23.07.2020 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


মিষ্টি বাচ্চারা - তোমরা এখন শ্রীমৎ অনুসারে বিশ্বের সেবা করছ, এই নরককে স্বর্গ বানিয়ে দিচ্ছ, তাই তোমাদের এই জীবন অত্যন্ত অমূল্য

প্রশ্নঃ -
খুশি না থাকার কারণ কি এবং এর সমাধান কি ?

উত্তরঃ -
১) দেহ-অভিমানের বশীভূত হলে এবং ২) অন্তরে কোনো সংশয় উৎপন্ন হলে খুশি বিলীন হয়ে যায়। তাই বাবা উপদেশ দিচ্ছেন - যখনই কোনো সংশয় আসবে, সঙ্গে সঙ্গে বাবাকে জিজ্ঞেস করো। দেহী অভিমানী হয়ে থাকার অভ্যাস করলে সর্বদাই খুশিতে থাকবে।*

ওম্ শান্তি ।
ভগবান হলেন সর্বোচ্চ, তারপরে রয়েছে সন্তানদের সম্মুখে উচ্চারিত ভগবানের বাণী। আমি তোমাদেরকে সর্বশ্রেষ্ঠ বানিয়ে দিই। তাই বাচ্চারা, তোমাদের কত খুশি হওয়া উচিত। তোমরা বুঝতে পারো যে, বাবা আমাদেরকে সমগ্র বিশ্বের মালিক বানিয়ে দেন। দুনিয়ার মানুষ বলে - পরমপিতা পরমাত্মা হলেন সর্বোচ্চ। কিন্তু বাবা স্বয়ং বলছেন - আমি তো বিশ্বের মালিক হই না। ভগবানুবাচ - আমাকে দুনিয়ার মানুষ সর্বোচ্চ ভগবান বলে, কিন্তু আমি বলছি যে আমার বাচ্চারা সর্বোচ্চ। যুক্তি সহকারে বলছি। আগের কল্পের মতোই ড্রামা অনুসারে পুরুষার্থ করাচ্ছেন। বাবা বোঝাচ্ছেন - কোনো বিষয় যদি বুঝতে অসুবিধা হয় তবে জিজ্ঞেস করো। দুনিয়ার মানুষ তো কিছুই জানে না। বৈকুণ্ঠ কেমন আর এই দুনিয়ার অবস্থা কেমন ! যত বড়ই নবাব-বাদশা হোক কিংবা আমেরিকায় যত বড় ধনী ব্যক্তি হোক না কেন, লক্ষ্মী-নারায়ণের মতো কখনোই হবে না। ওরা হোয়াইট হাউস ইত্যাদি বানায়, কিন্তু ওখানে (স্বর্গে) তো রত্ন খচিত গোল্ডেন হাউস বানানো হবে। ওই দুনিয়াটাকেই সুখধাম বলা হয়। তোমরাই হিরো-হিরোইনের ভূমিকায় অভিনয় করো। তোমরা হীরেতুল্য হয়ে যাও। সেটা ছিল স্বর্ণযুগ। এখন এটা লৌহযুগ। বাবা বলছেন, তোমরা কতোই না ভাগ্যবান। ভগবান নিজে বসে থেকে বোঝাচ্ছেন। তাই তোমাদের কতো খুশি থাকা উচিত। তোমাদের এই পড়াশুনা তো নুতন দুনিয়ার জন্য। তোমাদের এই জীবন অতি অমূল্য। কারণ তোমরা এখন বিশ্বের সেবা করছ। নরক থেকে স্বর্গ বানানোর জন্যই বাবাকে আহ্বান করা হয়। তাই তো হেভিনলী গড ফাদার বলা হয়। বাবা বলছেন - তোমরাই হেভেনে ছিলে, এখন হেলে আছো। এরপর আবার স্বর্গ হবে। হেল শুরু হলে মানুষ হেভেনের কথা ভুলে যায়। পুনরায় এইরকম