22-01-2023 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 25-11-93 মধুবন


"সহজ সিদ্ধি প্রাপ্ত করবার জন্য জ্ঞান স্বরূপ প্রয়োগী আত্মা হও"


আজ জ্ঞান দাতা বরদাতা তাঁর জ্ঞানী তু আত্মা, যোগী তু আত্মা বাচ্চাদেরকে দেখছেন । প্রতিটি বাচ্চা জ্ঞান স্বরূপ আর যোগযুক্ত কতদূর হয়েছে? জ্ঞান শোনা আর শোনানোর নিমিত্ত হয়েছে নাকি জ্ঞান স্বরূপ হয়েছে? সময় অনুসারে যোগ লাগাতে পারার মতো হয়েছে নাকি সদা যোগী জীবন অর্থাৎ সকল কর্মে যোগযুক্ত, যুক্তিযুক্ত, স্বাভাবিক বা সদা যোগী হয়ে উঠেছে? যে কোনো ব্রাহ্মণ আত্মাকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয় যে জ্ঞানী আর যোগী হয়েছো, তখন কী বলবে? সকলে তোমরা জ্ঞানী আর যোগী তাই না? জ্ঞান স্বরূপ হওয়া অর্থাৎ প্রত্যেক সংকল্প, বোল আর কর্ম সমর্থ (শক্তিশালী) হবে। ব্যর্থ সমাপ্ত হবে, কেননা যেখানে সমর্থ রয়েছে সেখানে ব্যর্থ থাকতে পারে না। যেরকম আলো আর অন্ধকার একসাথে থাকতে পারে না, সেই রকম 'জ্ঞান' হলো আলো আর 'ব্যর্থ' হলো অন্ধকার । বর্তমান সময়ে ব্যর্থকে সমাপ্ত করার দিকে অ্যাটেনশন রাখতে হবে। সবথেকে মুখ্য বিষয় সংকল্প রূপী বীজকে সমর্থ বানাতে হবে। যদি সংকল্প রূপী বীজ সমর্থ হবে, তবে বাণী, কর্ম, সম্বন্ধ সহজেই সমর্থই হয়ে যায় । অতএব জ্ঞান স্বরূপ অর্থাৎ সকল সময়, প্রতিটি সংকল্প, প্রতিটি সেকেন্ড সমর্থ ।

যোগী তু আত্মা সকলে হয়েছো কিন্তু প্রতিটি সংকল্প স্বাভাবিক ভাবেই যোগযুক্ত, যুক্তিযুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে নম্বর ক্রম রয়েছে। নম্বর ক্রম কেন হলো? যখন বিধাতাও হলেন এক, বিধিও হলো এক, তবে নম্বর ক্রম কেন? বাপদাদা দেখছেন যে, যোগী তো হয়েছে, কিন্তু প্রয়োগী কম হয়েছে। যোগ করা আর করানো - এই দুইয়েই সকলে পারদর্শী। এমন কেউ আছে কি যে বলবে যে, যোগ করাতে জানি না? যোগ করতে আর করানোতে যেমন তোমরা যোগ্য, সেই রকম প্রয়োগ করতেও যোগ্য হতে হবে আর বানাতে হবে - একে বলা হয় যোগী জীবন অর্থাৎ যোগযুক্ত জীবন। এখন প্রয়োজন হলো প্রয়োগী জীবনের। যোগের যে পরিভাষা তোমরা জানো, বর্ণনা করে থাকো, সে'সব বিশেষত্ব গুলি প্রয়োগে আসে কী? সবার প্রথমে নিজের মধ্যে সেটাকে চেক করো যে, নিজের সংস্কার পরিবর্তনে কতখানি প্রয়োগী হয়ে উঠতে পেরেছো? কেননা তোমাদের সকলের শ্রেষ্ঠ সংস্কারই হলো শ্রেষ্ঠ জগৎ সংসার রচনার ভিত্তি । ভিত যদি মজবুত হয় তবে অন্য সব কিছু স্বাভাবিক ভাবেই মজবুত হয়েই রয়েছে। তাই এটা দেখো যে সংস্কার সময়ে সময়ে কখনো ধোঁকা দিয়ে দেয় না তো? যে নিজেকে শ্রেষ্ঠ সংস্কারে পরিবর্তীত করে ফেলেছে, তাকে যত শক্তিশালী ব্যক্তিই হোক না কেন, কিম্বা যেমনই বস্তু হোক, পরিস্থিতিই হোক না কেন, যোগকে প্রয়োগে নিয়ে আসা আত্মাকে তার শ্রেষ্ঠত্বের থেকে নাড়িয়ে কখনোই সাধারণত্বে এনে ফেলতে পারবে না। এই রকম নয় যে বিষয়টাই এমন ছিল, ব্যক্তিই ওই রকম ছিল, বায়ুমণ্ডল ওই রকমের ছিল, সেইজন্য শ্রেষ্ঠ সংস্কারকে পরিবর্তন করে সাধারণ বা ব্যর্থ বানিয়ে দিল, তাহলে তাকে কি প্রয়োগী আত্মা বলা যাবে? যদি সময় মতো যোগের শক্তি গুলি প্রয়োগ না হয়, তবে তাকে কি বলা হবে? তাই প্রথমে এই ফাউন্ডেশনকে দেখো যে কতখানি সময় অনুযায়ী প্রয়োগী হয়েছো? নিজেই যদি নিজের সংস্কারের পরিবর্তক হতে পারনি তবে নতুন বিশ্ব সংসারের পরিবর্তক কীকরে হবে?

