07.05.2026 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


“মিষ্টি বাচ্চারা - তোমরা হলে ব্রহ্মার মুখ বংশাবলী ব্রাহ্মণ, তোমরাই বাবার কাছ থেকে জ্ঞানের ত্রিনয়ন পেয়েছো, তোমরা এখন ঈশ্বরের কোলে রয়েছো”

প্রশ্নঃ -
অদ্বৈত রাজ্য, যেখানে অন্য কোনো ধর্ম থাকবে না, সেইরকম রাজত্ব স্থাপনের আধার (ভিত্তি) কি?

উত্তরঃ  
যোগবল। বাহুবলের দ্বারা কখনোই অদ্বৈত রাজত্ব স্থাপন সম্ভব নয়। হয়তো খ্রিষ্টানদের কাছে এত শক্তি আছে যে তারা নিজেদের মধ্যে মিলিত হয়ে গেলে সমগ্র বিশ্বের ওপরে রাজত্ব করতে পারবে। কিন্তু আইন তো এই কথা বলে না। সমগ্র বিশ্বে এক রাজ্য স্থাপন করা তো কেবল বাবার-ই কর্তব্য।

গীতঃ-
আকাশ সিংহাসন ছেড়ে নেমে এসো....
(ছোড় ভী দে আকাশ সিংহাসন…)

ওম্ শান্তি ।
বাচ্চাদেরকে ওম্ শান্তি শব্দের অর্থ তো অনেকবার বোঝানো হয়েছে। ওম্ মানে আমি কে? আমি এক আত্মা। এই শরীর আমাদের অর্গানস। আমি পরমধাম নিবাসী আত্মা। ভারতবাসীরা আহ্বান করে - হে দূরদেশবাসী, তুমি এসো। কারণ ভারতে এখন অতীব ধর্মগ্লানি হয়, চারিদিকে কেবলই দুঃখ। তুমি পুনরায় এসে গীতার উপদেশ শোনাও। গীতা শোনানোর জন্যই বলা হয় - শিববাবা তুমি এসো। কারণ তিনি সকলের পিতা। বলা হয়, ভারতবাসীদের ওপর পুনরায় মায়া রূপী রাবণের ছায়া পড়েছে। তাই এখানে এরা দুঃখী আর পতিত। আহ্বান করা হয় - রূপ পরিবর্তন করে এসো, অর্থাৎ মানুষের রূপ ধারণ করে এসো। তাই আমি মানুষের বেশ ধারণ করেই আসি। আমার আগমন দিব্য এবং অলৌকিক। আমি কোনো গর্ভে প্রবেশ করি না, আমি এক সাধারণ বৃদ্ধেল শরীরের মধ্যে আসি।

