02-06-2024 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 18-01-20 মধুবন


"ব্রহ্মাবাবার সমান ত্যাগ, তপস্যা আর সেবার ভাইব্রেশন সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে দাও"


আজ সমর্থ বাপদাদা নিজের সমর্থ বাচ্চাদের দেখছেন। আজকের দিন স্মৃতি দিবস তথা সমর্থ দিবস। আজকের দিন বাচ্চাদেরকে সর্বশক্তি উইল করে দেওয়ার দিবস। দুনিয়ায় অনেক রকমের উইল হয়, কিন্তু ব্রহ্মাবাবা বাবার থেকে প্রাপ্ত হওয়া সর্বশক্তির উইল বাচ্চাদের করেছেন। এমন অলৌকিক উইল অন্য কেউই করতে পারে না। বাবা ব্রহ্মাবাবাকে সাকারে নিমিত্ত বানিয়েছেন এবং ব্রহ্মাবাবা বাচ্চাদের নিমিত্ত ভব-র বরদান দিয়ে উইল করেছেন। এই উইল বাচ্চাদের মধ্যে পাওয়ার্সের (শক্তির) সহজ অনুভূতি করাতে থাকে। এক হলো নিজের পুরুষার্থের পাওয়ার্স আর এ' হলো পরমাত্ম-উইল দ্বারা পাওয়ার্সের প্রাপ্তি। এ' হলো প্রভু প্রদত্ত, প্রভু বরদান। এই প্রভু বরদান চালনা করছে। বরদানে পুরুষার্থের পরিশ্রম নেই, বরং সহজভাবে আর আপনা থেকেই নিমিত্ত বানিয়ে চালনা করতে থাকে। সেই সময় বাবার সামনে স্বল্প সংখ্যক ছিল। কিন্তু বাপদাদার দ্বারা, বিশেষ ব্রহ্মাবাবার দ্বারা বিশেষ বাচ্চাদের এই উইল প্রাপ্ত হয়েছে এবং বাপদাদাও দেখেছেন যে, যে বাচ্চাদেরকে বাবা উইল করেছেন সেই সব বাচ্চারা (আদি রত্নসমূহ এবং সেবার নিমিত্ত বাচ্চারা) সেই প্রাপ্ত উইল খুব ভালো ভাবে কার্যে প্রয়োগ করেছে। তাছাড়া, সেই উইলের কারণে আজ এই ব্রাহ্মণ পরিবার দিন দিন বাড়তেই থাকছে।বাচ্চাদের বিশেষত্বের কারণে এই বৃদ্ধি হওয়ারই ছিল আর হচ্ছেও।

বাপদাদা দেখেছেন যে নিমিত্ত হওয়া আর সাথ দেওয়া দু'রকমের বাচ্চাদের দুটো বিশেষত্ব খুব ভালো ছিল। প্রথম বিশেষত্ব - হয় তারা স্থাপনের আদি রত্ন অথবা সেবার রত্ন উভয়ের মধ্যে সংগঠনের ইউনিটি খুব খুব ভালো ছিল। কারও মধ্যে কেন, কী, কীভাবে... এই সংকল্প মাত্রও ছিল না। দ্বিতীয় বিশেষত্ব - একজন বলেছে অন্যজনে মেনেছে। এই একস্ট্রা পাওয়ার্সের উইলের বায়ুমন্ডলে বিশেষত্ব ছিল। সেই সর্ব নিমিত্ত হওয়া আত্মারা সর্বত্র বাবা বাবাই দেখতে পায়।

