24.02.2021 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


শিব ভগবানুবাচ - মিষ্টি বাচ্চারা, তোমরা আমাকে স্মরণ করো এবং আমাকে ভালোবাসবো, কারণ আমি -ই তোমাদের সদা সুখী করতে এসেছি
প্রশ্নঃ -
যে বাচ্চারা অমনোযোগী হয় তাদের মুখ দিয়ে কোন্ কথাটি আপনা থেকেই বের হয় ?

উত্তরঃ -
ভাগ্যে যা আছে তাই পাবো। স্বর্গে তো যাবই। বাবা বলেন এই কথাটি পুরুষার্থী বাচ্চাদের নয়। উচ্চ পদ পাওয়ার জন্য পুরুষার্থ করতে হবে। যখন বাবা এসেছেন উঁচু পদ মর্যাদা প্রদান করতে তখন অমনোযোগী হয়ো না।

গীতঃ-
শৈশবের দিন গুলি ভুলে যেও না ....

ওম্ শান্তি ।
মিষ্টি মিষ্টি আত্মা রূপী বাচ্চারা গানটির অর্থ বুঝেছে। এখন জীবিত থেকেই তোমরা অসীম জগতের পিতার আপন হয়েছো। সম্পূর্ণ কল্প তো দৈহিক পিতার সন্তান ছিলে। এখন শুধু তোমরা ব্রাহ্মণ সন্তান রা অসীম জগতের পিতার আপন হয়েছো। তোমরা জানো অসীম জগতের পিতার কাছে আমরা অসীম জগতের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করছি। যদি পিতাকে ত্যাগ কর তাহলে অসীম জগতের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হবে না। তোমরা যতই বোঝাও কিন্তু একটুতে কেউ রাজি হয় না। মানুষ ধন সম্পত্তির আশা করে। ধন ব্যতীত সুখ হতে পারে না। ধনও চাই, শান্তিও চাই, সুস্থ শরীরও চাই। তোমরা বাচ্চারাই জানো দুনিয়ায় আজ কি হচ্ছে, কাল কি হবে। বিনাশ তো সামনে দাঁড়িয়ে। আর কারো বুদ্ধিতে এই কথা নেই। যদি বুঝেও যায় বিনাশ দাঁড়িয়ে, তার জন্য কি করতে হবে তা জানা নেই। তোমরা বাচ্চারা জানো যে কোনো সময়ে যুদ্ধ লাগতে পারে, একটু আগুন লাগলেই মহা বিপদগ্রস্ত হতে দেরি লাগবে না। বাচ্চারা জানে এই পুরানো দুনিয়া শেষ হবে তাই এখন অতি শীঘ্র বাবার কাছে অবিনাশী উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করতে হবে। বাবাকে সদা স্মরণ করলে খুব খুশীতে থাকবে। দেহ-অভিমানে এলেই বাবাকে ভুলে দুঃখ সহ্য কর। বাবাকে যত স্মরণ করবে অসীম জগতের বাবার কাছে ততই সুখ প্রাপ্ত করবে। এখানে তোমরা এসেছো লক্ষ্মী-নারায়ণ হতে। রাজা-রানী হওয়া এবং প্রজার চাকর হওয়া - এতে খুব তফাৎ আছে তাইনা। বর্তমানের পুরুষার্থ পরে কল্প-কল্পান্তরের জন্য ফিক্স হয়ে যায়। ভবিষ্যতে সবার সাক্ষাৎকার হবে - আমরা কতখানি পুরুষার্থ করেছি ? এখনও বাবা বলেন নিজের অবস্থা দেখতে থাকো। মিষ্টি মিষ্টি বাবা যাঁর কাছে স্বর্গের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয়, তাঁকে আমরা কতখানি স্মরণ করি। তোমাদের সমস্ত কিছু স্মরণের উপরে নির্ভর করছে। যত স্মরণ করবে তত খুশী থাকবে। তোমরা বুঝবে এখন আরও কাছে পৌঁছেছি। কেউ ক্লান্তও হয়, আরও কত দূর চলতে হবে। পৌঁছালে তো পরিশ্রমও সফল হবে। এখন তোমরা যে লক্ষ্যের দিকে চলেছ, দুনিয়া জানে না। দুনিয়া এই কথাও জানেনা যে ভগবান কাকে বলা হয়। যদিও তারা বলে ভগবান। তারপরে বলে পাথরে নুড়িতে ভগবান বিরাজিত।

