26-07-2020 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 27-02-86 মধুবন


*আধ্যাত্মিক (রুহানী) সেনা কল্প কল্পের বিজয়ী*


(অব্যক্ত বাপদাদা আফ্রিকান গ্রুপের উদ্দেশ্যে বললেন -)
সকল আধ্যাত্মিক শক্তি সেনা, পান্ডব সেনা, আধ্যাত্মিক সেনা সদা বিজয়ের নিশ্চয় আর নেশায় থাকে, তাই না ! আর কোনো সেনা যখন যুদ্ধ করে, তাতে বিজয়ের গ্যারান্টি থাকে না। নিশ্চয় (দৃঢ় বিশ্বাস) থাকে না যে, বিজয় নিশ্চিত রয়েছে। কিন্তু তোমরা আধ্যাত্মিক সেনা, শক্তি সেনা সদা এই নিশ্চয়ের নেশাতে থাকো, কেবল এই নেশাতে নয় যে কেবল এখনকার বিজয়ী, বরং কল্প কল্পের বিজয়ী । তোমাদের কল্প পূর্বের বিজয়ের কাহিনীও ভক্তি মার্গ থেকে শুনে এসেছো। তোমাদের বিজয়ের চিত্র এখনও দেখতে পাচ্ছো। ভক্তি মার্গে কেবল অহিংসকের বদলে হিংসক দেখিয়ে দিয়েছে। আধ্যাত্মিক সেনাকে শরীরধারী সাধারণ সেনা দেখিয়ে দিয়েছে। নিজেদের বিজয়ের জয়গান এখনও ভক্তদের থেকে শুনে আনন্দিত হও। প্রসিদ্ধও আছে - "প্রভু-প্রীত বুদ্ধি বিজয়ন্তী" । "বিপরীত বুদ্ধি বিনশন্তি"। তাহলে কল্প পূর্বের তোমাদের প্রশস্তি কতখানি প্রসিদ্ধ ! বিজয় নিশ্চিত হওয়ার কারণে তোমরা হলে নিশ্চয়বুদ্ধি বিজয়ী ।সেইজন্য মালাকেও "বিজয় মালা" বলা হয়। তো নিশ্চয় আর নেশা দুটোই আছে তো ? কেউ যদি জিজ্ঞাসা করে, তবে নিশ্চয়ের সাথে বলবে যে, বিজয় তো হয়েই আছে। স্বপ্নেও যেন এই সংকল্প না ওঠে যে, কে জানে বিজয় হবে কিনা। হয়েই আছে। পাস্ট কল্প আর ভবিষ্যতকেও তোমরা জানো। ত্রিকালদর্শী হয়ে সেই নেশার সাথেই তোমরা বলে থাকো। সবাই পাক্কা তোমরা, তাই তো ? কেউ যদি বলে, আর একবার ভাবো, দেখো, তোমরা কী বলবে ? অনেক বার দেখে এসেছি। নতুন কিছু হলে তবে তো ভাববো কিম্বা দেখবো। এ তো অনেকবারের বিষয়, এখন রিপিট হচ্ছে। অতএব এমন নিশ্চয়বুদ্ধি বাবা সম জ্ঞান সম্পন্ন আত্মারা, যোগী আত্মা তোমরা, তাই তো ?