বাপদাদা এইরকম সময় মতো নিমিত্ত হওয়া বাচ্চাদের হৃদয় থেকে ভালোবাসা দিচ্ছেন। বাবার চমৎকার তো আছেই, কিন্তু বাচ্চাদের চমৎকারিত্বও কম নয়। আর সেই সময়ের সংগঠন, ইউনিটি - আমরা সবাই এক, এটাই আজও সেবাকে বর্ধিত করছে। কেন? নিমিত্ত হওয়া আত্মাদের ফাউন্ডেশন মজবুত ছিল। তাইতো বাপদাদাও আজকের দিনে বাচ্চাদের চমৎকারিত্ব গাইছিলেন। বাচ্চারা চতুর্দিক থেকে ভালোবাসার মালা পরিয়েছে আর বাচ্চাদের চমৎকারিত্বের গুণগান করেছেন। তোমরা ভেবেছিলে এতদিন ধরে চলবে? কত সময় হয়ে গেছে? সবার মুখ থেকে, হৃদয় থেকে এটাই নির্গত হয়েছে এখন ফিরে যেতে হবে, এখন ফিরে যেতে হবে... কিন্তু বাপদাদা জানতেন যে এখন অব্যক্ত রূপের সেবা এখনও হওয়ার আছে। সাকারে থাকাকালীন এত বড় হল বানিয়েছিলে? বাবার অতি প্রিয় ডবল বিদেশি সেই সময় এসেছিল? তো বিশেষভাবে ডবল বিদেশিদের অব্যক্ত পালনার দ্বারা অলৌকিক জন্ম হওয়ারই ছিল, এত সব বাচ্চা আসারই ছিল। সেইজন্য ব্রহ্মাবাবার সাকার শরীরও ছাড়তে হয়েছে। ডবল বিদেশিদের নেশা আছে যে আমরা অব্যক্ত পালনার পাত্র (যোগ্য)।

ব্রহ্মাবাবার ত্যাগ ড্রামাতে বিশেষভাবে নির্ধারিত আছে। আদি থেকে ব্রহ্মাবাবার ত্যাগ আর তোমরা সব বাচ্চার ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে আছে। সর্বাপেক্ষা নম্বর ওয়ান ত্যাগের একজাম্পল ব্রহ্মাবাবা হয়েছেন। ত্যাগ তাকেই বলা হয়ে থাকে - সবকিছু প্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও যে ত্যাগ করে। সময় অনুসারে, সমস্যা অনুসারে ত্যাগ - শ্রেষ্ঠ ত্যাগ নয়। শুরু থেকেই দেখ তন, মন, ধন, সম্বন্ধ, সর্বপ্রাপ্তি হওয়া সত্ত্বেও ত্যাগ করেছেন। শরীরেরও ত্যাগ করেছেন, সব সাধন থাকা সত্ত্বেও স্বয়ং পুরানোতেই থেকেছেন। চারদিক থেকে সমস্ত সাধন আসতে শুরু করেছিল। তৎসত্ত্বেও সাধনায় অনড় থেকেছেন। ব্রহ্মার এই তপস্যা তোমরা সব বাচ্চার ভাগ্য বানিয়ে গেছে। ড্রামা অনুসারে এমন ত্যাগের একজাম্পল রূপ ব্রহ্মাই হয়েছেন এবং এই ত্যাগ সঙ্কল্প শক্তির দ্বারা সেবায় তাঁর বিশেষ পার্ট তৈরি করেছে। এই কারণে নতুন নতুন বাচ্চারা সংকল্প শক্তির দ্বারা বৃদ্ধি ফাস্ট প্রাপ্ত করছে। তো শুনলে ব্রহ্মার ত্যাগের কাহিনী!

ব্রহ্মার তপস্যার ফল তোমরা সব বাচ্চার প্রাপ্ত হচ্ছে। তপস্যার প্রভাব এই মধুবন ভূমিতে সমাহিত হয়ে আছে। বাচ্চারাও যারা তাঁর সাথে আছে, তো সেই বাচ্চাদেরও তপস্য আছে, যতই হোক, নিমিত্ত তো ব্রহ্মাবাবাকেই বলা হবে। ব্রাহ্মণ বাচ্চারা, এমনকি যারাই মধুবনের তপস্বী ভূমিতে আসে তারা অনুভব করে এখানের বায়ুমন্ডল, এখানের ভাইব্রেশন সহজ যোগী বানিয়ে দেয়। যোগ লাগানোর পরিশ্রম নেই, সহজেই লেগে যায় এবং যে কোনও আত্মাই আসে, সে কিছু না কিছু অনুভব করেই যায়। জ্ঞান যদি বা নাও বোঝে কিন্তু অলৌকিক ভালোবাসা আর শান্তির অনুভব করেই যায়। কিছু না কিছু পরিবর্তন করার সঙ্কল্প করেই যায়। এ' হলো ব্রহ্মা আর ব্রাহ্মণ বাচ্চাদের তপস্যার প্রভাব। সেইসঙ্গে সেবার বিধি - ভিন্ন ভিন্ন প্রকারের সেবা বাচ্চাদের দ্বারা প্র্যাকটিক্যালি করিয়ে দেখিয়েছেন। সেই বিধিগুলো এখন তোমরা অনেক বেশি ব্যবহারে নিয়ে আসছ। তো যেভাবে ব্রহ্মাবাবার ত্যাগ, তপস্যা, সেবার ফল তোমরা সব বাচ্চার প্রাপ্ত হচ্ছে, ঠিক সেভাবেই প্রত্যেক বাচ্চা নিজের ত্যাগ, তপস্যা আর সেবার ভাইব্রেশন বিশ্বে ছড়িয়ে দাও। যেমন সায়েন্সের বল নিজস্ব প্রভাব প্রত্যক্ষ রূপে দেখাচ্ছে, তেমনভাবে সায়েন্সেরও রচনাকার সাইলেন্স হলো বল। সাইলেন্স-বলকে এখন প্রত্যক্ষভাবে দেখানোর সময়।

