01-03-2026 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 09-03-2009 মধুবন


"পরমাত্ম সঙ্গের রঙ এবং কম্বাইন্ড স্বরূপের যথার্থ হোলি উদযাপন করো"


আজ হোলিয়েস্ট বাবা নিজের হোলি বাচ্চাদের সাথে হোলি উদযাপন করতে এসেছেন। সব বাচ্চাই হোলি বাচ্চা। তোমরাও সবাই হোলি উদযাপন করতে এসেছ। ভাবো তোমরা সব হোলি আত্মায় কোন রঙ লেগেছে যাতে তোমরা হোলি হয়ে গেছো! রঙ তো অনেক রয়েছে কিন্তু তোমাদের ওপর কোন রঙ লেগেছে? সবচাইতে শ্রেষ্ঠ রঙ কোনটা যাতে তোমরা হোলি হয়ে গেছো? সর্বাপেক্ষা বড় রঙ হলো পরমাত্ম সঙ্গের রঙ। তো পরমাত্ম সঙ্গের রঙ লেগে যাওয়ায় সহজভাবে তোমরা হোলি হয়ে গেছো, কেননা, পরমাত্ম সঙ্গ অবিনাশী সঙ্গের রঙ। রঙ তো অল্প সময়ের জন্য হয় কিন্তু পরমাত্ম সঙ্গের রঙ লাগায় সহজেই হোলি অর্থাৎ পবিত্র হয়ে গেছো। অপবিত্রতার রঙ থেকে আত্মার রঙ পবিত্র হয়ে গেছে। কেননা, তোমরা সবাই পরমাত্মাকে নিজের কম্প্যানিয়ন বানিয়ে নিয়েছ, কম্প্যানি বানিয়ে নিয়েছ। সেইজন্য কম্বাইন্ড হয়ে গেছ। এই কম্বাইন্ড স্বরূপ ভালো লাগে তো না! এই কম্বাইন্ড রূপ কখনও আলাদা হতে পারে না। অনুভব আছেনা! সদা কম্বাইন্ড থাকো তোমরা, তাই না! একলা নয়। মায়া একলা করার চেষ্টা করে, কিন্তু যারা সদা কম্বাইন্ড থাকে তারা কখনও আলাদা হতে পারে না। কেননা, মায়া আলাদা ক'রে আবার পুরানো সংস্কারকে ইমার্জ ক'রে দেয় আর পুরানো সংস্কার ইমার্জ হয়ে যায় তো শুদ্ধ সংস্কার মার্জ হয়ে যায়। পুরানো সংস্কার হলো আসাবধানতা আর আলস্যের, এগুলো ভিন্ন ভিন্ন রূপে ইমার্জ হওয়ায় কম্বাইন্ড রূপ আলাদা হয়ে যায়। তো প্রত্যেকে নিজেকে চেক করো যে সদা কম্বাইন্ড থাকো কিনা! নাকি কখনো একলাও হয়ে যাও? মায়ার অনেক স্বরূপ তোমরা জেনে গেছ তো না! সে চাতুর্য দ্বারা নিজের রঙ লাগিয়ে দেয়। আলাদা হওয়া অর্থাৎ মায়ার রঙে রঙিন হওয়া। এই আসাবধানতা আলস্য অনেকভাবে ভিন্ন ভিন্ন রূপে আসে। তাকে চেনার জন্য মায়া নিজের দিকে আকর্ষণ করে এবং এই আসাবধানতা আর আলস্য রাবনের ভাণ্ডার, সেটা বাবার ভাণ্ডার নয়। রাবনের ভাণ্ডারকে বাচ্চারাও নেশার সাথে ব'লে থাকে আমি চাই না কিন্তি এটা আমার সংস্কার। আমার সংস্কার বলতে শুরু করে। এটা কি পরমাত্ম ভাণ্ডার? নাকি রাবণের ভাণ্ডার? ভাবো, সেটা আমার সংস্কার বলা কি রাইট? আমার বানিয়ে দেওয়া এটা মায়ার চালাকি। বাবার ভাণ্ডার অনুপম, নাকি রাবনের এই ভাণ্ডার? কমন রীতিতে বাচ্চারা নিজেকে নিষ্কৃতি দেওয়ার জন্য বলে দেয় আমার সংস্কার, কিন্তু এটা আমি চাই না। সুতরাং ভাবো, এই সংস্কার কি আমার! বাবা বলেন, রাবনের ভাণ্ডারকে নিজের বানানোয় ধীরে ধীরে যে শুভ সংস্কার আছে তা' সমাপ্ত হতে থাকে। পরমাত্ম সঙ্গের রঙ ফিকে হতে শুরু করে আর মায়ার রঙ ইমার্জ হতে থাকে। অতএব, চলতে চলতে নিজেকেই চেক করতে হবে কোন রঙের প্রলেপ পড়েছে! লোকেও হোলিতে কী করে? যা কিছু মন্দ তাকে আগে জ্বালায় তারপরে রং লাগায় উদাযাপন করে। তো তোমাদের ওপরে বাপদাদা সঙ্গের রঙ তো লাগিয়েছেন কিন্তু সেইসঙ্গে জ্ঞানের রঙ শক্তির রঙ গুণের রঙ তিনি লাগাতে থাকেন।

