10.07.2026
প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন
“মিষ্টি বাচ্চারা -
বাচ্চারা, বাবা এসেছেন অবিনাশী জ্ঞান রত্ন দিয়ে তোমাদের বুদ্ধি রূপী ঝুলি ভরপুর করে
দিতে, এই এক-একটি জ্ঞান রত্ন লক্ষ টাকার সমান”
প্রশ্নঃ -
গুপ্তদানের এত
অধিক মহত্ত্ব কেন?
উত্তরঃ
কেননা বাবা
তোমাদেরকে এখন গুপ্ত জ্ঞান রত্নের দান দিচ্ছেন, এটা দুনিয়া জানে না, তারপর বাচ্চারা
তোমরা এই জ্ঞান রত্নের দান করে বিশ্বের রাজত্ব গ্রহণ করো। এটাও তো গুপ্ত, না কোনো
লড়াই, না কোন বারুদ ইত্যাদি, না কোনো খরচাদি হয়। গুপ্ত রীতিতে বাবা তোমাদেরকে
রাজত্ব দান করছেন, সেইজন্য গুপ্তদানের অনেক মহত্ত্ব ।
ওম্ শান্তি ।
এক শিব বাবা
বলছেন, এক ব্রহ্মা দাদা বলছেন। দু'জনের স্বধর্মই হলো শান্ত। দু' জনেই শান্তিধামে
থাকেন। নিরাকার দেশের অধিবাসী এসেছেন সাকারী দেশেতে পার্ট প্লে করতে, কেননা এইটাই
তো ড্রামা, তাই না। বাচ্চাদের বুদ্ধিতে ড্রামার আদি মধ্য অন্তের জ্ঞান ভরা আছে উপর
থেকে নীচ অবধি। উচ্চ থেকে উচ্চতর হলেন ভগবান, তার সাথে বাচ্চারা। এই কথাকে ভালোভাবে
বোঝো তোমাদের ছাড়া এই জ্ঞান কারোর মধ্যে নেই। তোমরা পড়াশোনা করছো ঈশ্বরের স্কুলে।
ভগবানুবাচ, ভগবান তো একজনই। কোনো ১০-২০জন ভগবান নেই। বাকি যে সব ধর্ম আছে, তাদের
মধ্যেও যে সব আত্মারা আছে, সকলেরই বাবা একটাই। পুনরায় বাবা সৃষ্টি রচনা করেন, তাই
বলা হয় প্রজাপিতা ব্রহ্মা। শিবকে প্রজাপিতা বলা হয় না। প্রজা তো জন্ম মরণে আসে।
আত্মা সংস্কারের আধারে জন্ম মরণে আসে। পুনরায় চাই প্রজাপিতা ব্রহ্মা। গাওয়া হয় -
পরমপিতা পরমাত্মা প্রজাপিতা ব্রহ্মার দ্বারা রচয়িত করেন। তাকে ডাকা হয় - পতিত-পাবন
এসো। যখন দুনিয়া পতিত হয়ে যায় আর তার অন্তিম সময় এসে যায়, তখনই বাবা আসেন পতিত
থেকে পাবন বানাতে। এখন তোমরা জেনে গেছো যে, বাবা আসেনই একবার, আর অন্য কোনও সময়ে
আসেন না। এখন তোমাদের সমস্ত জ্ঞান প্রাপ্ত হয়েছে। তোমরা হলে ড্রামার অভিনেতা, তাইনা।
ড্রামার অভিনেতাদের সকলের অভিনয়ের বিষয়ে অবশ্যই জানা উচিত যে কি কি পার্ট আছে। সেটা
হলো ছোট লৌকিকের পার্ট (ড্রামা)। সেসব তো সকলেরই জানা আছে। তোমরাও দেখে আসছো। চাইলে
লিখতেও পারো, স্মরণ করতে পারো। ছোট আকারের হয়। এটা তো হলো অনেক বড় অসীম জগতের
ড্রামা, যাকে তোমরা সত্য যুগ থেকে শুরু করে কলিযুগের অন্ত পর্যন্ত জানো। বাচ্চারা
