08-02-2026 প্রাতঃ
মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ
31-12-2008 মধুবন
"এই নতুন বছরে পরিবর্তন শক্তির বরদান দ্বারা
নেগেটিভকে পজিটিভে পরিবর্তন ক'রে সঙ্কল্প, শ্বাস, সময়কে সফল করো, সফলতা মূর্ত হও"
আজ নব জীবন প্রদাতা বাবা চতুর্দিকে নিজের নব জীবন ধারণকারী বাচ্চাদের দেখে আনন্দিত
হচ্ছেন। এই নব জীবন নব যুগ বানানোরই জন্য। লোকে নববর্ষ উদযাপন করে আর তোমরা সবাই নব
জীবনের বাচ্চারা সব আত্মাকে কল্যাণকারী শুভেচ্ছাও জ্ঞাপন করো আর সেইসঙ্গে এই খুশির
বার্তাও দাও নবযুগ এসে গেল প্রায়। তোমরা সব বাচ্চাকে বাবা উত্তরাধিকার রূপে গোল্ডেন
দুনিয়া গিফ্ট দিয়ে দিয়েছেন। যে গোল্ডেন দুনিয়ায় অনেক গোল্ডেন উপহার নিশ্চিতরূপে
আছেই। তোমাদের সবার এই নেশা আছে তো না যে এই গোল্ডেন দুনিয়ার উপহার আমাদের
জন্মসিদ্ধ অধিকার! আজকের দুনিয়ায় কেউ কাউকে যত বড়ই উপহার দিক, সেটা সর্বাধিক বড় কী
দেবে! মুকুট কিংবা সিংহাসন! কিন্তু তোমাদের গোল্ডেন দুনিয়ার গিফ্টের তুলনায় সেটা কী
জিনিস? কোনো বড় জিনিস! তোমাদের হৃদয়ে খুশি আছে যে আমাদের বাবা আমাদের সবচাইতে শীর্ষে
নব যুগের গিফ্ট দিয়ে দিয়েছেন। নিশ্চয় আছে নিশ্চিতরূপে। এই অবশ্যম্ভাবী ঘটনা কেউ
টলাতে পারে না। এই অটল নিশ্চয় সদা স্মৃতিতে থাকে! সদা থাকে, নাকি কখনো কখনো কম হয়ে
যায়? জন্মসিদ্ধ অধিকার আছে, সুতরাং জন্ম সিদ্ধ অধিকার কখনো সরিয়ে দেওয়া যায় না।
তো আজ এখন সবাই আলাদা আলাদা স্থান থেকে নতুন বছর উদযাপন করতে এসেছ। এই নতুন বছর
উদযাপন তো করছ, কিন্তু এই নতুন বছরের লক্ষ্য কী রেখেছ? এই নতুন বছরে বিশেষ কী করতে
হবে? এই নতুন বছরের বিশেষত্ব হলো, বাবা সমান সম্পন্ন আর সম্পূর্ণ হতেই হবে। যে কোনও
পুরুষার্থ করতে হলেও কিন্তু এটা নিশ্চিত যে বাবা সমান হতেই হবে। বলো, সবার মনে এই
দৃঢ় সঙ্কল্প আছে তো না! আছে? কাঁধ নাড়াও। বাবাও এটাই চান যে প্রত্যেক বাচ্চা বাবা
সমান হোক। বাবা তো বাবা, কিন্তু বাচ্চারা বাবার থেকেও উঁচু। সুতরাং, বাবা সমান
হওয়ার লক্ষ্য সম্পূর্ণ করার জন্য বাবাকে ফলো করতে হবে। ভাবো, বাবা, ব্রহ্মা বাবা
সম্পূর্ণ কীভাবে হয়েছেন? তাঁর কী বিশেষত্ব ছিল? সম্পূর্ণতার বিশেষ আধার কী ছিল?
