06.02.2026 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - এ হলো চড়তি কলা (আরোহণ) সময়, ভারত দরিদ্র থেকে ধনশালী হয়ে যায়, তোমরা বাবার থেকে সত্যযুগীয় রাজত্বের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করে নাও"

প্রশ্নঃ -
বাবার কোন্ টাইটেল শ্রীকৃষ্ণকে দেওয়া যেতে পারে না?

উত্তরঃ  
বাবা হলেন দীননাথ। শ্রীকৃষ্ণকে এ'রকম বলবে না। তিনি তো অতি ধনবান, তাঁর রাজ্যে সকলেই ঐশ্বর্যশালী। বাবা যখন আসেন তখন সর্বাপেক্ষা দরিদ্র থাকে ভারত। ভারতকেই ঐশ্বর্যশালী করেন। তোমরা বলো - আমাদের ভারত স্বর্গ ছিল, এখন নেই, পুনরায় হয়ে যাবে। দীনবন্ধু বাবা-ই ভারতকে স্বর্গে পরিণত করেন।

গীতঃ-
অবশেষে সেই দিন এসেছে আজ.....

ওম্ শান্তি ।
মিষ্টি মিষ্টি আত্মা-রূপী বাচ্চারা এই গান শুনেছে। যেমন আত্মা গুপ্ত আর শরীর প্রত্যক্ষ। আত্মাকে এই নয়ন দ্বারা দেখতে পাওয়া যায় না, গুপ্ত থাকে। আছে তো অবশ্যই কিন্তু এই শরীরের আবরনে তাই বলা হয় আত্মা গুপ্ত। আত্মা স্বয়ং বলে যে - আমি নিরাকার, এখানে সাকারে এসে গুপ্ত হয়েছি। আত্মাদের নিরাকারী দুনিয়া আছে। সেখানে গুপ্ত হওয়ার কোনো কথা নেই। পরমপিতা পরমাত্মাও ওখানেই থাকেন। বাবাকে বলা হয় সুপ্রীম। উচ্চ থেকেও উচ্চ হলো আত্মা, আর সর্বাপেক্ষা উর্ধ্বে থাকেন পরম আত্মা। বাবা বলেন যেমন তোমরা গুপ্ত, আমাকেও গুপ্তভাবে আসতে হয়। আমি গর্ভজেলে আসি না। একমাত্র শিব হিসেবেই আমার নামের প্রচলন রয়েছে। আমি এই শরীরে আসি তথাপি আমার নাম পরিবর্তন হয় না। এনার আত্মার যে শরীর রয়েছে তার নাম বদল হয়ে যায়। আমাকে তো শিবই বলা হয় - সকল আত্মাদের পিতা। তোমরা আত্মারা হলে এই শরীরে গুপ্ত, এই শরীরের দ্বারা কর্ম করো। আমিও গুপ্ত। তাহলে বাচ্চারা এখন এই জ্ঞান পাচ্ছে যে, আত্মা এই শরীর দ্বারা আবৃত। আত্মা অপ্রত্যক্ষ(গুপ্ত), শরীর প্রত্যক্ষ। আমিও অশরীরী। বাবা গুপ্ত, তিনি এই শরীরের মাধ্যমে শোনান। তোমরাও গুপ্ত, শরীরের দ্বারা শোনো। তোমরা জানো যে, বাবা এসেছেন - ভারতকে পুনরায় দারিদ্রতা থেকে ঐশ্বর্যশালী করতে। তোমরা বলবে - আমাদের ভারত। প্রত্যেকেই নিজের রাজ্যের উদ্দেশ্যে বলবে যে - আমাদের গুজরাট, আমাদের রাজস্থান। আমাদের-আমাদের বলতে থাকলে তার মধ্যে মোহ থাকে। আমাদের ভারত দরিদ্র। এ তো সকলেই মানে, কিন্তু তারা জানে না যে আমাদের ভারত কবে ঐশ্বর্যশালী ছিল, কিরকম ছিল। বাচ্চারা, তোমাদের অত্যন্ত নেশা রয়েছে। আমাদের ভারত তো অতি ধনশালী ছিল, দুঃখের কোনো কথাই ছিল না। সত্যযুগে দ্বিতীয় আর কোনো ধর্ম থাকে না। একমাত্র দেবী-দেবতা ধর্মই ছিল, একথা কেউ জানে না। ওয়ার্ল্ডের এই যে হিস্ট্রী-জিওগ্রাফী রয়েছে, তা কেউ জানে না। এখন তোমরা ভালভাবে জানো যে, আমাদের ভারত অত্যন্ত ঐশ্বর্যশালী ছিল। এখন অত্যন্ত দরিদ্র। এখন পুনরায় বাবা এসেছেন ধনসমৃদ্ধ করতে। যখন দেবী-দেবতাদের রাজ্য ছিল তখন ভারত অত্যন্ত ঐশ্বর্যশালী ছিল, পরে সেই রাজ্য কোথায় গেল। তা কেউ জানে না। ঋষি, মুনি ইত্যাদিরাও রচয়িতা এবং রচনাকে জানে না। বাবা বলেন - সত্যযুগেও দেবী-দেবতাদের রচয়িতা এবং রচনার আদি-মধ্য-অন্তের জ্ঞান ছিল না। যদি তাদেরও জ্ঞান থাকে যে আমরা সিড়িতে নামতে-নামতে কলিযুগে চলে যাবো তাহলে রাজত্বের