আজ হল আফ্রিকা গ্রুপের টার্ন। এমনিতে তো সবাই হলেই মধুবন নিবাসী। পারমানেন্ট অ্যাড্রেস তো মধুবন, তাই না ! (আফ্রিকা) সেটা তো হল সেবা স্থান। সেবা স্থান হল গিয়ে দপ্তর, কিন্তু বাড়ি তো হল মধুবন, তাই না ? সেবার জন্য আফ্রিকা, ইউ. কে. (UK), ইত্যাদি চারিদিকে গিয়েছো তোমরা। হয়ত ধর্ম বদলে গেছে, দেশ বদলে গেছে, কিন্তু গেছো তোমরা সেবার জন্যই। স্মরণে কোন্ ঘরের কথা আসে ? মধুবন নাকি পরমধাম ? সেবা স্থানে সেবা করবার সময় সর্বদা মধুবন আর মুরলী, এটাই মনে থাকে, তাই না ! আফ্রিকাতেও তো সেবার জন্যই গেছো, তাই না ? সেবা তোমাদেরকে 'জ্ঞান গঙ্গা' বানিয়ে নিয়েছে। জ্ঞান গঙ্গাসমূহে স্নান করে কত কত জন পবিত্র হয়ে গেছে ! বাচ্চাদেরকে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে সেবা করতে দেখে বাপদাদা ভাবেন বাচ্চারা এমন এমন স্থানে সেবা করবার জন্য নির্ভিক চিত্তে ভালোবেসে রয়েছে। আফ্রিকান লোকেদের বায়ুমণ্ডল, তাদের আহার বিহার, ভিন্ন রকমের। তৎসত্ত্বেও সেবার জন্য রয়েছো। সেবার বল প্রাপ্ত হতে থাকে। সেবার প্রত্যক্ষ ফল পাওয়া যায়, সেই বল-ই নির্ভয় বানিয়ে দেয়। কখনো ঘাবড়ে যাও না তো ? তাই না ! আর অফিসিয়াল নিমন্ত্রণ তো প্রথমে এখান থেকেই এসেছিল। বিদেশে সেবার নিমন্ত্রণ এসেছিল বলেই এই সমস্ত দেশে পৌঁছে গেছ তোমরা সেবা দিতে। নিমন্ত্রণের সেবার ফাউন্ডেশন এখান থেকেই শুরু হয়। সেবার উৎসাহ উদ্দীপনার প্রত্যক্ষ ফল এখানকার বাচ্চারাই দেখিয়েছে। কৃতিত্ব তারই প্রাপ্য যে নিমিত্ত হয়েছিল, যে কত ভালো ভালো লুকিয়ে থাকা রত্নদেরকে বের করে এনেছে। এখন তো অনেক বৃদ্ধি হয়ে গেছে। নিমিত্ত লুকিয়ে গেছে আর তোমরা প্রত্যক্ষ হয়ে গেছো। নিমন্ত্রণের কারণে নম্বর অনেক এগিয়ে গেছে। তাই আফ্রিকার ভাই বোনেদেরকে বাপদাদা "বাঃ বাঃ" (আফরিন) অর্থাৎ প্রশংসার অধিকারী বলে থাকেন। বাহবা নেওয়ারই স্থান বলতে হবে, কেননা পরিবেশ হল অশুদ্ধ। অশুদ্ধ পরিবেশের মাঝে সেবা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তার জন্যই বাপদাদা আফরিন বলেছেন।

