30.07.2020 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


মিষ্টি বাচ্চারা - তোমাদেরকে আধ্যাত্মিক পথ-প্রদর্শক হয়ে সকল ধর্মাবলম্বীদেরকে শান্তিধাম এবং সুখধামের রাস্তা বলতে হবে, তোমরাই হলে সত্যিকারের পান্ডা

প্রশ্নঃ -
কোন্ বাচ্চারা বাবাকে স্মরণ করে সম্পূর্ণ শক্তি প্রাপ্ত করতে পারে ?

উত্তরঃ -
যারা স্মরণ করার সাথে সাথে বাবার কাছে সম্পূর্ণ সৎ থাকে, কিছুই লুকায় না, সৎ বাবার সাথে একদম সৎ থাকে, কোনো পাপ করে না, তারাই স্মরণের দ্বারা শক্তি পেয়ে থাকে। কোনো কোনো বাচ্চা তো ভুল করতেই থাকে, আর তারপর বলে - ক্ষমা করো। কিন্তু বাবা বলেন - এখানে ক্ষমা করা হয় না। প্রত্যেক কর্মের জন্যই হিসাব তৈরি হয়ে যায়।

গীতঃ-
আমাদের তীর্থ আলাদা

ওম্ শান্তি ।
বাচ্চারা গানটা শুনল। বাচ্চাদের মধ্যে কতটা জ্ঞানের পয়েন্টস আছে সেটা দেখার জন্য এইরকম গান চালিয়ে এক-একজন করে তার অর্থ জিজ্ঞেস করতে হবে। কারণ এইসব গান গুলোকেও কখনো কখনো সংশোধন করা হয়। বাবা বুঝিয়েছেন, কোনো কোনো গান এতো ভালো যে যখনই কোনো দুশ্চিন্তা আসবে, তখন ওইসব গানগুলো মনে খুশি নিয়ে আসতে সাহায্য করবে। এগুলো সত্যিই খুব কাজের জিনিস। গান শোনার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিতে এসে যাবে। তোমরা বাচ্চারা জানো যে আমরা বরাবর এই ধরণীর ভাগ্যবান নক্ষত্র। আমাদের এই তীর্থ ভক্তিমার্গের থেকে একেবারে আলাদা। তোমরা হলে পাণ্ডব সেনা। ওইসব তীর্থে তো পান্ডা রূপী সেনা থাকে। প্রত্যেক গ্রুপের একজন করে পান্ডা থাকে যে পথ দেখিয়ে নিয়ে যায়। ওদের কাছে পুঁটলি থাকে। আগে কোন্ কুলের জিজ্ঞেস করবে। প্রত্যেকে নিজের কুলের মানুষদেরকেই নিয়ে যায়। এইরকম অনেক পান্ডা থাকে। তোমরাও হলে আধ্যাত্মিক পান্ডা। তোমাদের নামই হলো পাণ্ডব সেনা। পাণ্ডবদের কোনো রাজধানী থাকে না। আসলে পাণ্ডাদেরকেই পাণ্ডব বলা হয়। বাবাও হলেন অসীম জগতের পান্ডা। গাইডকেই পান্ডা বলা হয়। পান্ডারা তীর্থ করতে নিয়ে যায়। পূজারীরা জানে যে এইসব তীর্থযাত্রীদেরকে এই পান্ডা নিয়ে এসেছে। জ্ঞানমার্গেও তোমরা পান্ডা হও। তবে এখানে কোথাও নিয়ে যেতে হয় না। ঘরে বসে বসেই তোমরা রাস্তা বলে দাও, এবং যাকে রাস্তা বলে দাও, সেও তারপরে পান্ডা হয়ে যায়। এইভাবে একে অপরকে রাস্তা দেখাতে হবে, রাস্তা অর্থাৎ 'মন্মনা ভব'। তোমাদের মধ্যেও এমন অনেকেই আছে যারা এইরকম তীর্থযাত্রা করেছ। বুদ্ধিতে চলে আসে যে কিভাবে