21-03-2020 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


*"মিষ্টি বাচ্চারা - বাবা এসেছেন তোমাদের অর্থাৎ বাচ্চাদের সুখ- স্বাচ্ছন্দ্যের দুনিয়াতে নিয়ে যেতে, স্বাচ্ছন্দ্য থাকেই শান্তিধাম আর সুখধামে"*

*প্রশ্নঃ -

এই যুদ্ধের ময়দানে মায়া সবচেয়ে প্রথমে তোমাদের কোন্ ব্যাপারে আক্রমণ করে ?*

*উত্তরঃ -

দৃঢ় বিশ্বাসের উপর। চলতে-চলতে দৃঢ় বিশ্বাস ভেঙে দেয়, সেইজন্য পরাজিত হয়ে যায়। যদি সুদৃঢ় বিশ্বাস থাকে যে, বাবা অর্থাৎ যিনি সকলের দুঃখ হরণ করে সুখ প্রদান করতে সক্ষম, তিনিই আমাদের শ্রীমত দিচ্ছেন, আদি-মধ্য-অন্তের নলেজ শোনাচ্ছেন, তাহলে কখনো মায়ার কাছে পরাজিত হবে না।*

*গীতঃ-

এই পাপের দুনিয়া থেকে দূরে নিয়ে চলো...*

*ওম্ শান্তি ।* কার জন্য বলা হয়, যেখানে হয় নিয়ে চলো, যেভাবে হোক নিয়ে চলো...এটা দুনিয়াতে কেউই জানে না। তোমরা অর্থাৎ ব্রাহ্মণ কুল-ভূষণ নম্বর অনুযায়ী পুরুষার্থ অনুসারে জানো। বাচ্চারা, তোমরা জানো এঁনার মধ্যে যার প্রবেশ হয়, যিনি আমাদের নিজের আর রচনার আদি-মধ্য-অন্তের জ্ঞান শোনাচ্ছেন, তিনি সকলের দুঃখ হরণ করে সকলকে সুখদায়ী করে তোলেন। এটা কোনো নূতন ব্যাপার না। বাবা প্রতি কল্পে আসেন, সবাইকে শ্রীমত প্রদান করছেন। বাচ্চারা জানে বাবাও হলেন সেই তিনিই, আমরাও হলাম সেই। বাচ্চারা, তোমাদের এটা সুনিশ্চিত হওয়া উচিত। বাবা বলেন আমি এসেছি বাচ্চাদের সুখধাম, শান্তিধাম নিয়ে যেতে। কিন্তু মায়া দৃঢ় বিশ্বাস রাখতে দেয় না। সুখধামে যেতে যেতে আবার পরাজিত করে দেয়। এটা যে যুদ্ধের ময়দান। সেই যুদ্ধ হলো বাহুবলের, এখানে হলো যোগবলের। যোগবল হলো খুবই নামীদামী, এই জন্য সবাই যোগ যোগ বলতে থাকে। তোমরা এই যোগ এক বারই শেখো। এছাড়া তারা সবাই অনেক ধরনের হঠযোগ শিখিয়ে থাকে। এটা তাদের জানা নেই যে, বাবা কীভাবে এসে যোগ শেখাচ্ছেন। সে তো প্রাচীন যোগ, শেখানো যায় না। বাচ্চারা, তোমরা ভালোভাবে জানো ইনি সেই বাবা, রাজযোগ শেখাচ্ছেন, যাঁকে স্মরণ করা হয়- হে পতিত-পাবন এসো। এমন জায়গায় নিয়ে চলো যেখানে