24.01.2023 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


“মিষ্টি বাচ্চারা - এটাই হল সেই সঙ্গম যুগ, যখন আত্মা আর পরমাত্মার সঙ্গম (মিলন) হয়, সদ্গুরু একবারই এসে বাচ্চাদেরকে সত্য জ্ঞান শুনিয়ে, সত্য বলতে শেখান”

প্রশ্নঃ -
কোন্ বাচ্চাদের অবস্থা (স্থিতি) ফার্স্ট ক্লাস থাকে?

উত্তরঃ  
যাদের বুদ্ধিতে থাকে যে এই সবকিছু হল বাবার। প্রতি কদমে যারা শ্রীমত নেয়, সম্পূর্ণ ত্যাগী বাচ্চাদের অবস্থা ফার্স্ট ক্লাস থাকে। যাত্রা অনেক দীর্ঘ তাই শ্রেষ্ঠ বাবার থেকে শ্রেষ্ঠ মৎ নিতে থাকবে।

প্রশ্নঃ -
মুরলী শোনার সময় কোন্ বাচ্চাদের অসীম সুখ অনুভূত হয়?

উত্তরঃ -
যারা মনে করে আমরা শিববাবার মুরলী শুনছি। এই মুরলী শিববাবা ব্রহ্মা তনের দ্বারা শোনাচ্ছেন। অতিপ্রিয় বাবা আমাদেরকে সদা সুখী, মানব থেকে দেবতা বানানোর জন্য এই জ্ঞান শোনাচ্ছেন। মুরলী শোনার সময় এই স্মৃতি থাকলে সুখ অনুভূত হবে।

গীতঃ-
প্রীতম এসে মিলিত হও...