বদ্রীনাথ, অমরনাথ যাওয়া হয়। এগুলো তো ওই পান্ডারাও জানে। তোমরা হলে আধ্যাত্মিক পান্ডা। কখনোই ভুলে যাবে না যে আমরা এখন পুরুষোত্তম সঙ্গমযুগে আছি। বাচ্চারা, তোমাদের বুদ্ধিতে তো কেবল এটাই আছে যে আমরা হলাম মুক্তি-জীবনমুক্তির পান্ডা। এমন নয় যে স্বর্গের জন্য আলাদা পান্ডা, মুক্তিধামের জন্য আলাদা পান্ডা। তোমরা নিশ্চিত যে আমরা মুক্তিধামে গিয়ে আবার নুতন দুনিয়ায় আসব। পুরুষার্থের ক্রম অনুসারে তোমরা সকলেই পান্ডা। অনেক রকমের পান্ডা হয়। তোমরা হলে ফার্স্ট ক্লাস পান্ডা। সবাইকে পবিত্রতার রাস্তা দেখাও। সবাইকে পবিত্র থাকতে হবে। দৃষ্টিও পরিবর্তন হয়ে যায়। তোমরা প্রতিজ্ঞা করেছ যে কেবল একজনকে ছাড়া আর কাউকে স্মরণ করব না। বাবা, আমি কেবল তোমাকেই স্মরণ করব। তোমার হয়ে গেলেই আমাদের জীবনতরী পার হয়ে যাবে। তারপর ভবিষ্যতে তো সুখ আর সুখ। বাবা আমাদেরকে সুখদায়ী সম্বন্ধে নিয়ে যান। এখানে তো কেবল দুঃখ আর দুঃখ। যেটুকু সুখ আছে, সেটাও কাক বিষ্ঠার মতো। তোমরা নুতন দুনিয়ার জন্যই পড়াশুনা করছ। তোমরা জানো যে আমরা মুক্তিধামে গিয়ে আবার এখানে আসব। ঘরে তো যেতেই হবে। এটা হলো যোগবলের যাত্রা। শান্তিধামকেও স্মরণ করতে হয়, বাবাকেও স্মরণ করতে হয়। বাবার সাথে সৎ থাকতে হবে। বাবা বলছেন - এমন নয় যে আমি তোমাদের সবার অন্তরের কথা জানি। না, তোমরা যেমন কর্ম করছ, সেটা দেখেই বাবা বোঝাচ্ছেন, পুরুষার্থ করাচ্ছেন। তোমরা যদি কোনো শ্রীমতের অবজ্ঞা করো কিংবা কোনো পাপ করো, তাহলে এখানে জিজ্ঞেস করা হয় যে কোনো পাপ করোনি তো ? বাবা বুঝিয়েছেন - চোখ খুব ধোঁকা দেয়। বাবাকে বলে দিতে হবে যে আজকে চোখ আমাকে খুব ধোঁকা দিয়েছে। এখানে তো মনে ভয় থাকে, কিন্তু বাড়িতে গেলেই আমার বুদ্ধি চঞ্চল হয়ে যায়। বাবা, এটা আমার দ্বারা খুব বড় ভুল হয়ে গেছে, ক্ষমা করে দাও। বাবা বলছেন - এক্ষেত্রে ক্ষমা করার কোনো ব্যাপার নেই। দুনিয়ার মানুষ এইরকম প্রার্থনা করে। কেউ কাউকে থাপ্পড় মারার পর ক্ষমা চেয়ে নিলেই কাজ ফুরিয়ে যায়। এইভাবে ক্ষমা চাওয়ার বেলায় কেউ দেরি করে না। খারাপ কাজ করতেই থাকে, আর করা হয়ে গেলে বলে দেয় - আই অ্যাম্ সরী। এইভাবে তো চলতে দেওয়া যায় না। এগুলো সব জমা হয়ে যায়। যেকোনো উল্টোপাল্টা কাজ করলেই সেটা জমা হয়ে যায়। অন্য কোনো জন্মে তার খারাপ কিংবা ভালো ফল অবশ্যই পাওয়া যায়। ক্ষমা করার কোনো ব্যাপার নেই। যে যেমন কর্ম করবে, সেইরকম ফল পাবে। বাবা