তোমরা বাচ্চারা জানো যে আমি প্রতি কল্পেই এইভাবে আমার নিরাকার রূপ পরিবর্তন করে আসি। পরমপিতা পরমাত্মা-ই হলেন জ্ঞানের সাগর। কৃষ্ণকে কখনোই জ্ঞানের সাগর বলা যাবে না। বাবা বলছেন, আমি পুনরায় এই সাধারণ বৃদ্ধ শরীরের মধ্যে এসে তোমাদেরকে সহজ রাজযোগ শেখাচ্ছি। যখন দুনিয়া পতিত হয়ে যায়, তখনই আমাকে আসতে হয়। কলিযুগ থেকে সত্যযুগ বানানোর জন্য আমি আসি। ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং শঙ্করের ছবিও রয়েছে। ব্রহ্মার দ্বারা স্থাপন, শঙ্করের দ্বারা বিনাশ এবং তারপর বিষ্ণুর দ্বারা পালন। এই লক্ষ্মী-নারায়ণ হলো বিষ্ণুর দুই রূপ। তোমরা বাচ্চারাই এটা জানো। বাবা পুনরায় রূপ পরিবর্তন করে এসেছেন। তিনি একাধারে আমাদের পরমপিতা, পরম শিক্ষক এবং পরম সদগুরু। অন্যান্য গুরুদেরকে পরম বা সুপ্রিম বলা যায় না। ইনি নিজেই বাবা, শিক্ষক এবং গুরু। লৌকিক পিতা তো সন্তানের লালন পালন করার পরে তাদেরকে স্কুলে পাঠিয়ে দেয়। খুব কমই আছে, যে নিজেই পিতা এবং শিক্ষক। বাকিরা কেউ নিজেকে এইরকম বলতে পারবে না। সকল আত্মাই আমাকে আহ্বান করে, গড ফাদার বলে ডাকে। সুতরাং তিনি সকল আত্মার পিতা। এটা ভক্তিমূলক গীত। সত্যযুগে তো মায়াই থাকবে না যে আহ্বান করতে হবে। ওখানে কেবল সুখ আর সুখ। তোমরা জানো যে এই চক্র ৫ হাজার বছরের। অর্ধেক কল্প অর্থাৎ সত্য এবং ত্রেতাযুগ হলো দিন আর অর্ধেক কল্প অর্থাৎ দ্বাপর এবং কলিযুগ হলো রাত্রি। তোমরা হলে ব্রহ্মার মুখ (জাত) বংশাবলী অর্থাৎ ব্রাহ্মণ। ব্রহ্মার অর্থাৎ তোমাদের মতো ব্রাহ্মণদের ক্ষেত্রেই এই দিন রাত্রির গায়ন রয়েছে। তোমাদের মতো বাচ্চাদের কাছেই এই দিন রাত্রির পুরো জ্ঞান রয়েছে। লক্ষ্মী নারায়ণের কাছেও এই জ্ঞান নেই। এখন তোমরা সঙ্গমযুগে রয়েছ। তোমরা জানো যে ভক্তিমার্গ সম্পূর্ণ হয়ে এবার দিন শুরু হবে। তোমরাই এখন বাবার কাছ থেকে এই জ্ঞান পেয়েছ। কলিযুগ কিংবা সত্যযুগে কারোর কাছেই এই জ্ঞান থাকবে না। তাই গায়ন করা হয় - ব্রহ্মার দিন এবং ব্রহ্মার রাত্রি। তোমরা এখন সূর্য এবং চন্দ্রবংশের রাজত্ব পাওয়ার জন্য পুরুষার্থ করছ। তারপর অর্ধেক কল্প পরে তোমরা সেই রাজত্ব হারিয়ে ফেলেছে। তোমরা ব্রাহ্মণরা ছাড়া অন্য কারোর কাছেই এই জ্ঞান নেই। তোমরা দেবতা হয়ে গেলে এই জ্ঞান আর থাকবে না। এখন রাত্রি রয়েছে। শিবরাত্রি পালন করা হয়। কৃষ্ণের ক্ষেত্রেও রাত্রির উল্লেখ করা হয় কিন্তু তার প্রকৃত অর্থ জানে না। শিব জয়ন্তীর অর্থ শিবের পুনঃ অবতরণ। এইরকম বাবার অবতরণ দিবস তো কমপক্ষে একমাস ধরে পালন করা উচিত। যিনি সমগ্র দুনিয়াকে পতিত থেকে পবিত্র করে দেন, তাঁর জন্য হলিডে পালন করা হয়। বাবা বলছেন, আমি সকলের মুক্তিদাতা, আমি পথপ্রদর্শক হয়ে সবাইকে নিয়ে যাই।