সাইলেন্স-বলের ভাইব্রেশন তীব্রগতিতে ছড়িয়ে দেওয়ার সাধন হলো, মন-বুদ্ধির একাগ্রতা। এই একাগ্রতার অভ্যাস বর্ধিত হওয়া প্রয়োজন। একাগ্রতার শক্তি দ্বারাই তোমরা বায়ুমন্ডল বানাতে পারো। অস্থিরতার কারণে পাওয়ারফুল ভাইব্রেশন তৈরি হতে পারে না।

বাপদাদা আজ দেখছিলেন যে একাগ্রতার শক্তি এখন অধিক প্রয়োজন। সব বাচ্চার একটাই দৃঢ় সঙ্কল্প হোক যে এখন ভাই-বোনেদের দুঃখের ঘটনা যেন পরিবর্তন হয়ে যায়। হৃদয় থেকে করুণা ইমার্জ হতে হবে। যখন সায়েন্সের শক্তি চাঞ্চল্যের সূচনা করতে পারে তাহলে এত সব ব্রাহ্মণের সাইলেন্সের শক্তি, উদারচিত্ত ভাবনা দ্বারা বা সংকল্প দ্বারা চাঞ্চল্যের পরিবর্তন করতে পারবে না! যখন করতেই হবে, হতেই হবে তখন সেই বিষয়ে অ্যাটেনশন দাও। যখন তোমরা গ্রেট গ্রেট গ্র্যান্ড ফাদারের বাচ্চা, সবাই তোমাদেরই ভাই ভাই, শাখা, পরিবার, তোমরাই ভক্তদের ইষ্ট দেব, তো এই নেশা আছে তোমাদের যে আমরাই ইষ্ট দেব? ভক্তরা চিৎকার করছে, শুনতে পাচ্ছ তোমরা? তারা আর্তনাদ করছে - হে ইষ্ট দেব! তোমরা শুধু শুনছ, তাদেরকে রেসপন্ড করছ না? তো বাপদাদা বলেন, হে, ভক্তদের ইষ্ট দেব! এখন তাদের মানসিক আর্তি শোনো, রেসপন্স করো, শুধু শুনো না। কী রেসপন্ড দেবে? পরিবর্তনের বায়ুমন্ডল বানাও। তোমাদের রেসপন্ড তারা যদি না পায় তবে তারাও নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। আর্ত চিৎকার ক'রে আবার চুপ হয়ে যায়।

