08-03-2026 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 18-01-2009 মধুবন


"৪০ বছরের অব্যক্ত পালনের রিটার্ন ৪ বিষয় - শুভ চিন্তক হও, শুভ চিন্তন করো, শুভ বৃত্তি দ্বারা শুভ বায়ুমণ্ডল বানাও তথা (0) জিরো আর হিরোর স্মৃতিতে থাকো"


আজ বাপদাদা চতুর্দিকের তাঁর নিজের সেবাসাথি বাচ্চাদের সাথে মিলনের জন্য এসেছেন। আদি সেবার সাথি আর সেইসঙ্গে অন্যান্য সেবারও সাথি হয়ে সেবার খুব ভালো বৃদ্ধি করেছ তোমরা। তাইতো বাপদাদা নিজের সাথিদের দেখে খুশি হচ্ছেন এবং হৃদয় গীত গাইছে বাঃ! আমার বিশ্ব পরিবর্তন সেবার সাথি বাঃ! আজ অমৃতবেলা থেকে চতুর্দিকে বাপদাদার গলায় স্নেহ-মালা পরানো হচ্ছিল। তিন রকমের মালা ছিল। একটা ছিল বাবা সমান হওয়ার উৎসাহ-উদ্দীপনার, দ্বিতীয় মালা ছিল বিচ্ছিন্ন হওয়া অতি বন্ধনে আবদ্ধ গোপীকাদের, তাদের মালা তো ছিলই কিন্তু অতি অমূল্য চিকচিকে অশ্রুর মালাও ছিল। প্রতিটা অশ্রুবিন্দু মুক্তোর মতো ঝকমক করছিল। তৃতীয় মালা কিছু কিছু বাচ্চার অভিযোগেরও ছিল।

আজ অমৃতবেলা থেকেই সবার মধ্যে সমাহিত হওয়া বিশেষ স্নেহ দৃশ্যমান ছিল। বাপদাদা যেন বিরাট রূপে বাহু প্রসারিত ক'রে সব বাচ্চাকে বাহুতে সমাহিত ক'রে নিয়েছেন। সাধারণত, আজকের দিনে স্নেহের সাথে সমস্ত পাওয়ারের উইথও দেওয়ার ছিল। বাবা এক বচ্চির হাতে তাঁর হাত মিলিয়ে উইল পাওয়ারের উইল হস্তান্তর করেন। বাবা দেখছিলেন সব বাচ্চা শক্তি সেনা আর পাণ্ডব, কিছু বাচ্চা যারা পাণ্ডবও শক্তিও তারা গুপ্ত রূপে অন্তর্মুখী হয়ে পুরুষার্থে তীব্র গতিতে চলছে। বাইরে থেকে দেখা যায় না। কিন্তু তারা ভালো পুরুষার্থী। বাপদাদা দেখেছেন, আজকের স্নেহের সাবজেক্টে সবার মুখমণ্ডল বিশেষভাবে ঝলমল করছিল। জ্ঞানী তু আত্মা বাচ্চারা তো আছে কিন্তু স্নেহের সাবজেক্ট আবশ্যক। কেননা, যারা স্নেহি তাদের অনুভবে পরিশ্রম কম আর ভালোবাসা সহজভাবে থাকে। পাহাড় সম যেকোনো সমস্যাই থাকুক না কেন, স্নেহের শক্তি পাহাড়কেও তুলো বানিয়ে দেয়। পাহাড়কেও জলের মতো হালকা বানিয়ে দেয়। স্নেহ এক ছত্রছায়া। ছত্রছায়ার কারণে তা' সদা সেফ থাকে। সহজ হয়। স্নেহের দ্বারা তোমরা পরমাত্মা বা ভগবানকেও নিজের বন্ধু বানিয়ে নাও, যা ভগবান বন্ধুর স্মৃতি চিহ্ন হিসাবে রয়েছে। ভগবানকে বন্ধু বানিয়ে যে কোনও সমস্যাকে বন্ধু সম্পর্কের দ্বারা সহজ ক'রে দেয়। বাবাকে নিজের সাথি বানিয়ে দেয়। জ্ঞান হলো বীজ। কিন্তু প্রেমের জল বীজে ফল লাগিয়ে দেয়, প্রাপ্তির ফল। তো এমন বাবার স্নেহি বাচ্চারা বাবাকে স্মরণ করা পরিশ্রম মনে করে না। বরং ভুলে যাওয়া কঠিন মনে করে। স্নেহি কখনো স্নেহ ভুলতে পারে না। 'আমার বাবা' বলেছেন, হৃদয়ের স্নেহ দ্বারা অন্য সব ভাণ্ডারের চাবি প্রাপ্ত হয়। তো এমন স্নেহি, যাদের সামনে বাপদাদা উভয়েই 'হুজুর হাজির' এভাবে উপস্থিত হন। স্মরণ তো সবাই করে, কিন্তু কেউ অল্প অল্প পরিশ্রমসহ করে আর কেউ সদা স্নেহের সাগরে লাভলিন থাকে। দুনিয়ার লোকে বলে আত্মা পরমাত্মায় লীন হয়ে যায়, কিন্তু আত্মা পরমাত্মার স্নেহের সাগরে লাভলিন হয়ে যায়। লীন হয় না লাভলিন হয়।

