22-11-2020 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 21-01-87 মধুবন


"স্ব-রাজ্য অধিকারীই বিশ্ব-রাজ্য অধিকারী"


আজ ভাগ্যবিধাতা বাবা নিজের সর্বশ্রেষ্ঠ ভাগ্যবান বাচ্চাদের দেখছেন l বাপদাদার সামনে শুধু এই সংগঠন নয়, বরং চতুর্দিকের ভাগ্যবান বাচ্চারা এখনও তাঁর সামনে আছে l দেশ- বিদেশের যেকোন প্রান্তে তারা থাকতে পারে, কিন্তু অসীম জগতের বাবা তাঁর আত্মন বাচ্চাদের দেখছেন l এই সাকার দুনিয়ায় স্থান সীমিত, কিন্তু অসীম জগতের বাবার দৃষ্টির সৃষ্টি অসীম l বাবার দৃষ্টিতে সব ব্রাহ্মণ আত্মার সৃষ্টি সমাহিত হয়ে আছে l সুতরাং দৃষ্টির দুনিয়ায় সবাই বাবার সমুখে আছে l ভাগ্যবিধাতা ভগবান সব ভাগ্যবান বাচ্চাকে দেখে উৎফুল্ল হচ্ছেন l যেমন বাচ্চারা বাবাকে দেখে উৎফুল্ল হয়, তেমনই বাবাও সব বাচ্চাকে দেখে উৎফুল্ল হন l বাচ্চাদের দেখে অসীম জগতের বাবার অধ্যাত্ম নেশা থাকে ও তিনি গৌরবান্বিত হন যে তাঁর প্রত্যেক বাচ্চা এই বিশ্বের সামনে বিশেষ আত্মাদের লিস্টে আছে l হতে পারে ১৬ হাজার দানার মালার লাস্ট দানা, তবুও বাবার সামনে আসায়, বাবার হওয়ায় বিশ্বের সামনে বিশেষ আত্মা, সেইজন্য, হয়তো বা জ্ঞানের বিস্তারিত আর কিছু নাও জানতে পারে, কিন্তু যখন তোমরা হৃদয় থেকে 'বাবা' এই একটা শব্দকে মেনে নাও, আর অন্যকে মন থেকে শোনাও, তখন তোমরা বিশেষ আত্মা, দুনিয়ার সামনে মহান আত্মা হয়ে যাও, দুনিয়ার সামনে মহান আত্মার স্বরূপে গায়ন-যোগ্য হয়ে গেছ l এমন শ্রেষ্ঠ ভাগ্য সহজে তোমাদের প্রাপ্ত হয়েছে, বুঝতে পারো তোমরা ? কারণ 'বাবা' শব্দই 'চাবি' l কিসের চাবি ? সমগ্ৰ ভান্ডারের, শ্রেষ্ঠ ভাগ্যের l একবার যদি চাবি পেয়ে গেছ তো ভাগ্য বা ভান্ডার অবশ্যই প্রাপ্ত হয় l তাহলে, সব মাতা এবং পাণ্ডব চাবি প্রাপ্ত করার অধিকারী হয়েছ ? চাবি কীভাবে লাগাতে হয় জানো, নাকি কখনো কখনো লাগে না ? চাবি লাগানোর বিধি - হৃদয় দিয়ে জানা এবং স্বীকৃত হওয়া l যদি শুধু মুখে বলো তো চাবি থেকেও কাজে লাগবে না l হৃদয় থেকে যদি বলো, তাহলে ভান্ডার সদা তোমার সামনে প্রস্তুত l ভান্ডার তো অফুরন্ত, তাই না ! অফুরান ভান্ডার হওয়ার কারণে যত বাচ্চা আছে সবাই অধিকারী l উন্মুক্ত ভান্ডার, পরিপূর্ণ ভান্ডার l এমন নয় যে যারা পিছনে এসেছে তাদের জন্য ভান্ডার নিঃশেষ হয়ে গেছে l এখনও পর্যন্ত যত এসেছ, বাবার হয়েছ এবং ভবিষ্যতেও যত হবে, তাদের সকলের জন্য ভান্ডার অনেকানেক গুন বেশি আছে, সেইজন্য বাপদাদা সব বাচ্চাকে গোল্ডেন চান্স দেন, যার যত খাজানা নেওয়ার আছে, হৃদয় ভরে নিয়ে নাও l দাতার কাছে কিছুই কম নেই, যে নেবে তার মনোবল এবং পুরুষার্থের উপরে নির্ভর করে l সারা কল্পে এমন কোনও বাবা নেই যাঁর এত বাচ্চা থাকবে আর প্রত্যেকে ভাগ্যবান হবে ! সেইজন্য তোমাদের বলা হয়েছিল যে অধ্যাত্ম বাপদাদার অধ্যাত্ম নেশা থাকে l

