01-02-2026 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 15-12-2008 মধুবন


"এক রাজ্য এক ধর্মের ল' অ্যান্ড অর্ডার স্থাপনের সময় নিজের পরিবর্তন ক'রে বিশ্ব পরিবর্তক হও"


আজ বাপদাদা চতুর্দিকে নিজের রাজকুমার বাচ্চাদের দেখসিগেন। এই পরমাত্ম পরম স্নেহ কোটি কোটির মধ্যে কিছু সংখ্যকের প্রাপ্ত হয়। পরমাত্ম-পরম-স্নেহে বাপদাদা সব বাচ্চাকে তিন সিংহাসনের মালিক বানিয়েছেন। প্রথম স্বরাজ্য অধিকারের ভ্রুকুটি সিংহাসন, দুই বাপদাদার হৃদয় সিংহাসন আর তিন বিশ্বের রাজ্য অধিকারের সিংহাসন। এই তিন সিংহাসন বাবা তাঁর নিজের স্নেহি পরমাদরের বাচ্চাদের দিয়েছেন। তো এই তিন সিংহাসন সদা স্মৃতিতে থাকায় প্রত্যেক বাচ্চার আধ্যাত্মিক নেশা থাকে। তো বাচ্চারা সবাই বাবার দ্বারা প্রাপ্ত অবিনাশী উত্তরাধিকার দেখে খুশিতে থাকো তো না! হৃদয়ে আপনা থেকেই এই গীত বাজতে থাকে বাহ্ বাবা বাঃ! আর বাঃ আমার ভাগ্য বাঃ! যা স্বপ্নেও ছিল না তা ' প্র্যাকটিক্যাল জীবনে প্রাপ্ত হয়েছে। সিংহাসনের সাথে সাথে বাপদাদা এই সঙ্গমে ডবল মুকুট দ্বারা উড়তি কলার অনুভাবীও বানিয়েছেন। তো বাপদাদা চতুর্দিকের বাচ্চাদের এই ডবল মুকুটধারী পিওরিটির রয়্যালটি, ডবল মুকুটধারী রূপে দেখছেন। এক পিওরিটির রয়্যালটির মুকুট, আরেক সেবার দায়িত্বের মুকুট।

বাপদাদা আজ চতুর্দিকের বাচ্চাদের পুরুষার্থের গতি চেক করেছেন। কেননা, সময়ের গতি তো তোমরা সবাইও দেখছ আর জানছ। তো বাপদাদা দেখছিলেন যে প্রত্যেকের বাবার দ্বারা যে রাজ্য ভাগ্যের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয়েছে, নিজের রাজ্যের, ফিউচার প্রাপ্তির, তো ফিউচারে তোমাদের সকলের সংস্কার যা ন্যাচারাল হবে এবং নেচার হবে তা' এখন থেকে বহুকালের সংস্কার হিসেবে অনুভূত হওয়া উচিত। কেননা, এই নতুন সংসার তোমাদের সবার নতুন সংস্কার দ্বারাই তৈরি হচ্ছে। সুতরাং নতুন সংসারের যে বিশেষত্ব আছে সেটাও অনুভব করো তো না! আমাদের রাজত্বে কী হবে, সেই নেশা আছে তো না! হৃদয় বলে তো না যে আমার রাজ্য, আমার নতুন সংসার এসে গেছে প্রায়! তো বাপদাদা দেখছিলেন নতুন সংসারের যে বিশেষত্ব আছে তা' বাচ্চাদের পুরুষার্থী জীবনে কতটা ইমার্জ আছে! তোমরা তো জানো, নতুন সংস্কার আর নতুন সংসারের বিশেষত্ব ইমার্জ আছে তো না! জানো তো তোমরা! গেয়েও থাকো, আর জানও তোমরা, প্রথম বিশেষত্ব, চেক করো প্রতিটি বিশেষত্ব আমার মধ্যে কতটা ইমার্জ আছে? মুখ্য বিশেষত্ব - এক