ওম্ শান্তি ।
এই দুঃখী প্রাণ তো দুঃখধামেই হয়। সুখী জীবাত্মারা সুখধামে থাকে। সকল ভক্তদের প্রীতম হলেন এক, যাঁকে স্মরণ করা হয়। তাঁকেই প্রীতম বলা হয়। যখন দুঃখ হয় তখন স্মরণ করে। এসব কে বসে বোঝাচ্ছেন? সত্যিকারের প্রীতম। সত্য বাবা, সত্য টিচার, সত্য সদ্গুরু... সকলের প্রীতম হলেন তিনি এক। কিন্তু প্রীতম কখন আসেন, এটা কেউ জানেনা। প্রীতম নিজে এসে তাঁর ভক্তদের, নিজের বাচ্চাদেরকে বলছেন যে আমি আসিই সঙ্গম যুগে কেবল একবারের জন্য। আমার আসা আর যাওয়ার মাঝে যেটুকু সময় থাকে একেই সঙ্গম বলা হয়। অন্য সকল আত্মারা তো অনেকবার জনম মরণে আসে, আমি একবারই আসি। আমি সদ্গুরও হলাম এক। বাকি গুরু তো অনেক আছে। তাদেরকে সদ্গুরু বলা হবে না। কেননা তারা কোনো সত্য কথা বলে না, তারা সত্য পরমাত্মাকে জানেই না। যে সত্যকে জেনে যাবে সে সর্বদা সত্যই বলবে। এই সদ্গুরু হলেনই সত্যবাদী সত্যিকারের সদ্গুরু। সত্য বাবা, সত্য শিক্ষক নিজে এসে বলছেন যে আমি সঙ্গম যুগে আসি। আমার আয়ু এতটুকু। যতটা সময় আমি আসি, পতিতদেরকে পবিত্র করে তবেই ফিরে যাই। যখন থেকে আমার জন্ম হয়েছে, তখন থেকে আমি সহজ রাজযোগ শেখানো শুরু করি তারপর যখন শিখিয়ে সম্পূর্ণ করি তখন পতিত দুনিয়ার বিনাশ হয়ে যায় আর আমি চলে যাই। ব্যস্, আমি এতটা সময়ের জন্যই আসি। শাস্ত্রতে তো কোনও টাইম বলা নেই। শিববাবা কখন জন্ম নেন, কতদিন ভারতে থাকেন, এটা বাবা নিজে বসে বোঝাচ্ছেন যে আমি আসিই সঙ্গমযুগে। সঙ্গমযুগের আদি, সঙ্গম যুগের অন্ত মানে আমার আসার আদি আর যাওয়ার অন্ত। বাদবাকি মধ্যক্ষণে আমি বসে রাজযোগ শেখাই। বাবা নিজেই বসে বোঝাচ্ছেন যে আমি এনার বাণপ্রস্থ অবস্থাতে আসি - পরের দেশে আর পরের শরীরে, তাই আমি অতিথি হলাম তাই না। আমি হলাম এই রাবণের দুনিয়াতে অতিথি। এই সঙ্গম যুগের মহিমা অনেক। বাবা আসেনই রাবণ রাজ্যের বিনাশ করে রামরাজ্য স্থাপন করতে। শাস্ত্রে কাল্পনিক গল্প কথা লিখে দিয়েছে। প্রতি বছর রাবণ দহন করতে থাকে। সমগ্র সৃষ্টি এইসময় যেন লঙ্কা। কেবল শ্রীলঙ্কা-কে লঙ্কা বলা হয় না। এই সমগ্র সৃষ্টি হল রাবণের থাকার স্থান বা শোকবাটিকা। সবাই হল দুঃখী। বাবা বলেন যে আমি একে অশোক বাটিকা বা হেভেন বানাতে আসি। হেভেন এ সব ধর্ম তো থাকে না। সেখানে ছিল একটাই ধর্ম যা এখন নেই। এখন পুনরায় দেবতা বানানোর জন্য রাজযোগ শেখাচ্ছি। সবাই তো শিখবে না। আমি ভারতেই আসি। ভারতেই স্বর্গ হয়। খ্রীষ্টানরাও হেভেনকে স্বীকার করে। তারা বলে যে, লেফ্ট ফর হেভেনলি অ্যাবোড (“left for the heavenly abode”) গডফাদারের কাছে গেছে। এছাড়া হেভেন সম্বন্ধে তারা কিছুই জানে না। হেভেন হলো আলাদা জিনিস। তাই বাবা বোঝাচ্ছেন যে, আমি কবে আর কিভাবে আসি, এসে ত্রিকালদর্শী বানাই। ত্রিকালদর্শী আর কেউ হয় না। সৃষ্টির আদি মধ্য অন্তকে আমিই জানি। এখন কলিযুগের বিনাশ হবেই। তার পূর্বাভাসও এখন দেখা যাচ্ছে। সময় হল সেই সঙ্গমের সময়। অ্যাক্যুরেট টাইম কিছু বলতে পারবে না। তবে হ্যাঁ রাজধানী সম্পূর্ণ রূপে স্থাপন হয়ে যাবে, বাচ্চারা কর্মাতীত স্থিতি প্রাপ্ত করবে তখন জ্ঞান প্রায় লোপ হয়ে যাবে। যুদ্ধ আরম্ভ হয়ে যাবে। আমিও আমার পবিত্র করার পার্ট সম্পূর্ণ করেই যাবো। দেবী-দেবতা ধর্ম স্থাপন করা - এটা আমার পার্ট। ভারতবাসীরা এসব কিছুই জানে না। এখন শিবরাত্রি পালন করে তো অবশ্যই শিববাবা কোনও কার্য করে গেছেন। তারা আবার কৃষ্ণের নাম লিখে দিয়েছে। এ তো সাধারণ ভুল, দেখতে পাওয়া যায়। শিবপুরাণ ইত্যাদি কোনও শাস্ত্রেও এটা নেই যে শিববাবা এসে রাজযোগ শেখান। বাস্তবে প্রত্যেক ধর্মের একটা করে শাস্ত্র আছে। দেবতা ধর্মেরও একটা শাস্ত্র হওয়া চাই। কিন্তু তার রচয়িতা কে হবে? এতেই বিভ্রমে পড়ে গেছে।