সুখও থাকবে না, চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়বে। এখন তোমাদের চিন্তা রয়েছে যে, আমরা সতোপ্রধান ছিলাম, পুনরায় সতোপ্রধান কিভাবে হবো! আমরা আত্মারা, যারা নিরাকারী দুনিয়ায় ছিলাম, সেখান থেকে আবার সুখধামে কিভাবে এসেছি সেই জ্ঞানও রয়েছে। এখন আমরা আরোহণ কলায় রয়েছি। এ হলো ৮৪ জন্মের সিঁড়ি । ড্রামানুসারে প্রত্যেক অ্যাক্টর নম্বরের অনুক্রমে নিজ-নিজ সময়ানুসারে এসে (নিজেদের) পার্ট প্লে করে। বাচ্চারা, এখন তোমরা জানো যে দীনবন্ধু কাকে বলা হয়, এই দুনিয়া জানে না। গানেও শুনেছো যে - অবশেষে সেই দিন এসেছে আজ, যেইদিনের জন্য প্রতীক্ষা করতাম.... সকল ভক্তরা। ভগবান কবে এসে আমাদের ভক্তদের এই ভক্তিমার্গ থেকে মুক্ত করে সদ্গতিতে নিয়ে যাবেন - তা এখন বুঝেছি। বাবা পুনরায় এই শরীরে এসে গেছেন। শিব-জয়ন্তী যখন পালিত হয় তখন অবশ্যই আসেন। এমনও তো বলবেন না যে - আমি কৃষ্ণের শরীরে আসি। না। বাবা বলেন, কৃষ্ণের আত্মা ৮৪ জন্ম নিয়েছেন। এ হলো ওনার অনেক জন্মের অন্তের অন্তিম জন্ম। যিনি প্রথম স্থানাধিকারী ছিলেন তিনিই এখন অন্তিমে হয়েছেন তত্বতম। আমি তো আসি সাধারণ শরীরে। তোমাদের এসে বলি - তোমরা কিভাবে ৮৪ জন্ম ভোগ করেছো। সর্দাররাও (শিখ) মনে করে, এক ওঁঙ্কার হলেন পরমপিতা পরমাত্মা বাবা। তিনি বরাবরই মানুষ থেকে দেবতায় পরিনত করেন। তাহলে কেন না আমরাও দেবতা হয়ে যাই। যারা দেবতা হয়েছিল তারা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে থাকবে। একজনও তো নিজেদের দেবী-দেবতা ধর্মের বলে মনে করে না। অন্যান্য ধর্মের ইতিহাস অতি ক্ষুদ্র। কারোর ৫০০ বছরের, কারোর ১২৫০ বছরের। তোমাদের ইতিহাস হলো ৫ হাজার বছরের। দেবতা ধর্মাবলম্বীরাই স্বর্গে আসবে। অন্যান্য ধর্ম তো আসে পরে। দেবতা ধর্মাবলম্বীরাও এখন ড্রামানুসারে অন্য ধর্মে কনভার্ট হয়ে গেছে। পরেও এভাবেই কনভার্ট হবে। পুনরায় নিজের নিজের ধর্মে ফিরে আসবে। বাবা বোঝান - বাচ্চারা, তোমরা বিশ্বের মালিক ছিলে। তোমরাও বোঝো যে, বাবা স্বর্গের স্থাপনা করেন তাহলে আমরা কেন স্বর্গে থাকবো না ! বাবার থেকে আমরা অবশ্যই উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করবো - তাহলে এর দ্বারাই প্রমাণিত হয় যে এরা আমাদের ধর্মের। যারা হবে না তারা আসবেও না। তারা বলবে - পরধর্মে কেন যাবো? বাচ্চারা, তোমরা জানো সত্যযুগ নতুন দুনিয়ায় দেবতাদের অনেক সুখ ছিল, সোনার মহল ছিল। সোমনাথ মন্দিরে কত সোনা ছিল। এই রকম অন্য আর কোনো ধর্ম হয়ই না। সোমনাথ মন্দিরের মতন এত মূল্যবান মন্দির আর হবে না। অনেক হীরে-জহরৎ ছিল। বুদ্ধাদিদের কোনো হীরে-জহরতের মহল থাকবে কী ! না তা থাকবে না। বাচ্চারা, তোমাদের যে বাবা এত উচ্চ বানিয়েছেন, তোমরা তাঁকে কত সম্মান করেছো! সম্মান করা তো উচিত, তাই না! মনে করে যে, ভালো কাজ করে গেছে। এখন তোমরা জেনেছো যে, সর্বাপেক্ষা ভালো কর্ম তো পতিত-পাবন বাবাই করে যান। তোমাদের আত্মা বলে - সর্বোত্তম সেবা অসীম জগতের বাবা-ই এসে করেন। আমাদের কাঙ্গাল থেকে রাজা, বেগার টু প্রিন্স করে দেন। যিনি ভারতকে স্বর্গে পরিনত করেন, ওনার সম্মান এখন কেউ রাখে না। তোমরা জানো, সর্বোচ্চ মন্দিরের গায়ন রয়েছে যা লুন্ঠিত হয়েছে।

