07.09.2026
প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন
“মিষ্টি বাচ্চারা -
তোমরা এখানে শ্রীকৃষ্ণের মতো প্রিন্স হওয়ার জন্য পড়াশোনা করছো। স্বয়ং ভগবান
তোমাদের পড়াচ্ছেন"
প্রশ্নঃ -
বাবা যখন বলেন
ভগবানুবাচ, তখন এই শব্দটি শুনে কোনো কোনো বাচ্চা বিভ্রান্ত হয়ে যায় - কেন?
উত্তরঃ
কারণ ভগবান
হলেন গুপ্ত। তারা মনে করে হয়তো এই দাদা ভগবানুবাচ বলেছেন। কিন্তু নিরাকার ভগবানের
কথা বলার জন্য মুখ তো চাই, তাই না? বাবা বলেন এই ওয়ান্ডারফুল বিষয়টিকে ভালো ভাবে
বুঝতে হবে যে কীভাবে আমি এনার মধ্যে প্রবেশ করে তোমাদেরকে পড়াই।
ওম্ শান্তি ।
ভগবানুবাচ ।
ভগবান কী বলেন? এই ভগবানুবাচ কে বলেছে? কাউকেই তো দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। মানুষকে
ভগবান বলা যায় না। কেউ কেউ মনে করতে পারে যার মুখ থেকে নির্গত হচ্ছে, তিনিই বলছেন
- ভগবানুবাচ। কিন্তু নিরাকার ভগবান বলছেন, এ কেবল তোমরাই জানো। যিনি বসে আছেন তিনি
কে? ভগবান কোথায়? এ'সব তো নতুন কথা, সেই কারণে মানুষ বিভ্রান্তিতে পড়ে যায়।
কিন্তু ভগবানুবাচ তো অবশ্যই। তিনি বলেন, আমি বাচ্চাদেরকে রাজযোগ শেখাচ্ছি। নর থেকে
নারায়ণ বা কৃষ্ণ, নারীকে লক্ষ্মী বা রাধা বানানোর জন্য যোগ আর জ্ঞান শেখাই, এর বেশী
আর কী চাই ! তোমাদেরকে আমি রাজাদেরও রাজা, প্রিন্সেরও প্রিন্স বানাই। প্রিন্স -
প্রিন্সেসও তো মন্দিরে যায়, তাই না? বিকারী প্রিন্স নির্বিকারী প্রিন্স শ্রীকৃষ্ণকে
নমন করে। তাই আমি তোমাদেরকে প্রিন্সেরও প্রিন্স বানাই। শ্রীকৃষ্ণের মতো স্বর্গের
প্রিন্স হও। নলেজ পড়াশোনা করলে তবেই তো এই রকম হতে পারবে, তাই না? ডাক্তার বা
ব্যারিস্টারই তো স্টুডেন্টকে বলবে আমি তোমাকে ডাক্তার বা ব্যারিস্টার বানাবো। কিন্তু
পড়বে তবে তো হতে পারবে। বাবা বলেন বাচ্চারা, ভালো ভাবে বোঝো যে, রাজযোগ একমাত্র
ভগবানই শেখান, কৃষ্ণ নয়। রাধা আর কৃষ্ণ তো আলাদা আলাদা রাজ্যের সন্তান। তাদের মধ্যে
বিবাহ বন্ধন হয়। বিবাহের পরে নাম বদলে যায়, সেইজন্য চিত্রতেও লক্ষ্মী-নারায়ণের
নীচে রাধা-কৃষ্ণকেও দেখায়। এখন বাবা খুব ভালো ভাবে বোঝান যে, এই ব্রহ্মাও নম্বর
ওয়ান ভক্ত ছিলেন। পূর্বে নারায়ণের পূজা করতেন। কৃষ্ণের ভক্তি করতেন কি নারায়ণের