ব্রহ্মা বাবা নিজের প্রতিটা সময় সফল করেছেন। শ্বাস-প্রশ্বাস, সেকেন্ড সেকেন্ড সফল
করেছেন। তো বাবা সমান হওয়ার জন্য এই বছরের লক্ষ্য কী রাখবে? সফল করতে হবে আর সফলতা
মূর্ত হতেই হবে। সফলতা আমাদের গলার হার। সফলতা আমাদের বাবার উত্তরাধিকার। তো এই
লক্ষ্যের সাথে চেক করতে হবে - প্রতিদিন নিজেকে নিজের চেক করতে হবে যে সফলতা মূর্ত
হয়ে সময়, শ্বাস, ভাণ্ডার, শক্তি, গুণ সব সফল করেছ কিনা! কেননা, এখনের সফলতা থেকে
ভবিষ্যতেও জমা হয়। যা কিছুই এখন জমা করেছ তার ফল ২১ জন্ম সঞ্চিত থাকে। জানো তো না,
বাবা আগেও তোমাদের বলেছেন যে যদি তোমরা সময় সফল করো তবে ভবিষ্যতেও তোমাদের রাজ্য
ভাগ্যের ফুল সময়, রাজ্য ভাগ্যের প্রাপ্তি হয়। শ্বাস যদি সফল করো তবে ২১ জন্ম সুস্থ
থাকবে। কখনও কোনও কমতি থাকবে না স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে, আর সেইসঙ্গে যে সমস্ত
ভাণ্ডার জমা করো, তার মধ্যে সবচাইতে বড় জ্ঞানের ভাণ্ডার, জ্ঞানের অর্থ হলো বোধ। তো
জ্ঞানের ভাণ্ডার সফল করলে ভবিষ্যতে তোমরা এমন বিচক্ষণ হয়ে যাও যে তোমাদের কোনো
উজিরের যুক্তি নেওয়ার দরকার পড়ে না। নিজেই অখণ্ড ও অটল রাজত্ব চালাও এবং তোমাদের
রাজত্বে কোনো বিঘ্ন হয় না। নির্বিঘ্ন অখণ্ড অটল রাজ্য। এ' হলো জ্ঞানের ভাণ্ডার
সঞ্চয় করার শুভ পরিণাম। এক জন্ম সফল করেছ আর অনেক জন্ম সেই সফলতার ফল খাও। এভাবেই
সমূহ শক্তি যা প্রাপ্ত হয়েছে সেসব নিজের জন্য এবং অন্যের জন্য সফল করলে তবে ভবিষ্যতে
তোমাদের রাজ্যে সর্বশক্তি থাকে, কখনো শক্তি কম হয় না। কোনও শক্তির কমতি থাকে না।
এভাবেই যদি গুণ দান করো তবে তোমাদের অন্তিম জন্ম, ৮৪ জন্ম যা জড় চিত্র বানায় তা'তে
লাস্ট পর্যন্ত তোমাদের মহিমা কী করে? সর্বগুণ সম্পন্ন। তো প্রতিটা সাফল্যের
প্রাপ্তির ফলে অনেক জন্মের অধিকারী হয়ে যাও। তো এই বছরে কী করতে হবে? লক্ষ্য রাখতে
হবে একটা শ্বাসও যেন এক সেকেন্ড এর জন্য অসফল না হয়। সঞ্চয় করতে হবে। সঞ্চয়ের সময়
একটা ছোট জন্ম আর ফলের সময় ২১ জন্ম, তো এই বছরে বাবা সমান হওয়ার লক্ষ্য আছে? সবার
লক্ষ্য আছে কি বাবা সমান হতেই হবে? হতে হবে এটা নয়, হতেই হবে। হতেই হবে আন্ডারলাইন।
আচ্ছা। বাচ্চারাও হবে। ছোট ছোট বাচ্চারাও হবে। ভালো লাগে বাচ্চাদের শিরোভূষণ।
(সব বাচ্চা মুকুট পরে আছে) খুব ভালো লাগে।
তো এই বছরের লক্ষ্যও রেখেছ আর সেইসঙ্গে বাবাকে ফলো করার মন্ত্র সফল ক'রে সফলতা
মূর্ত হতে হবে। এর জন্য বেশি পরিশ্রম করার কষ্ট বাপদাদাও বাচ্চাদের দেন না। খুবই
সহজ উপায় বলেন, সহজ উপায় কী? যেটাই সফল করবে সেটা আগে চেক করো, বাবার এই সঙ্কল্প
ছিল! বোল যখন বলছ তখন চেক করো, বাবা সমান হতে হবে তো না! তো সঙ্কল্প, বোল আর কর্ম,
সম্বন্ধ-সম্পর্ক আগে ভাবো, চেক করো - বাবার ছিল এটা? এরকমই স্বরূপ হও। ব্রহ্মা
বাবাকে ফলো করো। ফলো ফাদার গাওয়া হয়েছে তো না! অনেক বাচ্চা খুব ভালো ভালো খেলা
দেখায়। জানো কোন খেলা দেখায়? ফলো করে না কিন্তু কী বলে? চাইনি তবুও হয়ে গেছে! যারা
করে, যারা ভাবে, তোমরা সেই শ্রেষ্ঠ আত্মা, মালিক তোমরা। হয়ে গেছে - এর অর্থই হলো
কর্মেন্দ্রিয়ের উপর কন্ট্রোল নেই।
তো এই বছরে এই স্লোগানই স্মরণে রাখো বাবা সমান করতেই হবে, হতেই হবে। কঠিন নয় তো না?