শক্তি সেনা আর পান্ডব সেনা দুই-ই হল শক্তিশালী। মেজরিটি ইন্ডিয়ান্স। কিন্তু ইন্ডিয়া থেকে দূরে হয়ে গেলেও দূরে থাকলেও নিজের অধিকার ছেড়ে দিতে পারে না। সেখানেও বাবার পরিচয় পেয়ে গেছে। বাবার হয়ে গেছে। নাইরোবিতে পরিশ্রম করতে হয়নি। যারা বাবার কাছ থেকে হারিয়ে গিয়েছিল, সহজেই তারা পৌঁছে গেছে আর গুজরাতের তো এটা বিশেষ সংস্কারই। এটা যেন তাদের রীতি। সবাই মিলে গরবা রাস করে। একা একা করে না। ছোট কিম্বা বড়, সবাই মিলে গরবা ডান্স অবশ্যই করবে। এটা হল সংগঠনের লক্ষণ। সেবার ক্ষেত্রেও দেখা গেছে যে, গুজরাতিরা সংগঠিত হয়ে যায়। একজন এলে ১০ জনকে অবশ্যই সাথে করে নিয়ে আসবে। বেশ ভালো তাদের মধ্যে এই সংঘবদ্ধ হওয়ার রীতি। সেইজন্য বৃদ্ধিও দ্রুত হয়ে যায়। সেবার বৃদ্ধি আর বিস্তার হচ্ছে। এই ধরনের স্থানে গিয়ে শান্তির শক্তি দেওয়া, ভয়ের বদলে খুশী এনে দেওয়া - এটাই হল শ্রেষ্ঠ সেবা । এই রকম স্থানে এটারই প্রয়োজন রয়েছে। বিশ্ব কল্যাণকারী তোমরা, তাই বিশ্বের চারিদিকে সেবা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর নিমিত্ত হতেও হবে। কোনো স্থান যদি থেকে গিয়ে থাকে, তবে তারা পরে অভিযোগ জানাবে। খুবই ভালো - বাচ্চারা সাহস করলে বাবাও সাহায্য করেন। হ্যান্ডসও ওখান থেকে বেরিয়ে এসে আরও সেবা করছে। এটাও তো সহযোগই হল। নিজে জেগেছো তো খুব ভালো, কিন্তু নিজে জেগে তারপর নিমিত্ত হওয়া, ডবল লাভ হয়ে গেল। অনেক হ্যান্ডসও তো এখানকারই। এই বিশেষত্ব বেশ ভালো। বিদেশের সেবায় মেজরিটি সব ওখান থেকে বেরিয়ে ওখানকার সেবাতে নিমিত্ত হয়ে যায় । বিদেশ ভারতকে হ্যান্ডস দেয়নি। ভারত বিদেশকে দিয়েছে। ভারতও অনেক বড়। আলাদা আলাদা জোন এখানে। স্বর্গ তো ভারতকেই হতে হবে। বিদেশ তো পিকনিক করবার স্থান হয়ে যাবে। তো সবাই এভাররেডি তো ? আজ কাউকে কোথাও পাঠানো হলে এভাররেডি তো ? যখন সাহস রাখবে তখন সহায়তাও প্রাপ্ত হবে। এভাররেডি অবশ্যই থাকা উচিত। আর সময এমনই আসবে, তখন তো অর্ডার করতেই হবে। বাবার থেকে অর্ডার তো যেতেই হবে। কবে করা হবে, সেই ডেট বলবো না। ডেট বলে দিলে তখন সবাই নাম্বার ওয়ান পাশ হয়ে যাবে। এখানে ডেটেরই "হঠাৎ করে" একটাই কোশ্চেন আসবে। এভাররেডি তো তোমরা ! যদি বলা হয় এখানেই বসে যাও, তবে সন্তানাদি বাড়ি ঘর সবার কথা মনে আসবে ? সুখের উপকরণ তো ওখানে (বিদেশে) রয়েছে, কিন্তু স্বর্গ তো এখানেই তৈরী হবে। তাই সর্বদাই এভাররেডি থাকতে হবে। এটা হল ব্রাহ্মণ জীবনের বিশেষত্ব। নিজের বুদ্ধির লাইন যেন ক্লিয়ার থাকে। সেবার জন্য নিমিত্ত মাত্র স্থান বাবা দিয়েছেন। তাই নিমিত্ত হয়ে সেবাতে উপস্থিত হয়েছ। এরপর বাবার ইশারা পেলেই কোনো কিছু ভাবার প্রয়োজন নেই। ডায়রেক্শন অনুযায়ী তোমরা সেবা ভালোই করছো। সেইজন্য সব কিছুর থেকে পৃথক আর বাবার প্রিয় হলে তোমরা। আফ্রিকাও বৃদ্ধি ভালোই করেছে। ভি. আই. পি. দের সেবা ভালোই হচ্ছে। গভর্নমেন্টের সাথেও ভালো কানেকশন রয়েছে। এটাই হল বিশেষত্ব যে, সকল ক্ষেত্রের আত্মাদেরকে কোনো না কোনো সময় সমীপেই নিয়ে আসে। আজকে যারা সম্পর্কে আসবে, ভবিষ্যতে তারাই সম্বন্ধে আসবে। তাদেরকে ক্রমাগত জাগিয়ে রাখার প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। নচেৎ একটু চোখ মেলে আবার নিদ্রা মগ্ন হয়ে যায়। কুম্ভকর্ণ যে। ঘুমের নেশা যদি থাকে, তবে তুমি যা কিছুই খাওযাও খেয়ে আবার ভুলে যাবে। কুম্ভকর্ণ এই রকমই হয়। প্রথমে সম্মত হবে, এরপর আসবে, তারপর এই কাজই করবে। কিন্তু তাদেরকে জিজ্ঞাসা করো, দেখবে বলবে ভুলে গেছি। সেইজন্য বারংবার জাগিয়ে যেতে হয়। গুজরাতিরা বাবার হওয়ার, তন - মন - ধন দিয়ে নিজেদেরকে সেবায় ব্যস্ত রাখার ক্ষেত্রে ভালো নম্বর নিয়ে নিয়েছে। তারা সহজেই সহযোগী হয়ে যায়। এটাও ভাগ্য বলতে হবে। সংখ্যায় গুজরাতিরা ভালোই। বাবার হয়ে যাওয়ার লটারি কিছু কম নয়।

