19.02.2021 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - তোমরা এই কবরস্থানকে পরিস্তান বানাচ্ছো, সেইজন্য তোমাদের এই পুরোনো দুনিয়া, কবরস্থানের থেকে সম্পূর্ণ বৈরাগ্য চাই"

প্রশ্নঃ -
বেহদের পিতা কিভাবে তাঁর রুহানি সন্তানদের ওয়ান্ডারফুল সার্ভেন্ট হন ?

উত্তরঃ -
বাবা বলেন বাচ্চারা, আমি হলাম তোমাদের ধোপা। কেবল বাচ্চারাই নয়, পুরো দুনিয়ার নোংরাকে মুহূর্তের (সেকেণ্ড) মধ্যে পরিষ্কার করে দিই। আত্মারূপী বস্ত্র (পোশাক) স্বচ্ছ (পরিস্কার) হলে শরীরও শুদ্ধ পাওয়া যায়। তিনি এমন ওয়ান্ডারফুল সার্ভেন্ট, যিনি মন্মনাভব'র মন্ত্র দ্বারা সবাইকে সেকেন্ডের মধ্যে পরিষ্কার করে দেন।

ওম্ শান্তি ।
বাবা বাচ্চাদের ওম্ শান্তির অর্থ বুঝিয়েছেন। আত্মার স্বধর্মই হলো শান্ত স্বরূপ। শান্তিধাম যাওয়ার জন্য কোনো পুরুষার্থ করতে হয়না। আত্মা স্বয়ং (নিজে) শান্তস্বরূপ, শান্তিধাম এ বসবাস করে। হ্যাঁ, কিছু সময়ের জন্য শান্ত থাকতে পারে। আত্মা বলে - আমি কর্মেন্দ্রিয়ের বোঝা নিয়ে ক্লান্ত হয়ে যাই, আমি আমার স্বধর্মে স্থির রয়েছি, দেহ থেকে আলাদা হয়ে যাই। কিন্তু কর্ম তো করতেই হবে। কতক্ষণ আর শান্তিতে (বসে থাকব) বসা যায়। আত্মা বলে আমি শান্তির দেশের বাসিন্দা। শুধুমাত্র এই শরীরে আসার কারণে আমি 'টকি' হয়েছি। অহম্ আত্মা অবিনাশী, মম শরীর বিনাশী। আত্মা পবিত্র আর পতিত হয়। সত্যযুগে ৫ তত্ত্বও সতোপ্রধান হয়। এখানে ৫ তত্ত্বও তমোপ্রধান। যখন সোনাতে খাদ পড়ে যায় তখন তাকে পরিষ্কার করার জন্য তাকে আগুনে পোড়াতে হয়, এর নাম হলো যোগ অগ্নি। দুনিয়াতে তো অনেক প্রকারের হটযোগ ইত্যাদি শেখানো হয়। ওগুলোকে যোগ অগ্নি বলা যায়না। যোগ অগ্নি হলো সেই অগ্নি যেখানে পাপকে পোড়ানো হয়। আত্মাকে পতিত থেকে পাবন বানান পরমাত্মা, বলাও হয় পতিত-পাবন এসো। ড্রামার প্ল্যান অনুসারে সবাইকে পতিত, তমোপ্রধান হতেই হয়। এটা হলো বৃক্ষ যার বীজ উপরে রয়েছে। যখন বাবাকে ডাকা হয়, তখন বুদ্ধি উপরে চলে যায়। যার কাছ থেকে তোমরা উত্তরাধিকার পাও, উনি এখন নীচে (এই পতিত দুনিয়াতে) এসেছেন। তিনি বলেন আমাকে আসতেই হয়। মনুষ্য সৃষ্টির যে বৃক্ষ আছে,অনেক ধর্মের বিভিন্নতার কারণে তমোপ্রধান, পতিত হয়ে গেছে। জরাজীর্ণ (সম্পূর্ণ ক্ষয়) অবস্থায় পৌঁছেছে। বাবা বাচ্চাদের বসে বোঝাচ্ছেন। সত্যযুগে হল দেবতারা,আর কলিযুগে অসুর। কিন্তু অসুর আর দেবতাদের আর মধ্যে কখনো যুদ্ধ হয়না। তোমরা এই আসুরী ৫ বিকারের উপর যোগবল দ্বারা বিজয় লাভ করো। অতএব, কোনো হিংসা, লড়াই এর কথায় নেই। তোমরা কোনো প্রকারেই হিংসা ক'রোনা। কখনো কারো উপরে হাতও তুলবে না । তোমরা হলে ডবল অহিংসক। কাম কাটারি চালানো, এটা হলো সবথেকে বড় পাপ। বাবা বলেন এই কাম কাটারি আদি-মধ্য-অন্ত দুঃখ দেয় । বিকারের বশীভূত হওয়া উচিত নয়। দেবতাদের সামনে মহিমা গাওয়া হয় - তুমি সর্বগুণ সম্পন্ন ..। আত্মা বলে আমরা পতিত হয়ে গিয়েছি, তাই তো ডাকা হয় হে পতিত-পাবন এসো। যখন পবিত্র থাকে তখন তো কাউকে ডাকা হয়না । একে স্বর্গ বলা হয়। এইখানে (এই দুনিয়ায় ) সাধু-সন্তরা কত মহিমা করতে থাকে - হে পতিত-পাবন সীতারাম.। বাবা বলেন এই সময় সমগ্র দুনিয়াটা পতিত, এতে কারোরই দোষ নেই। এই ড্রামা হলো পূর্বনির্ধারিত। আমি না আসা পর্যন্ত প্রত্যেককেই নিজের ভূমিকা পালন করতে হয়। জ্ঞান আর ভক্তি তারপর হল বৈরাগ্য। পুরোনো দুনিয়ার প্রতি বৈরাগ্য। এটা হলো বেহদের বৈরাগ্য। তাদের হল সীমিত (হদের) বৈরাগ্য।

