25.11.2019 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা -- নিজের দুর্বলতা যদি দূর করতে হয় তবে তা মনের (হৃদয়ের) সততার মাধ্যমে বাবাকে শোনাও, বাবা-ই তোমাদের দুর্বলতা গুলোকে নিষ্কাশনের যুক্তি বলে দেবেন"

প্রশ্নঃ -
বাবার কারেন্ট কোন্ বাচ্চারা প্রাপ্ত করে ?

উত্তরঃ -
যে বাচ্চারা সততার সঙ্গে সার্জেনকে নিজেদের রোগের কথা শুনিয়ে দেয়, বাবা তাদেরকে দৃষ্টি দেন। ওই বাচ্চাদের উপরে বাবার অত্যন্ত দয়া থাকে। অন্তর থেকেই তাঁর মনে হয় যে, বাচ্চাদের মধ্য থেকে এই ভূত যেন নিষ্কাশিত হয়ে যায়। বাবা তাদের কারেন্ট (শক্তি) দেন।

ওম্ শান্তি ।
বাবা বাচ্চাদের প্রশ্ন করতে থাকেন। প্রতিটি বাচ্চা যেন নিজেকে জিজ্ঞাসা করে যে, বাবার কাছ থেকে কিছু পেয়েছ কী ? এখনও কোনো জিনিসের অভাব রয়েছে কী ? প্রত্যেককেই নিজ মনের গভীরে উঁকি দিতে হবে। যেমন, নারদের উদাহরণ রয়েছে -- তাকে বলা হয়েছে যে, তুমি নিজের চেহারা আয়নায় দেখো -- লক্ষ্মীকে বরণ করার যোগ্য (বিবাহযোগ্য) হয়েছ কী ? তাই বাবাও বাচ্চাদের জিজ্ঞাসা করেন -- কি মনে করছ, লক্ষ্মীকে বরণ করার যোগ্য হয়েছ কী ? যদি তা না হয়ে থাকো, তবে দেখো কী কী খুঁত আছে ? যেগুলোকে নিষ্কাশিত করে ফেলার জন্য বাচ্চারা পুরুষার্থ করে। দুর্বলতা গুলোকে দূর করার পুরুষার্থ করে কী করে না ? কেউ-কেউ পুরুষার্থ করতেই থাকে। নতুন বাচ্চাদের একথা বোঝান হয় -- দেখো, নিজের ভিতরে কোনো কমজোরী নেই তো ? কারণ তোমাদের সকলকে পারফেক্ট হতে হবে। বাবা আসেনই পারফেক্ট বানানোর জন্য, তাই এইম অবজেক্টের চিত্রও সম্মুখে রাখা উচিত। নিজের অন্তরকে প্রশ্ন কর যে, আমরা কী এদের মতন নিখুঁত হয়েছি ? লৌকিক টিচাররা যারা লৌকিক বিদ্যা পড়ায়, এইসময় সকলেই বিকারী। এঁনারা (লক্ষ্মী-নারায়ণ) সম্পূর্ণ নির্বিকারীর উদাহরণ। আধাকল্প তোমরা এঁনাদের মহিমা করেছ। তাহলে এখন নিজেদের প্রশ্ন করো -- আমাদের মধ্যে কী-কী দুর্বলতা রয়েছে, যেগুলোকে নিষ্কাশিত করে নিজেদের উন্নতি করব ? আর বাবাকে বলো যে -- বাবা, এই দুর্বলতা আছে যা আমাদের মধ্য থেকে দূরীভূত হয় না, কোনো উপায় বলো। একমাত্র সার্জেনই তোমাদের রোগমুক্ত হওয়ার জন্য সাহায্য করতে পারেন। কিছু কম্পাউন্ডার অত্যন্ত হুশিয়ার হয়। কম্পাউন্ডার ডাক্তারের কাছে শেখে, আর হুশিয়ার (চতুর) ডাক্তার হয়ে যায়। তাই সততার সাথে যাচাই করো -- আমার মধ্যে কী-কী দুর্বলতা রয়েছে ? যারজন্য