প্রতিটি স্থানে বাবার থেকে হারিয়ে যাওয়া কোনো না কোনো রত্ন অবশ্যই আছে। যেখানেই পা রাখবে কেউ না কেউ বেরিয়েই আসবে। নির্ভাবনায় নির্ভিক হয়ে যদি আন্তরিক ভাবে সেবাতে অগ্রসর হও, তবে পদম গুণ সহযোগও প্রাপ্ত হবে। অফিসিয়াল নিমন্ত্রণ তো তবুও এখান থেকেই আরম্ভ হয়েছে। তবুও সেবাতে জমা তো কিছু হয়েছে। সেই জমার খাতা ঠিক সময় মতো সেগুলোকে টেনে অবশ্যই নিয়ে আসবে। তো সকল নম্বর ওয়ান পুরুষার্থীরা তোমরা বাহবা অবশ্যই নেবে, তাই তো ? সম্বন্ধ বজায় রাখার ক্ষেত্রে নম্বর ওয়ান, সেবার প্রমাণ দেখানোর বিষয়ে নম্বর ওয়ান হতেই হবে। তবেই তো বাহবা নেবে, তাই না ! অভিনন্দন আর অভিনন্দন নিয়েই যেতে হবে। সকলের সাহস দেখে বাপদাদা খুশী হন। অনেক আত্মাদেরকে বাবার আশ্রয় প্রদান করবার নিমিত্ত হয়েছ তোমরা। সুন্দর সুন্দর পরিবারের পরিবার এটা। পরিবারকে বাবা "পুস্প স্তবক" বলেন। এই বিশেষত্বও বেশ ভালো। এমনিতে তো সবই হল ব্রাহ্মণদেরই স্থান। কেউ যদি নাইরোবিতে যায়, কিম্বা অন্য কোথাও, বলবে আমাদের সেন্টার, বাবার সেন্টার। আমাদের পরিবার। তাহলে কতখানি লাকি হয়ে গেলে ! বাপদাদা প্রতিটি রত্নকে দেখে খুশী হন। তা সে যে স্থানেরই হোন না কেন, বাবারই সে আর বাবা হলেন বাচ্চাদের । সেইজন্য ব্রাহ্মণ আত্মা হল অতি প্রিয়। একজন আরেকজনের থেকেও বেশী প্রিয় মনে হয়। আচ্ছা -

*এখন আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বের (পার্সোনালিটি) দ্বারা সেবা করো - নির্বাচিত অব্যক্ত মহাবাক্য*

*১ )* এমন আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব তোমাদের অর্থাৎ ব্রাহ্মণদের মতো সমগ্র কল্পে আর কারও মধ্যে নেই। কেননা তোমাদের সকলের পার্সোনালিটি যিনি নির্মাণ করেছেন, তিনি হলেন স্বয়ং পরমাত্মা। তোমাদের হল উচ্চ থেকেও উচ্চ - স্বপ্ন বা সংকল্পেও সম্পূর্ণ পিউরিটি । এই পিউরিটির সাথে সাথে চেহারায় আর আচরণে রয়েছে আধ্যাত্মিক পার্সোনালিটি। এই পার্সোনালিটিতে সদা স্থিত থাকলে সেবাও স্বতঃতই হতে থাকবে। যতই দুর্দশাগ্রস্ত, অশান্ত আত্মা হোক না কেন, তোমাদের আধ্যাত্মিক পার্সোনালিটির ঝলক, প্রসন্নতার দৃষ্টি তাদেরকে প্রসন্ন করে তুলবে। তোমাদের এক ঝলক দৃষ্টিতে তারা সব কিছুর ঊর্ধ্বে পৌঁছে যাবে। বর্তমানে সময়ের নৈকট্য অনুসারে এক ঝলকের দৃষ্টি দ্বারা সব কিছুর ঊর্ধ্বে নিয়ে যাওয়ার সেবা করবার সময়। তোমাদের একটি দৃষ্টিতে তারা প্রসন্ন চিত্ত হয়ে যাবে। মনের আশা পূরণ হয়ে যাবে।

