27.03.2020 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


বাবা এখন তোমাদের পালন করছেন, শিক্ষা প্রদান করছেন, ঘরে বসেই তোমরা পরামর্শ পাচ্ছো, সুতরাং প্রতিটি পদক্ষেপে পরামর্শ গ্রহণ করো, তবেই উচ্চ পদ প্রাপ্তি হবে"

প্রশ্নঃ -
সাজা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কোন্ পুরুষার্থ দীর্ঘ সময় ধরে করা উচিত ?

উত্তরঃ -
নষ্টমোহ হওয়ার পুরুষার্থ করা । কারো প্রতি যেন আসক্তি না থাকে। নিজের অন্তর্মনকে জিজ্ঞাসা করতে হবে কারো প্রতি আমার মোহ নেই তো ? কোনও পুরানো সম্বন্ধ যেন অন্তিমে স্মরণ না আসে। যোগবল দ্বারা সব হিসেব নিকেশ মিটিয়ে ফেলতে হবে, তবেই সাজা ছাড়া উচ্চ পদ প্রাপ্ত হবে।

ওম্ শান্তি ।
এখন তোমরা কার সামনে বসে আছ ? বাপদাদার সামনে। যেমন বাবা বলা হয় তেমনি দাদাও বলতে হয়। বাবা এই দাদার দ্বারাই তোমাদের সামনে বসে আছেন। তোমরা বাইরে থাকলে সেখানেও বাবাকে স্মরণ করতে হয় । চিঠি লিখতে হয় । এখানে তোমরা সামনে আছ। কথাবার্তা বলো কার সাথে ? বাপদাদার সাথে। ইনি হলেন উচ্চ থেকে উচ্চতর অথরিটি। ব্রহ্মা হলেন সাকার আর শিব নিরাকার। এখন তোমরা বুঝেছ উচ্চ থেকে উচ্চতর অথরিটি, বাবার কাছ থেকে কিভাবে প্রাপ্ত হয় ! অসীম জগতের পিতা যাঁকে পতিত-পাবন বলে আহ্বান করা হয়, তোমরা এখন প্র্যাকটিক্যালি তাঁর সামনে বসে আছ। বাবা বাচ্চাদের পালন করছেন, শিক্ষা প্রদান করছেন। ঘরে বসেই বাচ্চারা বাবার পরামর্শ পেয়ে থাকে যে এইভাবে-এইভাবে চল। তোমরা বুঝেছ বাবার শ্রীমতে চললে শ্রেষ্ঠ থেকে শ্রেষ্ঠ হতে পারব । বাচ্চারা জানে আমরা উচ্চ থেকে উচ্চতর বাবার মত দ্বারা উচ্চ থেকে উচ্চতর পদ প্রাপ্ত করে থাকি । মনুষ্য সৃষ্টিতে উচ্চ থেকে উচ্চতর এই লক্ষ্মী-নারায়ণের সিংহাসন যা অতীত হয়ে গেছে। মানুষ গিয়ে এই উচ্চ স্থানাধিকারীদের নমস্কার করে । প্রধান বিষয়ই হলো পবিত্রতার। মানুষ তো সেই মানুষই আছে । কিন্তু কোথায় সেই বিশ্বের মালিক, আর কোথায় এখনকার মানুষ! তোমাদের বুদ্ধিতে আছে ভারত প্রকৃতপক্ষে ৫হাজার বছর পূর্বে এমনই ছিল, আর আমরাই বিশ্বের মালিক ছিলাম। আর কারো বুদ্ধিতে এটা নেই। ইনিও (ব্রহ্মা বাবা) জানতেন না, সম্পূর্ণ ঘোর অন্ধকারে ছিলেন। এখন বাবা এসে বলেছেন ব্রহ্মা থেকে বিষ্ণু, আর বিষ্ণু থেকে ব্রহ্মা কিভাবে হয় ? এ অতিব গুপ্ত রমণীয় বিষয় যা আর কেউ বুঝবে না । বাবা ছাড়া আর কেউ এই নলেজ দিতে পারে না। নিরাকার বাবা এসে পড়ান। কৃষ্ণ ভগবানুবাচ নয়। বাবা বলেন আমি তোমাদের শিক্ষা