03.09.2026 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - নাম - রূপের ঊর্ধ্বে কোনো কিছুই হয় না, আত্মা বা পরমাত্মাকেও নাম - রূপের ঊর্ধ্বে বলা যাবে না, তাদের মধ্যেও অবিনাশী পার্ট নিহিত আছে"

প্রশ্নঃ -
শিব বাবাকে ভোলানাথ বলে স্মরণ করে, তাঁকে ভোলা কেন বলা হয়?

উত্তরঃ  
কেননা বাবাই অহল্যা, গণিকা, কুব্জাদের উদ্ধার করেন । তাদের বিশ্বের রাজত্বের উত্তরাধিকার দিয়ে দেন । মানুষ তো বাবার উদ্দেশ্যে বলে দেয় - দুঃখও তিনি দেন, সুখও তিনি দেন, কিন্তু বাবা বলেন - আমি তো বাচ্চারা তোমাদের জন্য সুখের রাজ্য স্থাপনা করি । আমাকে দুঃখ হর্তা, সুখ কর্তা বলা হয়েছে । তোমরা বিচার করে দেখো যে, আমি বাবা, নিজের বাচ্চাদের কিভাবে দুঃখ দিতে পারি ।

গীতঃ-
দূর দেশের অধিবাসী....

ওম্ শান্তি ।
আত্মারূপী বাচ্চারা গীত শুনেছে, অর্থাৎ আত্মারা এই শরীরের কান রূপী কর্মেন্দ্রিয়ের দ্বারা গীত শুনেছে - দূরদেশ থেকে মুশাফির এসেছে । তোমরা তো সবাই মুশাফির, তাই না । যে সকল মনুষ্য আত্মারা রয়েছে, তারা সকলেই মুশাফির । আত্মাদের কোনো ঘর নেই । আত্মা হলো নিরাকার । নিরাকারী দুনিয়াতে থাকা আত্মারা হলো নিরাকার । তাকে বলা হয় নিরাকারী আত্মাদের ঘর, দেশ বা লোক । একে জীবাত্মাদের দেশ বলা হয় । সে হলো আত্মাদের দেশ, তারপর যখন আত্মারা এখানে এসে শরীরে প্রবেশ করে, তখন নিরাকার থেকে সাকার হয়ে যায় । এমন নয় যে, আত্মার কোনো রূপ নেই । রূপও অবশ্যই আছে, আর নামও । এতো ছোটো আত্মা এই শরীরের দ্বারা কতো অভিনয় করে । প্রত্যেক আত্মার মধ্যে অভিনয় করার কতো রেকর্ড ভরা আছে । রেকর্ড যদি একবার ভরে যায়, যতই রিপিট করো, ওই চলতে থাকবে । এমনিতে আত্মা এই শরীরের ভিতর এক রেকর্ড, তাতে ৮৪ জন্মের সমস্ত পার্ট ভরা আছে । আত্মা যেমন নিরাকার, বাবাও তেমনি নিরাকার । শাস্ত্রতে কোথায় কোথায় লিখে দিয়েছে যে, ও নাম - রূপ থেকে পৃথক, কিন্তু নাম - রূপের ঊর্ধ্বে কোনো কিছুই হয় না । আকাশও স্পেস, কিন্তু তারও নাম - রূপ আছে । নাম ছাড়া কোনো জিনিসই হয় না । মনুষ্য মনে করে পরমপিতা নাম - রূপের ঊর্ধ্বে । নাম যদি না থাকে, তাহলে রূপও নেই আর দেশও নেই । তাহলে তো কিছুই হতে পারে না । মানুষ ডাকতেও থাকে - দূরদেশের অধিবাসী পরমপিতা পরমাত্মা । এখন দূরদেশে আত্মারা থাকে, এ হলো সাকার দেশ, এখানে দুইয়ের রাজ্য চলে - রামরাজ্য আর রাবণরাজ্য । অর্ধেক কল্প হলো রামরাজ্য আর অর্ধেক কল্প হলো রাবণরাজ্য । বাচ্চাদের একথা বোঝানো হয়েছে যে, সত্যযুগ থেকে ঈশ্বরীয় রাজ্য শুরু হয়, রামরাজ্য স্থাপন করেন পরমপিতা পরমাত্মা । তিনি কখনো রাবণ রাজ্য স্থাপন করেন না । বাবা বাচ্চাদের জন্য কখনোই দুঃখের রাজ্য তৈরী করবেন না । মানুষ বলে থাকে - ঈশ্বরই দুঃখ - সুখ দেন । বাবা বলেন, আমি বাচ্চাদের কিভাবে দুঃখ দিতে পারি? আমার তো নামই হলো দুঃখহর্তা, সুখকর্তা । এ তো মানুষের ভুল । ঈশ্বর কখনোই দুঃখ দেবেন না । এই সময় হলো দুঃখধাম । অর্ধেক কল্প রাবণ রাজ্যে দুঃখই প্রাপ্ত হয় । সুখের সুতোমাত্র থাকে না । আবার সুখধামে কখনো দুঃখ থাকে না । বাবা হলেন স্বর্গের রচয়িতা । এখন তোমরা হলে সঙ্গম যুগে । একে তো কেউই নতুন দুনিয়া বলবে না । নতুন দুনিয়ার নামই হলো স্বর্গ । সেই