02.09.2026 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - বাবা এসেছেন তোমাদের এমন শ্রেষ্ঠ কর্ম শেখাতে, যার দ্বারা তোমরা ২১ জন্মের রাজত্বের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করতে পারো, অটল-অখন্ড রাজ্যের মালিক হতে পারো"

প্রশ্নঃ -
গৃহস্থীদের এবং সন্ন্যাসীদের কোন্ একটি সিদ্ধান্তের মধ্যে অনেক বড় পার্থক্য রয়েছে?

উত্তরঃ  
গৃহস্থীদের সিদ্ধান্ত (মত) এই যে ভগবান কোনো না কোনো রূপে আসবে আর সন্ন্যাসীদের সিদ্ধান্ত হলো ব্রহ্মকে স্মরণ করতে-করতে ব্রহ্মে বিলীন হয়ে যাবে। বাবা এখন বোঝান যে ব্রহ্মতে কেউ বিলীন হয় না। আত্মা অমর সে বিলীন কি করে হবে। ভগবান যদি আসেন তাহলে শিক্ষক রূপেই শিক্ষা দেবেন। অনুপ্রেরণার দ্বারা তো জ্ঞান দেবেন না, তাই না!

গীতঃ-
তোমায় পেয়ে আমরা...

ওম্ শান্তি ।
মিষ্টি মিষ্টি আধ্যাত্মিক বাচ্চারা এই গান শুনেছে। রুহানী বাচ্চারাই বলে যে 'বাবা'। বাচ্চারা জানে যে অসীম জগতের পিতা অসীম জগতের সুখ প্রদান করবেন। অর্থাৎ তিনি সকলের বাবা, ওনাকে অসীম জগতের সকল আত্মা-রূপী বাচ্চারাই স্মরণ করে। কোনো না কোনো ভাবে স্মরণ করে কিন্তু তাদের জানা নেই যে আমাদের সেই পরমপিতা পরমাত্মার থেকে কোনো রাজত্ব নিতে হবে। তোমরা জানো, আমাদের যে বাবা সত্যযুগী বিশ্বের বাদশাহী দেন তিনি অটল, অখন্ড, সুদৃঢ়। আমাদের সেই রাজত্ব ২১ জন্ম অটুট থাকে। সমগ্র বিশ্বে আমাদের রাজত্ব থাকে, যা কেউ ছিনিয়ে নিতে পারে না, লুঠ করে নিতে পারে না। আমাদের রাজত্ব অটুট থাকে। কারণ ওখানে একটিই ধর্ম থাকে, দ্বিতীয় নেই। ও'টা হলো অদ্বৈত রাজ্য। বাচ্চারা যখন গান শোনে তখন নিজেদের রাজত্বের নেশা বুদ্ধিতে আসা উচিত। এমন-এমন গান ঘরে থাকা উচিত, যাতে বাবা এবং উত্তরাধিকার শীঘ্রই স্মরণে আসে। বাবাকে স্মরণের জন্য আনন্দের গান থাকা উচিত। তোমাদের সবই হলো গুপ্ত। বড়লোকেদের তো অনেক ঠাট-বাট, তোমাদের কোনো ঠাট-বাট নেই। তোমরা দেখো যে, যার মধ্যে বাবা প্রবেশ করেন তাঁরও কোনো ঠাট-বাটের ব্যাপার নেই। পোশাকাদি সব ও'রকমই আছে। তোমরা বুদ্ধির দ্বারা বোঝ যে বাবা এনার মধ্যে প্রবেশ করেছেন - আমাদের রাজ্য-ভাগ্য দেওয়ার জন্য। এও বাচ্চারা জানে যে সমগ্র সৃষ্টিতে এইসময় যেসকল মানুষেরা রয়েছে, সকলেই দেহ-অভিমানে এসে আনরাইটিয়াস (ন্যায়নীতি-হীন) কাজ করে, সেইজন্যই অবুঝ বলে। সকলের বুদ্ধিতে তালা লেগে রয়েছে। তোমরা কত বুঝদার, বিশ্বের মালিক ছিলে। এখন মায়া সম্পূর্ণ অবুঝ বানিয়ে দিয়েছে, যা আর কোনো কাজের নয়। বাবার নিকটে যাওয়ার জন্য অনেক যজ্ঞ-তপস্যা করে কিন্তু পায় না কিছুই। এভাবেই ধাক্কা খেতে থাকে। পরমাত্মাকে কেউই জানে না, সর্বব্যাপী বলে দেয়, এতেও কত ভুল হয়ে যায়। 