তো সকলের ওপরে এই আধ্যাত্মিক রঙ অনুরঞ্জিত হয়েছে তো না! রঞ্জিত হয়েছে? হাত উঠাও। আধ্যাত্মিক রঙ লেগে গেছে, অবিনাশী রঙ লেগে গেছে, তার উপরে আর কোনো রঙ লাগতে পারে না। এই রঙ দ্বারা কত হোলি হয়ে গেছ! যা সমগ্র কল্পে তোমাদের মতো হোলি পবিত্র আর কেউ হতে পারে না। তোমাদের পবিত্রতা প্রভুর সঙ্গের রঙ, পরমাত্ম- কম্বাইন্ড থাকার অনুভব সবচাইতে স্বতন্ত্র আর সুন্দর। তাছাড়া, যারাই হোলি,‌ পবিত্র হয় তাদের শরীর পবিত্র হয় না, আত্মা পবিত্র হয়। কিন্তু তোমরা এমনভাবে হোলি হও, পবিত্র হও যাতে তোমাদের শরীর আর আত্মা দুইই পবিত্র থাকে। আর পবিত্রতাকে সুখ, শান্তি, প্রেম, আনন্দের জননী বলা হয়ে থাকে। যেখানে পবিত্রতা আছে সেখানে সুখ শান্তি সাথে আছেই। কেননা, যেখানে জননী থাকে সেখানে বাচ্চারা থাকে। কেননা, বাবা এসে তোমাদের এমনভাবে হোলি বানান যা কলিযুগের লাস্ট জন্মেও তোমরা তোমাদের চিত্র জড় চিত্র রূপে দেখে থাকো, কত বিধি পূর্বক তাদের পূজা হয়, এটা পবিত্রতার বিশেষত্ব এবং যত মহান আত্মা, ধর্ম আত্মা পবিত্র হয়েছে যাদের কিন্তু কারও মন্দির হয় না। এভাবে বিধিপূর্বক পূজা কারও হয় না এবং লাস্ট জন্ম পর্যন্ত তোমাদের চিত্রও কল্যাণময় আশীর্বাদ দিতে থাকে। অল্প সময়ের সুখ শান্তি অনুভব করায়। তো তোমাদের হোলি আর দুনিয়ার লোকের হোলির মধ্যে কত পার্থক্য! যদিও মনোরঞ্জনের জন্য তোমরাও অল্প বিস্তর উদযাপন করো, কিন্তু প্রকৃত হোলি পরমাত্ম সঙ্গের রঙের এবং কম্বাইন্ড স্বরূপের যথার্থ হোলি তোমরা উদযাপন করো। লোকে হোলি ভিন্ন ভিন্ন রূপে পালন করে, বাস্তবিকপক্ষে, তোমরা জানো যে হোলি শব্দেরও রহস্য আছে, যা কেবল তোমরাই জানো, তোমরাই উদযাপন করো। হোলির অর্থ হলো - হো লি - যা হয়ে গেছে তা' অতীত। তো তোমরা সবাই পুরানো জীবন, পুরানো বিষয়, পুরানো সংস্কার, পুরানো ব্যর্থ সঙ্কল্পকে হো লি ( অতিবাহিত) করেছ তো না! যা অতিবাহিত হয়েছে তাকে অতীত করা অর্থাৎ হো লি। তো এভাবে করেছ? নাকি এখনও কখনোর কখনো ভুল ক'রে পুরানো সংস্কার এসে যায়? যখন আমাদের জন্মই নতুন, তোমরা সবাই মরজীবা হয়েছ তো না! হয়েছ? মরজীবা হয়েছ? হাত উঠাও। আচ্ছা। নতুন জন্ম হয়ে গেছে। তো পুরানো জন্ম কীভাবে স্মরণে আসে? পুরানো, পুরানো হয়ে গেছে। যদি পুরানো বিষয় কিংবা সঙ্কল্প, সংস্কার ইমার্জ হয়ে যায় তবে কী বলবে? হোলি উদযাপন করেছ? হো লি (অতীতকে অতীত) করনি? পরমাত্ম সঙ্গের রঙ ভালো ক'রে অনুরঞ্জিত হওয়া অর্থাৎ পুরানো জন্ম ভুলে যাওয়া। পুরানো বিষয় ভুলে যাওয়া। কেননা, তোমরা মরজীবা হয়ে গেছনা! যেভাবে শরীর ছেড়ে এক জন্ম থেকে আরেক জন্ম নাও তখন কি পুরানো জন্ম স্মরণে থাকে? তো তোমরা সবাই এখন ব্রাহ্মণ জন্ম ধারণকারী। সুতরাং বিগত জন্মের সংস্কার যাকে তোমরা ভুল ক'রে ব'লে থাকো আমার সংস্কার। হয় তোমাদের? হয়? ব্রাহ্মণ. জীবনের সংস্কার এটা? কখনো আসাবধানতা,কখনো রয়্যাল আলস্য, আলস্যের ভিন্ন ভিন্ন অনেক রূপ আছে। কখনো এই বিষয়ে ক্লাস করো। আলস্য কত প্রকারের হয় আর কত রয়্যাল রূপে আসে!

