19-07-2020 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 25-02-86 মধুবন


*ডবল বিদেশি ভাই-বোনেদের সমর্পণ সমারোহ উপলক্ষে অব্যক্ত বাপদাদার মহাবাক্য*


আজ বাপদাদা এই শ্রেষ্ঠ দিনের জন্য বিশেষ স্নেহপূর্ণ অভিনন্দন জানাচ্ছেন l আজ কোন্ সমারোহ তোমরা উদযাপন করেছ ? যেমনই হোক, বাইরের দৃশ্য তো সুন্দর ছিলই l কিন্তু সকলের উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং দৃঢ় সঙ্কল্পের, হৃদয়ের আওয়াজ দিলারাম বাবার কাছে পৌঁছেছে l সুতরাং, আজকের দিনকে বিশেষ উৎসাহ-উদ্দীপনায় ভরা দৃঢ় সঙ্কল্প সমারোহ বলা হবে l যখন থেকে বাবার হয়েছ, তখন থেকেই সম্বন্ধ ছিল আর থাকবেও l কিন্তু এই বিশেষ দিন বিশেষ রূপে পালন করেছ, একে বলা হবে দৃঢ় সঙ্কল্প করেছ l যাই হয়ে যাক, যদি মায়ার তুফানও আসে, যদি বিভিন্ন পরিস্থিতিরও উদ্ভব হয়, প্রকৃতির কোনও চাঞ্চল্যকর দৃশ্যও যদি নজরে আসে, লৌকিক বা অলৌকিক সম্বন্ধে যদি কোনরকম সার্কমস্ট্যান্সও উৎপত্তি হয়, যদি তোমার মনে জোরালো তুফানের উদ্রেক হয়, তবুও এই সমস্ত ব্যাপারে *এক বাবা দ্বিতীয় কেউ নয় l এক বল এক ভরসা* - এই দৃঢ় সঙ্কল্প করেছ নাকি শুধু স্টেজে বসে আছ ? ডবল স্টেজে বসেছিলে নাকি সিঙ্গল স্টেজে ? একটা ছিল এই স্থূল স্টেজ, দ্বিতীয় ছিল দৃঢ় সঙ্কল্পের স্টেজ, দৃঢ়তার স্টেজ l তাহলে ডবল স্টেজে বসেছিলে, তাই তো ? তোমরা পরেছিলে খুব সুন্দর কণ্ঠহার ! শুধুই এই হার পরেছ নাকি সফলতারও হার পরেছ ? সফলতা গলার হার l এই দৃঢ়তাই সফলতার আধার l এই স্থূল হারের সাথে সফলতার হারও তো পরেছিলে, তাই না ! বাপদাদা ডবল দৃশ্য দেখেন l শুধু সাকার রূপের দৃশ্যই দেখেন না l কিন্তু সাকার দৃশ্যের সাথে সাথে আত্মিক স্টেজ মনের দৃঢ় সঙ্কল্প আর সফলতার শ্রেষ্ঠ মালা এই দুটোই দেখছিলেন l বাবা ডবল মালা আর ডবল স্টেজ দেখছিলেন l তোমরা সকলে দৃঢ় সঙ্কল্প করেছিলে l খুব ভালো l যা কিছুই হোক না কেন, সম্বন্ধের দায়িত্ব তোমাদের পালন করতে হবে l পরমাত্ম-ভালোবাসার দায়িত্ব সদা পালন করে সফলতা অর্জন করতে হবে l এটা নিশ্চিত যে সফলতা গলার হার l এক বাবা দ্বিতীয় কেউ নয় - এটাই দৃঢ় সঙ্কল্প l যখন শুধুই এক তখন তোমাদের একরস স্থিতি নিজে থেকেই আরও সহজ হয় l সর্ব সম্বন্ধের অবিনাশী তার জুড়েছ, তাই না ! একটা সম্বন্ধ কম হলেও চঞ্চলতা হবে, সেইজন্য সর্ব সম্বন্ধের তাগা বেঁধেছ l কানেকশন জুড়েছ, সঙ্কল্প করেছ l সর্ব সম্বন্ধ আছে নাকি শুধু মুখ্য তিন সম্বন্ধ আছে ? যদি সর্ব সম্বন্ধ থাকে, তবে সর্বপ্রাপ্তি আছে l সর্ব সম্বন্ধ না থাকলে কোন না কোন প্রাপ্তির অভাব থেকে যায় l এই সমারোহ ছিল সকলের জন্য, তাই না ! এই দৃঢ় সঙ্কল্প থাকায়, ভবিষ্যৎ পুরুষার্থেও তোমাদের বিশেষ লিফ্ট লাভ হয় l এই বিধিও বিশেষ উৎসাহ -উদ্দীপনা বাড়িয়ে দেয় l বাপদাদাও সব বাচ্চাকে দৃঢ় সঙ্কল্প করার সমারোহের অভিনন্দন জানান এবং বরদান দেন - "সদা অবিনাশী ভব l অমর ভব l"

