23.01.2023 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - পবিত্রতা ব্যতীত ভারত স্বর্গ হতে পারে না, তোমাদের জন্য শ্রীমৎ হলো, তোমরা ঘর গৃহস্থে থেকে পবিত্র হও, দু'দিকেই সম্পর্কই পালন করতে হবে (দায়িত্ব পালন করতে হবে)"

প্রশ্নঃ -
অন্যান্য সৎসঙ্গ বা আশ্রমের থেকে এখানকার কোন্ রীতিনীতি সম্পূর্ণ আলাদা?

উত্তরঃ  
মানুষ সেই সব আশ্রমে গিয়ে থাকে, মনে করে -- সঙ্গ ভালো, ঘর ইত্যাদির হট্টগোল নেই। এইম্ অবজেক্ট (লক্ষ্যবস্তু) কিছু নেই। কিন্তু এখানে তো তোমরা মরজীবা (জীবিত থেকেও মৃতবৎ) হয়ে যাও। কিন্তু ঘর পরিবার ত্যাগ করানো হয় না। ঘরে থেকেই তোমাদের জ্ঞান অমৃত পান করতে হবে, রুহানী সেবা করতে হবে। এই রীতি ওই সৎসঙ্গগুলিতে নেই।

ওম্ শান্তি ।
বাবা বসে বাচ্চাদেরকে বোঝান, কারণ বাচ্চারা জানে যে এখানে বাবাই বুঝিয়ে থাকেন। সেইজন্য প্রতিমুহূর্তে শিব ভগবানুবাচ বলতেও ভালো লাগে না। ওই গীতা যারা শোনায় তারা বলবে -- কৃষ্ণ ভগবানুবাচ। তাঁরা তো এখান হয়েই গেছে। তারা বলে -- শ্রীকৃষ্ণ গীতা শুনিয়েছিলেন, রাজযোগ শিখিয়েছিলেন। বাচ্চারা, এখানে তো তোমরা মনে করো যে শিববাবা আমাদের রাজযোগ শিখিয়ে ছিলেন। আর কোনো সৎসঙ্গ নেই যেখানে রাজযোগ শেখানো হয়। বাবা বলেন, আমি তোমাদেরকে রাজার-রাজা বানিয়ে দিই। ওরা তো কেবল বলবে কৃষ্ণ ভগবানবাচ। কবে বলেছিল? তখন বলে যে ৫ হাজার বছর পূর্বে অথবা কেউ বলে ক্রাইস্টের ৩ হাজার বছর পূর্বে। ২ হাজার বছর বলে না কারণ মধ্যের যে এক হাজার বছর তাতে ইসলাম, বৌদ্ধরা এসেছিল। তাহলে ক্রাইস্ট এর ৩ হাজার বছর পূর্বে ছিল সত্যযুগ, প্রমাণিত হয়ে যায়। আমরা বলি -- আজ থেকে ৫ হাজার বছর পূর্বে, গীতা শোনান যিনি সেই ঈশ্বর এসেছিলেন আর এসে দেবী-দেবতা ধর্ম স্থাপন করেছিলেন। এখন ৫ হাজার বছর পরে পুনরায় তাকে আসতে হয়েছে। এ হলো পাঁচ হাজার বছরের চক্র। বাচ্চারা জানি যে এই বাবা এঁনার দ্বারা বোঝাচ্ছেন। দুনিয়ায় তো অনেক প্রকারের সৎসঙ্গ রয়েছে, যেখানে মানুষ যায়। কেউ আবার আশ্রমে গিয়ে থেকেও যায়, তখন তাদের এমন বলা হবে না যে মাতা-পিতার কাছে গিয়ে জন্ম নিয়েছে বা ওঁনার থেকে কোনো উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয়, না। কেবল ওই সৎসঙ্গকে ভালো মনে করে। ওখানে ঘর সংসারের ঝঞ্ঝাট নেই। এছাড়া এইম অবজেক্ট তো কিছুই নেই। এখানে তো তোমরা বলে থাকো যে আমরা মাতা-পিতার কাছে এসেছি। এ হলো তোমাদের মরজিবা (জীবিত থেকেও মৃতবৎ) জন্ম। ওরা (লোকেরা) গিয়ে বাচ্চাকে অ্যাডপ্ট করে, তখন সেই সন্তানকে নিয়ে ঘর সংসার করে। এখানে এইরকম নিয়ম নেই যে বাপের-বাড়ি, শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে এখানে এসে বসে পড়বে। এ তো হতে পারেনা। এখানে তো গৃহস্তে থেকে পদ্ম ফুলের মতন হয়ে থাকতে হবে। কুমারী হোক বা যে কেউ হোক তাদের বলা হয়ে থাকে যে ঘরে থেকেও (গৃহস্থে) রোজ জ্ঞান অমৃত পান করতে এসো। জ্ঞানকে বুঝে তারপর অন্যদের বোঝাও। দুদিকের সম্পর্কই পালন করো। গৃহস্থ ব্যবহারেও থাকতে হবে। অন্তিম সময় পর্যন্ত দুদিকই সামলাতে হবে। অন্তিমে এদিক এখানে থাকো অথবা ওখানে থাকো, মৃত্যু তো সকলেরই আসবে। কথিত রয়েছে -- রাম গেছে, রাবণ গেছে..... তাই এমন নয় যে সকলকে এখানে এসে থাকতে হবে। এরা তো তখনই বেরিয়ে আসে যখন বিষের জন্য তাদেরকে নির্যাতন করা হয়। কন্যাদেরও ঘরেই থাকতে হবে। আত্মীয়-পরিজনেদের সার্ভিসও করতে হবে। সোশ্যাল ওয়ার্কার তো অনেক রয়েছে। গভর্নমেন্ট এত সবকে তো নিজের কাছে রাখতে পারে না। তারা নিজেদের গৃহস্থ ব্যবহারে থাকে। তারপর কোনো না কোনো সেবা করে থাকে। এখানে তোমাদের রুহানী সেবা করতে হবে। গৃহস্থ ব্যবহারেও থাকতে হবে। হ্যাঁ, যখন বিষের জন্য অত্যন্ত বিরক্ত করে, তখন এসে ঈশ্বরীয় শরণ নেয়। এখানে বিষের কারণে কন্যারা অনেক মারধর খায় কিন্তু আর কোথাও এই রকম হয় না । এখানে তো পবিত্র হয়ে থাকতে হয়। গভর্মেন্টও পবিত্রতা চায়। কিন্তু গৃহস্থ-ব্যবহারে থেকে পবিত্র বানানোর শক্তি ঈশ্বরেরই রয়েছে। সময় এমন এসেছে যে গভর্নমেন্টও চায় যে বাচ্চার জন্ম যেন বেশি না হয়, কারণ দারিদ্র্যতা অনেক বেড়ে গেছে । সেইজন্য চায় যে ভারতে পবিত্রতা থাকুক, বাচ্চা কম হোক।

