09.03.2026
প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন
"মিষ্টি বাচ্চারা -
যেমন বাবার পার্ট হলো সবার কল্যাণ করা, তেমনি তোমরাও বাবার মতো কল্যাণকারী হও,
নিজের এবং সবার কল্যাণ করো"
প্রশ্নঃ -
বাচ্চাদের কোন্
একটি বিশেষত্ব দেখে বাপদাদা খুশি হয়ে ওঠেন?
উত্তরঃ
গরিব বাচ্চারা
বাবার যজ্ঞে ৮ আনা, এক টাকা পাঠিয়ে দিয়ে বলে, বাবা এর পরিবর্তে আমাদের মহল দিও। বাবা
বলেন বাচ্চারা, এই একটা টাকাও শিববাবার খাজানায় জমা হয়ে গেছে। ২১ জন্মের জন্য
তোমাদের মহল প্রাপ্ত হবে। সুদামার দৃষ্টান্ত আছে না ! বিনা কড়িতে বাচ্চারা তোমরা
বিশ্বের বাদশাহী পেয়ে থাকো। বাবা বাচ্চাদের এই বিশেষত্ব দেখে খুব খুশি হয়ে ওঠেন।
গীতঃ-
তোমাকে পেয়ে
আমরা সারা জগৎ পেয়ে গেছি...
ওম্ শান্তি ।
মিষ্টি-মিষ্টি
বাচ্চারা বুঝেছে যে আমরা বাবার কাছ থেকে অবিনাশী উত্তরাধিকার গ্রহণ করছি। বাচ্চারা
বলে বাবা তোমার শ্রীমৎ অনুসারে চলে আবারও অসীম জগতের উত্তরাধিকার পেতে চলেছি। নতুন
কোনো বিষয় নয়। বাচ্চারা নলেজ পেয়েছে, জানে যে সুখধামের উত্তরাধিকার আমরা কল্পে-কল্পে
পেয়ে থাকি। কল্পে-কল্পে ৮৪ জন্ম নিতে হয়। আগের মতোই আমরা অসীম জগতের পিতার কাছ থেকে
২১ জন্মের জন্য উত্তরাধিকার পেয়ে থাকি তারপর ধীরে-ধীরে হারাতে থাকি। বাবা বুঝিয়েছেন
এই অনাদি ড্রামা আগে থেকেই তৈরী করা খেলা। তোমরা জান ড্রামায় অনন্ত সুখ। শেষে গিয়ে
রাবণ দ্বারা তোমরা দুঃখ পেয়ে থাকো। এখন তোমরা সংখ্যায় অল্প, এগিয়ে যেতে-যেতে বৃদ্ধি
পেতেই থাকবে। তোমরা মানুষ থেকে দেবতা হয়ে ওঠো। অন্তর্মনে অবশ্যই অনুভব হবে যে আমরা
কল্পে-কল্পে বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার পেয়ে থাকি। যারাই এসে এই নলেজ গ্রহণ করবে
তারা বুঝবে যে জ্ঞানের সাগর বাবা দ্বারা সৃষ্টির আদি-মধ্য-অন্তের নলেজ পেয়েছি। বাবা
জ্ঞানের সাগর, পতিতদের পবিত্র করেন অর্থাত্ মুক্তি-জীবনমুক্তিতে নিয়ে যান। এসব বিষয়ে
তোমরা এখনই জানতে পার। গুরু তো অনেকেই করেছে না ! শেষ পর্যন্ত গুরুদের ছেড়েও এই
নলেজ গ্রহণ করবে। তোমরাও এই নলেজ এখন পেয়েছে। তোমরা জান এর আগে অজ্ঞান (অন্ধকারে)
ছিলাম। সৃষ্টি চক্র কিভাবে ঘোরে, শিববাবা, ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শঙ্কর কে এসব কিছুই
জানতাম না। এখন জেনেছি আমরাই বিশ্বের মালিক ছিলাম। সুতরাং তোমাদের বুদ্ধিতে উচ্চ