প্রয়োগী আত্মার প্রথম লক্ষণ হলো সংস্কারের উপরে সর্বদা প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিজয়ী। দ্বিতীয় লক্ষণ হলো প্রকৃতির দ্বারা আগত পরিস্থিতি গুলির উপরে যোগের প্রয়োগের দ্বারা বিজয়ী । সময়ে সময়ে প্রকৃতির অস্থিরতাও যোগী আত্মাকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করে থাকে। এই রকম সময়ে যোগ এর বিধি প্রয়োগে আসে? যোগী পুরুষকে বা পুরুষোত্তম আত্মাকে প্রকৃতি কখনো প্রভাবিত করে না তো? কেননা তোমরা ব্রাহ্মণ আত্মারা হলে পুরুষোত্তম আত্মা। প্রকৃতি হলো পুরুষোত্তম আত্মার দাসী। মালিক, দাসীর প্রভাবে এসে গেলে তাকে কি বলা হবে? আজকাল পুরুষোত্তম আত্মাদেরকে প্রকৃতি সুযোগ সুবিধার উপকরণ (সাধন) আর স্যালভেশন (নিরাপদ আশ্রয়) এর রূপে প্রভাবিত করে থাকে। সাধন বা স্যালভেশন এর আধারে যোগী জীবন। সাধন বা স্যালভেশন কম হলে যোগযুক্ত হওয়াও কম - একে বলা হয় প্রভাবিত হওয়া। যোগী বা প্রয়োগী আত্মার সাধনার সামনে সাধন স্বতঃতই আপনা থেকে চলে আসে। সাধন সাধনার আধারে নয় বরং সাধনা সাধন গুলিকে স্বাভাবিকভাবে আধার বানাবে, একে বলা হয় প্রয়োগী আত্মা। সুতরাং চেক করো - সংস্কার পরিবর্তনে বিজয়ী এবং প্রকৃতির প্রভাব থেকে বিজয়ী কতখানি হয়েছো? তৃতীয় লক্ষণ হলো - বিকার গুলির উপরে বিজয়ী । যোগী বা প্রয়োগী আত্মার সামনে এই পাঁচ বিকার, যা অন্যদের জন্য বিষাক্ত সাপ, কিন্তু তোমাদের অর্থাৎ যোগী-প্রয়োগী আত্মাদের জন্য সাপ গলার মালা হয়ে যায় । তোমাদের অর্থাৎ ব্রাহ্মণদের আর ব্রহ্মা বাবার অশরীরী তপস্বী শংকর স্বরূপের স্মরণিক এখনও ভক্তরা তার পূজা করে, ভজন কীর্তন করে। দ্বিতীয় স্মরণ চিহ্ন - এই সাপ তোমাদের এমন অধীন হয়ে যায় যে, তোমাদের আনন্দে নৃত্য করবার স্টেজ হয়ে যায় । যখন বিজয়ী হয়ে যায় তখন কেমন অনুভব হতে থাকে? কেমন স্থিতি হয়ে থাকে? খুশীতে নাচতে থাকে তাই না? তো এই স্থিতি স্টেজের রূপে দেখতে পাওয়া যায়। স্থিতিকে স্টেজও বলা হয়ে থাকে। এই রকম বিকারের উপরে বিজয়ী হলে - তাকে বলা হয় প্রয়োগী। তাই এটা চেক করো যে কতদূর প্রয়োগী হয়েছো? যোগের সময় যদি প্রয়োগী না হয়, যোগের বিধির সময় যদি সিদ্ধি না হয়, তবে যথার্থ বিধি বলা যাবে? সময় তার তীব্রগতি সময়ে সময়ে দেখাচ্ছে । বিভিন্নতা, অধর্ম, তমোপ্রধানতা প্রতিটি ক্ষেত্রে তীব্রতার সাথে বেড়ে চলেছে। এই রকম সময়ে তোমাদের যোগের বিধির বৃদ্ধি বা বিধির সিদ্ধিতে বৃদ্ধি তীব্র বেগে হওয়ার প্রয়োজন। সামনে দিকে নম্বর নেওয়ার আধার হলো প্রয়োগী হওয়ার সহজ বিধি। তো বাপদাদা দেখলেন যে, সময় মতো প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে তীব্র গতির পরিবর্তে সাধারণ গতি রয়েছে। এখন একে বাড়াতে থাকো। তবে কী হবে? সিদ্ধি স্বরূপ অনুভব করতে থাকবে। তোমাদের জড় চিত্র গুলির দ্বারা সিদ্ধি প্রাপ্ত করার অনুভব করতে পারা যায়। চৈতন্যতে সিদ্ধি স্বরূপ হয়েছো তবেই তো একে স্মরণ করে চলেছে। রিদ্ধি-সিদ্ধির নয়, বিধি দ্বারা সিদ্ধি। তাহলে বুঝতে পেরেছো কি করতে হবে? আছে সবকিছু, কিন্তু সময় মতো প্রয়োগ করা আর সফল হওয়া - একে বলা হয় জ্ঞান স্বরূপ আত্মা। এই রকম জ্ঞান স্বরূপ আত্মারা হলো অতি সমীপ আর অতি প্রিয়। আচ্ছা!

