05-07-2026 প্রাতঃ
মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ
15-12-2010 মধুবন
‘‘আমার-কে তোমার- এতে পরিবর্তন ক'রে নিশ্চিন্ত
বাদশাহ হও, সেকেন্ডে ব্যর্থকে বিন্দু লাগানোয় অভ্যস্ত হয়ে সব সঙ্কল্প আর সময়কে সফল
করো"
আজ বাপদাদা চতুর্দিকে নিজের নিশ্চিন্ত বাদশাহ বাচ্চাদের দেখছেন। এমন নিশ্চিন্ত
বাদশাহদের সভা এখনই দেখা যায়। কেননা, এখনই বাবা নিজে চিন্তা নিয়ে নিশ্চিন্ত বাদশাহ
বানান। সেইজন্য তোমাদের এই সভা এই সময়েই দৃশ্যমান হয়। এখন সবাই তোমরা ভোরবেলায় ওঠো
ব'লেই নিশ্চিন্ত স্থিতিতে স্থিত থাকো, ভোজনপান, কর্ম করার সময়ও কোনো দুশ্চিন্তা নেই।
যখন ঘুমাও তখনও নিশ্চিন্ত। তোমরা এমনই বাদশাহ এবং নিশ্চিন্ত - যখন তোমরা ওঠো, ঘুমাতে
যাও তখন এরকম অনুভব করো? তোমরা বাবাকে সব দুশ্চিন্তা দিয়ে আধ্যাত্মিক আনন্দ নিয়ে
নিয়েছ। সেইজন্য তোমরা নিশ্চিন্ত বাদশাহ হয়েছ। যদি এগিয়ে যেতে যেতে কোনো দুশ্চিন্তা
এসে যায় তখন দুশ্চিন্তা কী বানায় তোমাদের? অধ্যাত্ম আনন্দ যদি থাকে তবে তোমাদের
ললাটভাগে লাইটের আভা ঝলমল করে। যদি দুশ্চিন্তা এসে যায় তো বোঝার টুকরি এসে যায়। বলো,
লাইটের আভা তোমাদের ভালো লাগে, নাকি বোঝার টুকরি? নিশ্চিন্ত বাদশাহ হওয়া নিজেরও
প্রিয় লাগে আর যে এমন স্থিতিতে ওড়ে তার আভাযুক্ত লাইট দেখে অন্যের কত ভালোবাসার
উদ্রেক হয়! সেইজন্য বাপদাদা সদা বাচ্চাদের নিশ্চিন্ত বাদশাহ হওয়ার স্থিতিতে থাকার
স্মৃতি স্বরূপে স্থির রাখেন। সেইজন্য ভক্তরা তোমাদের চিত্রও ডবল মুকুটধারী রূপে
দেখিয়ে থাকে। এক লাইটের মুকুট আরেক বিকার জয়ের বাদশাহ বোধের মুকুট হিসেবে ডবল মুকুট
দেখায়। সেইজন্য বাপদাদা সদা প্রত্যেক বাচ্চাকে এই শিক্ষা দিয়ে থাকেন সদা অধ্যাত্ম
আনন্দে থাকা খুব সহজ। কীভাবে সহজ? শুধু সীমাবদ্ধতার আমিত্ব বোধ বাবাকে দিয়ে দাও।
আমার থেকে তোমার ক'রে নিয়েছ তো নিশ্চিন্ত বাদশাহ হয়ে গেছ। একটাই শব্দের তারতম্য
রয়েছে - তোমার আমার। তো আর আ এই শব্দের তারতম্যে নিশ্চন্ত বাদশাহ হয়ে যাও তোমরা।
সহজ তো না! হয়েছনা নিশ্চিন্ত বাদশাহ? নাকি এখনো দুশ্চিন্তা থাকে? যদি কখনো অধ্যাত্ম
আনন্দের পরিবর্তে দুশ্চিন্তা আসে তবে তোমার আমার মধ্যেকার এই প্রভেদটুকু শুধু মেনে
নেওয়ার কারণে দুশ্চিন্তা আসে। তো দুশ্চিন্তা দিয়ে দেওয়ার এই লক্ষ্য কি সবার
প্র্যাকটিক্যালি হয়েছে, নাকি মাঝে মাঝে অধ্যাত্ম আনন্দ ছেড়ে দুশ্চিন্তায় এসে যাও!