বাবা বলেন -- বাচ্চারা, পবিত্র হও তবেই পবিত্র দুনিয়ার মালিক হবে। একথা ওদের বুদ্ধিতে নেই। ভারত পবিত্র ছিল এখন অপবিত্র হয়ে গেছে। সব আত্মারা নিজেরাও চায় যে পবিত্র হয়ে যাই। এখানে দুঃখ অনেক। বাচ্চারা তোমরা জানো যে পবিত্রতা ব্যতীত ভারত স্বর্গে পরিণত হতে পারে না। নরকে রয়েছেই দুঃখ। এখন নরক বলে তো কিছু হয় না । যেমন গরুড় পুরানে দেখানো হয়েছে, বৈতরণী নদী আছে যেখানে মানুষ হাবুডুবু খেতে থাকে। এমন তো কোনো নদী নেই যেখানে সাজা খেতে থাকো। সাজা তো গর্ভজেলে পাওয়া যায়। সত্যযুগে তো গর্ভজেল থাকে না, যেখানে সাজা প্রাপ্ত হবে। সেখানে গর্ভ-মহল হয়। এই সময় সমগ্র দুনিয়া হলো জলজ্যান্ত নরক। এখানে মানুষ দুঃখী, অসুস্থ। একে অপরকে দুঃখ দিতেই থাকে। স্বর্গে এসব কিছু হয় না। এখন বাবা বুঝিয়ে থাকেন যে আমি তোমাদের অসীম জগতের পিতা। আমি হলাম রচয়িতা, তাহলে অবশ্যই স্বর্গ, নতুন দুনিয়ার রচনা করবো।‌ স্বর্গের জন্য আদি সনাতন দেবী দেবতা ধর্ম রচনা করবো। বলা হয, তুমি মাতা-পিতা...... প্রতি কল্পে তিনিই এই রাজযোগ শিখিয়েছিলেন। ব্রহ্মার দ্বারা বসে আমি সকল বেদ-শাস্ত্রের আদি-মধ্য-অন্তের রহস্য বুঝিয়ে থাকি। একদম নিরক্ষরকে বসে পড়িয়ে থাকি। তোমরা বলতে তাই না -- হে ভগবান এসো! পবিত্র তো ওখানে যেতে পারে না সেইজন্য পবিত্র হওয়ার জন্য ওঁনাকে অবশ্যই এখানে আসতে হয়। বাচ্চারা, তোমাদের স্মরণ করায় যে কল্প-পূর্বেও তোমাদেরকে রাজযোগ শিখিয়েছিলাম। জিজ্ঞাসা করা হয়ে থাকে যে আগে কখনো এই নলেজ নিয়েছো? তখন বলে -- হ্যাঁ, ৫ হাজার বছর পূর্বে এই জ্ঞান নিয়েছিলাম। এ'সব কথা হলো নতুন। নতুন যুগ, নতুন ধর্ম পুনরায় স্থাপিত হচ্ছে। ঈশ্বর ব্যতীত আর কেউ এই দৈবী ধর্ম স্থাপন করতে পারে না। ব্রহ্মা-বিষ্ণু-শংকরও করতে পারে না, কারণ এই দেবতারা নিজেরাই হলেন রচনা। স্বর্গের রচয়িতা, মাতা-পিতা চাই। তোমাদের গহীন সুখও এখানেই চাই। বাবা বলেন - আমি হলাম রচয়িতা । আমিও তোমাদেরকে ব্রহ্মার মুখ দ্বারা রচনা করেছি। আমি হলাম মনুষ্য সৃষ্টির বীজরূপ। অবশ্যই কেউ কত বড়ই সাধু-সন্তাদি হোক না কেন, কারোর মুখ দিয়েই এইরকম কথা বেরোবে না। এ হলো গীতার শব্দ । অতএব যিনি বলেছিলেন তিনিই বলতে পারবেন। দ্বিতীয় কেউ বলতে পারবেনা। কেবল পার্থক্য হলো এই যে নিরাকারের বদলে শ্রীকৃষ্ণকে ভগবান বলে দেয়। বাবা বলেন -- আমি হলাম মনুষ্য সৃষ্টির বীজরূপ, পরমধামে বসবাসকারী নিরাকার পরমাত্মা। তোমরাও বুঝতে পারো। সাকারী মানুষ তো নিজেকে বীজরূপ বলতে পারেনা। ব্রহ্মা, বিষ্ণু শঙ্করও বলতে পারেনা। এ তো জানে যে সকলের রচনাকার হলেন শিব বাবা। আমি দৈবী ধর্মের স্থাপনা করছি। কারোর মধ্যে এমন বলারও শক্তি নেই। অবশ্যই নিজেকে শ্রীকৃষ্ণ বলুক, ব্রহ্মা বলুক, শঙ্কর বলুক........ অনেকে নিজেকে অবতারও বলে থাকে। কিন্তু এসব হলো মিথ্যা। এখানে এসে যখন শুনবে তখন বুঝবে যে অবশ্যই ঈশ্বর হলেন এক, অবতারও একজনই। বাবা বলেন -- আমি তোমাদের সাথে করে নিয়ে যাব। কারোর মধ্যে এইরকম বলারও শক্তি নেই। ৫ হাজার বছর পূর্বেও গীতার ভগবান শিববাবা বলেছিলেন, যিনি আদি সনাতন ধর্ম স্থাপন করেছিলেন তিনিই এখন করছেন। গাওয়াও হয়ে থাকে যে মশার মতন আত্মারা গিয়েছিল। সুতরাং বাবা গাইড হয়ে এসে সকলকে লিবারেট করেন। এখন হলো কলিযুগের শেষ, তারপর সত্যযুগকে আসতে হবে, তাহলে অবশ্যই এসে পবিত্র বানিয়ে পবিত্র দুনিয়ায় নিয়ে যাবেন। গীতায় কিছু না কিছু শব্দ রয়েছে। মনে করে এই ধর্মের জন্যও তো শাস্ত্র চাই ! তখন গীতা শাস্ত্র বসে তৈরি করেছে। সর্বশাস্ত্রময়ী শিরোমণি নাম্বার ওয়ান মাতা, কিন্তু নাম বদল করে দিয়েছে। বাবা এইসময় অ্যাক্ট (ভূমিকা পালন) করেন, তার কথা কি দ্বাপরে লিখবে নাকি ! তবুও গীতা ওইরকমই বেরোবে। ড্রামায় এই গীতাই নির্ধারিত হয়ে রয়েছে। যেমন বাবা পুনরায় মানুষকে দেবতায় পরিণত করেন তেমনই শাস্ত্রও পরে কেউ পুনরায় বসে লিখবে। সত্যযুগে কোনো শাস্ত্র থাকবে না। বাবা সমগ্র চক্রের রহস্য বসে থেকে বোঝান। তোমরা জানো, আমরা এই ৮৪ জন্মের চক্র সম্পূর্ণ করেছি। আদি সনাতন দেবী দেবতা ধর্মাবলম্বীরাই ম্যাক্সিমাম ৮৪ জন্ম নিয়ে থাকে। বাকি মানুষের তো পরে বৃদ্ধি হয়ে থাকে। তারা এত জন্ম নেবে নাকি ! বাবা বসে এই ব্রহ্মার মুখের দ্বারা বুঝিয়ে থাকেন। এই যে দাদা রয়েছেন, যার শরীরের লোন আমি নিয়েছি সেও নিজের জন্মকে জানতেন না। ইনি হলেন ব্যক্ত - প্রজাপিতা ব্রহ্মা, উনি হলেন অব্যক্ত (সূক্ষ্ম) । হলেন তো দুজনেই এক। তোমরাও এই জ্ঞানের দ্বারা সূক্ষ্মলোক-নিবাসী ফরিস্তা হয়ে যাচ্ছো। সূক্ষ্মলোক-নিবাসীদের ফরিস্তা বলা হয় কারণ হাড়-মাংস নেই। ব্রহ্মা-বিষ্ণু শঙ্করেরও হাড়-মাংস নেই, তাহলে তাদের চিত্র কিভাবে তৈরি করে? শিবের চিত্র‌ও বানিয়ে থাকে। তিনি হলেন স্টার। ওঁনারও রূপ তৈরি করা হয়। ব্রহ্মা-বিষ্ণু-শঙ্কর তো হলেন সূক্ষ্ম। যেমন মানুষের তৈরি করে তেমনভাবে তো শঙ্করের তৈরি করতে পারে না। কারণ ওনার হাড়-মাংসের শরীর তো নেই। আমরা তো বোঝানোর জন্য এরকম স্থুল (চিত্র) বানিয়ে থাকি। কিন্তু তোমরাও দেখে থাকো যে উনি হলেন সূক্ষ্ম। আচ্ছা !

মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

রাত্রের ক্লাস -- ১৩-৭-৬৮

মানুষ দুটি জিনিসকে অবশ্যই চায়। এক হলো শান্তি দ্বিতীয় হলো সুখ। বিশ্বের শান্তি অথবা নিজের শান্তি। বিশ্বে সুখ অথবা নিজের সুখের ইচ্ছে থাকে মানুষের। তাই জিজ্ঞাসা করতে হবে যে এখন অশান্তি রয়েছে তাহলে নিশ্চয়ই কখনো শান্তি ছিল ! কিন্তু তা কবে, কীভাবে হয়, অশান্তি কেন হলো, তা কারোরই জানা নেই, কারণ ঘোর অন্ধকারে রয়েছে। তোমরা শান্তি ও সুখের জন্য সকলকে অত্যন্ত সুন্দর (সঠিক) রাস্তা বলে দাও। সেইজন্য শুনে তাদের খুশি হয়, কিন্তু যখন শোনে যে পবিত্র হতে হবে তখন শীতল হয়ে যায়। এই বিকার হল সকলের শত্রু আর আবার সকলের প্রিয়ও। একে ত্যাগ করতে হৃদয় বিদীর্ণ হয়ে যায়। নামও হলো বিষ। তবুও ছাড়ে না। তোমরা কতো মাথা খাটাও তবুও হেরে যাও। সব হলো পবিত্রতারই কথা। এতে অনেকেই ফেল করে যায়। কোনো কন্যাকে দেখলে তখন আকর্ষণ হয়। ক্রোধ বা লোভ বা মোহের আকর্ষণ হয় না। কাম হলো মহাশত্রু। এর উপরে বিজয়প্রাপ্ত করা মহাবীরের কাজ। দেহ-অভিমানের পরে প্রথমে কাম-বিকারই আসে। এর উপরে বিজয়প্রাপ্ত করতে হবে। যারা পবিত্র তাদেরকে অপবিত্র কামুক মানুষেরা নমন করে। বলে যে আমরা হলাম বিকারী, তোমরা হলে নির্বিকারী। এমন বলে না যে আমরা ক্রোধী, লোভী..... । সমস্ত কথাই বিকারের। বিবাহ করেই বিকারের জন্য। বাবা মায়ের এই চিন্তা থাকে ছেলে বড় হলে টাকা পয়সা দেবে ; বিকারেও যাবে। বিকারে না গেলে তখন ঝগড়া শুরু হয়ে যাবে। বাচ্চারা, তোমাদের বোঝাতে হয় যে এরা(দেবতারা) সম্পূর্ণ নির্বিকারী ছিল। তোমাদের কাছে এইম অবজেক্ট সম্মুখে রয়েছে। নর থেকে নারায়ণ, রাজার-রাজা হতে হবে। চিত্র সামনে রয়েছে। একে সৎসঙ্গ বলা হয় না। এ হলো পাঠশালা। প্রকৃত সৎসঙ্গ সত্য-পিতার সঙ্গে তখনই হয় যখন সম্মুখে বসে রাজযোগ শেখাবেন। সত্যের সঙ্গ চাই। তিনি গীতার জ্ঞান প্রদান করেন অর্থাৎ রাজযোগ শেখান। বাবা কোনো গীতা শোনান না। মানুষ মনে করে নাম হলো গীতা পাঠশালা তাহলে গিয়ে গীতা শুনি, এত আকর্ষণ থাকে। এ হলো প্রকৃত গীতা পাঠশালা। যেখানে এক সেকেন্ডে সদগতি হেল্থ(স্বাস্থ্য), ওয়েল্থ(সম্পদ) আর হ্যাপিনেস(খুশী) পাওয়া যায়। তাহলে জিজ্ঞাসা করো প্রকৃত