তো ব্রাহ্মণ জীবন অর্থাৎ নতুন জীবন, এতে পুরানো কিছু হতেই পারে না। তো আজ হোলি উদযাপন করতে এসেছ তো না! তো হোলি অর্থাৎ হো লি, আজ হোলি উদযাপন করা অর্থাৎ পুরানো সংস্কারের হোলি জ্বালানো। জ্বালানোর পরেই উদযাপিত হয়। তো এখন তোমাদের উদযাপিত স্বরূপ। জ্বালিয়ে দিয়েছ, এখন উদযাপন করতে হবে। প্রভুর সঙ্গের রঙের আনন্দ নিয়ে থাকো তোমরা। তোমরা কম্বাইন্ড থাকার অনুভবকারী, তাই নয়টি কি? হোলিয়েস্ট বাবা তোমাদের ওপরে রঙ লাগিয়েছেন হোলি হওয়ার, পবিত্র হওয়ার।

তো আজ কোন হোলি উদযাপন করছ? আজ বিশেষ কোনও পুরানো সংস্কার আসতে দিও না - এই হোলিই উদযাপন করতে হবে। উদযাপন করতে পারবে, নাকি কখনো কখনো এসে যাবে? এই রয়্যাল বাক্য - আমি করতে চাইনি কিন্তু আমার সংস্কার, এটা আজ দৃঢ় সঙ্কল্পের বিধি দ্বারা সমাপ্ত ক'রে নাও। সদাসর্বদার জন্য এমন হোলি উদযাপন করার সাহস রাখো? নাকি কখনো কখনো উদযাপন করবে? যারা মনে করো যে আজ থেকে পুরানো সংস্কারের হোলি হো লি (হয়ে গেছে) যা অতীত তা' অতীত হয়েছে, জন্ম নতুন, সেই পুরানো জন্ম শেষ। এমন ক'রে যারা সাহস বজায় রাখে, তোমরা সেসব বাচ্চারা বাবার মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি বাচ্চা, তাই না! তো এটা সঙ্কল্প নয়, দৃঢ় সঙ্কল্প। এই দৃঢ় সঙ্কল্প করার সাহস আছে? হাত তোলো। দেখ সবাই তোমরা সাহস রেখেছ। ঠিক আছে অল্প কিছু যদি বা থেকেও গেছে কিন্তু তোমরা সবাই সাথি তো না! যারা পাক্কা সাথি তারা দু' হাত তোলো। সবার এই ফটো তোলো। আচ্ছা। ডবল বিদেশিও হাত তুলেছে।

