21.06.2022 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - দেবতাদের থেকেও উচ্চ হলো তোমাদের এই ব্রাহ্মণ জীবন, কেননা এই সময় তোমরা তিন লোক আর তিন কালকে জানতে পারো, তোমরা হলে ঈশ্বরীয় সন্তান"

প্রশ্নঃ -
বাচ্চারা, তোমরা এখন কোন্ উচ্চ চড়াই চড়ো ?

উত্তরঃ  
মনুষ্য থেকে দেবতা হওয়া, এ হলো উচ্চ চড়াই, যে উত্তরণের পথে তোমরা চলেছো । এমন বলাও হয়ে থাকে যে -- 'চড়লে চেখে দেখবে প্রেম রস......' এ হলো অনেক লম্বা উত্তরণ, কিন্তু আশ্চর্যের কথা হলো, তোমরা উত্তরণ করো এক সেকেন্ডে, আর নামতে সময় লাগে ।

প্রশ্নঃ -
পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়ে ভেঙ্গে গেলেই জয়জয়াকার হয়, ভক্তিমার্গে এর কী নিদর্শন রয়েছে ?

উত্তরঃ -
ভক্তিমার্গে দেখানো হয় যে, ঘড়া থেকে সীতার জন্ম হয়েছিলো, অর্থাৎ যখন পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়ে ভেঙ্গে যায়, তখনই সীতা আর রাধার জন্ম হয় ।

গীত :-
এই পাপের দুনিয়ার থেকে....

ওম্ শান্তি ।
মিষ্টি - মিষ্টি বাচ্চারা ভক্তিমার্গের এই গীত শুনেছে । মানুষ ডাকতে থাকে যে -- এই পতিত দুনিয়ার থেকে পাবন দুনিয়াতে নিয়ে চলো । অশান্তির দুনিয়া থেকে শান্তির দুনিয়ায় নিয়ে চলো । বুদ্ধিতে থাকে যে, অন্য কোনো দুনিয়া আছে, যেখানে শান্তিও ছিলো, আবার সুখও ছিলো । সেখানে মহারাজা - মহারানী, লক্ষ্মী - নারায়ণের রাজ্য ছিলো, যার চিত্রও এখানে আছে । মানুষ যে হিস্ট্রি - জিওগ্রাফি পড়ে, সে তো কোয়ার্টার দুনিয়ার । অর্ধেক কল্পেরও নেই তাতে । সত্যযুগ আর ত্রেতার কথা তো কেউই জানে না । মানুষের তো চোখই বন্ধ । মানুষ যেন অন্ধ । এই ওয়ার্ল্ডের হিস্ট্রি - জিওগ্রাফি কেউই জানে না । এই ওয়ার্ল্ড কতো বড় । কখন নতুন ওয়ার্ল্ড শুরু হয়েছে, তারপর তা আবার পুরানো হয়, আবার পুরানো থেকে কবে নতুন হয়, এসব কথা তোমরা বাচ্চারাই জানো । তৈরী তো অবশ্যই হবে, তাই না । গোল্ডেন, সিলভার, কপার, আয়রনে আসতেই হবে । কলিযুগের পরে সত্যযুগ আবারও অবশ্যই হবে । সঙ্গম যুগে সত্যযুগ স্থাপনকারী আসবেন । একথা বোঝার জন্য অনেক সূক্ষ্ম বুদ্ধির প্রয়োজন । কলিযুগকে সত্যযুগ তৈরী করেন বাবা-ই । এতো সহজ কথাও কারোর বুদ্ধিতে আসে না, কেননা বুদ্ধিতে মায়ার তালা লেগে গিয়েছে । মানুষ পরমপিতা পরমাত্মার মহিমাও করে - হে পরমপিতা পরমাত্মা, তুমিই বুদ্ধিমানের বুদ্ধি । আর সকলেই আসুরী মত প্রদানকারী, শ্রেষ্ঠ মত একমাত্র বাবা-ই প্রদান করেন । মানুষ মহিমা করে থাকে, কিন্তু কিছুই বুঝতে পারে না ।

