21.11.2020 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


প্রশ্নঃ -
বাচ্চারা, তোমাদের কাছে কোন্ নলেজ আছে, যার কারণে তোমরা যে কোনো অবস্থাতেই কাঁদতে পারো না ?

উত্তরঃ -
তোমাদের কাছে পূর্ব নির্ধারিত এই ড্রামার নলেজ আছে, তোমরা জানো যে এর মধ্যে প্রতিটি আত্মার নিজস্ব পার্ট আছে, বাবা আমাদের সুখের উত্তরাধিকার দিচ্ছেন, তবে আমরা আর কাঁদতে যাবো কেন ! আমাদের যত ভাবনা তা হল তাঁকে খুঁজতে, যিনি ব্রহ্ম'র উর্ধ্বে থাকেন, তাঁকে পাওয়া হয়ে গেছে - তবে আর কি চাই। ভাগ্যবান বাচ্চারা কখনো কাঁদে না।

ওম্ শান্তি ।
আত্মাদের পিতা বসে বাচ্চাদের একটা কথা বোঝাচ্ছেন। চিত্রতেও এই রকম লিখতে হবে যে, ত্রিমূর্তি শিববাবা বাচ্চাদের প্রতি বোঝাচ্ছেন। তোমরাও কাউকে বোঝাতে গেলে-- তোমরা আত্মারা বলবে- শিববাবা এইরকম বলেন। এইটা বাবাও বলবেন- বাবা তোমাদের বোঝান। এখানে মানুষ, মানুষকে বোঝায় না। পরমাত্মা আত্মাদের বোঝান, নয়তো আত্মা আত্মাকে বোঝায়। জ্ঞান সাগর তো হলেন একমাত্র শিববাবা আর তিনি হলেন আত্মাদের পিতা। এই সময় আত্মা রূপী বাচ্চাদের আত্মাদের পিতার থেকে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয়। শারীরিক অহমিকা এখানে ত্যাগ করতে হয়। এই সময় তোমাদের দেহী-অভিমানী হয়ে বাবাকে স্মরণ করতে হবে। যে কাজই করো, ব্যবসা বানিজ্য ইত্যাদি যদি করতেও করতেও, যেটুকু সময়টা পাবে, নিজেকে আত্মা মনে করে বাবাকে স্মরণ করলে তবে বিকর্ম বিনাশ হবে। তোমরা জানো যে শিববাবা এঁনার মধ্যে এসেছেন। তিনিই হলেন সত্য, তিনি চৈতন্য। সৎ চিৎ আনন্দ স্বরূপ বলা হয় । ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শঙ্কর বা যে কোনো মানুষের এই মহিমা থাকে না। উচ্চতমের চেয়েও উচ্চ ভগবান হলেন একই, তিনি হলেন সুপ্রিম সোল। এই জ্ঞানও তোমাদের, শুধুমাত্র এই সময় থাকে। আর কখনো প্রাপ্ত হয় না। প্রতি পাঁচ হাজার বছর পরে বাবা আসেন, তোমাদের আত্ম- অভিমানী করে তোলে বাবাকে স্মরণ করানোর জন্য, যার ফলে তোমরা তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হয়ে ওঠো, আর কোনো উপায় নেই। মানুষ যদি ডাকতেও থাকে- হে পতিত পাবন এসো- কিন্তু অর্থ কিছু বোঝে না। পতিত-পাবন সীতারাম বললে সেটাও ঠিক আছে। তোমরা সকলে হলে সীতা বা ভক্ত। তিনি হলেন এক রাম ভগবান, তোমাদের অর্থাৎ এই ভক্তদের ফল- প্রাপ্তি চাই ভগবান দ্বারা। মুক্তি বা জীবনমুক্তি - এই হলো ফল। মুক্তি- জীবনমুক্তির দাতা হলেন সেই এক বাবা। ড্রামাতে উচ্চ থেকে উচ্চতর ভূমিকা কারোর আছে তো নীচুতে ভূমিকা পালন করারও মতোও কেউ থাকে।এটা হলো অসীম জগতের ড্রামা, একে আর কেউ বুঝতে পারে না। তোমরা এই সময় তমোপ্রধান কনিষ্ঠ থেকে সতোপ্রধান পুরুষোত্তম হয়ে উঠছো। সতোপ্রধানকেই সর্বোত্তম বলা হয়। এই সময় তোমরা সতোপ্রধান নও। বাবা তোমাদের সর্বোত্তম করে তোলেন। ড্রামার এই চক্র কীভাবে আবর্তিত হতে থাকে, এটা কেউই জানে না। কলিযুগ, সঙ্গমযুগ তারপর হয় সত্যযুগ। পুরানোকে নূতন কে তৈরী করবে ? বাবা ব্যাতীত কেউ করে পারে না। একমাত্র বাবা সঙ্গমে এসে পড়ান। বাবা না সত্যযুগে আসেন, না কলিযুগে আসেন। বাবা বলেন আমার পার্টই হলো সঙ্গমে, সেইজন্য সঙ্গমযুগ কল্যাণকারী যুগ। এটা হলো অস্পিশিয়াস (কল্যাণকারী), অনেক উচ্চ, শুভ সময় এই সঙ্গমযুগ। যখন কিনা বাবা এসে তোমাদের অর্থাৎ বাচ্চাদের নর থেকে নারায়ণ করে তোলেন। মানুষ তো হলো মানুষই কিন্তু দৈবীগুণ সম্পন্ন হয়ে যায়, ওটাকে বলা হয় আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্ম। বাবা বলেন আমি এই ধর্মের স্থাপনা করি, এর জন্য অবশ্যই পবিত্র হতে হবে। পতিত পাবন হলেন একমাত্র বাবা। এছাড়া সব হলো ব্রাইডস (বধূ), ভক্ত।