বারবার বোঝাচ্ছেন যে কাম বিকার হলো এক নম্বর শত্রু। এটাই তোমাদেরকে আদি-মধ্য-অন্ত দুঃখ দিয়ে এসেছে। বাবাকে বলা হয় পতিত-পাবন। বিকারগ্রস্ত ব্যক্তিকেই পতিত বলা হয়। বাবা এখানে বোঝাচ্ছেন, কিন্তু এখান থেকে বাইরে যাওয়ার পরে যদি এইসব নিয়ম পালন করতে না পারো, তাহলে উঁচু পদ পাবে না। বাবা তো অনেকের খবর শুনতে পান। এখানে 'খুব ভালো', 'খুব ভালো' বলবে কিন্তু বাইরে গেলেই আর ধারণ করতে পারে না। সত্যযুগে কোনো বিকারের ব্যাপার থাকবেই না। এখন ভারতের এইরকম অবস্থা হয়ে গেছে। ওখানে বড় বড় প্রাসাদে থাকবে। অসীম সুখ সেখানে। বাবা বাচ্চাদেরকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞেস করেন। বাবাকে সব খবর জানাতে হবে। অনেকে মিথ্যে কথাও বলে। ভেবে দেখতে হবে যে আমি কতটা মিথ্যে বলেছি ? এনাকে কখনোই মিথ্যে কথা বলা উচিত নয়। বাবা তো আমাদেরকে সত্য বানাচ্ছেন। ওখানে কোনো মিথ্যা থাকবে না। মিথ্যার চিহ্নমাত্র থাকবে না। কত পার্থক্য, তাই না ? বাবা বলছেন, এটা হলো কাঁটার জঙ্গল। কিন্তু কেউই নিজেকে কাঁটা বলে ভাবে না। *বাবা বলছেন - সবথেকে বড় কাঁটা হলো কাম কাটারী দিয়ে আঘাত করা। এর জন্যই তোমরা এতো দুঃখী হয়েছ।* এখন বাবা তোমাদেরকে অসীম সুখ দেওয়ার জন্য এসেছেন। তোমরা জানো যে আগেও এইরকম অসীম সুখ ছিল। সত্যযুগকে সুখধাম বলা হয়। ওখানে রোগ-জ্বালা কিছুই থাকবে না। না থাকবে হাসপাতাল, আর না থাকবে জেল। সত্যযুগে তো দুঃখের নামটাও থাকবে না। *ত্রেতাযুগে দুইকলা কমে গেলে হয়তো একটু একটু শুরু হবে, কিন্তু তাও সেটাকে হেভেন বলা হয়।* বাবা বলছেন - বাচ্চারা, তোমাদেরকে অসীম অতীন্দ্রিয় সুখে থাকতে হবে। তার সঙ্গে শিক্ষককেও স্মরণ করতে হবে। আমাদের টিচার তো স্বয়ং ভগবান, টিচারের কথা তো সবাই স্মরণ করে। যেসব বাচ্চা এখানে থাকে, তাদের জন্য তো খুবই সহজ। এখানে কোনো বন্ধন নেই। একদম বন্ধনমুক্ত। শুরুতে যখন ভাট্টি হয়েছিল, তখনই বন্ধনমুক্ত হয়ে গিয়েছিলে। যদি কোনো চিন্তা থেকে থাকে তবে সেটা কেবল সেবার ব্যাপারে। কিভাবে সেবার বৃদ্ধি করব ? বাবা অনেক কিছু বোঝান। বাবার কাছে আসার পর প্রথম দেড় মাস খুব উৎসাহ থাকে, কিন্তু তারপর উৎসাহে ভাটা পড়ে (ঠান্ডা) যায়। সেন্টারেই আসে না। তখন কি করতে হবে ? চিঠি লিখে জিজ্ঞেস করতে পারো যে কেন সেন্টারে আসছে না। আমরা মনে করছি যে হয় আপনার সঙ্গে মায়া যুদ্ধ করেছে, অথবা কারোর কুসঙ্গে ফেঁসে গেছেন, অথবা কোনো বিকর্ম