প্রদান করে সুখী করে তুলি। তারপর আমি নির্বাণ ধামে চলে যাই। এখন তোমরা বাচ্চারা সতোপ্রধান হয়ে উঠছ, এতে কোনো খরচ নেই। শুধুমাত্র নিজেকে আত্মা মনে করে বাবাকে স্মরণ করতে হবে। বিনা কানাকড়ি খরচে ২১ জন্মের জন্য তোমরা বিশ্বের মালিক হয়ে ওঠো। তোমাদের মধ্যেও কেউ-কেউ সামান্য পয়সা পাঠিয়ে দিয়ে থাকে ,নিজের ভবিষ্যত গড়ার লক্ষ্যে। কল্প প্রথমে যে যতটুকু দিয়েছিল ততটুকুই দেবে । না বেশি, না কম দেবে। বুদ্ধিতে এই জ্ঞান আছে সেইজন্য চিন্তা করার কোনও প্রশ্নই নেই। কোনও চিন্তা ছাড়াই আমরা আমাদের গুপ্ত রাজধানী স্থাপন করে চলেছি। এটাই বুদ্ধিতে সিমরন করতে হবে। বাচ্চারা তোমাদের অপার খুশিতে থাকা উচিত আর নষ্টমোহও হতে হবে। এখানে নষ্টমোহ হলে সত্যযুগেও মোহজীত রাজা-রাণী হতে পারবে। তোমরা জান এই পুরানো দুনিয়া বিনাশ হবে, এখন ফিরে যেতে হবে তবে এর প্রতি আসক্তি কেন রাখব। কেউ রোগগ্রস্ত হলে, ডাক্তার যখন আশা ছেড়ে দেয় তখন তার প্রতি আসক্তি আর থাকে না। জানে আত্মা এক শরীর ত্যাগ করে অন্য শরীর ধারণ করবে। আত্মা তো অবিনাশী তাইনা। আত্মা চলে গেছে, শরীর শেষ হয়ে গেছে তারপর তাকে স্মরণ করে কি লাভ হবে! এখন বাবা বলছেন তোমরা নষ্টমোহ হও। নিজের অন্তর্মনকে জিজ্ঞাসা করতে হবে আমার কারো প্রতি মোহ নেই তো ? তা না হলে অন্তিমে তার কথাই স্মরণে আসবে। নষ্টমোহা হলে এই পদ পাবে । স্বর্গে তো সবাই যাবে এ এমন কিছু বড় বিষয় নয় । বড় বিষয় হলো সাজা না খেয়ে, উচ্চ পদ প্রাপ্ত করা । যোগবল দ্বারা হিসেব -নিকেশ মিটিয়ে দিলে সাজা খেতে হবে না। পুরনো সম্বন্ধও যেন স্মরণে না আসে। এখন আমাদের ব্রাহ্মণদের সাথে সম্পর্ক তারপর হবে দেবতাদের সাথে সম্পর্ক। এখনকার সম্পর্ক সবচেয়ে উচ্চ।

এখন তোমরা জ্ঞানের সাগর বাবার সন্তান হয়েছ । সম্পূর্ণ নলেজ বুদ্ধিতে আছে। প্রথমে তো জানতেই না এই সৃষ্টি চক্র কিভাবে ঘোরে ? এখন বাবা বুঝিয়েছেন। বাবার কাছ থেকে অবিনাশী উত্তরাধিকার প্রাপ্তি হয় তবেই তো তাঁর প্রতি ভালোবাসা থাকে । বাবা দ্বারা স্বর্গের বাদশাহী পাওয়া যায়। এনার এই রথ নিশ্চিত । ভারতেই ভাগীরথ গায়ন আছে। বাবা আসেনও ভারতেই। বাচ্চারা তোমাদের বুদ্ধিতে এখন ৮৪ জন্মের সিঁড়ির জ্ঞান আছে। তোমরা জেনেছ এই ৮৪ চক্র আমাদের ঘুরে আসতেই হবে। ৮৪ চক্র থেকে মুক্তি পেতে পারনা। তোমরা জান এই সিঁড়ি অবতরণ করতে অনেক সময় লাগে, চড়তে ( উত্তরণ, উঠতে) শুধুমাত্র এই অন্তিম জন্ম লাগে সেইজন্যই বলা হয় তোমরা ত্রিলোকীনাথ, ত্রিকালদর্শী হয়ে ওঠো।

