনো কথাই নেই । কারোর কারোর অহংকার থাকে যে, সবাই সব জানুক । এখানে হলো সবই গুপ্ত । বাবা তোমাদের যৌতুকে এই বিশ্বের বাদশাহী দেন । কতো গুপ্তভাবে তোমাদের এই শৃঙ্গার হচ্ছে । তোমরা কতো বড় যৌতুক পাও । বাবা কি করে যুক্তি দিয়ে তা দেন, কেউই তা জানতে পারে না । এখানে তোমরা ভিখারি, পরের জন্মে সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মাবে । তোমরা তো স্বর্ণ যুগে যাও, তাই না । ওখানে সবকিছুই সোনার থাকবে । বিত্তবানদের মহল সোনায় খচিত হবে । তফাৎ তো অবশ্যই থাকবে । তোমরা এও বুঝতে পারো - মায়া তোমাদের উল্টো ঝুলিয়ে দেয় । এখন বাবা যখন এসেছেন তখন বাচ্চাদের মধ্যে কতো উৎসাহ থাকা উচিত তবুও মায়া সব ভুলিয়ে দেয় -- এ বাবার নির্দেশ নাকি ব্রহ্মার ? ভাইয়ের নির্দেশ নাকি বাবার ? এতেই অনেক দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে যায় । বাবা বলেন, ভালো বা খারাপ যাই হোক -- তোমরা বাবার নির্দেশই মনে করো । এই নির্দেশে তোমাদের চলতে হবে । এতে কোনো ভুল হয়ে গেলেও নির্ভুল করে দেবে । তাঁর মধ্যে শক্তি তো আছে, তাই না । তোমরা দেখো যে, ইনি কিভাবে চলছেন, এনার মাথার উপরে কে বসে আছে । একদম কোলে বসে আছে । গুরুরা তো কোলে বসিয়েই শেখান, তাই না । তাও এনাকে পরিশ্রম করতে হয় । তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হতে পুরুষার্থ করতে হয় ।

বাবা বলেন, তোমরা আমাকে স্মরণ করে ভোজন প্রস্তুত করো । শিববাবার স্মরণে প্রস্তুত ভোগ আর কেউই পেতে পারে না । এখনকার ভোগেরও অনেক মহিমা । ওই ব্রাহ্মণরা যদিও অনেক স্তুতি করে কিন্তু অর্থ কিছুই বোঝে না । যা মহিমা করে, তা কিছুই বোঝে না । তবে এটা বোঝা যায় যে, এরা ধর্মপ্রাণ কেননা এরা পূজারী । আর ওখানে তো ধর্মপ্রাণের বিষয়ই থাকে না কেননা ওখানে ভক্তিই থাকে না । এও কেউ জানে না যে, ভক্তি কি জিনিস । মানুষ বলে - জ্ঞান, ভক্তি, বৈরাগ্য । একনম্বর কথা । জ্ঞান হলো দিন আর ভক্তি রাত । রাত থেকে তো আবার বৈরাগ্য দিনে চলে যায় । এ কতো পরিষ্কার কথা । এখন তোমরা যখন বুঝতে পেরেছো তখন তোমাদের আর ধাক্কা খেতে হয় না ।

বাবা বলেন - তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমি তোমাদের এই বিশ্বের মালিক বানাই । আমি তোমাদের এই অসীম জগতের পিতা, এই সৃষ্টির চক্র জানাও কতো সহজ । তোমরা বীজ আর বৃক্ষকে স্মরণ করো । এখন কলিযুগের অন্তিম সময় এরপর সত্যযুগকে আসতে হবে । এখন তোমরা এই সঙ্গম যুগে ফুলে পরিণত হও । আত্মা যখন সতোপ্রধান হয়ে যাবে তখন থাকার জন্যও সতোপ্রধান মহল পাবে । এই দুনিয়াই নতুন হয়ে যায় । তাই বাচ্চাদের কতটা খুশীতে থাকা উচিত । আচ্ছা ।

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) সদা এই নেশা যেন থাকে যে, আমরা শ্রীমতে চলে নিজেদের পরীস্থান স্থাপন করছি । বাহ্যিক আবর্জনা মূলক বিষয়কে ত্যাগ করে উল্লাসে থাকতে হবে ।

২ ) নিজের চিন্তাধারা খুব রাজকীয় রাখতে হবে । খুব ভালো রাজকীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং হোস্টেল খোলার আয়োজন করতে হবে । বাবার গুপ্ত সাহায্যকারী হতে হবে, নিজেকে প্রদর্শন করবে না ।

বরদান:-
জ্ঞান সম্পন্ন দাতা হয়ে সর্ব আত্মাদের প্রতি শুভচিন্তাক হয়ে শ্রেষ্ঠ সেবাধারী ভব

শুভ চিন্তক হওয়ার বিশেষ আধার হলো শুভ চিন্তন । যে ব্যর্থ চিন্তন বা পর চিন্তন করে, সে শুভ চিন্তক হতে পারে না । শুভ চিন্তক মণির কাছে শুভ চিন্তনের শক্তিশালী সম্পদ সদা ভরপুর থাকবে । আর এই ভরপুরতার কারণেই অন্যদের প্রতি শুভ চিন্তক হতে পারবে । শুভ চিন্তক অর্থাৎ সর্ব জ্ঞান রত্নে ভরপুর, এমন জ্ঞান সম্পন্ন আত্মাই চলতে - ফিরতে প্রত্যেকের সেবা করতে করতে শ্রেষ্ঠ সেবাধারী হয়ে যায় ।

স্লোগান:-
বিশ্ব রাজ্য অধিকারী হতে হলে বিশ্ব পরিবর্তনের কাজে নিমিত্ত হও ।