তো বাপদাদা তোমাদের পদম পদমগুন অভিনন্দন জানাচ্ছেন হোলিকে হো লি তথা অতীতকে অতীতেই রাখার উদযাপনের জন্য। এখন ভুল করেও নিজের মুখ থেকে এই শব্দ বের হতে দিও না - আমার সংস্কার, রাবণের সংস্কারকে আমার বলছো! বিস্ময়কর! রাবণকে শত্রু বলা হয়। শত্রুর ভাণ্ডার নিজের বানানো এটা তো আশ্চর্যজনক বিষয়! তোমাদেরও আশ্চর্য লাগছেনা! কী বলবে! ভুল ক'রে ব'লে দাও তোমরা। ব'লে দাও পরে ভিতরে মন কুরে কুরে খায়, উপলব্ধিও করো, বাবার সাথে কথাও বলে ক্ষমাও চেয়ে নাও। বাবা কাল থেকে করবো না। তবুও ক'রে ফেলো তোমরা। এখন বাপদাদা কী করেন! দেখে যাবেন! এখন এই শব্দের হোলি জ্বালাও। দেখো, জ্বালানোর ব্যাপারেও একটা খুব ভালো বিষয় বাবা ব'লে থাকেন - কোকি (মিষ্টি পুরু পরোটা) সুতো দিয়ে বেঁধে রান্না করে (হোলি তে আগুনে দেয়), তো যখন পুরোপুরিভাবে কোকি রান্না হয়ে যায় আর সেটা বের করা হয় তখন কোকি তো রান্না হলো কিন্তু সুতো জ্বলে যায় না। তোমরা যে প্রথম পাঠ পড়েছো যে আত্মা অবিনাশী আর শরীর বিনাশী এটা তার স্মৃতিচিহ্ন। যারা এই উৎসব কিংবা শাস্ত্র বানিয়েছে তারাও বাবার বাচ্চা, কিন্তু তোমরা সব হারানিধি বাচ্চা। বাপদাদা দেখেন তাদের চমৎকারিত্ব কম নয়, এটা যেন আটার মধ্যে লবণের মতো, কিন্তু তারা বানিয়েছে বড়োই মনোরম। তোমরা যদি দেখ, প্রতিটা উৎসবের তারা স্মারক বানিয়েছে, কিন্তু কিছু বিষয় সূক্ষ্ম আছে সেগুলোর স্থূল রূপ দিয়ে দিয়েছে। যেমনই হোক, স্মরণিক বানিয়েছে তো না! ভক্তিতেও কম তো করেনি! ভক্তিতে দ্বাপর কলিযুগেও স্মৃতির কিছু না কিছু বিষয় রেখেছে। এটা তোমাদের অতি বিকারি হওয়া থেকে রক্ষা করেছে। তো যারা এই উপাদান নিয়ে উৎসব কিংবা শাস্ত্র রচনা করেছে বাপদাদা অবশ্যই তার ফল দেন। ভক্তিতে তারা অন্তত কিছু বিষয় স্মরণ তো করে, অল্প টাইমের জন্য তারা বিকার থেকে নিস্তারও পেয়ে যায়।

তো তোমরা আজ কোন হোলি উদযাপন করেছো? কোন হোলি উদযাপন করেছো? হো লি সবাই বলো হো লি। এভাবে করো হো লি। পাক্কা তো না! উদযাপন করেছ? উদযাপন করেছ? আচ্ছা। কাল আবার মায়া আসবে কেননা, মায়াও শুনছে, কিন্তু তোমরা এমন হতে দিও না। (নিজেদের দিকে ডেকো না) মজা তো হয়, তাই না! এতে মজা আছে তো না! পরমানন্দে থাকো।