নেশা (ঈশ্বরীয়) থাকা উচিত। বাবাকে আর সৃষ্টি চক্রকে স্মরণ করা উচিত। অল্ফ আর বে (ঈশ্বর
এবং বাদশাহী)। বাবা জানেন তোমরা কিছুই জানতে না, না বাবাকে, না রচনাকে জানতে।
সম্পূর্ণ সৃষ্টির মানুষ মাত্রই না বাবাকে, না রচনার আদি মধ্য-অন্তকে জানে। এখন তোমরা
শূদ্র থেকে ব্রাহ্মণ হয়েছো। বাবা তাঁর বাচ্চাদের সাথে কথা বলছেন। অসংখ্য বাচ্চা,
বাবার সেন্টারও অনেক । এখন তো আরও অনেক সেন্টার খুলবে। সুতরাং বাবা জানেন তোমরা
কিছুই জানতে না, এখন নম্বরানুসারে পুরুষার্থ অনুযায়ী জানতে পেরেছ। এও জানো আমরা এখন
বাবা দ্বারা পতিত থেকে পাবন হচ্ছি। বাকিরা তো ডেকেই চলেছে । তোমরা হলে গুপ্ত। ওরা
ব্রহ্মাকুমার-কুমারী বলে কিন্তু অর্থ কিছুই জানে না যে কে এদের শিক্ষা প্রদান করেন?
শাস্ত্রেও কোথাও লেখা নেই। গীতার ভগবান শিব এসে বাচ্চাদের রাজযোগ শেখান । এ বিষয়ে
তোমাদের বুদ্ধিতে তো আছে তাইনা। গীতাও তোমরা অবশ্যই পড়েছ । এটাও তোমরা বুঝেছো যে,
জ্ঞান মার্গ সম্পূর্ণ আলাদা। শাস্ত্র ইত্যাদি পড়ে বিদ্বৎ মন্ডলী থেকে যে টাইটেল
প্রাপ্ত করে থাকে সেসবই হলো ভক্তি মার্গের। এই ঈশ্বরীয় নলেজ ওদের মধ্যে নেই। বাবা
এসেই রচনার আদি মধ্য-অন্তের নলেজ প্রদান করেন। বাবাই এসে তোমাদের বুদ্ধির তালা খুলে
দেন।
তোমরা জানো আমরা কি
ছিলাম, এখন কি হয়েছি। বুদ্ধিতে সম্পূর্ণ চক্র এসে গেছে। শুরুতে কিছুই জানতে না।
প্রতিদিন একটু একটু করে জ্ঞানের তৃতীয় নেত্র খুলতে থাকে। এটাও কেউ জানেনা যে ভগবান
কখন এসেছিলেন তিনি কে - যিনি এসে গীতা জ্ঞান শুনিয়েছিলেন। তোমরা বাচ্চারা এখন জেনেছ।
বুদ্ধিতে সম্পূর্ণ চক্রের জ্ঞান আছে। পরাজয়ের সময় কিভাবে তোমরা পাপের পথে এগিয়ে যাও
এবং কিভাবে সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসো, চিত্রের প্রত্যেকটি বিষয়কে স্পষ্টরূপে ব্যাখ্যা করা
হয়েছে। ৮৪ জন্মের সিঁড়ি। কিভাবে নেমে আস আবার অবতরণ কর,পতিত-পাবন কে? কে তোমাদের
পতিত বানিয়েছে? এসবই এখন তোমরা জেনেছ। ওরা তো গাইতেই থাকে - পতিত-পাবন, জানেই না
রাবণ রাজ্য কবে থেকে শুরু হয়? কবে থেকে পতিত হওয়া শুরু হয়? এই নলেজ হলো আদি সনাতন
দেবী-দেবতা ধর্মাবলম্বীদের জন্য। বাবা বলেন - আমিই আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্মের
স্থাপনা করেছিলাম। ওয়ার্ল্ডের এই হিস্ট্রি-জিয়োগ্রাফী বাবা ছাড়া আর কেউ বোঝাতে পারবে
না। তোমাদের কাছে এটা যেন কাহিনী । তোমরা জানো আমরা এখন হিস্ট্রি জিওগ্রাফি পড়ছি,