প্রথমে কি তোমরা জানতে যে আমরা ত্রিলোকীনাথ হতে যাচ্ছি ? এখন বাবাকে পেয়েছ, তিনি শিক্ষা প্রদান করছেন তবেই তোমরা বুঝতে পেরেছ। বাবার কাছে কেউ এলে বাবা জিজ্ঞাসা করেন পূর্বে কখনও এই পোশাকে ( শরীর রূপী বস্ত্র) এই বাড়িতে মিলিত হয়েছে ? তোমরা বল বাবা, কল্পে-কল্পে মিলিত হয়েছি। সুতরাং বোঝা যায় ব্রহ্মাকুমারী সঠিক বুঝিয়েছে । এখন তোমরা বাচ্চারা স্বর্গের ঝাড় সামনে দেখতে পাচ্ছ । কাছেই তাইনা। মানুষ বাবাকে বলে থাকে নাম-রূপ হীন, বাচ্চারা তবে কোথা থেকে আসবে ! ওরাও তবে নাম -রূপ থেকে আলাদা হয়ে যাবে! শব্দ যা বলে সম্পূর্ণ ভুল। যারা কল্প প্রথমে বুঝেছিল, তাদের বুদ্ধিতেই বসবে । প্রদর্শনীতে দেখো কত রকমের মানুষ আসে । কেউ তো কিছু শুনেই লিখে দেয় এসবই কল্পনা। তখন বোঝা যায় এ আমাদের কুলের (ঈশ্বরীয়) নয়। অনেক রকমের মানুষ আছে । তোমাদের বুদ্ধিতে সম্পূর্ণ ঝাড়, ড্রামা, ৮৪ চক্র সম্পূর্ণ ঢুকে গেছে। এখন শুধু পুরুষার্থ করতে হবে। সেটাও ড্রামানুসারে হয় এবং পূর্ব নির্ধারিত। এমনটা নয়, ড্রামায় পুরুষার্থ থাকলে হবে, এটা বলা ভুল। ড্রামাকে যে সম্পূর্ণ বোঝে না তাকে আস্তিক বলা হয়। বাবার প্রতি তার ভালোবাসা থাকে না। ড্রামার রহস্যকে উল্টো বোঝার কারণে অধঃপতন হয়, বোঝা যায় ভাগ্যে নেই। অনেক রকম বিঘ্ন আসবে। সেইসব বিঘ্নকে পরোয়া করা উচিত নয়। বাবা বলেন, ভালো কথা যে শোনায় সেটাই শোন । বাবাকে স্মরণ করলে অতিব খুশি থাকবে। তোমাদের বুদ্ধিতে আছে এখন ৮৪ চক্র সম্পূর্ণ হতে চলেছে, ফিরে যেতে হবে নিজের ঘরে। নিজের সাথে এমনই সব কথা বলা উচিত। পতিত অবস্থায় তো তোমরা যেতে পারবে না। প্রথমে নিশ্চয়ই সাজন থাকবে, পিছনে থাকবে বরযাত্রী। গাওয়াও হয়ে থাকে - "ভোলানাথের বরযাত্রী" । সবাইকে নম্বরানুসারে যেতে হবে, এতো আত্মাদের ঝাঁক নম্বরানুসারে কিভাবে যাবে ? মানুষ পৃথিবীতে কত জায়গা অধিগ্রহণ করে থাকে, কত ফার্নিচার, সম্পত্তি ইত্যাদি চায়। আত্মা তো বিন্দু । আত্মার কি চাই ? কিছুই না । আত্মা কত ছোট জায়গা নেয়। এই সাকারী বৃক্ষ আর নিরাকারী বৃক্ষের মধ্যে কত পার্থক্য। ওটা হলো বিন্দুদের বৃক্ষ । এইসব বিষয় বাবা সবই বুদ্ধিতে ঢুকিয়ে দেন । তোমরা ছাড়া এই বিষয় দুনিয়াতে আর কেউ শুনবে না। বাবা এখন নিজের ঘর আর রাজধানী স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন । তোমরা বাচ্চারা রচয়িতাকে জেনে সৃষ্টি চক্রের আদি-মধ্য-অন্তকে জানতে পার।তোমরা হলে ত্রিকালদর্শী, আস্তিক। দুনিয়াতে কেউ আস্তিক নেই । ওটা হলো সীমিত জগতের পড়াশোনা, এ হলো অসীম জগতের ঈশ্বরীয় পড়াশোনা। ওখানে অনেক টীচার্স পড়ান, এখানে একজন টিচারই পড়ান, যা অতি চমকপ্রদ। ইনি বাবা, টিচার এবং গুরুও। এই টিচার সম্পূর্ণ বিশ্বের । কিন্তু সবাই তো পড়বে না। বাবাকে সবাই জেনে গেলে অধিকাংশ দৌড়াবে, বাপদাদাকে দেখার জন্য । গ্রেট গ্রেট গ্র্যান্ড ফাদার এডমে বাবা এসেছেন, সুতরাং দৌড়ে আসবে । বাবার প্রত্যক্ষতা তখনই হয় যখন লড়াই শুরু হয়, তারপর কেউ আসতেও পারেনা। তোমরা জান অনেক ধর্মের বিনাশ হবে। সর্বপ্রথম এক ভারতই ছিল আর কোন খন্ড ছিলনা । তোমাদের বুদ্ধিতে এখন ভক্তি মার্গের বিষয়ও আছে। বুদ্ধি তো ভুলে যেতে পারে না। কিন্তু স্মরণ থাকলেও জ্ঞান আছে যে, ভক্তির পার্ট সম্পূর্ণ হয়েছে, এখন আমাদের ফিরে যেতে হবে। এই দুনিয়ায় আর থাকব না। ঘরে যাওয়ার জন্য তো খুশি হওয়া উচিত তাইনা। বাচ্চারা, তোমাদের বোঝানো হয়েছে যে, এখন তোমাদের বাণপ্রস্থ অবস্থা। তোমরা দুটো পয়সা এই রাজধানী স্থাপন করার কাজে লাগাচ্ছ, হুবহু কল্প প্রথমের দৃষ্টান্ত অনুযায়ী। তোমরাও হুবহু কল্প প্রথমে যারা ছিলে । বাবাকেও তোমরা কল্প প্রথমের বলে থাক। আমরা কল্পে-কল্পে বাবার কাছে পড়াশোনা করি । শ্রীমতে চলে শ্রেষ্ঠ হতে হবে। এসব বিষয় আর কারো বুদ্ধিতে ধারণ হবে না। তোমাদের খুশি এটাই যে আমরা শ্রীমত অনুসারে নিজেদের রাজধানী স্থাপন করছি। বাবা শুধু বলেন পবিত্র হও । তোমরা পবিত্র হলে সম্পূর্ণ দুনিয়া পবিত্র হবে। সবাই ফিরে যাবে । বাকি বিষয় নিয়ে আমরা কেন ভাবব । কিভাবে সাজা খাবে, কি হবে, এতে আমাদের কি যায় আসে । আমাদের শুধু নিজের ব্যাপারে ভাবতে হবে। অন্যান্য ধর্মের ব্যাপারে আমরা কেন যাব । আমরা আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্মের । বাস্তবে এর নাম ভারত কিন্তু হিন্দুস্তান নাম রাখা হয়েছে। হিন্দু কোনও ধর্ম নয়। আমরা লিখে থাকি আমরা দেবতা ধর্মের তবুও ওরা হিন্দু লেখে কেননা ওরা জানেই না দেবী-দেবতা ধর্ম কবে ছিল । কেউ জানে না। এখন অসংখ্য বি.কে সুতরাং এটাতো একটা পরিবার হয়ে গেছে তাইনা ! ঘর হয়ে গেছে না ! ব্রহ্মা তো হলেন প্রজাপিতা, সবার গ্রেট - গ্রেট গ্র্যান্ড ফাদার। সর্বপ্রথম তোমরা ব্রাহ্মণ হও তারপর বর্ণ তে আসো ।