তো আজকের দিন ভালোবাসায় লাভলিন থাকার দিন। পরিশ্রম সমাপ্ত হয়ে ভালোবাসার রূপে বদলে যায়। তো বাপদাদা সব বাচ্চার রেজাল্টও দেখেছেন, মেজরিটির সব হোমওয়ার্ক করেছে। বাবা সমান হওয়ার লক্ষ্য বারবার রিভাইসও করেছে, রিয়ালাইজও করেছে। ৭৫ পার্সেন্ট বাচ্চাদের রেজাল্ট ভালো ছিল। আর বাবা সমান হতেই হবে, যেকোনো তুফানই আসুক, এটা হলো কলিযুগের সমাপ্তির সময়, তো তুফান তো আসবে, পরিবর্তনের সময় তো না! কিন্তু তোমরা সব বাচ্চার কাছে তুফান কি! তুফান, তুফান নয় বরং উপহার। কেননা, বাপদাদার বরদানের হাত সব পুরুষার্থী বাচ্চার মাথায় রয়েছে। যারা দৃঢ় সঙ্কল্প করেছে অর্থাৎ দৃঢ়তার চাবি কার্যে লাগিয়েছে তারা এখনের রেজাল্ট অনুসারে সফলতাও প্রাপ্ত করেছে। কিন্তু সদাকালের জন্য তুফানকে উপহার (তওফা) বানিয়ে, সমস্যাকে সমাধানের রূপ দিয়ে অগ্রচালিত হও। তো বাপদাদা এখনের রেজাল্টে খুশি। যারা যোগ তপস্যা করেছে তা'তে তারা লক্ষ্য দৃঢ় রেখেছে - হতেই হবে।