কীভাবে আমরা রাজ্য প্রাপ্ত করি এবং পুনরায় হারিয়ে ফেলি। এ হলো অলৌকিক বিষয়। আমরা ৮৪
চক্র কিভাবে ঘুরেছি, বিশ্বের মালিক ছিলাম আমরা তারপর রাবণ তা ছিনিয়ে নিয়েছে। এই
নলেজ বাবাই এসে দিয়ে থাকেন। মানুষ দশহরা ইত্যাদি কত উত্সব পালন করে থাকে কিন্তু কোনো
জ্ঞান নেই। যেমন তোমাদেরও এই নলেজ ছিল না, এখন তোমরা নলেজ পেয়েছ এবং খুশি অনুভব করছ।
নলেজ খুশি দিয়ে থাকে। অলৌকিক ঈশ্বরীয় জ্ঞান খুশি প্রদান করে। বাবা এসে তোমাদের ঝুলি
পরিপূর্ণ করে দিচ্ছেন। বলা হয় না - ঝুলি ভরে দাও। কাকে বলা হয়? সাধু সন্ন্যাসীদের
বলা হয় না। ভোলানাথ শিবকে বলে, তাঁর কাছেই ভিক্ষা প্রার্থনা করে। তোমাদের তো খুশির
কোনও কিনারা নেই। তোমাদের অতীব খুশি হওয়া উচিত। বুদ্ধিতে কত নলেজ ধারণ হয়ে গেছে।
অসীম জগতের পিতার কাছ থেকে অবিনাশী উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করছো। সুতরাং এখন নিজের এবং
অন্যদেরও কল্যাণ করতে হবে। আগে তো একে অপরের অকল্যাণই করতে, কেননা আসুরি মত ছিল।
এখন তোমরা শ্রীমৎ অনুসারে চলো সুতরাং নিজেরও কল্যাণ করতে হবে।
তোমাদেরও ইচ্ছে হয় এই
অলৌকিক ঈশ্বরীয় পড়াশোনা যেন সবাই করে, সেন্টার খোলে। বাচ্চারা বলে বাবা প্রদর্শনী
দাও, প্রজেক্টর দাও আমরা সেন্টার খুলবো। আমরা যে নলেজ পেয়েছি, যার মধ্যে অনন্ত
খুশির পারদ বৃদ্ধি পেতেই থাকে তা অন্যদেরও অনুভব করাব। ড্রামা অনুসারে পুরুষার্থ
চলতেই থাকবে। বাবা এসেছেন পুনরায় ভারতকে স্বর্গ করে তুলতে। তোমরা জান প্রথমে আমরা
নরকবাসী ছিলাম, এখন স্বর্গবাসী হতে চলেছি। এই চক্র তোমাদের বুদ্ধিতে সবসময় ঘোরা
উচিত, যাতে খুশিতে থাক। অন্যদের বোঝানোর জন্যও যেন নেশা (আগ্রহ) থাকে। আমরা বাবার
কাছ থেকে নলেজ গ্রহণ করছি। অন্যান্য ভাই-বোন যারা জানেনা তাদেরও পথ বলে দেওয়া
তোমাদের ধর্ম। যেমন বাবার পার্ট হলো সবার কল্যাণ করা, তেমনি আমাদের পার্ট হলো সকলের
কল্যাণকারী হয়ে ওঠা। বাবা আমাদের কল্যাণকারী বানিয়েছেন সুতরাং নিজের কল্যাণও করতে
হবে অন্যদেরও করতে হবে । বাবা বলেন তোমরা অমুক সেন্টারে যাও, গিয়ে সার্ভিস কর। এক
জায়গায় বসেই শুধু সার্ভিস ক'রো না । যে যত বিচক্ষণ হবে তার ইচ্ছা ততই জাগ্রত হবে যে
সার্ভিস করবো, অমুকে নতুন সেন্টার খুলেছে। এটা তো জানে কে কে সার্ভিসেবল, কারা
আজ্ঞাকারী, বিশ্বাসযোগ্য । অজ্ঞানকালেও একজন পিতা তার অযোগ্য সন্তানদের প্রতি
