08.07.2026 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - এই সভাতে বহির্মুখী হয়ে বোসো না, তোমাদের বাবার স্মরণে থাকতে হবে, মিত্র পরিজন কিম্বা কাজ - কারবারকে স্মরণ করলে বায়ুমণ্ডলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়"

প্রশ্নঃ -
বাচ্চারা, তোমাদের আত্মিক ড্রিলের বিশেষত্ব কি, যা অন্যরা করতে পারে না?

উত্তরঃ  
তোমাদের এই আত্মিক ড্রিল হলো বুদ্ধির, এর বিশেষত্ব হলো, তোমরা প্রেমিকা (আশিক) হয়ে প্রিয়তমকে (মাশুক) স্মরণ করো । এর ইঙ্গিত গীতাতেও রয়েছে - 'মন্মনাভব', কিন্তু মানুষ তার প্রিয়তম (মাশুক) পরমাত্মাকে জানেই না, তাহলে ড্রিল কিভাবে করতে পারবে । ওরা তো একে অপরকে শরীরের ড্রিল শেখায় ।

ওম্ শান্তি ।
বাচ্চারাও বুঝতে পারে আর বাবাও বুঝতে পারেন যে, বাচ্চারা (যারা যোগ শেখায় ) এখানে কি শেখায় । তারা স্মরণের যাত্রার ড্রিল করাচ্ছে । মুখে কিছুই বলতে হবে না । কার স্মরণ? পরমপিতা পরমাত্মা শিববাবার । তাঁর স্মরণে থাকলে আমাদের যা বিকর্ম আছে, তা ভস্ম হয়ে যাবে, আর যে যতো স্মরণের ড্রিল করবে, সে ততই বিকর্মজিৎ হয়ে যাবে । এ হলো আত্মার ড্রিল, শরীরের নয় । ভারতে যে সব ড্রিল শেখানো হয়, সে সব হলো শরীরের, এ হলো আত্মিক ড্রিল । এই আত্মিক ড্রিল তোমরা বাচ্চারা ছাড়া আর কেউই জানে না ।

