03.07.2026 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


“মিষ্টি বাচ্চারা - তোমরা এই ড্রামার আদি-মধ্য-অন্তকে জানো, তোমরা বাবার দ্বারা জ্ঞানের তৃতীয় নেত্র পেয়েছো, তাই তোমরা হলে আস্তিক”

প্রশ্নঃ -
বাবার কোন্ টাইটেল ধর্মস্থাপকদের দেওয়া যায় না?

উত্তরঃ  
বাবা হলেন সদ্গুরু । কোনো ধর্ম স্থাপককে গুরু বলা হবে না, কারণ গুরু হলেন তিনিই যিনি দুঃখ থেকে মুক্ত করেন, সুখের নিয়ে যাবেন। ধর্ম স্থাপকদের পিছনে তাদের ধর্মের আত্মারা উপর থেকে নীচে আসে, তারা কাউকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় না। বাবা যখন আসেন তখন সব আত্মাদের ঘরে অর্থাৎ পরমধাম নিয়ে যান তাই বাবা হলেন সকলের সদ্গুরু ।

গীতঃ-
এই পাপের দুনিয়া থেকে দূরে কোথাও নিয়ে চলো....

ওম্ শান্তি ।
মিষ্টি-মিষ্টি আত্মা রূপী বাচ্চারা গানের লাইন শুনলো। এ হলো পাপ আত্মাদের দুনিয়া। কতখানি মন্দ শব্দ এটা। কিন্তু মানুষ একা বুঝতে পারে না যে, সত্যি সত্যিই এটা যে পাপ আত্মাদের দুনিয়া। নিশ্চয়ই পুণ্য আত্মাদের কোনো দুনিয়াও ছিলো, যাকে স্বর্গ বলা হয়। পাপ আত্মাদের দুনিয়াকে বলা হয় নরক। ভারতেই স্বর্গ ও নরকের বিষয়ে চর্চা হয়। মানুষ মরলে বলে স্বর্গবাসী হয়েছে, এর অর্থ হল নরকবাসী ছিল। পতিত দুনিয়া থেকে পবিত্র দুনিয়ায় গেছে। কিন্তু মানুষ তো কিছুই জানে না, যা ইচ্ছা হয় তাই বলে। যথার্থ অর্থ কিছুই বুঝতে পারেনা।