সদা যোগের বিধির দ্বারা শ্রেষ্ঠ সিদ্ধিকে যারা অনুভব করে, সদা সাধারণ সংস্কারকে শ্রেষ্ঠ সংস্কারে পরিবর্তনকারী, সংস্কার পরিবর্তক আত্মাদেরকে, সদা প্রকৃতিজিৎ, বিকার গুলির উপরে বিজয় প্রাপ্তকারী বিজয়ী আত্মাদেরকে, সদা প্রয়োগের গতিকে তীব্র ভাবে অনুভবকারী জ্ঞান স্বরূপ, যোগযুক্ত যোগী আত্মাদেরকে বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর নমস্কার ।

( ২৪ নভেম্বর দু'জন কুমারীর সমর্পণ সমারোহ হওয়ার পরে রাত্রি ১০ টায় দাদী অলরাউন্ডার ওঁনার পুরানো শরীর ত্যাগ করে বাপদাদার কোলে আশ্রয় নিয়েছেন। ২৫ তারিখ দুপুরে ওঁনার অন্তোষ্টি ক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। সন্ধ্যাবেলায় মুরলীর পরে দাদীদের সাথে সাক্ষাৎকালে বাপদাদা যে মহাবাক্য উচ্চারণ করেছেন সেটা দেওয়া হলো) খেলার সময় নানান রকমের খেলা তোমরা দেখে থাকো। সাক্ষী হয়ে খেলা দেখতে মজা লাগে তাই না? যে উৎসবই হোক না কেন, কিম্বা কেউ শরীর ত্যাগ করলো দুটি ক্ষেত্রেই কি মনে হয়? খেলার মধ্যে খেলা বলে মনে হয়। আর মনেও এমনই হয় তাই না যেমন খেলা হয়ে থাকে আর সময় মতো সেই খেলা শেষও হয়ে যায়। সেই রকমই যা হয়েছে সেটা সহজে সমাপ্ত যদি হয় তবে তো খেলাই মনে হবে। প্রত্যেক আত্মার আলাদা আলাদা পার্ট রয়েছে। সকল আত্মার শুভ ভাবনা, অনেক আত্মাদের শুভ ভাবনা প্রাপ্ত হওয়া এও হলো সকল আত্মার ভাগ্যের সিদ্ধি । তাই যা কিছু হয়েছে, কী দেখলে? খেলা দেখলে নাকি মৃত্যু দেখলে? একদিকে সেই অলৌকিক স্বয়ম্বর দেখলে আর অন্যদিকে (দেহ রূপী) বস্ত্র পরিবর্তনের খেলা দেখলে। কিন্তু দুটোকে কি মনে হলো? খেলার মধ্যে খেলা। তফাৎ কিছু আছে কি? স্থিতিতে পার্থক্য হচ্ছে কি? অলৌকিক স্বয়ম্বর দেখার ক্ষেত্রে আর বস্ত্র পরিবর্তন হতে