যেমন ব্রহ্মা বাবার চেহারা আর চরিত্রের পার্সোনালিটি ছিল, তখন তোমরা আকৃষ্ট হয়েছিলে, সেই রূপ ফলো ফাদার করো।সকল প্রাপ্তির লিস্ট বুদ্ধিতে ইমার্জ রাখো, তবে চেহারা আর আচরণে প্রসন্নতার পার্সোনালিটি দেখা দেবে এবং এই পার্সোনালিটি প্রত্যেককে আকৃষ্ট করবে। আধ্যাত্মিক পার্সোনালিটির দ্বারা সেবা করবার জন্য নিজের মুড সদা চিয়ারফুল আর কেয়ারফুল রাখো। মুড যেন বদলে না যায়। কারণ যেটাই হোক না কেন, সেই কারণকে নিবারণ করো। সদা প্রসন্নতার পার্সোনালিটিতে থাকো। প্রসন্নচিত্ত থাকলে খুব সুন্দর অনুভব করবে। প্রসন্নচিত্ত আত্মার সাথে থাকা, তার সাথে কথা বলা, ওঠাবসা করা, সব কিছুই ভালো লাগে। অতএব লক্ষ্য রাখো যে, প্রশ্নচিত্ত নয়, প্রসন্নচিত্ত থাকতে হবে। তোমরা বাচ্চারা বাহ্যিক রূপে যতই সাধারণ পার্সোনালিটির হও না কেন, কিন্তু আধ্যাত্মিক পার্সোনালিটিতে তোমরা সকলের মধ্যে নম্বর ওয়ান। তোমাদের চেহারায়, আচরণে রয়েছে পিউরিটির পার্সোনালিটি। যে যত বেশী পিওর ততই তার পার্সোনালিটি কেবল দেখাই যাবে না বরং অনুভূতও হয় আর সেই পার্সোনালিটিই সেবা করে। উঁচু পার্সোনালিটির যারা কোনো কিছুর মধ্যে, কারো দিকেই তাদের চোখ যাবে না। কেননা তারা হল সর্ব প্রাপ্তিতে সম্পন্ন । তারা কখনোই নিজেদের প্রাপ্তির ভাণ্ডারে কোনো অপ্রাপ্তিরই অনুভব করবে না। তাদের মন সদা ভরপুর হওয়ার কারণে তারা সন্তুষ্ট থাকে। এরূপ সন্তুষ্ট আত্মারাই অন্যদেরকে সন্তুষ্ট করতে সমর্থ ।

যত বেশি পবিত্রতা, ততই ব্রাহ্মণ জীবনের পার্সোনালিটি রয়েছে । পবিত্রতা কম তো পার্সোনালিটিও কম। এই পিউরিটির পার্সোনালিটি সেবাতে সহজেই সফলতা এনে দেবে। কিন্তু যদি একটি বিকারেরও অংশমাত্রও যদি থাকে, তবে বিকারের অন্য সাথীরাও তার সাথ অবশ্যই দেবে। যেমন পবিত্রতার সাথে সুখ - শান্তির গভীর সম্বন্ধ রয়েছে, তেমনই অপবিত্রতারও পাঁচ বিকারের সাথে গভীর সম্বন্ধ রয়েছে। সেইজন্য কোনো প্রকার বিকারের অংশমাত্রও যেন না থাকে, তবেই বলা হবে পিউরিটির পার্সোনালিটির দ্বারা সেবারত।

বর্তমানে দুই প্রকারের পার্সোনালিটির কথা বলা হয় - এক হল শারীরিক পার্সোনালিটি আর দ্বিতীয় হল পোজিশনের পার্সোনালিটি। ব্রাহ্মণ জীবনে যে ব্রাহ্মণ আত্মার মধ্যে সন্তুষ্টতার মহানতা রয়েছে - তাদের বৈশিষ্ট্যে, তাদের চেহারায়ও সন্তুষ্টতা আর স্থিতির পোজিশনের পার্সোনালিটি দেখতে পাওয়া যায়। যাদের আচরণে, চেহারায়, চোখেমুখে সন্তুষ্টতার পার্সোনালিটি দেখতে পাওয়া যাবে, তারাই তপস্বী। তাদের চিত্ত সদা প্রসন্ন থাকবে, হৃদয় আর মন সদা আরামে, সুখের স্থিতিতে থাকবে। অশান্ত হবে না কখনো। প্রতিটি বোল আর কর্মে, দৃষ্টি আর বৃত্তির দ্বারা আধ্যাত্মিক পার্সোনালিটি আর রয্যালটির অনুভব করাবে।