এখন তোমরা রাজযোগ শেখার পুরুষার্থ করছ। বাবা তোমাদেরকে জ্ঞানের ত্রিনয়ন দিচ্ছেন। আত্মার প্ৰকৃত রূপের জ্ঞানও কারোর কাছে নেই। বাবা বলছেন, তোমরা আত্মারা আঙুলের মতোও নও আর অখন্ড জ্যোতির মতোও নও। তোমরা হলে নক্ষত্র সম, বিন্দু তুল্য। আমিও বিন্দু তুল্য আত্মা কিন্তু আমি পুনর্জন্ম নিই না। আমার মহিমা সম্পূর্ণ আলাদা। আমি সুপ্রিম, তাই আমি জন্ম মৃত্যুর চক্রে আসি না। তোমরা আত্মারা শরীর ধারণ করো এবং ৮৪ বার জন্ম নাও। আমি এই শরীরের মধ্যে প্রবেশ করি। এটা লোন নিয়েছি। বাবা বোঝাচ্ছেন, তোমরাও আত্মা। কিন্তু তোমরা নিজেকে আত্মা বলে উপলব্ধি করতে পারো না। আত্মাই নিজের পিতাকে স্মরণ করে। দুঃখের সময়ে সর্বদাই স্মরণ করে - হে ভগবান, হে করুণাসিন্ধু পিতা, করুণা করো। তিনি নিজেই নলেজেফুল, ব্লিসফুল এবং পিওরিটি ফুল। তাই তোমরা প্রার্থনা করছো। জ্ঞানেও তিনি সম্পূর্ণ, জ্ঞানের সাগর। কোনো মানুষের জন্যই এই মহিমা করা যাবে না। সমগ্র দুনিয়াকে ওপরে আশীর্বাদ করা তো কেবল বাবার কর্তব্য। তিনি হলেন রচয়িতা। বাকি সবাই রচনা। রচয়িতা রচনার সৃষ্টি করেন। প্রথমে স্ত্রীকে অ্যাডাপ্ট করে এবং তারপর তার দ্বারা সন্তানের জন্ম দেয় এবং লালন পালন করে। তবে বিনাশ করে না। কিন্তু এই অসীম জগতের বাবা স্থাপন, প্রতিপালন এবং বিনাশ তিন কর্তব্যই করেন। আদি সনাতন দেবী দেবতা ধর্মের পালন করেন। সত্যযুগের শুরুতে হঠাৎ করেই রাজধানী স্থাপন হয়ে যায়। অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা তো কেবল নিজ নিজ ধর্ম স্থাপন করে। তারপর যখন তাদের সংখ্যা লক্ষ কিংবা কোটি ছাড়িয়ে যায়, তখন রাজত্ব পায়। এখন তোমরা রাজধানী স্থাপন করছ। যোগবলের দ্বারা তোমরা সমগ্র বিশ্বের ওপরে রাজত্ব পাও। বাহুবল দ্বারা কখনো বিশ্বের ওপর রাজত্ব করা যায় না। বাবা বুঝিয়েছেন, খ্রীষ্টানদের মধ্যে এতো শক্তি আছে যে তারা নিজেরা যদি মিলে যায়, তবে বিশ্বের ওপরে রাজত্ব করতে পারে। কিন্তু বাহুবলের দ্বারা কেউ বিশ্বের রাজত্ব পেয়ে যাবে - ল' তো তা বলে না। ড্রামাতে এইরকম হবেই না যে বাহুবলের দ্বারা কেউ বিশ্বের ওপরে রাজত্ব পাবে। বাবা বোঝাচ্ছেন, যোগবলের দ্বারা আমার কাছ থেকেই বিশ্বের রাজত্ব পাওয়া সম্ভব। ওখানে কোনো পার্টিশন থাকে না। ধরণী, আকাশ সবকিছুই তোমাদের থাকবে। কেউ তোমাদেরকে ছুঁতেও পারবে না। সেই রাজত্বকে বলা হয় অদ্বৈত রাজ্য। এখানে অনেক রাজ্য রয়েছে। বাবা বলছেন, ৫ হাজার বছর পরে তোমাদেরকে এই রাজযোগ শেখাচ্ছি। কৃষ্ণের আত্মাও এখন শিখছে। কৃষ্ণ ছিল প্রথম রাজকুমার। সে এখন ৮৪ জন্মের শেষে এসে ব্রহ্মা হয়েছে। বাচ্চাদেরকে