এখন তোমরা জেনে গেছ যে আমাদের অসীম জগতের বাবার থেকে অসীম জগতের উত্তরাধিকার
প্রাপ্ত হচ্ছে। পুনরায় লৌকিক জগতের বাবার থেকে লৌকিক উত্তরাধিকার, স্থুল সম্পত্তি
প্রাপ্ত হয়। বাবা বুঝিয়েছিলেন যে, যারা রাজা হয় তারা পূর্ব জন্মে দান-পূণ্য
ইত্যাদি করার কারণে একজন্মের জন্য রাজা হয়। এমন নয় যে তারা পরবর্তী জন্মেও রাজা
হবে! তোমরাই, যারা সত্য যুগের রাজা মহারাজা ছিলে। এইরকম ভেবোনা যে তোমাদের রাজত্ব
কোথাও লুপ্ত হয়ে যায়। পুনরায় যখন ভক্তিমার্গ শুরু হয় তখনও তারা অধিক দান-পূন্য
করতে থাকে, তখন তারাও রাজ গদিতে বসে। কিন্তু তারা হয়ে যায় বিকারী রাজা। তোমরাই
যারা পূজ্য ছিলে, তোমরাই পুনরায় পূজারী হয়ে যাও। সেটা হল অল্পকালের সুখ। দুঃখ তাে
কেবল এখন হয়। এখন তমোপ্রধানের মধ্যেও তোমাদের সুখ আছে, কোনো লড়াই-ঝগড়া ইত্যাদির
কথা নেই। এসব তো শেষের দিকে হয়, যখন আনুমানিক লক্ষ সংখ্যক হয়ে যায়, তখন লড়াই
ইত্যাদি শুরু হয়ে যায়। বাচ্চারা তোমাদের তো সত্যযুগ, ত্রেতা, দ্বাপরেও সুখ থাকে।
যখন তমোপ্রধান শুরু হয়, তখন অল্প একটু দুঃখ হয়। এখন তো হলোই তমোপ্রধান। বাবা
বোঝাচ্ছেন যে এটা হলই তমোপ্রধান দুনিয়া। তোমরা জানো যে এটা হল অসীম জগতের ড্রামা,
এর থেকে কেউই মুক্তি পেতে পারে না। মানুষ যখন দুঃখে জর্জরিত হয়ে যায়, তখন বলে
ভগবান এই রকম খেলা কেন রচনা করেছেন? যদি ভগবান নাই রচনা করেন তাহলে দুনিয়াই হতো
না। কিছুই থাকতো না। রচয়িতা আর রচনা তো আছে তাই না। তার বিস্তারও আছে। সত্য যুগ
থেকে শুরু করে কলিযুগের অন্ত পর্যন্ত আর অল্প কিছুদিনই বাকি আছে। তোমরাও
প্র্যাকটিক্যাল ভাবে দেখবে। প্রথম থেকেই তো দেখাবো না। ৫ হাজার বছরের আর অল্প একটু
চক্র বাকি আছে। সেটা এখন অল্পকিছু দেখাব, যখন হবে তখন সেটাও সাক্ষী হয়ে দেখবে। যেটা
হওয়ার থাকবে, সেটা কল্প পূর্বের ন্যায় হবে। এটা তো দেখতেই থাকবে, প্রস্তুতি পর্ব
চলছে। বিনাশ তো অবশ্যই হবে। সবকিছুরই প্রস্তুতি চলছে। ড্রামাতে সেসব পূর্ব থেকেই
নির্দিষ্ট করা আছে। বিনাশ অবশ্যই হবে। এখন বাচ্চারা তোমাদেরকে বাবা বোঝাচ্ছেন -
তোমাদের আত্মা যা তমোপ্রধান হয়ে গেছে তাকেও এখানে সতোপ্রধান বানাতে হবে। এটা তোমরা
এখন বুঝতে পারছো।
বাবা গুপ্তভাবে আসেন,