'বাবা' শব্দ বুদ্ধিতে আসে না। কারোর (বুদ্ধিতে) এলেও তা কথার কথা। যদি পরমপিতা মনে করে তবে তো বুদ্ধি একদম উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। বাবা স্বর্গের উত্তরাধিকার দেন, তিনি হলেন হেভেনলী গডফাদার তাহলে আমরা কেন কলিযুগী নরকে পড়ে রয়েছি! এখন আমরা মুক্তি-জীবনমুক্তি কিভাবে পেতে পারি, তা কারোর বুদ্ধিতে আসে না। এখন তোমরা বুঝতে পেরেছো। বাবা আমাদের এই স্মৃতি প্রদান করেছেন, যখন নতুন দুনিয়া, নতুন ভারত ছিল তখন আমাদের রাজ্য ছিল। একই মত, একই ভাষা, একজনই মহারাজা-মহারানী ছিল। সত্যযুগে মহারাজা-মহারানী, ত্রেতায় রাজা-রানী বলা হয়। পুনরায় দ্বাপরে বাম-মার্গ শুরু হয় তখন প্রত্যেকের কর্মের উপরেই সব নির্ভর করে। কর্ম অনুসারে এক শরীর পরিত্যাগ করে অন্য ধারণ করে। এখন বাবা বলেন - আমি তোমাদের এমন কর্ম শেখাই, যার ফলে ২১ জন্ম রাজত্বই লাভ করতে থাকবে। যদিও ওখানেও পার্থিব পিতাকে পাও কিন্তু ওখানে এই জ্ঞান থাকে না যে এই রাজত্বের উত্তরাধিকার অসীম জগতের পিতার দেওয়া। পরে যখন দ্বাপর থেকে রাবণ-রাজ্য শুরু হয় তখন বিকারী সম্বন্ধ হয়ে যায়। তখন যেমন-যেমন কর্ম তেমনই ফল লাভ করে, দেবতারা বাম-মার্গে চলে যায়। তখন সত্যযুগের সবকিছু সমাপ্ত হয়ে যায়। পুনরায় কর্ম অনুসারে জন্ম নেয়। ভারতেই পূজ্য রাজারা ছিল আর পূজারী রাজারাও আছে। সত্যযুগে রাজা-রানী আর প্রজা সকলেই পূজ্য ছিল। পরে যখন দ্বাপর থেকে ভক্তি শুরু হয় তখন যথা রাজা-রানী তথা প্রজাও পূজারী হয়ে যায়। বড় রাজারা যারা সূর্যবংশীয় ছিল তারাই পূজারী হয়ে যায় তারপর বৈশ্যবংশীয় হয়ে যায়। এখন তোমরা নির্বিকারী হও। তার প্রালব্ধ পরে ২১ জন্ম পর্যন্ত চলে তারপর ভক্তিমার্গ শুরু হয়। যারা-যারা পূজ্য দেবী-দেবতা হয়ে গেছে, তাদের মন্দির নির্মাণ করে তাদেরই পূজা করে। এ কেবল ভারতেই হয়ে থাকে। এই ৮৪ জন্মের গল্প যা বাবা শোনান, সেও ভারতবাসীদের জন্য। অন্য ধর্মাবলম্বীরা আসেই পরে তখন বৃদ্ধি হতে-হতে প্রচুর প্রচুর হয়ে যায়। বিভিন্ন দেবী-দেবতাদের ভ্যারাইটি রীতি-রেওয়াজ ছিল, তা ভারতের গুরুদের নেই। অর্ধেককল্প পরে রাবণ-রাজ্য শুরু হওয়ার জন্য রীতি-রেওয়াজই বদল হয়ে যায়। তখন পূজ্য থেকে পূজারী হয়ে যায় প্রথমে পূজাও অব্যভিচারী একমাত্র শিবেরই করা হয়। ওনার মন্দির নির্মাণ করে তারপর লক্ষ্মী-নারায়ণের তৈরী করবে। একজন লক্ষ্মী-নারায়ণের মন্দির নির্মাণ করলে তখন অন্যেও নির্মাণ করবে। পুনরায় রাম-সীতার মন্দির নির্মাণ করতে লেগে পড়বে। আবার কলিযুগে দেখো গনেশ, হনুমান, চন্ডিকা দেবী ইত্যাদি-ইত্যাদি অনেক দেবীদের চিত্র তৈরী করতে থাকে। ভক্তিমার্গের জন্য সামগ্রীও চাই, তাই না! যেমন বীজ কত ছোট হয়, বৃক্ষ কত বড় হয়ে থাকে, তেমনই ভক্তিরও বিস্তার হয়ে যায়। কত কত শাস্ত্র বানানো হয়। এখন বাবা বাচ্চাদের বলেন - এই ভক্তিমার্গের সামগ্রী সবই সমাপ্ত হয়ে যাবে। এখন আমায় অর্থাৎ বাবাকে স্মরণ করো। ভক্তির প্রভাবও অনেক, তাই না! কত সুন্দর। নৃত্য-প্রদর্শনী, গায়ন-কীর্তন ইত্যাদি কত খরচ করে। এখন বাবা বলেন পিতা-রূপে আমায় আর উত্তরাধিকারকে স্মরণ করো। আদি সনাতন ধর্মকে স্মরণ করো। অনেকপ্রকারের ভক্তি তোমরা জন্ম-জন্মান্তর ধরে করে এসেছো। গৃহস্থধর্মীরাই ভক্তি শুরু করে। সন্ন্যাসীরা তো ভক্তি করে না। জপ-তপ, দান-পুণ্য, তীর্থ ইত্যাদি এ'সব গৃহস্থীদের কাজ, না কি সন্ন্যাসীদের। তারা হলই নিবৃত্তি-মার্গীয়। তাদের নিয়ম হলো ঘর-বাড়ী ত্যাগ করে জঙ্গলে গিয়ে থাকা আর ব্রহ্মতত্বকে স্মরণ করা। তারা হলই তত্ত্ব-জ্ঞানী, ব্রহ্ম-জ্ঞানী। তত্ত্ব বা ব্রহ্মকেই ঈশ্বর বলে দেয়। যেমন ভারতবাসী প্রকৃতপক্ষে আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্মের। কিন্তু হিন্দুস্তানে থাকে তাই নিজের ধর্মকে হিন্দু মনে করে। তেমনই সন্ন্যাসীরাও আত্মাদের নিবাসস্থল ব্রহ্মকে পরমাত্মা মনে করে নেয়। ব্রহ্ম বা তত্ত্বকেই স্মরণ করে। বাস্তবে সন্ন্যাসী যখন সতোপ্রধান থাকে তখন জঙ্গলে গিয়ে থাকে, শান্তিতে। এমন নয় যে তাদের ব্রহ্মে গিয়ে বিলীন হতে হবে। বাবা বলেন - এ ওদের অসত্য জ্ঞান। বিলীন কেউই হতে পারে না। আত্মা তো অবিনাশী, তাই না! সে কিভাবে বিলীন হতে পারে ! ভক্তিমার্গে কত মাথা কুটতে থাকে। আবার বলে যে ভগবান কোনো না কোনো রূপে কখনো এসে মিলিত হবে। এখন সঠিক কে? তারা বলে - ব্রহ্মের সঙ্গে যোগযুক্ত হয়ে ব্রহ্মে বিলীন হয়ে যাব। গৃহস্থীরা বলে যে ভগবান কোনো না কোনরূপে আসবে। পতিতদের পবিত্র করবে। এইরকম নয় যে উপর থেকে অনুপ্রেরণার দ্বারাই শেখাবেন। টিচার ঘরে বসে অনুপ্রেরণা দেবে কি! প্রেরণা শব্দটিই নেই। প্রেরণার দ্বারা কোনো কাজ হয় না। যদিও শঙ্করের প্রেরণায় বিনাশ এমন বলা হয় কিন্তু এও ড্রামায় নির্ধারিত। ওদের (সায়েন্টিস্ট) এই মুসল (মিসাইল) ইত্যাদি তৈরী করতেই হবে। প্রেরণার কোনো কথাই নেই। মানুষ তো বলে যে ভগবানের প্রেরণায় সবকিছু হয় অথবা বলে যে শঙ্করের চোখ খুলতেই প্রলয় হয়ে যায়, এ'সব হলো গল্প কথা, অর্থ কিছুই বোঝে না। কারও মন্দিরে গেলে বলবে "অচ্যুতম্ কেশবম্ ......." অর্থ কিছুই বোঝে না। কেউই নিজের থেকে বড়দের মহিমা জানে না। ধর্মস্থাপককে গুরু বলে দেয়। বাস্তবে তাদের গুরু বলা ভুল। খ্রাইস্ট কি কোনো গুরু নাকি! তিনি তো কেবল ধর্ম স্থাপন করেন। গুরু তাকেই বলা হয় যিনি সদ্গতি করেন। তারা তো ধর্ম স্থাপন করতে আসে। তাদের পরে তাদের বংশজেরা আসে। সদ্গতি তো কারোর করেই না। তবে তাদের গুরু কিভাবে বলবে। গুরু তো একজনই, যাকে সকলের সদ্গতিদাতা বলা হয়। ঈশ্বর-পিতা এসেই সকলকে সদ্গতি প্রদান করেন। মুক্তি-জীবনমুক্তি দান করেন। ওনার স্মরণ কখনো কেউ ভুলে যেতে পারে না। মানুষ হে ভগবান! হে ঈশ্বর! বলে অদ্বিতীয় পিতাকেই স্মরণ করে কারণ তিনি হলেন সকলের সদ্গতিদাতা। বাবা বোঝান যে এ হলো সম্পূর্ণ রচনা। রচয়িতা বাবা আমিই -- সকলকে সুখ প্রদান করা, উত্তরাধিকার প্রদান করার সত্যিই একমাত্র বাবা। ভাই ভাইকে উত্তরাধিকার প্রদান করতে পারে না। উত্তরাধিকার সর্বদা বাবার থেকেই পাওয়া যায়। আমি সকল অসীম জগতের বাচ্চাদের