22-03-2020 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 14-12-85 মধুবন


"বর্তমানের এই জীবনই ভবিষ্যতের দর্পণ"


(মধুবননিবাসীদের সাথে )
আজ বিশ্ব রচয়িতা বাবা তার নিজের মাস্টার রচয়িতা বাচ্চাদের দেখছেন, মাস্টার রচয়িতা নিজ স্বরূপে স্থিত হওয়ার অর্থাৎ রচয়িতা হওয়ার স্মৃতিতে কতখানি স্থির l তোমরা সব রচয়িতার বিশেষ প্রথম রচনা তোমাদের দেহ l তোমরা কতটা এই দেহরূপী রচনার রচয়িতা হয়েছ ? দেহরূপী রচনা কখনও তার নিজের দিকে রচয়িতাকে আকর্ষণ করে রচনাভাব বিস্মৃতিতে নিয়ে যায় না তো ? মালিক হয়ে তোমাদের এই রচনাকে সেবায় সদা নিয়োজিত করছ ? মালিক হিসেবে যখন যেমন চাও করতে পার ? সর্বাগ্রে এই দেহের মালিক হওয়ার অভ্যাসই প্রকৃতির মালিক অথবা বিশ্বের মালিক বানাতে পারে l যদি তোমাদের দেহের মালিক হওয়ার সম্পূৰ্ণ সফলতা না থাকে তাহলে বিশ্বের মালিক হওয়ার ক্ষেত্রেও তোমরা সম্পন্ন হতে পারবে না l বর্তমান সময়ের এই জীবন ভবিষ্যতের দর্পণ l এই দর্পণ দ্বারা নিজের ভবিষ্যৎ স্পষ্টরূপে দেখতে পার l প্রথমে এই দেহের সম্বন্ধ এবং সংস্কারের ওপরে অধিকারী হওয়ার আধারেই মালিক হওয়ার সংস্কার গড়ে ওঠে l সম্বন্ধে স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে প্রিয় হওয়া - মালিকভাবের লক্ষণ l সংস্কারে নিরহঙ্কার (নির্মান) এবং নির্মাণশীল হওয়া উভয় বিশেষত্ব মালিকভাবের লক্ষণ l সেইসঙ্গে তোমাদের স্নেহী হতে হবে l যখন সকল আত্মার সম্পর্কে আসছ, তখন হৃদয়ের স্নেহাশিস অর্থাৎ সকলের ভিতর থেকে শুভ ভাবনা তোমার প্রতি নিঃসরণ হতে দাও l তাদের তুমি জানো বা নাই জানো, দূরের সম্বন্ধের হোক বা নিকট সম্পর্কের, কিন্তু যে দেখবে তার যেন স্নেহের কারণে এই অনুভব হয় যে তুমি তাদেরই, স্নেহের অভিন্নতা থেকে তাদের মনের মতো অনুভব হতে দাও l সম্বন্ধ দূরের হলেও স্নেহ সম্পন্ন হওয়ার অনুভব করায় l বিশ্বের মালিক হওয়ার বা দেহের মালিক হওয়ার অভ্যাসী আত্মাদের এই বিশেষত্বও লোকে অনুভব করবে l তারা যাদেরই সম্পর্কে আসবে, তাদের সেই বিশেষ আত্মার থেকে দাতাভাবের অনুভূতি হবে l এটা কারও সঙ্কল্পেও আসতে পারে না যে ইনি নিতে পারেন l সেই আত্মার থেকে সুখ, শান্তি, প্রেম, আনন্দ, খুশি, সহযোগ, মনোবল, উৎসাহ-উদ্দীপনা বা দাতাভাবের কোন না কোনও বিশেষত্ব অনুভূতি হবে l তারা উপলব্ধি করবে, সেই আত্মার সদা বিশাল বুদ্ধি, বিশাল হৃদয়, যাকে তোমরা বলো দিলদরিয়া l এখন এই সমস্ত লক্ষণ দ্বারা নিজেকে নিজে চেক কর, তোমরা কি হতে যাচ্ছ ! দর্পণ তো সবার কাছে আছে, তাই না ? তোমরা নিজেরা নিজেদের যতটা জানতে পার, ততটা কেউ জানতে পারে না l সুতরাং, নিজেকে জানো l আচ্ছা !