স্বাচ্ছন্দ্য থাকবে। স্বাচ্ছন্দ্য বা আরাম আছেই শান্তিধাম, সুখধামে। দুঃখধামে স্বাচ্ছন্দ্য কোথা থেকে এলো? স্বাচ্ছন্দ্য বা আরাম নেই, তাই তো ড্রামা অনুসারে বাবা আসেন, এটা হলো দুঃখধাম। এখানে দুঃখ আর দুঃখ। দুঃখের পাহাড় যেন ভেঙে পড়ছে। যদি অনেক ধনবানও হয়, কোনো না কোনো দুঃখ অবশ্যই থেকে যায়। বাচ্চারা, তোমরা জানো যে আমরা মিষ্টি বাবার সাথে বসে আছি, যে বাবা এখন এসেছেন। ড্রামার রহস্যকেও তোমরা এখন জেনেছো। বাবা এখন এসে গেছেন আমাদের সাথে নিয়ে যাবেন। বাবা আমাদের অর্থাৎ আত্মাদের বলেন, কারণ তিনি যে আমাদের- এই আত্মাদেরই পিতা। যার জন্যই গায়ন আছে দীর্ঘ সময় আত্মারা পরমাত্মার সাথে বিচ্ছিন্ন ছিল। শান্তিধামে সমস্ত আত্মারা সাথে থাকে। এখন বাবা তো এসেছেন, বাকী যারা অল্পবিস্তর সেখানে থেকে গেছে, তারাও উপর থেকে নীচে আসতে থাকে। বাবা এখানে তোমাদের কতো কথা বোঝাতে থাকেন। বাড়ী গিয়ে তোমরা ভুলে যাও। অনেক সহজ ব্যাপার হলো আর বাবা, যিনি হলেন সকলের সুখদাতা, শান্তিদাতা- তিনি বাচ্চাদের বসে বোঝান। তোমরা হলে কতো অল্প সংখ্যক। ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে থাকবে। বাবার সাথে তোমাদের গুপ্ত লভ(ভালোবাসা) আছে। যেখানেই থাকো, তোমাদের বুদ্ধিতে থাকবে- বাবা মধুবনে বসে আছেন। বাবা বলেন যে আমাকে সেখানে অর্থাৎ মূলবতনে স্মরণ করো। তোমাদেরও নিবাস স্থল সেখানে হলে তো অবশ্যই বাবাকে স্মরণ করবে, যাকে বলা হয় তুমিই মাতা-পিতা। তিনি একেবারেই এখন তোমাদের কাছে এসেছেন। বাবা বলেন আমি তোমাদের নিয়ে যেতে এসেছি। রাবণ তোমাদের পতিত তমোপ্রধান করেছে, এখন সতোপ্রধান পবিত্র হতে হবে। পতিত কীভাবে চলতে পারে! পবিত্র তো অবশ্যই হতে হবে। এখন একজন মানুষও সতোপ্রধান নেই। এটা হলো তমোপ্রধান দুনিয়া। এটা মানুষেরই কথা। মানুষের জন্যই নিজের গৃহে ছিলাম। সেখানে তো সব পবিত্র আত্মারা থাকে। অপবিত্র থাকতে পারে না। ওর নামই হলো মুক্তিধাম। এখন বাবা তোমাদের পবিত্র করে পাঠিয়ে দেন। আবার তোমরা ভূমিকা পালন করতে সুখধামে আসো। সতো, রজো, তমোতে তোমরা আসো।