বিশেষ আত্মাদেরকে, মহান আত্মাদেরকে দেশের বা বিশ্বের পার্সোনালিটি বলা হয়। পবিত্রতার পার্সোনালিটি অর্থাৎ সকল কর্মে মহানতা আর বিশেষত্ব। আধ্যাত্মিক পার্সোনালিটি সম্পন্ন আত্মারা নিজের এনার্জি, সময়, সংকল্প নষ্ট করে ফেলে না। সফল করে থাকে। এরূপ পার্সোনালিটি সম্পন্নরা কখনো ছোট ছোট বিষয়ে নিজের মন - বুদ্ধিকে বিজি রাখে না। আধ্যাত্মিক পার্সোনালিটি সম্পন্ন বিশেষ আত্মাদের দৃষ্টি, বৃত্তি, বোল.... সবেতেই অলৌকিক হবে। সাধারণ হবে না। সাধারণ কার্য করার সময়েও শক্তিশালী, কর্মযোগী স্থিতির অনুভব করাবে । যেমন ব্রহ্মা বাবাকে তোমরা দেখেছো - যদি বাচ্চাদের সাথে সব্জিও কাটতেন, খেলাধূলাও করতেন, কিন্তু ওনার পার্সোনালিটি সবাইকে সদা আকৃষ্ট করতো। অতএব ফলো ফাদার।

ব্রাহ্মণ জীবনের পার্সোনালিটি হল 'প্রসন্নতা'। এই পার্সোনালিটিকে অনুভবে নিয়ে এসো এবং অন্যদেরকেও অনুভাবী বানাও। সদা শুভ চিন্তনে সম্পন্ন থাকো, শুভ চিন্তক হয়ে সকলকে স্নেহী, সহযোগী বানাও। শুভ চিন্তক আত্মাই সদা প্রসন্নতার পার্সোনালিটিতে থেকে বিশ্বের সামনে বিশেষ পার্সোনালিটি সম্পন্ন হতে পারবে। আজকাল পার্সোনালিটি সম্পন্ন আত্মারা শুধুমাত্র বিখ্যাত হয় অর্থাৎ খুব নামডাক হয়। কিন্তু তোমরা, আধ্যাত্মিক পার্সোনালিটি সম্পন্নরা শুধুমাত্র বিখ্যাত হও না, বিখ্যাত হওয়ার সাথে সাথে পূজনীয় যোগ্য হয়ে ওঠো। কত বড় বড় ধর্ম ক্ষেত্রে, রাজ্য ক্ষেত্রে, সায়েন্সের ক্ষেত্রে পার্সোনালিটি সম্পন্নরা প্রসিদ্ধ হয়েছে। কিন্তু তোমরা, আধ্যাত্মিক পার্সোনালিটির অধিকারীদের তুল্য ৬৩ জন্ম পূজনীয় হতে পারেনি।

বরদান:-
কম্বাইন্ড স্বরূপের স্মৃতি দ্বারা শ্রেষ্ঠ স্থিতির সিটে সেট থাকা সদা সম্পন্ন ভব

সঙ্গমযুগে শিব শক্তির কম্বাইন্ড স্মৃতিতে থাকলে, যত অসম্ভব কার্যই হোক না কেন সম্ভব হয়ে যাবে। এটাই হল সর্ব শ্রেষ্ঠ স্বরূপ।এই স্বরূপে স্থিত থাকলে সম্পন্ন ভব-র বরদান প্রাপ্ত হয়ে যায়। বাপদাদা সকল বাচ্চাদেরকে সদা সুখদায়ী স্থিতির সীট প্রদান করেন। সর্বদা এই সীটে সেট যদি থাকো, তবে অতীন্দ্রিয় সুখের দোলনায় দুলতে থাকবে। কেবল বিস্মৃতির সংস্কার সমাপ্ত করো।

স্লোগান:-
পাওয়ারফুল বৃত্তি (মনোভাব) দ্বারা আত্মাদেরকে যোগ্য আর যোগী বানাও।