বোঝানো হয়েছে যে কিভাবে সৃষ্টিচক্র আবর্তিত হয়। বাবা পুনরায় স্বর্গ স্থাপন করছেন। এতসব ধর্মের বিনাশ তো অবশ্যই হবে। এক ধর্মের স্থাপন হবে। ভারতই ১০০ শতাংশ সলভেন্ট এবং শ্রেষ্ঠ ধর্মাবলম্বী ছিল। দেবতাদের কর্মও শ্রেষ্ঠ ছিল। ওদের জন্যই মহিমা করা হয় - সর্বগুণ সম্পন্ন। প্রথমে পবিত্র ছিল। এখন পতিত হয়ে গেছে। তারপর এখন বাবা এসে স্ত্রী-পুরুষ উভয়কেই পবিত্র বানাচ্ছেন। রাখিবন্ধন উৎসব কেন এত বড় করে পালিত হয়, তা কেউই জানে না। বাবা আসার পরেই প্রতিজ্ঞা করিয়েছিলেন যে অন্তিম জন্মে তোমরা পবিত্র থাকো। সন্ন্যাসীদের ধর্ম তো একেবারে আলাদা ধর্ম। জ্ঞান, ভক্তি আর বৈরাগ্য - এই কথাটা তোমাদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তোমরা দেখেছ যে পাদ্রীরা যাওয়ার সময়ে একদিকে তাকিয়ে তাকিয়ে যায়। অন্য কোনো দিকে চোখ যায় না। নান্-রাও তো সেখানে থাকে। ওরা খ্রাইস্টকে স্মরণ করে। বলে, খ্রাইস্ট ছিলেন ঈশ্বরের সন্তান। সাদা পোশাকের সঙ্গে তোমাদের কোনো কানেকশন নেই। তোমরা হলে আত্মা। অন্য কাউকে নয়, কেবল একজনকেই স্মরণ করতে হবে। তোমরাই হলে সত্যিকারের নান্। ওই বাবার কাছ থেকেই তোমরা উত্তরাধিকার পাচ্ছ। তাঁকে স্মরণ করলেই বিকর্ম বিনষ্ট হবে। তাই বাবার নির্দেশ হলো - কেবল আমাকেই স্মরণ করো। কিন্তু আত্মাকে নিশ্চিত ভাবে না জানার কারণে ওই নান্-রা যীশুখ্রিস্টকে স্মরণ করে। ভগবান কে - সেটাই জানে না। যে ভারতবাসীরা একেবারে শুরু থেকে আসে, তারাই জানে না। লক্ষ্মী-নারায়ণের কাছে এই সৃষ্টিচক্রের জ্ঞান ছিল না। তারা ত্রিকালদ্রষ্টা ছিল না। তোমরা ব্রাহ্মণরাই হলে ত্রিকালদ্রষ্টা। বাবা তোমাদেরকে কড়ি তুল্য থেকে হীরা তুল্য বানাচ্ছেন। তোমরা এখন ঈশ্বরের কোলে রয়েছ। তোমাদের এই অন্তিম জন্ম অত্যন্ত অমূল্য। সমগ্র বিশ্বের, বিশেষ করে এই ভারতের আধ্যাত্মিক সেবা করছ। বাকি যারা আছে, ওরা সকলেই জাগতিক সমাজ সেবক। কেবল তোমরাই আধ্যাত্মিক সমাজ সেবক। স্বয়ং পরমাত্মা তোমাদেরকে শিক্ষা দিচ্ছেন। প্রত্যেক আত্মাকেই বলো - বাবাকে স্মরণ করো। বাবাকেই পতিত পাবন বলা হয়। তোমাদের পতিত হওয়ার জন্য ৮৪ জন্ম লেগে যায় আর ওপরে উঠতে এক সেকেন্ড সময় লাগে। এটাই এই মৃত্যুপুরীতে তোমাদের অন্তিম জন্ম। এরপর মৃত্যুলোক মুর্দাবাদ, অমরলোক জিন্দাবাদ হবে। এটাই হলো অমর কথা। অমর বাবা এসে তোমাদেরকে অর্থাৎ অমর আত্মাদেরকে অমর যুগে নিয়ে যাওয়ার জন্য অমর কথা শোনাচ্ছেন। বাবা বলছেন - ঠিক আছে, অন্য সবকিছু ভুলে নিজেকে আত্মা রূপে অনুভব করে কেবল আমাকে অর্থাৎ নিজের পিতাকে স্মরণ করো। আমার সাথে বুদ্ধি যুক্ত করলে