13.06.2026 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


“মিষ্টি বাচ্চারা - বাবা এসেছেন সম্পূর্ণ দুনিয়া থেকে বিকারের উত্তাপকে প্রশমন করে সবাইকে শীতল করতে, জ্ঞানের বর্ষা শীতল করে দেয়”

প্রশ্নঃ -
কোন্ উত্তাপ সম্পূর্ণ দুনিয়াকে দহন করছে?

উত্তরঃ  
কাম বিকারের অগ্নি সম্পূর্ণ দুনিয়াকে দহন করছে। সবাই কাম বিকারের উত্তাপে জ্বলে পুড়ে কালো হয়ে গেছে। বাবা জ্ঞানের বর্ষা করে শীতল করেন। যেমন বৃষ্টি পড়লে পৃথিবী শীতল হয়ে যায় তেমনই এই জ্ঞান বর্ষণের দ্বারা ২১ জন্মের জন্য তোমরা শীতল হয়ে যাও। কোনোরকমের তাপ থাকে না। তত্ত্ব গুলিও সতোপ্রধান হয়ে যায়। কোথাও তাপ থাকে না।

ওম্ শান্তি ।
আত্মা রূপী বাচ্চারা কার স্মরণে বসে আছে? নিশ্চয়ই নিজের আত্মিক পিতার স্মরণে বসে আছে। আত্মা নিজের পরম পিতা পরমাত্মার স্মরণে বসে আছে যে আমাদেরকে রূহানী পিতা এসে রিফ্রেশ করে শীতল করবেন, কারণ কাম চিতায় বসে ভারত পুড়ে মরেছে। গানও গায় তপ্তকে শীতল করো। তপ্ত কিসের? কাম চিতার। তাপ বৃদ্ধি পায় তখন মানুষের মৃত্যু হয়। এই কাম বিকারের চিতায় ভারত একেবারে পুড়ে মরেছে তাই বাবাকে স্মরণ করে যে এসে শীতল করো। বৃষ্টিপাত হলে শীতল হয়ে যায়। ধরিত্রী শীতল হয়। এই বৃষ্টি হলো জ্ঞানের। মাত্র একবার এসে এমন শীতল করে দেন। এত কিছু দান করে দেন যে সত্যযুগে কোনও জিনিসের জন্য ব্যাকুলতা থাকে না। অর্ধকল্প ব্যাকুলতা নিয়ে থেকেছো - বাবা এসে শীতল বানাও। পতিত-পাবন বাবা এসে আমাদের শীতল করেন। এই জ্ঞানের বর্ষা দ্বারা ভারত অথবা সম্পূর্ণ দুনিয়া শীতল হয়ে যায়। তোমরা স্বর্গের মালিক হয়ে যাও। যখন মানুষ মরে তখন বলা হয় স্বর্গবাসী হয়েছে। তারা তো বলে শুধু মুখ মিষ্টি করে। তোমরা জানো এখন স্বর্গের স্থাপনা হচ্ছে। বাবা এসেছেন, এই জ্ঞানের বর্ষা করছেন। শীতল অনুভূতির প্রভাব ২১ জন্ম থাকে। সেখানে না হয় বৃষ্টি, না থাকে কোনো জিনিসের ইচ্ছা। সর্বদাই থাকে বসন্ত বাহার। সেখানে কোনোরকমের দুঃখ থাকে না। সূর্যও থাকে সতোপ্রধান। কোনোরকম তীব্র তাপ থাকে না। তোমরা সম্পূর্ণ বিশ্বের মালিক হয়ে যাও। এখন তো পরাধীন হয়ে আছো। গানও গেয়ে থাকো আমি দাস, আমি দাস তোমার....বাবাকে স্মরণ করে। এখন বাবা বলেন - তোমাদের সেবায় এসে আমি তোমাদের গোলাম হয়েছি। তোমাদের অর্থাৎ বাচ্চাদের সেবা করি। পরের দেশে, পতিত দেশে, পতিত শরীরে আমি আসি। এই পতিত দুনিয়ায় একজনও পবিত্র হতে পারে না। সত্যযুগকে পবিত্র, কলিযুগকে পতিত বলা হয়, কারণ সবাই হল বিকারগ্রস্ত। ভারতবাসীই এই জ্ঞান বুঝবে। যারা ৮৪ জন্ম নিয়েছে তারাই এই নলেজ শুনবে বা যারা সত্যযুগ - ত্রেতায় আসবে তারাই এসে ব্রাহ্মণ হবে, নম্বর অনুযায়ী পুরুষার্থ অনুসারে । বাবা বুঝিয়েছেন এখন তোমরা ব্রাহ্মণ বর্ণে আছো তারপর