গীতা পাঠশালা কেন লেখে ? কেবল গীতা পাঠশালা লেখা কমন (সাধারণ) হয়ে যায়। প্রকৃত (সত্যিকারের) শব্দ পড়লে আকর্ষণ হতে পারে সম্ভবতঃ মিথ্যাও হয়। তাই প্রকৃত শব্দটি অবশ্যই লিখতে হবে। পবিত্র দুনিয়া সত্যযুগকে, পতিত দুনিয়া কলিযুগকে বলা হয়ে থাকে। সত্যযুগে এঁনারা পবিত্র ছিলেন। কিভাবে হয়েছেন সেটাই শেখানো হয়। বাবা ব্রহ্মার দ্বারা পড়ান। না হলে পড়াবেন কিভাবে ? এই যাত্রা বুঝবে সে-ই যারা কল্প-পূর্বে বুঝেছে। ভক্তিমার্গে কাদায় (পাঁকে) আটকে রয়েছে। ভক্তির আড়ম্বর অনেক। এ তো কিছুই নয়। কেবল স্মৃতিতে রাখো এখন ফিরে যেতে হবে। পবিত্র হয়ে যেতে হবে। তার জন্য স্মরণে থাকতে হবে। বাবা যে স্বর্গের মালিক বানান তাকে স্মরণ করতে পারো না ! মুখ্য কথা হলো এটাই। সকলেই বলে এতেই পরিশ্রম। বাচ্চারা ভাষণ তো ভালই করে কিন্তু যোগে থেকে বোঝালে তখন ফলও ভালো হবে। স্মরণে তোমাদের শক্তিপ্রাপ্ত হয়। সতোপ্রধান হলে তবেই সতোপ্রধান বিশ্বের মালিক হবে। স্মরণকে নেষ্ঠা (ধ্যানে স্থির হয়ে বসা) বলবে নাকি ! আমরা আধাঘন্টা একভাবে বসে থাকি, এটা ভুল। বাবা বলেন স্মরণে থাকো, সামনে বসে শেখানোর দরকার নেই। অসীম জগতের বাবাকে অতি ভালোবেসে স্মরণ করতে হবে, কারণ তিনি প্রচুর ঐশ্বর্য দিয়ে থাকেন। স্মরণের দ্বারা খুশির পারদ চড়ে থাকা উচিত। অতীন্দ্রিয় সুখ অনুভূত হবে। বাবা বলেন -- তোমাদের এই জীবন অতি মূল্যবান, একে সুস্থ রাখতে হবে। যত বাঁচবে ততই সম্পদ নিতে পারবে। সম্পূর্ণ সম্পদ তখনই পাব যখন আমরা সতোপ্রধান হয়ে যাব। মুরলীতেও শক্তি রয়েছে। তলোয়ারে ধার থাকে, তাই না ! তোমাদের মধ্যেও স্মরণের ধার থাকলে তবেই তলোয়ার তীক্ষ্ণ হবে। জ্ঞানে এত ধার নেই সেইজন্য কারোর প্রভাব পড়ে না। পুনরায় তাদের কল্যাণের জন্য বাবাকে আসতে হয়। যখন তোমরা স্মরণের দ্বারা তীক্ষ্ণতা ভরবে তখন আবার বিদ্বান, আচার্য প্রভৃতিদের সঠিক তীর লাগবে, সেইজন্য বাবা বলেন -- চার্ট রাখো। অনেকেই বলে থাকে যে বাবাকে অনেক স্মরণ করে কিন্তু মুখ খোলে না। তোমরা স্মরণে থাকো তবেই বিকর্ম বিনাশ হবে। আচ্ছা ! বাচ্চারা, গুড নাইট।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) ঘরে থেকেও রুহানী সেবা করতে হবে। পবিত্র হতে হবে আর বানাতে হবে।।