এটা তোমাদের কলেজ অথবা ইউনিভার্সিটি এবং হাসপাতাল । গাওয়াও হয়ে থাকে - "জ্ঞান অঞ্জন দিয়েছেন সদ্গুরু, হয় অজ্ঞান অন্ধকার বিনাশ..." । যোগবল দ্বারা তোমরা এভারহেল্দী, এভারওয়েল্দী ( স্বাস্থ্য, সম্পদ) হও। নেচার - কিয়োর করায় না ! এখন তোমাদের আত্মা কিয়োর হলে শরীরও কিয়োর হয়ে যাবে। এ হলো স্পিরিচুয়াল নেচার-কিয়োর। হেল্থ, ওয়েল্থ, হ্যাপিনেস ২১ জন্মের জন্য প্রাপ্তি হবে। উপরে নাম লেখো রূহানী নেচার- কিয়োর। মানুষকে পবিত্র করে তোলার যুক্তি লিখলে কোনও আপত্তি থাকতে পারে না।। আত্মা পতিত হয়ে গেছে তবেই তো আহ্বান করে থাকে তাইনা! আত্মা প্রথমে সতোপ্রধান পবিত্র ছিল তারপর অপবিত্র হয়ে গেছে আবার পবিত্র কিভাবে হবে ?

