08.05.2026
প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন
“মিষ্টি বাচ্চারা -
এখন তোমরা শূদ্র বংশের থেকে বেরিয়ে ব্রাহ্মণ বংশে এসেছো, বাবা ব্রহ্মা মুখের দ্বারা
তোমাদেরকে অ্যাডপ্ট করেছেন - তাই এই খুশিতে থাকো”
প্রশ্নঃ -
কি এমন গুপ্ত
রহস্য ব্রাহ্মণ কুলের বাচ্চারাই কেবল বুঝতে পারে?
উত্তরঃ
নিরাকার শিব
বাবা হলেন আমাদের পিতা আর এই ব্রহ্মা হলেন আমাদের মাতা। নিরাকার ভগবান কিভাবে
মাতা-পিতা, বন্ধু সখ হয়ে থাকেন, এই গুপ্ত রহস্য ব্রাহ্মণ কুলের বাচ্চারাই বুঝতে পারে।
তার মধ্যেও যারা দৈবী কুলের উচ্চপদ প্রাপ্ত করার হবে তারাই এই রহস্য যথার্থ ভাবে
বুঝতে পারবে।
ওম্ শান্তি ।
বাচ্চারা বসে
আছে - বুঝতে পারছে যে আমাদের বাপ-দাদা এসে গেছেন। বাবা তো একত্রিত হয়ে যায় দাদার
সাথে। তাই বলবে যে বাপ-দাদা এসে গেছেন। তিনি টিচারও। বাবা দাদাকে ছাড়া কিছুই বলতে
পারেন না। বুদ্ধিতে ধারণ করতে হবে, কেননা এটা হলো নতুন কথা তাই না! অজ্ঞান কালে
স্মরণ করে সিঙ্গেলকে। বলে আমাদের গুরু অমুক জায়গায় আছেন। তার শরীরের নাম জানে।
আমাদের বাবা আমাদের মা অমুক জায়গায় আছেন। তার নাম রূপ সবকিছুই আছে। মানুষ তাকে
সর্ট করে দিয়েছে । মানুষ তো যা কিছু বানিয়েছে তাতে কিছু না কিছু ভুল আছে। যদিও
গীত আছে ত্বমেব মাতাশ্চ পিতা ত্বমেব... এটা একজনের জন্যই গাওয়া হয়ে থাকে।
ব্রহ্মার জন্য বলে না, কেননা তাঁর নাম রূপ বুদ্ধিতে আসে না। না বিষ্ণুর না শঙ্করের
আসে। গাইতে থাকে যে তুমি মাতা-পিতা আমরা বালক তোমার... তাতেও বুদ্ধি উপরের দিকেই
যায়। কৃষ্ণকে কেউ স্মরণ করতে পারে না। তবুও নিরাকারকেই স্মরণ করবে, তাঁর মহিমা আছে।
তাই বাবা বোঝাচ্ছেন যে- এখানে যখন বসে আছো তখন লৌকিক সম্বন্ধের থেকে বুদ্ধির যোগ
সরিয়ে পারলৌকিক বাবাকে স্মরণ করো, কেননা এই সময় তিনি সম্মুখে বসে আছেন। ভক্তি
মার্গে যখন গাইতে থাকে তখন চোখ উপরের দিকে তাকিয়ে গাইতে থাকে - তুমি মাতা পিতা...