পতিত পাবন সীতারাম বলাও ঠিক আছে। কিন্তু শেষে যারা আবার রঘুপতি রাঘব রাজা রাম বলে দেয়, সেটা রঙ্(ভুল) হয়ে যায়। মানুষ কোনো অর্থ ছাড়াই যা আসে সেটা বলতে থাকে, সে'গুলোরই স্তব করতে থাকে । তোমরা জানো যে, চন্দ্রবংশী ধর্মও এখন স্থাপন হচ্ছে। বাবা এসে ব্রাহ্মণ কুল স্থাপন করছেন, একে ডিনায়েস্টি (রাজত্ব)বলা যায় না। এটা হলো পরিবার, যেখানে না তোমাদের অর্থাৎ পান্ডবদের-- না কৌরবদের রাজত্ব থাকে। যারা গীতা পড়েছে তাদের এই কথা তাড়াতাড়ি বোধগম্য হবে। এটাও হলো গীতা। কে শোনাচ্ছেন ? ভগবান। বাচ্চারা, তোমাদের তো সর্বপ্রথমে এটা বোঝাতে হবে যে গীতার ভগবান কে ? তারা বলে, কৃষ্ণ ভগবানুবাচ। এখন কৃষ্ণ তো হবে সত্যযুগে। ওঁনার মধ্যে যে আত্মা আছে সেটা তো হলো অবিনাশী। শরীরের নামই পরিবর্তিত হয়। আত্মার নাম কখনো পরিবর্তিত হয় না। শ্রীকৃষ্ণর আত্মার শরীর সত্যযুগেই হয়। নম্বর ওয়ানে তিনিই আসেন। লক্ষ্মী- নারায়ণ হলো নাম্বর ওয়ান তারপর হলো সেকেন্ড, থার্ড। সুতরাং তাদের মার্কসও অল্প কম হবে। মালা তৈরী হয়, তাই না ! বাবা বুঝিয়েছেন রুন্ড মালাও হয় আর রুদ্র মালাও হয়। বিষ্ণুর গলায় রুন্ড মালা দেখানো হয়। বাচ্চারা, তোমরা নম্বর অনুযায়ী বিষ্ণুপুরীর মালিক হও। মানে তোমাদের মতো যারা তারা বিষ্ণুর গলায় হার হয়। সর্বপ্রথম শিবের গলার হার হও, তাকে রুদ্র মালাও বলা হয়, যা জপ করা হয়। মালাকে পূজা করা হয় না, আবর্তন করা হয়। মালার দানা তারাই হয় যারা বিষ্ণুপুরীর রাজধানীতে নম্বর অনুযায়ী আসে। মেলাতে সবচেয়ে প্রথমে থাকে ফুল তারপর যুগল দানা। প্রবৃত্তি মার্গ যে । প্রবৃত্তি মার্গের শুরু হয় ব্রহ্মা, সরস্বতী আর বাচ্চাদের নিয়ে। এরাই আবার দেবতা হয়। লক্ষ্মী-নারায়ণ হলো ফার্স্ট। উপরে ফুল হলো শিববাবা। মালা ঘুরিয়ে-ঘুরিয়ে তারপর শেষে ফুলে মাথা ঠেকায়। শিববাবা হলেন ফুল যিনি পুর্নজন্মে আসেন না, এঁনার মধ্যে প্রবেশ করেন। তিনিই তোমাদের বোঝান। এঁনার