গুপ্ত ভাবেই তোমাদেরকে জ্ঞান প্রদান করেন। দুনিয়াতে তা কেউই জানেনা। গুপ্ত রীতিতে
তোমরা বিশ্বের রাজ্য নিয়ে নাও, কোনও আওয়াজ হয় না। একদমই গুপ্ত দান বলা যায় তাই
না। বাবা এসে বাচ্চাদেরকে অবিনাশী জ্ঞান রত্নের গুপ্ত দান দিচ্ছেন। বাবাও কত গুপ্ত,
কেউই জানে না। এই সব বলা যায়, ব্রহ্মাকুমার কুমারী কি করে, কিছুই বোঝেনা। বাচ্চারা
তোমরা জানো যে বাবা কত গুপ্ত থাকেন। বাচ্চারা তোমাদেরকে গুপ্ত বিশ্বের মালিক
বানাচ্ছেন। না কোনো লড়াই, না কোনো বারুদ, না কোনো খরচা। এখানে তো একটা ছোট গ্রাম
নিতেই কতই না ঝগড়া মারামারি শুরু হয়ে যায়। তাই বাবা এসে গুপ্তদান দিচ্ছেন।
অবিনাশী জ্ঞান রত্ন দিয়ে তোমাদের ঝুলি ভরপুর করে দিচ্ছেন। তারা বলে যে -ভরে দাও
ঝুলি, শিব ভোলা ভান্ডারী।
তোমরা জানো যে শিব
বাবা আমাদের অবিনাশী জ্ঞান রত্ন দিয়ে ঝুলি ভরে দিচ্ছেন। তাই এক-এক রত্ন লক্ষ টাকার
সমান। তোমরা কত রত্ন দিচ্ছো। তারপর তোমরা কত দানী হয়ে যাও! সেটাও হল গুপ্ত।
দেবতাদেরকে কতইনা অস্ত্র, হাত ইত্যাদি দিয়ে দিয়েছে। বাস্তবে এসব কিছুই নেই।
সত্যযুগে দেবতাদের এত হাত ইত্যাদি তো হয়না কলিযুগে কতই না অনেক প্রকারের হাতিয়ার
দিয়ে দিয়েছে। বিনাশের জন্য বম্বও আছে আবার তলোয়ার, বাণ ইত্যাদি কি করবে। তোমরা
বলো জ্ঞানের তলোয়ার জ্ঞানের খর্গ, তো তারা অস্ত্র ভেবে নিয়েছে। এসব কিছুই নয়।
তোমাদের তো গুপ্তদান প্রাপ্ত হয়। তারপর তোমরা সবাইকে গুপ্তদান দিয়ে থাকো। তোমরা
জানো যে বাবা আমাদেরকে শ্রীমৎ প্রদান করছেন। শ্রীমৎ হলই ভগবানের। তোমরা জানো যে আমরা
আসি নর থেকে নারায়ণ হতে, তাঁকে সর্ব্বগুণসম্পন্ন ষোল কলা সপূর্ণ দৈবী গুণধারী বলা
যায়। দৈবীগুণ কেবল সেই দেবী-দেবতাদের মধ্যেই হয়, তারপর কলা কম হতে থাকে। যেরকম
সম্পূর্ণ চন্দ্রমার জ্যোৎস্না দেখতে ভালো লাগে, তারপর আস্তে আস্তে কম হয়ে যায়। কম
হতে হতে একদমই পাতলা ফালির মত বেঁচে থাকে। সব একবারে বিলীন হয়ে যায় না। রেখার মতো
অবশ্যই থাকে, যাকে অমাবস্যা বলা হয়। এখন তোমাদের হলো অসীম জগতের কথা। তোমরা ষোলোকলা
সম্পূর্ণ তৈরি হচ্ছো। দেখানো হয়েছে কৃষ্ণের মুখে তাঁর মাতা চন্দ্রমা দেখেছেন। এসব
হলো সাক্ষাৎকারের কথা। সেসব কথা এখন বাবা বসে বোঝাচ্ছেন। এখন তোমাদেরকে সম্পূর্ণ হতে
হবে। মায়ার সম্পূর্ণ গ্রহণ লেগে আছে। বাকি গিয়ে রেখার মতো অবশিষ্ট থাকবে। সিঁড়ি