বাবা এসে বাচ্চারা তোমাদেরকে ভরসা দেন যে এখন একটু ধৈর্য ধরো। তোমরা পাপের বোঝার ভারে অত্যন্ত ভারী হয় গেছো। এখন তোমাদেরকে আমি পুণ্য আত্মা বানিয়ে এমন দুনিয়ায় নিয়ে যাই, যাকে স্বর্গ বলা হয়। সেখানে না আছে পাপ, না কোনো দুঃখ হবে। বাচ্চারা ধৈর্য শক্তি প্রাপ্ত করেছে। আজ এইখানে আছে কাল শান্তিধাম, সুখধামে যাবে। যেমন রুগী মানুষ একটু সুস্থ হয়ে উঠলে ডাক্তার ধৈর্য ধারণ করতে বলে - খুব শীঘ্র তুমি ভালো হয়ে যাবে। এখন এই হল অসীমের ধৈর্য। অসীম জগতের পিতা বলেন - তোমরা তো দুঃখী পতিত হয়েছো। বাচ্চারা, এখন আমি তোমাদেরকে ঈশ্বরে বিশ্বাসী করে দিচ্ছি। তারপর রচনার পরিচয়ও দেন। ঋষি মুনি ইত্যাদি বলে এসেছে আমরা রচয়িতা ও রচনাকে জানি না। তাহলে কে জানে । কবে ও কীভাবে জানতে পারা যাবে, সে কথা কেউ জানেনা। ড্রামার আদি-মধ্য-অন্তের কথা কেউ জানেই না। বাবা বলেন - আমি সঙ্গমযুগে এসে ড্রামা অনুসারে বাচ্চাদের অর্থাৎ তোমাদেরকে সর্বপ্রথম ঈশ্বরে বিশ্বাসী বানাই তারপরে তোমাদেরকে রচনার আদি-মধ্য-অন্তের রহস্য বলি অর্থাৎ তোমাদের জ্ঞানের তৃতীয় নেত্র খুলি। তোমরা জ্ঞানের আলো প্রাপ্ত করো। চোখের জ্যোতি হারিয়ে গেলে মানুষ অন্ধ হয়ে যায়। এই সময় মানুষের জ্ঞানের তৃতীয় নেত্র নেই। মানুষ হয়ে পিতা এবং পিতার রচনার আদি-মধ্য-অন্তকে না জানলে তাকে বুদ্ধিহীন বলা হবে। গানেও আছে - এক অন্ধের সন্তানও অন্ধ। অন্য জন সুন্দর। দেখানো হয় - মহাভারত যুদ্ধ হয়েছিল এবং এক আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্মের স্থাপনা হয়েছিল। বাবা এসে আত্মাদেরকে রাজ যোগ শিখিয়ে ছিলেন - সত্যযুগী স্বরাজ্য প্রদান করার জন্য। আত্মারা বলে আমি রাজা, আমি ব্যারিস্টার। তোমাদের আত্মা এখন জানে - আমরা বিশ্বের স্ব রাজ্য প্রাপ্ত করছি - বিশ্বের রচয়িতা পিতার দ্বারা। উনি কিসের রচয়িতা? নতুন দুনিয়ার। বাবা নতুন সৃষ্টির রচনা করেন। উনি হলেন ক্রিয়েটর তার ওনার মধ্যে সম্পূর্ণ জ্ঞান আছে। সম্পূর্ণ বিশ্বের হিস্ট্রি একজনও জানে না। কারো কাছে জ্ঞানের তৃতীয় নেত্র নেই। বাবা ব্যতীত কেই জ্ঞানের তৃতীয় নেত্র প্রদান করতে পারে না। বিশ্বের হিস্ট্রি, জিওগ্রাফি, মূল বতন, সূক্ষ্ম বতন, স্থূল বতন.... এই সব তোমরা জানো। মূল বতন হলো আত্মাদের সৃষ্টি। সন্ন্যাসী বলে আমরা ব্রহ্মে বিলীন হয়ে যাবো বা জ্যোতি জ্যোতিতে বিলীন হবে। এমন নয়। তোমরা জানো ব্রহ্ম তত্ত্বে গিয়ে বাস করবো। ওই হল শান্তিধাম আমাদের ঘর। তারা বলে ব্রহ্ম হল ভগবান, কতখানি তফাৎ। ব্রহ্ম তো হল তত্ত্ব । যেমন আকাশ তত্ত্ব, তেমনই ব্রহ্মও হল তত্ত্ব। যেখানে আমরা আত্মারা এবং পরম পিতা পরমাত্মা বাস করেন, তারই নাম সুইট হোম। ওটা হলো আত্মাদের ঘর। বাচ্চারা জেনেছে, ব্রহ্ম মহাতত্ত্বে কোনো আত্মা বিলীন হয়ে না এবং আত্মারা কখনো বিনাশ প্রাপ্ত করে না। আত্মারা হল অবিনাশী। এইরূপ ড্রামা নির্দিষ্ট আছে। এই ড্রামাতে বিভিন্ন রকমের অভিনেতা আছে। এখন হল সঙ্গমযুগ, যখন সব অভিনেতারা উপস্থিত আছে। নাটক পূর্ণ হয় তখন সব অভিনেতারা, ক্রিয়েটর ইত্যাদি সবাই এসে স্টেজে হাজির হয়। এই সময় এই অসীমের ড্রামাও পুরো হচ্ছে যা পুনরায় রিপিট হবে। ওই জাগতিক নাটকে পরিবর্তন হতে পারে। ড্রামা পুরানো হয়ে যায়। এই অসীমের ড্রামা হল অনাদি অবিনাশী। বাবা ত্রিকালদর্শী, ত্রিনেত্রী বানান। দেবতারা ত্রিকালদর্শী নয়। শূদ্র বর্ণের মানুষও ত্রিকালদর্শী হয় না। ত্রিকালদর্শী তো কেবল তোমরা ব্রাহ্মণরাই হও। যতক্ষণ ব্রাহ্মণ হবে না ততক্ষণ জ্ঞানের তৃতীয় নেত্র প্রাপ্ত হবে না। তোমরা বৃক্ষের আদি-মধ্য-অন্তকে, সব ধর্মকে জানো। তোমরাও মাস্টার নলেজফুল হয়ে যাও। বাবা বাচ্চাদেরকে নিজের মতন বানাবেন তাইনা। জ্ঞানের সাগর তো হলেন একমাত্র বাবা, উনি সব