হে ভগবান বলে স্মরণ করতে থাকে। ভগবান যখন বলে তখন শিবলিঙ্গকেও স্মরণ করে না।
তোতাপাখির মতো এইরকম গাইতে থাকে। লক্ষ্মী-নারায়ণের জন্যও এইরকম বলা যায়না, এনারা
তো হলেন মহারাজা-মহারানী। তাদের বাচ্চারাই কেবল তাদেরকে মাতা-পিতা বলবে। ‘বন্ধু’
বলবে না। ভক্তরা গাইতে থাকে - হে পতিত-পাবন, কিন্তু এটাও বুদ্ধিতে আসেনা যে
শিবলিঙ্গ হবে, এইরকমই বলে দেয়। হে ভগবান! হে ভগবান কে বলছে, কাকে বলছে? কিছুই জানে
না। যদি এই জ্ঞান থাকতো যে আমি হলাম আত্মা, তাকে ডাকছি, তাহলে এটাই বুঝতে পারতো যে
তিনি হলেন নিরাকার পরমাত্মা। তার রূপই হলো লিঙ্গ স্বরূপ। যথার্থ ভাবে কেউ বাবাকে
স্মরণ করে না। তার থেকে প্রাপ্তি কি হবে, কবে হবে - এসব কিছুই জানেনা। তোমরাও জানতে
না। এখন তো বাবার হয়েছ। তোমরা জানো যে আমাদেরকে শিব বাবা ব্রহ্মার দ্বারা নিজের
বাচ্চা বানিয়েছেন। এই ব্রহ্মা হলেন মা। এই ব্রহ্মা মাতার দ্বারা শিব বাবা অ্যাডপ
করেছেন। এই সময় তোমরা ভালো ভাবে বুঝতে পারছো। আমরা হলাম শিব বাবার সন্তান। সাকারে
আবার প্রজাপিতা ব্রহ্মার সন্তান। প্রজাপিতা ব্রহ্মার দ্বারা মনুষ্য সৃষ্টি রচনা
করেন। এমন নয় যে কোনও নতুন সৃষ্টি রচনা করেন? না, এই সময়ে এসে কোলে তুলে নেন,
অ্যাডপ্ট করেন। এখন মাতা-পিতা বলতে তো শিব হলেন পিতা আর মাতা হলেন ব্রহ্মা। তাঁদেরকে
বলা যায় মাতা পিতা। বাবা ব্রহ্মার দ্বারা বলছেন যে তোমরা আত্মারা হলে আমার বাচ্চা।
তারপর আত্মাদেরকে বসে পরিচয় দিচ্ছেন যে - আত্মা কি? তারা বলেও যে ভ্রূকুটিট মাঝে
থাকে আকাশের তারার মত, আর কিছুই জানেনা। এটা বলতে পারেনা যে আত্মা ৮৪ জন্ম ভোগ করে।
আত্মা শরীরের দ্বারা পার্ট প্লে করে। ভিন্ন ভিন্ন নাম রূপ দেশ কাল থেকে আত্মা এক
শরীর ত্যাগ করলে তো সমস্ত পরিবারই বদলে যায়। কেউ অ্যাডপ্ট করলে তখন পরিবারই বদলে
যায়। মাতা-পিতা, যার দ্বারা জন্ম নিয়েছে, তাদেরকেও জানে আবার যে অ্যাডপ্ট করছে
তার ঘরের হয়ে যায়। এখানে তোমরা শূদ্র বংশের থেকে বেরিয়ে এখন ব্রাহ্মণ বংশে এসেছো।
ব্রহ্মার শরীরে দ্বারা তোমাদেরকে দত্তক নিয়েছেন। তোমরা তো ব্রাহ্মণ কুলে এসে গেছো।
এইসব কথা শাস্ত্রে লেখা যায় না, এটা বোঝানো যায়। লেখা হলে কেউ বুঝতে পারবে না।
এখন বাচ্চারা তোমরাই
জানো যে - আমরা পরমপিতা পরমাত্মার সন্তান হয়েছি। ইনি হয়ে গেলেন মা। ব্রহ্মাকে
প্রজাপিতাই বলা হয়। এনার দ্বারা বাচ্চারা, তোমাদেরকে অ্যাডপ্ট করি - এসব কতইনা
গুপ্তকথা। সামনে না বসলে কেউই বুঝতে পারবে না। তারাই বুঝতে পারবে যারা এই ব্রাহ্মণ
কুলের হবে। যারা দৈবী কুলের মধ্যেও উচ্চপদ পাওয়ার হবে। নতুন কারোর বুদ্ধিতে এসমস্ত
কথা ধারণ হবে না। না বুদ্ধিতে ধারণ হবে, না কাউকে বোঝাতে পারবে। তোমাদের মধ্যেও
নম্বরের ক্রমে পুরুষার্থ অনুসারে আছে, যাদের বুদ্ধিতে ধারণা হয়। গাওয়া হয় ত্বমেব
মাতাশ্চ পিতা... স্মরণ করা যায় শিব বাবাকে। পুনরায় বলে যে - তুমি মাতা পিতা। এক
বাবা কিভাবে মাতা পিতা হতে পারেন? এসব কথা আর কেউ বোঝাতে পারবে না। যে রকম শাস্ত্রতে
ব্যাসদেব যা কিছু লিখেছেন সেটা মানুষ মুখস্ত করে নিয়েছে সেই রকম তোমাদেরকেও বলবে,
তোমাদেরকে কেউ বলেছেন, তোমরা মুখস্ত করে নিয়েছো। নতুন মানুষের জন্য বোঝানো বড়ই
মুশকিল। এখানে থেকেও কেউ কাউকে এতটা বোঝাতে পারবে না। তোমরা হলে আত্মা - তোমাদের
বাবা হলেন পরমপিতা পরমাত্মা। তিনি হলেন অসীম জগতের বাবা অসীম জগতের উত্তরাধিকার
প্রদান করছেন। উত্তরাধিকারের দিয়েছিলেন, পুনরায় পুনর্জন্ম নিতে নিতে ৮৪ জন্ম
সম্পন্ন হয়েছে, এখন বাবা পুনরায় উত্তরাধিকার প্রদান করতে এসেছেন। এসব কাউকে বোঝানো
কতইনা সহজ! তুমি মাতা-পিতা... কাকে বলা যায় এটা চিন্তন করার বিষয় তাই না! ব্রহ্মার
দ্বারা দত্তক নিয়েছেন, তবুও মা তো অবশ্যই চাই। তাই যে অনন্য কন্যা (বাচ্চী) হবে
ড্রামার প্ল্যান অনুসারে তাঁকে জগদম্বার টাইটেল দেওয়া যায়। মেল-কে জগদম্বা বলা
যায় না, তাঁকে জগৎ পিতা বলা হয়। প্রজাপিতা নাম বিখ্যাত। আচ্ছা প্রজা মাতা কোথায়?