ভক্তি করতেন, একই ব্যাপার। কৃষ্ণই বড় হয়ে নারায়ণ হন। এখন তোমাদেরকে নর থেকে
নারায়ণ হওয়ার জন্য রাজযোগ শেখাচ্ছি। এখন তোমাদের ৮৪ জন্ম সম্পূর্ণ হয়েছে। এখন এনার
আত্মাও পড়ছেন, তারপর ভবিষ্যতে শ্রীকৃষ্ণ হবেন। বাবা বলেন বাচ্চারা - তোমরা জ্ঞান -
চিতাতে বসে সুন্দর হয়ে ওঠো, তারপর আবার কাম - চিতাতে বসে শ্যামলা হয়ে গেছো। এটা
হলো কংস পুরী। আমি তোমাদেরকে কৃষ্ণপুরীতে নিয়ে যাওয়ার জন্য এসেছি। শ্রীকৃষ্ণই
সর্বগুণ সম্পন্ন, ১৬ কলা সম্পূর্ণ... এখানে কারোর মধ্যেই সর্বগুণ নেই। আমি এসেছি
বাচ্চাদেরকে সম্পূর্ণ নির্বিকারী বানাতে। হতে হবে যোগবলের দ্বারা। বাহুবল হলো হিংসক
যুদ্ধ, যা তীর - কামান এ'সব দিয়ে হয়। তারপর বন্দুক, তলোয়ার দিয়ে হয়। এখন তো হয়
বম্বসের দ্বারা । নিজেরাই বলে আমরা এই রকম বম্বস্ বানাই যে, ঘরে বসেই সব শেষ করে
দেওয়া যাবে। তখন মিলিটারি কিছুই করতে পারবে না। বাবা বলেন মিষ্টি বাচ্চারা, এটা হলো
পাঠশালা। আমি তোমাদেরকে শ্রীকৃষ্ণের মতো প্রিন্স বানাই । যে ফার্স্ট প্রিন্স
সত্যযুগে ছিল, সে-ই এখন ৮৪ জন্ম নিয়ে কলিযুগে বেগার হয়ে গেছে । ভারতেই তাদের
রাজত্ব ছিল। আবার পুনর্জন্ম নিতে হয়, তাই না? কৃষ্ণকে ভগবান বলা হলে ভগবান
পুনর্জন্মে কীভাবে আসবে? ভগবান তো হলেন নিরাকার? তিনি হলেনই একজন রচয়িতা। বাদবাকি
সব হলো রচনা। তবেই তো বলা হয় আমরা আত্মারা সবাই হলাম ভাই - ভাই। বাবা বলেন, তোমরা
ব্রহ্মাকুমার-কুমারীরা সবাই নিজেদের মধ্যে হলে ভাই-বোন। তাহলে তখন ক্রিমিনাল
অ্যাসল্ট কী কখনো হতে পারে? তোমরা উত্তরাধিকার এক বাবার কাছ থেকেই নিয়ে থাকো,
ভবিষ্যতের জন্য। যদি পবিত্র না থাকো তবে শান্তিধাম, সুখধামে কীকরে যাবে? আহ্বানও করে
আমরা পতিত হয়ে গেছি, পবিত্র বানাতে এসো। তাই বাবা বলেন আমাকে স্মরণ করো। এটা হল
তোমাদের অন্তিম জন্ম। তোমরা সব আত্মারা এখন পুনরায় বাণপ্রস্থে যেতে পারো, সেইজন্য
তোমরা হলে বাণপ্রস্থী । এই রকম কোনও গুরুই রাস্তা বলে দিতে পারবে না। এই জ্ঞান আছেই
একমাত্র বাবার কাছে। তিনিই হলেন পতিত-পাবন নিরাকার । বাবা বলেন, আমাকে স্মরণ করো।
অল্প কালের জন্য আমি এই তনের লোন নিয়েছি। শরীর ছাড়া আত্মা কীকরে বলতে পারে ?