বাবা বোঝান যে, আমাকে অবশ্যই ব্রহ্মার দ্বারা ব্রাহ্মণ ধর্ম রচনা করতে হয়। ব্রহ্মা মুখ বংশী ব্রহ্মাকুমার কুমারী বলা হয়। অনেকের নাম পরিবর্তন করা হয়েছিল, তার মধ্যে অনেকেই ভাগন্তী হয়ে গেছে। রিপ্লেসও সাথে সাথে হতে থাকে। তাছাড়া দেখা গেছে যে নাম পরিবর্তন করে কোনো লাভ হয় না। তারা তো ভুলেই যায়। বাস্তবে তোমাদেরকে যোগ লাগাতে হবে বাবার সাথে। নাম শরীরের হয়ে থাকে। আত্মার তো কোনো নাম নেই। আত্মা ৮৪ জন্ম নিয়ে থাকে। প্রত্যেক জন্মে নাম রূপ দেশ কাল সব বদলে যায়। ড্রামাতে কারো একবার যে পার্ট মিলেছে, সেই রূপে দ্বিতীয় বার আর কখনোই পার্ট প্লে করতে পারবে না। সেই পার্ট আবার ৫ হাজার বছর পরে প্লে করবে। এইরকম নয় যে কৃষ্ণ সেই নাম রূপে আবারও আসতে পারে। না। এ তো তোমরা জানো যে, আত্মা এক শরীর ছেড়ে দ্বিতীয়টা নেয় তো ফিচার ইত্যাদি আগের সাথে পরের কখনোই মিলবে না। ৫ তত্ত্বের অনুসারে ফিচার্স বদলে যেতে থাকে। কতো কতো ফিচার্স রয়েছে। কিন্তু সে'সবই আগে থেকেই ড্রামাতে নির্ধারিত রয়েছে। নতুন কিছুই তৈরী হয় না। এখন শিবরাত্রি পালিত হয়। তাহলে নিশ্চয়ই শিব এসেছেন। তিনিই হলেন সমগ্র জগতের প্রীতম। লক্ষ্মী-নারায়ণ বা রাধা-কৃষ্ণ বা ব্রহ্মা বিষ্ণু ইত্যাদিরা প্রীতম নন। গড ফাদারই হলেন প্রীতম। বাবা তো অবশ্যই অবিনাশী সম্পদ দেন, সেইজন্য বাবাকে এত ভালো লাগে। বাবা বলেন, আমাকে স্মরণ করো, কেননা আমার থেকে তোমরা অবিনাশী সম্পদ পেয়ে থাকো। বাচ্চারা জানে যে, এই পড়াশোনার আধারে আমরা গিয়ে সূর্যবংশী দেবতা বা চন্দ্রবংশী ক্ষত্রীয় হবো। বাস্তবে সকল ভারতবাসীর ধর্ম একটাই হওয়া উচিত। কিন্তু দেবতা ধর্মের নাম বদলে দিয়ে হিন্দু নাম রেখে দিয়েছে। কারণ সেই দৈবী গুণ নেই। এখন বাবা বসে (সেইসব দৈবী গুণ) ধারণ করান। বলেন নিজেকে আত্মা মনে করে অশরীরী হয়ে যাও। তোমরা পরমাত্মা নো। পরমাত্মা তো এক, শিব। তিনি সকলের প্রীতম একবারই সঙ্গমযুগে আসেন। এই সঙ্গমযুগ খুব ছোট। সকল ধর্মের বিনাশ হবে। ব্রাহ্মণ কুলও ফিরে যাবে, কারণ তাদেরকে আবার দৈবী কুলে ট্রান্সফার হতে হবে। বাস্তবে এ হলো পড়াশোনা। তুলনা করে দেখা যেতে পারে - ওটা হলো বিষয় বিকারের বিষ আর এ হলো অমৃত। এটা তো হলো মানবকে দেবতা বানানোর পাঠশালা। আত্মাতে যে খাদ পড়েছে, একেবারে ঝুটা বানিয়ে দিয়েছে। তাকে বাবা এসে হীরের মতো বানিয়ে দেন। শিব রাত্রি বলা হয়। রাত্রিতে শিব এসেছেন । কিন্তু কীভাবে এসেছেন, কার গর্ভে এসেছেন? অথবা কোন্ শরীরে প্রবেশ করেছেন? গর্ভে তো আসেন না। তাঁকে শরীরের লোন নিতে হয়। তিনি এসে নিশ্চয়ই নরককে স্বর্গ বানাবেন। কিন্তু কখন আর কীভাবে এসেছেন, এ'কথা কারো জানা নেই। শাস্ত্র তো অনেক পড়ে কিন্তু মুক্তি-জীবনমুক্তি তো কেউ পায় না আরোই তমোপ্রধান হয়ে গেছে । সেটা তো সবাইকেই অবশ্যই হতে হবে। সকল মানুষকে স্টেজে অবশ্যই হাজির হতে হবে। বাবা আসেনই অন্তিমে । তাঁরই মহিমা সকলে গায় যে, তোমরাইমগতি মতই তুমিই জানো। তোমার মধ্যে কী জ্ঞান আছে কীভাবে তুমি সদ্গতি করো, সে তো তুমিই জানো। সুতরাং তিনি তো অবশ্যই শ্রীমৎ প্রদান করতে আসবেন, তাই না! কিন্তু কীভাবে আসেন, কোন্ শরীরে আসেন, সে'কথা কেউ জানে না। তিনি স্বয়ং বলেন, আমাকে সাধারণ তনে আসতে হয়। আমাকে ব্রহ্মা নামও অবশ্যই রাখতে হবে। নাহলে ব্রাহ্মণ কী করে তৈরী হবে! ব্রহ্মা কোথা থেকে আসবে? উপর থেকে তো আসবে না! তিনি হলেন সূক্ষ্মলোকবাসী অব্যক্ত, সম্পূৰ্ণ ব্রহ্মা। এখানে তো অবশ্যই ব্যক্ততে এসে রচনা রচিত করতে হয়। আমরা আমাদের অনুভব থেকে বলতে পারি। এত সময়ের জন্য আসেন আর ফিরে যান। বাবা বলেন, আমিও ড্রামাতে বাঁধা রয়েছি আর আমার পার্টও কেবল একবারেরই। এই জগতে যদিও খুব উপদ্রব হতেই থাকে। সেই সময় মানুষ ভগবানকে কতো ডাকতে থাকে। কিন্তু আমাকে তো আমার সময়েই আসতে হবে আর আমি আসিও বাণপ্রস্থ অবস্থাতে। এই জ্ঞান তো অনেক সহজ। কিন্তু অবস্থা জমানোতে অনেক পরিশ্রম রয়েছে। সেইজন্য বলবো লক্ষ্য অনেক উঁচু। বাবা হলেন নলেজফুল, সেই কারণে তিনি অবশ্যই বাচ্চাদেরকে নলেজ দিয়েছেন, তবেই তো তাঁর উদ্দেশ্যে গাওয়া হয় - তোমার গতি মতি তুমিই জানো।