আত্মাদের পিতা। সব বাচ্চাদের ঈশ্বরে বিশ্বাসী করে ত্রিকালদর্শী বানান। বাচ্চারা, এখন সবাইকে তোমরা এই কথা বলবে যে শিববাবা এসেছেন, তাঁকে স্মরণ করো। যারা ঈশ্বরে বিশ্বাসী হয় তারা বাবাকে ভালোবাসে। তোমাদের জন্য বাবারও ভালোবাসা আছে। তোমাদেরকে স্বর্গের অধিকার দেন। গায়ন আছে বিনাশ কালে বিপরীত বুদ্ধি বিনাশন্তি এবং বিনাশ কালে প্রীত বুদ্ধি বিজয়ন্তী। গীতায় কোনো কোনো শব্দ প্রকৃত সত্য। শ্রীমদ্ভাগবৎ গীতা হল সর্বোত্তম শাস্ত্র। আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্মের শাস্ত্র। এই কথাও বোঝানো হয়েছে মুখ্য ধর্ম শাস্ত্র হলো ৪-টি এবং অন্য ধর্ম যেগুলি আছে তারা আসে কেবল ধর্ম স্থাপন করতে। রাজত্বের কথা নেই। তাদেরকে গুরুও বলা যাবে না। গুরুর কর্তব্য হল - সঙ্গে নিয়ে যাওয়া। ইব্রাহিম, বুদ্ধ, খ্রীষ্ট ইত্যাদি তো আসেন পরে তাদের অনুসরণ করে তাদের বংশধররাও আসে। গুরু দুঃখ থেকে মুক্ত করেন এবং সুখের জগতে নিয়ে যান। তারা তো কেবল ধর্ম স্থাপন করতে আসেন। এখানে তো অনেককে গুরু বলা হয়। ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শঙ্করকেও গুরু বলা হবে না। একমাত্র শিববাবা ই হলেন সর্বের সদগতি দাতা। আহবানও করে একমাত্র রামকে। শিববাবাকেও রাম বলা হয়। অনেক ভাষা আছে, তো নামও অনেক রেখেছে। আসলে নাম হল শিব। তাঁকে সোমনাথও বলা হয়। সোমরস পান করালেন অর্থাৎ জ্ঞান ধন প্রদান করেন। যদিও পানীয় জল ইত্যাদির কোনো কথা নেই। তোমাদেরকে সম্মুখে নলেজফুল, ব্লিসফুল বানাচ্ছেন। বাবা তো হলেন জ্ঞানের সাগর। তোমরা বাচ্চারা জ্ঞানের নদী বানাও। সাগর হয় একটি। একটি সাগর থেকে অনেক নদীর জন্ম হয়। এখন তোমরা হলে সঙ্গমে। এই সময় সম্পূর্ণ পৃথিবী জুড়ে রাবণের স্থান। শুধুমাত্র একটি লঙ্কা ছিল না, সম্পূর্ণ পৃথিবীতে রাবণের রাজত্ব আছে। রামরাজ্যে খুব কম মানুষ হবে। এই কথা শুধু তোমাদের বুদ্ধিতে আছে। বাবা বুঝিয়েছেন - আমি ৩-টি ধর্ম স্থাপন করি - ব্রাহ্মণ, দেবতা, ক্ষত্রিয়। তারপরে বৈশ্য, শূদ্র বর্ণে অন্য সবাই এসে নিজের-নিজের ধর্ম স্থাপন করে। অনেক ধর্মের বিনাশও বাবা করেন। ভারতে ত্রিমূর্তির চিত্রও বানানো হয়েছে। কিন্তু তাতে শিবের চিত্র লুপ্ত করে দিয়েছে। শিবের দ্বারা প্রমাণিত হয় যে পরম পিতা পরমাত্মা শিব ব্রহ্মা দ্বারা স্থাপনা, বিষ্ণু দ্বারা পালনা অর্থাৎ রক্ষণাবেক্ষণ করান, তাঁকেই করনকরাবনহার (যিনি করান) বলা হয়। বাবা নিজেও কর্ম করেন, বাচ্চাদের অর্থাৎ তোমাদেরকেও শেখান। কর্ম-অকর্ম-বিকর্মের গতিও বুঝিয়ে দেন। রাবণ রাজ্যে তোমরা যা কর্ম করো সেসব বিকর্ম হয়ে যায়। সত্যযুগে যে কর্ম করো তা অকর্ম হয়ে যায়। এখানে বিকর্ম ই হয় কারণ এই হল রাবণের রাজ্য। সত্যযুগে ৫ বিকার থাকে না। এক একটি কথা বুঝতে হবে এবং সেকেন্ডে বোঝানো হয়। ওম্ - শব্দের অর্থ তারা বিস্তারিত ভাবে বোঝায়। বাবা বলেন - ওম্ অর্থাৎ অহম্ আত্মা এবং এই হল আমার শরীর। কতখানি সহজ। তোমরা ভাবছো আমরা সুখধামে যাই। কৃষ্ণের মন্দিরকে সুখধাম বলা হয়। বলাও হয় কৃষ্ণ পুরী। মাতারা কৃষ্ণপুরী যাওয়ার জন্য অনেক পরিশ্রম করে। তোমরা এখন ভক্তি করোনা। তোমরা জ্ঞান প্রাপ্ত করেছো অন্য কোনো মানুষ মাত্রেই এই জ্ঞান নেই। আমি তোমাদেরকে পবিত্র করে নিয়ে যাই, তাহলে পতিত কে বানায় ? এই কথার উত্তর কেউ দিতে পারে না। মেল অথবা ফিমেল সবাই হল ভক্তি, সবাই হল সীতা। সকলের সদগতি করেন বাবা। সবাই রাবণের কারাগারে আছে। এই হল দুঃখ ধাম। বাবা তোমাদেরকে সুখধামের মালিক বানিয়ে দেন। এমন বাবাকে ৫ হাজার বছর পরে শুধুমাত্র তোমরা দেখছো। লক্ষ্মী-নারায়ণের আত্মার ও এখন নলেজ আছে। আমরা শৈশবে এমন রূপে থাকি (কৃষ্ণ রূপে) তারপরে বড় হই, এমন করে শরীর ত্যাগ করবো। পরের জন্ম যাবো কারো এই নলেজ নেই।