আজ এশিয়ার গ্রুপ বসে আছে l এশিয়ার বিশেষত্ব কি ? বিদেশ সেবার প্রথম গ্রুপ জাপানে গেছে, এটা তো বিশেষত্ব, তাই না ! সাকার বাবার প্রেরণা অনুযায়ী বিদেশ সেবার বিশেষ নিমন্ত্রণ আর সেবার আরম্ভ জাপান থেকে হয়েছে l সুতরাং, স্থাপনায় এশিয়ার নম্বর এগিয়ে আছে, আছে না ? বিদেশ থেকে এটাই ছিল প্রথম নিমন্ত্রণ l আর অন্য ধর্মের লোকের নিমন্ত্রণে সেবার আরম্ভ এশিয়া থেকে শুরু হয়েছে l সুতরাং এশিয়া কতো লাকি ! আর দ্বিতীয় বিশেষত্ব - এশিয়া ভারতের সবচেয়ে কাছে l যারা কাছের তাদের অত্যধিক প্রিয় বলা হয় l হারানিধি বাচ্চারা গোপনে আছে l সব স্থানে কতো ভালো ভালো রত্ন বেরিয়েছে l কোয়ান্টিটি যদিও কম, কিন্তু কোয়ালিটি আছে l তোমাদের পরিশ্রমের ফল ভালো l এইভাবে ধীরে ধীরে এখন সংখ্যা বাড়ছে l তোমরা সবাই স্নেহী, সবাই লাভলি l প্রত্যেকে একে অন্যের থেকে অধিক স্নেহী l এটাই ব্রাহ্মণ পরিবারের বিশেষত্ব, তোমরা প্রত্যেকে এটাই অনুভব কর যে অন্যের থেকে তোমার স্নেহ বেশি আর বাবার স্নেহও তোমার প্রতি বেশি l তোমাকেই বাপদাদা এগিয়ে রাখেন l সেই কারণে ভক্তিমার্গের লোকে খুব ভালো অর্থপূর্ণ ছবি বানিয়েছে l তারা প্রত্যেক গোপীর সাথে বল্লভকে দেখিয়েছে l শুধু এক রাধার সাথে বা আট পাটরাণীর সাথে নয়, প্রত্যেক গোপীর সাথে গোপীবল্লভ আছেন l যেমন, যখন দিলওয়ারা মন্দিরে যাও তখন তো তোমরা নোট কর, কোনটা তোমার ছবি, কোনটা তোমার কুঠি, তাই না ! তাহলে কি এই রাসমন্ডলেও তোমাদের সবার চিত্র আছে ? এটা বলাই হয় মহারাস l এই মহারাজের অনেক বড় গায়ন আছে l বাপদাদার প্রত্যেকের থেকে প্রত্যেকের প্রতি ভালোবাসা অধিক l বাপদাদা প্রত্যেক বাচ্চার শ্রেষ্ঠ ভাগ্য দেখে উৎফুল্ল হন l কতিপয় হলেও কিন্তু কোটি কোটির মধ্যে কতিপয় l পদমাপদম ভাগ্যবান ! দুনিয়ার তুলনায় যদি দেখ তবে এত কোটির মধ্যে থেকে তোমরা মুষ্টিমেয়, তাই না ! জাপান তো কতবড় কিন্তু বাবার বাচ্চা কতই বা আছে ! তাহলে কোটি কোটির মধ্যে মুষ্টিমেয়ই তো হলে, তাই না ! বাপদাদা প্রত্যেকের বিশেষত্ব এবং ভাগ্য দেখেন