গলা ছেড়ে ডাকেও - বাবা আমাদের ওখানে নিয়ে চলো যেখানে আরাম আছে। সাধু - সন্ত ইত্যাদি কারোরই এটা জানা নেই যে, স্বাচ্ছন্দ্য বা আরাম কোথায় পাওয়া যেতে পারে?এখন তোমরা অর্থাৎ বাচ্চারা জানো আমাদের সুখ-শান্তির স্বাচ্ছন্দ্য কোথায় পাওয়া যাবে। বাবা এখন আমাদের ২১ জন্মের জন্য সুখ প্রদান করতে এসেছেন। এছাড়া যারা পরে আসে তাদের সকলকে মুক্তি দিতে এসেছেন। দেরীতে যারা আসে তাদের পার্ট হলোই সামান্য। তোমাদের পার্ট হলো সবচেয়ে বড়। তোমরা জানো যে আমরা ৮৪ জন্মের ভূমিকা (পার্ট) পালন করে এসে এখন সেটা সম্পূর্ণ করেছি। চক্র এখন সম্পূর্ণ হয়। সমগ্র পুরানো বৃক্ষের সম্পূর্ণতা আসে। এখন তোমাদের এই গুপ্ত গভর্নমেন্ট দৈবী বৃক্ষের কলম রোপণ করছে। সেই লোকেরা তো জঙ্গলী বৃক্ষের কলম রোপণ করতে থাকে। এখানে বাবা কাঁটাকে পরিবর্তন করে দৈবী ফুলের বৃক্ষ তৈরী করে। সেটাও হলো গভর্নমেন্ট, এটাও হলো গুপ্ত গভর্নমেন্ট। তারা কি করে আর এরা কি করে! কতো পার্থক্য দেখো। তারা তো কিছুই বোঝে না। বৃক্ষের কলম সারিবদ্ধ ভাবে রোপণ করতে থাকে, সেইসব জঙ্গলে বৃক্ষ তো অনেক রকমের হয়। কেউ একরকম লেখায় তো কেউ আরেক রকম। বাচ্চারা, বাবা এখন তোমাদের আবার দেবতা করে তুলছেন। তোমরা সতোপ্রধান দেবতা ছিলে আবার ৮৪ জন্মের চক্র আবর্তন করে তমোপ্রধান হয়ে গেছো। কেউ সব জন্মে পবিত্র থাকবে, এটা হয় না। প্রতিটা জিনিস নূতন থেকে পুরানো হয়। তোমরা ছিলে ২৪ ক্যারট সোনা, এখন ৯ ক্যারেট সোনার গহনা হয়ে গেছো, আবার ২৪ ক্যারেট হতে হবে। আত্মারা যে এরকম হয়েছে। যেরকম সোনা সেরকম গহনা হয়।এখন সব কুৎসিত-কলঙ্কিত হয়ে গেছে। সম্মান রক্ষার্থে কুৎসিত শব্দ না বলে কলঙ্কিত বলে দেয়। আত্মা সতোপ্রধান পিওর ছিলো, আবার কতো খাদ পড়ে গেছে। এখন আবার পিওর হওয়ার জন্য বাবা যুক্তিও বলে দেন। এটা হলো যোগ অগ্নি, তোমাদের খাদ এতেই পরিষ্কার হয়ে যাবে। বাবাকে স্মরণ করতে হবে। বাবা নিজে বলেন, আমাকে এইভাবে স্মরণ করো। আমিই হলাম পতিত-পাবন । অনেক বার আমি তোমাদের পতিত থেকে পবিত্র করেছি। এটাও তোমরা আগে জানতে না। এখন তোমরা মনে করো- আজ আমরা পতিত হয়েছি, কালকে আবার পবিত্র হবো। ওরা তো কল্পের সময় লক্ষ বছর করে দিয়ে মানুষকে ঘোর অন্ধকারে ফেলে দিয়েছে। বাবা এসে সমস্ত ব্যাপার ভালো ভাবে বুঝিয়ে দেন। বাচ্চারা, তোমরা জানো যে আমাদের কে পড়াচ্ছেন, জ্ঞানের সাগর পতিত-পাবন বাবা- যিনি হলেন সকলের সদ্গতি দাতা। ভক্তি মার্গে মানুষ কতো মহিমা করতে থাকে কিন্তু তার অর্থ কিছুই জানে না। স্তুতি করার সময় সবাইকে নিয়ে মিলিয়ে করে দেয়। যেমন গড়-গড় করে বলে দেয়, যে যা শেখায় কন্ঠস্থ করে নেয়।