যেমন বাবা করেছেন তেমনই করতে হবে। কপি করা সহজ তো না! ভাববার প্রয়োজনই নেই। আর
তোমাদের জন্য এটা নিশ্চিত যে, ব্রহ্মা বাবা যেমন ফরিস্তা হয়েছেন তো যেমনটা হওয়া
উচিত তেমনই ফরিস্তা থেকে অবশ্যই দেবতা হতে হবে। তো তোমাদেরও ফরিস্তা তথা দেবতা হতে
হবে। কিছু কিছু বাচ্চা বলে যে চলতে চলতে অনেক অপোজিশন হয়। তো অপোজিশনের কারণে পজিশন
থেকে তোমরা নিচে এসে যাও। কিন্তু যদি বাবা সমান হতে হয় তবে স্থাপনের আদিতে ব্রহ্মা
বাবা কত অপোজিশন পজিশনে পরিবর্তন করেছেন সেটা স্মরণ করো। সব বিষয় নতুন, চ্যালেঞ্জ
ছিল। এখন তো দুনিয়া অনেক বদলে গেছে কিন্তু ব্রহ্মা বাবা একলা কত স্বমানের সিটে বসে
পজিশন দ্বারা অপোজিশনের মোকাবিলা করেছেন। যেখানে পজিশন থাকে সেখানে অপোজিশন কিছু
করতে পারে না। আগে কী বলতে? হৈ হট্টগোল করছে আর এখন কী বলো? চমৎকার করছে। এতটা
ফারাক হয়ে গেছে। কারণ কী? ব্রহ্মা বাবা স্বয়ং স্বমানের সিট আর দৃঢ় নিশ্চয়ের শস্ত্র
দ্বারা অপোজিশন সমাপ্ত করেছেন। তো তোমরা এই বছরে কী করবে? সমান হতে হবে তো না! তো
সদা যদি অপোজিশন হয়ও তাহলে স্বমানের সিটে বসে যাও তবে অপোজিশন পজিশনে বদলে যাবে। আছে
সাহস? ব্রহ্মাবাবা সমান হতেই হবে, এতে তো হাত উঠিয়েছ, কিন্তু এত সাহস আছে? প্রথমে
স্ব পরিবর্তনের, তারপর অনেক সম্বন্ধ-সম্পর্কের আত্মারা আর তার পরে বিশ্বের আত্মারা।
এদের সবাইকে নিজের মানসিক শুভ ভাবনা, শুভ কামনা দ্বারা, দৃঢ় সঙ্কল্প দ্বারা
পরিবর্তন করো।
তো এই বছরে বাপদাদা বিশেষ এক শক্তির বরদানও দিচ্ছেন। 'আমার বাবা' হৃদয় থেকে যদি বলো
তো শক্তি হাজির, সাধারণভাবে আমার বাবা বলা নয়, হৃদয় থেকে বলেছ, অধিকার রেখেছ, আমার
বাবা আর শক্তি তোমাদের সামনে হাজির হয়ে যাবে। সেটা কোন শক্তি? পরিবর্তনের শক্তি।