l কোটির মধ্যে কতিপয় হারানিধি ! বাবার কাছে সবাই বিশেষ আত্মা l বাবা কাউকে সাধারণ, কাউকে বিশেষ দেখেন না l সবাই বিশেষ l এই দিকে বেশি বৃদ্ধি হতে চলেছে, কারণ এই পুরো সাইডে বিশেষ ডবল সেবা l এক তো তারা অনেক ভ্যারাইটি ধর্মের, আর এই দিকে অনেক আত্মা সিন্ধ থেকে বেরিয়েছে l তোমরা তাদের সেবাও ভালোভাবে করতে পার l তাদেরকে যদি কাছে নিয়ে আসতে পার তবে তাদের সহযোগে অন্যান্য ধর্মের দিকেও সহজে পৌঁছাতে পারবে l ডবল সেবা দ্বারা ডবল বৃদ্ধি করতে পার l তাদের মধ্যে হয় সুনিশ্চিত ভাবে, নয়তো নাকারাত্মক ভাবে বীজ বোনা হয়ে আছে l তারা পরিচিত হওয়ার কারণে সম্বন্ধে সহজে আসতে পারে l অনেক সেবা করতে পার, কারণ এই পরিবার সকল আত্মার l ব্রাহ্মণ সব ধর্মের মধ্যে ছড়িয়ে গেছে l এমন কোন ধর্ম নেই যেখানে ব্রাহ্মণ পৌঁছায়নি l এখন সব ধর্ম থেকে তারা বেরিয়ে আসছে l আর যারা ব্রাহ্মণ পরিবারের তাদের তো আপন বোধ হবেই, তাই না ! এমন যেন কিছু হিসেব-নিকেশের জন্য সেখানে গেছে, এখন আবার নিজের পরিবারে ফিরে এসেছে l কোথা কোথা থেকে তোমরা এসে নিজের সেবার ভাগ্য নেওয়ার নিমিত্ত হয়ে গেছ l এটা কোন কম ভাগ্য নয় l অতি শ্রেষ্ঠ ভাগ্য l অতি মহান আত্মা হয়ে যাও তোমরা l মহাদানী, মহান সেবাধারীদের লিস্টে এসে পৌঁছাও l সুতরাং নিমিত্ত হওয়াও এক বিশেষ গিফ্ট l আর এই গিফ্ট ডবল বিদেশিরা লাভ করে l সামান্যই অনুভব করেছ আর সেন্টার স্থাপন করার নিমিত্ত হয়ে যাও l সুতরাং এও লাস্ট সো ফাস্ট যাওয়ার একটা বিশেষ গিফ্ট l সেবা করায় তোমাদের মেজরিটির স্মৃতিতে থাকে, তোমরা নিমিত্ত যাই করবে বা যেভাবেই চলবে, তোমাদের দেখে অন্যেরা করবে l সুতরাং এটা ডবল অ্যাটেনশন হয় l ডবল অ্যাটেনশন হওয়ার কারণে ডবল লিফ্ট হয়ে যায় l বুঝেছ - ডবল বিদেশিদের ডবল লিফ্ট l এখন সবদিকে ভূমি ঠিক হয়ে গেছে l লাঙল চষা হয়ে গেলে জমি ঠিক হয়ে যায়, তাই না ! আবার ফলও ভালো হয় আর সহজে ফল ধরে l আচ্ছা - এশিয়ার বড়ো মাইকের আওয়াজ ভারতে শীঘ্রই পৌঁছাবে, সেইজন্য এইরকম মাইক প্রস্তুত করে l আচ্ছা !