বাচ্চারা, তোমরা এখন তিন লোকের জ্ঞান পেয়েছো । এমন নয় যে, তোমাদের কেবল এই জগতের জ্ঞান আছে, তোমরা এখন অসীম জগৎকেও জানো । তোমাদের বুদ্ধিতে এখন মূলবতন, সূক্ষ্মবতন এবং স্থূলবতন, এই তিন লোকের জ্ঞান আছে । যারা খুব ভালোভাবে পড়ে, তাদের বুদ্ধিতেই এই জ্ঞান থাকে । তোমরা যখন স্কুলে পড়াশোনা করো, তখন সেই পড়া তো সম্পূর্ণভাবে বুদ্ধিতে থাকা চাই । এই তিন কালের জ্ঞান তোমাদের বুদ্ধিতেই আছে । তোমরা ত্রিকালদর্শী হও । তোমাদের ত্রিলোকীনাথ বলা হবে না । ত্রিলোকীনাথ কেউ হয় না । ত্রিকালদর্শী শব্দটা সঠিক । তিন লোক আর তিন কালকে তোমরাই জানো । বরাবর আমরা মূলবতনে থাকতাম । আমরা আত্মারা ওখানে নিবাস করি । এই জ্ঞান আর কারোর বুদ্ধিতেই নেই । একথা তোমরা জানো যে, পরমপিতা পরমাত্মা হলেন ত্রিকালদর্শী । তিনি আদি - মধ্য এবং অন্তকে, আর ত্রিলোককে জানেন । লক্ষ্মী - নারায়ণকে বৈকুণ্ঠনাথ বলা যেতে পারে, কিন্তু ত্রিলোকীনাথ নয় । তাঁরা হেভেন বা স্বর্গের মালিক । বাবাকে স্বর্গ বা প্যারাডাইসের মালিক বলা হবে না । তাই এও হলো বোঝার মতো কথা । পরমাত্মার মতো কোনো মানুষ হতে পারে না । এমন বলাও হয় যে, পরমাত্মা জানিজাননহার অরিসর্বজ্ঞ । তিনি নলেজফুল, কিন্তু অর্থ কিছুই জানে না । মানুষ মনে করে, তিনি জানিজাননহার, তাই মানুষের মনের কথা জানতে পারবেন । সর্বব্যাপী বলেও মানুষ তাঁর গ্লানি করে দেয় ।