বাবাকে স্মরণে রাখো, বাবা আমাদের কত রূহানী রঙে অনুরঞ্জিত করছেন, যার দ্বারা তোমরা হোলিহংস হয়ে গেছ। হোলিহংস অর্থাৎ নির্ণয় শক্তির হোলিহংস। যে কোনো কাজ কর'না কেন একটা সিট ফিক্স করে নাও। প্রথমে সেই সিটে সেট হয়ে তারপর নির্ণয় করো। সেই সিট তোমরা জানো, সেই সিট হলো ত্রিকালদর্শীর সিট। আগে ত্রিকালদর্শীর সিটে সেট হয়ে তিন কাল দেখ, শুধু বর্তমান নয়, আদি মধ্য অন্ত তিন কাল দেখ। তিন কালে লাভ আছে, নাকি লোকসান? কিছু বাচ্চা বড়োই চতুর। বাবা তাদের চাতুরী শোনাবেন? কী বলো তোমরা, কাজটা এভাবে করার ছিল তো না সেইজন্য কাজটা এভাবেই চালিয়ে নিয়েছি। তা' নয়তো আমি বুঝি যে এটা করা উচিত নয় কিন্তু ক'রে নিয়েছি। ঠিক আছে! কিন্তু ক'রে নিয়েছি সুতরাং এই কর্মের ফল পেতে হবে তো না! অতএব চাতুরী করা ঠিক নয়, বাবাকেও অনেক প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। ভুল করে তো না, তারপরে আবার বাপদাদাকে এমন এমন বিষয় শোনায় - বাবা আপনি করুণাময় তো না! আপনি ক্ষমার সাগর তো না! বাবাকেও স্মরণ করিয়ে দেয় তিনি কে! আপনি বলেছিলেন তো না আপনাকে শুনিয়ে শেষ ক'রে দিতে। যেমনই হোক অনুভবের সাথে শুনিয়ে শেষ করো। একটা কথা পাক্কা ক'রে শুনিয়ে তো দাও কিন্তু প্রথমে দৃঢ় সঙ্কল্প ক'রে স্ব পরিবর্তন ক'রে তারপরে শোনাও। তোমরা বিমোহিত করার চেষ্টা করো বাবা আপনি বলেছেন তাই তো না! বাবাকেও স্মরণ করিয়ে দেয় - বাবা আপনি এটা বলেছেননা, বাবা আপনি এটা বলেছেননা! বড়োই চাতুরী করো, এখন চাতুরী ক'রো না। সাহস রাখো করতেই হবে, বে, বে, ক'রো না।

বাপদাদা সারাদিনে বো বো-র অনেক গীত শোনেন। করবো, দেখাবো, হবো কিন্তু স্পিড কী? যারা বো বো করে (ভবিষ্যৎ-সূচক শব্দ বলে) তারা বাবার সাথে ফিরবে? বাবা তো এভাররেডি আর যারা বো বো করে তারা তো এভাররেডি হয়নি। তাহলে বাবার সাথে কীভাবে যাবে? দেখতে থাকবে অন্যরা বাবার সাথে যাচ্ছে। প্রত্যেক বাচ্চার প্রতি বাবার পদম গুন ভালোবাসা আছে। বাবা চান না যে আমার বাচ্চা আর সাথে যাবে না! যখন ঘরে ফেরার সময় এসে গেছে তখন কী ঘরে ফিরবে না? কেননা, ঘরে ফিরে তারপরে রাজ্যে আসতে হবে। যদি সাথে ঘরে না যাবে তবে ব্রহ্মা বাবার সাথে রাজ্যেও আসতে পারবে না, পিছনে আসবে। তো তোমাদের প্রতিজ্ঞা কী? সাথে যাবে নাকি এসে যাবে... এতেও বো বো লাগাবে! পৌঁছে যাবো দেখবেন বাবা অবশ্যই পৌঁছে যাবো। তো এই ভাষা এখন সমাপ্ত করো।