৪০ বছর অব্যক্ত পালন সম্পূর্ণ হয়েছে। তো ৪০ বছরে আগে কী আসে - বিন্দু, জিরো। তো জিরো স্মরণ করিয়ে দেয় আমি হিরো, প্রকৃত হিরো, মহান হিরো এবং হিরো পার্টধারী হয়ে সব কার্য হিরো সমান করতে হবে। তো জিরো, সদা এই হিরো যেন স্মরণে থাকে আর বাকি যে চার আছে, তা'তে চার বিষয় জীবনে ন্যাচারাল করতে হবে, দৃঢ়তা পূর্বক করতে হবে, করবে? তৈরি আছ? যে পেপারই আসুক চারটে বিষয় অবশ্যই করতেই হবে। পাক্কা? পাক্কা? পাক্কা? পিছনের সারিতে যারা আছ তারা পাক্কা তো না! যারা কাঁচা তাদেরকে মায়া খেয়ে নেয়, সেইজন্য পাক্কা থাকা দরকার। একটা ব্যাপার হলো সদা শুভ চিন্তক হওয়া, কারও দুর্বলতা দেখে বা শুনে সহৃদয় হয়ে শুভ চিন্তক হয়ে তাদেরকে সহযোগ দিতেই হবে। দুর্বলতা দেখা উচিত নয় বরং সহযোগ দিতেই হবে। একে বলা হয়ে থাকে শুভ চিন্তক। এটা পাক্কা থাকবে তো না! সহায় দাতা, হৃদয়বান হয়ে সহযোগ দাও। তাকে উপেক্ষা করা বা ঘৃণা করা উচিত নয়, ক্ষমা করতে হবে। যারা পরবশ তাদের প্রতি ঘৃণা করা উচিত নয়। তাদের সহায়তাই দেওয়া হয়ে থাকে। তো এই হলো শুভ চিন্তক, আরেক হলো শুভ চিন্তন। আজকাল বাপদাদা দেখেন - মেজরিটি বাচ্চাদের মধ্যে কখনো কখনো অনেক ব্যর্থ সঙ্কল্প চলে, এতে নিজের জমা হওয়া শক্তি ব্যর্থ চলে যায়, সেইজন্য শুভ চিন্তনের, স্বমানের কোনো না কোনো টাইটেল নিজের মনকে হোমওয়ার্ক দিয়ে দাও, মনের টাইমটেবল বানাও, কর্মের টাইমটেবল তো বানিয়েই থাকো, কিন্তু মনের টাইমটেবল বানাও। অমৃত বেলায় মিলন উদযাপনের পরে মনকে স্বমান দিয়ে দাও। কিন্তু যেরকম তোমাদের বলা হয়েছিল যে ১২-১৩ বার সবাই টাইম পায়, তার মধ্যে রিয়ালাইজও করো, রিভাইসও করো, তবে মন বিজি থাকলে ব্যর্থ সঙ্কল্পে সময় যাবে না, পরিশ্রম করতে হবে না, সবসময় সঙ্গমযুগ যা পরম আনন্দের যুগ, সেই পরমানন্দে থাকবে। তো দ্বিতীয়তঃ বলা হয়েছিল - শুভ চিন্তন। চেক করো আর চেঞ্জ করো। তৃতীয়তঃ - শুভ বৃত্তি। অশুভ বৃত্তি বায়ুমণ্ডলেও অশুদ্ধতা ছড়ায়, সেইজন্য শুভ বৃত্তি। আর চতুর্থত হলো প্রত্যেককে এই দায়িত্ব নিতে হবে যে, আমার কাজ বিশেষ, আমার অন্যকে দেখা উচিত নয়, আমার কাজ হলো শুভ বায়ুমণ্ডল বানানো। যেমন, কখনও বায়ুমণ্ডলে যদি দুর্গন্ধ ছড়ায় তখন কি করো? সুগন্ধি ছড়িয়ে দাও তো না! দুর্গন্ধ সহন হয় না। কোনো না কোনো সুগন্ধির সাধন গৃহীত হয়, এমন সাধারণ বায়ুমণ্ডল কিংবা অশুভ বায়ুমণ্ডল বদলাতেই হবে। হতে পারে ছোট বা নতুন, কিন্তু দায়িত্ব সবার। দৃঢ় সঙ্কল্প করতে হবে আমাকে শুভ বায়ুমণ্ডল বানাতেই হবে। এই প্রতিজ্ঞা প্রত্যক্ষতা করাবে। প্রতিজ্ঞা তোমরা করো, বাপদাদা খুশি হন কিন্তু প্রতিজ্ঞার মধ্যে কখনো কখনো দৃঢ়তা থাকে না, সেইজন্য যে সফলতা চাও যতটা চাও ততটা থাকে না। সমগ্র বিশ্বের, প্রকৃতির, আত্মাদের, আত্মাদের মধ্যে ব্রাহ্মণ আত্মারাও এসে যায়, প্রত্যেকে নিজের সেবাস্থানের বায়ুমণ্ডল এমন দৃঢ়তার সাথে বানাও, কিছু যদি ত্যাগ করতেও হয় তবে করো, অন্যে যদি ত্যাগ করে তবে আমি করবো, না। সিস্টেম যদি ঠিক হয় তো ... তো, তো ক'রো না। আমাকে তো করতেই হবে। বিশ্ব পরিবর্তক, তোমাদের এই স্বমান আছে তো না! সবাই তোমরা বিশ্ব পরিবর্তক, তাই না! হাত উঠাও। এটা ভালো, বিশ্ব পরিবর্তক। খুব ভালো। তো প্রথমে বাপদাদা দেখতে চান, তোমরা হয়েছ এবং হবেও। কিন্তু এই বছরে ছোট হোক বা বড় সেবাকেন্দ্রে যদি বাপদাদা চক্রভ্রমণ করেন তবে বায়ুমণ্ডল কেমন হবে? যেমন, আজকের দিন স্নেহ আর শক্তির, ঠিক তেমনই গ্রামে গ্রামের সেন্টার, বড় সেন্টারের বায়ুমণ্ডল চৈতন্য মন্দিরের মতো হবে। নেগেটিভকে পজিটিভে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে প্রথমে 'আমি'। প্রথমে 'তুমি' এটা ক'রো না, প্রথমে আমি, কেননা বাপদাদা আর অ্যাডভান্স পার্টি এবং আজকাল তো প্রকৃতিও অপেক্ষা করছে। প্রস্তুতি করার জন্য তোমরা, তোমাদের অপেক্ষা করতে হবে না, প্রস্তুতি নিতে হবে।