দেখার মধ্যে কোনো প্রভেদ ঘটলো কি? ঢেউয়ের একটু বদল হলো কি হলো না? সাক্ষী হয়ে খেলা দেখো তাহলে বুঝতে পারবে যে সেটা এক বিধির আর এটা আরেক বিধির। সহজে নষ্টমোহ হওয়া এটা হলো অনেক কালের যোগের বিধির সিদ্ধি। তাই নষ্টমোহ হও, সহজ ভাবে মৃত্যুর খেলাকে দেখো। এই খেলার কি রহস্য দেখলে? দেহের স্মৃতির থেকেও উপরাম। রোগ ব্যাধি দ্বারাই হোক অথবা বিধি দ্বারা আর কোনো প্রকারের আকর্ষণ যেন অন্তিম সময়ে আকর্ষণ না করে। একে বলা হয় সহজে বস্ত্র বদল করা। তাহলে কি করতে হবে? নষ্টমোহ, সেন্টারও যেন স্মরণে না আসে। (টিচারদের দিকে তাকিয়ে) এই রকম যেন কোনো জিজ্ঞাসুও স্মরণ না আসে, সেন্টারের কোনো বস্তুও যেন স্মরণে না আসে, কোনো কিছু সরিয়ে রেখেছো এমন কিছুও যেন স্মরণ না আসে... ।সব কিছুর থেকে পৃথক আর বাবার প্রিয়। আগে থাকতেই কিনারার থেকে আলগা করে নিয়ে থাকতে হবে। কোনো কিনারাকে আঁকড়ে ধরবে না। যাত্রার লক্ষ্যকে ছাড়া আর কোনও কিছুর সাথেই লিপ্ত থাকবে না। আচ্ছা!

নির্মলশান্তা দাদীর সাথে সাক্ষাৎ : - সংগঠনকে ভালো লাগছে? সংগঠনের বিশেষ শোভা হলে তুমি। সকলের দৃষ্টি কতখানি ভালোবাসার সাথে তোমাদের সকলের দিকে আসে। যতক্ষণ পর্যন্ত যতখানি সেবা হওয়ার ততখানিই সেবা শরীরের দ্বারা হওয়ারই রয়েছে । যেভাবেই হোক শরীর চলতেই থাকবে। শরীরকে চালনা করতে শিখে গেছো তো না? খুব ভালো চলছে। কেননা বাবার আর সকলের দুয়া রয়েছে। খুশীতে থাকতে হবে আর সকলের মধ্যে খুশীকে ছড়িয়েও দিতে হবে আর কাজ কী। সকলে তোমাদেরকে দেখে দেখে কতো খুশী হতে থাকে, তাই খুশী দিয়ে যেতে থাকো। খাচ্ছোও আর সকলকে দিয়েও যাচ্ছো। তোমরা সকলে এক একজন হলে দর্শনীয় মূর্তি। সকলের নজর নিমিত্ত আত্মাদের দিকে যায়, তবেই তো দর্শনীয় মূর্তি হয়ে গেছো। আচ্ছা!