ভগবানুবাচ "মন্মনাভব", আমাকে স্মরণ করলে আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি তোমরা পবিত্র হয়ে যাবে। বাবা কত যুক্তি বলে দেন এমন-এমন বোর্ড টাঙাও কিন্তু কেউ-ই এমন বোর্ড টাঙায় নি। চিত্রই মুখ্য হিসেবে ব্যবহার করেছে। ভিতরে যে কেউ আসুক না কেন তাকে বল তুমি আত্মা পরমধাম নিবাসী। এখানে এই শরীর ধারণ করেছ নিজ ভূমিকা পালন করার জন্য। এই শরীর তো বিনাশী তাইনা। বাবাকে স্মরণ করলে বিকর্ম বিনাশ হবে। এখন তোমরা আত্মা অপবিত্র, পবিত্র হলে ঘরে যেতে পারবে। বোঝান তো অতি সহজ। যারা কল্প প্রথমে ছিল তারাই এসে ফুল তৈরি হবে। এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তোমরা তো সুন্দর কথা লেখ । ওদের গুরুরাও মন্ত্র দেয় তাইনা । বাবাও "মন্মনাভব" মন্ত্র দেন, তারপর রচয়িতা আর রচনার রহস্য বুঝিয়ে বলেন। গৃহস্থ ব্যবহারে থেকেও শুধুমাত্র স্মরণ করো, অন্যকেও বাবার পরিচয় দাও, লাইট হাউস হয়ে ওঠো।