আজ তো বাবা তোমাদের সাথে মিলিত হতে এসেছেন l যদিও তোমরাও সবাই এসেছ, সেইজন্য বাপদাদারও তোমাদের সবার প্রতি সস্নেহ রিগার্ড থাকে, সেই কারণে বাপদাদা আধ্যাত্মিক আলাপচারিতা করেন l মধুবনের তোমরা নিজেদের অধিকার ছাড় না, আর তাই তোমরা কাছাকাছি বসে আছ l অনেক বিষয়ে অব্যাহতিপ্রাপ্ত হয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে বসে আছ l যারা বাইরে থাকে তাদের তবুও পরিশ্রম করতে হয় l খাওয়ার জন্য উপার্জন করা কিছুমাত্র কম পরিশ্রম নয় l মধুবনে উপার্জন করার চিন্তা তো নেই, তাই না ! বাপদাদা জানেন, যারা প্রবৃত্তিতে থাকে তাদের সহনও করতে হয়, সবরকম পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয় l সারসের মধ্যে থেকে হংস নিজের উন্নতি করে এগিয়ে যাচ্ছে l যতই হোক, স্বাভাবিকভাবেই তোমরা অনেক ব্যাপারে স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখ l আরামে থাক, আরামে খাও, আর আরামও কর l অফিসে যাওয়ার জন্য যারা বাইরে বের হয় তারা দিনে আরাম করে কি ? এখানে তো তোমাদের শরীরেরও আরাম থাকে আর বুদ্ধিরও l সুতরাং মধুবন নিবাসীদের স্থিতি সবার মধ্যে নম্বর ওয়ান, তাই না ? কারণ একটাই কাজ থাকে l যদি স্টাডি কর তো সেটাও বাবা করাচ্ছেন, যখন সেবা করছ সেটাও যজ্ঞ সেবা l অসীম জগতের অপরিসীম ঘর !

একই ব্যাপার, একই সংশ্লিষ্ট বিষয়, আর অন্য কিছু নেই l এমনকি, এটাও ভেবোনা 'আমার সেন্টার' l এই মনোভাবও থাকা উচিত নয়, 'আমিই শুধু এর চার্জে l' মধুবন নিবাসীদের অনেক বিষয়ে সহজ পুরুষার্থ আর সহজ প্রাপ্তি থাকে l আচ্ছা - মধুবন নিবাসী সকলেই গোল্ডেন জুবিলিরও প্রোগ্রাম বানিয়েছে, তাই না ! ফাংশনের নয় l সেইসবের জন্য তোমরা ফোল্ডার ইত্যাদি ছাপিয়েছ, সেটা হয়েছে বিশ্ব সেবার জন্য l তোমরা নিজেদের জন্য কি প্ল্যান বানিয়েছ ? নিজের স্টেজে তোমরা কি ভূমিকা (পার্ট ) পালন করবে ? সেই স্টেজের জন্য তো স্পিকার্স, প্রোগ্রাম তোমরা তৈরি রাখ, কিন্তু নিজের স্টেজের

জন্য কি প্রোগ্রাম নির্দিষ্ট করেছ ? "চ্যারিটি বিগিন্স অ্যাট হোম" - মধুবন নিবাসী তোমরা তো এটা করবে, তাই না ! কোনও ফাংশন যদি থাকে তো তোমরা কি কর ? (দীপ জ্বালানো হয় ) তাহলে গোল্ডেন জুবিলির দীপ কে প্রজ্জ্বলিত করবে ? সব বিষয়ে শুরু কে করবে ? মধুবন নিবাসীদের আত্মপ্রত্যয় আছে, উদ্যম আছে আর পরিমণ্ডলও তদনুরূপ, সবরকম সহায়তাও রয়েছে l যেখানে সকলের সহায়তা আছে সেখানে সব সহজ l তোমাদের শুধু একটা জিনিসই করতে হবে l সেটা কি ? *বাপদাদা সব বাচ্চাদের প্রতি এই আশা রাখেন, তোমরা প্রত্যেকে বাবা সমান হবে l*