হবে। পুনরায় তোমাদেরকে স্বর্ণযুগ থেকে লৌহযুগে যেতেই হবে। বাবা বারবার বাচ্চাদেরকে বলছেন - যদি অন্তরে কোনোরকম সংশয় আসে, যার জন্য খুশি থাকছে না, তবে সেটা বাবাকে বলো। বাবা নিজে বসে থেকে পড়াচ্ছেন। তাই অবশ্যই পড়তে হবে। দেহ-অভিমানের বশীভূত হয়ে যাও বলেই খুশি থাকে না। কিন্তু অবশ্যই খুশিতে থাকা উচিত। বাবা তো কেবল ব্রহ্মান্ডের মালিক। আর তোমরা বিশ্বের মালিক হয়ে যাও। হয়তো বাবাকে রচয়িতা বলা হয়, কিন্তু তার মানে এটা নয় যে সবকিছু প্রলয় হয়ে যায় এবং তারপর পুনরায় নুতন দুনিয়ার রচনা করেন। না, বাবা বলছেন - আমি কেবল পুরাতনকে নুতন বানাই। পুরাতন দুনিয়ার বিনাশ করাই। তোমাদেরকে নুতন দুনিয়ার মালিক বানিয়ে দিই। আমি নিজে কিছুই করি না। এটাও ড্রামাতেই রয়েছে। পতিত দুনিয়াতেই আমাকে আহ্বান করে। আমি এসে পরশনাথ বানিয়ে দিই। তখন বাচ্চারা পরশপুরীতে চলে যায়। ওখানে কখনোই আমাকে ডাকবে না। কখনো কি বলবে - বাবা, তুমি এই পরশপুরীতে এসে একটু ঘুরে যাও ? কখনোই ডাকবে না। তাই একটা গান আছে - দুঃখের সময়ে সকলেই স্মরণ করে কিন্তু সুখের সময়ে কেউ করে না। পতিত দুনিয়াতেই স্মরণ করে। সুখের সময়ে স্মরণও করে না, আহ্বানও করে না। দ্বাপর যুগে মন্দির বানিয়ে আমাকে তার মধ্যে রেখে দেয়। পাথরের নয়, হীরার লিঙ্গ বানিয়ে মন্দিরে পূজা করার জন্য রেখে দেয়। কতো আশ্চর্যের বিষয়। *ভালো ভাবে কান খুলে শোনা উচিত। কানকেও পবিত্র করতে হবে।* পবিত্রতাই হলো মুখ্য। বলা হয়, বাঘিনীর দুধ কেবল সোনার পাত্রেই রাখা যায়। *এক্ষেত্রেও যত বেশি পবিত্রতা থাকবে তত ভালো ধারণ করতে পারবে।* বাবা বলছেন - কাম বিকার সবথেকে বড় শত্রু, একে পরাজিত করো। এটাই তোমাদের শেষ জন্ম। তোমরা জানো যে এটাই সেই মহাভারতের যুদ্ধ। প্রত্যেক কল্পে যেভাবে বিনাশ হয়েছে, এই কল্পেও হুবহু সেইভাবে ড্রামা অনুসারে বিনাশ হবে। বাচ্চারা, তোমাদেরকে তো পুনরায় স্বর্গে তোমাদের মহল বানাতে হবে। যেভাবে আগের কল্পে বানিয়েছিলে। স্বর্গকে প্যারাডাইসও বলা হয়। পুরান থেকে এই প্যারাডাইস শব্দটার উৎপত্তি। বলা হয়েছে - মান সরোবরে নাকি পরীরা থাকে। ওখানে যে ডুব দেবে, সেও পরী হয়ে যাবে। বাস্তবে এটা হলো জ্ঞান রূপী মান সরোবর। এতে ডুব দিয়ে তোমরা কি থেকে কি হয়ে যাও। যে সুন্দর-শোভনীয়, তাকেই পরী বলা হয়। এমন নয় যে