তোমরা জানো যে এই পুরোনো দুনিয়ার এখন শেষ হয়ে যাবে । নতুন বাড়ি তৈরি হলে, পুরানো বাড়ির প্রতি বৈরাগ্য চলে আসে তাই না। অসীম জগতের বাবা বলেন, এখন তোমাদের স্বর্গরুপী বাড়ি বানিয়ে দিচ্ছি । এখন তো হলো নরক। স্বর্গ হল নতুন দুনিয়া। এখন আমরা পুরানো দুনিয়ায় থেকে নতুন দুনিয়ার সৃষ্টি করছি। পুরানো কবরস্থানে আমরা পরিস্থান বানাবো। এখানেই যমুনা নদীর তীর থাকবে। এর চারপাশে মহল হবে। এই দিল্লি আর যমুনা নদী হবে, কিন্তু পাণ্ডবদের দুর্গ ইত্যাদি সব গল্প ছিল। ড্রামার প্ল্যান অনুসারে অবশ্যই ওগুলো হবে। যেমন করে তোমরা জপ-তপ-দান ইত্যাদি করে এসেছিলে, তেমন ভাবে পুনরায় আবার করতে হবে। প্রথমে তোমরা শিবের ভক্তি করেছ, উন্নতমানের (ফার্স্ট ক্লাস) মন্দির বানিয়েছ। যাকে বলা হয় অব্যভিচারী ভক্তি । এখন তোমরা জ্ঞানমার্গে আছো। এটা হলো অব‍্যাভীচারী জ্ঞান। এক শিববাবার থেকেই তোমরা শোনো, সবার প্রথমে তোমরা যার ভক্তি করা শুরু করেছিলে। ওই সময় আর কোনো ধর্ম থাকে না। তোমরাই কেবল ছিলে। খুব সুখে থাকতে তোমরা । দেবতা ধর্ম খুব সুখ দেয়। নাম নিলেই সাথে সাথেই মুখ মিষ্টি হয়ে যায়। ও তোমরা এক বাবার থেকেই জ্ঞান শুনে থাকো। এটা হলো তোমাদের অব‍্যাভীচারী জ্ঞান। তোমরা অসীম জগতের পিতার হয়েছ। বাবার থেকেই নম্বরের ক্রমে পুরুষার্থ অনুসারে তোমরা উত্তরাধিকার পাও। বাবাও কিছু সময়ের জন্য সাকার রূপে এসেছেন। বলেন আমাকেই তোমাদের জ্ঞান দিতে হবে। আমার কোনো স্থায়ী শরীর নেই, আমি ওনার মধ্যে প্রবেশ করে জ্ঞান দান করি। শিবজয়ন্তী থেকে তারপরই গীতা জয়ন্তী হয়ে যায়। সেখান থেকেই জ্ঞান শুরু হয়ে যায় । এই আধ্যাত্মিক জ্ঞান পরমাত্মা তোমাদের দেন। এতে জলের কোনো ব্যাপার নেই । জলের দ্বারা কি কখনো জ্ঞান পাওয়া যায়। পতিত থেকে পাবন জ্ঞানের দ্বারা হওয়া সম্ভব, জলের দ্বারা হওয়া সম্ভব নয়। সমগ্র দুনিয়ায় তো বহু নদী রয়েছে। এখানে তো জ্ঞানের সাগর বাবা, এনার মধ্যে প্রবেশ করে জ্ঞান শোনান। যখন কোনো ব্যক্তি মারা যান, তাঁর মুখে গঙ্গা জল দেওয়া হয়, যাতে সেই ব্যাক্তির আত্মা পতিত থেকে পবিত্র হয়ে স্বর্গে যেতে পারেন। এখানেও গো-মুখ এ যায়। বাস্তবে গো-মুখ হলো তোমরা চৈতন্যরা (আত্মারা)। তোমাদের মুখ থেকে জ্ঞান-অমৃত নির্গত হয়। গাভী থেকে দুধ পাওয়া যায়, জলের তো কোনো কথাই আসে না। এখন তোমরা এগুলো জানতে পারছো। তোমরা জানো যে ড্রামাতে একবার যেটা হয়ে যায় সেটা ৫ হাজার বছর পরে আবার হুবহু রিপিট হয়। বাবা বসে বাচ্চাদের এগুলো বোঝান, যিনি সকলের সদ্গতি দাতা । এখন সকলে দুর্গতিতে রয়েছে। তোমরা আগে জানতে না যে রাবণকে কেন জ্বালানো হয়। এখন তোমরা বোঝো যে বেহদের দশহরা হবেই। সমগ্র সৃষ্টিতে রাবণ রাজ্য এখন । এই পুরো পৃথিবীটাই লঙ্কাতে পরিণত হয়েছে। রাবণ কখনো জাগতিক লোকে থাকে না। রাবণের রাজ্য গোটা সৃষ্টির মধ্যে রয়েছে। ভক্তিও অর্ধকল্প