ভগবানুবাচ হল আমি সাধারণ বৃদ্ধের তনে প্রবেশ করে বাচ্চারা তোমাদেরকে আমি পড়াই। আমি
গর্ভে আসি না। গর্ভে যারা আসে তাদেরকে পুনর্জন্মে আসতে হয়। আমি একবারই এসে থাকি।
প্রকৃতির আধার আমার অবশ্যই চাই। আমি এনার মধ্যে বসে তোমাদেরকে পড়াই। ইনি তো পূর্বে
নিজের হীরে জহরতের ব্যাবসা করতেন। কোনো গুরু ওনাকে শেখাননি, অকস্মাৎ বাবা এনার মধ্যে
প্রবেশ করলেন। করন-করাবনহার হওয়ার কারণে এনার দ্বারা কর্তব্য করিয়ে থাকি। ইনিও
শিখতে থাকেন। তোমরাও সাথে সাথে শিখতে থাকো। বাবা বলেন তোমাদেরকে, কিন্তু শুনি আগে
আমি। আমি বাচ্চারা তোমাদেরকে পড়ানোর জন্য আসি। কিন্তু এনার আত্মাও পড়তে থাকে ।
বাচ্চাদের রাজযোগ শেখাতে এসেছি। এইরকম কেউ কখনো পড়ায় না। এ হল পবিত্র হওয়ার বিষয়।
এই সঙ্গমযুগ হলই পুরুষোত্তম হওয়ার সময় । পুরুষোত্তম ছিলেন শ্রীকৃষ্ণ। স্বয়ম্বরের
পর তার ডিগ্রি কিছু কম হয়ে যায় সেইজন্য শ্রীকৃষ্ণের মহিমা অনেক। নামই হল
শ্রীকৃষ্ণপুরী, একে বলা হয় কংস পুরী। বাকি কৃষ্ণ আর কংস এ'সব হল গল্পকথা।
বাচ্চাদেরকে বোঝানো
হয়েছে যে, পরিপক্ক অবস্থা হলে পড়ে ভক্তি আপনা থেকেই চলে যাবে। তোমরা কখনোই কাউকে
বলবে না যে ভক্তি ক'রো না। তাদেরকে জ্ঞান প্রদান করতে হবে। বাবা তোমাদেরকে জ্ঞান
প্রদান করে স্বর্গের প্রিন্স বানাতে এসেছেন । কৃষ্ণও স্বর্গের মালিক ছিল, এখন নেই।
আবারো সে রাজযোগের দ্বারা হতে চলেছে। তোমাদেরও পুরুষার্থ করে বাবাকে স্মরণ করতে হবে।
হেভেন এর স্থাপনাকারী হলেন - হেভেনলি গড ফাদার। তিনিই এসে নতুন দুনিয়া স্থাপন করেন।
তিনি করবেন তখনই যখন কলিযুগ শেষ হবে। সত্যযুগ, ত্রেতাতে আসেন না। তিনি বলেন প্রতি
কল্পের সঙ্গমযুগে আসি। তারা কল্প শব্দটিকে বাদ দিয়ে কেবল যুগে - যুগে কথাটি লিখে
দিয়েছে। তাও তো চারটি যুগ। পঞ্চম হল এই সঙ্গমযুগ। আচ্ছা তাহলে তো পাঁচ অবতার বলতে
হবে? কিন্তু এত এত কচ্ছ - মচ্ছ পশুরাম অবতার হয় নাকি? এ সবই হলো শাস্ত্রের কথা।
ধর্মের নাম আর ভারতের নামই বদলে দিয়েছে হিন্দু ধর্ম আর হিন্দুস্তান বলে দেয়।
ভারতের নাম কি বদলানো উচিত? যদা যদা হি ধর্মস্য... ভারত। তাতেও ভারত শব্দটিই আসে।
বাবা তোমাদেরকে বোঝান যে, তোমরা কী কেবল এক জন্ম ভক্তি করেছ নাকি? দ্বাপর থেকে করে
এসেছো। ভক্তিও প্রথমে অব্যাভিচারী ছিল, কেবল শিবের ভক্তি করতো। যে শিব বাবা-ই ভারতকে
স্বর্গ বানিয়েছিলেন আর এখন স্বর্গের মালিক বানাতে এসেছেন । পতিত শরীরে বসে আমি
জানাই যে, আমি এসেছি, পতিত শরীরে, পতিত দুনিয়াতে পতিতদেরকে পবিত্র বানাতে। ভক্তি
মার্গে তো তবুও তো আমার জন্য সুবিশাল মন্দির বানিয়ে থাকে। কতখানি ক্লিয়ার বিষয়।