পরিবর্তনের শক্তিতে বিশেষ ভাবে নেগেটিভকে পজিটিভে চেঞ্জ করো। নেগেটিভ সঙ্কল্প,
নেগেটিভ আচার-আচরণ দেখে পজিটিভে চেঞ্জ করো। পজিটিভ দেখা, বলা, করা, শুধু শুভ ভাবনা
আর শুভ কামনা দ্বারা সহজ হয়ে যাবে। কেননা, এই অপোজিশন আসবে, কিন্তু তোমাদের
পরিবর্তনের শক্তি তোমাদের সহজে সাফল্য প্রাপ্ত করাবে। তো বুঝেছ এই বছরের বিশেষ
বরদান পরিবর্তন শক্তিকে দৃঢ় সঙ্কল্প দ্বারা কার্যে প্রয়োগ করো। করতে পারো তো
পরিবর্তন, তাই না! তোমাদের চ্যালেঞ্জ আছে, স্মরণে আছে তো না! বিশ্ব পরিবর্তক তোমরা,
তাই না! যখন টাইটেলই বিশ্ব পরিবর্তকের তখন স্ব পরিবর্তন করা কঠিন কি! হৃদয়ে যদি
কোনও কঠিন বিষয় আসে, বাস্তবিকপক্ষে, কঠিন বিষয় হয় না কিন্তু তোমরা কঠিন বানিয়ে দাও।
মাস্টার সর্বশক্তিমান তার সামনে কঠিন কী আছে? কিন্তু তোমরা একটা ভুল করো আর কঠিন
বানিয়ে দাও। যেমন দেখ, হঠাৎ এখানে অন্ধকার হয়ে যায়, তো যদি কেউ ভুল ক'রে অন্ধকার
তাড়াতে লেগে যায় তবে অন্ধকার কী পালাবে? সঠিক বিধি হলো তোমরা যদি আলোর সুইচ অন করো
তবে অন্ধকার সেকেন্ডে পালিয়ে যাবে। তোমরাও এই ভুল ক'রে থাকো, যে ব্যাপার হয়ে গেছেনা
তার কেন, কী, কীভাবে, কখন... এই কেন কেন-তে চলে যাও তোমরা। ছোট একটা বিষয়কে বড় ক'রে
দাও আর বড় বিষয় তো কঠিনই হয়। বিষয়টা ছোট ক'রে নিলে সহজ হয়ে যায়। বাবা কোনও শক্তিকে
কার্যে প্রয়োগ করার বিধি খুব সহজ ক'রে বলেছেন - আমি মাস্টার সর্বশক্তিমান, তোমরা এই
স্মৃতির সিটে ব'সে যাও, যদি এই সিটে বসো তবে আপসেট হবে না। বিনা সিটে আপসেট হয়, সিট
থাকলে আপসেট হবে না। ৬৩ জন্মের সংস্কার ইমার্জ হয়ে যায়। ৬৩ জন্ম কী ছিল? এই মুহূর্তে
সেট, পর মুহূর্তে আপসেট। তো সদা স্বমানের সিটে সেট থাকো। আর এই বছরে তোমরা কী করবে?