আমি মনে করছি যে -- এই পদ পেতে পারব না। বাবা বলবেন, তাই না -- তোমরা এঁদের মতন হতে পারো। কমজোরী যদি বলো, তবেই বাবা রায় দেবেন। রোগ তো অনেক রয়েছে। অনেকের মধ্যেই দুর্বলতা রয়েছে। কারোর মধ্যে অত্যন্ত ক্রোধ আছে, লোভ আছে...... তাদের মধ্যে জ্ঞানের ধারণা থাকতে পারে না যে অন্য কাউকে তারা জ্ঞানের ধারণা করাতে পারবে। বাবা প্রত্যহ অনেক বোঝান। বাস্তবে এত বোঝানোর প্রয়োজনই দেখা যাচ্ছে না। মন্ত্রের অর্থ বাবা বুঝিয়ে দেন, বাবা তো একজনই। অসীম জগতের পিতাকে স্মরণ করতে হবে আর ওঁনার থেকে অবিনাশী উত্তরাধিকার (বর্সা) প্রাপ্ত করে আমাদের এমন হতে হবে। আর অন্যসব স্কুলে ৫ বিকারকে জয় করার জন্য কোন কথাই বলা হয় না। এইকথা এখনই হয়, আর যেকথা এসে বাবা বোঝান। আমাদের মধ্যে যে ভূত রয়েছে, যা আমাদের দুঃখ দেয়, তার (বাবার কাছে) বর্ণনা করলে বাবা তা দূর করার যুক্তি বলে দেবেন। বাবা এই-এই ভূত আমাদের বিরক্ত করে। যেমন ভূত-প্রেত দূর করার পূর্বে তার বর্ণনা করা হয়, তাই না। তোমাদের মধ্যে তেমন কোনো ভূত (প্রেতাত্মা) নেই। তোমরা জানো যে, এই ৫ বিকারূপী ভূত জন্ম-জন্মান্তর ধরে রয়েছে। দেখা উচিত যে, আমাদের মধ্যে কী-কী ভূত আছে ? তা দূর করার জন্য আবার (বাবার) রায় নিতে হবে। চোখও অনেক ধোঁকা দেবে, তাই বাবা বোঝান নিজেকে আত্মা মনে করে অন্যকেও আত্মা মনে করার প্র্যাকটিস করো। এই যুক্তির দ্বারা তোমাদের এই রোগ দূর হয়ে যাবে। আমরা সব আত্মারাই হলাম আত্মিক ভাই। এতে শরীরের কোনো ব্যাপার নেই। তোমরা এও জানো যে, আমাদের অর্থাৎ আত্মাদের সকলকেই (ঘরে) ফিরে যাবে। তাই নিজেকে দেখতে হবে যে, আমরা কী সর্বগুণসম্পন্ন হয়েছি ? তা নাহলে আমাদের মধ্যে কী-কী অবগুণ রয়েছে ? বাবাও বসে সেই আত্মাকে দেখেন, এরমধ্যে এই দুর্বলতা আছে, তখন তাকে কারেন্ট (শক্তি) দেন। এই বাচ্চার যেন এই বিঘ্ন দূর হয়ে যায়। যদি সার্জেনের কাছে লুকিয়ে রাখবে তাহলে (বাবা) কি আর করবেন ? তোমরা নিজেদের অবগুণ যখন বলবে তখন বাবাও রায় দেবেন। যেমন তোমরা অর্থাৎ আত্মারা বাবাকে স্মরণ করো -- বাবা, তুমি কত মিষ্টি! আমাকে কী থেকে কী বানিয়ে দাও। বাবাকে স্মরণ করতে থাকলে, ভূতও পালিয়ে যেতে থাকবে। কোনো না কোনো ভূত তো অবশ্যই রয়েছে। বাবা সার্জেন, তাঁকে বলো -- বাবা, আমাদের এর যুক্তি বলো। তা নাহলে অনেক লোকসান হয়ে যাবে। শোনালে বাবারও দয়া আসবে -- মায়ার এই ভূত এদের বিরক্ত করছে। একমাত্র