লক্ষ্মী-নারায়ণের মন্দিরকে কখনও কেউ লুন্ঠন করেনি। সোমনাথের মন্দিরকে লুন্ঠন করেছে। ভক্তিমার্গেও অতি ধনবান হয়। রাজাদের মধ্যেও নম্বরের অনুক্রম তো থাকে, তাই না! যারা উচ্চ পদাধিকারী হয়, নিম্ন পদাধিকারীরা তাদের সম্মান করে। সভায়ও নম্বরের ক্রমানুসারে বসে। বাবা তো অনুভবী, তাই না! এখানকার সভা হলো অপবিত্র রাজাদের। পবিত্র রাজাদের সভা কেমন হবে। তাদের কাছে যখন এত ধন-সম্পদ রয়েছে তখন তাদের ঘর-বাড়ীও ততটাই ভালো হবে। এখন তোমরা জানো যে, বাবা আমাদের পড়াচ্ছেন, স্বর্গের স্থাপনা করছেন। আমরা স্বর্গের মহারাজা-মহারানী হয়ে যাই, পুনরায় নামতে-নামতে ভক্ত হয়ে যাই, তখন আমরাই সর্বপ্রথমে শিববাবার পূজারী হবো। যিনি বিশ্বের মালিক করেছেন তাঁরই পূজা করবো। তিনি আমাদের অত্যন্ত ধনবান করে দেন। এখন ভারত কত দরিদ্র। যে জমি ৫০০ টাকায় নিয়েছিলে তা এখন পাঁচ হাজারেরও অধিক হয়ে গেছে। এসব হলো আর্টিফিসিয়াল দাম। ওখানে তো জমির মূল্য থাকে না, যার যতখানি চাই ততখানি নিয়ে নেবে। প্রচুরসংখ্যক জমি পড়ে থাকবে। মিষ্টি (জলের) নদীর ধারে তোমাদের মহল থাকবে। অতি অল্পসংখ্যক মানুষ থাকবে। প্রকৃতি হবে দাসী। ফল-ফুলও অতি উত্তম গুণমানের পাওয়া যাবে। এখন কত পরিশ্রম করতে হয় তবুও অন্ন(খাদ্য) পায় না। ক্ষুধা-তৃষ্ণায় অনেক মানুষ মারা যায়। তাই গান শুনলে তোমাদের রোমাঞ্চিত হওয়া উচিত। বাবাকে দীনদয়াল বলা হয়। দীনদয়ালের অর্থ তো বোঝ, তাই না! কাউকে ঐশ্বর্যশালী করে ? অবশ্যই যেখানে আসবে তাদেরকেই ধনবান করে দেবে। বাচ্চারা তোমরা জানো - তোমাদের পবিত্র থেকে অপবিত্র হতে ৫ হাজার বছর লাগে। পুনরায় এখন বাবা অতি শীঘ্র অপবিত্র থেকে পবিত্র করে দেন। উচ্চ থেকেও উচ্চ করে দেন। এক সেকেন্ডে জীবনমুক্তি প্রাপ্ত হয়ে যায়। তারা বলে - বাবা, আমরা তোমার। বাবা বলেন - বাচ্চারা, তোমরা হলে বিশ্বের মালিক। পুত্রসন্তানের জন্ম হয় আর উত্তরাধিকারী হয়ে যায়। কত খুশী হয়। আর কন্যাসন্তান দেখে চেহারা উদাস হয়ে যায়। এখানে তো সব আত্মারাই সন্তান। এখন জেনেছো যে, আমরা ৫ হাজার বছর পূর্বে স্বর্গের মালিক ছিলাম। বাবা এমনভাবে তৈরী করেছিলেন। শিব-জয়ন্তী পালন করে কিন্তু জানে না যে তিনি কবে এসেছিলেন। লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজ্য