বাবা বলেন - তোমরা সবাই হলে পার্বতী, শিববাবা তোমাদেরকে অমর কাহিনী শোনাচ্ছেন - অমর বানানোর জন্য, অমরলোকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। এই হল মৃত্যু লোক। তোমরা সবাই পার্বতী, তোমরা অমরনাথের দ্বারা অমরকাহিনী শুনছো। তোমরা সত্য স্বরূপে পরিণত হও শুধু বাবাকে স্মরণ করে তোমাদের আত্মা অমর হয়, যেখানে দুঃখের কোনো কথা নেই। যেমন সর্প এক খোলস ত্যাগ করে অন্যটি ধারণ করে। এইসব দৃষ্টান্ত হল সঙ্গমের। ভ্রমরির দৃষ্টান্তও হল এখানকার। তোমরা ব্রাহ্মণরা কি করো ? বিকারগ্রস্ত কীট গুলিকে পরিবর্তন করে দেবতা বানাও। মানুষের কথাই বলা হচ্ছে। ভ্রমরির এ হলো একটি দৃষ্টান্ত। তোমরা ব্রাহ্মণ বাচ্চারা এখন বাবার দ্বারা অমর কাহিনী শুনছো, অন্যদেরকে বসে নলেজ শোনাচ্ছো, যাতে মানুষ থেকে দেবতা, স্বর্গের পরী হতে পারে। এমন নয় যে মান সরোবরে ডুব দিয়ে কেউ পরী হয়ে যাবে। এইসব হলো মিথ্যা। তোমরা মিথ্যা কথা শুনে এসেছো, এখন বাবা সত্য কথা বলে দিচ্ছেন। এখন বাবা বলছেন - নিজেকে আত্মা নিশ্চয় করো। তোমরা বুঝেছো নিরাকার পরম পিতা পরমাত্মা এই মুখ দ্বারা ( ব্রহ্মার মুখ দ্বারা) জ্ঞান শোনাচ্ছেন। আমরা এই কান দিয়ে শুনছি। আত্ম-অভিমানী হতে হবে, সেই কথা পরমাত্মাও রিয়ালাইজ করিয়ে দেন। আমি কে ? অন্য কেউ আত্ম - অভিমানী করতে পারে না। একমাত্র বাবা ব্যতীত কেউ বলতে পারে না যে তোমরা আত্ম - অভিমানী হও। শিব জয়ন্তীও পালন করে কিন্তু তাঁর জয়ন্তী কিভাবে হয়, সে কথা জানে না। বাবা নিজে এসে বোঝান - আমি সাধারণ বৃদ্ধ দেহে প্রবেশ করি। তা নাহলে ব্রহ্মা আসবে কীভাবে ? পতিত দেহ ই চাই। সূক্ষ্মবতনবাসী ব্রহ্মায় বিরাজমান হয়ে তো আর ব্রাহ্মণ রচনা করা হবে না। উনি বলেন আমি পতিত দেহ, পতিত দুনিয়ায় আসি। গায়ন আছে - ব্রহ্মার দ্বারা স্থাপনা। যা স্থাপনা করেন, যারা এই জ্ঞান প্রাপ্ত করে তারা দেবতায় পরিণত হয়। মানুষ ব্রহ্মার চিত্র দেখে কনফিউজ হয়। তারা বলে এই চিত্রটি তো দাদা লেখরাজের চিত্র। প্রজাপিতা ব্রহ্মা অবশ্যই এইখানে থাকবে। সূক্ষ্মবতনে প্রজা রচনা করবেন কীভাবে। প্রজাপিতার সন্তান হাজার হাজার ব্রহ্মা কুমার - কুমারী আছে। মিথ্যে নয়। আমরা শিববাবার কাছে স্বর্গের অধিকার প্রাপ্ত করি। বাচ্চারা, তোমাদেরকে বোঝানো হয়েছে উনি হলেন অব্যক্ত ব্রহ্মা। প্রজাপিতা তো সাকারে চাই। এই পতিত -ই পবিত্র হয়। তৎত্বম্। আচ্ছা!