মধুবনে আসার এবং মিলনের আশা সকলের পূর্ণ হয়েছে l ভক্তিমার্গের যাত্রার তুলনায় এখানে মধুবনে বসতে, আরামে থাকতে জায়গা তো পেয়েছ, তাই না ! মন্দিরে তো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দর্শন করতে, এখানে অন্ততঃ আরামে বসছ l ওখানে তো দৌড়াও-দৌড়াও, চলো-চলো বলে আর এখানে আরামে বসো, আরামে স্মরণে থাকার খুশিতে পরমানন্দ লাভ করো l সঙ্গমযুগে খুশি উদযাপন করার জন্য এসেছ l সুতরাং সবসময় চলতে-ফিরতে, ভোজনপান করতে খুশির ভান্ডার জমা করেছ ? কতো জমা করেছ ? এতটাই কি করেছ যাতে ২১ জন্ম ধরে তা' থেকে খেতে পারো ! সমস্ত ভান্ডার জমা করার বিশেষ স্থান মধুবন, কারণ সাকার রূপে তোমরা এটাও অনুভব করতে পারো যে, 'এখানে এক বাবা দ্বিতীয় কেউ নেই' l ওখানে তোমরা তোমাদের বুদ্ধি দ্বারা সেটা অনুভব কর, আর এখানে তোমাদের প্রত্যক্ষ সাকার জীবনে বাবা আর ব্রাহ্মণ পরিবার ব্যতীত অন্য কেউ নজরে আসে কি ? একই নিষ্ঠা, একই বিষয়, একই পরিবার এবং একরস স্থিতি, অন্য কোনও রসে তোমাদের উৎসাহ নেই l পঠন-পাঠনের দ্বারা শক্তিশালী হওয়া, মধুবনে এটাই তো তোমাদের একমাত্র কাজ, তাই না ! কতো ক্লাস করো তোমরা ! সুতরাং এখানে জমা করার বিশেষ সাধন লাভ হয় তোমাদের, সেইজন্য দৌড়াতে দৌড়াতে এখানে পৌঁছে গেছ l বাপদাদা সব বাচ্চাকে বিশেষ এটা মনে করিয়ে দিচ্ছেন সদা স্বরাজ্য অধিকারী স্থিতিতে সামনে এগিয়ে চলো l স্বরাজ্য অধিকারী হওয়া, বিশ্ব রাজ্য অধিকারী হওয়ার লক্ষণ l