করেছেন, পতিত হয়ে গেছেন। কিন্তু যাই হোক না কেন, পুনরায় অবশ্যই উঠে দাঁড়াতে হবে, পুরুষার্থ করতে হবে। তাদের হৃদয় জয় করতে হবে। তোমরা এইভাবে চিঠি লিখতে পারো। অনেকেই লজ্জা পায় এবং একেবারে উধাও হয়ে যায়। হয়তো এখান থেকেও ঘুরে গেছে। কিন্তু পরে খবর আসে যে সে বাড়িতেই বসে আছে। ওরা বলবে যে আমার আর ভালো লাগে না। অনেকেই চিঠিতেই লিখে দেয় যে আপনাদের এই জ্ঞানটা খুব ভালো কিন্তু আমার পক্ষে পবিত্র থাকা সম্ভব নয়। তাই ছেড়ে দিয়েছি। আমার অতো শক্তি নেই। এইভাবে লিখে দেয়। দেখেছ, বিকার কিভাবে মানুষকে নিচে ফেলে দেয়। অথচ এখানে তারা নর থেকে সূর্যবংশী নারায়ণ হবে বলে হাত তোলে। এই জ্ঞানটা তো নর থেকে নারায়ণ এবং নারী থেকে লক্ষ্মী হওয়ার জন্যই। বাবা বলেন - গুড় জানে আর গুড়ের পুটলি জানে। ইনি হলেন বাবার (গুড়ের) পুটলি। ইনি সবকিছু ভালো করে জিজ্ঞাসা করেন। এনার কাছেই সব খবরাখবর আসে। শিববাবা বলেন - আমি তো কেবল পড়ানোর জন্য আসি। যে ভালো ভাবে পড়াশুনা করবে, সে নবাব হবে। বাবা উপদেশ দিচ্ছেন - দৃষ্টিকে আমূল পরিবর্তন করতে হবে। প্রতি পদক্ষেপে সচেতন থাকতে হবে। স্মরণের দ্বারা-ই প্রত্যেক পদক্ষেপে কোটি-কোটি প্রাপ্তি হয়। তবে অনেক বাচ্চাই ফেল হয়ে যায়। সেবাধারী পান্ডাও ফেল হয়ে যায়। তোমরা যতদিন এই যাত্রা করবে, ততদিন পবিত্র থাকবে। কিছু ব্যক্তির এতো নেশা থাকে যে তীর্থযাত্রাতে গেলেও সঙ্গে করে মদ নিয়ে যায়। লুকিয়ে রাখে। অনেক বড় বড় ব্যক্তিও এইসব ছাড়া থাকতেই পারে না। আজকাল ওইসব তীর্থযাত্রা করে কোনো লাভ হয় না। সৈনিকরাও খুব মদ্যপান করে। মদ্যপান করার পর এরোপ্লেন নিয়ে স্টিমারের ওপর ঝাঁপ দেয়। স্টিমারের সাথে সাথে নিজেও শেষ হয়ে যায়। আর তোমরা এখন জ্ঞান অমৃত পান করছ। মুখ্য বিষয় হলো স্মরণ। এর দ্বারা-ই তোমরা ২১ জন্মের জন্য সদা-স্বাস্থ্যবান এবং সদা-সম্পত্তিবান হয়ে যাও। বাবা তো আগেও বলেছেন যে স্পষ্ট করে লিখে দাও যে কিভাবে ২১ জন্মের জন্য সদা-স্বাস্থ্যবান এবং সদা-সম্পত্তিবান হওয়া যায় সেটা এখানে এসে বুঝে যাও। ভারতবাসীরা মানে যে আগে ভারতবাসীদের আয়ু অনেক লম্বা ছিল। *স্বর্গে কখনো কোনো রোগ হয় না। স্বর্গে দেবী-দেবতাদের আয়ু ছিল ১৫০ বছর। সবাই ১৬ কলা সম্পূর্ণ ছিল। এইসব শুনে মানুষ বলে - এইরকম কিভাবে সম্ভব ? তাদেরকে বলো - ওখানে তো পাঁচ বিকার থাকবেই না। ওখানেও যদি এইরকম রোগজ্বালা থাকবে তাহলে সেটাকে রামরাজ্য কিভাবে বলা যাবে ?