19.01.2023 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


মিষ্টি বাচ্চারা - সাকার শরীরকে স্মরণ করাও হল ভূত-অভিমানী হওয়া, কেননা শরীর ৫ ভূতের তৈরী, তোমাদেরকে তো দেহী-অভিমানী হয়ে এক বিদেহী বাবাকে স্মরণ করতে হবে

প্রশ্নঃ -
সবথেকে সর্বোত্তম কাজ কোনটি, যেটা বাবাই করেন?

উত্তরঃ  
সমগ্র তমোপ্রধান সৃষ্টিকে সতোপ্রধান সদা সুখী বানিয়ে দেওয়া, এটা হল সবথেকে সর্বোত্তম কাজ, যেটা বাবা-ই করেন। এই উঁচু কাজ করার কারণে তাঁর স্মরণিকও অনেক উঁচু-উঁচু তৈরী করে।

প্রশ্নঃ -
কোন্ দুটি শব্দে ড্রামার সব রহস্য এসে যায় ?

উত্তরঃ -
পূজ্য আর পূজারী, যখন তোমরা পূজ্য থাকবে তখন পুরুষোত্তম হবে, তারপরে মধ্যম, কণিষ্ঠ হবে। মায়া পূজ্য থেকে পূজারী বানিয়ে দেয়।

গীতঃ-
জলসা ঘরে জ্বলে ওঠে বহ্নিশিখা ...