রাজ্য, তো যেমন ওখানে এক রাজ্য আপনা থেকেই হয়, দ্বিতীয় কোনো রাজ্য নেই, তেমনই সঙ্গমে নিজের জীবনে দেখ যে তোমাদের জীবনেও এক রাজ্য আছে কিনা! নাকি কখনো কখনো দ্বিতীয় রাজ্যও থাকে? যদি চলতে চলতে স্ব এর রাজ্যের সাথে সাথে মায়ারও রাজ্য চলে তবে কি এক রাজ্যের সংস্কার হবে? এক রাজ্য থেকে দ্বিতীয় রাজ্যও তো চলে না? পরমাত্মার শ্রীমতের রাজ্য নাকি কখনো কখনো মায়ারও প্রভাব থাকে? হৃদয়ে মায়ার রাজ্য থাকে না তো? সুতরাং এটা চেক করো। এই বিষয়ে নিজের চার্ট চেক করো। এখন সঙ্গমে এক পরমাত্মার রাজ্য আছে, নাকি মায়ারও প্রভাব এসে যায়? চেক করেছ? এই মুহূর্তে চেক করো, নিজের চার্ট দেখতে থাকো তো না! তো যদি এখনো পর্যন্ত দুই রাজ্য থাকে তবে এক রাজ্যের অধিকারী কীভাবে হবে? শ্রীমতের সাথে মায়ার মতও মিক্স হয়ে যায় কি? এক ধর্ম এমনই - এক রাজ্যও হবে তো এক ধর্মও হবে। ধর্ম অর্থাৎ ধারণা। তো তোমাদের বিশেষ ধারণা কোনটা? পবিত্রতার ধারণা। তো চেক করো - সদা মন, বচন, কর্ম, সম্বন্ধ- সম্পর্কে সম্পূর্ণ আর সদা পবিত্রতার ন্যাচারাল নেচার হয়েছে? কেননা, তোমরা জানো যে তোমাদের অনাদি স্বরূপ আর আদি স্বরূপ পবিত্রতা। তো চেক করো - এক ধর্ম অর্থাৎ পবিত্রতা ন্যাচারাল হয়েছে? নেচার যেমন হয় সেই অনুযায়ী না চাইতেও কাজ করে নেয়। কেননা, বাচ্চারা অনেকে যখন আত্মিক কথোপকথন করে তখন কী বলে? খুব মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে, তারা বলে চাই না, চাই না, কিন্তু কখনো মন্সাতে, কখনো বাচাতে কোনো না কোনো অপবিত্রতার অংশ ইমার্জ হয়ে যায়। অনেক অনেক জন্মের সংস্কার তো না! সেইজন্য হয়ে যায়। তো এক ধর্মের অর্থ হলো পবিত্রতার ধারণা নেচার হবে এবং ন্যাচারাল হবে। হতে পারে বাণী প্রবল হয়ে গেল, বলবে ক্রোধ ছিল না সামান্য জোরে হয়ে গেছে। তো জোর কী? ক্রোধেরই তো বাচ্চা। তো এক ধর্মের সংস্কার কবে ন্যাচারাল হবে? সুতরাং চেক করো কিন্তু চেকের সাথে বাবার দ্বারা প্রাপ্ত শক্তি দ্বারা চেঞ্জ করো। এখন তবুও চেক ক'রে চেঞ্জ করার তীব্র পুরুষার্থ যদি করবে তো মার্জিন আছে, কিন্তু কিছু সময়ের পরে হঠাৎ টু লেট এর বোর্ড লেগেই যাবে। তারপর ব'লো না যে বাবা তো বলেননি। সেইজন্য এখন পুরুষার্থের সময় তো চলে গেছে কিন্তু তীব্র পুরুষার্থের সময় এখনও আছে, সুতরাং চেক করো কিন্তু শুধু চেক ক'রো না, সাথে চেঞ্জ করো। অনেকে চেক করে কিন্তু চেঞ্জ করার শক্তি নেই। চেক আর চেঞ্জ দুইই সাথে