বাবা-ই ভূতেদের দূর করতে পারেন। যুক্তির মাধ্যমে দূর করা হয়। বোঝানো হয় যে --- এই ৫ ভূতকে দূর কর। তথাপি সব ভূত তো দূরীভূত হয় না। কারোর মধ্যে বিশেষভাবে (কড়া) বর্তমান থাকে, আর কারোর মধ্যে কম। কিন্তু আছে অবশ্যই। বাবা দেখেন এঁনার মধ্যে ভূত (বিকার) আছে। দৃষ্টিদানের সময় ভিতরে কি চলছে তা বোঝা যায়, তাই না। এ তো অত্যন্ত ভালো বাচ্চা, তাহলে তো এরমধ্যে ভালো-ভালো গুণ রয়েছে, কিন্তু অন্যকে কিছুই বলে না, কাউকে বোঝাতেও পারে না। যেন মায়া গলারুদ্ধ করে দিয়েছে, এর গলা যদি খুলে যায় তখন অপরের সেবায় ব্রতী হবে। অপরের সেবাতেই স্ব-সেবা, শিববাবার সেবা করে না। শিববাবা তো স্বয়ং সেবা করতে এসেছেন, তিনি বলেন -- জন্ম-জন্মান্তরের এই ভূতেদের দূর করতে হবে।

বাবা বসে বোঝান, তোমরা এও তো জানো যে, বৃক্ষ (ঝাড়) ধীরে-ধীরে বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়। পাতা ঝড়ে পড়তে থাকে। মায়া বিঘ্ন ঘটায়। বসে-বসেই মন পরিবর্তন হয়ে যায়। যেমন, সন্ন্যাসীরা (মায়াকে) ঘৃণা করে, তাই একদম হারিয়ে যায়। না কোনো কারণ, না কোনো কথাবার্তা। বাবার সঙ্গে তো সকলেরই কানেক্শন (যোগ) রয়েছে, বাচ্চারাও তো নম্বরের ক্রমানুসারেই হয়। যদি বাবাকে সত্যকথা বলে তবেই সেই দুর্বলতা নিষ্কাশিত হতে পারে এবং উচ্চপদ পেতে পারে। বাবা জানেন -- কেউ-ই (বাবাকে) না বলার কারণে নিজেদের অনেক লোকসান করে। যতই বোঝাও কিন্তু সেই কাজই করতে শুরু করে দেবে। মায়া গ্রাস করে নেয়। মায়া-রূপী অজগর সকলকে পেটে পুরে বসে রয়েছে। পাঁকে গলা পর্যন্ত ডুবে রয়েছে। বাবা কত বোঝান। আর কোনো কথা নয়, শুধু বলো তোমাদের দু'জন পিতা। একজন লৌকিক পিতা যা সর্বদাই থাকে, সত্যযুগেও পাও, আর কলিযুগেও পাও। এমন নয় যে, সত্যযুগে পুনরায় পারলৌকিক পিতাকে পাও। পারলৌকিক পিতা একবারই আসেন। পারলৌকিক পিতা এসে নরককে স্বর্গে পরিণত করেন। ভক্তিমার্গে ওঁনাকে কত পূজা করা হয়, স্মরণ করা হয়। শিবের মন্দির তো অনেক রয়েছে। বাচ্চারা বলে কোনো সেবা নেই। আরে, শিবের মন্দির তো যত্র-তত্র রয়েছে, ওখানে গিয়ে তোমরা জিজ্ঞাসা করতে পারো যে, ওঁনার পূজা কেন করো ? ইনি তো দেহধারী নন। ইনি কে ? তখন বলবে, পরমাত্মা। এঁনাকে ছাড়া আর কাউকে তো বলবে না। তাহলে বলো, ইনি তো পরমপিতা পরমাত্মা, তাই না। ওঁনাকে খুদা-ও বলা হয়, আল্লাহ্-ও বলা হয়। সর্বদা ওঁনাকে পরমপিতা পরমাত্মা বলা হয়। ওঁনার