অসীম জগতের উত্তরাধিকার প্রদান করি সেইজন্যই আমায় স্মরণ করে, হে পরমাত্মা ক্ষমা করো। বোঝে না কিছুই। বাবা বলেন - আমি এদের আহ্বান করার কারণে আসি না। এ তো ড্রামায় তৈরী হয়েই আছে। ড্রামায় আমার আসার পার্টও নির্ধারণ করা রয়েছে। অনেক ধর্মের বিনাশ, এক ধর্মের স্থাপনা বা কলিযুগের বিনাশ, সত্যযুগের স্থাপনা করতে হয়। আমি আপন সময়ানুসারে নিজেই আসি। এই ভক্তিমার্গের পার্টও ড্রামায় রয়েছে। এখন যখন ভক্তিমার্গের পার্ট সম্পূর্ণ হয়েছে তখন এসেছি। কল্প-পূর্বেও বাবা তুমি ব্রহ্মার শরীরে এসেছিলে। এই জ্ঞান এখনই তোমরা পাও। পুনরায় আর কখনো পাবে না। এ হলো জ্ঞান, ও'টা হলো ভক্তি। জ্ঞানের প্রালব্ধ হলো উত্তরণ-কলা (চড়তী)। বলা হয় সেকেন্ডে জীবনমুক্তি। জনকের সেকেন্ডে জীবনমুক্তি প্রাপ্ত হয়েছিল, তাই না! কিন্তু একজন জনকই কি জীবনমুক্তি পেয়েছিল? জীবনমুক্তি তো সকলেই পায়, তাই না! সমগ্র বিশ্ব পায়। সদ্গতি বা জীবনমুক্তি একই শব্দ। জীবনমুক্তি অর্থাৎ জীবনকে মুক্ত করে - এই রাবণ-রাজ্য থেকে। বাবা জানে, বাচ্চাদের কত দুর্গতি হয়ে গেছে, একদম দুঃখী হয়ে পড়েছে। তাদেরই পুনরায় সদ্গতি হবে। প্রথমে মুক্তিতে গিয়ে তারপর জীবনমুক্তিতে আসবে। শান্তিধাম থেকে সুখধামে আসবে। চক্রের এই রহস্য বাবা বুঝিয়েছেন। বাবা বলেন - এইসময় সমগ্র সৃষ্টির বৃক্ষ জরাগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে, তমোপ্রধান হয়ে গেছে সেইজন্য কেউই নিজেকে আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্মের মনে করে না। আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্মের ছিল কারণ দেবতারা পবিত্র ছিল। আমরা অপবিত্র, পতিত নিজেদের দেবতা কিভাবে বলতে পারি সেইজন্য বলা হয় - এই বিকারগুলিকে পরিত্যাগ করতে থাকো। এই বিকারাদি অর্ধেক কল্প ধরে রয়েছে। এখন এক জন্মে এদের ত্যাগ করতে হবে, এতে পরিশ্রম রয়েছে। পরিশ্রম ছাড়া বিশ্বের মালিক হতে পারবে নাকি! বাবাকে স্মরণ করলে তবেই তোমরা নিজেদেরকে রাজত্বের তিলক পড়াতে পারবে অর্থাৎ রাজত্বের অধিকারী হবে। যত ভালোভাবে স্মরণ করবে, শ্রীমতানুসারে চলবে তবেই তোমরা রাজার রাজা হবে। শিক্ষাদাতা শিক্ষক এসেছেন পড়াতে। এই পাঠশালা হলোই মানুষ থেকে দেবতা হওয়ার। নর থেকে নারায়ণ হওয়ার কথা শোনাতে থাকে। এই কথা কত প্রসিদ্ধ। একে অমরকথা, সত্যনারায়ণের কথা, তিজরীর কথা বলা হয়। দেখো, গীতা কত ভালো। বাবা আমাদের বিশ্বের মালিক বানিয়ে দেন, যে মালিকভাব কেউ লুন্ঠন করতে পারবে না। কোনো আর্থকোয়েক ইত্যাদি হবে না। ওখানে বিঘ্নের কোনো কথাই নেই। এরকম অটল, অখন্ড, পবিত্রতা, সুখ-শান্তির রাজ্য তোমরা এখন পেতে চলেছো। কল্প-পূর্বের মতন প্রতি ৫ হাজার বছর পর ভারত স্বর্গ হয়ে যায়। তোমরা জানো যে আমরাই দেবতা ছিলাম পুনরায় ৮৪ জন্ম নিতে-নিতে এখন এসে এইরকম হচ্ছি। পুনরায় আমরা দেবতা হবো। একেই বলা হয় স্বদর্শন-চক্রধারী। আচ্ছা!