পরীর কোনো ডানা থাকে। যেমন তোমাদের মতো পান্ডবদেরকে মহাবীর বলা হয় বলে ওরা পাণ্ডবদের অনেক বড় বড় ছবি, গুহা ইত্যাদি দেখিয়ে দিয়েছে। ভক্তিমার্গে এইভাবে কত অর্থের অপচয় করে। বাবা বলছেন, আমি তো বাচ্চাদেরকে কতো ধনী বানিয়েছিলাম। তোমরা এতো সম্পত্তি নিয়ে কি করলে ? ভারত অনেক ধনী ছিল। এখন ভারতের কি করুণ অবস্থা হয়ে গেছে। যে ভারত এক সময়ে একশো শতাংশ ধনী ছিল, সে এখন একশো শতাংশ দেউলিয়া হয়ে গেছে। বাচ্চারা, এখন তোমাদেরকে অনেক প্রস্তুতি নিতে হবে। নিজের বাচ্চাদেরকে বোঝাতে হবে যে শিববাবাকে স্মরণ করলে তুমিও কৃষ্ণের মতো হয়ে যাবে। কেউই জানে না, কৃষ্ণ কিভাবে ঐরকম হয়েছিল। আগের জন্মে শিববাবাকে স্মরণ করেই সে কৃষ্ণ হয়েছিল। তাই বাচ্চারা, তোমাদের তো কত খুশি হওয়া উচিত। *কিন্তু সেই বাচ্চার মধ্যেই অসীম খুশি থাকবে যে সর্বদা অপরের সেবায় নিযুক্ত থাকবে।* মুখ্য ধারণা হলো - আচরণ যেন খুব রাজকীয় হয়। খাদ্যাভ্যাসও যেন খুব সুন্দর হয়। তোমাদের কাছে যখন কেউ আসে, তখন তাকে সমস্ত রকম সাহায্য করা উচিত। স্থূল এবং সূক্ষ্ম উভয় ভাবেই। শারীরিক এবং আত্মিক উভয় ভাবেই সাহায্য করলে অনেক খুশি হবে। যে কেউ আসুক, তাকে তোমরা সত্যিকারের সত্য নারায়ণের কাহিনী শোনাও। শাস্ত্রে তো কত কি কাহিনী লিখে দিয়েছে। বিষ্ণুর নাভি থেকে নাকি ব্রহ্মার উৎপত্তি হয়েছে। তারপর আবার ব্রহ্মার হাতে শাস্ত্র দেখানো হয়েছে। কিন্তু বিষ্ণুর নাভি থেকে ব্রহ্মার উৎপত্তি হবে কিভাবে ? কত রহস্যপূর্ণ বিষয়। অন্য কেউ এইসব বিষয় কিছুই বুঝবে না। নাভি থেকে বের হওয়ার কোনো ব্যাপার নেই। ব্রহ্মাই বিষ্ণু এবং বিষ্ণুই ব্রহ্মা হয়। *ব্রহ্মা থেকে বিষ্ণু হওয়ার জন্য এক সেকেন্ড সময় লাগে।* সেকেন্ডে জীবনমুক্তির গায়ন আছে। বাবা দর্শন করিয়েছিলেন যে তুমিই বিষ্ণুর এক রূপ হবে। সেকেন্ডের মধ্যে নিশ্চিত হয়েছিলেন। বিনাশের দৃশ্যও দেখেছিলেন। আগে তো কলকাতাতে রাজার হালে থাকতেন, কোনো সমস্যাই ছিল না। খুব রাজকীয় ভাবে থাকতেন। এখন বাবা তোমাদেরকে এই জ্ঞান রত্নের ব্যবসা করতে শেখাচ্ছেন। এনার কাছে তো এই ব্যবসা কোনো ব্যাপার নয়। কিন্তু এনার ভূমিকা আর তোমাদের ভূমিকার মধ্যে পার্থক্য আছে। বাবা এনার মধ্যে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে সবকিছু ত্যাগ করে দিয়েছেন। ভাট্টি