ব্রহ্মা বাবার প্রতিটি কার্যের উৎসাহ তো দেখেছোই। শুরুতে যেমন উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল - চাবি দরকার। এখনও ব্রহ্মাবাবা শিব বাবাকে এটাই বলেন, এখন ঘরের দরজার চাবি দিন। কিন্তু যারা সাথে যাবে তাদের তো প্রস্তুত হতে হবে। একলা কী করবেন! তোমরা এখন সাথে যাবে তো না, নাকি পিছনে পিছনে যাবে? সাথে যাবে, তাই না? তাইতো ব্রহ্মা বাবা বাবাকে বলেন, বাচ্চাদের জিজ্ঞাসা করুন, বাবা যদি চাবি দিয়ে দেন তো তোমরা এভাররেডি আছ? এভাররেডি আছ নাকি রেডি আছ? শুধু রেডি নয় - এভাররেডি ত্যাগ, তপস্য, সেবা এই তিন পেপারেই প্রস্তুত হয়ে গেছ? ব্রহ্মা বাবা মৃদু মৃদু হাসেন, ভালোবাসার অশ্রু অনেক বইয়ে দেয় আর ব্রহ্মা বাবা সেই অশ্রু মুক্তোর মতো তাঁর হৃদয়ে সমাহিত করে নেন কিন্তু এক সঙ্কল্প অবশ্যই চলে যে, সবাই কবে এভাররেডি হবে! তোমাদের ডেট জানিয়ে দিই? তোমরা কেউ কী বলবে যে আমি তো এভাররেডি, কিন্তু তোমাদের যারা সাথী রয়েছে তাদেরকেও তো প্রস্তুত করো, নাকি তাদেরকে ছেড়েই চলে যাবে? তোমরা বলবে, ব্রহ্মাবাবাও চলে গেছেন তো না! কিন্তু তাঁর তো এই রচনা রচারই ছিল। ফাস্ট বৃদ্ধির দায়িত্ব ছিল। সবাই এভাররেডি, একজন নয়? সবাইকে সাথে নিয়ে যেতে হবে, তাই না? নাকি একলা একলাই যাবে? তো সবাই তোমরা এভাররেডি, নাকি হয়ে যাবে? বলো। কমপক্ষে ৯ লক্ষ তো সাথে যাবে! নয়তো কা'দের উপরে রাজত্ব করবে? নিজের উপরে রাজত্ব করবে? তাইতো, ব্রহ্মাবাবার সব বাচ্চার জন্য এই শুভ কামনা আছে যে, এভাররেডি হও আর এভাররেডি বানাও।

আজ বতনেও সব বিশেষ আদি রত্ন এবং সেবার আদি রত্ন ইমার্জ হয়েছে। অ্যাডভান্স পার্টি বলে আমরা তো তৈরি আছি। কোন্ ব্যাপারে তারা তৈরি আছে? তারা বলে, প্রত্যক্ষতার কাড়ানাকাড়া যদি বাজে তো আমরা সবাই প্রত্যক্ষ হয়ে নতুন সৃষ্টির রচনার নিমিত্ত হবো। আমরা তো আহ্বান করছি নতুন সৃষ্টির রচনাকারকে যেন তিনি আসেন। এখন সম্পূর্ণ কাজ তোমাদের উপর নির্ভরশীল৷ কাড়া-নাকাড়া বাজাও। "তিনি এসে গেছেন, তিনি এসে গেছেন".... এর নাকাড়া বাজাও। নাকাড়া কীভাবে বাজাতে হয় জানো তোমরা? বাজাতে তো হবে, হবে তো না! এখন ব্রহ্মাবাবা তোমাদের বলছেন ডেট নিয়ে এসো। তোমরাও বলো তো না যে বিনা ডেট-এ কাজ হয় না। তো এটারও ডেট বানাও। ডেট বানাতে পারো তোমরা? বাবা তো বলেন তোমরা বানাও। বাবা বলেন, আজই বানাও। কনফারেন্সের ডেট ফিক্স করেছ? আর এটা, এটারও কনফারেন্স করো তো না! বিদেশি কী মনে করছে, ডেট ফিক্স হতে পারে? ডেট ফিক্স করবো? হ্যাঁ নাকি না? আচ্ছা - দাদি জানকির সাথে পরামর্শ করে ফিক্স করো। আচ্ছা।

দেশ বিদেশের চতুর্দিকের, বাপদাদার অতি কাছের, অতি প্রিয় অথচ স্বতন্ত্র, বাপদাদা দেখছেন যে বাচ্চারা সবাই একাগ্রতায় মগ্ন হয়ে লাভলীন স্বরূপে বসে আছে। শুনছে আর মিলনের দোলায় দুলছে। দূরে নয়, কিন্তু নয়নের সামনেও নয়, সমাহিত হয়ে আছে। তো যারা এইরকম সমুখ মিলন উদযাপন করে এবং অব্যক্ত রূপে থাকা লভলীন বাচ্চাদের, সদা বাবা সমান ত্যাগ, তপস্যা আর সেবার প্রমান দেওয়া সুযোগ্য বাচ্চাদের, সদা একাগ্রতার শক্তি দ্বারা বিশ্বের পরিবর্তনকারী বিশ্ব পরিবর্তক বাচ্চাদের, সদা বাবা সমান তীব্র পুরুষার্থ দ্বারা উড়ে চলা ডবল লাইট বাচ্চাদের বাপদাদার অনেক অনেক অনেক স্মরণ-স্নেহ আর নমস্কার।