তোমরা তো এখন ঈশ্বরীয় বংশাবলী, এরপর দৈবী বংশাবলী হবে । ঈশ্বর বড়, নাকি সত্যযুগের দেবতারা বড় ? ওই দেবতাদের থেকে বড় হলো সূক্ষ্মবতনবাসী দেবতা । সূক্ষ্মবতনবাসী ব্রহ্মাকে তো বড় বলা হবে, তাই না ! তিনি হলেন-ই অব্যক্ত । ইনি তো ব্যক্ত, তাই না । ইনি যখন পাবন - ফরিস্তা হন, তখনই মহিমা । ব্রাহ্মণদের যদি এখন অলংকার দেওয়া হয়, তাহলে সেই অস্ত্রশস্ত্র এখন শোভা দেবে না । তাই বিষ্ণুকে স্বদর্শন চক্রধারী দেখানো হয় । শঙ্খ, চক্র, গদা, পদ্ম - এর অর্থও তোমরা এখন জেনে গেছো । সত্যযুগে লক্ষ্মী - নারায়ণকে তো আর অস্ত্রশস্ত্র দেবে না । এ হলো এখনকার কথা । বাস্তবে এ হলো জ্ঞানের অস্ত্রশস্ত্র । এখানে স্থূল হাতিয়ারের কোনো কথা নেই । শাস্ত্রতে তো স্থূল হাতিয়ার ইত্যাদি দেখানো হয়েছে । পাণ্ডব আর কৌরবদের দেখানো হয়েছে, কিন্তু ওখানে নারীদেরকে দেখানো হয়নি । পাণ্ডব সেনাতে পুরুষ দেখানো হয়েছে, বাকি শক্তি সেনারা কোথায় গেলো ? এ হলো গুপ্ত । কেউই জানে না যে, এই শিব শক্তিরা কোথায় গেলো । এদের বৃত্তান্ত কিছুই দেখানো হয় না । শক্তিরা কিভাবে লড়াই করেছিলো । সেনা তো দেখানো হয়, তাই না । কেউই বুঝতে পারে নি, যে যা কিছুই বলেছে, সে সব লিখে দিয়েছে । যথার্থ ভাবে তোমরাই এখন জানো । আমরা সবাই হলাম অভিনেতা । প্রত্যেক আত্মাই তার নিজস্ব পার্ট পেয়েছে । বাবা, যাঁকে ক্রিয়েটর, ডায়রেক্টর এবং মুখ্য এক্টর বলা হয়, তাঁর কাছ থেকেই তোমরা সমস্ত ড্রামার রহস্য জানতে পারো । এখানে চার যুগ আছে, অথবা চার ভাগ আছে, যাকে যুগ বলা হয় । বাস্তবে হলো পাঁচ, পাঁচ নম্বর হলো এই কল্যাণকারী যুগ । সত্যযুগ আর ত্রেতার সঙ্গমকে কল্যাণকারী বলা হবে না, কেননা তখন অবতরণের কলা হতে থাকে । সতোপ্রধান, সতঃ, রজঃ, তমঃ - এই হলো সিঁড়ি । তাই এই সিঁড়ি দিয়ে নামতেই হয় । জ্ঞানে তোমরা একবারই লাফ দাও, তারপর উপরে চড়ে যাওয়া সিঁড়ি দিয়ে আবার নামতে থাকো । সিঁড়ি দিয়ে নামা খুবই সহজ হয়ে যায় । চড়া খুবই মুশকিল হয় । তোমরা কতো পরিশ্রম করো মনুষ্য থেকে দেবতা হওয়া, এ তো উঁচু সিঁড়ি, তাই না । এমন তো বলা হয় যে - চড়লে প্রেম রস চাখবে...। তোমরা জানো যে, এখন আমরা উত্তরণের কলাতে আছি এরপর যখন নেমে যাও, তখন চুরমার হয়ে যাও । কতো সময় লাগে । এ অনেক লম্বা আরোহণ । তোমরা জানো যে, এখন আমরা আরোহণ করছি, এরপর নামতে থাকবো । এই আরোহণ করতে এক সেকেন্ড সময় লাগে, পরের দিকে যারা আসবে তারা এক সেকেন্ডে চড়তে পারবে । অবলা মাতাদের উপর কতো অত্যাচার হয় । বাচ্চারা ডাকতে থাকে -- বাবা, নগ্ন হওয়া থেকে রক্ষা করো । অনেক বাচ্চা আছে । অবলাদের উপর অনেক অত্যাচার হয়, মারধোর করে, তখন তাদের পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়, পূর্ণ হয়ে তা ফেটে যায় । এমন দেখানো হয় তো, ঘড়া থেকে সীতা নির্গত হয়েছিলো । এখন তোমরা বাচ্চারা প্রকৃত সীতা রূপে বের হচ্ছো । রাধাও যেমন নির্গত হয়েছিলো, সীতাও তেমন নির্গত হয়েছিলো । রঘুপতি রাঘব রাজা রাম এই গানে সীতার নাম দিয়ে দিয়েছে । জগদম্বা - জগৎ পিতাই আবার রাজ - রাজেশ্বর, রাজ - রাজেশ্বরী হন । এনারা লক্ষ্মী - নারায়ণ ছিলেন, তারপর অন্তিমে দেখো কি হয়ে যান । সত্যযুগে এতো ৩৩ কোটি মানুষ ছিলো না । ওখানে তো খুব অল্পসংখ্যক থাকে । পরে বৃদ্ধি পায় । দৈবী সম্প্রদায়ই পুনর্জন্ম গ্রহণ করতে করতে আবার আসুরী সম্প্রদায় হয়ে যায় । এখন বাবা আবার আসুরী সম্প্রদায়কে দৈবী সম্প্রদায় তৈরী করছেন । তিনি কল্পে - কল্পে তৈরী করেন । তোমাদের বুদ্ধিতে এখন সম্পূর্ণ জ্ঞান এসে গেছে । তোমরাই ত্রিকালদর্শী হও । তোমরা তিন লোকের নলেজও প্রাপ্ত করেছো । তোমরা বলবে, আমরাই পূজ্য বৈকুণ্ঠ নাথ ছিলাম, এখন পূজারী নরকের নাথ হয়ে গেছি । 'আমিই সেই' - এই নামের যথার্থ অর্থ না জানার কারণেই 'আত্মাই পরমাত্মা' এমন বলে দেয় । কতো তফাৎ করে দিয়েছে । তোমাদের এখন বোঝানো হয়েছে, এ হলো ওয়ার্ল্ডের হিস্ট্রি - জিওগ্রাফি । তোমরা অসীম জগতের এই চক্রকেও জেনে গেছো । তিন লোক, তিন কালকেও তোমরাই জানো ।