তো হতেই হতো। তোমরাও সবকিছু ত্যাগ করেছিলে। নদী পেরিয়ে ভাট্টিতে এসেছিলে। কত কিছুই না হয়েছিল। কিন্তু কাউকে পরোয়া করোনি। বলা হয় কৃষ্ণের জন্য পালিয়ে গেছিল। কেন ? কৃষ্ণ নাকি তাদেরকে পাটরানী করেছিল। বাস্তবে ওই ভাট্টি তৈরি হয়েছিল তোমাদের মতো বাচ্চাদেরকে স্বর্গের মহারানী বানানোর জন্য। শাস্ত্রে তো কি না কি লিখে দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে অনেক আলাদা। তোমরা এখন এইসব বুঝেছ। পালিয়ে যাওয়ার কোনো ব্যাপার নেই। আগের কল্পেও গালাগাল শুনেছিলে। বদনাম হয়েছিল। এটা তো একটা নাটক। যা কিছু হচ্ছে, সব আগের কল্পের মতো। তোমরা এখন ভালোভাবে বুঝেছ যে আগের কল্পে যারা রাজত্ব নিয়েছিল, তারা এই কল্পেও অবশ্যই আসবে। বাবা বলছেন, আমিও প্রতি কল্পে এসে ভারতকে স্বর্গ বানাই। তিনি পুরো ৮৪ জন্মের হিসাব বলেছেন। সত্যযুগে তোমরা অমর হবে। কখনোই অকালে মৃত্যু হবে না। শিববাবা কালজয়ী বানিয়ে দিচ্ছেন। তিনি বলছেন - আমি হলাম কালেরও কাল। কাহিনীও রয়েছে। তোমরাই কালজয়ী হয়ে যাও, অমরলোকে চলে যাও। অমরলোকে ভালো পদ পাওয়ার জন্য পবিত্র হতে হবে এবং দিব্যগুণও ধারণ করতে হবে। প্রতিদিন নিজের চার্ট দেখ। রাবণের জন্য তোমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। এখন আমার দ্বারা তোমরা লাভবান হচ্ছ। ব্যবসায়ীরা এগুলো ভালো বুঝবে। এটা জ্ঞান রত্নের ব্যবসা। খুব কমজন ব্যবসায়ী এই ব্যবসা করতে পারে। তোমরা তো ব্যবসা করতেই এসেছ। কেউ কেউ ভালো করে ব্যবসা করে ২১ জন্মের জন্য স্বর্গের সওদা করে নেয়। *কেবল ২১ জন্ম নয়, তোমরা ৫০-৬০ জন্ম ধরে খুব সুখে থাকো। কোটি-কোটিপতি (পদ্মপতি) থাকো। দেবতাদের পায়ে পদ্মফুল দেখানো হয়। কিন্তু তার অর্থ কেউ বোঝে না। তোমরা এখন কোটি-কোটিপতি (পদ্মপতি) হচ্ছ। তাই তোমাদের খুব খুশিতে থাকতে হবে। বাবা বলছেন, আমি কতো সাধারণ। তোমাদের মতো বাচ্চাদেরকে স্বর্গে নিয়ে যেতে এসেছি। তোমরাই ডেকেছিলে - হে পতিত-পাবন এসো, এসে আমাদেরকে পবিত্র করে দাও। সুখধামেই সকলে পবিত্র থাকবে। শান্তিধামের কোনো হিস্ট্রি জিওগ্রাফি হয় না। ওটা তো আত্মাদের দুনিয়া। আর সূক্ষ্মবতনের কোনো ব্যাপারই নেই। এই সৃষ্টিচক্র কিভাবে আবর্তিত হয়, সেটা এখন তোমরা জেনে গেছ। সত্যযুগে লক্ষ্মী-নারায়ণের সাম্রাজ্য ছিল। এমন নয় যে কেবল