স্বর্গই আবার পুরানো দুনিয়া হয় । নতুন জিনিস যখন পুরানো, খারাপ দেখতে লাগে, তখন সেই পুরানো জিনিসকে দূর করা হয় । মানুষ তো বিকারকেই ( বিষ ) সুখ মনে করে । এমন গায়নও আছে যে, অমৃত ছেড়ে বিষ কেন পান করবো । গ্রন্থ সাহেবে গুরু নানক বলেছেন - অসংখ্য চোর....। মানুষ বাবার মহিমা গায়, তুমি এসে যা কিছুই করবে, তাতে তোমাদের ভালোই হবে । না হলে রাবণ রাজ্যে মানুষ মন্দ কাজই করবে । বাবা এসেই দুর্গন্ধযুক্ত কাপড় ধুয়ে পরিস্কার করেন । গ্রন্থ সাহেবে অনেককিছু লেখা আছে । সিন্ধ্রিরাও গ্রন্থ সাহেব কাছে রাখে, কিন্তু তারা তো শিখ ধর্মের নয় । তারা তো হলো আদি সনাতন দেবী দেবতা ধর্মের । শিখদের গুরু হলো গুরু নানক, তাঁর দাড়ি ছিলো । তাই সব শিখদেরও দাড়ি থাকা উচিত । আজকাল তো দাড়ি রাখে না । তারা অনেক আধুনিক হয়ে গেছে । না হলে তো অনুসরণ করা উচিত, তাই না । আমরা যদি গুরু নানকের অনুসরণকারী হই, তাহলে তো গুরু নানককে অনুসরণ করা উচিত, তাই না । এ তো বাচ্চারা এখন জেনেছে যে, গুরু নানকের ৫০০ বছর হয়েছে, আবার কবে আসবেন? তোমরা চট করে বলতে পারবে । কাউকে জিজ্ঞেস করো, এ তো বলো যে, গুরু নানক কবে আসবেন? তখন বলবে, তাঁর আত্মা জ্যোতি, জ্যোতিতে মিলিয়ে গেছে । আবার কিভাবে আসবে? তোমরা বলবে, আজ থেকে ৪৫০০ বছর পরে গুরু নানক আবার আসবেন । তোমাদের বুদ্ধিতে সম্পূর্ণ বিশ্বের হিস্ট্রি - জিওগ্রাফি চক্র লাগাতে থাকে । বুদ্ধ - খ্রাইস্ট আদি সকলের জন্য বলবে যে, এই সময় এরা সকলেই তমোপ্রধান, কবরে শায়িত । একেই শেষ সময় বলা হয় । সব মনুষ্য মাত্র যেন মৃত পড়ে আছে । সকলের জ্যোতি যেন নিভন্ত । বাবা আসেনই সবাইকে জাগ্রত করতে । বাচ্চারা, যারা কাম চিতাতে বসে ভস্ম হয়ে গেছে, তাদের অমৃত বর্ষণের দ্বারা জাগ্রত করে সাথে করে নিয়ে যাবেন । মায়া কাম চিতাতে বসিয়ে কবরে শয়িত করে দিয়েছে । সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে । বাবা এখন অমৃত পান করান । এই কারণেই অমৃতসর নাম রাখা হয়েছে । বাবা এসে অমৃত পান করান । এখন কোথায় জ্ঞান অমৃত আর কোথায় সাধারণ জল । শিখদের বড় বা বিশেষ দিন হলে তখন খুব ধুমধাম করে পুকুর পরিস্কার করে, মাটি কাটে, তাই নামই রাখা হয়েছে - অমৃতসর । অমৃতের পুকুর । এখন গুরু নানক সাহেব তো কোনো জ্ঞানের সাগর নন, তিনিও বাবারই মহিমা করেছেন । তিনি নিজেই বলেন - এক ওঙ্কার, সৎনাম, তিনি সর্বদা সত্যই বলেন । সত্যনারায়ণের কথা আছে তো, তাই না । সাওদাগররা বাইরে বাণিজ্যে গেলে সত্যনারায়ণের কথা করায় । তারা মনে করে সত্যনারায়ণের কথা করালে তারা সুরক্ষার সঙ্গে সমুদ্র পার হয়ে যাবে । অমরকথা, তিজরীর কথা, মানুষ ভক্তিমার্গে কতো কথা শুনে এসেছে । বলা হয়, শঙ্কর পার্বতীকে কথা শুনিয়েছিলেন । তিনি তো সূক্ষ্মবতনে থাকেন, ওখানে তিনি কোন্ কথা শোনাবেন? বাবা এইসব কথা বসে বুঝিয়ে বলেন । বাস্তবে আমি তোমাদের অমরকথা শুনিয়ে অমরলোকে নিয়ে যাই । বাকি সূক্ষ্মবতনে পার্বতী কি দোষ করেছে, যে এসে তাঁকে কথা শোনাবেন । তোমরা এখন বুঝতে পারো যে, আমরা নর থেকে নারায়ণ, আর নারী থেকে লক্ষ্মী হই । এ হলো অমরলোকে যাওয়ার জন্য প্রকৃত সত্যনারায়ণের কথা, তিজরীর কথা । তোমরা আত্মারা এখন জ্ঞানের তৃতীয় নয়ন পেয়েছো ।