এখন তোমরা বাচ্চারা জানো আমরা বাবার সন্তান হয়েছি। এখন বাবার শ্রীমৎ অনুসারেই চলতে হবে। বিদেশেই থাকো, বা অন্য কোথাও শুধু স্মরণ করতে হবে। তোমরা শ্রীমৎ প্রাপ্ত করেছ। আত্মা তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান স্মরণ ব্যতীত হতে পারে না। তোমরা বলো বাবা আমরা তোমার কাছে সম্পূর্ণ উত্তরাধিকার নেব। যেমন আমাদের মাম্মা বাবা উত্তরাধিকার নিয়েছেন, আমরাও পুরুষার্থ করে তাদের সিংহাসনেই নিশ্চয়ই বসবো। মাম্মা-বাবা, রাজ-রাজেশ্বরী হন তো আমরাও হবো। পরীক্ষা তো সবার জন্য একই। তোমাদের খুব অল্প করে শেখানো হয় বাবাকে স্মরণ করো। একেই বলা হয় সহজ রাজযোগ বল। তোমরা বুঝেছো যোগের দ্বারা অনেক বল প্রাপ্ত হয়। বুঝেছো যে আমরা কোনোরকম বিকর্ম করলে দন্ড ভোগও করতে হবে। পদ ভ্রষ্ট হয়ে যাবে। স্মরণেই মায়া বিঘ্ন সৃষ্টি করে, গায়ন আছে সদগুরুর নিন্দুক কোথাও ঠাঁই পায় না। তারা তো বলে গুরুর নিন্দুক .... নিরাকারের কথা কেউ জানে না। বলাও হয়ে থাকে ভক্তদের ফল প্রদান করেন ভগবান। সাধু-সন্ন্যাসী সবাই ভক্ত। ভক্তরাই গঙ্গায় স্নান করে। ভক্তরা ভক্তদের ফল দিতে পারেনা। ভক্তরা ভক্তদের ফল দিলে ভগবানকে স্মরণ কেন করবে। এ হলই ভক্তি মার্গ। সবাই ভক্ত। ভক্তদের ফল প্রদান করেন ভগবান। এমন নয় যে বেশি ভক্তি করে সে কম ভক্তি করা ভক্তকে ফল দেবে। না। ভক্তি অর্থাৎ ভক্তি। রচনা, রচনাকে উত্তরাধিকার কীভাবে দেবে! উত্তরাধিকার রচয়িতার কাছেই প্রাপ্ত হয়। এই সময় সবাই হল ভক্ত। যখন জ্ঞান প্রাপ্ত হয় তখন ভক্তি আপনা থেকেই দূর হয়ে যায়। জ্ঞান জিন্দাবাদ হয়ে যায়। জ্ঞান ব্যতীত সদগতি হবে কীভাবে। সবাই নিজের হিসেব-নিকেশ মিটিয়ে ফিরে যায়। সুতরাং তোমরা বাচ্চারা এখন জানো যে বিনাশ সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তার আগে পুরুষার্থ করে বাবার থেকে সম্পূর্ণ উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করতে হবে।