আজ চতুর্দিকে ভয় বিস্তৃত, দুনিয়ার মেজরিটির হৃদয়ে একই সঙ্কল্প কাল কী হবে! তোমাদের জানা আছে কাল কী হবে! তো পরিবর্তন করার ব্যাপারে প্রথমে আমি নিমিত্ত হবো, এই সঙ্কল্প কে করে? এতে হাত উঠাও। করতে হবে। করতে হবে। পরিবর্তন হতে হবে। রক্ষক হতে হবে। কিছু ছাড়তে হবে আর ভালোবাসা নিতে হবে। মনের হাত উঠিয়েছ, নাকি এই হাত উঠিয়েছ! মনের হাত কে উঠিয়েছে! কেননা, মন যদি পরিবর্তন হয় তবে বিশ্ব পরিবর্তন হবে। সুতরাং এই বছরে স্লোগান কী হবে? কী স্লোগান হবে? "নো প্রবলেম।" বিজয় পতাকা হৃদয়ে আন্দোলিত হবে। আর সবাই মনে সদা খুশির ড্যান্স করবে। তাছাড়া, যদি দাতার বাচ্চা হও তবে যে আসবে তাদের প্রত্যেককে কোনো না কোনো গুণের গিফ্ট দাও। তাহলে এক সেকেন্ডে সেই দৃঢ় সঙ্কল্প, দাতার সঙ্কল্প লিফ্ট হয়ে যাবে এবং সেকেন্ডে পরমধাম, সূক্ষ্মবতন, স্থূল মধুবন সাকার বতন, যেখানে চাইবে সেখানে বিনা পরিশ্রমে সেকেন্ডে পৌঁছে যাবে। কেউ সামনে এলে তাকে শূন্য হাতে ফিরিয়ো না, তোমাদের মুখমণ্ডল দ্বারা, আচার-আচরণ দ্বারা, মুখ দ্বারা কোনো না কোনো গুণের উপহার বিনা তাদের সাথে সাক্ষাৎ ক'রো না।

তো এই বছরের প্রতি মাসের রেজাল্ট নিজের কাছেও রাখো আর যজ্ঞতে টিচার দ্বারা ও.কে. কার্ড পাঠাও, লম্বা পত্র পাঠিও না। দুনিয়াতে যে কার্ড চলে সেটা নয়, টিচার দ্বারা বরদানের যে কার্ড প্রাপ্ত হয় তা' পাঠিও। গুণের উপহার, শক্তির উপহার কত আছে? যদি লিস্ট গুনতি করো তবে তা' কত বড় লিস্ট! আর যতটা দেবে ততো কম হবে না, বরং বাড়তে থাকবে। যেমন বলা হয়না, ছু মন্তর, তো এই শিব মন্ত্রে কখনো কোনো গুণ তোমাদের কম হবে না, আরোই বাড়বে। কেননা কথিত আছে দে দান ছুটে গ্রহণ। আচ্ছা।