তো নিজের আত্মা আছে। তিনি নিজের শরীর নির্বাহ করেন, ওঁনার কাজ হলো শুধুমাত্র জ্ঞান প্রদান করা। যেমন কারোর স্ত্রী বা বাবা অথবা প্রিয়জন মারা গেলে তখন তার আত্মাকে ব্রাহ্মণের শরীরে ডাকা হয়। প্রথম দিকে আসতে, এখন তারা কেউ তো শরীর ছেড়ে আসে না। এটা ড্রামাতে পূর্ব নির্ধারিত। এ'সব হলো ভক্তি মার্গ। সেই আত্মা তো চলে গিয়ে অন্য শরীর ধারণ করে। বাচ্চারা, তোমাদের এখন এই সমস্ত জ্ঞান প্রাপ্ত হচ্ছে, সেইজন্য কেউ মারা গেলেও তোমাদের চিন্তা হয় না। মা মারা গেলে তখনও হালুয়া খাও (নির্মলাশান্তা দিদিজীর মতন)। সেই কন্যা গিয়ে তাদের বুঝিয়েছিল যে তোমরা কাঁদছো কেন? উনি তো গিয়ে অন্য শরীর ধারণ করেছেন। কাঁদলে কি আর ফিরে আসবেন! ভাগ্যবানরা কাঁদে কি ! ওখানে তখন সকলের কান্না থামিয়ে বোঝাতে থাকে। এই রকম অনেক কন্যারা গিয়ে বোঝাতো। এখন কান্না বন্ধ করো। মিথ্যে ব্রাহ্মণদেরও খাইয়ো না। আমাদের অর্থাৎ সত্যিকারের ব্রাহ্মণদের নিয়ে আসে। তারপর জ্ঞান শোনাতে থাকে। বুঝতে পারে যে এই কথা তো ঠিক বলছে। জ্ঞান শুনতে শুনতে শান্ত হয়ে যায়। ৭ দিনের জন্য কেউ ভগবত ইত্যাদি রাখলেও মানুষের দুঃখ দূর হয় না। এই কন্যারা তো সকলের দুঃখ দূর করে দেয়। তোমরা বোঝো যে কাঁদার তো প্রয়োজন নেই। এটা তো হলো পূর্বেও ঘটে থাকা- পূর্ব নির্ধারিত ড্রামা। প্রত্যেককেই নিজের ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই কাঁদতে নেই। অসীম জগতের পিতা- টিচার-গুরুকে পেয়েছো, যাঁর জন্য তোমরা এতো ধাক্কা খাচ্ছো। ব্রহ্মেরও ঊর্ধ্বে থাকেন যিনি সেই পরমপিতা পরমাত্মাকে পেয়েছি তো আর কি চাই ! বাবা প্রদান করেনই সুখের উত্তরাধিকার। তোমরা বাবাকে ভুলে যাও, তখন কাঁদতে হয়। বাবাকে স্মরণ করলে তখন খুশী থাকে। অহো! আমি তো বিশ্বের মালিক হচ্ছি। এরপর ২১ প্রজন্ম কখনো কাঁদবে না। ২১ প্রজন্ম অর্থাৎ সম্পূর্ণ বৃদ্ধকাল পর্যন্ত অকাল মৃত্যু হয় না, তাই ভিতরে ভিতরে কতো গুপ্ত খুশী থাকা উচিত।