ওম্ শান্তি ।
ভগবান বসে বাচ্চাদেরকে বোঝাচ্ছেন যে মানুষকে ভগবান বলা যায় না। ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শংকরেরও চিত্র আছে, তাদেরকেও ভগবান বলা যাবে না। পরমপিতা পরমাত্মার বাসস্থান তার থেকেও উঁচুতে। তাঁকেই প্রভু, ঈশ্বর, ভগবান ইত্যাদি বলা হয়। মানুষ যখন আহ্বান করে তো তার কোনও আকার বা সাকার মূর্তি দেখা যায় না, এইজন্য মানুষ যেকোনো মনুষ্য আকারকে ভগবান বলে দেয়। সন্ন্যাসীদেরকেও দেখলে বলে দেয় ভগবান। কিন্তু ভগবান নিজে বোঝাচ্ছেন যে মানুষকে ভগবান বলা যায় না। নিরাকার ভগবানকে তো অনেক স্মরণ করে। যারা গুরু করেনি, ছোট বাচ্চা আছে তো তাদেরকেও শেখানো হয় যে পরমাত্মাকে স্মরণ করো, কিন্তু কোন্ পরমাত্মাকে স্মরণ করো এটা বলা হয় না। কোনও চিত্র বুদ্ধিতে থাকে না। দুঃখের সময় বলে দেয় হে প্রভু। কোনও গুরু বা দেবতা ইত্যাদির চিত্র তখন তার সামনে আসে না। যদি অনেক গুরু করেও থাকে তথাপি যখন হে ভগবান বলে, তখন কখনও তার গুরু স্মরণে আসে না। আর যদি গুরুকে স্মরণ করে আবার ভগবানকেও স্মরণ করে তাহলে সেই মানুষ তো জনম মরণে আবদ্ধ হয়ে গেল। তারমানে এরা ৫ তত্ত্ব দিয়ে তৈরি মানুষকে স্মরণ করে, যাকে ৫ ভূত বলা যায়। আত্মাকে ভূত বলা যাবে না। তো তারা একপ্রকারের ভূত পূজাই করে থাকে। বুদ্ধির যোগ শরীরের দিকে চলে গেছে। যদি কোনও মানুষকে ভগবান মনে করে তো এমন নয় যে তার মধ্যে থাকা আত্মাকে স্মরণ করে। না। আত্মা তো দুজনের মধ্যেই আছে। যে স্মরণ করছে তার মধ্যেও আছে আবার যাকে স্মরণ করছে তার মধ্যেও আছে। পরমাত্মাকে তো সর্বব্যাপী বলে দেয়। কিন্তু পরমাত্মাকে পাপ আত্মা বলা যাবে না। বাস্তবে পরমাত্মা নাম যখন বলা হয় তখন বুদ্ধি নিরাকারের দিকে চলে যায়। নিরাকার বাবাকে নিরাকার আত্মা স্মরণ করে। একে দেহী-অভিমানী বলা হবে। সাকার শরীরকে যে স্মরণ করে সে হল ভূত অভিমানী। ভূত, ভূতকে স্মরণ করে কেননা নিজেকে আত্মা মনে করার পরিবর্তে ৫ তত্ত্বের শরীর মনে করে। নামও শরীরের উপর রাখা হয়। নিজেকেও ৫ তত্ত্বের ভূত মনে করে আর তাকেও শরীরের দ্বারা স্মরণ করে। দেহী-অভিমানী তো থাকে না। নিজেকে নিরাকার আত্মা মনে করলে তো নিরাকার পরমাত্মাকেও স্মরণ করতে পারবে। সকল আত্মাদের সম্বন্ধ সর্ব প্রথমে পরমাত্মার সাথে আছে। তিনি সকল আত্মাদেরকে দুঃখ থেকে মুক্ত করেন। তাঁকে অগ্নিশিখাও বলা হয়। কোনো প্রদীপ ইত্যাদির তো কথা নেই। তিনি তো হলেন পরমপিতা পরম আত্মা। অগ্নিশিখা বলার কারণে মানুষ আবার জ্যোতি মনে করে নিয়েছে। এটা তো বাবা নিজে বুঝিয়েছেন যে আমি হলাম পরম আত্মা, যাঁর নাম হল শিব। শিবকে রূদ্রও বলা হয়। সেই নিরাকারেরই অনেক নাম আছে আর কারো এত নাম নেই। ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শংকরের একটাই নাম হয়। যে সমস্ত দেহধারী আছে তাদেরও একটাই নাম হয়। এক ঈশ্বরকেই অনেক নাম দেওয়া হয়। তাঁর মহিমা হল অপরম অপার। মানুষের একটাই নাম নির্দিষ্ট থাকে। এখন তোমরা জীবন্মৃত হয়েছো তাই তোমাদের উপর আরও একটি নাম রাখা হয়েছে, যার দ্বারা পুরানো সব কিছু ভুলে যেতে পারো। তোমরা পরমপিতা পরমাত্মার সামনে বেঁচে থেকেও মরে গেছো। তো এটাই হল জীবন্মৃত জন্ম। তো অবশ্যই মাতাপিতার কাছে জন্ম নিতে হবে। এই রহস্যপূর্ণ কথা বাবা বসে তোমাদেরকে বোঝাচ্ছেন। জগতের মানুষ শিবকে তো জানেই না। ব্রহ্মা, বিষ্ণু শংকরকে জানে। ব্রহ্মার দিন ব্রহ্মার রাতও বলে থাকে। এটাও কেবল শুনেছে। ব্রহ্মা দ্বারা স্থাপনা... কিন্তু কীভাবে, এটা জানে না। এখন ক্রিয়েটার তো অবশ্যই নতুন ধর্ম, নতুন জগৎ রচনা করবেন। ব্রহ্মার দ্বারা ব্রাহ্মণ কুলই রচনা করবেন। তোমরা ব্রাহ্মণেরা ব্রহ্মাকে নয়, পরমপিতা পরমাত্মাকে স্মরণ করো কেননা ব্রহ্মার দ্বারা তোমরা তাঁর হয়েছো। বাইরের দেহ-অভিমানী ব্রাহ্মণেরা এইরকম নিজেদেরকে ব্রহ্মার সন্তান শিবের পৌত্র মনে করে না। শিব বাবা, যার জয়ন্তীও পালন করে, কিন্তু তাঁকে না জানার কারণে তার কদরই নেই তাদের কাছে । তাঁর মন্দিরে যায়, বুঝতে পারে ইনি ব্রহ্মা, বিষ্ণু শংকর বা লক্ষ্মী-নারায়ণ তো নয়, ইনি অবশ্যই পরমপিতা পরমাত্মা। অন্যান্য সকল অ্যাক্টরদের নিজের নিজের পার্ট আছে, পুনর্জন্ম নেয় তবুও নিজের নাম ধারণ করে। এই পরমপিতা পরমাত্মা একজনই, যাঁর ব্যক্ত নাম রূপ নেই, কিন্তু মূঢ়মতি (অবোধ) মানুষ বুঝতে পারে না। পরমাত্মার স্মরণিক আছে, তো অবশ্যই তিনি এসেছিলেন, স্বর্গ রচনা করেছিলেন। না হলে তো স্বর্গ কে রচনা করবে। এখন পুনরায় এই রুদ্র জ্ঞান যজ্ঞ রচনা করেছেন। একে যজ্ঞ বলা হয় কেননা এতে স্বাহা হতে হয়। যজ্ঞ তো অনেক মানুষ রচনা করে। সেসব তো হল ভক্তি মার্গের স্থুল যজ্ঞ। এই পরমপিতা পরমাত্মা স্বয়ং এসে যজ্ঞ রচনা করেন। বাচ্চাদেরকে পড়ান। যজ্ঞ যখন রচনা করে তো সেখানেও ব্রাহ্মণেরা শাস্ত্র কথা ইত্যাদি শোনায়। এই বাবা তো হলেন নলেজফুল। বলা হয় যে এই গীতা ভাগবত শাস্ত্র ইত্যাদি সবই হল ভক্তি মার্গের। এই মেটারিয়াল যজ্ঞও হল ভক্তি মার্গের। এটা হলই ভক্তি মার্গের সময়। যখন কলিযুগের অন্তিম সময় আসে তখন ভক্তিরও অন্তিম সময় আসে, তখনই ভগবান এসে মিলন করেন কেননা তিনিই হলেন ভক্তির ফলদাতা। তাঁকে জ্ঞান সূর্যও বলা হয়। জ্ঞান সূর্য, জ্ঞান চন্দ্রমা আর জ্ঞান লাকি নক্ষত্র-মণ্ডলী। আচ্ছা জ্ঞান সূর্য তো হলেন বাবা। পুনরায় মাতা চাই - জ্ঞান চন্দ্রমা। তো যে শরীরে প্রবেশ করেছেন তিনি হয়ে গেলেন জ্ঞান চন্দ্রমা মাতা আর বাকি সব হল বাচ্চা লাকি নক্ষত্র-মণ্ডলী। এই হিসাবে জগদম্বাও হলেন লাকি স্টার কেননা তিনিও তো বাচ্চা তাই না। নক্ষত্রদের মধ্যে কোনো-কোনোটা খুব উজ্জ্বল হয়। সেইরকম এখানেও নম্বরের ক্রমানুসারে আছে। সেটা হল স্থুল আকাশের সূর্য চন্দ্র আর তারা মণ্ডলী আর এখানে হল জ্ঞানের কথা। যেরকম সেখানে জলের নদী আর এখানে হল জ্ঞানের নদী, যারা জ্ঞান সাগর থেকে নির্গত হয়েছে।