অসন্তুষ্ট হন। অসীম জগতের পিতা বলেন, আমি খুব সহজভাবে বুঝিয়ে বলি, এতে ভয় পাওয়ার
কিছু নেই। যে করবে সে পুরস্কার পাবে। অভিশাপ দেওয়া অসন্তুষ্ট হওয়ার কোনও প্রশ্নই আসে
না। বাবা বলছেন - কেন তোমরা ভালোভাবে সেবা করবে না, কেন নিজের এবং অন্যদের উপকার
করবে না? যত অন্যদের উপকার করবে বাবা ততই তোমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হবেন। বাবা দেখবেন
বাগানের এই ফুল কত সুন্দর! এ সব হল ফুলের বাগান। বাগান দেখার জন্য বাচ্চারা বলে,
বাবা আমি একটা সেন্টারে যাব, তারা কী ধরণের ফুল এবং কিভাবে পরিষেবা দিয়ে থাকে দেখব,
গেলেই তা জানা যাবে। খুশিতে কিভাবে নৃত্য করে । ঘুরে এসে বাবাকে বলে - বাবা অমুককে
বুঝিয়েছি । আজ আমার স্বামী, ভাইকে নিয়ে এসেছি, ওদের বুঝিয়েছি যে বাবা এসেছেন, তিনি
কেমন হীরেতুল্য জীবন তৈরি করে দিচ্ছেন । তাদের শুনে মনে হয়েছে আমরাও গিয়ে দেখি।
সুতরাং বাচ্চাদের মধ্যে যখন উত্সাহ জাগে, তখন তারা অন্যদেরও নিয়ে আসে। ওয়ার্ল্ডের
হিস্ট্রি-জিয়োগ্রাফীকে জানা উচিত। তোমরা ভেবে দেখো ভারত সম্পূর্ণ বিশ্বের মালিক ছিল,
এখন তার কি অবস্থা। সত্যযুগ-ত্রেতায় কত সুখ ছিল। এখন বাবা আবারও ভারতকে বিশ্বের
মালিক বানাতে চলেছেন। তোমরা এটাও জান দুনিয়াতে অনেক হাঙ্গামা হতে চলেছে। লড়াই কখনও
বন্ধ হয়না। কোথাও না কোথাও লেগেই থাকে। যেদিকে দেখ সেখানেই ঝগড়া। সর্বত্র তোলপাড় হয়ে
চলেছে। বিদেশেও কত কি হয়ে চলেছে। বোঝেই না যে আমরা কি করছি ! প্রচন্ড তুফানেও কত
মানুষ মারা যায়। এই দুনিয়া কত দুঃখী । তোমরা বাচ্চারা জানো এই দুঃখের দুনিয়া থেকে
এবার যেতে চলেছি। বাবা তোমাদের ধৈর্য ধরতে শিখিয়েছেন। এই দুনিয়া ছিঃ ছিঃ হয়ে গেছে।
অল্প কিছু সময় পরেই আমরা বিশ্বে শান্তিপূর্ণভাবে রাজ্য করবো। এতে তো খুশি হওয়া উচিত
না ! সেন্টার খোলা হচ্ছে। যখন নতুন সেন্টার খোলা হয়, বাবা বলেন সেখানে যেতে। বাবা
তাদের নামও লেখেন যারা তাঁর অন্তরে বাস করে। অনেকের কল্যাণ হয়। অনেকেই এমন লেখে -
বাবা আমরা তো বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আছি। যদি সেন্টার খোলা হয় তবে অনেকেই এসে
উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করবে। তোমরা জান সবই বিনাশ হয়ে যাবে তবে কেননা অনেকের
কল্যাণার্থে অর্থকে কাজে লাগাই।
ড্রামাতেও ওদের এমনই
পার্ট নিহিত রয়েছে। প্রত্যেকেই নিজের নিজের পার্ট প্লে করে চলেছে। ওদের দেখে করুণা