কিছু কিছু বাচ্চা আত্মিক আলাপ-আলোচনা করার সময় বাবাকে জিজ্ঞাসা করে, "ভবিষ্যতে আমি কি হবো, রাজা হবো নাকি প্রজা হবো ?" বাপদাদা বাচ্চাদের রেসপন্ডস্ করেন, নিজেকে নিজে একদিনের জন্যও যদি চেক করো, তাহলেই তুমি জানবে যে তুমি রাজা হবে, বিত্তবান হবে নাকি প্রজা হবে ! প্রথমে অমৃতবেলা থেকে নিজের কার্য-বিষয়ক মুখ্য তিন কর্মচারী, নিজের সহযোগী সাথীদের চেক করো l তারা কারা ? ১) মন অর্থাৎ সঙ্কল্প শক্তি ২) বুদ্ধি অর্থাৎ নির্ণয় শক্তি ৩) অতীত এবং বর্তমান শ্রেষ্ঠ সংস্কার l এই তিন বিশেষ কার্য-নির্বাহক l যেমন আজকালকার সময়ে রাজার সাথে মহামন্ত্রী এবং বিশেষ মন্ত্রী থাকে, তাদের সহযোগিতায় রাজকার্য চলে l সত্যযুগে মন্ত্রী থাকবে না, কিন্তু নিকট আত্মীয়-পরিজনই সাথী হবে l যে কোনও রূপে সাথী ভাবো বা মন্ত্রী, কিন্তু এটা চেক করো ওই তিন কার্য-নির্বাহক স্ব-এর অধিকারে চলে ? এই তিনের উপরে স্ব-এর রাজ্য নাকি তাদের অধিকারে তোমরা চালিত হও ? মন তোমাকে চালায় নাকি তুমি মনকে চালাও ? যখন যেমন চাও তেমনই সঙ্কল্প করতে পারো ? যেখানে বুদ্ধিকে নিবদ্ধ করতে চাও, করতে পারো ? নাকি বুদ্ধি তোমরা সব রাজাকে বিভ্রান্ত করে ? সংস্কার তোমাদের বশে নাকি তোমরা সংস্কারের বশে ? রাজ্য অর্থাৎ অধিকার l রাজ্য-অধিকারী যে শক্তিকে যে সময় যে অর্ডার করে, সে সেই বিধিপূর্বক কাজ করে নাকি তোমরা এক বিষয়ে বলো আর সে অন্যকিছু করে ! কেননা নিরন্তর যোগী অর্থাৎ স্বরাজ্য অধিকারী হওয়ার বিশেষ সাধনই মন আর বুদ্ধি l মন্ত্রই 'মন্মনাভব' l যোগকে বুদ্ধিযোগ বলে l অতএব, যদি এই বিশেষ আধার স্তম্ভ নিজের অধিকারে না থাকে, অথবা কখনো আছে কখনো নেই, এখনই আছে এখনই নেই l মন, বুদ্ধি, সংস্কার এই তিনের মধ্যে যদি অধিকারে কোনটাও অপেক্ষাকৃত কম থাকে তাহলে তোমরা এর থেকেই চেক করতে পারো তোমরা রাজা হবে নাকি প্রজা হবে ! বহুকালের রাজ্য অধিকারী হওয়ার সংস্কার বহুকালের ভবিষ্যৎ রাজ্য-অধিকারী বানাবে l যদি কখনো অধিকারী, কখনো বশীভূত হয়ে যাও তাহলে অর্ধেক কল্প অর্থাৎ পুরো রাজ্য-ভাগ্যের অধিকার প্রাপ্ত করতে পারবে না l অর্ধেক সময়ের পরে ত্রেতাযুগী রাজা হতে পারে, সম্পূৰ্ণ সময়ের রাজ্য-অধিকারী অর্থাৎ যারা রাজত্ব করবে তেমন পরিবারের নিকট সম্বন্ধে থাকতে পারে না l যদি বারবার বশীভূত হও তাহলে সেই সংস্কার অধিকারী হওয়ার নয়, কিন্তু রাজ্য-অধিকারীদের রাজ্যে থাকার সংস্কার l তাহলে তারা কে ? তারা প্রজা l সুতরাং বুঝেছ ? রাজা কে হবে, প্রজা কে হবে ? নিজের দর্পণে নিজ ভাগ্যের নিজরূপকে দেখ l এই জ্ঞানই নলেজ-দর্পণ l তাহলে সবার কাছে দর্পণ আছে, তাই না ? নিজের মূর্তি দেখতে পারো, তাই তো ? এখন বহু সময়ের অধিকারী হওয়ার অভ্যাস করো l এমন ভেবোনা যে অন্তে তো তৈরি হয়ে যাবে l যদি অন্তে তৈরি হও তাহলে শেষের এক জন্ম সামান্য সময়ের জন্য রাজত্ব করবে l কিন্তু এটাও মনে রেখো, যদি বহু সময়ের অভ্যাস এখন থেকে না হয় কিংবা আদি থেকে অভ্যাস করনি, আদি থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিশেষ কার্যকর্তা যদি তোমাকে তার অধিকারে চালায় এবং তোমার স্থিতি টালমাটাল করে দেয়, অর্থাৎ যদি কৌশলে ভুলপথে চালিত করতে থাকে, দুঃখের তরঙ্গ অনুভব করায় তাহলে অন্তেও তুমি ভুলপথে চালিত হবে l প্রতারণা অর্থাৎ দুঃখের তরঙ্গ অবশ্যই আসবে l সুতরাং অন্তেও অনুশোচনার দুঃখ-তরঙ্গ আসবে সেইজন্য বাপদাদা সব বাচ্চাকে পুনরায় মনে করিয়ে দেন যে রাজা হও আর নিজের বিশেষ সহযোগী কর্মচারী এবং রাজ্য ব্যবসায়ী সাথীদের নিজের অধিকারে চালাও, বুঝেছ ?