*বড়ো দাদীদের সঙ্গে :-* তোমাদের মহিমায় কি বলা যাবে ! বাবার জন্য যেমন বলা হয় - *সাগরকে কালি বানিয়ে, ধরণীকে কাগজ বানিয়ে .... তোমরা সব দাদীর মহিমা এইরকমই l বাবা যদি তোমাদের মহিমা শুরু করেন তাহলে সারা দিন-রাত চলবে, এক সপ্তাহের কোর্সের মতো হয়ে যাবে l তোমরা ভালো, সবার রাস ভালো l সবার রাশি এক, আর তোমরা সবাই ভালো রাস কর l হাতে হাত ধরা অর্থাৎ তোমাদের বিচারের মিল করা, এটাই রাস l তাইতো বাপদাদা দাদীদের এই রাস নিরন্তর দেখতে থাকেন l অষ্ট রত্নরাজির রাস এটাই l

তোমরা দাদীরা পরিবারের বিশেষ অলঙ্করণ l যদি অলঙ্করণ না হয় তাহলে শোভা হয় না l সেইজন্য তো সবাই সেই স্নেহেই তোমাদের দেখে l

*বৃজইন্দ্রা দাদীর সাথে :-* ছেলেবেলা থেকে লৌকিকে, অলৌকিকে শৃঙ্গার করছ, শৃঙ্গার করতে করতে নিজেই শৃঙ্গার হয়ে গেছ l এইরকমই তো, তাই না ! বাপদাদা যে শুধু মহাবীর মহারথী বাচ্চাদের সদা স্মরণ করেন তা' নয়, তিনি তাদের তাঁর মধ্যে সমাহিত করেন l যারা সমাহিত হয়ে আছে তাদের স্মরণ করারও প্রয়োজন নেই l বাপদাদা সদাসর্বদা প্রত্যেক বিশেষ রত্নকে বিশ্বের সামনে প্রত্যক্ষ করান l সুতরাং তুমি বিশেষ আত্মা বিশ্বের সামনে প্রত্যক্ষ হতে চলেছ l প্রত্যেকের খুশির নীরব সমর্থন পাওয়া, এক্সট্রা লাভ l তোমার খুশি দেখে সকলে খুশির রসদ পেয়ে যায়, সেইজন্য তোমাদের সবার আয়ু বৃদ্ধি হচ্ছে, কারণ সবসময় সকলের থেকে স্নেহ - আশীর্বাদ তোমার প্রাপ্ত হতে থাকে l এখন তো অনেক কাজ করতে হবে, সেইজন্য তুমি পরিবারের শোভা l সবাই কতো ভালোবাসার সাথে দেখে l যেমন কারও মাথার উপর থেকে যদি আচ্ছাদন সরে যায় তবে মাথা কী করে বাঁচবে! ছাতার আশ্রয়ে যারা থাকে, তাদের থেকে যদি তা সরে যায়, তবে কি রকম লাগবে ! তোমরাও তো পরিবারের ছত্র l

*নির্মলশান্তা দাদীর সাথে:-* মধুবনে নিজের স্মরণিক সবসময়ই দেখতে থাক l স্মরণিক স্মরণ করার জন্যই তো হয় l যতই হোক, তোমার স্মরণ স্মরণিক বানিয়ে দেয় l চলতে ফিরতে পুরো পরিবার নিমিত্ত হওয়া আধারমূর্তি স্মরণে আসতে থাকে l তাহলে তো তুমি আধারমূর্তি l স্থাপনার কার্যের আধার মূর্তি সুদৃঢ় হওয়ার কারণে এই বৃদ্ধির এবং উন্নতির বিল্ডিং কতো মজবুত হচ্ছে l কারণ ? আধার অভেদ্য l আচ্ছা !

*ডবল লাইট হও (,অব্যক্ত মুরলী থেকে বাছাই করা অমূল্য রত্ন )*

ডবল লাইট অর্থাৎ আত্মিক স্বরূপে স্থিত হওয়াতে হালকাভাব নিজে থেকেই হয়ে যায় l এইরকম ডবল লাইটকেই ফরিস্তা বলা যায় l ফরিস্তা কখনো কোনও রকম বন্ধনে আবদ্ধ হয় না l পুরানো এই দুনিয়ার, পুরানো দেহের আকর্ষণে আসে না, কারণ তারা তো হয়ই ডবল লাইট l

ডবল লাইট অর্থাৎ সদা উড়তি কলার অনুভব করে, কারণ যে হালকা হয় সে সদা উঁচুতে ওড়ে, যাদের বোঝা থাকে তারা নীচে থাকে l সুতরাং ডবল লাইট আত্মা হওয়া অর্থাৎ কোনও বোঝা না থাকা, কারণ কোনও বোঝা হলে তবে উঁচু স্থিতিতে উড়তে দেবে না l ডবল দায়িত্ব হলেও ডবল লাইট থাকলে লৌকিক দায়িত্বে কখনো ক্লান্ত হবে না, কারণ তুমি ট্রাস্টি এবং ট্রাস্টি কখনও ক্লান্ত হতে পারে না l ট্রাস্টির আর কি ক্লান্তি ! নিজের ঘর-পরিবার, নিজের সংসার ভাবলে তবেই বোঝা l নিজেরই নয়, সুতরাং বোঝা কোন বিষয়ের ! একদম স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে প্রিয় হওয়া l বালক তথা মালিক l