চলে । প্রথমে অব্যাভিচারী ভক্তি করা হয়, পরে ব্যাভিচারী ভক্তি শুরু হয়। দশহরা, রাখি-বন্ধন সমস্ত কিছু এখনকার উৎসব । শিবজয়ন্তীর পরে হয় কৃষ্ণ-জয়ন্তী। এখন কৃষ্ণ-পুরী স্থাপন হচ্ছে। আজকে কংসপুরীতে আছো, কাল কৃষ্ণ-পুরীতে থাকবে। কৃষ্ণ কী কখনো এই পতিত দুনিয়ায় আসতে পারেন ! তিনি জন্ম নেন সত্যযুগে। তিনি হলেন প্রথম প্রিন্স । স্কুলে পড়তে যান আর যখন বড় হয়ে যান তখন সিংহাসনের মালিক হন। রাসলীলা ইত্যাদি সকলে নিজেদের মধ্যে খুশি পালনের জন্য করেন। কৃষ্ণ বসে কাউকে জ্ঞান দেবেন এটা কিভাবে সম্ভব তাই না ! সমস্ত মহিমা এক শিববাবারই, যিনি পতিতদের পাবন বানান। তোমরা কোনো বড় অফিসারদের বোঝালে তারা বলেন তোমরা ঠিক বলছো। কিন্তু তারা এই জ্ঞান অন্যদেরকে শোনাতে পারবে না। ওনার কথা কেউ শুনবেই না। বি.কে. হয়ে জ্ঞান শোনালে সকলে বলেন এনারা তো জাদু করে দিলেন । বি.কে.দের নাম শোনে আর ভাবে এরা জাদু করে। এরা তো কেবল দাদাকে ছাড়া আর কাউকেই মানেন না। ভক্তি ইত্যাদি কোনো কিছু করেনা। বাবা বলেন, কাউ মানা করা উচিত নয় যে ভক্তি ক-রো না। নিজে থেকেই ছুটে যাবে। তোমরা ভক্তি করা ছেড়ে দাও, বিকার ছেড়ে দাও এই সব কথাতেই ঝামেলা হয়। বাবা বলেন, আমি রুদ্র-জ্ঞান যজ্ঞ রচনা করি, যেখানে আসুরিক সম্প্রদায় এর বিঘ্ন পড়ে। এটা হলো শিববাবার বেহদের (অসীম জগতের) যজ্ঞ, যেখানে মানুষ থেকে দেবতা হওয়া যায়। গায়নও আছে যে - জ্ঞান যজ্ঞ থেকে বিনাশের শিখা উদ্ভূত হয়েছিল। পুরানো দুনিয়ার বিনাশ হলেই তোমরা নতুন দুনিয়ায় রাজ্যত্ব করবে। মানুষরা বলে আমরা বলি শান্তি হোক আর এই বি.কে. রা বলে বিনাশ হোক। বাবা বোঝান - এই সমগ্র পুরানো দুনিয়া এই জ্ঞান-যজ্ঞে স্বাহা হয়ে যাবে । এই পুরো দুনিয়ায় আগুন তো লাগবেই। প্ৰাকৃতিক দুর্যোগও আসবে। বিনাশ তো হতেই হবে। সমস্ত মানুষ সর্ষের মতো পিষে গিয়ে শেষ হয়ে যাবে। বাকি আত্মারা বেঁচে যাবে । এটা তো যে কেউই বুঝতে পারে - আত্মা হলো অবিনাশী। এখন এখানে একটা বেহদের (সমগ্র দুনিয়ার) হোলিকা (দহন) হবে, যাতে সব শরীর খতম হয়ে যাবে। বাকি আত্মারা পবিত্র হয়ে চলে যাবে। আগুনের দ্বারা জিনিস শুদ্ধ হয়, তাইনা ! যজ্ঞ করা হয় সব শুদ্ধ করার জন্য । বাদবাকি সব হলো জাগতিক ব্যাপার । এখন পুরো দুনিয়া বিনাশ হবেই। বিনাশের পূর্বে অবশ্যই স্থাপনা হওয়া প্রয়োজন । যখন তোমরা কাউকে জ্ঞান শোনাবে আগে বলো স্থাপনার কথা, পরে বিনাশ এর কথা ব্যাখ্যা করবে। ব্রহ্মার দ্বারা স্থাপনা হয়। 'প্রজাপিতা ব্রহ্মা' নামটি বিখ্যাত । আদি দেব এবং আদি দেবী। জগদম্বারও কয়েক হাজার মন্দির রয়েছে, সেখানে কত মেলাও অনুষ্ঠিত হয়। তোমরা হলে জগদম্বার সন্তান, জ্ঞান জ্ঞানেশ্বরী থেকে রাজ রাজেশ্বরী। তোমরা খুব ধনবান হও আবার ভক্তিমার্গে তোমরাই দেবী লক্ষীর কাছে দীপাবলিতে বিনাশী ধন চাও। ওখানে তো সবকিছু পাওয়া যায়। 