দিয়ে নামতে থেকেছ। সবাইকেই সিঁড়ি দিয়ে নামতে হবে তবেই তো সবাই পুনরায় বাড়ি যেতে
পারবে। তোমরা তো এখন অল্প সংখ্যক আছো। ধীরে ধীরে বৃদ্ধি হবে। পড়াশোনাতে অধিক
সংখ্যক পাস হয় না। তোমাদের সেন্টারও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে থাকবে। সময় নিকটে আসতে
থাকবে তারপর বুঝবে এদের মধ্যে কি আছে? দিন প্রতিদিন বৃদ্ধি পেতে থাকবে। এখন বলে দেয়
যে, আমি ভেবেছিলাম এসব কতদিন আর চলবে, অচীরেই শেষ হয়ে যাবে। শুরুতেই এই ভয়ে
অনেকেই পালিয়ে গেছে। জানিনা কি হবে। না এখানে, না ওখানের হয়ে থাকবে। এর থেকে তো
পালাও। পালিয়ে যায় আবার তাদের মধ্যে থেকেই আসতে থাকে। বাবা কত সহজ রীতিতে বসে
বোঝাচ্ছেন। এই অবলা অহিল্যাদের কোনও কষ্ট দেন না। এনাদেরও তো উদ্ধার হতে হবে। বলে
যে, বাবা আমরা তো কিছু পড়ালেখা জানিনা। বাবা বলেন - যদি না কিছু পড়ে থাকো তাহলে তো
খুবই ভালো। শাস্ত্র ইত্যাদি যা কিছু পড়েছ সেই সব ভুলে যাও। আমি অধিক কিছু পড়াই
না। শুধুমাত্র বলি - আমাকে স্মরণ করো তাহলে বাদশাহী তোমাদের। ব্যস্, তোমাদের তরী
পার হয়ে যাবে। বাচ্চা জন্ম নেয় আর বলে বাবা। ব্যাস্, বাবার সম্পত্তির অধিকারী হয়ে
যায়। এখানেও তোমরা অধিকারী হয়ে যাও। বাপ-দাদাকে স্মরণ করো আর রাজধানী তোমাদের, এই
জন্য গাওয়া হয়ে থাকে - সেকেন্ডে জীবনমুক্তি । ধনী ব্যক্তিদের শেষদিকে পার্ট আছে।
প্রথমদিকে গরিবদের সুযোগ থাকে। তোমাদের কাছে আপনা হতেই আসবে। যারা দলিত তাদেরও
উদ্ধার হতে হবে। ভীলনীরও গায়ন আছে। বলা হয় রাম ভীলনীর এঁটো খাবার খেয়েছিলেন।
বাস্তবে রামও নয়, শিব বাবাও নয় । হ্যাঁ হতে পারে এই ব্রহ্মাকে খেতে হয়েছে। ভীলনী
ইত্যাদি আসবে। মনে করো টোলি ইত্যাদি নিয়ে আসলো, তো তাদের সৎকার কিভাবে করবে। ভীলনী,
গণিকা ইত্যাদিরা খাবার নিয়ে আসবে তো তুমিও খাবে। শিব বাবা বলেন যে আমি তো খাই না,
আমি তো হলাম অভোক্তা। তোমাদের কাছেই সবাই আসবে। সরকারও সাহায্য করবে যে এদেরকে
জাগাও। তোমাদেরও অটোমেটিক্যালি প্রেরণা হবে। বাবা হলেন গরীব নেওয়াজ, তাই আমরাও
গরিবদেরকে বোঝাবো। ভীলনীদের মধ্যে থেকেও বেরিয়ে আসবে। এত বড় বৃক্ষের ঝাড়, এরমধ্যে
একজনও দেবী-দেবতা ধর্মের নেই, অন্যান্য ধর্মে রূপান্তরিত হয়ে গেছে। এখন বাবা বলেন
যে, যারা ভক্তি করে, তাদেরকে বোঝাও। তোমরা দেখছো যে চারা গাছ রোপন কিভাবে হয়।