তোমরা জানো আমরা পবিত্র দুনিয়ায় যাচ্ছি, যারা ব্রাহ্মণ হবে তারা নিমিত্ত হবে। ব্রহ্মা মুখ বংশী ব্রাহ্মণ না হলে তোমরা বাবার কাছে অবিনাশী উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করতে পারবে না। বাবা বাচ্চাদের রচনা করেন উত্তরাধিকার প্রদান করার জন্য। আমরা তো হলাম শিববাবার আপন। সৃষ্টি রচনা করেন আত্মারূপী বাচ্চাদের উত্তরাধিকার প্রদান করতে। শরীরধারীদেরই উত্তরাধিকার দেবেন তাইনা। আত্মারা তো উপরে থাকে। সেখানে তো উত্তরাধিকার বা প্রালব্ধ নেই। তোমরা এখন পুরুষার্থ করে প্রালব্ধ প্রাপ্ত করছো, যা দুনিয়া এখনও জানে না। এখন সময় কাছে আসছে। বোমা ইত্যাদি রাখার জন্য নয়। প্রস্তুতি চলছে। এখন বাবা আমাদের আদেশ দিচ্ছেন যে আমাকে স্মরণ করো। তা নাহলে পরে কাঁদতে হবে। রাজ-বিদ্যার পরীক্ষায় কেউ ফেল করলে রাগে ডুবে মরে। এখানে রাগারাগির কথা নেই। ভবিষ্যতে তোমাদের অনেক সাক্ষাৎকার হবে। কেমন স্বরূপ ধারণ হবে সবই জানবে। বাবার কর্তব্য হল পুরুষার্থ করানো। বাচ্চারা বলে বাবা আমরা কর্ম করাকালীন স্মরণ করতে ভুলে যাই, কেউ বলে স্মরণ করার সময় পাই না, তখন বাবা বলেন আচ্ছা সময় করে বসে স্মরণ করো। বাবাকে স্মরণ করো। নিজেদের মধ্যে একসঙ্গে বসে চেষ্টা করো, যাতে আমরা বাবাকে স্মরণ করি। সবাই মিলে বসলে তোমরা ভালোভাবে স্মরণ করবে, সাহায্য প্রাপ্ত করবে। মুখ্য কথা হল বাবাকে স্মরণ করা। কেউ বিদেশে যায়, সেখানে গিয়েও শুধু একটি কথা স্মরণে রাখো। বাবার স্মরণ দ্বারাই তোমরা তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হবে। বাবা বলেন শুধু একটি কথা স্মরণে রাখো - বাবাকে স্মরণ করো। যোগবল দ্বারা সব পাপ ভস্ম হয়ে যাবে। বাবা বলেন - 'মন্মনাভব' । আমাকে স্মরণ করো তাহলে বিশ্বের মালিক হবে। মুখ্য কথা হল স্মরণের। কোথাও যাওয়ার কথাই নেই। ঘরে থাকো, শুধুমাত্র বাবাকে স্মরণ করো। পবিত্র না হলে স্মরণ করতে পারবে না। এমন নয় সবাই ক্লাসে এসে পড়া করবে। মন্ত্র নিয়ে যেখানে ইচ্ছে যাও। সতোপ্রধান হওয়ার পথ তো বাবা বলেই দিয়েছেন। সেন্টারে এলে নতুন নতুন পয়েন্টস শুনতে থাকবে। যদি কোনো কারণে আসতে না পারো, বৃষ্টি পড়ছে, কার্ফু লেগেছে, কেউ বাইরে বের হতে পারবে না তখন কি করবে ? বাবা বলেন কোনো অসুবিধা নেই। এমন তো নয় শিবের মন্দিরে জল ঢালতে হবে। যেখানেই থাকো তোমরা স্মরণে থাকো। চলতে ফিরতে স্মরণ করো, অন্যদেরও এ'কথাই বলো যে বাবাকে স্মরণ করলে বিকর্ম বিনাশ হবে এবং দেবতায় পরিণত হবে। শব্দ মাত্র দুটি - রচয়িতা পিতার কাছে অবিনাশী উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করতে হবে। রচয়িতা হলেন একজনই আছেন। তিনি কত সহজ পথ বলে দেন। বাবাকে স্মরণ করার মন্ত্র প্রাপ্ত হয়েছে। বাবা বলেন শৈশবের এই দিন গুলি ভুলে যেও না। আজ হাসছো কাল কাঁদতে হবে, যদি বাবাকে ভুলে যাও। বাবার কাছে সম্পূর্ণ উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করা উচিত। এমন অনেকে আছে, যারা বলে স্বর্গে তো যাবই তাইনা, যা ভাগ্যে আছে.... তাদেরকে পুরুষার্থী বলা হবে না। মানুষ পুরুষার্থ করে উঁচু পদ মর্যাদা প্রাপ্ত করার জন্য। এখন যখন বাবার কাছে উঁচু পদ প্রাপ্ত হয় তখন গাফিলতি কেন করবে। স্কুলে যে পড়া করে না যারা পড়াশোনা করে, তাদের সামনে নত থাকতে হবে। বাবাকে পুরোপুরি স্মরণ না করলে প্রজায় গিয়ে চাকর-বাকর হতে হবে, এতেই খুশী হওয়া উচিত নয়। বাচ্চারা সম্মুখে এসে রিফ্রেশ হয়ে যায়। অনেকে বাঁধেলী অর্থাৎ বন্ধনে আছে, অসুবিধে নেই, ঘরে বসে বাবাকে স্মরণ করতে থাকো। কত বোঝানো হয় মৃত্যু সামনে দাঁড়িয়ে আছে, হঠাৎ যুদ্ধ লেগে যাবে। দেখতেই পাওয়া যাচ্ছে এই যুদ্ধ লাগল বলে। রেডিও দ্বারা সব কিছু জানা যায়। তারা বলে একটু ভুল করলেই আমরা এমন করবো। আগেই বলে দেয়। তাদের বোমা ইত্যাদির খুব অহংকার আছে। বাবাও বলেন বাচ্চারা এখনও যোগ বলে তো তীক্ষ্ণ হয়নি। যুদ্ধ লেগে যাবে, ড্রামা অনুযায়ী হবে না। বাচ্চারা সম্পূর্ণ অবিনাশী উত্তরাধিকার তো নেয়নি। এখনও সম্পূর্ণ রাজধানী স্থাপন হয়নি। একটু সময় চাই। পুরুষার্থ করানো হয়। কখন যে কি হয় বলা যায় না, বিমান, ট্রেন ইত্যাদি পড়ে যায়। মৃত্যু কত সহজ ভাবে উপস্থিত হয়ে যায় । ভূমিকম্প হয়। সবচেয়ে বেশি কাজ করতে হবে ভূমিকম্পকে। ভূমি কম্পন দিলে তো বাড়ি ঘর ইত্যাদি ভেঙে পড়বে। মৃত্যুর আগে বাবার কাছে সম্পূর্ণ উত্তরাধিকার নিতে হবে তাই খুব ভালোবেসে বাবাকে স্মরণ করতে হবে। বাবা তুমি ছাড়া আমাদের দ্বিতীয় কেউ নেই। শুধু বাবাকে স্মরণ করতে থাকো। কতখানি সহজ করে ছোট বাচ্চাদের বসে বোঝাচ্ছেন। অন্য কোনও কষ্ট নয়, শুধু স্মরণ করো আর কাম চিতায় বসে যে তোমরা পুড়ে মরেছ এখন জ্ঞান চিতায় বসে পবিত্র হও। কেউ যদি জিজ্ঞাসা করে তোমাদের উদ্দেশ্য কি ? বলো, শিববাবা হলেন সকলের পিতা, তিনি বলছেন 'মামেকম্ স্মরণ করো তো তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে এবং তোমরা তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হয়ে যাবে' । কলিযুগে সব হল তমোপ্রধান। সকলের সদগতি দাতা হলেন একমাত্র বাবা।