তোমরা বাচ্চাদের দেহী-অভিমানী হওয়ার জন্য গুপ্ত পরিশ্রম করতে হবে। যেমন বাবা জানেন আমি আত্মাদের পড়াচ্ছি, তেমনই বাচ্চারা তোমরাও আত্ম-অভিমানী হওয়ার পুরুষার্থ করো । মুখে শিব-শিব বলার প্রয়োজন নেই। নিজেকে আত্মা মনে করে বাবাকে স্মরণ করতে হবে কেননা মাথার উপর অনেক পাপের বোঝ সঞ্চিত হয়ে আছে, স্মরণ দ্বারাই পবিত্র হতে পারবে। কল্প প্রথমে যে - যে যেমন অবিনাশী উত্তরাধিকার প্রাপ্তি করেছিল, তারাই নিজ নিজ সময়ানুসারে নেবে । পরিবর্তন কিছুই হবে না। প্রধান বিষয়ই হলো দেহী-অভিমানী হয়ে বাবাকে স্মরণ করা তবেই মায়ার থাপ্পড় খেতে হবে না। দেহ -অভিমান থাকলে কিছু না কিছু বিকর্ম হবেই তারপর শতগুণ পাপ হবে। সিঁড়ি দিয়ে নামতে ৮৪ জন্ম অতিবাহিত হয়ে যায়। তারপর উত্তোরণের কলা একটা জন্মেই হয়। বাবা এসেছেন সুতরাং লিফ্টও আবিষ্কার হয়েছে। প্রথমে তো কোমরে হাত রেখে সিঁড়ি চড়তে হতো । এখন সহজ লিফ্ট হয়ে গেছে। এটাও লিফ্ট যাতে চড়ে এক সেকেন্ডে মুক্তি আর জীবনমুক্তি পাওয়া যায়। জীবন বন্ধনে আসতে ৫ হাজার বছর, ৮৪ জন্ম লেগে যায়। জীবনমুক্তিতে যেতে একটা জন্ম প্রয়োজন। কত সহজ । তোমাদের মধ্যেও যে পরে আসবে সেও দ্রুত উপরে উঠে যাবে। জানে যে হারিয়ে যাওয়া জিনিস বাবা দিতে এসেছেন । ওঁনার মতে অবশ্যই চলব । আচ্ছা ।

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) কোনও চিন্তা ছাড়াই নিজেদের গুপ্ত রাজধানী শ্রীমত অনুসারে স্থাপন করতে হবে। বিঘ্নকে পরোয়া করা উচিত নয়। বুদ্ধিতে যেন থাকে কল্প প্রথমে যারা সহযোগ দিয়েছিল, তারাই আবারও অবশ্যই সাহায্য করবে, চিন্তার কোনো কারণ নেই।

২ ) সবসময় খুশিতে থাকা উচিত এই ভেবে যে, এখন আমাদের বাণপ্রস্থ অবস্থা, আমরা ঘরে ফিরতে চলেছি । আত্ম-অভিমানী হওয়ার জন্য অতিব গুপ্ত পুরুষার্থ করতে হবে। কোনও বিকর্ম করা উচিত নয়।

বরদান:-
স্নেহ আর সহযোগের বিধি দ্বারা যজ্ঞে সহযোগী হতে সমর্থ সহজযোগী আত্মা ভব

বাপদাদা বাচ্চাদের স্নেহই পছন্দ করেন যে যজ্ঞে স্নেহী আর সহযোগী হয় সে সহজেই সহজযোগী হতে পারে । সহযোগ করাই সহজযোগ । স্নেহশীল বাবার অন্তরের স্নেহ আর সহযোগই প্রিয় । ছোট অন্তরের যারা তারা ছোট সৌদা ( ব্যবসা, বাণিজ্য ) করেই খুশি হয় আর বড়ো অন্তরের যারা, তারা আনলিমিটেড (বেহদ, অনন্ত) সওদা করে । ভ্যালু হয় স্নেহের, জিনিসের নয় সেইজন্যই সুদামার খুঁদকুড়োর দৃষ্টান্ত রয়েছে । যে যতই দিক না কেন, স্নেহ না থাকলে কিছুই জমা হয়না । স্নেহ দ্বারা সামান্য সঞ্চয় করলেও তা পদ্মগুণ হয়ে যায়।

স্লোগান:-
সময় আর শক্তি যেন ব্যর্থ না যায়, সেইজন্য প্রথমে ভাবো তারপর কার্যে পরিণত করো ।