কাছ থেকে কি পাওয়া যায়, তা কিছু জানো কী ? ভারতে শিবের অনেক নাম, শিব-জয়ন্তীও পালন করা হয়। কাউকে বোঝানো অতি সহজ। বাবা বিভিন্ন রকমভাবে অনেক বোঝান। তোমরা যেকোনো কারোর কাছে যেতে পারো। কিন্তু অত্যন্ত শান্ত ভীবে, নম্রতার সাথে কথা বলতে হবে। ভারতে তোমাদের নাম অনেকদূর পর্যন্ত প্রসারিত। একটু বললেই তৎক্ষণাৎ বুঝে যাবে যে -- এরা বি.কে.। গ্রামের দিকে অনেক ইনোসেন্ট মানুষ আছে। মন্দিরে গিয়ে সেবা করা অত্যন্ত সহজ। এসো, আমরা তোমাদের শিববাবার জীবন কাহিনী শোনাই। তোমরা শিবের পূজা করো, ওঁনার কাছে কী চাও ? বলো, আমরা তোমাদের এঁনার সম্পূর্ণ জীবন কাহিনী বলে দিতে পারি। আবার দ্বিতীয় দিনে লক্ষ্মী-নারায়ণের মন্দিরে যাও। তোমাদের অন্তরে যেন খুশী থাকে। বাচ্চারা চায়, গ্রামে সার্ভিস করতে। সকলের নিজ-নিজ বোধ শক্তি রয়েছে, তাই না। বাবা বলেন, সর্বপ্রথমে যাও শিববাবার মন্দিরে। পুনরায় লক্ষ্মী-নারায়ণের মন্দিরে গিয়ে জিজ্ঞাসা করো -- এঁনারা এই উত্তরাধিকার কীভাবে পেয়েছেন ? এসো, আমরা তোমাদের এই দেবী-দেবতাদের ৮৪ জন্মের কাহিনী শোনাই। গ্রামের মানুষজনকেও জাগরিত করতে হবে। তোমরা গিয়ে সকলকে ভালোবেসে বোঝাবে। তোমরা হলে আত্মা, আত্মাই কথা বলে, এই শরীর নিঃশেষ হয়ে যাবে। এখন আমাদের অর্থাৎ আত্মাদের পবিত্র হয়েই বাবার কাছে ফিরে যেতে হবে। বাবা বলেন, আমাকে স্মরণ করো। তাহলে একথা শুনলেই তারা আকৃষ্ট হবে। যত তোমরা দেবী-অভিমানী হবে, ততই তোমাদের মধ্যে আকর্ষণ আসবে। এখনও এতটা দেহাদি থেকে, পুরানো দুনিয়া থেকে সম্পূর্ণ বৈরাগ্য আসেনি। এ তো জানো যে, এই পুরানো বস্ত্র যা পরিত্যাগ করতে হবে, এর (শরীর) প্রতি আর কী মোহ রাখবে। শরীর থাকলেও শরীরের কোনো মোহ থাকা উচিত নয়। ভিতরে-ভিতরে এদের এমন এক উৎকন্ঠা রয়েছে যে এখন আমরা অর্থাৎ আত্মারা পবিত্র হয়ে নিজেদের ঘরে যাব। আবার এমনও মনে হয় -- এমন বাবাকে কীভাবে ত্যাগ করব ? এমন পিতাকে তো পুনরায় আর কখনো পাবো না। এমন-এমনভাবে চিন্তা করলে বাবাও স্মরণে আসবে, ঘরও স্মরণে আসবে। এখন আমরা ঘরে (ফিরে) যাচ্ছি। ৮৪ জন্ম সম্পূর্ণ হয়েছে। দিনে অবশ্যই কাজ-কর্মাদি কর। গৃহস্থ ব্যবহারে থাকতেই হবে। এরমধ্যে থেকেও তোমরা বুদ্ধিতে একথা রাখো যে, এই সবকিছুই শেষ হয়ে যাবে। এখন আমাদের ঘরে ফিরে যেতে হবে। বাবা বলেছেন -- গৃহস্থ ব্যবহারেও অবশ্যই থাকতে হবে। তা নাহলে কোথায় যাবে ? কাজ-কর্মাদি কর, বুদ্ধির দ্বারা