অব্যক্ত বাপদাদার পার্সোনাল সাক্ষাৎ -

১) ব্রাহ্মণ জীবনের আধার - স্মরণ আর সেবা : - ড্রামা অনুসারে ব্রাহ্মণ জীবনে সকলেই সেবার সুযোগ পেয়েছো, তাই না! কেননা ব্রাহ্মণ জীবনের আধারই হলো স্মরণ আর সেবা। যদি স্মরণ আর সেবা দুর্বল হয় তবে যেমন শরীরের আধার দুর্বল হয়ে গেলে শরীরকে ওষুধের ধাক্কায় চালাতে হয়, তেমনি ব্রাহ্মণ জীবনে যদি স্মরণ আর সেবার আধার মজবুত নয়, দুর্বল হয়, তবে সেই ব্রাহ্মণ জীবনও কখনো দ্রত গতিতে চলবে, কখনো ঢিলেঢালা চলবে, ধাক্কা দিয়ে চালাতে হবে। কোনো সহযোগিতা, কারোর সাহচর্য, কোনও অনুকূল পরিস্থিতি পাওয়া গেলে তবেই চলবে, নইলে তে ঢিলেঢালা হয়ে যাবে। সেইজন্য স্মরণ আর সেবার বিশেষ আধার সদা শক্তিশালী চাই। দুটোই যেন শক্তিশালী হয়। সেবা অনেক রয়েছে। স্মরণ দুর্বল অথবা স্মরণ খুব ভালো, সেবা হলো দুর্বল, তাহলেও তীব্রগতি হতে পারবে না। স্মরণ আর সেবা দুটোই তীব্রগতি চাই। শক্তিশালী চাই। তাহলে দুটোই শক্তিশালী তো? নাকি তফাৎ হয়ে যায়? সেবা কখনো বেশী হয়ে যায়, কখনো স্মরণ বেশী হয়ে যায় কী? দুটোই একসাথে হতে হবে। স্মরণ আর নিঃস্বার্থ সেবা। স্বার্থের সেবা নয়, নিঃস্বার্থ সেবা হলে তবেই মায়াজিৎ হওয়া অনেক সহজ হবে । সকল কর্মে, কাজটা শেষ হওয়ার আগেই সদা বিজয় দেখতে পাওয়া যাবে, এতখানি অটল নিশ্চয়ের অনুভব হবে যে, বিজয় তো হয়েই রয়েছে। যদি ব্রাহ্মণ আত্মাদের বিজয় না হয় তবে কাদের হবে? ক্ষত্রিয়দের হবে? ব্রাহ্মণদেরই বিজয় তাই না? কোশ্চেন মার্ক থাকবে না। করছি তো, চলছি তো, দেখবো, হয়ে যাবে, হওয়া তো উচিত... তাহলে এই সব শব্দ গুলি আসবে না যে - কি জানি কি হবে, হবে কি হবে না... এ'গুলো কি নিশ্চয়ের বোল? নিশ্চয়বুদ্ধি বিজয়ী এ'কথা তো