বাবা এখন বলেন যা কিছু শিখেছিলে সেই সমস্ত ভুলে যাও। বেঁচে থেকেও আমার হও। গৃহস্থ ব্যবহারে থেকেও যুক্তির সাথে চলতে হবে। এক বাবাকেই স্মরণ করতে হবে। তাদের তো হলোই হঠ- যোগ। তোমরা হলে রাজযোগী। বাড়ীর লোককেও এরকমই শিক্ষা দিতে হবে। তোমাদের চলন দেখে সেইরকমই ফলো (অনুসরণ) করবে। নিজেদের মধ্যে কখনো লড়াই ঝগড়া করো না। যদি লড়াই করো তো আর সকলে কি মনে করবে, এর মধ্যে তো অনেক ক্রোধ আছে। তোমাদের মধ্যে কোনো বিকার থাকবে না। মানুষের বুদ্ধিকে খারাপ করার জন্য বায়োস্কোপ(সিনেমা)-এটার মতো একটা হেল (নরক) আছে। সেখানে গেলেই বুদ্ধি খারাপ হয়ে যায়। দুনিয়াতে কতো নোংরা আছে। একদিকে গভর্নমেন্ট আইন পাশ করায় যে ১৮ বছরের আগে কেউ বিবাহ করবে না, আবার প্রচুর বিবাহ হতেও থাকে। ছোটো কন্যাকে কোলে বসিয়ে বিবাহ করায়। তোমরা এখন জানো যে বাবা আমাদের এই ছি-ছি দুনিয়া থেকে নিয়ে যাবেন। আমাদের স্বর্গের মালিক করে তোলেন। বাবা বলেন নষ্টমোহা হয়ে যাও, শুধুমাত্র আমাকে স্মরণ করো। আত্মীয় কুটুম্ব, পরিবারের মধ্যে থেকেও আমাকে স্মরণ করো। কিছু পরিশ্রম করলে তবে তো বিশ্বের মালিক হবে। বাবা বলেন মামেকম্ অর্থাৎ একমাত্র আমাকে স্মরণ করো আর আসুরী গুণ ত্যাগ করো। রোজ রাত্রে নিজের তালিকা বের করো। এটা হলো তোমাদের ব্যবসা। এই ব্যবসা বিরল কেউ করে থাকে। এক সেকেন্ডে কাঙালকে মুকুটধারী করে দেয়, এটা যাদু হয়ে দাঁড়ালো যে না! এরকম যাদুগরের হাত তো ধরে নেওয়া উচিত। যিনি আমাদের যোগবলের দ্বারা পতিত থেকে পবিত্র করে তোলেন। দ্বিতীয় কেউ করতে পারবে না। গঙ্গা-মায়ের কাছে কেউ পবিত্র হতে পারে না। তোমাদের অর্থাৎ বাচ্চাদের মধ্যে কত জ্ঞান আছে। তোমাদের ভিতরে-ভিতরে খুশী হওয়া উচিত- বাবা আবার এসেছেন। দেবীদেরও কতো চিত্র ইত্যাদি তৈরী করে, তাদের হাতিয়ার দিয়ে ভয়ঙ্কর বানিয়ে দেয়। ব্রহ্মারও কতো হাত দিয়ে দেয়, এখন তোমরা বুঝতে পারো ব্রহ্মার হাত তো লক্ষ সংখ্যক হবে। এতো সব ব্রহ্মাকুমার- কুমারীরা এই বাবার উৎপত্তি যে না, তো প্রজাপিতা ব্রহ্মার এত্তো হাত আছে।