ছিল, সেটাও কেউ জানে না। জন্মদিন পালনের জন্য (শিব) লিঙ্গের বড়-বড় মন্দির তৈরী করে। কিন্তু তিনি কিভাবে এসেছেন, এসে কি করেছেন, কিছুই জানে না, একেই বলা হয় ব্লাইন্ড ফেইথ বা অন্ধশ্রদ্ধা। তারা এটা জানেই না যে আমাদের ধর্ম কী, তা কবে স্থাপিত হয়েছে? অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা জানে যে বুদ্ধ কবে এসেছিলেন, তিথি-তারিখও রয়েছে। শিববাবার, লক্ষ্মী-নারায়ণের কোনো তিথি-তারিখ নেই। ৫ হাজার বছরের কথাকে লক্ষ-লক্ষ বছর লিখে রেখেছে। লক্ষ-লক্ষ বছরের কথা কি কারও স্মরণে আসতে পারে? ভারতে দেবী-দেবতা ধর্ম কবে ছিল, তা বোঝে না। লক্ষ-লক্ষ বছরের হিসাবে তো ভারতের জনসংখ্যা সর্বাপেক্ষা অধিক হওয়া উচিত। ভারতের জমিও সর্বাপেক্ষা বৃহৎ হওয়া উচিত। লক্ষ-লক্ষ বছরে কত মানুষের জন্ম হয়, অগণিত মানুষ হয়ে যায়। এত তো নেই, আরও কম হয়ে গেছে, এ'সমস্ত কথা বাবা বসে থেকে বোঝান। মানুষ যখন এ'কথা শোনে তখন বলে যে - এমন কথা তো কখনো শুনিনি, না শাস্ত্রতে পড়েছি। এ তো অতি বিস্ময়কর কথা। বাচ্চারা, এখন তোমাদের বুদ্ধিতে সমগ্র চক্রের জ্ঞান রয়েছে। এখন ইনি হলেন অনেক জন্মের অন্তেরও অন্তের অপবিত্র আত্মা, যিনি সতোপ্রধান ছিলেন তিনিই এখন তমোপ্রধান পুনরায় সতোপ্রধান হতে হবে। আত্মা-রূপী তোমরা এখন শিক্ষালাভ করছো। আত্মা কানের মাধ্যমে শোনে তাই শরীর দুলতে থাকে কারণ আত্মা শোনে, তাই না! অবশ্যই আমরা আত্মারা ৮৪ জন্ম নিই। ৮৪ জন্মে ৮৪ জন মাতা-পিতাকে অবশ্যই পেয়েছি। এও তো হিসেব, তাই না! বুদ্ধিতে আসে যে আমরা ৮৪ জন্ম নিই, আবার স্বল্পমেয়াদী জন্মগ্রহণকারীও থাকবে। এমনি-এমনিই কি সকলে ৮৪ জন্ম নেবে নাকি! না তা নেবে না। বাবা বসে-বসে বোঝান যে, শাস্ত্রতে কি-কি সব কথা লিখে দিয়েছে। তোমাদের জন্য তো তবুও ৮৪ জন্ম বলা হয়, আমার উদ্দেশ্যে তো অগণিত, হিসাব বহির্ভূত জন্ম বলে দেয়। কণায়-কণায়, পাথর-মাটিতে ফেলে দিয়েছে। ব্যস্, যেদিকেই দেখি শুধু তুমিই-তুমি। কৃষ্ণই-কৃষ্ণ রয়েছে - মথুরা, বৃন্দাবনে এমনই বলতে থাকে। কৃষ্ণই সর্বব্যাপী। রাধাপন্থীরা আবার বলবে - রাধাই-রাধা। তুমিও রাধা, আমিও রাধা। তাহলে অবশ্যই একমাত্র বাবা-ই হলেন দীনবন্ধু । এই ভারত যা সর্বাপেক্ষা