বাবা বোঝান যে, তোমরাই ফুলের মতো পূজ্য ছিলে, এরপর ৮৪ জন্মের পরে তোমরাই পূজারী হয়েছো, তাই মহিমা রয়েছে... তোমরাই পূজ্য আবার তোমরাই পূজারী । বাবা বলেন - আমি তো সর্বদাই পূজ্য । আমি এসে তোমাদের পূজারী থেকে পূজ্য বানাই । বলা হয়, হে রাম, তুমি এসে আমাদের পবিত্র বানাও । সব ভক্তরা ডাকতে থাকে । আত্মাই তো ডাকে - হে পতিত পাবন । তোমরা এখন বুঝতে পারো যে, গীতা কোনো কৃষ্ণ শোনাননি, পবিত্র করেন একমাত্র পরমপিতা পরমাত্মা । একই রাম । বাবা তাই বলেন, তোমরা তাদের উপদেশ নিতে থাকো, যারা বলে যে, ঈশ্বর সর্বব্যাপী । গীতার ভগবান শিব, নাকি কৃষ্ণ? প্রথমে তো জিজ্ঞাসা করো যে, ভগবান কাকে বলা হয়, নিরাকারকে নাকি সাকারকে? কৃষ্ণ তো হলেন সাকার, আর শিব হলেন নিরাকার । তিনি কেবল এই শরীরের ধার নেন । মায়ের গর্ভ থেকে জন্ম নেন না । প্রথম নম্বর গর্ভে আসবে কৃষ্ণের আত্মা । ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শঙ্করও সূক্ষ্ম শরীরধারী । শিবের কোনো শরীর নেই । এখানে, এই লোকে হলো স্থূল শরীর । বাবার মহিমা হলো পতিত পাবন, সর্বের সদগতিদাতা । সকলের উদ্ধারকর্তা, দুঃখহর্তা, সুখকর্তা । ভালো সুখ কোথায় থাকতে পারে? তোমরা সুখ পাবে পরের জন্মে, যখন রাবণের দুনিয়া শেষ হয়ে স্বর্গের স্থাপন হয়ে যাবে । আচ্ছা, কিসের থেকে তিনি উদ্ধার করেন? রাবণের দুঃখ থেকে । এ তো দুঃখধাম, তাই না । বাবা আবার গাইডও হন । এই শরীর তো এখানেই শেষ হয়ে যায় । বাকি, তিনি আত্মাদের নিয়ে যান । সবাইকে দুঃখ থেকে মুক্ত করে, পবিত্র করে ঘরে ফিরিয়ে নিয়ে যান । মানুষ যখন বিয়ে করে আসে, তখন প্রথমে থাকে পতি, তারপর পত্নী । তার পিছনে বরযাত্রী থাকে । এখন তোমাদের মালাও এরকম । উপরে থাকে শিববাবা ফুল, প্রথমে ফুলকে নমস্কার করবে । তারপর যুগল দানা ব্রহ্মা - সরস্বতী, তারপর হলে তোমরা, যারা বাবার সাহায্যকারী বাচ্চা । ফুল শিববাবার স্মরণেই সূর্যবংশী বিষ্ণুর মালা তৈরী হয়েছে । ব্রহ্মা - সরস্বতীই লক্ষ্মী - নারায়ণ হয় । দেবতা, ক্ষত্রিয়... তারপর শূদ্র থেকে ব্রাহ্মণ হয়ে এই জ্ঞান ধারণ করে লক্ষ্মী - নারায়ণ তৈরী হয় । এই মালা তাদেরই তৈরী হয়েছে । এই ব্রহ্মা - সরস্বতীই রাজা - রানী হবেন । তাঁরা পরিশ্রম করেছিলেন, তাই তাঁরা পূজনীয় । কেউ জানেই না যে, মালা কি জিনিস । এমনিই তারা মালা জপতে থাকে । ১৬ হাজার ১০৮ এরও মালা হয় । বড় - বড় মন্দিরে সেই মালা রাখা হয় । তখন এক একজন এক - এক দিক থেকে সেই মালা টানতে থাকবে । বাবা বম্বেতে লক্ষ্মী - নারায়ণের মন্দিরে যেতেন । সেখানে গিয়ে মালায় রাম - রাম জপ করতেন । ফুল তো শিববাবা, তাই না । ফুলকেই রাম - রাম বলে তারপর সম্পূর্ণ মালা মাথায় ঠেকায় । জ্ঞান তো কিছুই নেই । পাদ্রীরাও হাতে করে মালা জপ করে । জিজ্ঞেস করো, কার নামে মালা জপ করছো? তখন বলবে, খ্রাইস্টের স্মরণে মালা জপ করছি । তাঁদের থেকে বড় পোপ, পাদ্রী হয়, তখন আবার পোপের মালা তৈরী হবে । তাঁদের সকলের চিত্র আছে । পোপের কতো সম্মান । তাঁরা নিজেরাই জানে না যে, খ্রাইস্টের আত্মা কোথায় আছে ! তোমরা জানো যে, খ্রাইস্টের আত্মা এখন বেগার রূপে আছে । তোমরাও এখন বেগার থেকে প্রিন্স তৈরী হচ্ছো । ভারতেই প্রিন্স ছিলো, এখন সবাই বেগার, আবার প্রিন্স তৈরী হবে । এই প্রিন্স তৈরী করেন এক আধ্যাত্মিক পিতা তোমরাই বেগার থেকে প্রিন্স তৈরী হও । এই প্রিন্স - প্রিন্সেসের কলেজও আছে, যেখানে গিয়ে তারা পড়াশোনা করে । তোমরা এখানে পড়ে ২১ জন্মের জন্য স্বর্গের প্রিন্স প্রিন্সেস তৈরী হও । এই জ্ঞানের দ্বারা তোমরা মনুষ্য থেকে দেবতা তৈরী হও ।