২ ) এই জলজ্যান্ত নরকে থেকেও অসীম জগতের বাবার থেকে স্বর্গের উত্তরাধিকার নিতে হবে। কাউকেই দুঃখ দেওয়া উচিত নয়।

বরদান:-
নিজের সর্ব বিশেষত্ব গুলিকে কার্যে ব্যবহার করে, সে'গুলির বিস্তার করা সিদ্ধি-স্বরূপ ভব

যত অধিক মাত্রায় নিজের বিশেষত্ব গুলিকে মন্সা (মনের) সেবা বা বাণী আর কর্ম সেবায় ব্যবহার করা হবে ততই সেই বিশেষত্বই বিস্তার পেতে থাকবে। সেবায় ব্যবহার করা অর্থাৎ একটি বীজ থেকে অনেক ফল প্রকট করা। এই শ্রেষ্ঠ জীবনে জন্মসিদ্ধ অধিকার রূপে যে বিশেষতা প্রাপ্ত হয়েছে সে'সবগুলিকে কেবল বীজরূপে রেখো না, সেবার ধরণীতে লাগিয়ে দাও, তবেই ফলস্বরূপ অর্থাৎ সিদ্ধিস্বরূপের অনুভব করবে।

স্লোগান:-
বিস্তারকে না দেখে, সার-কে দেখো আর নিজের মধ্যে অন্তর্লিন করে নাও -- এটাই হলো তীব্র পুরুষার্থ।