প্রসিদ্ধ তাই না! তো যখন প্র্যাকটিক্যালে ঘটেছে তবেই তো প্রসিদ্ধ হয়েছে। নিশ্চয়বুদ্ধির লক্ষণ হলো বিজয় নিশ্চিত। যেমন কারোর মধ্যে যদি কোনো বিশেষ শক্তি থাকে, ধনের শক্তি, কিম্বা বুদ্ধির অথবা সম্বন্ধ-সম্পর্কের, তখন তার এই নিশ্চয় (দৃঢ় বিশ্বাস) থাকে যে, এটা কি এমন বড় কথা, এটা তো কোনো ব্যাপারই নয়। তোমাদের কাছে তো সব শক্তিই আছে। ধনের শক্তি আছে, ধনের শক্তি কি কোটিপতিদের কাছেও আছে? সবথেকে বড ধন হলো অবিনাশী ধন, যা সর্বদা সাথে রয়েছে । তাহলে ধনের শক্তিও রয়েছে, বুদ্ধির শক্তিও রয়েছে, পজিশনের শক্তিও রয়েছে । যে যে শক্তির কথা প্রসিদ্ধ রয়েছে, সেই সকল শক্তিই তোমাদের কাছে রয়েছে । আছে তো? নাকি প্রায়শই লুপ্ত হয়ে যায়? সে'গুলিকে ইমার্জ রূপে অনুভব করো। এইরকম নয় যে, হ্যাঁ, আমি তো সর্বশক্তিমানের সন্তান, কিন্তু অনুভব করতে পারি না। তাহলে সকলে ভরপুর তো নাকি একটু আধটু অপূর্ণ আছো? সময় মতো বিধির দ্বারা সিদ্ধি প্রাপ্ত হও। এই রকম নয় যে, সেই সময় হতে পারো না, এমনিতে নেশা রয়েছে যে অনেক শক্তি রয়েছে । পান্ডবদের মধ্যে শক্তি এসে গেছে নাকি কখনো কখনো ক্রোধ এসে যায়? একটু আধটু রাগ এসে যায়? কেউ ক্রোধ করলে ক্রোধ আসে, কেউ ইনসাল্ট করলে তখন রাগ হয়? এটা তো সেই রকমই হলো যেমন শত্রু চলে এলে পরাজয় ঘটে। মায়েদের একটু একটু মোহ রয়েছে? পান্ডবদের প্রত্যেক কল্পের নিজের বিজয়ের খুশী সর্বদা ইমার্জ থাকা উচিত । কখনো যদি কেউ পান্ডবদের কথা স্মরণ করে, তখন তাদের বিজয়টাই তো সামনে আসবে তো না? পান্ডব অর্থাৎ বিজয়ী । পান্ডবদের কাহিনীর মধ্যে রহস্য কোনটাতে? বিজয়ের বিষয়ে তো না? তো প্রতি কল্পের বিজয়ী। ইমার্জ রূপে এই নেশা যেন থাকে। মার্জ নয় । আচ্ছা!