তোমার পাপ ভস্মীভূত হয়ে যাবে এবং তুমি পূন্য আত্মা হয়ে যাবে। তোমরা মানুষ থেকে দেবতা হয়ে যাও। এটা কোনো নতুন কথা নয়। ৫ হাজার বছর পরে বাবা এসে তোমাদের উত্তরাধিকার দেন। তারপর রাবণ আবার অভিশাপ দিয়ে দেয়। এটাই হলো খেলা। এই কাহিনী কেবল ভারতের জন্যই। এইসব কথা কোনো বেদ-শাস্ত্রে নেই, বাবা এসেই বোঝাচ্ছেন। তাই গড ফাদারকে নলেজফুল, পিসফুল এবং ব্লিসফুল বলা হয়। তোমাদেরকে নিজের মতো বানাচ্ছেন। তোমরাও একসময়ে পূজনীয় ছিলে, এখন পূজারী হয়ে গেছ। তাই নিজেরাই পূজনীয় আবার নিজেরাই পূজারী। ভগবানের ক্ষেত্রে এটা বলা যাবে না। এটা তোমাদের মতো ভারতবাসীদের জন্য। প্ৰথমে তোমরা কেবল শিবের উপাসনা করতে। অব্যভিচারী ভক্তি করার পরে দেবতাদের ভক্তি করা শুরু করেছ। ক্রমশই অধঃপতন হয়েছে। এখন তোমরা পুনরায় দেবী-দেবতা হচ্ছ। যারা কম পড়াশুনা করবে, তারা প্রজা হয়ে যাবে। যারা ভালো পড়াশোনা করবে, তারা রাজ পরিবারে জন্ম নেবে। প্রজা তো অনেকেই হবে। একজন মহারাজার লক্ষ লক্ষ কিংবা কোটি কোটি প্রজা থাকবে। তোমরা আগের কল্পের মতোই পুরুষার্থ করছ। পুরুষার্থের দ্বারাই বোঝা যায় যে মালার মধ্যে কারা আসবে। প্রজাদের মধ্যেও কেউ গরিব, কেউ ধনী হয়। ভক্তিমার্গে ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে দান করে। ঈশ্বরের কাছে কি অভাব আছে? অথবা বলবে কৃষ্ণ অর্পণম। বাস্তবে তো ঈশ্বরের উদ্দেশ্যেই অর্পণ করে। মানুষ যা কিছু করে, পরের জন্মে তার ফল পেয়ে যায়। তবে এক জন্মের জন্যই পায়। এখন বাবা বলছেন, আমি তোমাদেরকে ২১ জন্মের উত্তরাধিকার দিতে এসেছি। আমার জন্য ডাইরেক্ট যা কিছু করো, তার বিনিময়ে ২১ জন্মের জন্য তোমাদের প্রাপ্তি হয়ে যায়। ইনডাইরেক্ট করলে এক জন্মের জন্য ক্ষণিকের সুখ পাও। বাবা বোঝাচ্ছেন, এগুলো অব মাটিতে মিশে যাবে, তাই এগুলো সফল করো। তোমরা এইরকম আধ্যাত্মিক হাসপাতাল কাম ইউনিভার্সিটি খুলতে থাকো যেখান থেকে অনেকে এভার হেলদী আর এভার ওয়েলদী হবে। এর মাধ্যমে অনেক উপার্জন হয়ে যায়। যোগের দ্বারা হেল্থ (স্বাস্থ্য) আর চক্রকে জানলে ওয়েলথ (সম্পত্তি) পাওয়া যায়। তাই প্রত্যেক ঘরে ঘরে এইরকম ইউনিভার্সিটি কাম হাসপাতাল খুলতে থাকো। যদি খুব ধনী হও, তাহলে বড়ো করে খোলো যেখানে অনেক জন আসতে পারবে। বোর্ডেও লিখে দাও। যেভাবে নেচার কিওরের লোকেরা লেখে। বাবা সমগ্র দুনিয়ার নেচার পরিবর্তন করে পবিত্র করে দিচ্ছেন। এখন সকলেই অপবিত্র। বাবা-ই সমগ্র দুনিয়াকে এভার হেলদী, এভার ওয়েলদী বানিয়ে দেন। তিনিই এখন তোমাদের মতো বাচ্চাদেরকে পড়াচ্ছেন। তোমরা হলে সবথেকে মিষ্টি বাচ্চা। আচ্ছা -