সাথে হওয়া উচিত। কেননা, তোমাদের সবার স্বমান বা তোমাদের সবার মহিমা কী? টাইটেল কী? মাস্টার সর্বশক্তিমান। হও মাস্টার সর্বশক্তিমান? নাকি শক্তিমান? যারা বলো সর্বশক্তিমান তারা হাত উঠাও। আচ্ছা। তাহলে, মাস্টার সর্বশক্তিমান অভিনন্দন তোমাদের। কিন্তু মাস্টার সর্বশক্তিমান আর চেঞ্জ করতে পারে না, তবে কী বলা যাবে? নিজেরই সংস্কার, নেচার যদি পরিবর্তন করতে চায়ও আর করতে না পারে তবে কী বলবে? নিজেকে জিজ্ঞাসা করো মাস্টার শক্তিমান, নাকি মাস্টার সর্বশক্তিমান? মাস্টার সর্বশক্তিমান সঙ্কল্প করেছে - করতেই হবে, হয়েই আছে। হবে.... দেখবে... এরকম হয় না। তো এখন সময় অনুসারে রেজাল্ট এটাই হতে হবে যে, যা ভেবেছ সেই সঙ্কল্প আর তার স্বরূপ হওয়া একসাথে হতে হবে।

এখন নতুন বছর, অব্যক্ত বছর সমাগত প্রায়। অব্যক্ত পালনের ৪০ বছর পূর্ণ হচ্ছে। তো অব্যক্ত পালন আর ব্যক্ত রূপের পালনের ৭২ বছর হয়ে গেছে। তো উভয় বাবার পরিপালনের রিটার্ন বাপদাদাকে দেবে না! ভাবো - পরিপালন কী আর প্র্যাকটিক্যাল কী? বাপদাদা দেখেছেন এখনও গড়িমসি ভাব আর রয়্যাল আলস্য রয়েছে। রয়্যাল আলস্য হলো - হয়ে যাবে, তৈরি হয়েই যাবো, পৌঁছেই যাবো আর গড়িমসি ভাব হলো - করছি তো, তো তো... এটা তো হওয়ারই আছে, এটা তো করতেই হবে, বলায় আর করায় ফারাক হয়ে যায়। বাপদাদা এক দৃশ্য দেখে মৃদু মৃদু হাসতে থাকেন যে এরা কী বলে! এটা যদি হয়ে যায়! এটা ক'রে নাও, তাহলে খুব ভালো হয় আমি এগিয়ে যেতে পারি! অন্যকে বদলানোর বৃত্তি থাকে কিন্তু স্ব পরিবর্তনের বৃত্তি কোথাও কোথাও কম হয়ে যায়। এখন অন্যকে দেখার বৃত্তি চেঞ্জ করো। যদি দেখতেই হয় তবে বিশেষত্ব দেখ, এরকম তো হয়েই থাকে, এরকম তো চলতেই থাকে, এও তো করে... এই ভাবনা কম করো। নিজেকে দেখো, বাবাকে সামনে রাখো, অন্য তো আরও কেউ আছে; হয় মহারথী আছে, নয়তো মাঝখানের কেউ আছে, পুরুষার্থে কেউ না কেউ ত্রুটি বিচ্যুতি পরিবর্তন করছেই। সেইজন্য সি ফাদার, সি ডবল ফাদার, ব্রহ্মা বাবাকে দেখো, শিব বাবাকে দেখো। যখন বাবা তোমাদের নিজের হৃদয় সিংহাসনে বসিয়েছেন। তাছাড়া, নিজেরাও নিজেদের হৃদয় সিংহাসনে বাবাকে বসিয়েছো, তোমাদের স্লোগানও রয়েছে সি ফাদার। সি সিস্টার, সি ব্রাদার এই স্লোগান তো নেইই। কিছু না কিছু ত্রুটি সবার মধ্যে এখনও রয়েছে, কিন্তু যদি অন্যকে দেখতেই হয় তবে বিশেষত্ব দেখ, যা ত্রুটি তা' আপনা থেকে বের হচ্ছে, সেগুলো দেখো না। আরেকটা বিষয় - নিজের