ব্রাহ্মণ কিভাবে হয়। যারা সূর্যবংশী চন্দ্রবংশী দেবতা তৈরি হওয়ার হবে তারা আসতে
থাকবে। একবার শুনবে তো স্বর্গে অবশ্যই আসবে। বাবা কাশি কালভার্টেরও উদাহরণ
শুনিয়েছেন। শিবের কাছে গিয়ে নিজেকে বলিদান দিত। তাদেরও তো কিছু প্রাপ্তি হওয়া উচিৎ।
তোমরাও নিজেদের বলিদান দিচ্ছ। পুরুষার্থ করছো রাজত্বের জন্য। ভক্তি মার্গে রাজত্ব
তো হয় না। কেউই বাড়ি ফিরে যেতে পারে না। তাহলে কি হয়, তারা যা কিছু পাপ করেছে
সেইসব শাস্তি ভোগ সমাপ্ত হয়ে যায়। পুনরায় নতুনভাবে জন্ম হয়। আবার নতুন জন্মে
পাপ শুরু হয়। তাছাড়া এখানেই তো সবাইকে থাকতে হয়। নম্বর ওয়ানে তোমরাই আছো।
তোমরাই ৮৪ জন্ম ভোগ করো। সবাইকে সতঃ রজঃ তমোতে আসতেই হয়। বাবা বলছেন যে এই সময়
সমগ্র মনুষ্য সৃষ্টির ঝাড় ক্ষণভঙ্গুর হয়ে গেছে। মানুষ তো একদমই ঘোর অন্ধকারে
কুম্ভকর্ণের নিদ্রায় শুয়ে আছে। একজন কুম্ভকর্ণ নয়, অনেক আছে। তোমরা যতই বোঝাও না
কেন, তারা শুনতেই চায়না। যাদের পার্ট আছে তারা পুরুষার্থ করতে থাকে আর তারাই
মাতা-পিতার হৃদয়ে স্থানলাভ করে। সিংহাসনে তারাই বসে। কত কন্যারা জিজ্ঞাসা করে বাবা,
বাচ্চাদেরকে একটু বকা-ঝকা করতেই হয়। বাবা বলেন - এর জন্য এত কিছু নয়। তোমরা আমায়
ডেকেছিলে আমাদের পতিতদেরকে পাবন বানাও। বাবাও বলেন যে - কাম হলো মহাশত্রু। এরকম বলা
যায়না যে ক্রোধ হলো শত্রু। মাতাদের মধ্যে এতটা থাকেনা, পুরুষরা অনেক লড়াই করে।
এখন বাবা তোমাদের মাতাদেরকে আগে রেখেছেন। বন্দেমাতরম্। না হলে তো মাতাদেরকে বলা হতো
তোমাদের পতিই হল গুরু, ঈশ্বর। তাঁর মতেই চলতে হবে। হাতে সূতো বাঁধা আর তৎক্ষনাৎ
পতিত হয়ে যায়। এই ঈশ্বর তাদের প্রাপ্ত হয়েছে! এখন রামরাজ্য স্থাপন হচ্ছে, বাকি
সবাই মরে যাবে। বাবা বুঝিয়েছেন - বিনাশ কালে বিপরীত বুদ্ধি। বিনাশ কালে প্রীত
বুদ্ধি। তোমাদের পরমপিতা পরমাত্মার সাথে প্রীত বুদ্ধি আছে। তোমাদের আত্মা জানে যে,
শিব বাবা এনার মধ্যে আসেন। এনার দ্বারা আমরা শুনছি। এত ছোট বিন্দু। শিববাবার এটা হলো
টেম্পোরারি রথ। এনার দ্বারা এই রুদ্র জ্ঞান যজ্ঞ রচনা করেছেন, যেটা বৃদ্ধি হতেই
থাকবে। বিন্দু বিন্দু করে বাচ্চাদের বুদ্ধিরূপী পুকুর ভরপুর হবে। বাচ্চারা নিজেদের
সব কিছু সফল করতে থাকে - কেননা জানে যে এখানে তো সবকিছুই মাটিতে মিশে যাবে। কিছুই