'আয়ুষবান ভব', 'পুত্ৰবানভব'। তোমরা জানো যে সেখানে তোমাদের আয়ু ১৫০ বছরের হয়। বাবা বলেন তোমরা যত যোগে থাকবে তোমাদের আয়ু তত বাড়তে থাকবে। তোমরা ঈশ্বরের সাথে যোগ লাগিয়ে যোগেশ্বর হও। মানুষ তো হলো ভোগেশ্বর। বলা হয়ে থাকে - ভগবান বিকারী, মল মূত্রের (আত্মার) কাপড় ধুয়ে দেন.... বাবা বলেন আমাকে ধোপাও বলা হয়। আমি সকল আত্মাদের এসে শুদ্ধ করি, ফলে দেহও শুদ্ধ পাওয়া যায়। বাবা বলেন আমি সেকেন্ডে সমগ্র দুনিয়ার পোশাক পরিষ্কার করে নিই। শুধুমাত্র 'মন্মনাভব' হলেই আত্মা আর শরীর পবিত্র হয়ে যায়। সেকেন্ডে জীবনমুক্তি । কত সহজ উপায় ! বাবাকে স্মরণ করো তাহলেই পবিত্র হয়ে যাবে। চলতে ফিরতে শুধু বাবাকে স্মরণ করো। আর কোনো কষ্ট তোমাদের দিই না। শুধু স্মরণ করতে হবে। এখন তোমাদের এক-এক সেকেন্ড চড়তি (আরোহণ) কলা। বাবা বলেন, আমি তোমাদের সার্ভেন্ট হয়ে এসেছি। তোমরা ডেকেছ পতিত-পাবন এসো, এসে আমাদের পবিত্র বানাও। আচ্ছা ! বাচ্চারা আমি এসেছি তো আমি তোমাদের সার্ভেন্ট হলাম তাই না ! যখন তোমরা পতিত হয়েছ তখনই জোরে জোরে চিৎকার করেছো। এখন আমি এসেছি। আমি কল্পে কল্পে এসে তোমাদের এই মন্ত্র দিই। আমাকে স্মরণ করলে তোমরা পবিত্র হয়ে যাবে। 'মন্মনাভব'র অর্থো হলো মন্মনাভব, মধ্যাজী ভব অর্থাৎ বাবাকে স্মরণ করলে বিষ্ণুপুরীর মালিক হয়ে যাবে । তোমরা এসেছ বিষ্ণুপুরীর রাজত্ব নিতে। রাবণপুরীর পরে হলো বিষ্ণুপুরী। কংসপুরীর পরে আসে কৃষ্ণপুরী। কত সহজে বোঝানো যায়। বাবা বলেন এই পুরোনো দুনিয়ার থেকে আসক্তি সরিয়ে নাও। এখন আমরা ৮৪ জন্ম পূরণ করেছি। এই পুরোনো দুনিয়া ছেড়ে আমরা নতুন দুনিয়ায় যাবো। স্মরণের দ্বারাই তোমাদের পাপ কেটে যাবে। তোমাদের সাহস থাকা উচিত। ওরা তো ব্রহ্মকে স্মরণ করে। ওরা বোঝে যে ব্রহ্মতে লিন হয়ে যাবে। কিন্তু ব্রহ্ম তো হলো থাকার স্থান। তারা তপস্যায় বসে। তারা ভাবে আমরা ব্রহ্মতে গিয়ে লিন হয়ে যাবো। কিন্তু কেউ তো ফিরে যেতে পারে না। ব্রহ্মতে যোগ করলে পবিত্র তো হওয়া যায়না। একজনও যেতে পারেনা। পুনর্জন্ম তো নিতেই হবে। বাবা এসে সমস্ত কিছু ব্যাখ্যা করেন, সত্য খণ্ড সত্যবাবাই স্থাপন করেন। রাবণ এসে মিথ্যাখন্ড বানায় । এখন হলো সঙ্গমযুগ। এতে তোমরা উত্তমের থেকেও উত্তম হও, এইজন্যই তোমাদের পুরুষোত্তম বলা হয়। তোমরা কড়ি থেকে হিরে তুল্য হও। এটা হলো বেহদের কথা। উত্তমের থেকেও উত্তম মানুষরা হলো দেবতা। এখন তোমরা পুরুষোত্তম সঙ্গমযুগে আছো। তোমাদের পুরুষোত্তম তৈরি করেন উঁচুর থেকেও উঁচু বাবা। বাবা তোমাদের উঁচুর থেকেও উঁচু স্বর্গের উত্তরাধিকার দেন, তাও তোমরা কেন ভুলে যাও ? বাবা বলছেন আমাকে স্মরণ করো। বাচ্চারা বলে - বাবা তুমি কৃপা করলে আমরা ভুলব না। এটা কিভাবে সম্ভব ! বাবার শ্রীমতে চলতে হবে। বাবা বলেন আমাকে স্মরণ করলে তোমরা পতিত থেকে পাবন হয়ে যাবে। আমার শ্রীমতে চলো। এছাড়া আশীর্বাদ কেন করব ! আচ্ছা!