তারাই দেবতা বর্ণে আসবে। ব্রাহ্মণ বর্ণ অর্থাৎ ব্রাহ্মণ ধর্ম স্থাপন করতে বাবা আসেন। ব্রহ্মা, ব্রাহ্মণ ধর্ম স্থাপন করেন। এমন বলা হবে না যে পরমপিতা পরমাত্মা এসে শূদ্র দের ব্রাহ্মণ বানান। এইরূপ তোমাদের ডিগবাজির খেলা চলতে থাকে। এই কথা তো খুবই সহজ। তোমরা তো জানো চক্র কীভাবে আবর্তিত হয়? বিরাট রূপে ব্রাহ্মণের শিখা এবং শিববাবাকে ভুলে গেছে। বলে দেবতা, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র....পুনরায় শূদ্র থেকে দেবতা। এবারে ব্রাহ্মণ কোথায়? ব্রাহ্মণ রা যদিও গায় ব্রাহ্মণ দেবতায় নমঃ। তাহলে প্রজাপিতা ব্রহ্মার বংশধর রা কোথায়? প্রজাপিতা ব্রহ্মার নাম হল বিখ্যাত। চিত্র গুলিতে অনেক ভুল করেছে। প্রজাপিতা ব্রহ্মার সন্তানদের কোনো নাম চিহ্নটুকুও নেই। স্কুলে টিচার পড়ান। সেটা হলো সোর্স অফ ইনকাম। এইম অবজেক্ট তো নিশ্চয়ই চাই। তোমরা বাচ্চারা জানো ওই পড়াশোনা দ্বারা পদ মর্যাদা প্রাপ্ত হয়। পতিত দুনিয়ায় ভগবান এসে পতিতদের পড়ান। বাবা বলেন - বাচ্চারা, আমি তোমাদের পড়াশোনা করিয়ে পবিত্র করি। এই পড়াশোনা দ্বারা অনেক ইনকাম হয়। অর্ধকল্পের জন্য তোমরা ভাগ্য নির্মাণ কর। ভারতে গায়ন আছে ২১ বংশ, এখন তোমরা অসীম জগতের পিতার কাছে ২১ বংশের অসীমের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করছো। লৌকিক পিতার উত্তরাধিকার অল্পকালের ক্ষণিকের জন্য থাকে। এই পিতার কাছে তোমরা এমন উত্তরাধিকার প্রাপ্ত কর যে বংশ থেকে বংশে তোমাদের কোনোরকম দুঃখ থাকবে না। ভারতেই অসীম সুখ ছিল। এই জ্ঞান আর কারো বুদ্ধিতে নেই। এই জ্ঞান প্রদান করেন পিতা তিনি জানেন আর যাদেরকে প্রদান করেন তারা জানে, আর কেউ জানেনা। গ্রন্থেও তাঁর মহিমা গায়ন করা আছে। এক ওঁকার.... নিরাকার, নির-অহংকার। এর অর্থ এখন তোমরা বুঝেছো। তারা তো শুধু গান গায় নিরহংকারী। এমন বিরাট অথরিটি হওয়া সত্ত্বেও তাঁর কোনো অহংকার নেই। এখানে একটু পজিশন ধারীদেরও কতখানি নেশা থাকে। সবই হল অল্পকালের পদ মর্যাদার নেশা আমি অমুক... এখন তোমাদের আছে এই রূহানী পড়াশোনার নেশা। তোমাদের আত্মা এখন জানে - আত্ম-অভিমানী হতে হবে তবেই বাবাকে স্মরণ করতে পারবে। বাবার সঙ্গে যোগ বিচ্ছিন্ন হলেই মায়ার আঘাত লাগে, নিস্তেজ হয়ে যায়। স্মরণ করতে থাকলে খুশীর পারদ ঊর্ধ্বে থাকবে। কোনো বড় পরীক্ষা পাস করলে তো অনেক খুশীর অনুভব হয়। মনে হয় এর উপরে আর কোনো পরীক্ষা নেই। তোমরাও জানো আমাদের এই পড়াশোনার উপরে আর কোনো পড়া নেই। এই লক্ষ্মী-নারায়ণ অতীতে নিশ্চয়ই এমন পড়া করেছিলেন। রাজ যোগের শিক্ষা প্রাপ্ত করে তবে মহারাজা-মহারানী হয়েছেন। রাজযোগ তো বিখ্যাত। পরমপিতা পরমাত্মা এসে রাজ যোগের শিক্ষা প্রদান করেন - স্বর্গের জন্য। বলেন অতীতে এমন কর্ম করেছে যে এই পদ প্রাপ্ত করেছে।