* দেবতাদের বাম মার্গে যাওয়ার ছবিও তোমরা দেখেছ। খুব খারাপ খারাপ ছবি। এই বাবা (ব্রহ্মাবাবা) বলছেন, আমি যেগুলো দেখেছি সেগুলোই তোমাদেরকে বলছি। শিববাবা বলছেন - আমি তো কেবল জ্ঞান শোনাই। শিববাবা জ্ঞানের কথা শোনান, আর ইনি নিজের অনুভবের কথা শোনান। দুজনেই তো আছেন। ইনিও নিজের অনুভবের কথা বলেন। প্রত্যেকেই নিজের জীবনের বিষয়ে জানে। তোমরা জানো যে আমরা অর্ধেক কল্প ধরে পাপ করেছি। এরপর ওখানে কেউ পাপ করবে না। এখানে একজনও পবিত্র নেই। তোমরা বাচ্চারা জানো যে এখন রিয়েল ভাগবত চলছে। ভগবান নিজে বসে থেকে বাচ্চাদেরকে জ্ঞান শোনাচ্ছেন। বাস্তবে এই একটাই পুস্তক (গীতা) থাকা উচিত । কিন্তু শিববাবার জীবনকাহিনী কিভাবে লেখা সম্ভব ? এটাও তোমরা এখন জেনেছ। এরপর আর কোনো পুস্তক থাকবে না। সামনেই বিনাশ। তখন এই পুরুষার্থের জ্ঞানও আর থাকবে না। তারপর প্রাপ্তি শুরু হয়ে যাবে। ড্রামাতে যার যেমন ভূমিকা আছে, সেইভাবে রীল ঘুরতে থাকবে এবং পুনরায় প্রাপ্তির সময় শুরু হবে। এতো আত্মার প্রত্যেকের মধ্যেই ড্রামার নির্দিষ্ট ভূমিকা ভরা আছে। যারা বোঝার, তারাই এইসব বিষয় বুঝবে। এটা একটা সীমাহীন নাটক। তোমরা বলো যে আমরা আপনাকে এই সীমাহীন নাটকের আদি, মধ্য এবং অন্তিমের রহস্য বলছি। ওটা হলো নিরাকার দুনিয়া, আর এটা সাকার দুনিয়া। আমরা আপনাকে সকল রহস্য বলছি। কিভাবে এই সৃষ্টিচক্রের আবর্তন হয়। তোমরা যাকেই বোঝাবে, সে খুব মজা পাবে। এমন ভেবো না যে কেউ তো শুনছে না। অনেক প্রজা তৈরি হবে। সেবার ক্ষেত্রে হার্টফেল হওয়া উচিত নয়। তোমরা বোঝাতে থাকো। ব্যবসায়ীদের কাছে তো অনেক খদ্দের আসে। বলো - আসুন, আমরা আপনাকে সীমাহীন সওদা (লাভ) করিয়ে দেব। ভারতেই এই দেবতাদের রাজত্ব ছিল। কিন্তু সেটা কোথায় গেল ? কিভাবে তারা ৮৪ জন্ম নিয়েছে, সেইসব আমরা আপনাকে বোঝাবো। ভগবানুবাচ - তোমরা নিজের জন্মকে জানো না। এইভাবে অনেক সেবা করতে পারবে। যখন সময় পাবে, বলো - আমরা আপনাকে বিশ্বের হিস্ট্রি-জিওগ্রাফি বোঝাবো। এইসব বাবা ছাড়া কেউ বোঝাতে পারবে না। আসুন, আপনাকে রচনা এবং রচয়িতার জ্ঞান বোঝাবো। এখন এটা তোমাদের অন্তিম জন্ম। তাই ভবিষ্যতের জন্য উপার্জন করে নাও। বাবা বোঝাচ্ছেন - বাচ্চারা, তোমরা এইরকম ভাবে সেবা করো। তোমাদের খদ্দেররা এইসব কথা শুনে খুব আনন্দ পাবে। তোমাদেরকে প্রণাম করবে, ধন্যবাদ জানাবে। ব্যবসায়ীরা খুব ভালো সেবা করতে পারবে। অনেক ব্যবসায়ী দেউলিয়া