দুশ্চিন্তা আসে নাকি নিশ্চিন্তই থাকো? যে সদা নিশ্চিন্ত বাদশাহ হয়ে থাকো সে হাত তোলো।
নিশ্চিন্ত বাদশাহ, এটা পাক্কা? নাকি কখনো কখনো? যারা নিশ্চিন্ত বাদশাহ তারা উঁচু
ক'রে হাত তোলো। কখনো কখনোর যারা তারাও আছে। সেবার চিন্তা সেটা আলাদা বিষয়। কিন্তু
এই চিন্তা অন্যকেও নিশ্চিন্ত বানানোর সাধন। নিজের সংস্কার থেকে যদি দুশ্চিন্তা আসে
তবে সেটা সেই সময়েই 'আমার পরিবর্তে তোমার'-এতে চেঞ্জ ক'রে দাও। দুশ্চিন্তা বাবাকে
দিয়ে দাও আর অধ্যাত্ম আনন্দ নিয়ে নাও। কেননা বাবা এসেছেনই বাচ্চাদের দুশ্চিন্তা নিয়ে
পরমানন্দ দিতে। তো চেক করো, তোমার মধ্যে বহু সময়ের কখনো- কখনো-র সংস্কার ইমার্জ হয়
না তো? কেননা, বাপদাদা কিছু সময় ধরে বাচ্চাদের এটাই বলছেন যে, বর্তমান সময় অনুসারে
যেকোনো সময় যেকোনো কিছুই হ'তে পারে। যখন-তখন হতে পারে। সেইজন্য প্রত্যেক বাচ্চার
নিজেকে এই অ্যাটেনশন দেওয়াতে হবে যে এক সেকেন্ডে যদি বিন্দু লাগাতে চাও তো লাগাতে
পারবে। মনে করো, কোনও ব্যর্থ সঙ্কল্প এসে গেছে তাহলে বিন্দু দ্বারা এক সেকেন্ডে
ব্যর্থকে সমাপ্ত করতে পারবে? এত অভ্যাস আছে তোমাদের? নাকি সেই সময়ের সরকমস্ট্যান্স
অনুসারে পুরুষার্থ ক'রে ব্যর্থকে সমাপ্ত করার আবশ্যকতা পড়বে! লাগাবে বিন্দু আর কেন
কি কীভাবে-র কোশ্চেন মার্ক লেগে যাবে... সেই সময় যদি এটা ভাবতে থাকো তবে আগামী
সময়ের জন্য যে লক্ষ্য আছে বাবার সাথে যাওয়ার, তো বাবা তো সেকেন্ডে বিন্দু, আর
সেকেন্ডও বিন্দু এবং ফুলস্টপও বিন্দুই। এত অভ্যাস আছে তোমাদের? এর জন্য এখন থেকে এই
অভ্যাসে যদি অভ্যস্ত হও তবে বাবা সমান শ্রীমতের হাতে হাত দিয়ে নিজগৃহে পৌঁছে যাবে।
তো বাপদাদা এটা আগেও বলেছেন - দু'টো বিষয়ের অ্যাটেনশনে আন্ডারলাইন করো। কোন দু'টো
বিষয়? এক সঙ্কল্পের ভাণ্ডার আরেক সময়ের ভাণ্ডার। ভাণ্ডার তো তোমরা অনেক পেয়েছ,
জ্ঞানের ভাণ্ডার, শক্তির ভাণ্ডার, যোগ দ্বারা সম্পন্ন হওয়ার যে সব যুক্তি আছে সব
প্রাপ্ত করিয়েছেন। কেননা, এই সঙ্গমের সময় সমগ্র কল্পে বিশেষ অমূল্য সময় হ'লো এই
সময়েই যত প্রাপ্তি করতে চাও ততটা করতে পারো। কেননা, এই এক জন্ম মহান জন্ম। এই এক
জন্মই অনেক জন্মের প্রালব্ধ বানানোর জন্ম। সঙ্গমযুগের সময় এক সেকেন্ডও নষ্ট করা
উচিত নয়। এক সেকেন্ডের কানেকশন অনেক জন্মের সাথ। জমা করার এক বর্ষ অনেক বর্ষের