তোমরা জানো - এই জন্মে আমরা এমন কর্ম শিখছি যে ভবিষ্যতে ২১ জন্মের জন্য রাজত্ব করবে বা স্বর্গে বিরাজমান হবে। যথা রাজা, রানী তথা প্রজা তাইনা। এই হল রাজধানী তাইনা। বাবা এসেছেন - রাজধানী স্থাপন করতে। পরে তোমরা গিয়ে ২১ জন্ম রক্ষণাবেক্ষণ করবে। ৬৩ জন্ম তো দুঃখ ভোগ করেছে। সেসব শেষ হয়ে যাবে। ভারতকে স্বর্গ বলা হয়, এখন তো হল নরক। সৃষ্টি কতখানি বদলে গেছে। সেই রাজত্ব কোথায় চলে গেছে? রাবণের রাজ্য শুরু হয়েছে তখন তোমরা পতিত হয়েছো। বাবা বলেন তোমরা নিজের ৮৪-র চক্রের কথা জানো না। বাচ্চারা, এখন তোমাদের বার বার বোঝানো হচ্ছে। তোমরা ৮৪ জন্মের চক্র পূর্ণ করেছো। এখন এই হল তোমাদের শেষ জন্ম। এখন পুনরায় নিজের স্বর্গের অধিকার নিতে হবে। তোমরা মুক্তিধামে গিয়ে বসে থাকবে না। তোমাদের অলরাউন্ড পার্ট রয়েছে। এমন অনেকে আছে যারা সত্যযুগ থেকে কলিযুগ পর্যন্ত মুক্তিধামে থাকে। এমন বলবে না যে এখানে আসার চেয়ে মুক্তিধামে থাকা ভালো। সে তো মশার সাদৃশ্য হয়ে গেল। এলো আর চলে গেল। মানুষের মহিমা তো গায়ন করা হয়। এই মন্দির গুলি কাদের? যারা শুরু থেকে পার্ট প্লে করেছে, তাদেরই স্মারক চিহ্ন নির্মাণ হয়। শেষ সময়ে যারা আসে তাদের স্মারক চিহ্ন আছে কি? কিছুই নেই। তোমাদের কত বিশাল এই স্মরণিক। সবচেয়ে বেশী পার্ট তোমরা প্লে করো। তোমরা নিজের প্রালব্ধের সময় পূর্ণ করে যখন ভক্তিমার্গে আসো তখন তোমাদের স্মারক চিহ্ন এবং শিববাবার মন্দির নির্মাণ আরম্ভ হয়, তখন অন্য ধর্মের আগমন হয়। তাদের ধর্ম স্থাপন হয়। তোমরা নিজের হিস্ট্রি-জিওগ্রাফি জানো অন্য সব ধর্মের মানুষদেরও জানো। এ হলো ৮৪ জন্মের সিঁড়ি। প্রথমে আমরা স্বর্গে আসি তারপরে কীভাবে সিঁড়ি বেয়ে নীচে নামতে থাকি - সেই জ্ঞান তোমাদের বুদ্ধিতে আছে। প্রত্যেক জন্মে ভিন্ন নাম রূপ নিয়ে আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব ইত্যাদি অনেককে পেয়ে থাকি। এইসব তোমাদের পার্ট ড্রামাতে পূর্ব নির্দিষ্ট আছে। এই হল অসীমের ড্রামা, যা হুবহু রিপিট হয়। তোমরা জানো আমরাই সেই দেবী-দেবতা ছিলাম যারা ৮৪ জন্ম নিয়ে শূদ্র হয়েছে। পুনরায় আমরাই সেই দেবী-দেবতায় পরিণত হচ্ছি। মানুষ তো বলে দেয় আত্মাই হল পরমাত্মা। বাস্তবে আমরাই সেই এই হল কথাটির অর্থ । তারা বলে দেয় আত্মাই হল পরমাত্মা, পরমাত্মাই হল আত্মা। এ হল রাত দিনের তফাৎ । তোমরা এখন এই সব কথা গুলি জানো। তোমরা এখন পাণ্ডব হয়েছো। কৌরব - পাণ্ডব তো ভাই ভাই ছিল তাই না। এখন পিতা এসেছেন তাই তোমরা কৌরব থেকে পান্ডব হয়েছো। বাবা তোমাদের দুঃখ থেকে লিব্রেট করে গাইড রূপে ফিরিয়ে নিয়ে যান। নিজ ঠিকানার জ্ঞান