বাবা এই গুপ্ত বিষয় পড়ান । কেউই জানে না -- গীতাতে এমন কথাই নেই । এই জ্ঞান যাঁর কাছে আছে, তিনিই শেখাবেন । আবার নিজের পার্ট সেই একই সময় রিপিট করবেন । ক্রাইস্টও নিজের পার্ট নিজের সময়েই রিপিট করবেন । তোমরা জানো যে, আমরাই সূর্যবংশী, চন্দ্রবংশী, বৈশ্য এবং শূদ্রবংশী হই । এই চক্র ঘুরতে থাকে । ইসলামীরা, বৌদ্ধরাও তাদের পার্ট রিপিট করবে । যখন এক দেবী - দেবতা ধর্ম থাকে, তখন অন্য সব ধর্ম থাকে না । ওয়ার্ল্ড তো একটাই । বাবা রচয়িতা আর রচনার রহস্য বুঝিয়ে বলেছেন, এই জগতের প্রত্যেক মানুষই ব্রহ্মা । বাচ্চাদের জন্ম দেয় এবং তাদের পালনা করে । রচনা উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করে তার রচয়িতা বাবার থেকে । ভাই, ভাইকে উত্তরাধিকার দেয়, এমন কথা কবে শুনেছো ? বাচ্চারা জানে যে, এক তো হলো জাগতিক পিতা, এ তো সবাই জানে । জাগতিক পিতার কাছ থেকে এই জগতের উত্তরাধিকার পাওয়া যায় । লৌকিক টিচারও শিক্ষা দেয়, তার পড়ানোতে কেউই সম্পূর্ণ সৃষ্টির মালিক হয় না, এ হলো অসীম জগতের কথা । জগতের সবাই ওই অসীম জগতের বাবাকে স্মরণ করে । তাঁকে বলা-ই হয় বাবা, শিব বাবা । রচয়িতাকে তো বাবা বলা হবে, তাই না । কেবল বাবা হলো হালকা নাম, তাই শিব বাবা বলা হয় । তিনি হলেন নিরাকার । তোমাদের জিজ্ঞেস করা হয় - শিব বাবার সঙ্গে তোমাদের কি সম্বন্ধ ? মানুষ বলে থাকে - শিব বাবা, ঝুলি ভরে দাও । বাবার শিব নাম হলো যথার্থ । শঙ্করের চিত্র আলাদা । শিব আর শঙ্কর, এদের দুজনকে মিলিয়ে শিব - শঙ্কর বলা, এ তো অনেক বড় ভুল । মানুষ উঁচুর থেকেও উঁচু বাবাকে ভুলে গিয়েছে । শিব খুবই সুন্দর । ব্রহ্মার দ্বারা এখন স্থাপনা হচ্ছে । জ্ঞানও এখনই প্রাপ্ত হবে । তোমরা এখনই ব্রাহ্মণ হয়েছো । ব্রাহ্মণ কোথা থেকে এসেছে ? আমিই তাদের দত্তক নিই । ব্রহ্মাকেও আমি দত্তক নিয়েছি । ব্রহ্মার দ্বারা ব্রাহ্মণদের জন্ম হয়েছে । তোমরা জানো যে, এখন আমরা প্রজাপিতা ব্রহ্মাকুমার - ব্রহ্মাকুমারী । প্রজাপিতা অক্ষর অবশ্যই দিতে হবে । কেবল ব্রহ্মা বললে হবে না, ব্রহ্মা নাম তো অনেকেরই আছে । প্রজাপিতা ব্রহ্মা নাম তো কারোরই হবে না । ইনি তো মনুষ্য, তাই না । রুদ্র শিব বাবা এই যজ্ঞের রচনা করেছেন । তাহলে অবশ্যই ব্রাহ্মণের প্রয়োজন । তোমরা জানো যে, কিভাবে ব্রাহ্মণ হয় । ব্রাহ্মণদের দ্বারাই যজ্ঞ রচনা করা হয় । তোমরা ব্রাহ্মণ, এরপর তোমাদের দেবতা হতে হবে । এই সৃষ্টিতেই আবার আসতে হবে, তাহলে এরা সবাই কোথায় যাবে ? এই রুদ্র জ্ঞান যজ্ঞে সবাই স্বাহা হয়ে যায় । এই রুদ্র জ্ঞান যজ্ঞে পুরানো দুনিয়ার আহুতি হয়ে যায় । এই রুদ্র জ্ঞান যজ্ঞ থেকেই বিনাশ জ্বালা প্রজ্জ্বলিত হয়েছে । শঙ্করের দ্বারা বিনাশ, এমন গায়ন আছে । তোমরা এর নমুনাও বরাবর দেখতে পাও । এ হলো হুবহু সেই সময় । গায়ন আছে যে, ইউরোপবাসী যাদব, কৌরব আর পাণ্ডব । ভারতবাসী তার নিজের ধর্মকেই ভুলে গেছে । চিত্রও আছে, কিন্তু কেউই জানে না । দেবী - দেবতাদের রাজ্য ছিলো, কিন্তু সেই রাজ্যকে এমন রাজ্য কে করে দিলো ? দেবী - দেবতা ধর্মের স্থাপনা কিভাবে হলো ? একথা কিছুই জানে না । যে ধর্ম স্থাপন করে, সেই বুঝিয়ে বলে । আর কেউই এই ওয়ার্ল্ডের হিস্ট্রি - জিওগ্রাফি বুঝিয়ে বলতে পারবে না । তিন লোকের জ্ঞানও কেউ দিতে পারবে না । তোমরা সকলের পার্টকেই বুঝে গেছো । এরা সবাই আবার নিজের সময়ে অভিনয় করতে আসবে । ভবিষ্যতে তোমাদের মহিমাও বৃদ্ধি পেতে থাকবে । এই বৃদ্ধিও শীঘ্রই হবে । কতো বড় বাড়ি তৈরী করতে হবে । এও ড্রামাতেই আছে । তোমরা বুঝতে পারো যে, কতো বাচ্চা আসবে । বৃদ্ধি তো পেতেই থাকবে । এরা আসবেও শিক্ষা গ্রহণ করার জন্য । বাকি তো এমনিতেই অনেকে ঘুরতে আসে ।মনে করো যদি কোনো এডুকেশন মিনিস্টার আসে, তাকেও এই জ্ঞান বোঝাতে হবে । আমাদের হলো এই ওয়ার্ল্ডের হিস্ট্রি - জিওগ্রাফি । সম্পূর্ণ কল্পের চক্রকে কেউই জানে না । তোমরা এখন জ্ঞানের সাগরের দ্বারা মাস্টার জ্ঞান সাগর হয়েছো । আচ্ছা !