বাবা বলেন আমার কাছে যে সুখ শান্তির ঐশ্বর্য আছে, তা আমি বাচ্চাদেরকে দিয়ে থাকি। এই যে মাতাদের উপরে অত্যাচার ইত্যাদি হয়ে থাকে, এও ড্রামাতে রয়েছে, তবেই তো পাপের ঘড়া ভরবে। কল্প কল্প ধরে এই রকমই রিপিট হয়ে থাকে । এই সব কথাও তোমরা এখন জানো, তারপর ভুলে যাবে। এই জ্ঞান সত্যযুগে থাকে না । যদি থাকতো তবে পরম্পরা অনুসারে চলতো। সেখানে তো প্রালব্ধ রয়েছে যা এখনকার পুরুষার্থের দ্বারা পেয়ে থাকে। এখানকার পুরুষার্থ করা আত্মারা ওখানে থাকে, অন্য কোনো আত্মারা সেখানে থাকে না, যাদের জ্ঞানের প্রয়োজন রয়েছে । এটাও জানা আছে যে, অতি বিরলই কেউ কেউ এই মার্গে আসে। অনেকেই খুব ভালো খুব ভালো বলে। মনে করো বিদেশে কোনো বিখ্যাত মানুষ এই পথে এলেন, বুঝতেও পারে। কিন্তু তারা যদি ভাট্টিতে থাকে তাহলেও কি বুঝবে? বলবে কথা গুলো তো সবই ঠিকই, কিন্তু পবিত্র থাকা সম্ভব নয়। আরে এত এত (ভাইবোন) জন তো পবিত্র থাকে। বিবাহ করে একসাথে থেকেও পবিত্র থাকলে তো তাদের প্রাপ্তিও অনেক বেশী হবে। এটাও হল রেস। জাগতিক রেস-এ প্রথম নম্বর হলে ৪-৫ লাখ পাওয়া যায়। এখানে তো ২১ জন্মের জন্য পুরো রাজত্বই প্রাপ্ত হয়। এটা কি কম কথা! এই মুরলী তো সব বাচ্চাদের কাছে যাবে। টেপ রেকর্ডারেও শুনবে। তারা বলবে - শিববাবা ব্রহ্মা শরীরের দ্বারা মুরলী শোনাচ্ছেন অথবা ব্রহ্মাকুমারীরা শোনালে তো বলবে শিববাবার মুরলী শোনাচ্ছে তো বুদ্ধি একদম সেখানে যাওয়া চাই। সেই সুখ অন্তরে অনুভব করতে হবে। অতিপ্রিয় বাবা আমাদেরকে সদা সুখী মানুষ থেকে দেবতা বানাচ্ছেন, তাই তাকে অনেক বেশী স্মরন করতে হবে। কিন্তু মায়া স্মরণ করতে দেয় না। ত্যাগও সম্পূর্ণ করতে হবে। এই সবকিছু বাবার, এই অবস্থা ফার্স্ট ক্লাস রাখতে হবে। অনেক বাচ্চাই আছে যারা শ্রীমত নিতে থাকে। শ্রীমতে অবশ্যই কল্যাণই হবে। এই মতও হলো অনেক উচ্চ (শ্রেষ্ঠ)। যাত্রাও অনেক দীর্ঘ তারপর তোমরা আর এই মৃত্যুলোকে আসবে না। সত্যযুগ হলই অমরলোক।