এই বারে যারা প্রথমবার এসেছো তারা উঠে দাঁড়াও। এটা ভালো - ( এম. পি.র রাজ্যপাল সামনে বসে আছেন) এই সংগঠনে স্বাগত, ভালো। বাপদাদা তোমাদের সবাইকে, আগতদের এই বরদান দিচ্ছেন যে সদা বাবার সাথে গুড মর্নিং আর গুডনাইট অবশ্যই করো। কেননা, চোখ খুলতেই আগে আগে বাবাকে দেখবে তো সারাদিন ভালো হবে। তো প্রথমবারে আগত বাচ্চাদের বাপদাদার পদমগুন স্মরণ-স্নেহ আর কল্যাণময় শুভেচ্ছা। আচ্ছা। আজ কার কা'র টার্ন?

যে চার বিষয় তোমাদেরকে বাবা বলেছেন এবং পঞ্চমত জিরো আর হিরো হওয়ার সম্বন্ধে যা বলেছেন, তা' এখন ব্রাহ্মণ তথা ফরিস্তা আত্মারাই সদা সেই বিষয়ের মনন করতে করতে মগ্ন অবস্থায় থাকে। দেবতা হওয়া তো তোমাদের জন্মসিদ্ধ অধিকার। ফরিস্তা তথা দেবতা তোমরা হয়েই আছ, সুতরাং সদা স্নেহের লাভে লীন লাভলীন থাকো তোমরা, সদা দৃঢ়তার সঙ্কল্পের চাবিকে মনে বুদ্ধিতে স্মৃতিতে বজায় রাখো। কেননা, এই চাবির পিছনে মায়া অনেক চক্কর লাগায়। তো মন আর বুদ্ধি দ্বারা সদা যারা শক্তিশালী থাকে, চতুর্দিকের তেমন বাচ্চাদের বাপদাদার স্মরণ-স্নেহ আর নমস্কার।

দাদিদের সাথে - (দাদি জানকীর প্রতি) চক্রভ্রমণ করে এসেছ, খুব ভালো। যা করছ তা' খুব ভালো। বাবার চিত্র স্মরণে এসেছে, নাকি জগদম্বা মাঝখানে দাঁড়িয়ে ঝাণ্ডা নাড়াচ্ছে আর পিছনে সব শক্তি সাথে দাঁড়িয়ে আছে! তো এখন সেই চিত্র বাপদাদা বিশ্বের সামনে দেখাতে চান। সমুদয় ব্রাহ্মণ দ্বারা এমন শক্তি সেনা প্রস্তুত করো যেন তারা নিমিত্ত হয়। চক্কর লাগানোর সময় যেন বায়ুমণ্ডল পাওয়ারফুল বানায় এবং দৃঢ় সঙ্কল্প করে - আমি এই দৃঢ় সঙ্কল্প করছি যে আমি বায়ুমণ্ডলকে পরিবর্তন ক'রে দেখাবো - যেন এই ঝাণ্ডা উত্তোলন করে। এমন গ্রুপ বের করো যে গ্রুপ চক্কর লাগিয়ে বায়ুমণ্ডল ঠিক করবে, নিজের স্থিতি বাণী এবং সঙ্গের দ্বারা। এমন গ্রুপ তৈরি ক'রে দেখাও। তো বাপদাদার চিত্র যদি স্মরণে এসে থাকে তবে এটা প্র্যাকটিক্যালি হওয়া উচিত। এমন ব'লো না সময় পাও না। কেউ বলবে না সময় পাও না। সময় পাবে যদি শুভ ভাবনা থাকে, তো এমন গ্রুপ বানিয়ে বাপদাদাকে দাও।