প্রাপ্তির। সেইজন্য এই সময়ের ভ্যাল্যু শুধু সেকেন্ড কিংবা মিনিট নয়, এমনকি এক
ঘন্টাও গুরুত্বপূর্ণ৷ এক সেকেন্ড হলেও গুরুত্বপূর্ণ৷ তাছাড়া এই সঙ্গমের জন্মের
বিশেষ আধার সঙ্কল্প। দেখো, তোমরা যে যোগ লাগাও, বলে থাকো মন্মনাভব, আর এটাই তোমাদের
ফাউন্ডেশনের আধার। মনের কাজই হলো সঙ্কল্প করা। সঙ্কল্প দ্বারাই স্মরণের যাত্রার
অনুভূতি করো তোমরা। একে অন্যকে ভিন্ন ভিন্ন বিশেষ সঙ্কল্প দিয়ে অভ্যাস করিয়ে থাকো,
তাই না! তো সবকিছু চেক করো - সারাদিনে চলতে ফিরতে, কর্ম করতে করতে, সম্বন্ধে এসে
সময়ের গতি অমূল্য রূপে ছিল কিনা! কেননা, সময় অমূল্য! সঙ্কল্প সর্বশক্তিমান বানিয়ে
থাকেন।
তো বাপদাদা বারবার বলেন, হে বাপদাদার অতি স্নেহের, হৃদয়ে অধিবাসী বাচ্চারা! এখন
ব্যর্থ খাতা সমাপ্ত করো। সফল করো। সফল করাই সফলতা। এক সেকেন্ড চলে গেছে এটা ভেবো
না। প্রতি সেকেন্ড প্রতিটা সঙ্কল্প সফল হয়েছে - এতটা অ্যাটেনশন নিজের ওপরে রাখতেই
হবে। এতটুকু ফুলস্টপ লাগানোর চেকিং করো। অসতর্ক হয়ো না। বাপদাদা বলেছিলেন কিন্তু আমি
বুঝিনি, সময়ের ব্যাপারে ভাবিনি সময় এত ফাস্ট যাচ্ছে, ভাবিনি চলে যাবে! বাপদাদা সবার
থেকে এখন আসাবধানতা নিতে চান। এটা শুনতে চান না যে আমি বুঝিনি, আমি ভাবিনি। এখন
নতুন বছরও সমাগত প্রায়। তো এই নতুন বছর শুরু হওয়ার আগে সংসার থেকে আসাবধানতা
সেইসঙ্গে আলস্য, আলস্য বিভিন্ন রকমের হয়, বছরের বাকি সময়টুকুর মধ্যে সেসব সমাপ্ত
করার অভ্যাস শুরু করো এবং যখন নতুন বছর শুরু হবে তখন সাহস বজায় রেখে বাপদাদার কাছে
সঙ্কল্প করো এবং এসব বিদায় দাও। বছরের সাথে এটাও বিদায় দিয়ে দিও। দিতে পারো? দিতে
পারো? যে দিতে পারবে সে হাত তোলো। (সবাই হাত তুলেছে) বাঃ! বাচ্চারা বাঃ! হাত তোলাতে
তোমরা বাপদাদাকে অনেক খুশি করো। বাপদাদা দেখেছেন যে হাত তোলার রিটার্নের ব্যাপার
অনেক বাচ্চার স্মরণে থাকে। আর কেউ কেউ স্মরণ রাখতেও আসাবধান হয়ে যায়। বাপদাদার সাথে
খুব ভালো আধ্যাত্মিক বার্তালাপ করে। হয়ে যাবে বাবা, আপনি দেখবেন এখনই হবে এখনই হবে...।
বাপদাদাও এমন অসতর্ক বাচ্চাদের থেকে শুনে মৃদু হেসে দেন আর কী করবেন! এটা ভালো যে
তোমরা ভাবো করতে হবে করতে হবে করতে হবে ... এটা তোমরা খুব ভাবো কিন্তু করছ কি করছ
না সেই চেকিংয়ে তখন কী বলবে! অসাবধান হয়ে যাও!