সন্তুষ্ট থাকা আর সন্তুষ্ট করা - এটাই বিশেষত্ব l প্রথম এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাবাকে সামনে রেখে নিজের প্রতি অর্থাৎ নিজের পুরুষার্থের প্রতি , আপন স্বভাব সংস্কারের প্রতি তোমরা যে সন্তুষ্ট, তা' সততার সাথে চেক করে দেখা l হ্যাঁ আমি সন্তুষ্ট যথাশক্তিযুক্ত, সেটা আলাদা বিষয় l কিন্তু বাস্তবিক স্বরূপ অনুযায়ী নিজের প্রতি সন্তুষ্ট হওয়া আর অন্যকে সন্তুষ্ট করা, এটা সন্তুষ্টতার মহত্ত্ব l অন্যদেরও অনুভূত হতে দাও যথার্থরূপে তোমরা সন্তুষ্ট আত্মা l সন্তুষ্টতার মধ্যেই সবকিছু অন্তর্ভুক্ত l না নিজে ডিস্টার্ব হবে আর না অন্যকে ডিস্টার্ব করবে l তোমাকে ডিস্টার্ব করার অনেকে থাকবে, কিন্তু তুমি স্বয়ং ডিস্টার্ব হয়োনা l নিজেকে দেখ, কি করতে হবে তোমায় ! 'আমাকে নিমিত্ত হয়ে অন্যকে শুভ কামনা আর শুভ ভাবনার সহযোগ দিতে হবে l' এই বিশেষ অন্তর্নিহিত শক্তি ধারণ করতে হবে, এর মধ্যে সবকিছু অন্তর্ভুক্ত l এটার গোল্ডেন জুবিলি তো উদযাপন করতে পার, তাই না ! বাবা নামেমাত্র মধুবনবাসীকে বলছেন, বাস্তবিকপক্ষে যা সবার প্রতি l তোমরা মোহজিত রাজার কাহিনী তো শুনেছ, তাই না ? এইরকম সন্তুষ্টতার কাহিনী বানাও l তোমাদের কারও কাছে যে কেউ গিয়ে যতই ক্রস এক্সামিন করুক, কিন্তু সবার মুখ দ্বারা, মন দ্বারা তাদের সন্তুষ্টতার অনুভব হতে দাও l 'এ তো এইরকম', এটা নয়, বরং আমি কীভাবে এইরকম হব আর অন্যকেও সেইরকম বানাব । ব্যস্, শুধু এই ছোট বিষয়টা স্টেজে দেখাও l আচ্ছা !

দাদীদের সাথে :- বাপদাদার কাছে তোমাদের সকলের হৃদয়ের সঙ্কল্প পৌঁছেই যায় l তোমাদের এতসকল শ্রেষ্ঠ আত্মার শ্রেষ্ঠ সঙ্কল্প তো অবশ্যই বাস্তবায়িত হতেই হবে l তোমরা খুব ভালো প্ল্যান বানিয়েছ আর এই প্ল্যানই তোমাদের প্লেইন অর্থাৎ সহজবোধ্য বানাবে l সারা বিশ্বে, বিশেষ আত্মাদের শক্তি তো একই l আর কোথাও এইরকম বিশেষ আত্মাদের সংগঠন নেই l এই সংগঠনের শক্তি বিশেষ, সেইজন্য এই সংগঠনের দিকে সকলের বিশেষ দৃষ্টি রয়েছে, সেক্ষেত্রে আর সবাই টলমল করছে l তাদের সিংহাসন টলছে l আর এখানে রাজ-সিংহাসন প্রস্তুত হচ্ছে l এখানে গুরুর সিংহাসন নেই, সেইজন্য টলমল করে না l এই সিংহাসন স্ব-রাজ্যের তথা বিশ্ব-রাজ্যের l সবাই টলানোর চেষ্টাও করবে, কিন্তু সংগঠনের শক্তি এর নিরাপত্তা l কোনো কোনো জায়গায় প্রত্যেককে আলাদা করে দিয়ে ইউনিটিকে ডিসইউনিটি করে অর্থাৎ একতার মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি ক'রে তারপরে টলিয়ে দেয় l এখানে সংগঠনের শক্তির কারণে টলাতে পারে না l সুতরাং এই সংগঠনের শক্তির বিশেষত্ব সদা আরও এগিয়ে নিয়ে চলো l এই সংগঠন দুর্গ, সেইজন্য কেউ তোমাদের আঘাত করতে পারবে না l বিজয় সুনিশ্চিত হয়েই আছে, শুধু রিপিট করতে হবে l রিপিট করার ব্যাপারে যারা নিপুণ, তারা বিজয়ী হয়ে স্টেজে খ্যাতিমান হয় l সংগঠনের শক্তিই বিজয়ের বিশেষ আধার স্বরূপ l এই সংগঠনই সেবার বৃদ্ধিতে তোমাদের সফলতা প্রাপ্ত করিয়েছে l তোমরা দাদীরা লালনপালনের খুব ভালো রিটার্ণ দিয়েছ l সংগঠনের শক্তির আধার কি ? শুধু এই পাঠ পরিপক্ক হতে হবে যে 'রিগার্ড দেওয়াই রিগার্ড নেওয়া l' দেওয়াই নেওয়া, নিলে প্রকৃতার্থে নেওয়া হয় না l নেওয়া অর্থাৎ খুইয়ে ফেলা l দেওয়া অর্থাৎ নেওয়া l কেউ তোমাকে দিলে তুমি দেবে, এটা কোন বিজনেস নয় l এখানে, দাতা হওয়ার ব্যাপার l দাতা নিয়ে তারপরে দেয় না l দাতা তো শুধু দিয়েই যায়, সেইজন্যই এই সংগঠনের সফলতা l যতই হোক, এখন বালা প্রস্তুত হয়েছে, মালা এখনও প্রস্তুত হয়নি l বৃদ্ধি না হলে কার ওপরে রাজত্ব করবে ? বৃদ্ধির লিস্টে এখনও কিছু কম আছে l ৯ লক্ষ এখনও প্রস্তুত হয়নি l যে কোনও নিয়মে তারা মিলিত হবে, তো ঠিকই আছে, তাই না ! নিয়ম তো চেঞ্জ হতেই থাকে l প্রথমে তোমরা বাবার সঙ্গে সাকারে মিলিত হয়েছিলে, আর এখন অব্যক্ত রূপে তাঁর সঙ্গে মিলিত হচ্ছ l নিয়ম তো চেঞ্জ হয়েই গেল, তাই না ! ভবিষ্যতেও নিয়ম চেঞ্জ হতে থাকবে l বৃদ্ধি অনুসারে, মিলনের বিধিও ক্রমশঃ চেঞ্জ হবে l আচ্ছা !