রাজ্য, স্মরণে আছে তো না নিজের রাজ্য! কাল ছিল আর কাল আবার হবে। তোমাদের বুদ্ধিতে, নয়নে নিজের রাজ্য স্পষ্টরূপে এসে গেছে তো না! কতবার রাজত্ব করেছো? গুনতি করেছো? অনেকবার রাজত্ব করেছ। বলার সাথে সাথেই সামনে এসে যায়। নিজের রাজ্য -অধিকারী রূপ আর শ্রেষ্ঠ রাজ্য। তো সেভাবে নিজের রাজ্যে ল' অ্যান্ড অর্ডার আপনা থেকেই চলে। সবাই নলেজফুল সংস্কারের। জানে ল' কী, অর্ডার কী, এভাবেই এখন নিজের জীবনে দেখ, বাবার অর্ডারে চলছ, নাকি কখনো মায়ার অর্ডারেও চলে যাও? শ্রীমত ব্যতীত কখনো পরমত, মনমত চলে না তো? আর ল' কী? ল' হলো নিশ্চিন্ত বাদশাহ, কোনো চিন্তা নেই। কেননা, সর্বপ্রাপ্তি রয়েছে। এভাবে চেক করো, সঙ্গমের শ্রেষ্ঠ জন্মেও সর্বপ্রাপ্তি আছে যা বাবা দিয়েছেন। এটা ভগবানের প্রসাদ যেমন হয় তেমনই তো না, তো প্রসাদের কত মহত্ত্ব থাকে! সুতরাং বাবার থেকে যে প্রাপ্তিই আছে, তা' প্রভু প্রসাদ হিসেবে প্রাপ্ত হয়, প্রভু প্রসাদের মহত্ত্ব আছে। উত্তরাধিকারও আছে আর প্রসাদও আছে। তো চেক করো - ল' আর অর্ডার দু'য়েতেই সম্পন্ন হয়েছো কিনা!

বাপদাদা দেখছিলেন, একটা বিষয়ে মেজরিটির পরিবর্তন করার যে শক্তি প্রাপ্ত হয়েছে, সেই পরিবর্তন শক্তি সময়মতো যদি কার্যে প্রয়োগ করা হয় তো কোনো পরিশ্রম নেই। দেখো, সবার অনুভব আছে - মায়ার থেকে কখনো, কোনও রকমের হার যদি হয়, তো সবাই তোমরা ভাষণে বলে থাকো, ক্লাসও করাও, এটাই বলে থাকো, দুটো শব্দ আছে যা অধঃপাতের দিকে ঠেলে দেয়, উপরেও চড়িয়ে দেয়, সেই দু'টো শব্দ তোমরা জানো, সবার মনে এসে গেছে! সেই দু'টো শব্দ হ'লো আমি, আমার। ভাষণে এটা বলো তো, তাই না! ক্লাসও তো করাও! বাপদাদা ক্লাসও শোনেন, তোমরা কী বলো! এখন এই দুটো শব্দকে পরিবর্তন শক্তি দ্বারা যখনই আমি শব্দে তোমরা বলো তখন বলছো আমি অমুক কিংবা আমি ব্রাহ্মণ, কিন্তু আমি কে? বাপদাদা যে স্বমান দিয়েছেন, যখনই আমি শব্দ বলবে তখন কোনো না কোনো স্বমানের সাথে বলো, কিংবা বুদ্ধিতে আনো। আমি শব্দ বলার সাথে সাথে যেন স্বমান স্মরণে এসে যায়। আমার শব্দ বললে বাবা স্মরণে এসে যান। এটা যেন ন্যাচারাল স্মৃতি হয়ে যায়। এটা পরিবর্তন ক'রে নাও, ব্যস্। এছাড়া, আরেকটা বিষয়, সচরাচর তোমরা যখন সম্বন্ধ সম্পর্কে আসো তখন দুই শব্দের দ্বারা মায়াও আসে, এক ভাব, আরেক ভাবনা। তো যখনই ভাব শব্দ বলো, ভাবো তখন বলার সাথে সাথে যেন আত্মিক ভাব প্রথমে স্মরণে আসে এবং ভাবনাতে যেন শুভ ভাবনা স্মরণে