আত্মিক ড্রিলের ইঙ্গিত অবশ্যই গীতাতে আছে । ভগবান উবাচঃ অথবা ভগবানের বাচ্চাদেরও বাণী আছে । তোমরা তো এখন ভগবান শিব বাবার বাচ্চা হয়ে গেছো, তাই না । বাচ্চারা নির্দেশ পেয়েছে - -মামেকম্ স্মরণ করো । বাবাও ড্রিল শেখান । বাচ্চারাও এই ড্রিল শেখায় । পূর্ব কল্পেও বাবা এই বলেছিলেন যে, আমাকে স্মরণ করো । এতে প্রতি মুহূর্তে বলার প্রয়োজন নেই, কিন্তু তবুও বলতে হয় । এখানে বসে কেউ যদি মিত্র - পরিজন, কাজ - কারবারের কথা মনে করে, তাহলে বিঘ্ন উৎপন্ন করে । বাবা বলেন - এখানে যেমন তোমরা স্মরণে বসে আছো, তেমনই চলতে - ফিরতে, কর্ম করার সময়ও স্মরণে থাকতে হবে । প্রিয়তমা প্রিয়তম যেমন একে অপরকে স্মরণ করে । তাদের ওই স্মরণ হলো শরীরের । তোমাদের হলো আত্মিক স্মরণ । ভক্তিমার্গেও আত্মা আশিক হয় এক পরমপিতা পরমাত্মা মাশুকের, কিন্তু না তারা মাশুককে জানে আর না আত্মাকে জানে । মাশুক অর্থাৎ প্রিয়তম বাবা এখন এসেছেন । ভক্তি মার্গ থেকে শুরু করে আত্মা আশিক হয়ে গেছে । এ হলো আত্মা আর পরমাত্মার কথা । বাবা বাচ্চাদের সম্মুখে বলেন - তোমরা প্রিযতমারা, আমি প্রিয়তমকে স্মরণ করো যে, বাবা এসো । তুমি এসে আমাদের দুঃখ থেকে উদ্ধার করো আর নিজের সঙ্গে শান্তিধামে নিয়ে চলো । তোমরা জানো যে, এখন এই দুঃখধাম, মৃত্যুলোকের বিনাশ হতে হবে । অমরলোক জিন্দাবাদ, মৃত্যুলোক মুর্দাবাদ । তোমরা এখন ব্রাহ্মণ বাচ্চা হয়েছো, তোমাদের মধ্যেও পুরুষার্থের নম্বরের ক্রমানুসার আছে । বাচ্চারা, তোমাদেরও সম্পূর্ণ নিশ্চয়তা থাকা উচিত যে, আমরা এখন ২১ জন্মের জন্য নরকবাসী থেকে স্বর্গবাসী হচ্ছি । কেউ মারা গেলে বলে - স্বর্গবাসী হয়েছে, কিন্তু কতো সময়ের জন্য স্বর্গবাসী হয়েছে, এ কেউই জানে না । তোমরা এখন স্বর্গবাসী হওয়ার জন্য পুরুষার্থ করছো । একথা কে নিশ্চিত করান । তিনি হলেন গীতার ভগবান, কিন্তু তিনি তো এক এবং নিরাকার । মানুষ মনে করে - নিরাকার তো নিরাকারই । তিনি কিভাবে এখানে এসে শেখাবেন? বাবাকে না জানার কারণে ড্রামা অনুসারে ভুল করে কৃষ্ণের নাম দিয়ে দিয়েছে । কৃষ্ণ আর শিবের সম্বন্ধ এই সময় কাছাকাছি । শিব জয়ন্তী হয় সঙ্গমের সময় । এরপর আগামীতে হবে কৃষ্ণ জয়ন্তী । শিব জয়ন্তী হলো রাতে আর কৃষ্ণ জয়ন্তী হলো সকালে, তাকে প্রভাত বলা হবে । শিব রাত্রি যখন সম্পূর্ণ হয়, তখন হয় কৃষ্ণ জয়ন্তী । এই কথা কেবল বাচ্চারাই বুঝতে পারে । নিয়ম হলো - এখানে এই সভাতে কেউ যেন বহির্মুখী না হয় । তোমাদের বাবার স্মরণে থাকতে হবে । মানুষ ডাকতেও থাকে - হে পতিত পাবন, এসো, এসে আমাদের পবিত্র বানাও, কিন্তু ড্রামা অনুসারে যারা পাথর বুদ্ধির, তারা কিছুই বোঝে না । যদি জানতো, তাহলে বলে দিতো । ওরা এও জানে না যে, এখন এই কলিযুগের অন্তিম সময়, এরপর যখন বাবা আসেন, তখন আদি শুরু হয় । মানুষ তো রীতিমত ঘোর অন্ধকারে আছে । মানুষ মনে করে, কলিযুগের প্রায় এখনো ৪০ হাজার বছর বাকি আছে । অসীম জগতের পিতা বোঝান যে, জাগতিক পিতা কখনো পতিত - পাবন হতে পারে না । বাপু নাম তো অনেকেরই রেখে দিয়েছে । বয়স্ক মানুষদের বাপু অথবা পিতাজী বলা হয় । এই আত্মিক পিতাশ্রী তো একজনই, যিনি পতিত পাবন এবং জ্ঞানের সাগর । বাচ্চাদের পবিত্র হওয়ার জন্য জ্ঞানের প্রয়োজন । জলে স্নান করলে তো কেউ পবিত্র হবেই না । তোমরা জানো যে, শিব বাবা আমাদের সামনে এই তনে প্রত্যক্ষ । তিনি ব্রহ্মার দ্বারা ব্রাহ্মণদের রাজযোগ শেখাচ্ছেন । ওরা তো অর্জুনের প্রতি ভগবান উবাচঃ বলে দেয় । ব্রাহ্মণদের নাম - নিশানাও নেই । এমন মহিমা আছে যে - ব্রহ্মার দ্বারা স্থাপনা আর বিষ্ণুর দ্বারা পালনা । স্থাপনা তো ব্রহ্মার দ্বারাই করবেন, বিষ্ণুর দ্বারা বা শঙ্করের দ্বারা তো নয় । বাচ্চারা, তোমরা এখন এই কথা বুঝতে পেরেছো । বাবাকেই এখানে আসতে হয়, কোনো আত্মাই তো আর ফিরে যেতে পারে না । যারাই আসে, তাদের সতঃ, রজঃ আর তমঃ অতিক্রম করতে হয় । কৃষ্ণও সম্পূর্ণ ৮৪ জন্মগ্রহণ করে আর সম্পূর্ণ পাঁচ হাজার বছর অভিনয় করে । এখন আত্মা যদিও বা পেটে থাকে, তবুও তো জন্ম হলো, তাই না । কৃষ্ণের আত্মা যখন সত্যযুগে আসে, তখন গর্ভে প্রবেশের পর থেকে শুরু করে পাঁচ হাজার বছরে তাঁকে ৮৪ জন্ম অভিনয় করতে হবে । যেমন শিব জয়ন্তী পালন করা হয়, তখন এনার মধ্যে তো বসে থকেন, তাই না । কৃষ্ণের আত্মা যখন গর্ভে প্রবেশ করেছিলো, যখন নড়াচড়া শুরু হয়েছিলো, সেই সময় থেকে শুরু করে ৫ হাজার বছরের হিসাব শুরু হয় । যদি কিছু তফাৎ হয়, তখন ৫ হাজার বছরের কম হয়ে যায় । এ খুবই সূক্ষ্ম বোঝার মতো কথা । বাচ্চারা জানে যে, আবার কৃষ্ণ হওয়ার জন্য কৃষ্ণের আত্মা আবারও এই জ্ঞান নিচ্ছেন । তোমরাও কংসপুরী থেকে কৃষ্ণপুরীতে যাও । এই কথা বাবা বসে বাচ্চাদের বোঝান ।