এখন বাবা বলছেন শুধু আমাকে স্মরণ করো তো জং দূর হয়ে যাবে। এইটুকু বার্তা তো সকলকে দিতে পারো, তাইনা। নিজেরা স্মরণ করলে তো অন্যদের স্মরণ করাতে পারবে। নিজেরা স্মরণ করলে তো অন্যদের সহজ ভাবে বলবে, তা নাহলে অন্তর থেকে বলতে পারবে না। বাবা বোঝান, যেখানেই হোক যতখানি পারো, শুধু স্মরণ করো। যার সঙ্গে দেখা হবে তাকেই এই শিক্ষা দাও - মৃত্যু সামনে দাঁড়িয়ে। বাবা বলেন তোমরা সবাই তমোপ্রধান পতিত হয়েছো। এখন আমাকে স্মরণ করো, পবিত্র হও। আত্মাই পতিত হয়েছে। সত্যযুগে থাকে পবিত্র আত্মা। বাবা বলেন স্মরণের দ্বারাই আত্মা পবিত্র হবে, অন্য কোনো উপায় নেই। এই সংবাদ সবাইকে দাও তাতেও অনেকের কল্যাণ হবে আর কোনো কষ্ট নেই । সব আত্মাদের পবিত্র করেন একমাত্র পতিত-পাবন বাবা। সবচেয়ে উত্তম পুরুষ বানিয়ে দেন বাবা। যারা পূজ্য ছিল তারাই আবার পূজারী হয়েছে। রাবণের রাজ্যে আমরা পূজারী হই, রামরাজ্যে পূজ্য ছিলাম। এখন রাবণ রাজ্যের শেষ সময়, আমরা পূজারী থেকে পুনরায় পূজ্য স্বরূপে পরিণত হই - বাবাকে স্মরণ করে। অন্যদেরও পথ বলে দিতে হবে, বৃদ্ধামাতাদেরও সার্ভিস করা উচিত। আত্মীয় পরিজনদের সংবাদ প্রদান করো। সৎসঙ্গ, মন্দির ইত্যাদিও অনেক প্রকারের আছে। তোমাদের তো হল এই এক প্রকার। শুধুমাত্র বাবার পরিচয় দিতে হবে। শিববাবা বলেন মামেকম্ স্মরণ করো তো তোমরা স্বর্গের মালিক হয়ে যাবে। নিরাকার শিববাবা সর্বজনের সদগতি দাতা বাবা আত্মাদের বলেন আমাকে স্মরণ করো তো তোমরা তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হয়ে যাবে। এই কথা বোঝানো তো সহজ তাইনা। বৃদ্ধারাও সার্ভিস করতে পারে। এইটি হল মুখ্য কথা। বিবাহ ইত্যাদি অনুষ্ঠানে যেখানেই যাও, সকলকে এই কথাই শোনাও। গীতার ভগবান বলেন আমাকে স্মরণ করো। এই কথাটি সবাই পছন্দ করবে। বেশি বলার দরকারও নেই। শুধুমাত্র বাবার সংবাদ প্রদান করতে হবে যে বাবা বলেন আমাকে স্মরণ করো। আচ্ছা, এমন ভেবে নাও যে ভগবান প্রেরণা দিচ্ছেন। স্বপ্নেও সাক্ষাৎকার হয়। আওয়াজ কানে আসে যে বাবা বলেন আমাকে স্মরণ করো তো তোমরা তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হয়ে যাবে। তোমরা নিজেরাও শুধু এই চিন্তন করতে থাকো তাহলেও তোমার ভবসাগর পার হয়ে যাবে। আমরা প্রাক্টিক্যালে অসীম জগতের পিতার সন্তান হয়েছি এবং বাবার কাছে ২১ জন্মের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করছি সুতরাং খুশী তো থাকা উচিত। বাবাকে ভুলে গেলেই কষ্ট অনুভব হয়। বাবা কতখানি সহজ করে বলেন নিজেকে আত্মা নিশ্চয় করে বাবাকে স্মরণ করো তো আত্মা সতোপ্রধান হয়ে যাবে। সবাই বুঝবে এনারা সঠিক পথ পেয়েছে। এই পথ কেউ কখনো বলে দিতে পারে না। যদি তারা বলে শিববাবাকে স্মরণ করো তাহলে সাধু সন্ন্যাসীদের কাছে কে যাবে। সময় এমন আসবে যখন তোমরা বাড়ী থেকে বাইরে বের হতে পারবে না। বাবাকে স্মরণ করতে করতে দেহ ত্যাগ করবে। অন্ত সময়ে যে শিববাবাকে স্মরণ করে .... সে নারায়ণ যোনিতে গিয়ে নামবে, লক্ষ্মী-নারায়ণের কুলে আসবে তাইনা। ক্ষণে ক্ষণে রাজার পদ প্রাপ্ত করবে। শুধু বাবাকে স্মরণ করো এবং বাবাকে ভালোবাসো। স্মরণ ব্যতীত ভালোবাসবে কীভাবে। সুখ প্রাপ্ত হলে তো ভালোবাসা যায়। যে দুঃখ দেয় তাকে কেউ ভালোবাসে না। বাবা বলেন আমি তোমাদেরকে স্বর্গের মালিক বানাই তাই আমাকে ভালোবাসো। বাবার মতানুযায়ী চলা উচিত তাইনা। আচ্ছা!