হয়। অন্যদেরও বন্ধন মুক্ত করতে কিছু তো সহযোগ দিই। ওরাও অবিনাশী উত্তরাধিকার পাবে।
বাবাও তাই উদ্বিগ্ন কারণ সবাই কামচিতায় জ্বলে মরে আছে। সম্পূর্ণ দুনিয়া কবর খানায়
পরিণত হয়েছে । বলাও হয়ে থাকে - আল্লাহ্ কবরস্থান থেকে জাগিয়ে সবাইকে নিয়ে যায়। এখন
বুঝতে পারে রাবণ কিভাবে পরাজিত করেছে। প্রথমে কিছুই জানত না। আমি একজন কোটিপতি
রত্নাকর এবং এতগুলো বাচ্চা। এসব নেশা তো ছিলই না। এখন বুঝেছে আমি (ব্রহ্মা বাবা)
সম্পূর্ণ পতিত ছিলাম। পুরানো দুনিয়াতে যতই লক্ষপতি, কোটিপতি হোক না কেন এসবই
কড়িতুল্য। মায়াও ভীষণ প্রবল । বাবা বলেন বাচ্চারা সেন্টার খোলো, অনেকের কল্যাণ হবে।
যারা গরিব তারা দ্রুত জেগে ওঠে, ধনবানরা খুব কমই জেগে ওঠে। ওরা নিজের খুশিতেই মত্ত
থাকে। মায়া সম্পূর্ণ রূপে নিজ বশীভূত করে নেয়। বোঝালে বোঝে কিন্তু কিভাবে ছাড়বে? ওরা
ভয় পায় এইভেবে যে এদের মতো সবকিছু ছাড়তে হবে। ভাগ্যে না থাকলে চালিয়ে যেতে পারে না।
সুতরাং তাদের পক্ষে এ থেকে মুক্ত হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। সময় মতো তারা হতাশাগ্রস্ত হয়ে
বুঝবে এটা প্রকৃতপক্ষেই ছিঃছিঃ দুনিয়া। তারপর যেই কে সেই অবস্থাতেই রয়ে যায়। কোটির
মধ্যে মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ আসবে। কয়েকশো মানুষ বম্বেতে আসে তাদের মধ্যে কারো কারো
ঈশ্বরীয় রঙ লেগে যায়। মনে করে ভবিষ্যতের জন্য কিছু করে নিই। কড়ির পরিবর্তে হীরে
প্রাপ্ত করতে পারব। বাবা বলেন - ব্যাগ এন্ড ব্যাগেজ সব স্বর্গে ট্রান্সফার করো ।
ওখানে ২১ জন্মের জন্য তোমরা রাজ্য পাবে। কেউ-কেউ ১ টাকা, ৮ আনাও পাঠিয়ে দেয়। বাবা
বলেন এই একটা টাকাও তোমাদের শিববাবার খাজানাতে জমা হয়। তোমাদের ২১ জন্মের জন্য মহল
প্রাপ্ত হবে । সুদামার দৃষ্টান্ত স্বরূপ। এমন সব বাচ্চাদের দেখে বাবাও খুশি হন। বিনা
খরচাতেই বাচ্চারা তোমরা বিশ্বের বাদশাহী পেয়ে থাকো। লড়াই ইত্যাদি কিছুই নেই। ওরাতো
একটা টুকরোর জন্যও কত লড়াই করে। তোমাদের শুধু "মন্মনাভব"। এখানে বসে থাকার দরকার
নেই, চলতে ফিরতে বাবাকে আর উত্তরাধিকারকে স্মরণ কর। খুশিতে থাক। পানীয়-ভোজনেও
শুদ্ধতা রাখতে হবে। তোমরা জান আমার আত্মা কতটুকু পবিত্র হয়েছে, যে পরে প্রিন্স রূপে
জন্ম গ্রহণ করবে। দুনিয়ার অবস্থা সম্পূর্ণরূপে খারাপ হতে চলেছে। খাওয়ার জন্য আনাজ
পাওয়া যাবে না। ঘাস খেতে হবে। তারপর এমন তো বলবে না যে মাখন ছাড়া চলে না। কিছুই