বাবা বলেন - মায়া খুবই জবরদস্ত । খুব ভালো ভালো মহারথীদেরও হারিয়ে দেয় । জ্ঞান নিতে নিতে কোথা থেকে গ্রহের দোষ বসে যায় । সকলেরই রাহুর গ্রহণ লেগে আছে । এখন তোমাদের উপর বৃহস্পতির দশা শুরু হয়েছে, আবার চলতে - চলতে কারোর উপর রাহুর গ্রহণ লেগে যায়, তখন বলা হয় মহান বোকা যদি এই দুনিয়ায় দেখতে হয়, তাহলে এখানে দেখো । তোমাদের আত্মা বলে - আমরা বাবার কাছ থেকে সদা সুখের উত্তরাধিকার গ্রহণ করছি । বাবা, তোমার কাছ থেকে পূর্ব কল্পেও এমনই উত্তরাধিকার গ্রহণ করেছিলাম । আমরা আবার এখন বাবার কাছে এসেছি । বাবা বুঝিয়েছেন যে - বাইরে তোমাদের সেন্টারে অনেকেই আসবে বোঝার জন্য । এখানে এ হলো ইন্দ্রসভা । ইন্দ্র হলেন শিব বাবা, যিনি জ্ঞানের বর্ষণ করেন । তাই এমন সভাতে কোনো পতিত আসতে পারে না । সবুজ পরী, পোখরাজ পরী, যে ব্রহ্মাণীরা পাণ্ডা হয়ে আসে, তাদের বলবে, তোমাদের সঙ্গে কোনো বিকারী ব্যক্তিকে আনতে পারবে না । না হলে উভয়েই দায়ী হয়ে যায় । কোনো বিকারীকে সাথে নিয়ে এলে তার উপর অনেক দাগ লেগে যায় । তখন অনেক বেশী সাজা ভোগ করতে হয় পরীদের উপর অনেক দায়িত্ব । বলা হয় - মানস সরোবরে স্নান করলে পরী হয়ে যায় । বাস্তবে এ হলো জ্ঞান মানস সরোবর । বাবা মনুষ্য তনে এসে জ্ঞানের বর্ষণ করান । তিনি তো জ্ঞান সাগর, তাই না । তোমরা নদীও, সরোবরও। জ্ঞান সাগর এনার মধ্যে বসে বাচ্চাদের স্বর্গে যাওয়ার জন্য উপযুক্ত বানান । স্বর্গে থাকে শ্রী লক্ষ্মী - নারায়ণের রাজত্ব । এ হলো প্রবৃত্তি মার্গের এইম অবজেক্ট । তাঁরা বলেন যে, আমরা দুইজন জ্ঞান চিতায় বসে লক্ষ্মী - নারায়ণ হবো । উঁচু পদ তো পেতে হবে, তাই না । অর্ধেক কল্প ধরে আত্মা ছটফট করতে থাকে । বাবা এসো, এসে আমাদের রাজযোগ শিখিয়ে পবিত্র বানাও । বাবা ইঙ্গিত করেন । ভারতবাসী, যারা দেবী - দেবতাকে মানে, তারা অবশ্যই ৮৪ জন্ম ভোগ করেছে । যারা দেবী - দেবতার ভক্ত, তাদের চেষ্টা করে বোঝাও । বাবা কিভাবে এসে ৩ ধর্ম স্থাপন করেন । ব্রহ্মাণ, সূর্যবংশী, চন্দ্রবংশী - এই তিন ধর্ম বাবা স্থাপন করেন । অর্ধেক কল্প আর কোনো ধর্ম স্থাপন হয় না । এরপর বাকি অর্ধেক কল্পে কতো মঠ - পথ, আদি ধর্ম কতো অনেক স্থাপন হয় ।অন্যদিকে ভবিষ্যতের অর্ধেক কল্পের জন্য এক ধর্মের রাজধানী স্থাপন করেন, তাও আবার এই সঙ্গম যুগে। ওরা তো সব পুরানো দুনিয়াতেই নিজের ধর্ম স্থাপন করে । বাবা এখানে অর্ধেক কল্পের জন্য এক ধর্মের স্থাপনা করেন । অন্য কারোর মধ্যে এই শক্তি নেই । বাবা তোমাদের নিজের করে, সূর্যবংশী, চন্দ্রবংশী ঘরানা স্থাপন করে বাকি সবকিছুর বিনাশ করিয়ে দেন । সমস্ত আত্মা শান্তিতে চলে যায় । তোমরা সুখের দুনিয়াতে আসো, সেই সময় কোনো দুঃখ থাকে না যে গডকে স্মরণ করবে । এই জ্ঞানও তোমাদের বুদ্ধিতে আছে । তোমরা জানো যে - বাবা, যিনি জ্ঞানের সাগর, তিনিই এই জ্ঞান দান করছেন । সাগর তো একই । তোমরা নিজেদের সাগর বলবে না । তোমরা তাঁর সাহায্যকারী হও, তাই তোমাদের নাম হলো জ্ঞান গঙ্গা । বাকি ও হলো জলের নদী । বাবা বলেন - তোমরা, আমি সাগরের সন্তানরা কাম চিতায় বসে জ্বলে মরে গেছো অর্থাৎ পতিত হয়ে গেছো । এখন আবার আমাকে স্মরণ করলে তোমরা পবিত্র হতে পারবে । এই সৃষ্টির চক্র হলো পাঁচ হাজার বছরের । এও কেউ জানে না । সৃষ্টির চক্র চার ভাগে আছে । চার যুগ আছে, তাই না । এই সঙ্গম যুগ হলো কল্যাণকারী । কুম্ভ বলা হয় তো । কুম্ভ বলা হয় মেলাকে । নদী এসে সাগরে মিলিত হয় । আত্মা এসে পরমাত্মার সঙ্গে মিলিত হয়, একে কুম্ভ বলা হয় । আত্মা আর পরমাত্মার মেলাও তোমরাই দেখো । তোমরা নিজেদের মধ্যে মিলিত হও, সেমিনার করো, একে কুম্ভ বলা হবে না । সাগর তো নিজের জায়গায় বসে আছে । এই শরীরে আছে, তাই না । এনার তনেই আছে জ্ঞানের সাগর । বাকি তোমরা জ্ঞান গঙ্গারা নিজেদের মধ্যে মিলিত হও । নদী তো ছোটো - বড় হয়ই, তাই না । সেখানে মানুষ স্নান করতে যায় । গঙ্গা, যমুনা, সরস্বতী আদি তো আছেই । দিল্লী হলো যমুনার কণ্ঠে -- স্বর্গ । কৃষ্ণপুরী তো থাকে । দিল্লীর জন্য বলা হয় - যখন লক্ষ্মী - নারায়ণের রাজত্ব ছিলো, তখন এখানে পরীস্থান ছিলো । এমন নয় যে কৃষ্ণের রাজত্ব ছিলো । রাধা - কৃষ্ণ যখন যুগলে থাকবেন তখনই রাজত্ব করতে পারবেন । এখন তোমরা বাচ্চারা কতো খুশীতে আছো । মায়ার ঝড় ঝঞ্ঝা তো অনেকই আসবে । এ হলো অসীম জগতের বক্সিং । প্রত্যেকেরেই পাঁচ বিকারের সঙ্গে যুদ্ধ চলতে থাকে । আমরা চাই যে, বাবাকে নিরন্তর স্মরণ করি কিন্তু মায়া সেই যোগ ছিন্ন করে দেয় । এক খেলাও দেখায় যে - পরমাত্মা নিজের দিকে আকর্ষণ করে আর মায়া নিজের দিকে । এমন এক নাটক বানানো আছে । বায়োস্কোপের ফ্যাশন এখন এসেছে । তোমাদের ড্রামা অনুসারে বায়োস্কোপের উপরই বোঝানোর ছিলো । নাটকে তো পরিবর্তন হয় । এ তো অনাদি - অবিনাশী ড্রামা বানানো আছে । এই ড্রামা বানানো আছ..... তাই অমুকে মারা গেলো, এতটাই তার পার্ট ছিলো, আমরা চিন্তা কেন করবো? এ তো নাটক, তাই না । শরীর ত্যাগ করলে আসতে তো পারেই না । কান্নাকাটি করে কি লাভ? এর নামই হলো দুঃখধাম । সত্যযুগে মোহজিৎ রাজারা থাকে । এর উপর কাহিনীও আছে । সত্যযুগে মোহের কোনো কথা থাকে না । এখানে তো মানুষের কতো মোহ । কারোর যদি কান্না না আসে, তাহলে নিজে কেঁদে তাকে কাঁদিয়ে দেবে । তাহলে মনে করবে যে এর দুঃখ হয়েছে । না হলে তো গ্লানি হয়ে যাবে । ভারতেই এইসব নিয়ম । ভারতেই সুখ আর ভারতেই খুব দুঃখ হয় । ভারতে দেবী - দেবতারা রাজ্য করতেন । বিদেশীরা ভারতের পুরানো চিত্র খুব খুশীর সঙ্গে কেনে । পুরানো জিনিসের অনেক মান । সবথেকে পুরানো শিব তো এখানেই এসেছিলেন, তাঁর কতো পূজা করে । এখন তো শিব বাবা এসেছেন, তোমরা আর পূজা করবে না । তিনি আগেও এসেছিলেন, তাই তাঁর পূজা করা হয় । আচ্ছা ।