তো বাপদাদা শুনেছেন, আজ চতুর্দিকে বাচ্চারা যারা নিজের দেশে নিজের স্থান থেকে দেখতে
থাকে সেটাও স্পষ্টভাবে শোনা যায় দেখা যায়। তো বাপদাদা সমুখে আসা বাচ্চাদের এবং যারা
তাদের নিজের স্থান থেকে শুনছে এবং দেখছে সেই সব বাচ্চাকে এটাই বলেন, এখন তোমাদের
পুরুষার্থে সঙ্কল্প আর সঙ্গমের সময়কে আন্ডারলাইন লাগাও। ভালোবাসায় তোমরা মেজরিটি
বাচ্চারা পাশ করেছ। ভালোবাসার আধারে নিজেদের ভালো প্রগ্রেস করছ। ভালোবাসার কারণে,
বাবার ভালোবাসার রেসপন্ড পাওয়ার কারণে সামনে এগিয়েও যাচ্ছ কিন্তু বাবা মনে করেন
ভালোবাসায় যেমন তোমরা এগিয়ে চলেছ তেমনই স্মরণের সাবজেক্টে অনেক জন্মের বিকর্ম বিনাশ
করতে আরও অ্যাটেনশন দাও। কেন? বিকর্ম বিনাশ হ'লে বাবার সাথে একসাথে ফিরে যাবে, নয়তো
পিছনে পিছনে যাবে। বাবা মনে করেন যে ভালোবাসার রেসপন্ড সেটাই যখন তোমাদের প্রিয়
আত্মা যা করতে বলে তা' অবশ্যই করতে হবে মেনে সেটা করো। বাবা চান যে, বাচ্চাদের
ভালোবাসা যখন বাবার প্রতি আছে তো তারা যেন সাথে থাকে। রাজধানীতেও যেন ব্রহ্মা বাবার
সাথে আসে। রাজধানীতে আসা অর্থাৎ রয়্যাল ফ্যামিলিতে আসা। সিংহাসনে বসতে না পারো
কিন্তু রয়্যাল ফ্যামিলির সাথি তো হও। বাপদাদা আগেও বলেছিলেন কীভাবে এটা তোমরা যাচাই
করতে পারো! যখন থেকে তোমরা এসেছ, জ্ঞানে তোমাদের যত আয়ু ততো সময় যদি তোমরা বাপদাদার
হৃদয় সিংহাসনে থেকে থাকো তাহলে যে বেশি সময় হৃদয় সিংহাসনাসীন থেকেছে, মাটিতে পা
রাখেনি সে সেই অনুযায়ী রয়্যাল ফ্যামিলিতে কাছের সম্বন্ধে থাকবে। রয়্যাল ফ্যামিলির
হবে। তো যাদের ভালোবাসা থাকে তারা ভালোবাসার দায়িত্ব পালনে পিছপা হয় না। যে হৃদয়
সিংহাসনাসীন সে দ্বাপর কলিযুগেও সম্বন্ধে থাকবে। কাছে থাকবে। সেইজন্য ভালোবাসার
দায়িত্ব পালনকারী সদা হৃদয় সিংহাসনাসীন থাকো এবং জন্ম জন্মের অধিকার নাও। সেইজন্য
বাপদাদা সব বাচ্চাকে ভালবাসেন। বাবা সার্টিফিকেট দিয়েছেন যে ভালোবাসার সাবজেক্টে
মেজরিটি পাশ করেছ। এখন সব সাবজেক্টে পাশ করতেই হবে। পাশ করতে হবে, পাশে থাকতে হবে।
প্রথমবার যে বাচ্চারা এসেছো তারা ওঠো। প্রথমবার এসেছো! অর্ধেক ক্লাস তো নতুন। এসেছো,
বাপদাদা আগতদের স্বাগত জানাচ্ছেন। অভিনন্দন তোমাদের। প্রথমবার আসার অভিনন্দন। যদিও