পাটিদের সাথে:-
১) সদা নিজ গুণের প্রতিমূর্তি দ্বারা সমুদয় গুণের দান দিতে থাক l নির্বলকে শক্তির, গুণের, জ্ঞানের দান দিলে সদা মহাদানী আত্মা হয়ে যাবে l তোমরা দাতার বাচ্চা দাতা, গ্রহীতা নও l যদি ভাবো ইনি এইরকম করেন আমিও করব, সেটা গ্রহণকারী হওয়া l যদি ভাবো, 'আমি করব', এটা দাতা হওয়া l অতএব, গ্রহীতা নয়, দেবতা হও l যা কিছু তোমরা লাভ করেছ তা' ক্রমাগত দিতে থাক l যত দেবে ততই বাড়তে থাকবে l সদা দেবী হও অর্থাৎ যারা সর্বদা দিয়ে থাকেন l আচ্ছা l

২) অনেক তো শুনেছ তোমরা l হিসেব তো কর, আন্দাজমত কতটা শুনেছ তোমরা ! তোমাদের শোনা আর করা দুইই একসাথে ? নাকি শোনা আর করার মধ্যে তারতম্য ঘটে ? কেন শোন ? করার জন্যই তো শোন, তাই না ! শোনা এবং করা যখন সমান হয়ে যাবে তখন কি হবে ? তোমরা সম্পন্ন হয়ে যাবে, তাই না ! তাহলে, সম্পূৰ্ণ স্থিতির প্রথম স্যাম্পল কে হবে ? প্রত্যেকে তোমরা এটা কেন বলো না যে 'আমি হবো l' এক্ষেত্রে, *জো ওটে সো অর্জুন* অর্থাৎ যে নিজে থেকে এগিয়ে এসে সেবার দায়িত্ব পালন করে, সেই অর্জুন l বাবা যেমন নিজেকে নিমিত্ত বানিয়েছেন, ঠিক সেইভাবেই যে নিমিত্ত হয়, সে অর্জুন হয় অর্থাৎ নম্বর ওয়ানে এসে যায় l আচ্ছা - দেখব সেইরকম কে হয় ! বাপদাদা তো বাচ্চাদের তেমনই দেখতে চান l বছর অতিবাহিত হয়ে চলেছে l ঠিক যেভাবে অবলীলাক্রমে বছর এগিয়ে চলে, সেইভাবেই পুরানো সবকিছু অবলীলায় যেন চলে যায় l আর সদাসর্বদা নতুন উদ্যম, নতুন সঙ্কল্প থাকতে দাও, সম্পূর্ণতার এটাই লক্ষণ l পুরানো সবকিছু শেষ হয়ে গেছে, এখন সবকিছু নতুন হতে দাও l

প্রশ্নঃ-
বাবার কাছাকাছি আসার আধার কি ?