বাপদাদা এটাই দেখেন যে কোন্ কোন্ বাচ্চা কতটা স্বরাজ্য অধিকারী হয়েছে ! আচ্ছা l তাহলে সবাই তোমরা কি হতে চাও ? রাজা হতে চাও ? তাহলে কি এখন স্বরাজ্য অধিকারী হয়েছ, নাকি এটাই বলো তৈরি হচ্ছি, তৈরি তো হয়ে যাবো l হয়ে যাবে, হয়ে যাবে ব'লোনা, যদি তোমরা ভবিষ্যতের জন্য ফেলে রেখে বলো হয়ে যাবে, তাহলে বাবাও বলবেন, আচ্ছা, যখন ভাগ্য দেওয়ার সময় আসবে তখন দেখেব ! তোমাদের তো বলা হয়েছে, বহু সময়ের সংস্কার এখন থেকে প্রয়োজন l কার্যতঃ, বেশি সময় নেই, অল্প সময়ই বাকি আছে l কিন্তু তবুও এতটুকু সময়েরও অভ্যাস যদি না হয় তাহলে লাস্ট সময় এই অভিযোগ ক'রনা - আমি তো ভেবেছিলাম, লাস্টেই হয়ে যাবে ! সেইজন্যই বলা হয়ে থাকে, অন্য সময় নয়, এখনই l পরে কখনো হয়ে যাবে নয়, এখনই হতে হবে l তৈরি হতেই হবে l নিজের উপরে রাজত্ব কায়েম করো, নিজের সাথীদের উপরে রাজত্ব শুরু ক'রনা l যার স্ব-এর উপরে রাজত্ব কায়েম আছে, তার সামনে এখনও স্নেহের কারণে সব সাথী উপস্থিত, হয় লৌকিক অথবা অলৌকিক সবাই "জী হুজুর", "হাঁ জী" বলে সঙ্গী হয়ে থাকে, স্নেহী আর সাথী হয়ে "হাঁ জী''র পাঠ প্র্যাকটিক্যালি দেখায় l যেমন প্রজা রাজার সহযোগী হয়, স্নেহী হয়, সেইরকম তোমাদের এইসব কর্মেন্দ্রিয়, বিশেষভাবে শক্তি সদা তোমাদের স্নেহী, সহযোগী থাকবে আর এর প্রভাব সাকারে তোমাদের সেবার সাথীদের এবং লৌকিক সম্বন্ধীয় পরিজন এবং সাথীদের মধ্যে পড়বে l দৈবী পরিবারে অধিকারী হয়ে অন্যদের অর্ডার দেওয়া - এটা করা যাবে না ! স্বয়ং নিজের কর্মেন্দ্রিয়সমূহ অর্ডারে রাখ, তাহলে নিজে থেকেই তোমার অর্ডার করার আগেই সব সাথী তোমার সব কাজে সহযোগী হবে l তারা নিজেরাই সহযোগী হবে, অর্ডার করার প্রয়োজনই হবে না l তারা নিজেরা সহযোগের অফার করবে তোমাদের, কারণ তোমরা স্বরাজ্য অধিকারী l রাজা অর্থাৎ দাতা, সুতরাং দাতাকে বলতে হয় না অর্থাৎ চাওয়ার দরকার হয় না l অতএব, এইরকম স্বরাজ্য অধিকারী হও l আচ্ছা l এই মেলাও ড্রামাতে স্থিরীকৃত ছিল l তোমরা বলো, বাঃ ড্রামা ! তাই না ? অন্য লোকেও কখনো বলবে, হায় ড্রামা !' কখনো 'বাঃ ড্রামা', আর তোমরা সবসময় কি বলো ? বাঃ ড্রামা ! বাঃ ! যখন তোমাদের প্রাপ্তি হয়, তো প্রাপ্তির কাছে কোনকিছুই কঠিন মনে হয় না l সুতরাং এইভাবেই যখন এত শ্রেষ্ঠ পরিবারের সাথে মিলিত হওয়ার প্রাপ্তি হচ্ছে তখন কোন কঠিন কিছু কঠিন মনে হবে না l কঠিন মনে হয় ? খাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয় ? যখন খাও তখনও প্রভুর গুণ গাও আর যখন ক্যু-তে অপেক্ষা করো তখনও প্রভুর গুণ গাও l এই কাজই তো কর, তাই না ! এটাও রিহার্সাল হচ্ছে l এখন তো কিছুই নেই l এখন তো আরও বৃদ্ধি হবে, তাই না ! এইভাবে নিজেকে মোল্ড করার অভ্যাস তিল তিল করে গড়ে তোল', যাতে সময় অনুযায়ী নিজেই নিজেকে চালাতে পারো l তাহলে মেঝেতে ঘুমানোর অভ্যাস হয়ে গেছে, তাই না ! এমন নয় তো বিছানা পাওয়া যায়নি বলে ঘুম আসেনি ? টেন্টে থাকারও অভ্যাস গড়ে তুলেছ, তাই না ! ভালো লেগেছে ? ঠান্ডা লাগে না তো ? এখন আবুর সর্বত্র টেন্ট লাগানো উচিত l টেন্টে ঘুমাতে ভালো লাগে, নাকি ঘরের প্রয়োজন ? মনে আছে, একদম প্রথম দিকে যখন পাকিস্তানে ছিলে, মহারথীদেরই মেঝেতে ঘুমাতে হতো l যারা নামীদামী মহারথী ছিল তাদেরকে ঘুমানোর জন্য হলের মেঝেতে তিন ফুট জায়গা দেওয়া হতো l আর যখন ব্রাহ্মণ পরিবারের বৃদ্ধি হয় তখন কীভাবে শুরু হয়েছিল ? টেন্ট থেকেই শুরু করেছিলে, তাই না ! যারা শুরুতে এসেছিল তারা টেন্টেই থেকেছে, টেন্টে যারা থেকেছে তারা সেন্ট (মহাত্মা) হয়ে গেছে l সাকার বাবার পার্ট চলা কালেও তারা টেন্টই থেকেছে l তাহলে তোমরাও তো সেটা অনুভব করবে, তাই না ! সুতরাং সবাই সব ধরণেই খুশি ? আচ্ছা, তাহলে আরও দশ হাজার টেন্ট দিয়ে ব্যবস্থা করা হবে l সবাই স্নানের ব্যবস্থার বিষয়ে ভাবছ, সেটাও হয়ে যাবে l মনে আছে, যখন এই হল তৈরি হয় তখন সবাই কি বলেছিল ? স্নান করার এত জায়গা দিয়ে কি করবে ? এই উদ্দেশ্যেই তো বানানো হয়েছিল, এখন কম হয়ে গেল, তাই না ! যতই বানাবে ততই কম তো হতেই হবে, কারণ শেষে তো তোমাদের অসীমেই যেতে হবে l আচ্ছা l