একথা যেন স্মরণে থাকে। এই সবকিছুই বিনাশ প্রাপ্ত হয়ে যাবে। প্রথমে আমরা ঘরে ফিরে যাব, পুনরায় সুখধামে আসব। যেটুকু সময় পাবে, সেসময়ে নিজের সঙ্গে কথা বলা উচিত। সময় অনেক আছে, ৮ ঘন্টা কাজ-কর্মাদি (চাকরী বা ব্যবসায়) করো, ৮ ঘন্টা বিশ্রামও করো, বাকি ৮ ঘন্টা এই বাবার সঙ্গে আত্মিক বার্তালাপ (রুহরিহান) করে পুনরায় আধ্যাত্মিক সার্ভিস করতে হবে। যতটা সময় পাবে শিববাবার মন্দিরে, লক্ষ্মী-নারায়ণের মন্দিরে গিয়ে সেবা করো। মন্দির তোমরা অনেক পাবে। তোমরা যেকোন স্থানেই যাও শিববাবার মন্দির অবশ্যই পাবে। বাচ্চারা, তোমাদের কাছে প্রধান হলো -- স্মরণের যাত্রা। স্মরণে যদি সঠিকভাবে থাকতে পারো, তবে তোমরা যাকিছু চাইবে তাই-ই পেতে পারো। প্রকৃতি দাসী হয়ে যাবে। ওঁনার স্বরূপাদিও (চেহারা) এমন আকর্ষণ করার মতন থাকে যে কিছু চাওয়ার প্রয়োজনই পড়ে না। সন্ন্যাসীদের মধ্যেও কেউ-কেউ পাকা থাকে। ব্যস্, এমন নিশ্চয়তার সঙ্গে (তপস্যায়) বসে -- আমরা ব্রহ্ম-তে গিয়ে বিলীন হয়ে যাব। এই নিশ্চয়তায় সম্পূর্ণ পাকা থাকে। ওনারা অভ্যাস করে, আমরা এই শরীর পরিত্যাগ করে যাবো। কিন্তু তারা ভুল পথে রয়েছে। অত্যন্ত পরিশ্রম করে ব্রহ্ম-তে বিলীন হওয়ার জন্য। ভক্তিতে একটু সাক্ষাৎকারের জন্য কত পরিশ্রম করে। জীবনও দিয়ে দেয়। আত্মহত্যা হয় না, হয় জীবহত্যা। আত্মা তো বর্তমান, সে গিয়ে পুনরায় দ্বিতীয় জীবন অর্থাৎ শরীর গ্রহণ করে।

বাচ্চারা, ভালভাবে তোমরা সার্ভিসের শখ রাখো তাহলেই বাবা স্মরণে আসবে। এখানেও মন্দিরাদি অনেক রয়েছে। তোমরা সম্পূর্ণ যোগযুক্ত হয়ে কাউকে বললে, তখন তাদের অন্য কোনো ভাবনা আসবে না। যোগীর তীর সম্পূর্ণরূপে বিদ্ধ হবে। তোমরা অনেক সেবা করতে পারো। চেষ্টা করে দেখ, কিন্তু প্রথমে নিজের অন্তরকে দেখতে হবে -- আমাদের মধ্যে কোনো মায়ার ভূত নেই তো ? মায়ার ভূতের বশে যারা রয়েছে, তারা কী সাফল্য পেতে পারে, না পারে না। সেবা তো অনেক আছে। বাবা তো কোথাও যেতে পারবেন না, কারণ বাবা তো সঙ্গেই রয়েছেন। বাবাকে আমরা কোথায় পাঁকে মধ্যে নিয়ে যাব ! কার সঙ্গে কথা বলব ! বাবা তো বাচ্চাদের মাধ্যমেই বলতে চান। তাই বাচ্চাদের সার্ভিস করতে হবে। কথায়ও আছে -- সন্তানের মাধ্যমেই বাবার প্রত্যক্ষতা। বাবা বাচ্চাদের হুশিয়ার (চতুর) বানান। ভালো ভালো বাচ্চারা যাদের সার্ভিসের শখ আছে, তারা বলে, আমরা গ্রামে গিয়ে সার্ভিস করব। বাবা বলেন, অবশ্যই