এনার মধ্যে বাবার প্রবেশ ঘটে, তখন থেকেই তিনি গীতা ইত্যাদি পড়া ছেড়ে দেন। ভক্তি
ছুটে যায়। অনায়াসেই ছুটে যায়। তোমাদেরকে কিউ বলেনি যে ভক্তি করা ছেড়ে দাও।
এখন তোমাদেরকে বাবা
বোঝান যে, পুনরায় আমি তোমাদেরকে কৃষ্ণপুরীর মালিক বানাই। কৃষ্ণের তারপর ৮
ডিনায়েস্টি (রাজবংশ) চলে। প্রথমে বলা হবে প্রিন্স অফ সত্যযুগ, তারপরে হয় কিং অফ
সত্যযুগ। তাদের ৮ প্রজন্ম চলে। সেই সময় তো দ্বিতীয় আর কোনো রাজত্ব থাকে না । এখন
বাবা বলেন, তোমরাও সত্যযুগের প্রিন্স হও। ভক্তিতে কোনো সুখ নেই। জ্ঞানের দ্বারা
তোমরা স্বর্গের মালিক হয়ে যাও। কারো বাবার মৃত্যু হলে তাকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয়
যে তোমার বাবা কোথায় গেলেন? সে বলবে স্বর্গবাসী হয়েছেন। মনে করে আত্মা আর শরীর
দুটোই একসাথে চলে গেছে। কিন্তু শরীর তো এখানেই ছেড়ে গেছে, গেছে তো আত্মা। এর অর্থ
হল আগে নরকে ছিল। আত্মা শরীর ত্যাগ করে স্বর্গে গেছে, তাহলে কান্নার কী প্রয়োজন?
স্বর্গ কী এখন এখানে নাকি ? কিন্তু কিছুই বোঝে না। বলে দেয় ঈশ্বরের আদেশ। সুখ দুঃখ
সব ঈশ্বরই দেন, সবই ঈশ্বরের রূপ। কিন্তু বাবা বলেন, আমি দুঃখ কীভাবে দিতে পারি?
বাবার কাছে বাচ্চারা কী কখনো দুঃখ চায়? বাবা তো বাচ্চাদেরকে উপযুক্ত বানিয়ে
প্রপার্টি দিয়ে যায়। তারপর দুঃখ তো তারপর প্রত্যেকের কর্ম অনুসারেই প্রাপ্ত হয় ।
বাবা বলেন, এখন সন্তানাদি কিছুই চেও না। এখন এই সব প্রপার্টি ইত্যাদি সব কিছু খতম
হয়ে যাবে। তখন তোমাদের বাচ্চারা আর কী পাবে? এতটা সময়ও আর বাকি নেই যে, সন্তান
তোমাদের প্রপার্টির মালিক হতে পারবে ! বাচ্চারা বড় হবে তবে তো মালিক হবে, কিন্তু
এতটা টাইম নেই । বিনাশ সামনে উপস্থিত। মানুষ তো বলে থাকে কলিযুগের এখনও প্রায় ৪০
হাজার বছর পড়ে আছে। এই ব্রহ্মাকুমার - কুমারীরা তো বিনাশ - বিনাশ করতেই থাকে। গল্প
আছে না - বাঘ এসেছে, বাঘ এসেছে... শেষ পর্যন্ত এলো আর খেয়ে ফেললো। সবাই মনে করে
একটু একটু করে কাল আসবে। এ তো হয়েই থাকে। কিন্তু তোমরা বলে থাকো যে, মহাকাল এসে
গেছে। শিববাবা, কালেরও কাল এসেছেন, যিনি সব আত্মাদেরকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন। তবে তো
শরীর অবশ্যই ছাড়তে হবে। সেইজন্য বাবা বলেন - যোগের দ্বারা পবিত্র হও। আত্মাদেরকে
পবিত্র বানিয়ে আবার ফিরিয়ে নিয়ে যাবো। যদি পবিত্র না হও তবে শেষে অনেক দন্ড ভোগ
করতে হবে আর উঁচু পদও প্রাপ্ত কযতে পারবে না । শ্রীকৃষ্ণ হলেন নম্বর ওয়ান পাশ উইথ
অনার, তিনিই স্কলারশিপ প্রাপ্ত করেন। ২১ জন্ম রাজ্য লাভ করে থাকেন। কতো সহজভাবে
বোঝানো হয়। বুদ্ধিতে বসেও তারপর গুম হয়ে যায়। কাউকেই তোমরা ভক্তি করতে মানা করবে