তোমরা জানো যে আমরা মায়ার উপর বিজয় প্রাপ্ত করে জগতজীত হবো। হাতিয়ার ইত্যাদির ব্যাপার নেই। তোমরা হলে সকলে শিব শক্তি। তোমাদের কাছে থাকে জ্ঞান কাটারি, জ্ঞান বাণ। ওরা তো আবার ভক্তি মার্গে দেবীদের স্থূল বাণ খড়্গ ইত্যাদি দিয়ে দিয়েছে। বাবা বলেন জ্ঞান তলোয়ার দ্বারা বিকারের উপর বিজয় প্রাপ্ত করতে হবে, তাছাড়া দেবীরা কি আর হিংসক হন! এইসব হলো ভক্তি মার্গ। সাধু-সন্ত ইত্যাদি হলো নিবৃত্তি মার্গের, তারা প্রবৃত্তি মার্গকে মানেই না। তোমরা তো সন্ন্যাস করো সমগ্র পুরানো দুনিয়ার প্রতি, পুরানো শরীরের প্রতি। এখন বাবাকে স্মরণ করলে তবে আত্মা পবিত্র হয়ে যাবে। জ্ঞানের সংস্কার নিয়ে যাবে। সেই অনুসারে নূতন দুনিয়াতে জন্ম নেবে। যদি এখানেও জন্ম নেয় তাও কোনো ভালো ঘরে রাজার কাছে বা রিলিজিয়াস ঘরে সেই সংস্কার নিয়ে যাবে। সকলের প্রিয় হবে। বলবে এ তো হলো দেবী। কৃষ্ণের মহিমার কতো সুখ্যাতি করা হয়। ছোটবেলায় দেখায় মাখন চুরি করছে, হাঁড়ি ফাটাচ্ছে, এই করছে.... কতো কলঙ্কিত করে। আচ্ছা, আবার কৃষ্ণকে শ্যামলা বা কুৎসিত করলো কেন ? সেখানে তো কৃষ্ণ সুন্দর হবে, তাই না ! আবার শরীর পরিবর্তন করতে থাকে, নামও পরিবর্তন করতে থাকে। শ্রীকৃষ্ণ তো সত্যযুগের প্রথম প্রিন্স ছিলেন, তাঁকে কেন কুৎসিত করলো? কেউ কখনো বলতে পারবে না। সেখানে সাপ ইত্যাদি থাকে না যে কালো বা কুৎসিত করে দেবে। এখানে বিষাক্ত হতে থাকে বলে কুৎসিত হয়ে যায়। সেখানে তো এরকম ব্যাপার হতে পারে না। তোমরা এখন দৈবী সম্প্রদায়ের হতে চলেছো। এই ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়কে কারোর জানা নেই। প্রথম দিকে বাবা ব্রহ্মা দ্বারা ব্রাহ্মণদের অ্যাডপ্ট করেন।প্রজাপিতা যখন তো ওঁনার প্রজা অনেকই আছে। ব্রহ্মার কন্যাকে সরস্বতী বলে। স্ত্রী তো থাকেই না। এটা কারোরই জানা নেই। প্রজাপিতা ব্রহ্মার তো আছেই মুখ বংশীয়রা। স্ত্রী এর ব্যাপারই নেই। এঁর মধ্যে বাবা প্রবেশ করে বলেন তোমরা হলে আমার বাচ্চা। আমি এঁর নাম ব্রহ্মা রেখেছি, যে কেউই বাচ্চা হলে সকলের নাম পরিবর্তন করা হয়। তোমরা অর্থাৎ বাচ্চারা এখন মায়ার উপর বিজয় প্রাপ্ত করো, একে বলাই হয়- জয়- পরাজয়ের খেলা। বাবা কতো সস্তার ক্রয় করান। তবুও মায়া পরাজিত করলে তখন পালিয়ে যায়। ৫ বিকার রূপী মায়া হারিয়ে দেয়। যার মধ্যে ৫ বিকার আছে, তাকেই আসুরিক সম্প্রদায় বলা হয়। মন্দিরে দেবীদের সামনে গিয়ে মহিমা গায়- তুমি সর্বগুণ সম্পন্ন-- বাবা তোমাদের অর্থাৎ বাচ্চাদের বোঝান-- তোমরাই পূজ্য দেবতা ছিলে আবার ৬৩ জন্ম পূজারী হয়েছো, এখন আবার পূজ্য হচ্ছো। বাবা পূজ্য করেন, রাবণ পূজারী করে। এই কথা কোনো শাস্ত্রে নেই। বাবা কি আর কোনো শাস্ত্র পড়েছেন! তিনি তো হলেনই জ্ঞানের সাগর। তিনি হলেন অলমাইটি অথারিটি। অলমাইটি মানে সর্বশক্তিমান। বাবা বলেন সমস্ত বেদ-শাস্ত্র ইত্যাদি কে জানি। এই সব হলো ভক্তি মার্গের সামগ্রী। আমি এই সব ব্যাপারে জানি। দ্বাপর থেকেই তোমরা পূজারী হও। সত্যযুগ ত্রেতাতে তো পূজা হয় না। সেটা হলো পূজ্য ঘরানা। তারপর হয়ই পূজারী ঘরানা। এই সময় সব হলো পূজারী। এই কথা কারোরই জানা নেই। বাবা এসেই ৮৪ জন্মের কাহিনী বলেন। পূজ্য - পূজারী তোমাদের উপরেই থাকে এই সমস্ত খেলা। বলে দেয় হিন্দু ধর্ম। বাস্তবে তো ভারতে আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্ম ছিলো, না কি হিন্দু। কতো কথা বুঝিয়ে দিতে হয়। এই পড়াশুনা হলোই সেকেন্ডের। তবুও কতো সময় লেগে যায়। বলা হয় সাগরকে কালি বানাও, সমস্ত জঙ্গলকে কলম বানাও, তবুও সম্পূর্ণ করা যাবে না। শেষ পর্যন্ত তোমাদের জ্ঞান শোনাতে থাকবো। তোমরা এর কতো বই বানাবে ! শুরুতেও বাবা সকাল সকাল উঠে লিখতেন, তারপর মাম্মা শোনাতেন, সেই থেকে ছাপানো হয়েই চলেছে, কতো কাগজ শেষ হয়ে গেলো। গীতা তো একটাই - কতো ছোটো। গীতার লকেটও তৈরী করে। গীতার প্রভাব অনেক, কিন্তু গীতা জ্ঞান দাতাকে ভুলে গেছে। আচ্ছা।