একজোড়া লক্ষ্মী-নারায়ণই রাজত্ব করবে। বৃদ্ধি তো অবশ্যই হবে। তারপর দ্বাপরে ওরাই পূজনীয় থেকে পূজারী হয়ে যাবে। কিন্তু দুনিয়ার মানুষ পরমাত্মার ক্ষেত্রে বলে দেয় যে তুমিই পূজনীয়, তুমিই পূজারী। যেভাবে তাঁকে সর্বব্যাপী বলে দিয়েছে। তোমরা এখন এইসব ব্যাপারগুলো বুঝেছ। অর্ধেক কল্প ধরে তোমার গান গেয়ে এসেছ - ভগবান হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ। কিন্তু এখন ভগবান বলছেন - বাচ্চারাই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ। সুতরাং এইরকম বাবার নির্দেশ অনুসারে তো অবশ্যই চলতে হবে। ঘর-গৃহস্থও সামলাতে হবে। এখানে তো সবাই থাকতে পারবে না। সবাই থাকতে চাইলে তো অনেক বড় বাড়ি বানাতে হবে। *তোমরা একদিন দেখবে যে একটু দর্শন করার জন্য নীচ থেকে ওপর পর্যন্ত কতো বড় লাইন লাগবে।* অনেকে তো দর্শন করতে না পারলে গালাগালি দিতে শুরু করে। মহাত্মার দর্শন করতে চায়। এখানে বাবা তো কেবল বাচ্চাদের জন্য। বাচ্চাদেরকেই পড়াচ্ছেন। তোমরা যাদেরকে রাস্তা বলে দাও, তাদের মধ্যে কেউ ভালোভাবে চলতে শুরু করে, আবার কেউ ধারণ করতে পারে না। কতজন আছে যারা কেবল শুনতে থাকে, কিন্তু বাইরে গেলে যেমন ছিল সেইরকম থেকে যায়। তখন আর সেই খুশি, পড়াশুনা এবং যোগ কোনোটাই থাকে না। *বাবা কতো করে বোঝান - চার্ট লেখ। নয়তো খুব আফসোস করতে হবে।* চার্ট রাখতে হবে যে আমি বাবাকে কতক্ষণ স্মরণ করি। ভারতের প্রাচীন যোগের অনেক সুখ্যাতি রয়েছে। বাবা বলছেন - কোনো বিষয় যদি বুঝতে অসুবিধা হয়, তবে বাবাকে জিজ্ঞেস করো। আগে তো তোমরা কিছুই জানতে না। বাবা বলছেন, এটা হলো কাঁটার জঙ্গল। কাম বিকার সবথেকে বড় শত্রু। গীতাতেই এটা লেখা আছে। আগে তো বাবা গীতা পড়ত, কিন্তু কিছুই বুঝত না। সারাজীবন তিনি গীতা পড়েছেন। এটা বুঝতে পারতেন যে গীতার অনেক মহত্ত্ব আছে। ভক্তিমার্গে গীতাকে কতো সম্মান করা হয়। গীতা আকারে বড় হয়, আবার ছোটও হয়। খুব অল্প দামেই কৃষ্ণ এবং অন্যান্য দেবতাদের ছবি কিনতে পাওয়া যায়। সেই ছবিগুলো নিয়েই কতো বড় বড় মন্দির বানায়। বাবা এখন বোঝাচ্ছেন, তোমাদেরকে বিজয়-মালার দানা হতে হবে। এইরকম মিষ্টি বাবাকে 'বাবা-বাবা' বলে ডাকে। বোঝে যে তিনি স্বর্গের রাজত্ব প্রদান করেন। কিন্তু মায়া এতই শক্তিশালী যে এতকিছু শুনে এবং অন্যকে শোনানোর