হয়ে যায়। তোমরা তো বড় বড় ধর্ম-আত্মা হয়ে যাও। বাবা এসে অবিনাশী জ্ঞান রত্নের দ্বারা তোমাদের ঝোলা ভর্তি করে দিচ্ছেন। বাবা অনেক রকমের উপদেশ দিচ্ছেন - এইরকম করো, সবাইকে বার্তা দাও, ক্লান্ত হও না। অনেকের কল্যাণ করতে লেগে যাও। ঠান্ডা হয়ে যেও না। নিজের দৃষ্টিকে ত্রুটিমুক্ত রাখো। ক্রোধ করাও উচিত নয়। যুক্তি করে চলতে হবে। বাবা অনেক রকমের যুক্তি বলে দিচ্ছেন। দোকানদারদের জন্য তো খুবই সহজ। ওতেও লাভ আর এতেও লাভ। মানুষ বলবে, এটা তো খুবই লাভজনক। অনেক খদ্দের এসে যাবে। তারা বলবে - যে মহাপুরুষের কাছ থেকে এতো লাভ হচ্ছে, তাকে তো আরও সাহায্য করা উচিত। তোমরা বলো - এটা আপনাদের অন্তিম জন্ম, এরপর পুনরায় আপনারা মানুষ থেকে দেবতা হতে পারবেন। যে যতটা করবে, সে ততটা পাবে। চেক করো যে আমার দৃষ্টি কোনো খারাপ কর্ম করেনি তো ? স্ত্রীলোকের প্রতি আকৃষ্ট হয়নি তো ? যখন নিজের ওপর লজ্জা হবে, তখন নিজেই ছেড়ে দেবে। বিশ্বের মালিক হওয়া তো মোটেই কম ব্যাপার নয়। যে যত পুরাতন ভক্ত হবে, সে তত খুশি হবে। যদি কম ভক্তি করেছে, তাহলে কম খুশি হবে। এই হিসাবটাও বুঝতে হবে। বুদ্ধি বলে - এখন আমরা ঘরে যাব এবং তারপর নুতন দুনিয়ায় নুতন কাপড় পরে অভিনয় করব। *এই শরীরটা ত্যাগ করার পরেই সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মাব।* আচ্ছা !

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) দৃষ্টির দ্বারা কোনো কুকর্ম করা যাবে না, প্রথমে নিজের দৃষ্টিকেই পরিবর্তন করতে হবে। প্রত্যেক পদক্ষেপে সাবধান হয়ে কোটি-কোটি উপার্জন সঞ্চয় করতে হবে।

২ ) যখনই সময় পাবে, তখন এই অসীম জগতের ব্যবসা করতে হবে। সেবার ক্ষেত্রে নিরাশ হওয়া যাবে না, সবাইকে অক্লান্ত ভাবে বাবার পরিচয় দিতে হবে।

বরদান:-
স্নেহের আঁচলে আন্তরিক সুখ এবং সর্বশক্তির অনুভব করে যথার্থ পুরুষার্থী ভব

যে যথার্থ পুরুষার্থী, সে কখনোই পরিশ্রম কিংবা ক্লান্তির অনুভব করে না। সর্বদাই প্রেমের মস্তিতে থাকে। তার সংকল্পগুলোও সমর্পিত হওয়ার জন্য সে অনুভব করে যে বাপদাদাই তাকে চালাচ্ছেন। পরিশ্রম রূপী পায়ের দ্বারা নয়, স্নেহের আঁচলের দ্বারা। স্নেহের আঁচলে সর্ব প্রাপ্তির অনুভব হওয়ার জন্য তাকে কখনো হাঁটতে হয় না, উপরন্তু সে সর্বদা খুশি, আন্তরিক সুখ এবং সর্বশক্তির অনুভবে উড়তে থাকে।

স্লোগান:-
নিশ্চয়রূপী ফাউন্ডেশন (ভিত্তি) মজবুত থাকলে, সর্বদাই শ্রেষ্ঠ জীবনের অনুভব হবে ।