আসে। শব্দের অর্থ পরিবর্তন ক'রে নাও। তোমাদের টাইটেল কী? বিশ্ব পরিবর্তক। বিশ্ব পরিবর্তক কি এই শব্দ পরিবর্তন করতে পারবে না? সুতরাং সময়মতো পরিবর্তন শক্তি ইউজ ক'রে দেখ। পরে আসে, যখন হয়ে যায় আর মন ভালো লাগে না, নিজেই নিজের মনে ভাবে কিন্তু সময় তো অতিবাহিত হয়ে গেছে তো না! সেইজন্য এখন তীব্রগতির আবশ্যকতা রয়েছে। কখনো কখনোর নয়। এরকম ভেবো না, বহু সময় তো ঠিক থাকি, কিন্তু বাপদাদা বলে দিয়েছেন অন্তিম মুহূর্তের কোনো ভরসা নেই। আকস্মিকতার খেলা হবে। কিছু বাচ্চা বাবাকেও খুব মিষ্টি মিষ্টি বিষয়ে বলে, বলে সময় অল্প এবং অতির মধ্যে দিয়ে যাবে তো না, তো বৈরাগ্য তো হবে, সুতরাং বৈরাগ্যের সময় আপনা থেকেই গতি তেজিয়ান হয়ে যাবে। কিন্তু বাপদাদা বলে দিয়েছেন যে অনেক সময়ের পুরুষার্থ প্রয়োজন। যদি অল্প সময়ের পুরুষার্থ হয় তবে প্রালব্ধও অল্প সময়ের জন্য প্রাপ্ত হবে, ফুল (সম্পূর্ণ) ২১ জন্মের প্রালব্ধ তৈরি হবে না। বাপদাদার তিন শব্দ সদা স্মরণে রাখো - এক হঠাৎ, দুই এভাররেডি এবং তিন বহুকাল। এই তিন শব্দ সদা বুদ্ধিতে রাখো। যে কোনো কারও যে কোনো কোথাও যে কোনো সময় অন্তিম কাল হতে পারে। এখনই এখনই দেখ কত ব্রাহ্মণ চলে যাচ্ছে, তারা জানত কি! সেইজন্য বহুকালের পুরুষার্থ দ্বারা ফুল ২১ জন্মের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করতেই হবে, এই তীব্র পুরুষার্থ স্মৃতিতে বজায় রাখ। ফার্স্ট নম্বর, ফার্স্ট জন্ম নিজের রাজ্যে। কী ভেবেছো? ফার্স্ট জন্মে আসতে হবে তো না! আনন্দ কিসে হবে? ফার্স্ট জন্মে, নাকি যে কোনোটাতে? যারা মনে করো নিজের রাজ্যে ফার্স্ট জন্মে শ্রীকৃষ্ণের সাথে সাথে আমারও পার্ট হবে, তারা হাত উঠাও। ভালো, ফার্স্টে পার্ট! হাত দেখে বাবা খুশি হয়ে গেছেন। তালি বাজাও। কিন্তু ফার্স্ট জন্মে এসো, তার জন্য অভিনন্দন। কিন্তু বাবা তোমাদের বলবেন কি? বলবেন কি বলবেন না? তোমাদের আসতেই হবে ফার্স্টে, অন্য বিষয়ে বাবা তোমাদের কেন বলবেন! এটা ভালো, সবাই যারা এসেছো, তোমাদের সবাইকে ফার্স্ট জন্মে আসতেই হবে। তালি তো বাজিয়ে দিয়েছ ফার্স্ট জন্ম আর ফার্স্ট স্টেজের জন্যও। তো ফার্স্ট স্টেজ বানাতেই হবে, যার এই দৃঢ় সঙ্কল্প আছে ফাস্ট যেতেই হবে, যা কিছু বিঘ্ন হোক না কেন কিন্তু বিঘ্ন যেন বিঘ্ন না থাকে, বিঘ্ন বিনাশকের সামনে বিজয়ের রূপ যাতে বদলে যায়! কেননা, তোমরা সবাই বিঘ্ন বিনাশক। তোমাদের টাইটেল কী? বিঘ্ন বিনাশক। সুতরাং যদি