সদা নিজেকে বাবার কাছে সমর্পণ করে দাও, তবে সদা হালকা থাকবে l নিজের দায়িত্ব বাবাকে দিয়ে দাও, তাহলে নিজে হালকা হয়ে যাবে l বুদ্ধির দ্বারা স্যারেন্ডার হয়ে যাও l যদি বুদ্ধি দ্বারা স্যারেন্ডার হও তবে এর কোনো বিষয় বুদ্ধিতে আসবে না l ব্যস্ সবকিছু বাবার, সবকিছু বাবাতে, তাহলে তো আর কিছুই থাকল না l ডবল লাইট অর্থাৎ সংস্কার স্বভাবেরও বোঝা না হওয়া, ব্যর্থ সঙ্কল্পেরও বোঝা নয় - একে বলা যায় হালকা l যত হালকা হবে ততই সহজে উড়তি কলার অনুভব করবে l যদি যোগে সামান্যও পরিশ্রম করতে হয় তাহলে অবশ্যই কোনও বোঝা থেকে যাচ্ছে l সুতরাং বাবা, বাবা'র আধার নিয়ে নিরন্তর উড়তে থাক l

সদা এই লক্ষ্য যেন স্মরণে থাকে যে তোমাকে বাবার সমান হতে হবে, যেমন বাবা লাইট সেরকম ডবল লাইট l যখন অন্যদের দেখ তখন দুর্বল হয়ে পড়, সী ফাদার, ফলো ফাদার কর l উড়তি কলার শ্রেষ্ঠ সাধন শুধু একটা শব্দ - 'সবকিছু তোমার l' আমার' শব্দের পরিবর্তন করে 'তোমার' করে দাও l যখন বলো, আমি তোমার, তখন আত্মা লাইট l আর যখন 'সবই তোমার' তখন লাইট অর্থাৎ হালকা অনুভব করবে l যেমন শুরুতে তোমরা অভ্যাস করতে - হেঁটে যাচ্ছ কিন্তু স্থিতি এমন যাতে অন্যেরা ভাবত যে একটা লাইট চলে যাচ্ছে l তাদের শরীর দৃশ্যগোচর হতো না, এই অভ্যাসে সব পেপারে তোমরা পাস হয়ে গেছ l সুতরাং এখন যে সময় আসছে, খুব খারাপ l অতএব, ডবল লাইট থাকার অভ্যাস বাড়াও l সদাই তোমার লাইট রূপ যেন পরিলক্ষিত হয় - এটাই সেফটি l তারা সেবাস্থানে আসার সাথে সাথে তাদের লাইটের দুর্গ দেখতে দাও l

যেমন বিদ্যুতের (লাইটের) কানেকশনে বড়-বড়ো মেশিনারি চলে l তোমরা সবাই সব কর্ম করার সময় কানেকশনের আধারে নিজেও ডবল লাইট হয়ে চলতে থাক l যেখানে ডবল লাইটের স্থিতি থাকে, সেখানে পরিশ্রম আর মুশকিল শব্দ সমাপ্ত হয়ে যায় l এই সব হল আমার, এমন ভাব সমাপ্ত করে ট্রাস্টি ভাবের বোধ আর ঈশ্বরীয় সেবার উপলব্ধি হলে তবেই ডবল লাইট হয়ে যাবে l কেউ তোমাদের নিকট সম্পর্কে এলে তারা যেন অনুভব করে ইনি কোনো আধ্যাত্মিক ব্যক্তি, অলৌকিক l শুধুমাত্র তোমাদের ফরিস্তা রূপই যেন তাদের নজরে আসে l ফরিস্তা সদা উঁচুতে থাকে l চিত্ররূপেও যদি ফরিস্তাদের দেখানো হয় তো তারা পাখাসমেত অঙ্কিত হয় l কারণ তারা উড়ন্ত বিহঙ্গ l

নিরন্তর খুশির দোলায় দুলতে ও সকলের বিঘ্নহর্তা অথবা সকলের মুশকিল সমাপ্তকারী তখনই হতে পারবে, যখন তোমরা স্থিরসঙ্কল্প হবে এবং স্থিতি ডবল লাইট হবে l আমার কিছু নয়, সবকিছু বাবার l যখন বোঝা নিজের সাথে রাখ, তখন সবরকম বিঘ্ন উৎপন্ন হয় l 'আমার নয়' তো আমি বিঘ্নরহিত l সদা নিজেকে ডবল লাইট মনে করে নিরন্তর সেবা করে যাও l সেবাতে যত হালকাভাব হবে ততই সহজে উড়বে উড়াবে l ডবল লাইট হয়ে সেবা করা, স্মরণে থেকে সেবা করা - এটাই সফলতার আধার l