২ ) সকলের দ্বারা মান প্রাপ্ত করবার জন্য নির্মান হও : - সকলে নিজেকে সদা কোটির মধ্যে কেউ আর সেই কোনো কোনোর মধ্যে একজন শ্রেষ্ঠ আত্মা অনুভব করে থাকো? কোটির মধ্যে কেউ বলে যদি খ্যাতি রয়েছে এমন নাকি অন্য কেউ? নাকি সেটা তুমিই? তাহলে এক একজন আত্মার কতখানি মহত্ত্ব রয়েছে অর্থাৎ প্রত্যেক আত্মা হলো মহান। তো যে যতখানি মহান হয়ে থাকে, মহানতার লক্ষণ যতখানি মহান ততটাই নির্মান। কেননা সে হলো সদা ভরপুর আত্মা। যেরকম বৃক্ষের ক্ষেত্রে বলা হয় না যে, যত ফলন্ত গাছ, ততই নত হবে আর নির্মান ভাবই সেবা করে থাকে। বৃক্ষের ঝুকে থাকা যেমন সেবা করে থাকে। যদি ঝুকে না থাকবে তবে সেবাও করবে না। সুতরাং একদিকে রয়েছে মহানতা আর অন্যদিকে হলো নির্মান ভাব। আর যে নির্মান থাকে সে সকলের থেকে মান পেয়ে থাকে। তুমি নিজে মহান হলে তখন অন্যরাও তোমাকে মান দেবে। যে অহমিকায় থাকে (অভিমানে) তাকে কেউ মান দেয় না। তার থেকে দূরে পালাবে। তো মহান আর নির্মান হয়েছো নাকি হওনি? তার লক্ষণ হলো যে নির্মান হবে সে সকলকে সুখ দেবে। যেখানেই যাবে, যা কিছুই করবে সেটা সুখদায়ী হবে। এর চেক করো যে তুমি কতখানি মহান হয়েছো? তোমার সম্বন্ধ সম্পর্কে যারাই আসবে তারা যেন সুখের অনুভূতি করে। এই রকম কী? নাকি কখনো তারা তোমার থেকে দুঃখও পেয়ে যায়? নির্মান ভাব কম তবে সুখও সর্বদা দিতে পারবে না। তো সর্বদা সুখ দিয়ে থাকো, সুখ নিয়ে থাকো নাকি কখনো দুঃখ দিয়ে দাও, দুঃখ নিয়ে নাও? চলো হয়ত দাও না, কিন্তু নিয়ে নাও কি? একটু আধটু ফিল হয়, তবে তার অর্থ হলো নিয়ে নিয়েছো তাই না? যদি কারো কোনো কথায় ফিল হচ্ছে তবে তাকে বলা হবে দুঃখ নেওয়া। কিন্তু কেউ দিলো আর তুমি সেটা নিলে না, এটা তো তোমার ওপরে। যার কাছে দুঃখই থাকবে সে আর কি দেবে? দুঃখই দেবে। কিন্তু তোমাদের কাজ হলো সুখ নেওয়া আর সুখ দেওয়া। এই রকম নয় যে কেউ দুঃখ দিচ্ছে তখন কি বলবে যে আমি কী করবো আমি তো দিইনি, কিন্তু সে দিয়েছে। নিজেকে চেক করতে হবে যে কি নেবো আর কি নেবো না। নেওয়ার ব্যাপারেই বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ চাই। সেই কারণেই তো ব্রাহ্মণ আত্মাদের বিষয়ে প্রশংসায় বলা হয়ে থাকে সুখের সাগরের সন্তান, সুখ স্বরূপ সুখ প্রদানকারী তারা । অতএব সুখ স্বরূপ সুখ প্রদানকারী আত্মা তোমরা। দুঃখের দুনিয়াকে ছেড়ে এসেছো, কিনারা করে নিয়েছো নাকি এখনও পর্যন্ত এক পা দুঃখের ধামে আরেক পা সঙ্গমে রয়েছে? এইরকম তো নয় যে বুদ্ধি একটু একটু সেখানে রয়ে গেছে? পা হয়ত সেখানে নেই কিন্তু পায়ের আঙুল একটু সেখানে ছুঁয়ে রয়ে গেছে? যখন দুঃখের ধামকে ছেড়ে চলে যাচ্ছো তবে না দুঃখ নিতে হবে আর না দুঃখ দিতে হবে । আচ্ছা!

বরদান:-
উড়তি কলার দ্বারা বাবার সম অলরাউন্ড পার্ট প্লে করে চক্রবর্তী ভব

বাবা যেমন অলরাউন্ড ভূমিকা পালনকারী, সখাও হয়ে যেতে পারেন আবার বাবাও হয়ে যেতে পারেন। এই রকম উড়তি কলার যারা, তারা যে সময় যে সেবার প্রয়োজন হবে, তাতেই সম্পন্ন ভূমিকা পালন করতে পারবে। একেই বলা হয় অলরাউন্ড উড়ন্ত বিহঙ্গ । তারা এইরকম নির্বন্ধন হবে যে, যেখানেই সেবা রয়েছে সেখানেই পৌঁছে যাবে। সকল প্রকারের সেবাতে সফলতার প্রতিমূর্তি হয়ে উঠবে। তাদেরকেই বলা হয় চক্রধারী, অলরাউন্ড ভূমিকা পালনকারী।

স্লোগান:-
পরস্পরের বিশেষত্ব গুলিকে স্মৃতিতে রেখে ফেইথফুল হও, তবে সংগঠন একমত হয়ে যাবে।