তাই অ্যাডপ্ট করা হয় মাতাকে। আদি দেব তো আছেন তারপর আদি দেবীকে আহ্বান করা হয়।
জগদম্বা তো একজনই আছেন - তাঁরই মহিমা রয়েছে । জগদম্বারকে কেন্দ্র করে অনেক মেলা বসে।
কিন্তু তাঁর কর্তব্যকে কেউ জানে না। কলকাতাতে কালী মন্দির আছে। বম্বেতেও জগদম্বার
মন্দির আছে। মুখমন্ডল আলাদা আলাদা হয়। জগদম্বা কে? এটা কেউ জানে না। তাঁকেও ভগবতী
বলা হয়। এখন জগদম্বাকে ভগবতী বলা যায়না। তিনি হলেন ব্রাহ্মণী। জ্ঞান-জ্ঞানেশ্বরী,
তিনিও বাবার থেকে জ্ঞান প্রাপ্ত করেছেন। তোমরা সবাই হলে জগদম্বার বাচ্চা। জ্ঞান শুনে
তারপর সবাইকে শোনাও। তোমাদের ধান্দাই হলো এটা। তোমাদেরকে এখন ঈশ্বর পড়াচ্ছেন, কোনও
মানুষ পড়াচ্ছেন না। এই ব্রহ্মাও তো হলেন মানুষ। মানুষ কোনো মানুষকেই কখনো পবিত্র
বানাতে পারে না। মানুষের বুদ্ধি এতই বোকা হয়ে গেছে যে কিছুই বুঝতে পারেনা।
পতিত-পাবন তো হলেন এক বাবা। তিনি আসেনই পতিতকে পাবন বানাতে। এই সমগ্র দুনিয়া
তমোপ্রধান হয়ে গেছে। সবাই হলো পতিত। নতুন দুনিয়া হল পবিত্র, পুরানো দুনিয়া হলো
পতিত। পুরানো দুনিয়াতে আছে নরকবাসী। নতুন দুনিয়া হল স্বর্গবাসী। বুদ্ধিও বলে যে -
সত্যযুগে কেবল ভারতবাসী দেবী-দেবতারাই থাকবে আর কেউ থাকবে না। এখন বাচ্চারা তোমাদের
এই জ্ঞান প্রাপ্ত হয়েছে। নতুন দুনিয়াতে সর্বপ্রথম সূর্যবংশী দেবতারা ছিলেন পুনরায়
চন্দ্র বংশী হলে তো সূর্যবংশী পাস্ট হয়ে যায়। চন্দ্রবংশীর পর পুনরায় বৈশ্য বংশী....