আসেও খেলা খেলতে আসবে কিন্তু তোমরা দূর থেকেই জেনে যাও, রয়্যাল রূপে আসবে কিন্তু তোমরা বিঘ্ন বিনাশক দূর থেকেই জেনে যাবে যে এটা কী খেলা হচ্ছে, সেইজন্য বাপদাদাও এটাই চান যে বাচ্চারা সবাই যেন সাথে যায়। পিছনে যেন না থাকে। বাপদাদার বাচ্চাদের ছাড়া আনন্দ হয় না। তো দৃঢ়তাকে কখনও দুর্বল হতে দিও না। করতেই হবে। বো বো ক'রো না। করবো, দেখবো, হয়ে যাবো ... দেখো এই সব জিনিস যেন ক'রো না। দৃঢ়তা সফলতার চাবি, এই চাবি কখনো খুইয়ে ফেলো না। মায়াও চতুর তো না! সে চাবি খুঁজে নেয়। সেইজন্য এই চাবি ভালো ক'রে সামলে রাখো।

চতুর্দিকের লাভলি আর লাকি, দৃঢ় সঙ্কল্পের বাচ্চারা যারা ভাবার সাথে সাথে করে, করবে, দেখবে নয়, ভেবেছে আর তৎক্ষণাৎ করেছে, সদা নিজে নষ্টমোহ, শুধু সম্বন্ধের মোহ নয়, নিজের দেহবোধ আর দেহ অভিমানেরও মোহ নেই - এমন নষ্টমোহ এভাররেডি বাচ্চাদের সদা শ্রীমতে হাতে হাত দেয়, সাথে ওড়ে আর সেইসঙ্গে ব্রহ্মাবাবার সাথে নিজের রাজ্যে আসতে চলেছে, এমন তীব্র পুরুষার্থী, উড়তি কলার বাচ্চাদের বাপদাদার অনেক অনেক আশীর্বাদ আর স্মরণের স্নেহ-সুমন স্বীকৃত হোক এবং বালক তথা মালিক বাচ্চাদের নমস্কার।

বরদান:-
পরিবর্তন শক্তির দ্বারা সকলের ধন্যবাদের যোগ্য হয়ে বিঘ্নজিত ভব

কেউ যদি তোমার অপকার করে তবে তুমি এক সেকেন্ডে অপকার উপকারে পরিবর্তিত ক'রে দাও, কেউ যদি নিজের সংস্কার সম্বন্ধের রূপে পরীক্ষা হয়ে সামনে আসে তবে তোমরা একের স্মৃতিতে এমন আত্মার প্রতিও সহৃদয়তার শ্রেষ্ঠ সংস্কার-স্বভাব ধারণ ক'রে নাও, কেউ যদি দেহধারী দৃষ্টিতে সামনে আসে, তবে তার দৃষ্টিকে আত্মিক দৃষ্টিতে পরিবর্তন ক'রে দাও, এভাবে পরিবর্তন করার যুক্তি-বিচার যদি এসে যায় তবে বিঘ্নজিত হয়ে যাবে। তারপর সম্পর্কে যে সকল আত্মা আসবে তারা তোমাদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবে।

স্লোগান:-
অনুভবের স্বরূপ যদি হয়ে যাও তবে মুখমণ্ডল থেকে সৌভাগ্যবানের দীপ্তি প্রতীয়মান হবে।

অব্যক্ত ইশারা :- একতা আর বিশ্বাসের বিশেষত্বের দ্বারা সফলতা সম্পন্ন হও অনেক দেশ, অনেক ভাষা, অনেক রূপ- রঙ হওয়া সত্ত্বেও সকলের হৃদয়ে যেন একতা দৃশ্যমান হয়। কেননা, তোমরা এক বাবার বাচ্চা। সবাই একই বৃক্ষের ডালপালা, একই শ্রীমতে চলো তোমরা। ভিন্নতার মধ্যে একতা দর্শানো, যা কিছু অপ্রীতিকর তা' প্রীতিকর বানানো, বহুর মধ্যে একতা আনা এটা সবথেকে বড় সেবা। এটাই চমৎকার আর এটাই সাফল্যের আধার।