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১) খুশীতে থাকার জন্য স্মরণ করার পরিশ্রম করতে হবে। স্মরণের বল আত্মাকে সতোপ্রধান বানিয়ে দেয়। ভালোবেসে এক পিতাকে স্মরণ করতে হবে।

২) উঁচু পদ মর্যাদা প্রাপ্ত করার জন্য পড়াশোনাতে পুরোপুরি মনোযোগ দিতে হবে। এমন নয় যে ভাগ্যে যা আছে তাই হবে, গাফিলতি ত্যাগ করে সম্পূর্ণ উত্তরাধিকার প্রাপ্তির অধিকারী হতে হবে।

বরদান:-
ভাবা আর করার মধ্যকার ব্যবধানকে দূর করে স্ব-পরিবর্তক তথা বিশ্ব - পরিবর্তক ভব

যে কোনো সংস্কার, স্বভাব, বাণী ও সম্পর্ক যা যথার্থ নয় ব্যর্থ, সেই ব্যর্থকে পরিবর্তন করার মেশিনারিকে ফাস্ট করো। ভাবা আর করা...। তখন বিশ্ব পরিবর্তনের মেশিনারি দ্রুত হবে। এখন স্থাপনার নিমিত্ত আত্মাদের ভাবা আর করার মধ্যে তফাৎ দেখা যায়, এই ব্যবধানকে দূর করো। তবেই স্ব - পরিবর্তক তথা বিশ্ব পরিবর্তক হতে পারবে।

স্লোগান:-
সবচেয়ে লাকি (ভাগ্যবান) সে, যে নিজের জীবনে অনুভূতির গিফ্ট প্রাপ্ত করেছে।