দায়িত্ব পালন করাও আবশ্যক, কিন্তু যতবড় দায়িত্ব তোমাদের ততখানিই ডবল লাইট হতে হবে l দায়িত্ব পালনের মধ্যে থেকেও দায়িত্বের বোঝা থেকে স্বতন্ত্র থাকা, একেই বলে বাবার প্রিয় হওয়া l কি করব, অনেক দায়িত্ব আমার ...এইরকম চিন্তা করে ঘাবড়ে যেয়োনা l এটা করব নাকি করব না... এতো করা খুব কঠিন ! এই অনুভব হওয়া অর্থাৎ বোঝা হবে ! ডবল লাইট অর্থাৎ এই উপলব্ধির ঊর্ধ্বে l যেকোনো দায়িত্ব-কর্মের বোধে চঞ্চলতার বোঝা হতে দিও না l সদা ডবল লাইট স্থিতিতে থেকে নিশ্চয়বুদ্ধি, নিশ্চিন্ত হবে l উড়তি কলায় থাকবে l উড়তি কলা অর্থাৎ সবচেয়ে উঁচু স্থিতি l এমন আত্মাদের বুদ্ধিরূপী পা ধরণীর উপরে থাকবে না l ধরণী অর্থাৎ দেহভাবের ঊর্ধ্বে l যারা দেহভাবের ধরণী থেকে উপরে থাকে তারা সদা ফরিস্তা l

এখন ডবল লাইট হয়ে দিব্য বুদ্ধিরূপী বিমান দ্বারা সবচেয়ে উচ্চ শিখরের স্থিতিতে স্থিত হয়ে বিশ্বের সকল আত্মার প্রতি লাইট আর মাইটের শুভ ভাবনা আর শুভ কামনার সহযোগের তরঙ্গ ছড়িয়ে দাও l এই বিমানে উঁচুতে উড়তে বাপদাদার রিফাইন শ্রেষ্ঠ মত অনুসরণ করতে হবে l তার মধ্যে সামান্যতম মন-মত, পরমতের জঞ্জাল পড়তে দিও না l

বরদান:-
প্রতিটি সেকেন্ড এবং প্রতিটি সঙ্কল্পের মহত্ত্ব জেনে পুণ্যের পুঁজি জমা করে পদমাপদমপতি ভব*

তোমরা সব পুণ্য আত্মার সঙ্কল্পে বিশেষ শক্তি এত আছে, যে শক্তি দ্বারা অসম্ভবকে সম্ভব করতে পার l যেমন, আজকাল যন্ত্রের সাহায্যে মরুভূমিও সবুজে ভরে ওঠে, পাহাড়েও ফুল বিকশিত হয়, এইভাবে তোমরাও তোমাদের শ্রেষ্ঠ সঙ্কল্পের দ্বারা নিরাশকে আশাপ্রদ বানাতে পার l শুধু প্রতিটা সেকেন্ড, প্রতিটা সঙ্কল্পের ভ্যাল্যু জেনে সঙ্কল্প আর সেকেন্ড ইউজ করে পুণ্যের পুঁজি জমা কর l তোমাদের সঙ্কল্পের শক্তি এত শ্রেষ্ঠ যে একটা সঙ্কল্পও তোমাদের পদমাপদমপতি বানাতে পারে l

স্লোগান:-
প্রতিটি কর্ম অধিকারী ভাবের নিশ্চয় আর নেশার সাথে যদি কর, তবে পরিশ্রমের অবসান হবে l


সূচনাঃ-
আজ মাসের তৃতীয় রবিবার, সকল রাজযোগী তপস্বী ভাই-বোনেদের সন্ধ্যা ৬ : ৩০ থেকে ৭ : ৩০ পর্যন্ত, বিশেষ যোগ অভ্যাসের সময় ভক্তদের আহ্বান শুনতে এবং আপন স্বরূপে তথা ইষ্টদেব ও দয়ালু দাতা স্বরূপে স্থিত হয়ে সবার মনোকামনা পূর্ণ করার সেবা করতে বিশেষভাবে বলা হচ্ছে l