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) ড্রামার জ্ঞানকে বুদ্ধিতে রেখে তোমাদের নিশ্চিন্ত থাকতে হবে । কোনো প্রকারের চিন্তা করবে না, কেননা জানো যে, এই ড্রামা বানানো । তোমাদের নির্মোহী হতে হবে ।

২ ) বাবার দ্বারা যখন বৃহস্পতির দশা শুরু হয়েছে, তখন একে রক্ষা করতে হবে, রাহুর গ্রহণ যেন লেগে না যায় । কারোর যদি গ্রহদোষ লাগে, তাহলে তাকে জ্ঞান দানের দ্বারা সমাপ্ত করতে হবে।

বরদান:-
নিজের টেনশনের উপরে অ্যাটেনশন দিয়ে বিশ্বের টেনশন সমাপ্তকারী বিশ্ব কল্যাণকারী ভব

যখন অন্যদের প্রতি অতিরিক্ত অ্যাটেনশন দাও , তখন নিজের ভিতরেই টেনশন তৈরি হয়। তাই বিস্তার করার পরিবর্তে সার স্বরূপে স্থিত হয়ে যাও, কোয়ান্টিটি সংকল্পকে গুটিয়ে কোয়ালিটি সংকল্প করো। প্রথমে নিজের টেনশনের উপর অ্যাটেনশন দাও , তবেই বিশ্বে যে অনেক প্রকারের টেনশন রয়েছে তা সমাপ্ত করে বিশ্ব কল্যাণকারী হতে পারবে। প্রথমে নিজেকে দেখো, নিজের সার্ভিস ফার্স্ট, নিজের সার্ভিস করলে অন্যদেরও সার্ভিস স্বাভাবিকভাবেই হয়ে যাবে।

স্লোগান:-
যোগের অনুভূতি করতে হলে দৃঢ়তার শক্তির দ্বারা মনকে কন্ট্রোল করো।

অব্যক্ত ঈশারা :- জ্বালা স্বরূপ স্থিতিতে থেকে শক্তিশালী স্মরণের অনুভব করো

যত বেশি স্থাপনার নিমিত্ত হয়ে জ্বলা-রূপ হবে ততই বিনাশ- জ্বালা প্রত্যক্ষ হবে। সংগঠন রূপে এই জ্বালা-রূপের স্মরণ বিশ্বের বিনাশ কার্য সম্পন্ন করবে। এর জন্য প্রতিটি সেবাকেন্দ্রে যদি বিশেষ যোগের প্রোগ্রাম চলতে থাকে তাহলে বিনাশের অগ্নি শিখাতে হাওয়া লাগবে। যোগ-অগ্নি দ্বারা বিনাশের অগ্নি জ্বলবে, এক শিখা থেকে অন্য শিখা প্রজ্জ্বলিত হবে।