লেটে এসেছো কিন্তু তবুও টু লেট-এর আগে এসেছো। এখন এই অ্যাটেনশন রাখতে হবে অল্প
সময়ের মধ্যে তীব্র পুরুষার্থী হয়ে নিজের ভবিষ্যৎ যত বাড়াতে চাও ততটাই তীব্র
পুরুষার্থ দ্বারা সামনে এগিয়ে যেতে পারো। কেননা, এখন তবুও পুরুষার্থ করার মার্জিন
আছে। যত এগোতে চাও ততো এগোতে পারো। এই দৈবী পরিবার আর বাপদাদা একসাথে তোমাদের
ভাইব্রেশন দেবেন অগ্রচালিত হওয়ার জন্য। সেইজন্য সামনে এগিয়ে যাও, সাহস বজায় রাখো।
সাহস তোমাদের আর সহায়তা বাপদাদার আর পরিবারের, সামনে এগোও। ঠিক আছে তো না! হ্যাঁ বলো
আর অগ্রচালিত হও। আচ্ছা।
মধুবন নিবাসীদের প্রতি - মধুবনের তোমরা তো লাকি। সংগঠনকে অল্প বিস্তর মজবুত ক'রে
সাথি বানাও। অন্য কোনো কিছুর জন্য সঙ্গী তৈরি ক'রো না। এর জন্য মধুবনের উচিত একে
অপরকে তাদের সাথি বানিয়ে প্রথম নম্বর নেওয়া। নেবে তোমরা? এখন এভাবে হাত নাড়াও।
অতীতকে অতীত হতে দাও, যা কিছুই হয়ে গেছে সবাই দেখেছে, শুনেছে, তাছাড়া মধুবনের যারা
তাদের তো অনেক গোল্ডেন চান্স আছে। সবাই মধুবনের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যারা মধুবনের
তারা যদি সবাই মিলে... তার মানে এটা নয় যে পাণ্ডব ভবন আলাদা কিংবা অন্য কোনো স্থান
আলাদা, না। মধুবন মানে সবাই মিলে এক। তো তোমরা যারা মধুবনের তারা মনে করছো করবে!
যারা করবে হাত তোলো। সবাই তুলেছে, যারা মনে করে এটা করা এমন কি বড় ব্যাপার! বাপদাদা
আছেন, দাদিরা আছেন তো বড় ব্যাপারই তো নেই! দাদিরা কী মনে করো। মধুবনের তোমরা তো
নম্বর ওয়ান। বাবা সবাইকে বলেছেন এটা ক'রে দেখানোর জন্য। কিন্তু মধুবন, মধুবন তো
মধুবনই। তোমরা সবাই ভাইব্রেশন দাও, হয়ে যাবে কোনো বড় ব্যাপার নয়। বিঘ্নের লেশমাত্র
নেই। ঠিক আছে কিছু হয়েছে কোনো লেনদেন করেছ, শেষ। কিছু সময় আগে যখন দাদি ছিলো তো
একবারই সবাই হাঁ জী-র (সম্মত হওয়ার) পাঠ পাক্কা করেছিলে। না শব্দ নয়, হাঁ জী খুব
ভালো। মধুবন প্রথম নম্বরে যাবে। বাপদাদা মধুবনের জন্য গর্বিত হন, তাই না! প্রতিটা
জোনের জন্য গর্বিত। এখন মধুবন সামনে এসেছে। কিন্তু বাপদাদা সব জোনকে বলেন মিষ্টি
আত্মারা হাঁ জী-র এই পাঠ সবার পাক্কা, পাক্কা তো না? পুরস্কার তো মধুবনের নেওয়া উচিৎ।