উত্তরঃ-
বিশেষত্ব l কোন না কোনও বিশেষত্ব তোমাদের কাছে নিয়ে এসেছে l তোমাদের সেবা দ্বারাই এই বিশেষত্ব বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় l যা কিছু বিশেষত্ব দিয়ে বাবা তোমাদের পূর্ণ করেছেন, সেই সবকিছু সেবাতে প্রয়োগ কর l এই সমস্ত বিশেষত্ব সাকার রূপে স্থাপন করলে, সেবার সাবজেক্টেও মার্কস পাওয়া যায়, নিজের অনুভব অন্যকে শুনাও, তাহলে তাদেরও উৎসাহ-উদ্দীপনা বৃদ্ধি হবে l

প্রশ্নঃ-
আধ্যাত্মিকতায় অনুপলব্ধির কারণ কি ?

উত্তরঃ-
তোমরা নিজেকে বা যাদের সেবা কর তাদের আমানত মনে কর না l আমানত বোধে অনাসক্ত থাকবে আর অনাসক্ত হওয়াতেই অধ্যাত্ম বোধ আসবে, আচ্ছা !

প্রশ্নঃ-
বর্তমান সময়ে বিশ্বে মেজরিটি আত্মাদের মধ্যে কোন দুটো জিনিস প্রবেশ করেছে ?

উত্তরঃ-
১- ভয় আর ২- চিন্তা l সবার মধ্যে এই দু'টোই বিশেষ l কিন্তু তারা যতখানি উদ্বেগে বা চিন্তায় থাকে, তোমরা ততখানিই শুভচিন্তক l চিন্তা পরিবর্তিত হয়ে শুভচিন্তকের ভাবনা স্বরূপ হয়ে গেছে l ভয়ভীতি পরিবর্তিত হয়ে সুখগীতি গাইছে l বাপদাদা এইরকম নিশ্চিন্ত বাদশাহদের দেখছেন l

প্রশ্নঃ-

বর্তমান সময় কোন্ সীজন চলছে ? বাচ্চারা, এইরকম সময়ে তোমাদের কর্তব্য কি ?

উত্তরঃ-
বর্তমান সময় অকাল মৃত্যুর সীজন l যেমন, বায়ুতাড়িত ঝড় ও সামুদ্রিক তুফান হঠাৎ শুরু হয়, ঠিক তেমনভাবেই অকাল মৃত্যুরও তুফান হঠাৎই আরও দ্রুততার সঙ্গে একসাথে অনেককে নিয়ে যাবে l এইরকম সময়ে যাদের অকাল মৃত্যু হয়, সেই আত্মাদের প্রতি অকালমূর্তি ধারণপূর্বক শান্তি আর শক্তির দান দেওয়া তোমরা সব বাচ্চার কর্তব্য l সুতরাং, সদা শুভচিন্তক হয়ে শুভ ভাবনা, শুভ কামনার মানসিক সেবা দ্বারা সবাইকে সুখ-শান্তি দাও l আচ্ছা l

বরদান:-
দৃঢ়তা দ্বারা নিষ্ফলা জমিতেও ফল উৎপন্ন করে সফলতা স্বরূপ ভব
 

যে কোনও বিষয়ে সফলতার প্রতিমূর্তি হওয়ার জন্য দৃঢ়তা আর স্নেহের সংগঠন প্রয়োজন l এই দৃঢ়তা নিষ্ফল জমিতেও ফল ফলাতে সক্ষম l আজকাল যেমন সাইন্সের লোকে বালিতেও ফল উৎপাদন করার চেষ্টা করছে, সেইভাবে তোমরা সাইলেন্সের শক্তি দ্বারা স্নেহের জল সিঞ্চনে ফলদায়ী হও l দৃঢ়তা দ্বারা আশাহীনের মধ্যে আশার দীপ জ্বালাতে পার, কারণ তোমার ইচ্ছাশক্তিই তোমাকে বাবার সহায়তা প্রাপ্ত করায় l

স্লোগান:-
আপনজনকে সদাসর্বদা প্রভুর আমানত মনে করে চললে তোমার কর্মে আধ্যাত্মিকতা আসবে l