পাওয়া যাবে না। এখনও মানুষ কত জায়গায় ঘাস খেয়ে দিন কাটায়। তোমরা তো আনন্দের সাথে
বাবার ঘরে বসে আছ। ঘরে তো বাবাই প্রথমে বাচ্চাদের খাওয়ায়, তাইনা। দিনকাল খুব খারাপ।
তোমরা এখানে খুশির সাথে বসে আছ। শুধু বাবা আর তার উত্তরাধিকারকে স্মরণ কর। নিজের এবং
অন্যদেরও কল্যাণ করতে হবে। আরও অনেকেই পরে আসবে, ভাগ্য জাগাতে। জাগতে তো হবেই তাইনা।
অসীম জগতের রাজধানী স্থাপন হতে চলেছে। প্রত্যেকেই কল্প পূর্বের মতো পুরুষার্থ করছে।
বাচ্চাদের অতিব খুশিতে থাকা উচিত। বাপদাদার চিত্র দেখলেই খুশিতে রোমাঞ্চিত হওয়া
উচিত। এই খুশির পারদ স্থায়ী হওয়া উচিত। আচ্ছা!
মিষ্টি-মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত।
আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।
ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ )
সবসময় অপার খুশিতে থাকার জন্য অলৌকিক নলেজকে বুদ্ধিতে রাখতে হবে । জ্ঞান রত্ন দ্বারা
নিজের ঝুলি পরিপূর্ণ করে নিজের এবং সবার কল্যাণ করতে হবে। নলেজে বিচক্ষণ হতে হবে।
২ ) ভবিষ্যতে ২১
জন্মের জন্য রাজ্য ভাগ্য অধিগ্রহণ করার জন্য নিজের ব্যাগ আর ব্যাগেজ সব ট্রান্সফার
করে দিতে হবে। এই ছিঃ ছিঃ দুনিয়া থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য যুক্তি রচনা করতে হবে।
বরদান:-
এক
বাবার লভ-এ লভলীন থেকে সদা চড়তি কলার অনুভবকারী সফলতামূর্তি ভব
সেবাতে বা নিজের চড়তি
কলাতে সফলতার মুখ্য আধার হলো - এক বাবার সাথে অটুট ভালোবাসা। বাবাকে ছাড়া আর কিছু
দেখবে না। সংকল্পেও বাবা, বাণীতেও বাবা, কর্মেও বাবার সাথ। এইরকম লভলীন আত্মা একটা
শব্দও যদি বলে, তো তার স্নেহের বাণী অন্য আত্মাদেরকেও স্নেহতে বেঁধে দেয়। এইরকম
লভলীন আত্মার এক বাবা শব্দই জাদুর মতো কাজ করে। তারা আত্মিক জাদুকর হয়ে যায়।
স্লোগান:-
যোগী
তু আত্মা হলো তারা যারা অন্তর্মুখী হয়ে লাইট মাইট রূপে স্থিত থাকে।
অব্যক্ত ঈশারা :-
“নিশ্চয়ের ফাউন্ডেশনকে মজবুত করে সদা নির্ভয় আর নিশ্চিন্ত থাকো”
তোমাদের যাকিছু ডিউটি
প্রাপ্ত হয়েছে, তাতে সদা অ্যাক্যুরেট থাকো, তােমাদেরকে সবাই সৎ বা ফেইথফুলের নজরে
দেখবে। এখানেও যারা অ্যাক্যুরেট সেবা করে তারাই হলো বাবার ফেইথফুল বাচ্চা। এক হল,
বাবার উপর সম্পূর্ণ ফেইথ, আর এক হল বাবার সাথে সেবাতেও ফেইথফুল। এইরকম ফেইথফুল
নিশ্চয়বুদ্ধি বাচ্চারা সদা বিজয়ী আর নিশ্চিন্ত থাকে।