রাজস্থানের সেবাধারী : - খুব ভালো সেবার চান্স প্রাপ্ত হয়েছে রাজস্থানের। তোমাদের স্থানের নাম 'রাজস্থান', তো রাজস্থান থেকে রাজা কোয়ালিটির বের করো। প্রজা নয়, রাজ-ঘরানার রাজাদের বের করো। যেমন নাম রাজস্থান, তেমনই নামের মতো কোয়ালিটি বের হবে, যখন তোমরা সেরকম সেবা করবে। আছে কোনো লুকানো রাজ-ব্যক্তিত্ব নাকি এখনো মেঘের আড়ালে আছে? এভাবেই যারা বিজনেসম্যান আছে তাদের সেবার প্রতি বিশেষ অ্যাটেনশন দাও। এই মিনিস্টার আর সেক্রেটারি তো বদলাতেই থাকে, কিন্তু বিজনেসম্যান বাবার সাথেও এই বিজনেস করার ক্ষেত্রে কদম বাড়াতে পারে। আর বিজনেসম্যানের সেবা করার ফলে তাদের পরিবারের মাতারাও সহজে চলে আসতে পারে। মাতারা একলা আসতে পারে না কিন্তু যদি ঘরের স্তম্ভ এসে যায় তো পরিবার আপনা থেকেই ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে থাকে, সেইজন্য রাজস্থানের উচিত রাজা কোয়ালিটির বের করা। সেরকম কেউ নেই, এমন বোলো না। একটু খুঁজতে হবে কিন্তু তারা আছে। তাদের জন্য একটুখানি সময় দিতে হয়। বিজি থাকে তো না! এমন কোনো বিধি বানাতে হবে যাতে তারা কাছে আসে। বাকি ভালোই, সেবার চান্স নিয়েছ, প্রত্যেক জোন নেয় এটা খুব ভালো - কাছে আসার এবং আশীষ নেওয়ার সাধন। হতে পারে তোমাদের সবাই দেখবে অথবা দেখবে না, জানবে কিংবা জানবে না, কিন্তু তোমরা যখন ভালো সেবা করো তখন আশীর্বাদ আপনা থেকেই বের হয় আর সেই আশীর্বাদ খুব তাড়াতাড়ি পৌঁছায়। বাপদাদা তো বলেন, সবচাইতে সহজ পুরুষার্থ হলো আশীর্বাদ দাও আর আশীর্বাদ নাও। আশীর্বাদে যখন খাতা ভরে যাবে তখন পূর্ণ খাতায় মায়াও ডিস্টার্ব করবে না। জমার বল প্রাপ্ত হয়। সন্তুষ্ট থাকো আর সবাইকে সন্তুষ্ট করো। প্রত্যেকের স্বভাবের রহস্য জেনে সন্তুষ্ট করো। এরকম বোলো না এ' তো আছেই নারাজ। তোমরা নিজেরা রহস্যকে জেনে নাও, তাদের নাড়িকে জানো, তারপরে আশীর্বাদের ওষুধ দাও। তাহলে সহজ হয়ে যাবে। ঠিক আছে তো না রাজস্থান! রাজস্থানের টিচার্স ওঠো। সেবার অভিনন্দন। তো সহজ পুরুষার্থ করো, নিরন্তর আশীষ দিয়ে যাও। নেওয়ার সংকল্প ক'রো না, নিরন্তর দিয়ে যাও, তবে পেতেও থাকবে। দেওয়াই নেওয়া। ঠিক তো না! এরকমই তো, তাই না! তোমরা দাতার বাচ্চা তো না! কেউ দিলে তবে দেবে! না, দাতা হয়ে দিতে থাকো তো আপনা থেকেই প্রাপ্ত হবে। আচ্ছা।