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) অসীম জগতের এই হিস্ট্রি - জিওগ্রাফি পড়তে এবং পড়াতে হবে । সর্ব অলংকার ধারণ করার জন্য পবিত্র ফরিস্তা হতে হবে ।

২ ) বুদ্ধিমানের বুদ্ধি হলেন এক বাবা, তাঁর শ্রীমতে চলেই বুদ্ধিমান হতে হবে । এই ব্রাহ্মণ জীবন হলো অমূল্য - এই নেশাতেই থাকতে হবে ।

বরদান:-
রং আর রূপের সাথে সাথে সম্পূর্ণ পবিত্রতার সুগন্ধ ধারণ করে আকর্ষণমূর্তি ভব

ব্রাহ্মণ হওয়ার কারণে সকলের মধ্যেই রং এসে গেছে আর রূপও পরিবর্তন হয়ে গেছে, কিন্তু সুগন্ধ নম্বরের ক্রমানুসারে আছে । আকর্ষণমূর্তি হওয়ার জন্য রং আর রূপের সাথে সাথে সম্পূর্ণ পবিত্রতার সুগন্ধ প্রয়োজন । পবিত্রতা অর্থাৎ কেবল ব্রহ্মচারী নয়, কিন্তু দেহের আকর্ষণ থেকেও মুক্ত । মন বাবা ছাড়া অন্য কারোর প্রতি আকর্ষণে যেন না যায় । তন থেকেও ব্রহ্মচারী, সম্বন্ধতেও ব্রহ্মচারী আর সংস্কারেও ব্রহ্মচারী - এমন সুগন্ধ যুক্ত আধ্যাত্মিক গোলাপই আকর্ষণমূর্তি হয় ।

স্লোগান:-
যথার্থ সত্যকে পরখ করে নাও, তাহলে অতীন্দ্রিয় সুখের অনুভব করা সহজ হয়ে যাবে ।