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্নেহ-সুমন স্মরণ-ভালবাসা আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) নিজের এই অমূল্য জীবনকে আধ্যাত্মিক সেবায় নিয়োজিত করতে হবে। সমগ্র দুনিয়ার, বিশেষ করে ভারতের সেবা করতে হবে।

২ ) নিজের সবকিছু সফল করার জন্য ডাইরেক্ট ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে অর্পণ করতে হবে। আধ্যাত্মিক হাসপাতাল এবং ইউনিভার্সিটি খুলতে হবে।

বরদান:-
একরস স্থিতির দ্বারা অতীন্দ্রিয় সুখের অনুভব করে সর্ব আকর্ষণ মুক্ত ভব

যখন ইন্দ্রিয়ের আকর্ষণ এবং সম্বন্ধের আকর্ষণ থেকে মুক্ত হতে পারবে, তখনই অতীন্দ্রিয় সুখের অনুভব করতে পারবে । যে কোনো কর্মেন্দ্রিয়ের বশীভূত হলে যে ভিন্ন - ভিন্ন আকর্ষণ তৈরী হয় তা অতীন্দ্রিয় সুখ বা আনন্দ দেওয়াতে বিঘ্ন সৃষ্টি করে, কিন্তু বুদ্ধি যখন সব আকর্ষণ থেকে মুক্ত হয়ে এক নির্দিষ্ট ঠিকানায় টিকে যায়, অস্থিরতা সমাপ্ত হয়ে যায় তখনই একরস অবস্থা হওয়ার কারণে অতীন্দ্রিয় সুখের অনুভব হয় ।

স্লোগান:-
নিজের বুদ্ধির লাইন সদা ক্লিয়ার রাখলে একে অপরের মনের ভাবকে জানতে পারবে ।

অব্যক্ত ইশারা :- সদা অবিচল, অটল, একরস স্থিতির অনুভব করো

যে কোনো প্রকার অস্থিরতায় অবিচল থাকাই হলো শ্রেষ্ঠ আত্মাদের নিদর্শন । দুনিয়া অস্থিরতায় আছে কিন্তু তোমরা শ্রেষ্ঠ আত্মারা অস্থিরতায় আসতে পারবে না । কেন? কেননা তোমরা ড্রামার প্রতিটি সিনকে জানো । নলেজফুল আত্মারা, পাওয়ারফুল আত্মারা, সদা, স্বভাবতঃই অবিচল থাকে । তাই কখনো বায়ুমণ্ডল দেখে ঘাবড়ে যেও না, সদা নির্ভয় থাকো ।