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) আত্ম - অভিমানী হয়ে এই কান দিয়ে অমর কথা শুনতে হবে। জ্ঞানের ভুঁ ভুঁ করে অর্থাৎ জ্ঞান শুনিয়ে নিজ সম বানাতে হবে।

২ ) বাবার মতন নলেজফুল, ব্লিস ফুল হতে হবে। সোমরস পান করতে হবে এবং করাতে হবে।

বরদান:-
মায়ার বিঘ্নগুলিকে খেলা সম অনুভব করে মাস্টার বিশ্ব নির্মাতা ভব

যেরকম কোনও বয়স্ক মানুষের কাছে ছোটো বাচ্চারা নিজের শৈশবের অলসতার কারণ সবকিছুই বলে দেয়, এমনকি কিছু ভুল কাজ করলেও বয়স্ক মানুষেরা মনে করে এ নির্দোষ, অজান্তে করে ফেলেছে, ছোটো বাচ্চা। কোনও প্রভাব পড়ে না। এইরকমই যখন তোমরা নিজেকে মাস্টার বিশ্ব নির্মাতা মনে করবে তখন এই মায়ার বিঘ্ন বাচ্চাদের খেলার সমান অনুভব হবে। মায়া যেকোনও আত্মার দ্বারা সমস্যা, বিঘ্ন বা পরীক্ষা পেপার হয়ে এসে যায় তো তাতে ঘাবড়ে যাবে না, উপরন্তু তাকে নির্দোষ মনে করবে।

স্লোগান:-
স্নেহ, শক্তি আর ঈশ্বরীয় আকর্ষণ নিজের মধ্যে ভরে নাও তাহলে সহযোগী হয়ে যাবে।

অব্যক্ত ঈশারা :- জ্বালা স্বরূপ স্থিতিতে থেকে শক্তিশালী স্মরণের অনুভব করো

এখন জ্বালামুখী হয়ে আসুরী সংস্কার, আসুরী স্বভাব সবকিছু ভষ্ম করো। যেরকম দেবীদের স্মরণিকে দেখায় যে জ্বালার দ্বারা অসুরদের সংহার করেছে। অসুর কোনও ব্যক্তি নয়, আসুরী শক্তিগুলিকে সমাপ্ত করো। এটা এখন তোমাদের জ্বালারূপ স্থিতির স্মরণিক। এখন এইরকম যোগের জ্বালা প্রজ্বলিত করো যার মধ্যে এই কলিযুগী সংসার জ্বলে পুড়ে ভষ্ম হয়ে যায়।