এখন শিব জয়ন্তী পালন করে, অবশ্যই সেই সমগ্র সৃষ্টির বাবা আসেন। এসে অবশ্যই স্বর্গ রচনা করেন। বাবা আসেনই আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্ম স্থাপন করতে, যেটা প্রায়ঃলোপ হয়ে গেছে। গভর্নমেন্টও কোনও ধর্মকে মান্যতা দেয় না। বলে যে, আমাদের কোনও ধর্ম নেই। এ' সঠিক বলছে। বাবাও বলছেন যে ভারতের আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্ম প্রায়লোপ হয়ে গেছে। ধর্মের মধ্যে শক্তি থাকে। ভারতবাসীরা যখন নিজেদের দেবী-দেবতা ধর্মের ছিল তো অনেক সুখী ছিলো। ওয়ার্ল্ড অলমাইটি অথোরিটি রাজ্য ছিল। পুরুষোত্তম রাজ্য পরিচালনা করতেন। শ্রী লক্ষ্মী-নারায়ণকেই পুরুষোত্তম বলা হয়। নম্বরের ক্রমানুসারে উচ্চ নীচ তো হয়ে থাকে। সর্বোত্তম পুরুষ, উত্তম পুরুষ, মধ্যম, কনিষ্ঠ পুরুষ তো হয়েই থাকে। সর্বপ্রথম সবার থেকে সর্বোত্তম পুরুষ যে হয় সে-ই আবার মধ্যম, কনিষ্ঠ হয়। তো লক্ষ্মী-নারায়ণ হলেন পুরুষোত্তম। সকল পুরুষের মধ্যে উত্তম। পুনরায় অধোগামী হলে দেবতা থেকে ক্ষত্রিয়, ক্ষত্রিয় থেকে বৈশ্য, শূদ্র কনিষ্ঠ হয়। সীতা রামকেও পুরুষোত্তম বলা হবে না। সকল রাজাদেরও রাজা, সর্বোত্তম সতোপ্রধান পুরুষোত্তম হলেন লক্ষ্মী-নারায়ণ। এইসব কথা তোমাদের বুদ্ধিতে আছে। কিভাবে এই সৃষ্টিচক্র পুনরাবৃত্তি হয়। প্রথমে উত্তম তারপর মধ্যম, কনিষ্ঠ হয়। এই সময় তো সমগ্র দুনিয়াই হল তমোপ্রধান, এটাই বাবা বোঝাচ্ছেন। যার এখন জয়ন্তী পালন করবে, তোমরা বলতে পারো যে আজ থেকে ৫ হাজার বছর পূর্বে পরমপিতা পরমাত্মা শিব অবতীর্ণ করেছিলেন। না হলে তো শিব জয়ন্তী কেন পালন করো! পরমপিতা পরমাত্মা অবশ্যই বাচ্চাদের জন্য সওগাত (উপহার) নিয়ে আসবেন আর অবশ্যই সর্বোত্তম কার্য করবেন। সমগ্র তমোপ্রধান সৃষ্টিকে সতোপ্রধান সদা সুখী বানান। যত উঁচু ততই উঁচু স্মরণিকও ছিল যে মন্দিরকে লুঠ করে নিয়ে চলে গেছে। লোক চড়াও হয় ধনের (লুঠ) জন্য। ফরেন থেকেওএসেছিল আগত ধনেরই জন্য। সেই সময় ধন অনেক ছিল। কিন্তু মায়া রাবণ ভারতকে কড়ি তুল্য বানিয়ে দিয়েছে। বাবা এসে হিরে তুল্য বানাচ্ছেন। এইরকম শিববাবাকে কেউই জানেনা। বলে দেয় - সর্বব্যাপী, এটা বলাও ভুল। নৌকা পারে নিয়ে যাওয়ার জন্য সদ্গুরু একজনই আছেন। ডুবিয়ে দেওয়ার জন্য অনেকে আছে। সবাই বিষয় সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে, তবেই তো বলে এ হল অসার সংসার, বিষয় সাগর থেকে ওই পারে নিয়ে চলো, যেখানে ক্ষীর সাগর আছে। গাওয়া হয় যে বিষ্ণু ক্ষীর সাগরে ছিলেন। স্বর্গকে ক্ষীর সাগর বলা হয়। যেখানে লক্ষ্মী-নারায়ণ রাজ্য করেন। এছাড়া এমন কিছু নয় যে বিষ্ণু সেখানে ক্ষীর সাগরে বিশ্রাম করেন। জগতের মানুষ তো বড় পুকুর বানিয়ে তার মাঝখানে বিষ্ণুকে রাখে। বিষ্ণুকেও লম্বা চওড়া বানিয়ে দেয়। এত বড় তো লক্ষ্মী-নারায়ণ হয় না। সর্বাধিক ৬ ফুট হবেন। পাণ্ডবদেরও বড় বড় মূর্তি (স্ট্যাচু) বানায়। রাবণের কত বড় পুত্তলিকা বানায়। বড় নাম তো বড় চিত্র বানিয়ে দেয়। বাবার নাম যদিও বড় কিন্তু তার চিত্র হল ছোট। এটা তো বোঝানোর জন্য এত বড় রূপ দেখিয়ে দিয়েছে। বাবা বলেন যে আমার এত বড় রূপ নেই। যেরকম আত্মা হল ছোটো সেইরকমই আমি পরমাত্মা হলাম স্টারের মতো। তাঁকে সুপ্রীম সোল