তো কারো নেই। তারা বলে আত্মা ব্রহ্মে বিলীন হয়ে যাবে। সুতরাং ঘর নয়। ঘরে তো বাস করতে হয়। যাকে ইনকরপরিয়াল ওয়ার্ল্ড বলা হয়। এখন তোমরা বাচ্চারা জানো - আমরা নিরাকারী আত্মা নিরাকারী ওয়ার্ল্ডে বিন্দু সম বাস করি। সেখানেও নিরাকারী বৃক্ষ আছে। এইরূপ ড্রামা পূর্ব নিৰ্দিষ্ট আছে। বীজ এবং বৃক্ষের কথা জানতে হবে। এরই নাম ভ্যারাইটি ধর্মের বৃক্ষ, এ হল মনুষ্য সৃষ্টি। যার বীজরূপ হলেন বাবা, কত ভ্যারাইটি আছে। প্রত্যেকটি ধর্মের মানুষের ফিচার্স হলো পৃথক, এখানেও একের চেহারা অন্যের সঙ্গে মেলে না। এও ড্রামায় নির্দিষ্ট আছে। কল্প বৃক্ষের আয়ু হল ৫ হাজার বছর - এই কথা একমাত্র বাবা বোঝান। মানুষ হল অ্যাক্টর্স, এখানে পার্ট প্লে করতে আসে। এই হল মঞ্চ, আলো ইত্যাদির জন্য সূর্য, চাঁদ আছে। এই গুলি দেবতা নয়, এ হলো বাতি। কিন্তু সার্ভিস করছে, তাই দেবতা বলা হয়। বাস্তবে দেবতারা সার্ভিস করে না, সার্ভিস তো তোমরা বাচ্চারা কর। বাবা হলেন বিশ্বস্ত সেবক। বাচ্চারা যখন দুঃখে থাকে, বাবার তখন দয়া হয়। বাবা এসেছেন বোঝাতে। বাচ্চারা, তোমাদেরকে আবার সেই দেবী-দেবতা পদ প্রাপ্ত করাতে আসি। উত্তরণ কলা, অবতরণ কলা প্রত্যেকটি জিনিসের হয়। পুরানো দুনিয়াকে তমোপ্রধান, নতুন দুনিয়াকে সতোপ্রধান বলা হয়। প্রত্যেকটি জিনিস নতুন থেকে পুরানো হয়। আত্মা বলে - এই শরীরটিও হল তমোপ্রধান পতিত। সত্যযুগে আত্মা ও শরীর দুইই সতোপ্রধান ছিল। বুদ্ধির প্রয়োগ ছিল না। আত্মা তো এখন জ্ঞান প্রাপ্ত করেছে। স্মৃতি এসেছে, আমরা ৮৪ জন্ম নিয়েছি। এই রহস্য অসীম জগতের পিতা (আত্মার পিতা) এসে বোঝান। দুঃখে সবাই বাবাকেই আহ্বান করে। দয়া করো হে দুঃখ হরণকারী সুখ প্রদানকারী... ভারতই সবচেয়ে সুখী ছিল তাইনা। ভারতের মতন পবিত্র খন্ড অন্যটি হতে পারে না। বাচ্চারা, এখন বাবা তোমাদের ঝুলিতে অবিনাশী জ্ঞান রত্ন ভরে দিচ্ছেন। কখনও এমন পিতা দেখেছো। বাবা বলেন বাচ্চারা, আমি তোমাদের জন্য বৈকুণ্ঠের উপহার এনেছি। তোমরা স্বর্গবাসী ছিলে, এখন পতিত নরকবাসী হয়েছো। পবিত্র তাদের বলা হয় যারা বিকারগ্রস্ত হয় না। সত্যযুগে থাকে সম্পূর্ণ নির্বিকারী। এই সময় হলো - সম্পূর্ণ বিকারী। বাবা বলেন তোমরাও সম্পূর্ণ নির্বিকারী ছিলে, এখন পুনরায় সম্পূর্ণ নির্বিকারী দেবতা পদ প্রাপ্ত করতে হবে - বাবাকে স্মরণ করলে। শব্দটি কত ভালো - মন্মনাভব। আমি পিতা আমাকে স্মরণ করো তাহলে তোমরা তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হয়ে যাবে। আমি সর্বশক্তিমান, আমাকে স্মরণ করো। স্মরণকেই যোগ অগ্নি বলা হয়, যার দ্বারা তোমাদের পাপ দগ্ধ হবে। তোমরা পবিত্র হয়ে যাবে। আচ্ছা !