সবদিক থেকে বাচ্চারা পৌঁছে গেছে l সুতরাং এও এই অসীম হলের শৃঙ্গার l কেউ কেউ নিচেও বসেছে l (হিস্ট্রি হল মেডিটেশন হল এইসব বিভিন্ন স্থানে মুরলী শুনছে l এই বৃদ্ধি হওয়াও তো ভালো ভাগ্যের লক্ষণ l বৃদ্ধি তো হয়েছে, কিন্তু তোমাদের বিধিপূর্বক এগিয়ে যেতে হবে l এমন নয়, এখানে মধুবনে এসে গেছ, বাবাকেও দেখেছ, মধুবনও দেখেছ, এখন তোমরা ইচ্ছেমতো সবকিছু করতে পারো l এইরকম ক'রনা, কেননা কোন কোন বাচ্চা এমনই করে, যতক্ষণ তারা মধুবনে আসার সুযোগ পায় না ততক্ষণ তাদের মধ্যে দৃঢ়তা থাকে, তারপরে একবার মধুবন দেখা হয়ে গেলে সামান্য অমনোযোগী হয়ে যায় l সুতরাং অমনোযোগী হয়োনা l ব্রাহ্মণ হওয়া অর্থাৎ ব্রাহ্মণ জীবন, আর জীবন তো সবসময়ের জন্য, যতক্ষণ আছে ততক্ষণ তোমরা প্রাণময় l এই জীবন তো তোমরা তৈরি করেছ, তাই না ! জীবন তৈরি করেছ নাকি অল্প সময়ের জন্য ব্রাহ্মণ হয়েছ ? সদা তোমাদের ব্রাহ্মণ জীবনের বিশেষত্ব নিজের সাথে রাখো, কারণ এই বিশেষত্ব দ্বারা বর্তমানও শ্রেষ্ঠ আর ভবিষ্যতও শ্রেষ্ঠ l আচ্ছা l বাকি কি রইল ? টোলি l (বরদান) বরদান তো বরদাতার বাচ্চারাই হয়ে গেছে l যারা বরদাতারই বাচ্চা, তাদের প্রতি কদমে বরদাতার থেকে বরদান আপনা থেকেই প্রাপ্ত হতে থাকে l বরদানই তোমাদের পৌষ্টিক আহার l বরদানের পুষ্টিসাধনে তোমরা পালিত হচ্ছ l নয়তো, ভাবো এত শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি আর পরিশ্রম কি করেছ ! বিনা পরিশ্রমের যে প্রাপ্তি তাকেই বরদান বলে l তাহলে পরিশ্রম কি করেছ ! অথচ প্রাপ্তি কতো শ্রেষ্ঠ ! জন্ম-জন্ম প্রাপ্তির অধিকারী হয়ে গেছ l সুতরাং বরদাতার বরদান প্রতি কদমে লাভ করছ আর সদাই প্রাপ্ত হতে থাকবে l দৃষ্টি দ্বারা, বোল দ্বারা, সম্বন্ধ দ্বারা তোমাদের শুধু বরদান আর বরদানই থাকে l আচ্ছা l