বরাবর লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজ্য ছিল। আচ্ছা তার আগে কি ছিল। এটা কেউ বুঝতে পারে না।
বাচ্চারা, তোমাদেরকে বাবা এখন চক্রের রহস্য বোঝাচ্ছেন। দ্বাপরে হলো বৈশ্য বংশী। কলি
যুগে হয় শূদ্র বংশী।
এখন তোমরা জেনেছো যে
- আমরা ব্রাহ্মণ হয়েছি। তোমাদেরকে বাবা নিজের বানিয়েছেন অর্থাৎ শূদ্র ধর্ম থেকে
দেবতা ধর্মে ট্রান্সফার করেছেন। এখন সূর্যবংশী চন্দ্রবংশী তো নেই। না লক্ষ্মী
নারায়ণের রাজ্য আছে, না রাম রাজ্য আছে। এখন হলো কলিযুগের অন্ত। কলিযুগের পর
সত্যযুগ আসবে। কলিযুগে এই পুরানো পতিত দুনিয়া আছে, মহান দুঃখ আছে। এজন্য দেবতাদের
কাছে গিয়ে মহিমা গান করে, মাথা ঠোকে। আচ্ছা লক্ষ্মী নারায়ণকে এই রাজ্য কে
দিয়েছিলেন? কেউ তো আছে যে বলতে পারে। এসব কারো চিন্তাতে আসবে না, কেননা বুদ্ধিতে
আছে কলিযুগ এখনো বাচ্চা। ৪০ হাজার বছর অবশিষ্ট আছে। এই জন্য এইসব চিন্তা আসেই না।
এখন তোমাদের এই চিন্তা আসে। কোনও বাচ্চা বলে যে আমি স্মরণ করতে পারি না। কেন পারো
না? কেননা সকাল সকাল উঠে স্মরণে বসে ধারণা করে না। বুঝতে পারে তথাপি কাউকে বোঝাতে
পারে না। এটা তো অবশ্যই হবে। সবাই একরস বুঝদার হতে পারবে না। বুঝদারও চাই, অবুঝও
চাই। অনেক বুঝদার তো গিয়ে রাজা রানী হবে। যত যত যে বেশি বুঝবে আর বোঝাবে তাদেরই
নাম খ্যাত হবে। প্রদর্শনী হয় তো লেখে যে বাবা অমুককে পাঠাও। তাহলে কি তুমি বোঝাতে
পারবে না? বাবা তার প্র্যাক্টিস অনেক বেশি। বাবা, আমি একটু কাঁচা । বাবা নিজেও বলেন
যে - কোথা থেকে যদি নিমন্ত্রণ এলে লিখে পাঠাও, কে কে আছে, তখন দেখবো কাকে কাকে
পাঠানো যায়। সন্ন্যাসীদের বোঝানোর জন্য এই নিমন্ত্রণ কি? তাহলে তো অনেক ভালো
ব্রহ্মাকুমারীকে পাঠাতে হবে। আচ্ছা কুমারকা (প্রকাশমণি দাদি) আছে, মনোহর আছে, গঙ্গে
আছে, এদের মধ্যে কাউকে পাঠিয়ে দেবো। বাচ্চা তো অনেক আছে। জগদীশকে পাঠিয়ে দাও,
রমেশকে পাঠিয়ে দাও। তোমরাও বুঝতে পারো যে একে অপরের থেকে সুদক্ষ। যেরকম জজ বা
ম্যাজিস্ট্রেট হয়ে থাকে। একে অপরের থেকে সুদক্ষ হয়। গভর্মেন্ট জানে যে, একজন অপর
জনের থেকে দক্ষ। তবেই তো কেস একজনের থেকে আরেক জনেরটা উপরে যায়। এরপর হাইকোর্টে
যাও তারপর তার থেকেও উপরে। তিনিও যদি জাজমেন্ট ঠিক না দেন তাহলে তার থেকেও উপরে যাবে।
এদের উপর তোমরা করুণা করো। এখন এইসব কথা এখানেই হয়। সত্য যুগ, ত্রেতাতে তো হয়না।
পুনরায় দ্বাপরে রাজা রানীর রাজ্য হয়। সেখানে তো মহারাজা মহারানীকেই কেস সামলাতে
হয়। কেস হবেও খুব অল্প। এখন তো তমোপ্রধান পতিত তাই না! তাই বাদশাহের কাছে কেস গেলে
তো অল্প শাস্তি দিয়ে দেবেন। বেশি ভুল হলে তো বেশি শাস্তি দেবেন। এখানে তো অনেক জাজ
উকিল আছে। কতইনা কারবারের মধ্যে পার্থক্য আছে। সত্য যুগে কি হয়, এটা কারো জানা নেই।
এখন বাবা বোঝাচ্ছেন যে - কাউকে জিজ্ঞাসা করো, এই লক্ষ্মী-নারায়ণকে জানো? যে রকম