এখন তোমরা হলে রূপ-বসন্ত। তোমাদের মুখ থেকে সর্বদা রত্ন নির্গত হওয়া উচিত। জ্ঞান রত্ন ব্যাতীত আর কোনো কথা নয়। এই রত্নের ভ্যালু (মূল্যায়ণ) আর কেউ করতে পারবে না। বাবা বলেন মন্মনাভব (তোমার মন আমার প্রতি নিযুক্ত করো)। বাবাকে স্মরণ করলে দেবতা হবে। আচ্ছা!

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

*রাত্রি ক্লাস ১১-৩-৬৮*

তোমাদের কাছে প্রদর্শনী উদ্বোধন করবার জন্য বড়- বড় লোক আসে। তারা শুধু এটা মনে করে যে ভগবানকে পাওয়ার জন্য এরা এই বেশ ভালো পথ বের করেছে। যেমন ভগবানকে প্রাপ্ত করার জন্য সৎসঙ্গ ইত্যাদি করে, বেদ পড়ে সেরকম এটাও এরা এই পথ নিয়েছে। তাছাড়া এটা বুঝতে পারে না যে, এদেরকে ভগবান পড়াচ্ছেন। শুধু ভালো কাজ করে, পবিত্রতা আছে আর ভগবানের সাথে মিলিত করায়। এই দেবীরা ভালো পথ বের করেছে, ব্যাস্। যাকে দিয়ে উদ্বোধন করানো হয় সে তো নিজেকে খুবই উচ্চ মানের মনে করে। কোনো বড় ব্যক্তি বাবাকে মনে করে কোনো মহান পুরুষ, গিয়ে ওনার সাথে মিলিত হয়। বাবা তো বলেন, প্রথমে ফর্ম ভরে পাঠাও। বাচ্চারা, প্রথমে তোমরা ওদের কাছে বাবার সম্পূর্ণ পরিচয় দাও। পরিচয় ব্যাতীত এসে কি করবে! শিববাবার সাথে তো তখনই মিলিত হতে পারবে যখন সম্পূর্ণ বিশ্বাস থাকবে। পরিচয় ব্যাতীত মিলিত হয়ে কি করবে! বিত্তশালী কেউ এলে, মনে করে আমি এনাকে কিছু দেব। গরীব কেউ এক টাকা দেয়, বিত্তশালী যে ১০০ টাকা দেয়, গরীবের এক টাকা ভ্যালুয়েবেল(মূল্যবান) হয়ে যায়। সেই বিত্তশালী লোকেরা তো কখনো স্মরণের যাত্রাতে সঠিক ভাবে থাকতে পারে না, তারা আত্মঅভিমানী হতে পারে না। প্রথমে তো পতিত থেকে কীভাবে পবিত্র হবে সেটা লিখে দাও, তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হতে হবে। এর মধ্যে প্রেরণা ইত্যাদির কোনো ব্যাপার নেই। বাবা বলেন, মামেকম্ অর্থাৎ একমাত্র আমাকে স্মরণ করলে মরচে দূর হয়ে যাবে। প্রদর্শনী ইত্যাদি দেখতে আসে কিন্তু আবার দুই- তিনবার এসে বুঝলে তখন বোঝা যাবে এর কিছু তীর লেগেছে। দেবতা ধর্মের হবে, সে ভক্তি ভালো রকম করেছে। যদি কারোর ভালো লাগেও কিন্তু লক্ষ্যকে ধরে না, তবে সেটা কোন কাজের হলো তোমরা অর্থাৎ বাচ্চারা এটা জানো যে ড্রামা চলতে থাকবে। যা কিছু চলেছে বুদ্ধি দ্বারা মনে করে কি হচ্ছে! তোমাদের বুদ্ধিতে ৮৪ জন্মের চক্র আবর্তিত হতে থাকে, রিপিট (পুনরাবৃত্তি) হতে থাকে। যে যা কিছু করেছে সে সেইটাই করে। বাবা কার থেকে নেবেন, না নেবেন তাঁর হাতে আছে। যদি সে কখনো সেন্টার ইত্যাদি খোলে, পয়সা কাজে আসে। তখন তোমাদের প্রভাব বের হবে, পয়সা আবার কি করবে! মূল ব্যাপার হলো পতিত থেকে পবিত্র হওয়া। সেটা তো হলো খুব মুশকিল, এতে লেগে পড়ো আমাদের তো বাবাকে স্মরণ করতে হবে। রুটি খাও আর বাবাকে স্মরণ করো। মনে করবে আমি তো প্রথমে বাবার থেকে উত্তরাধিকার নেব। আমি হলাম আত্মা- প্রথমে তো এটা সুনিশ্চিত করা চাই। এইভাবে কেউ যখন বের হবে তখন তীব্র ভাবে দৌড়াতে পারবে। বাস্তবে তোমরা অর্থাৎ বাচ্চারা সমগ্র বিশ্বকে যোগবলের দ্বারা পবিত্র করে তোলো, তাই বাচ্চাদের কতো নেশা থাকা দরকার। মূল কথা হলোই পবিত্রতার। এখানে পড়ানোও হয় আর পবিত্রও হয়ে উঠতে হয়, স্বচ্ছও থাকতে হয়। মনের ভিতরে আর কোনো কথা স্মরণে থাকতে নেই। বাচ্চাদের বোঝানো হয় অশরীরী ভব। এখানে তোমরা ভূমিকা পালন করতে এসেছো। সবাইকে নিজের-নিজের পার্ট পালন করতেই হবে। এই নলেজ বুদ্ধিতে থাকা উচিত। সিঁড়ির উপরেও তোমরা বোঝাতে পারো। রাবণ রাজ্য হলোই পতিত, রামরাজ্য হলো পবিত্র। আবার পতিত থেকে পবিত্র কীভাবে হবে, এরকম ধরনের ব্যাপারে বিশ্লেষণ করা উচিত, একেই বিচার সাগর মন্থন করা বলা হয়। ৮৪ জন্মের চক্র স্মরণে আসা উচিত। বাবা বলেছেন- আমাকে স্মরণ করো। এটা হলো আত্মীক যাত্রা। বাবার স্মরণেই বিকর্ম বিনাশ হয়।ওই শারীরিক যাত্রাতে আরোই বিকর্ম হতে থাকে। বলো, এটা হলো তাবিজ। এটা বুঝলেও দুঃখ দূর হয়ে যায়। তাবিজ পড়েই দুঃখ দূর হওয়ার জন্য। আচ্ছা!