সেইদিন বাবা খুব ভালো ভাবে বুঝিয়েছিলেন যে সেখানে তোমরা মরবে না। খুশী-খুশীতে এক শরীর ত্যাগ করে নতুন ধারণ করবে। সাপের উদাহরণ রয়েছে তোমাদের জন্য। ভ্রমরীর উদাহরণও রয়েছে । কচ্ছপের উদাহরণও তোমাদের জন্য। সন্ন্যাসীরা তো কপি করেছে। ভ্রমরীর উদাহরণটা খুব ভালো। বিষ্ঠার কিটগুলিকে জ্ঞানের ভোঁ-ভোঁ করে পরিস্তানের পরি বানিয়ে দাও তোমরা। এখন খুব ভালো করে পুরুষার্থ করতে হবে। উঁচুপদ বা ভালো নম্বর নিতে হবে তাই পরিশ্রমও করতে হবে। কাজকারবার যা করবার করো, সেই সময়ের জন্য ছাড় রয়েছে । তারপরও সময় অনেক পাওয়া যায়। নিজের যোগের চার্ট দেখতে হবে, কেননা মায়া অনেক বিঘ্ন সৃষ্টি করে ।

বাবা বাচ্চাদেরকে বারংবার বোঝাচ্ছেন যে - মিষ্টি বাচ্চারা, ভুল করেও এইরকম অতি মিষ্টি অতিপ্রিয় বাবাকে বা সাজনকে ডিভোর্স দেবে না, এতটা মহামূর্খ কেউ হবে না। কিন্তু মায়া বানিয়ে দেয়। এখন তোমরা পরবর্তী কালে এটাও দেখতে পাবে যে, যারা সমর্পিত হয়ে খুব ভালো সেবা করতো তাদেরকেও মায়া কিরকম সব অবস্থা করে দেয়। কেননা শ্রীমতকে ছেড়ে দেয়। এইজন্য বাবা বলছেন এইরকম বড়-র থেকেও বড় মহামূর্খ হয়ো না। আচ্ছা!

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) বাবার দ্বারা যে সুখ শান্তির খাজানা প্রাপ্ত হয়েছে সেইসব সকলকে দান করতে হবে। জ্ঞানের দ্বারা নিজের স্থিতিকে একরস রাখার জন্য পরিশ্রম করতে হবে।

২ ) দৈবীগুণ ধারণ করার জন্য দেহের বোধকে ভুলে নিজেকে আত্মা মনে করে অশরীরী হয়ে এক প্রীতমকে স্মরণ করতে হবে।

বরদান:-
বিশেষত্বের বীজের দ্বারা সন্তুষ্টতারূপী ফল প্রাপ্তকারী বিশেষ আত্মা ভব

এই বিশেষ যুগে বিশেষত্বের বীজের সবথেকে শ্রেষ্ঠ ফল হল “সন্তুষ্টতা”। সন্তুষ্ট থাকা আর সবাইকে সন্তুষ্ট করা - এটাই হল বিশেষ আত্মার লক্ষণ। এইজন্য বিশেষত্বের বীজ বা বরদানকে সর্ব শক্তির জল সিঞ্চন করো, তবে বীজ ফলদায়ক হয়ে উঠবে। নাহলে তো বিস্তার হওয়া বৃক্ষও সময় সময়ে আগত তুফানে নত হতে হতে ভেঙে পড়ে। অর্থাৎ এগিয়ে যাওয়ার উৎসাহ-উদ্দীপনা খুশী বা আত্মিক নেশা আর থাকবে না। তাই বিধিপূর্বক শক্তিশালী বীজকে ফলদায়ক বানাও।

স্লোগান:-
অনুভূতির প্রসাদ বিতরণ করে অসমর্থকে সমর্থ বানিয়ে দেওয়া - এটাই হল সবথেকে বড় পূণ্য কর্ম।