না। বাবা এসেছেন - ভক্তদেরকে ভক্তির ফল দিতে। তিনি বলেন, আমি পূর্বের মতোই সেই
সাধারণ তনে এসেছি। কল্পে-কল্পে এসে তোমাদেরকে পড়াই। এ হল উচ্চ থেকেও উচ্চ পঠন-পাঠন।
তোমরা জানো যে, আমরা সতোপ্রধান ছিলাম। এখন তমোপ্রধান, আবার ভারতই সতোপ্রধান হয়ে
যায় । অন্য ধর্মের লোকেরা এতখানি না সুখ দেখেছে না এতখানি দুঃখকে দেখেছে।
বিদেশীদের কাছে তো অর্থ অনেক আছে, তবেই তো তারা গরীব দেশকে ঋণ দিতে পারে। সেই
বেচারাদের তো জানা নেই যে, এটা তো আসলে রিটার্ন হচ্ছে। একেবারে ঘোর অন্ধকারে
কুম্ভকর্ণের নিদ্রায় রয়েছে । পরে তারা হায় হায় করে উঠবে। তখন তোমরা বলবে - টু
লেট, কেননা তখন যুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে। তখন কী করবে ! খড়ের গাদায় আগুন লেগে গেলে
তখন তো টু লেট হয়ে যায়। সেইজন্য বাবা বলেন - বাচ্চারা, এখন তাড়াতাড়ি পুরুষার্থ
করতে থাকো। বাবা তোমাদেরকে বেশী কষ্ট দেন না। বাবাকে এসে বলে, বাবা আমরা পূজা না
করলে লোকে বলে আমরা নাস্তিক হয়ে গেছি। বাবা রায় দেন - সাক্ষী হয়ে বাবার স্মরণে
থাকো। একটু আধটু পূজা উপর উপরে করো। এক হয়ে থাকে অন্তর থেকে করা, আরেক হল সাক্ষী
হয়ে বাবার স্মরণে থাকো। কেউ যদি বিরক্ত করে তবে পূজা করে দেখিয়ে দাও, তারাও খুশী
হবে। এ তো কোনো পাপ কর্ম নয়। বাবা তো অনেককেই বলেন, বিবাহের অনুষ্ঠানে যেতে হলে
যাও, সব দিকেই সম্পর্ক ঠিক রাখতে হয়। সেখানে গিয়েও যদি শোনাও, কারোর না কারোর তীর
লেগেই যাবে। যুক্তির সাথে চলতে হবে। বাবার ফরমান হল এখন পতিত হয়ো না। পবিত্র হলেই
তুমি কৃষ্ণপুরীর মালিক হবে। শিব বাবাকে স্মরণ করো, তাহলেই বিকর্ম বিনাশ হবে এবং
বিশ্বের মালিক হয়ে যাবে । বাচ্চারা, এই রকম এই রকম যুক্তির দ্বারা আত্মীয় পরিজনকে
বোঝাতে হবে। ওটা হলো শারীরিক (তীর্থ) যাত্রা, এ হলো আত্মার যাত্রা। এই আধ্যাত্মিক
যাত্রা বাবা শেখান। তিনি বলেন মামেকম্ স্মরণ করো, তবে পবিত্র হয়ে যাবে আর সব দুঃখ
দূর হয়ে যাবে । কোনো বিরল ব্যক্তিই এই ব্যাপার করবে অর্থাৎ বৈকুন্ঠের বাদশাহী নেবে।
শ্রীমৎ অনুসারে চলতে থাকো। এমনও যেন না হয় যে টাকা পয়সা বেকারই খরচ হয়ে গেল কিন্তু
কোনো ফলই পাওয়া গেল না। ঘরবাড়িও সামলাতে হবে। বাচ্চাদের লালন পালনও করতে হবে। কেবল
শ্রীমৎ অনুসারে চলতে হবে। বাবার কাছ থেকে রায় নিতে হবে যে, বাবা এই অবস্থায় কী
করবো? বাবা মেয়ে বলছে বিবাহ করতে চায়। বাবা বলেন বিবাহ তো দিতেই হবে, কেননা তার
অংশটা (অর্থ) তো তাকে দিতেই হবে, দিয়ে দাও। বাবা কেবল বোঝান, তাও যদি কিছু জানার
থাকে তবে জেনে নিয়ে শ্রীমৎ অনুসারে চলো। বাচ্চাদেরকে বাবার আজ্ঞা অনুসারে চলতে হবে,
এতেই কল্যাণ রয়েছে । আচ্ছা !