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা-রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১) নিজেই নিজেকে রাজত্বের তিলক পড়ানোর জন্য স্মরণে থাকার পরিশ্রম করতে হবে। সমস্ত বিকারগুলিকে পরিত্যাগ করতে হবে।

২) ব্রহ্মা বাবার সমান সাধারণ এবং গুপ্ত থাকতে হবে। বাইরের আতিশয্য ইত্যাদি করবে না। নিজের ভবিষ্যতের নেশায় থাকতে হবে।

বরদান:-
নিজের চঞ্চল বৃত্তিকে পরিবর্তন করে সতোপ্রধান বায়ুমণ্ডল তৈরি করা দায়িত্ববান আত্মা ভব

যে বাচ্চা নিজের চঞ্চল বৃত্তিগুলিকে পরিবর্তন করে নিতে পারে সেই সতোপ্রধান বায়ুমণ্ডল বানাতে পারে, কারণ বৃত্তি দ্বারাই বায়ুমণ্ডল তৈরি হয়। বৃত্তি চঞ্চল তখনই হয় যখন বৃত্তিতে এই বিশাল কার্যের স্মৃতি থাকে না। যদি কোনো অতি চঞ্চল বাচ্চা বিজি থেকেও চঞ্চলতা না ছাড়ে তখন তাকে বেঁধে রাখা হয়। ঠিক তেমনি জ্ঞান-যোগের মধ্যে বিজি থাকার পরেও যদি বৃত্তি চঞ্চল থাকে তাহলে এক বাবার সাথে সর্ব সম্বন্ধের বন্ধনে বৃত্তিকে বেঁধে দাও তাহলে চঞ্চলতা সহজেই সমাপ্ত হয়ে যাবে।

স্লোগান:-
অলসতার তরঙ্গকে সমাপ্ত করার সাধন হলো অসীমের বৈরাগ্য ।

অব্যক্ত ইশারা :- এখন নিজের দাতা স্বরূপকে প্রত্যক্ষ করো

দাতার (দানশীলতা) সংস্কারকে ইমার্জ করে মন্সা দ্বারা পুণ্যের খাতা জমা করো, বাণী দ্বারা দুর্বল আত্মাদের খুশিতে, বিপর্যস্ত আত্মাদের স্ব-মানের স্মৃতিতে, এবং হতাশাগ্রস্ত আত্মাদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা ফিরিয়ে আনো, সম্বন্ধ-সম্পর্কের মাধ্যমে আত্মাদেরকে নিজের শ্রেষ্ঠ সঙ্গের রঙের অনুভব করাও, তবেই পুণ্যের খাতা জমা হতে থাকবে।