ইউথ গ্রুপ - এই বছরে যারা ব্রাহ্মণের যে মর্যাদা আছে সেই প্রতিটা মর্যাদা পূর্ণ রীতিতে মন্সা দ্বারা বাচা দ্বারা কর্মণা দ্বারা ও সম্বন্ধ-সম্পর্ক দ্বারা এই চার রূপে পালন করবে এমন গ্রুপ তৈরি করো। এই বছরে কোনো মর্যাদা ভঙ্গ হতে দিও না। নিজেদের মধ্যে এমন গ্রুপ বানাও। যে উদ্যমী সেই অর্জুন। পছন্দ হয়েছে? কে করবে? তোমরা করবে? হাত তোলো। করবে? যুবারা সবাই করবে? কত আজ তোমরা? (৪০০) নিজেদের মধ্যে গ্রুপে গ্রুপে পাক্কা করো তারপরে গভার্নমেন্টকে দেখাব যে এরা মর্যাদা পুরুষোত্তম। গভর্নমেন্টও চায় কিন্তু করতে পারে না, তোমরা ক'রে দেখাও। এক্সাম্পল হয়ে দেখাও। তোমরা হোমওয়ার্ক পেয়ে গেছ তো না! বাপদাদা এটাই চান চতুর্দিকের ব্রাহ্মণ আত্মারা এই বছরে যেন চমৎকার ক'রে দেখায়! ব্যর্থ সঙ্কল্পের শোরগোল যেন না হয়। শুদ্ধ সঙ্কল্প এত জমা করো যাতে ব্যর্থ আসার সময় না পায়। তোমাদের আছেনা ভাণ্ডার? শুদ্ধ সঙ্কল্পের এত ভাণ্ডার একত্রিত আছে? আছে তোমাদের? হাত উঠাও। শক্তিও আছে, এটা ভালো। শক্তির এক্সাম্পল হওয়া উচিত এবং পাণ্ডবেরও এক্সাম্পল হওয়া উচিত। আচ্ছা। বাপদাদা খুশি।

বরদান:-
সূক্ষ্ম সঙ্কল্পের বন্ধনের থেকেও মুক্ত হয়ে উঁচু স্টেজের অনুভব ক'রে নির্বন্ধন ভব

যে বাচ্চা যত নির্বন্ধন ততো উঁচু স্টেজে স্থিত থাকতে পারে, সেইজন্য চেক করো - মন্সা-বাচা এবং কর্মণাতে সূক্ষ্মভাবেও কোনো সুতো জুড়ে নেই তো! এক বাবা ব্যতীত দ্বিতীয় কেউ স্মরণে যেন না আসে। নিজের দেহও যদি স্মরণে আসে তবে দেহের সাথে দেহের সম্বন্ধ, পদার্থ, দুনিয়া সব একটার পিছনে একটা এসে যাবে। আমি নির্বন্ধন - এই বরদান স্মৃতিতে রেখে সমগ্র দুনিয়াকে মায়ার জাল থেকে মুক্ত করার সেবা করো।

স্লোগান:-
দেহী অভিমানী স্থিতি দ্বারা তন মনের অস্থিরতা যে সমাপ্ত করে সেই অটল থাকে।

অব্যক্ত ইশারা :- "নিশ্চয়ের ফাউন্ডেশন মজবুত ক'রে সদা নির্ভয় আর নির্বিঘ্ন থাকো" সমস্যার কাজ হলো আসা, নিশ্চয়বুদ্ধি আত্মার কাজ হলো সমাধান স্বরূপ দ্বারা সমস্যা পরিবর্তন করা। কেন? প্রত্যেক ব্রাহ্মণ আত্মা ব্রাহ্মণ জন্ম নেওয়ার সাথে সাথেই মায়াকে চ্যালেঞ্জ করেছ যে, আমরা মায়াজিৎ হতে চলেছি। সমস্যা স্বরূপ মায়ার স্বরূপ। যখন চ্যালেঞ্জ করেছ তখন মায়া বিরোধ তো করবেই কিন্তু তোমরা তাকে নিশ্চয়বুদ্ধি বিজয়ী স্বরূপে, নাথিং নিউ মনে ক'রে যদি পার ক'রে দাও তবে নিশ্চিন্ত বাদশাহ হবে।