ঐশ্বর্যশালী ছিল, এখন সর্বাপেক্ষা দরিদ্র হয়ে গেছে সেইজন্য আমায় ভারতেই আসতে হয়। এ হলো পূর্ব-নির্ধারিত ড্রামা, এতে সামান্যতমও পার্থক্যও হতে পারে না। ড্রামা যা শ্যুট করা হয়ে গেছে তা হুবহু পুনরাবৃত হয়, এতে পাই-এর অর্থাৎ অতি সামান্যতম পার্থক্যও হতে পারে না। ড্রামাকেও জানা চাই। ড্রামা মানে ড্রামা। ওটা হলো পার্থিব জগতের নাটক, এটা হলো অসীম জগতের নাটক। এই অসীম জগতের ড্রামার আদি-মধ্য-অন্তকে কেউ জানে না। তাই দীনবন্ধু নিরাকার ভগবানকেই মানবে, কৃষ্ণকে তো মানবে না। কৃষ্ণ তো হয় ঐশ্বর্যশালী, সত্যযুগের যুবরাজ। ঈশ্বরের তো নিজস্ব শরীর নেই। বাচ্চারা, উনি এসে তোমাদের ঐশ্বর্যশালী করে দেন, তোমাদের রাজযোগের শিক্ষা দেন। অধ্যয়নের মাধ্যমে ব্যারিস্টার ইত্যাদি হয়ে আবার উপার্জনও করে। বাবাও তোমাদেরকে এখনই পড়ান। তোমরা ভবিষ্যতে নর থেকে নারায়ণ হয়ে যাও। তোমাদের জন্ম তো হবে, তাই না! এমন তো নয় যে স্বর্গ সমুদ্রের থেকে বেরিয়ে আসবে। কৃষ্ণও তো জন্ম নিয়েছে, তাই না! কংসপুরী ইত্যাদি তো সেইসময় ছিল না। কৃষ্ণের নাম কত গাওয়া হয়। ওঁনার বাবার তেমন কোনো প্রশস্ত শোনা যায় না । ওনার বাবা কোথায়? কৃষ্ণ তো অবশ্যই কারোর সন্তান, তাই না! কৃষ্ণ যখন জন্ম নেয় তখন যৎসামান্য (এই দুনিয়ায়) পতিতও থাকে। যখন তা সম্পূর্ণ সমাপ্ত হয়ে যায় তখন সে রাজসিংহাসনে বসে। নিজের রাজত্ব গ্রহণ করে আর তখন থেকেই ওনার অব্দ বা যুগের সূচনা হয়। লক্ষ্মী-নারায়ণের থেকেই যুগের সূচনা হয়। তোমরা সম্পূর্ণ হিসেব লেখো। এঁনাদের রাজ্য এত সময়, আবার এঁনাদের রাজত্ব এতসময়, তবেই মানুষ বুঝতে পারবে যে - কল্পের আয়ু বড় হতে পারে না। সম্পূর্ণ হিসাব ৫ হাজার বছরের। বাচ্চারা, তোমাদের বুদ্ধিতে তো আসে, তাই না! কাল আমরা স্বর্গের মালিক ছিলাম। বাবা আমাদের এরকম করেছিলেন, তবেই তো আমরা শিব-জয়ন্তী পালন করছি। তোমরা সবকিছু জানো। খ্রাইস্ট, গুরুনানকাদিরা কবে আসবেন, এই জ্ঞান তোমাদের রয়েছে। ওয়ার্ল্ডের হিস্ট্রী-জিওগ্রাফী হুবহু পুনরাবৃত্তি হয়। এই পড়া কত সহজ। তোমরা স্বর্গকে জানো, বরাবর ভারত স্বর্গ ছিল। ভারত হলো অবিনাশী খন্ড। ভারতের মতন মহিমা আর কারোর হতে পারে না। সকলকে পতিত থেকে পবিত্র করেন একমাত্র বাবা-ই। আচ্ছা!