পরেও ত্যাগ করে চলে যায়। বাবা বলে যখন ডেকেছ, তখন বাবা মানে তো বাবা-ই। ভক্তিমার্গেও গান গায় - তিনি হলেন সকল পতির পতি এবং সকল গুরুর গুরু। তিনিই এখন আমাদের বাবা। জ্ঞানের সাগর পতিত-পাবন। তোমরা বাচ্চারা বলছ - বাবা, আমরা প্রতি কল্পেই তোমার কাছ থেকে উত্তরাধিকার নিই। প্রতি কল্পেই তোমার সঙ্গে মিলন হয়। তুমি তো অসীম জগতের পিতা। তাই তোমার কাছ থেকে আমরা নিশ্চয়ই সীমাহীন উত্তরাধিকার পাব। মুখ্য হলো 'অল্ফ' বা 'বাবা'। এই 'অল্ফ' কথাটার মধ্যেই 'বে' বা 'বাদশাহী' কথাটা রয়েছে। বাবা মানেই উত্তরাধিকার। দুনিয়ায় সীমিত উত্তরাধিকার পাওয়া যায়, আর এখানে সীমাহীন উত্তরাধিকার পাওয়া যায়। হদের বা লৌকিক পিতা তো অসংখ্য রয়েছে। কিন্ত বেহদের বা পারলৌকিক পিতা কেবল একজন। আচ্ছা ! মিষ্টি-মিষ্টি, ৫ হাজার বছর পরে পুনরায় এসে মিলিত হওয়া বাচ্চাদের প্রতি বাপদাদার স্মরণ-ভালবাসা আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী সন্তানদের জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১) স্থূল কিংবা সূক্ষ্ম সেবা করে অসীম খুশির অনুভব করতে হবে এবং অন্যকেও অনুভব করাতে হবে। আচরণ এবং খাদ্যাভ্যাসে খুব রাজকীয় ভাব রাখতে হবে।

২) অমরলোকে উঁচু পদ পাওয়ার জন্য পবিত্র হওয়ার সাথে সাথে দিব্যগুণও ধারণ করতে হবে। নিজের চার্ট দেখতে হবে যে আমি কতক্ষণ বাবাকে স্মরণ করি ? অবিনাশী জ্ঞান রত্নের উপার্জন কি জমা করছি ? শ্রবণেন্দ্রিয়কে কি পবিত্র করেছি যার মাধ্যমে জ্ঞান ধারণ হবে ?

বরদান:-
মায়াবী খেলাগুলো সাক্ষী হয়ে দেখে সর্বদা নির্ভয় এবং মায়াজিৎ হও

বাচ্চারা, সময় অনুসারে এখন তোমাদের অবস্থার অগ্রগতি হচ্ছে, তাই এখন আর মায়ার সঙ্গে যুদ্ধ করলে চলবে না। মায়া নমস্কার করতে আসে, যুদ্ধ করতে নয়। যদি কখনো মায়ার আগমন হয় তবে সেটাকে খেলা মনে করে দেখতে থাকো। যেন অনুভব হয় যে সাক্ষী হয়ে একটা ছোট্ট নাটক দেখছি। মায়ার যত ভয়ঙ্কর রূপ-ই হোক না কেন, তুমি যদি সেটাকে খেলনা এবং খেলা মনে করে দেখ তবে খুব আনন্দ পাবে এবং কখনোই ভয় পাবে না কিংবা ঘাবড়ে যাবে না। যে সন্তান সর্বদা খেলোয়াড় হয়ে সাক্ষী রূপে মায়ার খেলা দেখে, সে সর্বদাই নির্ভীক এবং মায়াজিৎ হয়ে যায়।

স্লোগান:-
এমন স্নেহের সাগর হয়ে যাও যাতে ক্রোধ তোমার নিকটেই আসতে না পারে।