বিড়লারা অনেক মন্দির বানায়, তো কোনো ভালো বাচ্চা থাকলে তাকে (বিড়লাকে) চিঠি লিখবে।
তোমরা লক্ষ্মী-নারায়ণের মন্দির তো অনেক বানিয়েছো, এনাদের এই রাজধানী কিভাবে
প্রাপ্ত হয়েছে, যখন সত্যযুগের আগে কলিযুগ ছিল। কলিযুগে কিছুই নেই। দেবতাদের তো কারো
সাথে যুদ্ধ হবেনা। যুদ্ধ করে কেউ বিশ্বের মালিক হতে পারে না। বিশ্বের মালিক যারা
ছিলেন তাদেরই এই লক্ষী নারায়ণের চিত্র রাখা হয়। এখন তো হলো কলিযুগ। এখানে যুদ্ধ হয়
হাতিয়ারের দ্বারা। বাবা বুঝিয়েছেন যে খ্রিস্টান ধর্মের আত্মারা নিজেদের মধ্যে একতা
এসে যায় নিজেদের মধ্যে ভালোবাসা রাখে তো বিশ্বের মালিক হতে পারবে। কিন্তু বিশ্বের
মালিক তো লক্ষ্মী-নারায়ণ হবেন। বুদ্ধি বলে যে এরা নিজেদের মধ্যে যদি এক হয়ে যায়
- তাহলে মালিক হতে পারবে কিন্তু সত্যযুগের কিং কুইন তো কেউ হতে পারে না। ড্রামাই
এরকম তৈরি হয়ে আছে। এখন আমরা পুনরায় যোগ বলের দ্বারা স্বর্গের উত্তরাধিকার গ্রহণ
করছি। তোমরা বলতে পারো যে - কল্প পূর্বেও সঙ্গম যুগে বাবার দ্বারা এই পদ প্রাপ্ত
করেছিলাম। ৮৪ জন্ম সম্পন্ন হয়েছে, পুনরায় উত্তরাধিকার গ্রহণ করছি। আচ্ছা!
মিষ্টি-মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত।
আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।
ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ )
নিজের মধ্যে ধারণা করা আর অন্যদেরকে করানোর জন্য - সকাল সকাল উঠে বাবার স্মরণে বসতে
হবে। যেটা বুঝেছো সেটা অন্যদেরকেও বোঝানোর প্র্যাকটিস করতে হবে।
২ ) লৌকিক সম্বন্ধের
থেকে বুদ্ধির যোগ সরিয়ে এক পারলৌকিক বাবাকে স্মরণ করতে হবে। বাবার থেকে যে জ্ঞান
প্রাপ্ত হয়েছে সেটা শুনে সবাইকে শোনাতে হবে। এটাই হলো তোমাদের কারবার।
বরদান:-
সমাহিত
করার শক্তির দ্বারা একমতের বাতাবরণ বানানো দৃষ্টান্তরূপ ভব
একই রকমের মণি যারা,
একে এরই লগণে আর একরস স্থিতিতে স্থিত, এক এর মতেই চলে, নিজেদের মধ্যে সংকল্পেও একমত
থাকে, তারাই মালার দানা হয়। কিন্তু একমতের বাতাবরণ তখন হবে যখন সমাহিত করার শক্তি
থাকবে। যদি কোনও কথাতে ভিন্নতা হয়ে যায় তো সেই ভিন্নতাকে সমাহিত করে নাও, তখন
নিজেদের মধ্যে একতার দ্বারা নিকটে আসবে আর সকলের সামনে দৃষ্টান্ত রূপ হবে।
স্লোগান:-
প্রত্যেক সংকল্প, বাণী আর কর্মে আত্মিকতা ধারণ করো তখন সার্ভিসে উৎকর্ষতা (রৌণক()
আসবে।
অব্যক্ত ঈশারা :- সদা
অবিচল, অনড়, একরস স্থিতির অনুভব করো
কোনও কষ্টদায়ক সীন
দেখেও নাথিং নিউ, যাদের এই নাথিং নিউ এর পাঠ পাক্কা থাকে তারা ঘাবড়ে যায় না। কি
হয়েছে, কিভাবে হয়েছে, এটা হয়েছে... সমাচার দেখে বা শুনেও ড্রামার ভবিতব্যকে
শক্তিশালী হয়ে দেখো আর অন্যদেরকে শক্তি দিতে থাকো। দুনিয়ার মানুষ ঘাবড়াতে থাকে আর
তোমরা একরস স্থিতিতে থেকে সেই আত্মাদেরকে শক্তিশালী করতে থাকো। যারা সম্পর্কে আসবে,
তাদেরকে শক্তির, শান্তির দান দিতে থাকো।