বলা হয়, তিনি হলেন সর্বোচ্চ। তাঁর মধ্যে সমস্ত জ্ঞান ভরপুর আছে, তাঁর মহিমা গাওয়া হয়ে থাকে যে তিনি হলেন মনুষ্য সৃষ্টির বীজরূপ, জ্ঞানের সাগর, চৈতন্য আত্মা। কিন্তু তখনই শোনাবেন যখন অরগ্যানস্ ধারণ করবেন। যেরকম বাচ্চারাও ছোটো অরগ্যানস্ দিয়ে কথা বলতে পারে না, যখন বড় হয় তখন শাস্ত্র ইত্যাদি দেখে পূর্ব জন্মের সংস্কার স্মরণে এসে যায়। তো বাবা বসে বাচ্চাদেরকে বোঝাচ্ছেন যে আমি পুনরায় ৫ হাজার বছর বাদ তোমাদেরকে সেই রাজযোগ শেখাতে এসেছি। শ্রীকৃষ্ণ কোনো রাজযোগ শেখাননি। তিনি তো প্রারব্ধ ভোগ করেছেন। ৮ জন্ম সূর্যবংশী, ১২ জন্ম চন্দ্রবংশী তারপর ৬৩ জন্ম বৈশ্য-শূদ্রবংশী হয়। এখন এটা হল সকলের অন্তিম জন্ম। এই শ্রীকৃষ্ণের আত্মাও এখন শুনছে। তোমরাও শুনছো। এটা হল সঙ্গমযুগী ব্রাহ্মণদের বর্ণ। তারপর তোমরাই ব্রাহ্মণ থেকে দেবতা হবে। ব্রাহ্মণ ধর্ম, সূর্যবংশী দেবতা ধর্ম আর চন্দ্রবংশী ক্ষত্রিয় ধর্ম - এই তিন ধর্মের স্থাপক হলেন এক পরমপিতা পরমাত্মা। তো তিনের শাস্ত্রও তবে এক হওয়া চাই। আলাদা আলাদা কোনও শাস্ত্র নয় । ব্রহ্মা এত বড় (শ্রেষ্ঠ), সকলের বাবা তিনি, প্রজাপিতা। তারও কোনও শাস্ত্র নেই। এক গীতাতেই ভগবানুবাচ আছে। ব্রহ্মা ভগবানুবাচ নয়। এটা হল শিব ভগবানুবাচ ব্রহ্মা দ্বারা, যার দ্বারা শূদ্রদেরকে কনভার্ট করে ব্রাহ্মণ বানানো হয়। ব্রাহ্মণই দেবতা হয় আর যারা ফেল হয়ে যায়, তারা ক্ষত্রিয় হয়ে যায়। দু-কলা কম হয়ে যায়। বাবা কতো ভালো করে বুঝিয়েদেন। উচ্চ থেকে উচ্চতম হলেন পরমপিতা পরমাত্মা তারপর ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শংকর- তাদেরকেও পুরুষোত্তম বলা হবে না। যে পুরুষোত্তম হবে, সে-ই আবার কণিষ্ঠও হবে। মানুষের থেকে সর্বোত্তম হল লক্ষ্মী-নারায়ণ, যাদের মন্দিরও আছে। কিন্তু তাদের মহিমাকে কেউ জানেই না। কেবলমাত্র পূজা করতে থাকে। এখন তোমরা পূজারী থেকে পূজ্য হচ্ছো। মায়া পুনরায় পূজ্য বানিয়ে দেয়। ড্রামা এইরকমই তৈরী হয়ে আছে। যখন নাটক সম্পূর্ণ হয় তখন আমাকে আসতে হয়। তারপর জনসংখ্যা বৃদ্ধি হওয়াও অটোমেটিকেলী বন্ধ হয়ে যায়। পুনরায় বাচ্চারা তোমাদেরকে এসে নিজের নিজের পার্ট রিপিট করতে হয়। এই পরমপিতা পরমাত্মা নিজে বসে বোঝাচ্ছেন, যাঁর জয়ন্তী ভক্তিমার্গে পালন করা হয়। এটা তো পালিত হতেই থাকবে। স্বর্গতে তো কারো জয়ন্তী পালিত হয় না। শ্রীকৃষ্ণ, রাম - এনাদেরও জয়ন্তী পালিত হয় না। তারা তো নিজে প্র্যাক্টিক্যালী থাকবে। ইনি (শিববাবা) তো এখানে এসে স্বর্গ রচনা করে চলে গিয়েছিলেন, তাই তাঁর জয়ন্তী এখনও পালিত হয়। সেখানে প্রতি বছর শ্রীকৃষ্ণের বার্থ ডে পালিত হবে না। সেখানে তো সর্বদাই খুশী আর খুশী, আলাদা করে বার্থ ডে আর কি পালন করবে! বাচ্চার নাম তো তার মাতা-পিতাই রাখবেন। গুরু তো সেখানে থাকবে না। বাস্তবে এইসব কথার, জ্ঞান আর যোগের সাথে কোনও কানেকশন নেই। এছাড়া ওখানকার রীতি রেওয়াজ কেমন, সেটা জানতে হলে তো বাবা বলে দেবেন যে সেখানকার যেমন কায়দা কানুন হবে, সেই অনুসারেই তোমরা ব্যবহারে আসবে, তোমাদের জিজ্ঞেস করার কি দরকার। প্রথমে পরিশ্রম করে নিজের পদ তো প্রাপ্ত করে নাও। যোগ্য তো হও, তারপর জিজ্ঞেস করবে। ড্রামাতে কোনো না কোনো কায়দা কানুন থাকবে। আচ্ছা।