যারা এই কল্পে প্রথম বার এসেছো তারা হাত তোলো। অর্ধেক আসে যারা প্রথমদিকের, অর্ধেক আসে যারা নতুন। আচ্ছা - পিছনের যারা কিনারে বসে আছো, সবাই তোমরা সহযোগী? সহজ যোগী যদি হও তো হাত তোলো। আচ্ছা।

বিদায়কালে (বাপদাদাকে রথ যাত্রার সমাচার শুনিয়েছেন) চতুর্দিক থেকে যাত্রার সমাচার সময় সময়তে বাপদাদার কাছে আসতে থাকে। এটা ভালো, সবাই উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে সেবার পার্ট প্লে করছে। ভক্তদের অশীর্বাদ প্রাপ্ত হচ্ছে আর যে ভক্তদের ভক্তি সম্পূর্ণ হয়েছে, বাবার পরিচয় তারা পেয়ে যাবে এবং যারা পরিচয় পাবে তাদের মধ্যে যারা বাচ্চা হবে তারাও দেখা দিতে থাকবে। বাকি সেবা ভালোভাবে চলছে আর যে সাধনই বানানো হয়েছে সেই সাধন সবাইকে ভালোই আকর্ষণ করছে। এখন রেজাল্টে কে কে কোন্ ক্যাটাগরিতে বের হবে তা' জানা হয়ে যাবে। কিন্তু ভক্তরাও তোমাদের সকলের নজর-দৃষ্টি পেয়েছে, পরিচয় পেয়েছে - এটাও ভালো সাধন। এখন অগ্রচালিত হয়ে এদের সেবা ক'রে অগ্রচালিত করতে থাকো। যারাই রথযাত্রায় সেবা করছে, ক্লান্তহীন হয়ে সেবা করছে, তাদের সবাইকে স্মরণ-স্নেহ। ব্যাপদাদা সবাইকে দেখতে থাকেন, অধিকন্তু সফলতা তো তোমাদের জন্মসিদ্ধ অধিকার। আচ্ছা।

মরিশাসে নিজেদের ঈশ্বরীয় বিশ্ব বিদ্যালয়ের ন্যাশনাল ইউনিটি অ্যাওয়ার্ড প্রাইম মিনিস্টারের দ্বারা প্রাপ্ত হয়েছে। মরিশাস তাদের ভি. আই. পি.দের সাথে খুব ভালোভাবে কানেকটেড ছিল আর তাদের উপরে তোমাদের প্রভাবও ভালো ছিল। সেইজন্য গুপ্ত সেবার ফল প্রাপ্ত হয়েছে, তো সবাইকে বিশেষ অভিনন্দন।

বরদান:-
শ্বাসে শ্বাসে স্মরণ আর সেবার ব্যালেন্সের দ্বারা ব্লেসিং প্রাপ্ত করে সদা প্রসন্নচিত্ত ভব

যেভাবে অ্যাটেনশন রাখো তোমরা যে, স্মরণের লিঙ্ক যাতে জুড়ে থাকে, ঠিক সেইভাবেই সেবাতেও সদা লিঙ্ক যেন জুড়ে থাকে। শ্বাসে শ্বাসে স্মরণ এবং শ্বাসে শ্বাসে সেবা হতে হবে - একেই বলা হয় ব্যালেন্স, এই ব্যালেন্সের সাথে সদা ব্লেসিংয়ের অনুভব করতে থাকবে। আর এই আওয়াজ হৃদয় থেকে নির্গত হবে যে, আশীর্বাদের সাথে প্রতিপালিত হচ্ছো। পরিশ্ৰম থেকে, যুদ্ধ থেকে নিস্তার পেয়ে যাবে। কী, কেন, কীভাবে এই সব প্রশ্ন থেকে মুক্ত হয়ে সদা প্রসন্নচিত্ত থাকবে। তারপরে সফলতা জন্মসিদ্ধ অধিকার রূপে অনুভব হবে।

স্লোগান:-
বাবার থেকে পুরস্কার যদি নিতে চাও তবে নিজের সাথে এবং সাথীদের সাথে নির্বিঘ্ন থাকার সার্টিফিকেট সঙ্গে থাকতে হবে।