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) আধ্যাত্মিক পড়াশোনার নেশায় থাকতে হবে। বাবার মতন নিরহংকারী হতে হবে। নিজের পজিশন ইত্যাদির অহংকার রাখবে না।

২ ) নিজের ঝুলি জ্ঞান রত্নে পরিপূর্ণ রাখতে হবে। সম্পূর্ণ নির্বিকারী হয়ে দেবতা পদের অধিকারী হতে হবে। কখনও নিস্তেজ হবে না।

বরদান:-
স্থুল আর সূক্ষ্ম এই দুই রীতির দ্বারা নিজেকে ব্যস্ত রাখা মায়াজীৎ বিজয়ী ভব

নিজেকে সেবাধারী মনে করে নিজের রুচি, উৎসাহের দ্বারা সেবাতে ব্যস্ত থাকো তাহলে মায়া চান্স পাবে না। যখন সংকল্পে, বুদ্ধিতে বা স্থুল কর্ম করা থেকে ফ্রী থাকো তখন মায়া চান্স নেয়। কিন্তু স্থুল আর সূক্ষ্ম দুই রীতির দ্বারা খুশীর সাথে সেবাতে ব্যস্ত থাকো তাহলে খুশীর কারণে মায়া মোকাবিলা করার সাহস পাবে না এইজন্য নিজেই টিচার হয়ে বুদ্ধিকে ব্যস্ত রাখার ডেইলি প্রোগ্রাম বানাও তাহলে মায়াজীৎ, বিজয়ী হয়ে যাবে।

স্লোগান:-
নিশ্চয় আর দৃঢ়তার সাথে বলো বাবা আমার সাথী তাহলে মায়া নিকটে আসতে পারবে না।

অব্যক্ত ঈশারা:- সদা হাসিখুশী থাকার জন্য নিজের নেচারকে সরল বানাও, সহনশীল হও।

বাপদাদা সকল বাচ্চাদের আচরণ আর চেহারাতে, বাণী এবং কর্মে সরলতা আর মধুরতা দেখতে চাইছেন। আলস্যতা বা ক্লান্তির কারণে যদি বাণী মধুর না হয়, চেহারা মধুর না হয়, সিরিয়াস থাকে তাহলে গুণ সম্পন্ন বলা হবে না। যেরকমই সারকামস্ট্যান্স হোক কিন্তু আমার যে গুণ আছে, সেই আমার গুণ ইমার্জ হওয়া চাই। বাপদাদার যে গুণ, হুবহু সেই গুণ, সেই কর্তব্য, সেই বাণী, সেই সংকল্প অনুভব হবে, সকলের মুখ থেকে বেরিয়ে আসবে এনাকে তো বাবার মতো লাগছে।