থাকবে না। এতটা তো সফল হয়ে যাবে। সুদামারও উদাহরণ আছে তাইনা। কন্যারা বাবার কাছে
এক মুষ্টি চাল বা ৬-৮ টাকা পাঠিয়ে দেয়। বাঃ বচ্চী! বাবা তো হলেন দীনবন্ধু, তাই
না। এসব ড্রামাতে নিহিত আছে, পুনরায় হবে। তোমরা হলে বন্ধনে আবদ্ধ। বাবা বলেন তোমরা
হলে ভাগ্যশালী- কারণ তোমরা শিব বাবার হাত ধরতে পেরেছ তাই না। এমন একদিন আসবে, যখন
আর্য সমাজের সবাই আসবে। কোথায় যাবে? মুক্তি জীবনমুক্তির জায়গা তো একটাই। শাস্তি
খেয়ে সবাইকে মুক্তিতে যেতে হবে। এখন হল বিনাশের সময়। সবাই বাড়ি ফিরে যাবে। এরা হলো
সাজনের বরযাত্রী। কিভাবে বরযাত্রীরা যাবে, সেটারও সাক্ষাৎকার হবে। তোমরা ছাড়া আর
কেউই দেখতে পাবে না। আচ্ছা!
মিষ্টি-মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত।
আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।
ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ )
বাবার দ্বারা জ্ঞানের যে গুপ্তদান প্রাপ্ত হয়েছে, তার মূল্য বুঝে নিজের ঝুলি জ্ঞান
রত্ন দিয়ে ভরপুর করতে হবে। সবাইকে গুপ্তদান দিতে থাকো।
২ ) এই অন্তিম সময়ে
যখন ফিরে যেতে হবে তখন নিজের সব কিছু সফল করতে হবে। প্রীত বুদ্ধি হতে হবে। মুক্তি
আর জীবন্মুক্তির রাস্তা সবাইকে বলে দিতে হবে।
বরদান:-
ভোলাভালা হওয়ার সাথে সাথে অলমাইটি অথরিটি হয়ে মায়ার সাথে মোকাবিলা করা শক্তি স্বরূপ
ভব
কখনও কখনও ভােলাভালা
হয়ে থাকাটা অনেক বড় ক্ষতি করে দেয়। সরলতা, ভোলা রূপ ধারণ করে নেয়। কিন্তু এইরকম ভোলা
হও না যে মায়ার সাথে মোকাবিলাই না করতে পারো। সরলতার সাথে সাথে সমাহিত করা আর সহ্য
করারও শক্তি চাই। যেরকম বাবা ভোলানাথ হওয়ার সাথে সাথে অলমাইটি অথরিটিও, সেইরকম
তোমরাও ভোলাভালা হওয়ার সাথে সাথে শক্তি স্বরূপও হও তাহলে মায়ার গোলাও লাগবে না, মায়া
আক্রমণ করার পরিবর্তে নমস্কার করবে।
স্লোগান:-
নিজের
হৃদয়ে স্মরণের ঝান্ডা ওড়াও তাহলে প্রত্যক্ষতার ঝান্ডা উড়তে থাকবে।
অব্যক্ত ঈশারা :-
জ্বালা স্বরূপ স্থিতিতে থেকে শক্তিশালী স্মরণের অনুভব করো
বিশেষ স্মরণের
যাত্রাকে পাওয়ারফুল বানাও, জ্ঞান স্বরূপের অনুভবী হও। তোমাদের, শ্রেষ্ঠ আত্মাদের
শুভ বৃত্তি বা কল্যাণের বৃত্তি আর শক্তিশালী বাতাবরণ অনেক অতৃপ্ত আত্মা, উদ্ভ্রান্ত
হওয়া আত্মা, আহ্বান করা আত্মাদেরকে আনন্দ, শান্তি আর শক্তির অনুভূতি করাবে।