এখন তো গোল্ডেন জুবিলি উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছ l গোল্ডেন জুবিলি অর্থাৎ সদা গোল্ডেন স্থিতিতে স্থিত থাকার জুবিলি উদযাপন করছ l সদা রিয়েল গোল্ড, সামান্য অ্যালয়ও (খাদ) মিক্স নয় l একেই বলে, গোল্ডেন জুবিলি l সুতরাং যারা সোনার স্থিতিতে স্থিত তারা দুনিয়ার সামনে প্রকৃত সোনা হয়ে প্রত্যক্ষ হবে, সেইজন্য সেবার এইসব সাধন তৈরি করছ, কারণ তোমাদের গোল্ডেন স্থিতি গোল্ডেন এজ নিয়ে আসবে, স্বর্ণালী সৃষ্টি নিয়ে আসবে, যেটা সবাই চাইছে যে দুনিয়ার এখন কিছু পরিবর্তন প্রয়োজন l অতএব, স্ব-পরিবর্তন দ্বারা বিশ্ব পরিবর্তনকারী তোমরা বিশেষ আত্মা l তোমাদের সবাইকে দেখে আত্মাদের এই নিশ্চয় এবং শুদ্ধ আশা হতে দাও যে নিশ্চিতরূপে স্বর্ণালী দুনিয়া অর্থাৎ সুখ-সমৃদ্ধি, শান্তিপূর্ণ দুনিয়া প্রায় সমাগত ! স্যাম্পল দেখেই তো নিশ্চয় হয়, তাই না ! হ্যাঁ এটা ভালো জিনিস l তাহলে তোমরা স্বর্ণ দুনিয়ার স্যাম্পল l স্বর্ণ স্থিতিতে স্থিত l সুতরাং যখন তারা তোমরা সব স্যাম্পলকে দেখে, তাদের এই নিশ্চয় হতে দাও যে হ্যাঁ, স্যাম্পল যখন প্রস্তুত আছে তখন সেইরকম দুনিয়া সমাগত প্রায় l এইরকম সেবা গোল্ডেন জুবিলিতে তোমরা করবে, তাই না ! নিরাশকে আশা দিয়ে সহায় হও l আচ্ছা l

সকল স্বরাজ্য অধিকারী, বহুকালের অধিকার প্রাপ্ত করার অভ্যাসী সব আত্মাকে, বিশ্বের সব বিশেষ আত্মাকে, বরদাতার বরদানে পালিত সব শ্রেষ্ঠ আত্মাকে বাপদাদার স্মরণ-স্নেহ আর নমস্কার l

বরদান:-
লক্ষ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ানো আত্মাদের যথার্থ গন্তব্য দেখিয়ে চৈতন্য লাইট-মাইট হাউস ভব

উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ানো যে কোনো আত্মাকে যথার্থ গন্তব্য দেখানোর জন্য চৈতন্য লাইট-মাইট হাউস হও l সেইজন্য দুটো বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে -১) সব আত্মার চাহিদা উপলব্ধি করা l যেমন, যোগ্য ডাক্তার জানে, কীভাবে কারও নাড়ি পরখ করতে হয়, সেইভাবে পরখ করার শক্তিকে সদা ইউজ করো l ২) সদা নিজেদের সাথে সব ভান্ডারের অনুভব বজায় রাখ l সদা এই লক্ষ্য রাখো কোনকিছু শোনানো নয়, বরং সর্বসম্বন্ধ, সর্বশক্তির অনুভব করাতে হবে l

স্লোগান:-
অন্যকে কারেকশন করানোর পরিবর্তে এক বাবার সাথে সঠিক কানেকশন রাখো l