চতুর্দিকে সব বাচ্চাকেও বাপদাদা দেখছেন যে মেজরিটি স্থানে সেন্টার্স-এ দূরে বসেও সায়েন্সের সাধন দ্বারা তারাও বাপদাদাকে দেখতে থাকে, তোমরা টোলি খাও তো না! তারা টোলি বিতরণ করে। তো বাপদাদাও সবাইকে দেখছেন যে কীভাবে দূরে বসে নৈকট্যের অনুভব করছে। তো চতুর্দিকের বাচ্চারা যারা এই সঙ্কল্প ধারণ করেছে যে, সদা বাবা সমান সম্পন্ন আর সম্পূর্ণ হতে হবে এবং এই সঙ্কল্পে সময় দৃঢ়তার বল দিতে থাকে, চতুর্দিকের যারা এমন শুভ সঙ্কল্প ধারণ করে সেইসঙ্গে বাবার আশা পূরণ করে এমন আশার নক্ষত্রদের, সেইসঙ্গে দাদির বোল - কর্মাতীত হতেই হবে হতেই হবে হতেই হবে... আর মাম্মার এই বোল - সদা যা করতে হবে তা' আজ করো কালকের জন্য ছেড়ে দিও না এবং দিদির এই বোল - এখন ঘরে যেতে হবে এটা কানে গুঞ্জরিত হওয়া চাই, বারবার ঘরে যেতে হবে। তো বাঁধাগতে বাজতে দাও - কর্মাতীত হতে হবে এখন ঘরে ফিরতে হবে। এই বোল বারবার যারা স্মৃতিতে আনে এমন সমর্থ আত্মাদের বাপদাদার হোলির অভিনন্দন আর সেইসঙ্গে মধুবনের ঘেবর (মৌচাকের মতো দেখতে রাজস্থানী মিষ্টি) পাওয়ার আগে সবাই মুখ খোলো আর ঘেবর খাও। খেয়েছো, তো বাপদাদা এবং অ্যাডভান্স পার্টির বাচ্চাদের থেকেই সবাইকে অনেক অনেক পদমগুন স্মরণের স্নেহ-সুমন আর বাবার নমস্কার।

বরদান:-
সর্ব আত্মার প্রতি স্নেহ আর শুভচিন্তকের ভাবনা রেখে দেহী-অভিমানী ভব

মহিমা করে এমন আত্মাদের প্রতি যেমন স্নেহের ভাবনা থাকে, ঠিক তেমনই যখন কেউ শিক্ষার ইঙ্গিত দেয় তখন এক্ষেত্রেও সেই আত্মার প্রতি এমনই স্নেহের, শুভ চিন্তনের ভাবনা যেন থাকে যে, ইনি আমার জন্য সবচাইতে বড় শুভচিন্তক - এরকম স্থিতিকে বলা হয়ে থাকে দেহী-আভিমানী। যদি দেহী-আভিমানী নও তবে অবশ্যই অভিমান রয়েছে। যার অভিমান আছে সে কখনো নিজের অপমান সহন করতে পারবে না।

স্লোগান:-
সদা পরমাত্ম ভালোবাসায় হারিয়ে যাও তবে দুঃখের দুনিয়া ভুলে যাবে।

অব্যক্ত ইশারা :- "নিশ্চয়ের ফাউন্ডেশন মজবুত ক'রে সদা নির্ভয় আর নির্বিঘ্ন থাকো" যখন কোনো বড়োর হাতে হাত থাকে তখন ছোটর স্থিতি বেফিকর আর নিশ্চিন্ত থাকে। তোমাদের নিশ্চয় আছে যে বাপদাদা আমার সাথেও আছেন এবং আমার এই অলৌকিক জীবনের হাত তাঁর হাতে আছে অর্থাৎ জীবন তাঁর কাছে সমর্পিত, সেইজন্য দায়িত্বও তাঁর হয়ে যায়। সব বোঝা বাবার উপর ন্যস্ত ক'রে নিজেকে হালকা ক'রে দাও তবে সদা নিশ্চিন্ত থাকবে এবং সব কার্য অ্যাক্যুরেট হবে।