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর গুডনাইট।

*ধারণার জন্যে মুখ্য সারঃ-*

*১ )*নষ্টমোহ হয়ে বাবাকে স্মরণ করতে হবে। আত্মীয় কুটুম্ব, পরিবারের মধ্যে থেকে বিশ্বের মালিক হওয়ার জন্য পরিশ্রম করতে হবে। অবগুণকে ত্যাগ করতে থাকতে হবে।

*২ )* নিজের আচার আচরণ এমন রাখতে হবে যা দেখে সবাই ফলো করবে। কোনো রকম বিকার যেন ভিতরে না থাকে, এটা নিরীক্ষণ করতে হবে।

*বরদানঃ-*

বাবার প্রতিটি শ্রীমৎ পালন করে সত্যিকারের স্নেহের প্রিয়তমা ভব*

যে বাচ্চারা সর্বদা এক বাবার স্নেহে লভলীন থাকে, তাদের কাছে বাবার প্রতিটি কথা প্রিয় মনে হয়, কোয়েশ্চেন(প্রশ্ন) সমাপ্ত হয়ে যায়। ব্রাহ্মণ জন্মের ফাউন্ডেশন(ভিত্তি) হলো স্নেহ। যে স্নেহের প্রিয়তমা আত্মারা আছে তাদের বাবার শ্রীমত পালন করতে কঠিন অনুভব হয় না। স্নেহের কারণে সর্বদা এই উৎসাহ থাকে যে, বাবা যা বলেছেন সেটা আমার জন্যই বলেছেন- আমাকে করতে হবে। স্নেহী আত্মারা বৃহৎ হৃদয়ের অধিকারী হয়, সেইজন্য তাদের জন্য প্রতিটি বড় ব্যাপারও ছোট হয়ে যায়।

*স্লোগানঃ-*

যে কোনো কথাতেই ফিল(অনুভব) করা - এটাও হলো ফেল করার লক্ষণ।*