মিষ্টি-মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্নেহ-সুমন স্মরণ-ভালবাসা আর সুপ্রভাত।
আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।
ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ )
সকল কর্ম সাক্ষী হয়ে শিব বাবার স্মরণে থেকে করতে হবে। লৌকিক, অলৌকিক উভয় দিক ঠিক
রাখতে হবে। লৌকিকে যুক্তিযুক্ত ভাবে চলতে হবে।
২ ) এই সময় এই
অন্তিম জন্মেও এ হলো বাণপ্রস্থ অবস্থা। ঘরে ফিরে যেতে হবে, সেইজন্য পবিত্র অবশ্যই
হতে হবে। কোনো প্রকারেরই বন্ধনে নিজেকে নতুন করে জড়াবে না।
বরদান:-
বাবার
আদেশ পালনের দ্বারা সকলের ইচ্ছাগুলিকে সমাপ্ত করে মায়াপ্রুফ ভব
অমৃতবেলা থেকে শুরু
করে রাত পর্যন্ত দৈনন্দিন চার্টে বাবার দ্বারা যা কিছু আদেশ প্রাপ্ত হয়েছে, সেই
অনুসারে নিজের বৃত্তি, দৃষ্টি, সংকল্প, স্মৃতি, সার্ভিস আর সম্বন্ধকে চেক করো। যে
প্রত্যেক সংকল্প, প্রত্যেক কদম আদেশ অনুসারে পালন করে তার সকল ইচ্ছা সমাপ্ত হয়ে যায়।
যদি নিজের মধ্যে পুরুষার্থের বা সফলতার ইচ্ছাও থেকে যায় তারমানে অবশ্যই কোথাও না
কোথাও কোনও না কোনও আদেশ পালন হচ্ছে না। তো যখনই কোনও ঝঞ্ঝাট আসবে, তখন চারিদিক থেকে
চেক করো - এর দ্বারা স্বতঃতই মায়াপ্রুফ হয়ে যাবে।
স্লোগান:-
নিজের
সূক্ষ্ম দুর্বলতাগুলিকে চিন্তন করে সেগুলিকে সমাপ্ত করে দেওয়া - এটাই হলো স্বচিন্তন।
অব্যক্ত ঈশারা :- এখন
নিজের দাতা স্বরূপকে প্রত্যক্ষ করো
যেরকম কোনও খালি
স্থান থাকলে অলরাউন্ড সেবাধারী সময় অনুসারে জায়গা ভরিয়ে দেয়। এইরকম যদি কারো দ্বারা
কোনও শক্তির ঘাটতি অনুভব হয় তাহলে নিজের সহযোগের দ্বারা জায়গা ভরিয়ে দাও। যার দ্বারা
অন্য ব্যক্তির মধ্যে কি কি ঘাটতি আছে তা অন্য কোনও ব্যক্তি অনুভব করতে পারবে না, একে
বলা হয় - দাতার বাচ্চা হয়ে সময় অনুসারে সহযোগ দান করা।