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) জ্ঞান তলোয়ার দ্বারা বিকার গুলিকে জয় করে নিতে হবে। জ্ঞানের সংস্কার ভরতে হবে। পুরানো দুনিয়া আর পুরানো শরীরের সন্ন্যাস করতে হবে।

২ ) ভাগ্যবান হওয়ার খুশীতে থাকতে হবে, কোনো ব্যাপারেই চিন্তা করতে নেই। কেউ শরীর ত্যাগ করলেও দুঃখের অশ্রু বিসর্জন করতে নেই।

বরদান:-
রাজ মুকুট আর সিংহাসনকে (তাজ আর তখ্ত) সর্বদা বজায় রাখতে সক্ষম নিরন্তর স্বতঃ যোগী ভব

বর্তমান সময়ে বাবার দ্বারা সব বাচ্চাদেরই মুকুট আর সিংহাসন প্রাপ্ত হয়, এখনকার এই মুকুট আর সিংহাসন অনেক জন্মের জন্য মুকুট, সিংহাসন প্রাপ্ত করিয়ে দেয়। বিশ্ব কল্যাণের দায়িত্বের মুকুট আর বাপদাদার হৃদয় সিংহাসন, সর্বদা বজায় থাকলে, নিরন্তর স্বতঃ যোগী হয়ে যাবে। এর মধ্যে কোনো রকমেরই পরিশ্রম করার ব্যাপার নেই, কারণ এক তো সম্বন্ধ নিকটে আর দ্বিতীয় প্রাপ্তি হলো অনন্ত । যেখানে প্রাপ্তি হতে থাকে সেখানে স্বতঃতই স্মরণ হতে থাকে।

স্লোগান:-
প্লেন বুদ্ধি দিয়ে প্ল্যানকে প্র্যাক্টিক্যালে প্রয়োগ করলে, সফলতা তার মধ্যেই নিহিত রয়েছে ।