করো। শুধু ফোল্ডিং চিত্রগুলি যেন সঙ্গে থাকে। চিত্র ব্যতীত কাউকে বোঝানো অসুবিধাজনক। রাত-দিন এই চিন্তাই থাকে -- অন্যদের জীবন কীভাবে তৈরী করব ? আমাদের মধ্যে যে দুর্বলতা রয়েছে, তা কীভাবে দূর করে উন্নতি করতে পারব। তোমাদের খুশীও থাকে। বাবা এ ৮-৯ মাসের বাচ্চা। এমন অনেক বেরোয়। অতি শীঘ্র সেবার যোগ্য হয়ে যায়। প্রত্যেকের এও চিন্তা থাকে যে, আমরা নিজেদের গ্রামকে জাগরিত করব, সমগোত্রীয় (হামজিন্স) ভাইদের সেবা করে। পরোপকার ঘর থেকে শুরু হয় (চ্যারিটি বিগ্যান্স অ্যাট হোম)। সার্ভিসের শখ থাকা উচিত। এক জায়গায় থেমে যাওয়া উচিত নয়। পরিক্রমা করতে থাকো। সময় অতি অল্প, তাই না। কত বড়-বড় আখড়া তৈরী হয়ে যায়। এমন আত্মা এসে প্রবেশ করে, কিছু না কিছু শিক্ষা দেয়, আর তখন বিখ্যাত হয়ে যায়। কল্প-পূর্বের মতন এখানে অসীম জগতের পিতা শিক্ষা দেন। এই আধ্যাত্মিক কল্প-বৃক্ষ বৃদ্ধি পাবে। নিরাকারী বৃক্ষ থেকে নম্বরের ক্রমানুসারে আত্মারা আসে। শিববাবার বড় লম্বা মালা তো তৈরী হয়েই রয়েছে। এইসব কথাকে স্মরণ করলেও বাবা-ই স্মরণে আসবে। উন্নতিও শীঘ্র হবে। *আচ্ছা।*

মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন ও সুপ্রভাত। আত্মিক পিতা তাঁর আত্মা-রূপী সন্তানদের জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) কমপক্ষে ৮ ঘন্টা বাবার সঙ্গে বার্তালাপ করে অত্যন্ত শান্তভবে বা নম্রতার সঙ্গে আধ্যাত্মিক সেবা করতে হবে। সেবায় সফলতা প্রাপ্ত করতে হলে ভিতরে যেন কোনো মায়ার ভূত না থাকে।

২ ) নিজের সঙ্গে এ'কথাই বলতে হবে যে, আমরা যাকিছু দেখছি এইসবই বিনাশ প্রাপ্ত হয়ে যাবে। আমরা আমাদের ঘরে ফিরে যাব, পুনরায় সুখধামে আসব।

বরদান:-
বিশ্বে ঈশ্বরীয় পরিবারের স্নেহের বীজ বপনকারী বিশ্ব-সেবাধারী ভব

ব্যাখা :- তোমরা বিশ্ব-সেবাধারী সন্তানেরা বিশ্বের ঈশ্বরীয় পরিবারে স্নেহের বীজ রোপণ করছ। তা সে কেউ নাস্তিক হোক বা আস্তিক....সকলকে অলৌকিক বা ঈশ্বরীয় স্নেহের, নিঃস্বার্থ স্নেহের অনুভূতি করানোই হলো বীজ রোপণ করা। তখন সেইসব বীজ স্বাভাবিকভাবেই সহযোগী বৃক্ষ-রূপে জন্ম নেয় আর সঠিক সময়ানুসারে এর ফল সহজযোগী-রূপে দৃশ্যমান হবে। শুধু কোনো ফল দ্রুত বেরোয় আর কোনো ফল নিজেদের সময়ানুসারে বেরোয়।

স্লোগান:-
ভাগ্যবিধাতা পিতাকে জানা, চেনা আর তাঁর ডায়রেক্ট বাচ্চা হয়ে যাওয়া -- এটাই সর্বাপেক্ষা বড় (উচ্চ) সৌভাগ্য।