নতুন বছরে সবাইকে গিফ্ট দেবে তো না! তো কোন গিফ্ট দেবে? শুভেচ্ছাও দেবে আর সাথে
গিফ্ট কী দেবে? গিফ্ট তো তোমাদের কাছে অনেক আছে! যত দিতে চাও ততো দিতে পারো। স্থূল
গিফ্ট তো অল্পকালের জন্য চলবে, কিন্তু তোমরা অবিনাশী বাবা সমান হ'তে চলেছ, অবিনাশী
গিফ্ট দাও। মন্সা দ্বারা শক্তির গিফ্ট দাও, বাচা দ্বারা জ্ঞানের গিফ্ট দাও আর কর্মণা
দ্বারা গুণের গিফ্ট দাও। আছেনা সবার কাছে? থাকলে কাঁধ নাড়াও। ভাণ্ডার অনেক আছে তো
না, কম নেই তো না! কারও সাথে যখন কার্যে আসছ, কার্যে তো আসতে হবে, তাই না! তাকে এই
বছরে অনেক উপহার দাও। কিন্তু অবিনাশী উপহার। আগে তোমাদের বলা হয়েছিলনা, কাউকেও
শূন্য হয়ে যেতে দিও না, হয় মন্সার গিফ্ট দাও, অথবা বাণীর কিংবা কর্মের। তার জন্য
তোমাদের সদা একটা অ্যাটেনশন রাখতে হবে, সবসময় মন্সাতে সমূহ শক্তির স্টক ইমার্জ রাখতে
হবে, কত শক্তি আছে তোমাদের? লিস্ট আছে তো না! বাচার কারণে সদা মনের মধ্যে মনন শক্তি,
জ্ঞান মনন করার শক্তি, স্মৃতিতে রাখতে হবে। আচার- আচরণে, কর্মে, গুণের স্বরূপ হতে
হবে। সদা নিজেকে গুণমূর্ত, জ্ঞানমূর্ত, শক্তি স্বরূপে ইমার্জ রাখতে হবে। এমন নয়,
শক্তি তো আছেই, জ্ঞান তো আছেই ... কিন্তু স্বরূপ হতে হবে। প্রত্যেককে ঈশ্বরীয়
পরিবারের দৃষ্টি বৃত্তি দ্বারা দেখতে হবে। এই বছরে সমান হতেই হবে - এক্ষেত্রে হাত
তুলেছো, বাপদাদার বতনে সবার হাত দেখা যাবে। সেখানে এই ছোট টিভি নেই, অনেক বড় রয়েছে।
এক সেকেন্ডে সব সেন্টারের রেজাল্ট বাবা দেখতে পারেন। তো তোমাদের যে উৎসাহ-উদ্দীপনা
আছে বাবা সমান হতেই হবে, তার জন্য বাপদাদা খুশি। সৌভাগ্যবান তোমরা, আনন্দময়ী মুখ
তোমাদের, কখনো দাপুটে মুখ বানিও না। সদা খুশি, যেকোনো কাজে যতই বিজি হও, হতে পারে
ভুলকে ঠিক করছ, বোঝাচ্ছ, কিন্তু তোমাদের মুখ, বোল দাপুটে যেন না হয়। এই বছরে এই
পরিবর্তন ক'রে দেখাও। বাবা প্রাইজ দেবেন। সারা বছরে যে সদা হাস্যোজ্জ্বল থাকবে,
কোনও বিষয় যদি আসে, কিছু ভাই বোন বলে থাকে, নিজেদের মধ্যে সবাই আত্মিক বার্তালাপ করে
তো না! তো বলে যদি দাপটের সাথে বলা না হয় তবে বুঝবে না। বদলাবেই না। প্রথমেই তুমি
ভাবনা রেখে দিচ্ছ যে এ' বদলাবেই না। তাহলে আগেই তোমার ভাইব্রেশন পৌঁছে যাচ্ছে।
সেইজন্য এই বছরে ক্রোধ কিংবা তার বাচ্চা-কাচ্চা এসব বিদায় দিতে হবে। হতে পারে?
দাপটও থাকবে না। বাবা জিজ্ঞাসা করেন যারাই সময় সময়তে ক্রোধ করে কাউকে কাজ
পুরোপুরিভাবে করার জন্য, শুধরানোর জন্য, কিন্তু সে কি শুধরায়? ক্রোধ করলে কেউ
শুধরায়? সেই লিস্ট বানাও। সে আরও অসন্তুষ্ট হয়ে যায়, শুধরায় না। মনের মধ্যে অপজিশন
করে। যদি প্রবীণ হয় তবে মনে মনে অপজিশন করে, যারা বড় তারা বলতে তো পারে না আর ছোট
হলে তো কাঁদতে শুরু করে। তো এই বছরে কী কী করতে হবে সেইসব কিছু বাবা বলছেন। পছন্দ?