মিষ্টি -মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) বাবার প্রতিটি ডাইরেকশন (নির্দেশ) অনুসারে চলে নিজেকে কড়ি থেকে হিরে তুল্য বানাতে হবে। এক বাবার স্মরণে থেকে নিজের বস্ত্রকে স্বচ্ছ বানাতে হবে।

২ ) এখন নতুন ঘর (দুনিয়া)-এ যেতে হবে, এইজন্য এই দুনিয়ার প্রতি বৈরাগ্য রাখা উচিত। এই নেশা যেন সর্বদা থাকে যে এই কবরস্থানকে আমরা পরিস্তান বানাবো।

বরদান:-
সঙ্গমযুগের শ্রেষ্ঠ চিত্রকে সামনে রেখে ভবিষ্যতের দর্শন করতে সক্ষম ত্রিকালদর্শী ভব

পূর্বেই তোমরা সঙ্গমযুগী ব্রাহ্মণরা ভবিষ্যতের সর্বপ্রাপ্তি গুলির অনুভব করে থাকো । এখন তোমরা ডবল মুকুট, সিংহাসন ও তিলকধারী, সর্ব অধিকারী মূর্তি হয়ে যাও। ভবিষ্যতে তো গোল্ডেন স্পুন (ইন মাউথ) হবে এখন হিরে তুল্য হয়ে যাও । জীবনটাই হীরা তুল্য হয়ে যায়। ওখানে সোনা, হিরের তৈরি দোলনায় দোলো আর এখানে তোমরা বাপদাদার কোলে অতীন্দ্রিয় সুখের অনুভবের সাথে দোলায় দোলো। অতএব ত্রিকালদর্শী হয়ে বর্তমান আর ভবিষ্যতের শ্রেষ্ঠ চিত্রতে দেখতে দেখতে সর্ব প্রাপ্তির অনুভব করো।

স্লোগান:-
কর্ম আর যোগের ভারসাম্যই পরমাত্ম ব্লেসিন্স (আশীর্বাদ) এর অধিকারী বানিয়ে দেয়।