তোমরা এখন বুঝতে পারো, যে শ্রীকৃষ্ণ সত্যযুগের প্রিন্স ছিলেন, তিনিই ৮৪ জন্ম পরে বেগার হয়েছিলেন। পাঁচ হাজার বছর পূর্বে দেবী - দেবতারা কতো বিত্তবান ছিলেন । তাঁরাই এখন কাঙ্গাল, বেগার হয়ে গেছেন । এই কথা এখন তোমরাই শুনতে পারো । ভগবান উবাচঃ - তিনি সকলের ফাদার । তোমরা গড ফাদারের কাছ থেকে শোনো । গীতাতে এই ভুল করে দিয়েছে যে, শিব ভগবান উবাচের পরিবর্তে কৃষ্ণ ভগবান উবাচঃ নাম দিয়ে দিয়েছে, তাই গায়ন হয় যে, মিথ্যা এই দুনিয়া । এই সময় সম্পূর্ণ দুনিয়া কাঁটার জঙ্গল হয়ে গেছে । বম্বেতে বাবুলনাথের মন্দির আছে । বাবা এসে তোমাদের এই কাঁটা থেকে ফুলে পরিণত করেন । সবাই একে অপরকে কাঁটা লাগায় অর্থাৎ কাম কাটারি চালায়, তাই একে কাঁটার জঙ্গল বলা হয় । সত্যযুগকে আল্লাহর বাগিচা বলা হয় । সেই ফুলই কাঁটা হয়ে যায়, আবার কাঁটা থেকে ফুল তৈরী হয় । সত্যযুগে কখনো রাবণকে জ্বালানো হয় না । রাবণ হলো ভারতের পুরানো শত্রু । তোমাদের লড়াই হলো রাবণের সঙ্গে, যে তোমাদের অর্ধেক কল্প দুঃখ দিয়েছে । অবশেষে বড় লড়াইও হবে । প্রকৃত দশহরাও হতে হবে । এই রাবণ রাজ্য শেষ হয়ে যাবে, তোমরা আবার সোনার মহল পেয়ে যাবে । এখন তোমরা রাবণকে জয় করে স্বর্গের মালিক হও । বাবা সারা বিশ্বের রাজ্য ভাগ্য প্রদান করেন, তাই তাঁকে শিব ভোলা ভাণ্ডারী বলা হয় । গণিকা, অহল্যা, কুব্জা, বাবা সবাইকে বিশ্বের মালিক বানান । তিনি কতো ভোলা । তিনি আসেনও পতিত দুনিয়ায়, পতিত শরীরে । বাকি যারা স্বর্গের উপযুক্ত নয়, তারা বিকার ত্যাগ করতে পারে না । বাবা বলেন - বাচ্চারা, তোমরা এই অন্তিম জন্মে পবিত্র হও । এই বিকার হলো বিষ, যা তোমাদের আদি, মধ্য এবং অন্ত দুঃখী বানায় । তোমরা কি এই অন্তিম জন্ম একে ত্যাগ করতে পারো না? আমি তোমাদের অমৃত পান করিয়ে অমর বানাই । তবুও তোমরা পবিত্র হও না । বিকার ছাড়া, সিগারেট ছাড়া, মদ ছাড়া তোমরা থাকতে পারো না । আমি অসীম জগতের পিতা তোমাদের বলছি - তোমরা এই এক জন্ম পবিত্র হও, তাহলে আমি তোমাদের স্বর্গের মালিক বানাবো ।