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) নিজেকে নিরাকার আত্মা মনে করে নিরাকার বাবাকে স্মরণ করতে হবে। কোনও দেহধারীকে নয়। জীবন্মৃত হয়ে পুরানো কথাগুলিকে বুদ্ধি থেকে ভুলে যেতে হবে।

২ ) বাবার দ্বারা রচিত এই রূদ্র যজ্ঞে সম্পূর্ণ স্বাহা হতে হবে। শূদ্রদেরকে ব্রাহ্মণ ধর্মে কনভার্ট (রূপান্তরিত) করার সেবা করতে হবে।

বরদান:-
দিনচর্যার সেটিং আর বাবার সাথে থেকে প্রত্যেক কার্য অ্যাক্যুরেট করে বিশ্ব কল্যাণকারী ভব

জগতের স্বনামধন্য ব্যক্তিদের দৈনন্দিন কার্যাদির সময়সূচির সেট থাকে। যেকোনো কাজ অ্যাক্যুরেট তখন হবে যখন দিনচর্যার সেটিং থাকবে। সেটিং করা থাকলে সময় আর এনার্জি সব বেঁচে যায়, একজন ব্যক্তি দশটা কাজ করতে পারে। তো তোমরা বিশ্বকল্যাণী দায়িত্বশীল আত্মারা, প্রতিটি কার্যে সফলতা প্রাপ্ত করার জন্য দিনচর্যাকে সেট করো আর বাবার সাথে সর্বদা কম্বাইন্ড হয়ে থাকো। হাজার বাহু বিশিষ্ট বাবা তোমাদের সাথে আছেন, তাই একটা কাজ করার পরিবর্তে হাজারটা কাজ তোমরা অ্যাক্যুরেট করতে পারবে।

স্লোগান:-
সকল আত্মাদের প্রতি শুদ্ধ সংকল্প করাই হল বরদানী মূর্তি হওয়া।