এক সেকেন্ডে যা অতীত তাকে অতীত ক'রে ওড়ো। যারা ওড়ে তারা পিছনের সবকিছু ছেড়ে দেয়। তো
খুব ভালো।
এখন গুজরাট কোনো নবীনত্ব করুক। যারা দিল্লির তাদেরকে বাপদাদা বলছেন নবীনত্ব করো এখন।
বাপদাদা সমাচার পেয়েছেন, তো বিদেশ আর দেশের ইউথ মিলে যেটা আরম্ভ করেছে তা'তে ভালো
রেজাল্ট হতে পারে। এখন তো ইনভেনশন শুরু করেছ কিন্তু ভারত কিংবা বিদেশ উভয় পক্ষই
মিলেমিশে আরও চমৎকার করতে পারে। এখন তো আরম্ভ করেছ। কিন্তু যারা দিল্লির তারা ভালোই
সাহস রেখেছে। শুরু করেছে, এখন বিশ্বে এটা যেন ছড়িয়ে যায়। তো বিদেশ আর দেশ মিলেমিশে
এক ব্রাহ্মণ পরিবার হয়েছে এবং বিশ্বের সামনে বিশ্বকেও এক বানাবে। শুরু তো হয়ে গেছে।
এখন মুসলিমরাও সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এখন এমন বড় প্রোগ্রাম বানাও যাতে প্রধান
দেশগুলো থেকে আসে আর বিশ্বে এটা প্রসিদ্ধ হোক সবাই এক পিতার বাচ্চা নিজেদের মধ্যে
এরা ভাইবোন, ব্রাদারহুড সিস্টারহুড - এই আওয়াজ ছড়িয়ে পড়তে দাও। একই স্টেজে সৰ দিকের
লোকের বিশেষ অনুভব হবে। প্ল্যান তো সবাই বানাচ্ছে। এখন অসীমে যাচ্ছে। সবার জানা
দরকার, তখন এটা এক গড ফ্যামিলি সেটা প্রসিদ্ধ হবে। আর তো সবাই যারাই আসছ সেবাও করছ,
স্ব পুরুষার্থও করছো। তাছাড়া, এটা যে গডলি কার্য সেটাও দুনিয়ার জন্য প্রসিদ্ধ হয়ে
যাবে। একটা ফ্যামিলি। আচ্ছা।
চতুর্দিকের বাচ্চাদেরকে বাপদাদা এখন অভিনন্দন জ্ঞাপন করছেন। প্রতিদিন প্রতি ঘণ্টা
অগ্রচালিত হওয়ার অভিনন্দন তোমাদের। সময় তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছে, তোমরা সময়ের
অপেক্ষা ক'রো না। তোমরা সময়কে যতটা সমীপে আনতে চাও সমাপ্তি ততটা সমীপে আনতে পারো।
সময় উপস্থিত হ'লে প্রস্তুত হওয়া তোমরা সব ব্রাহ্মণের সঙ্কল্প হওয়া উচিত নয়, তোমরা
সময়কে সমীপে আনো। সময় বাবাকে বলে এখন ব্রাহ্মণ আত্মারা যেন আমি-সময়কে সমীপে নিয়ে আসে।
প্রকৃতিও বাবাকে বলে এখন সমাপ্তিকে সমীপে নিয়ে আসতে। তো বাপদাদা কী জবাব দেবেন? কী
জবাব দেবেন? সময় সমাগত প্রায় এটা বলবেন! তোমাদের তরফে এই জবাব দেবেন? বলো। কী জবাব
দেবেন? এখন সমাপ্তি সমীপে নিয়ে আসা অর্থাৎ নিজেকে সম্পন্ন সম্পূর্ণ বানানো। কেননা,
বাপদাদা একলা যাবেন না, বাচ্চাদের সাথে যাবেন। তো ডেট ফিক্স করো। কত সময় পর্যন্ত?