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা-রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) ড্রামার আদি-মধ্য-অন্তের জ্ঞানকে বুদ্ধিতে রেখে সমস্ত চিন্তা পরিত্যাগ করতে হবে। একমাত্র সতোপ্রধান হওয়ার চিন্তা রাখতে হবে।

২ ) দীনবন্ধু বাবা ভারতকে দরিদ্র থেকে ঐশ্বর্য-সমৃদ্ধে পরিনত করতে আসেন, সম্পূর্ণরূপে ওনার সাহায্যকারী হয়ে উঠতে হবে। নিজের নতুন দুনিয়াকে স্মরণ করে সদা খুশীতে থাকতে হবে।

বরদান:-
হৃদয়ে সদা এক রামকে (শিববাবাকে) রেখে সত্যিকারের সেবা করা মায়াজীৎ, বিজয়ী ভব

হনুমানের বিশেষত্ব দেখানো হয় যে সে সদা সেবাধারী, মহাবীর ছিল, এইজন্য নিজে জ্বলেনি, কিন্তু লেজের দ্বারা লঙ্কাকে জ্বালিয়ে দিয়েছিল। তো এখানেও যে সদা সেবাধারী, সে-ই মায়ার অধিকারকে সমাপ্ত করতে পারে। যে সেবাধারী নয়, সে মায়ার রাজ্যকে জ্বালাতে পারবে না। হনুমানের হৃদয়ে সদা এক রাম ছিল, তো বাবা ব্যতীত আর কেউ হৃদয়ে যেন না থাকে, নিজের দেহের স্মৃতিও যেন না আসে, তখন মায়াজীৎ, বিজয়ী হতে পারবে।

স্লোগান:-
যেরকম আত্মা আর শরীর হল কম্বাইন্ড এইরকম তোমরাও বাবার সাথে কম্বাইন্ড থাকো।

অব্যক্ত ঈশারা :- একতা আর বিশ্বাসের বিশেষত্বের দ্বারা সফলতা সম্পন্ন হও

সংগঠনে প্রত্যেকের বিশেষত্বকে দেখা, বিশেষ গুণই গ্রহণ করা আর দুর্বলতাগুলিকে সমাপ্ত করার প্রচেষ্টা করা - এটাই হলো বিধি, একতার সংগঠন মজবুত করার। যেরকম তোমাদের সকলের ওঠা-বসা, চলা একই রকম বা সকলের একই রকম কথা, একই গতি, একই রীতি, একই নীতি, এরকমই সংস্কারও সমান দেখা যাবে। ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও একে-অপরের মধ্যে বিশ্বাস রেখে সকলের অভিমতকে সৎকার করো, এটাই হল একতার আধার।