তোমরা জানো যে, বাবা এসেছেন সম্পূর্ণ দুনিয়াকে দুঃখ থেকে উদ্ধার করে সুখধাম আর শান্তিধামে নিয়ে যেতে । এখন সব ধর্মের বিনাশ হয়ে যাবে । এক আদি সনাতন দেবী দেবতা ধর্মের স্থাপনা হয় । গ্রন্থ সাহেবেও পরমপিতা পরমাত্মাকে অকালমূর্তি বলা হয় । বাবা হলেন মহাকাল । ওই কাল তো একজন - দু'জনকে নিয়ে যাবে, আমি তো সব আত্মাদের নিয়ে যাবো । তাই আমাকে মহাকাল বলা হয় । আচ্ছা ।

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতাপিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১) এই অন্তিম জন্মে জ্ঞান অমৃত পান করে অমর হতে হবে । নিজেকে স্বর্গে যাওয়ার উপযুক্ত করতে হবে । মন্দ অভ্যাসকে ত্যাগ করতে হবে ।

২) এখন এই ঈশ্বরীয় পড়া পড়ে ২১ জন্মের জন্য স্বর্গের প্রিন্স - প্রিন্সেস হতে হবে । প্রকৃত সত্যনারায়ণের কথা শুনে নর থেকে নারায়ণ হওয়ার পুরুষার্থ করতে হবে ।

বরদান:-
অল্প কথায় জ্ঞানের সর্ব রহস্যকে স্পষ্ট করে যথার্থ ও শক্তিশালী ভব

যে কোনো জিনিস যত অধিক শক্তিশালী হয়, ততই তার কোয়ান্টিটি কম হয় । তেমনই তোমরা যখন তোমাদের নির্বাণ স্থিতিতে স্থির হয়ে বাণীতে আসবে, তখন শব্দ কম কিন্তু যথার্থ এবং শক্তিশালী হবে । এক শব্দে হাজার শব্দের রহস্য নিহিত থাকবে, যার কারণে ব্যর্থ বাণী অটোমেটিক সমাপ্ত হয়ে যাবে । একটি শব্দের সাহায্যেই জ্ঞানের সর্ব রহস্যকে স্পষ্ট করতে পারবে, বিস্তার সমাপ্ত হয়ে যাবে ।

স্লোগান:-
হৃদয় থেকে 'বাবা' বলা অর্থাৎ খুশী এবং শক্তি প্রাপ্তি করা ।

অব্যক্ত ইশারা :- এখন নিজের দাতা স্বরূপকে প্রত্যক্ষ করো

দাতার সন্তান সকলকে দেওয়ার ভাবনায় ভরপুর হও । কখনোই এমন সঙ্কল্প করো না যে, এমন হলে তবেই আমি এমন করবো । এমন পরিস্থিতি হলে, বায়ুমণ্ডল হলে তবেই আমি এটা করবো । দাতার সংস্কার সম্পন্নদের সব তরফ থেকে সহযোগ স্বতঃই প্রাপ্ত হয় । তাই মাস্টার দাতা অন্যের থেকে নেওয়ার ভাবনা রাখতে পারে না ।