করা উচিত? এখন হাত তোলো, একটু উঠিয়ে রাখো। টিভির ওরা বের করছে (ছবি তুলছে)। আচ্ছা।
তো বাপদাদা দেখছিলেন সময় অনুসারে সময়ের গতি এই সময় তীব্র। তো সময়ের মোকাবিলা করবে
কে? তোমরাই তো করবে। বাপদাদা দেখেছেন যে দুঃখীদের আর্ত চিৎকার, ভক্তদের আহ্বান,
সময়ের ডাক তোমরা শুনছ কম। অসহায় সাহসহীন তারা, তাদের পাখা লাগাও, তাহলে উড়তে তো
পারবে। সাহসের পাখনা, উৎসাহ-উদ্দীপনার পাখনা লাগাও। আচ্ছা।
বাপদাদা তো চতুর্দিকের বাচ্চাদেরকে স্মরণ-স্নেহ দিয়েই দিয়েছেন। চতুর্দিকের বাচ্চারা
এখন বাপদাদার হোম ওয়ার্ক প্র্যাকটিক্যালি ক'রে প্রমাণ দিয়ে যোগ্য বাচ্চা হওয়ার
প্রভাব দেখাবে। সুতরাং চতুর্দিকের বাচ্চাদেরকে হৃদয়ের পরম স্নেহাদর। আর হৃদয়ের
পদ্মগুন স্মরণের স্নেহ-সুমন স্বীকৃত হোক এবং এমন উপযুক্ত বাচ্চাদের শ্রেষ্ঠ
বাচ্চাদের বাপদাদার নমস্কার।
এই বছরের সব দিন স্ব-পরিবর্তন আর বিশ্ব পরিবর্তন রূপে নিরন্তর উদযাপন করো। সব দিন
নতুন পরিবর্তন। সব দিন নতুন সেবা, সব দিন সদা উদ্যম আর উৎসাহের সাথে দিন আর রাত
অতিবাহিত করো। এই নতুন বছরে সব দিন স্ব-এর জন্য অথবা বিশ্বের জন্য কিছু না কিছু সেবা
করতেই হবে; এমন দৃঢ় সঙ্কল্প ক'রে সময়কে সমীপে এনে সম্পূর্ণ বাবা সমান হয়ে উড়তে হবে
এবং উড়াতে হবে। আচ্ছা। ওম্ শান্তি।
বরদান:-
প্রত্যেকের অভিমতকে রিগার্ড দিয়ে বিশ্বের থেকে
রিগার্ড প্রাপ্ত ক'রে বালক তথা মালিক ভব
ছোট বড় যে কেউই হোক না কেন, তোমরা প্রত্যেকের অভিমতকে
অবশ্যই রিগার্ড দাও। কেননা, যে কোনো কারও যুক্তিকে উপেক্ষা করা মানে মনে করো নিজেকে
উপেক্ষা করা। সেইজন্য কারও কথা যদি কাটতেই হয় তবে তাকে আগে রিগার্ড দাও, সম্মান দিয়ে
তারপরে শিক্ষা দাও। এটাও একটা নীতিগত উপায়। এভাবে যখন রিগার্ড দেওয়ার সংস্কার তৈরি
হয়ে যাবে তখন বিশ্বের থেকে তোমাদের রিগার্ড প্রাপ্ত হবে। এর জন্য বালক তথা মালিক,
মালিক তথা বালক হও। শুভ কল্যাণের ভাবনা দ্বারা অসীম বুদ্ধি সম্পন্ন হতে হবে।
স্লোগান:-
মস্তকে সদা সাথের তিলক লাগানো - এটাই সনাথ হওয়ার
লক্ষণ।
অব্যক্ত ইশারা :- একতা আর বিশ্বাসের বিশেষত্বের
দ্বারা সফলতা সম্পন্ন হও একতা আনার জন্য দুটো বিষয় ধারণ করতে হবে - এক তো একনামি হয়ে
সদাসর্বদা সব বিষয়ে একেরই নাম নাও। আর দ্বিতীয়ত:, সময়, সঙ্কল্প এবং জ্ঞান ভাণ্ডারের
ইকনমি করো। যখন সবাই এমন একনামি আর ইকনমি হয়ে যাবে তখন এক বাবার মধ্যে সব ভিন্নতা
সমাহিত হয়ে যাবে।