কাজ তো তোমাদের দেওয়া হয়ে থাকে, এখন নিজেদের মধ্যে পরামর্শ ক'রে নিও। বাপদাদা কী
জবাব দেবেন প্রকৃতিকে! প্রকৃতি খুব উদগ্রীব হয়ে আছে। দুঃখী আত্মারা মনে মনে আর্তনাদ
করছে। এখন বেশি ক'রে মন্সা সেবা বাড়াও। তোমরা মন্সা সেবা করছ কিন্তু এটা লাগাতার
বর্ধিত হওয়া দরকার। আরও বাড়াও। কেননা, প্রকৃতি এবং দুঃখী আত্মারা বাবার কাছে আসে,
কাতর স্বরে চিৎকার করে। তো তোমরা তাদের কিছু শান্তি ও সুখের অনুভূতি করাও। এক
সেকেন্ডের হলেও তারা শান্তি চায়, তাদের শান্তি দাও। কেউ ক্ষুধার্ত হ'লে যেমন মনে করে
যেকোনো কিছু যদি সমান্যও পেয়ে যায়...! তো এখন মন্সা সেবা বাড়াও। বাচা সেবা তো চলছে,
বাপদাদা খুশি। আচ্ছা বাপদাদা যে হোমওয়ার্ক দিয়েছেন সেটা স্মরণে রেখো আর অন্যদেরও
স্মরণ করিয়ে দিও। আচ্ছা।
বাপদাদার হৃদয় সিংহাসনাসীন বাচ্চাদের বিশ্ব কল্যাণের কর্তব্যে যারা সদা অগ্রগামী
তাদেরকে বাপদাদা দৃষ্টি দিতে দিতে হৃদয়ের ভালোবাসা দিচ্ছেন আর অভিনন্দন জ্ঞাপন
করছেন... অভিনন্দন অভিনন্দন। প্রত্যেক বাচ্চা দূরে বসেও সমুখে থাকার অনুভব করছে এবং
বাপদাদা সব বাচ্চাকে হৃদয়ে সমাহিত ক'রে বাচ্চাদের সবাইকে নমস্কার নমস্কার বলছেন।
বরদান:-
স্নেহ আর শক্তিরূপের ব্যালেন্সের দ্বারা সেবা ক'রে
সফলতা মূর্ত ভব
এক চোখে যেমন বাবার স্নেহ আর আরেক চোখে বাবার দ্বারা
প্রাপ্ত কর্তব্য (সেবা) সদা স্মৃতিতে থাকে। ঠিক এমনই স্মৃতি মূর্ত হওয়ার সাথে সাথে
এখন শক্তিরূপও হও। স্নেহের সাথে সালে শব্দবাণ এমন হতে হবে যা যে কোনো কারও হৃদয় যেন
বিদীর্ণ ক'রে দিতে পারে। মা যেমন বাচ্চাকে যেকোনো শব্দে শিক্ষা দিয়ে থাকে, তো মায়ের
স্নেহের কারণে সেই শব্দ রূঢ় বা কটু বোধ হয় না। তেমনই জ্ঞানের যে সত্য বিষয় আছে তা'
স্পষ্ট শব্দে শিক্ষা দাও, কিন্তু শব্দে যেন স্নেহ সমাহিত থাকে, তবেই সফলতা মূর্ত হয়ে
যাবে।
স্লোগান:-
সর্বশক্তিমান বাবাকে সাথি বানিয়ে নাও তবে অনুতাপ থেকে
রেহাই পাবে।
অব্যক্ত ইশারা :- জ্বালাস্বরূপ স্থিতিতে থেকে
শক্তিশালী স্মরণের অনুভব করো যেমন, সূর্যের কিরণ ছড়িয়ে পড়ে, তেমনই মাস্টার
সর্বশক্তিমানের স্টেজে শক্তি ও বিশেষত্ব রূপী কিরণ চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ার অনুভব করো,
তার জন্য 'আমি মাস্টার সর্বশক্তিমান, বিঘ্ন- বিনাশক আত্মা' - এই শ্রেষ্ঠ স্বমানের
স্মৃতির সেটে স্থিত হয়ে যোগের জ্বালা রূপ বানাও, তবে কোনো বিঘ্ন সামনে পর্যন্ত আসতে
পারবে না।