14.02.2026 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


(বিশেষভাবে শিব জয়ন্তীর নিমিত্ত)

প্রশ্নঃ -
বাবা বাচ্চাদের সত্যযুগে নয়, এই সঙ্গম যুগেই সৃষ্টির সমাচার শোনান, কেন?

উত্তরঃ  
কেননা সত্যযুগ তো হলো আদির সময়, সেই সময় সম্পূর্ণ সৃষ্টির সমাচার অর্থাৎ সৃষ্টির আদি - মধ্য এবং অন্তের জ্ঞান কিভাবে শোনাবেন, যতক্ষণ না এই সার্কেল রিপিট হচ্ছে, ততক্ষণ কিভাবে এই সমাচার শোনাতে পারবেন? এই সঙ্গম যুগেই তোমরা বাচ্চারা বাবার কাছে এই সম্পূর্ণ সমাচার শোনো । তোমরাই জ্ঞানের তৃতীয় নেত্র প্রাপ্ত করো ।

ওম্ শান্তি ।
আজ হলো ত্রিমূর্তি শিব জয়ন্তী, সেইসঙ্গে ব্রাহ্মণ জয়ন্তী এবং সঙ্গম যুগ জয়ন্তীর শুভ দিবস । অনেকেই আছে, যাদের বাবা ঈশ্বরীয় জন্মসিদ্ধ অধিকারের গ্রিটিংসও দিতে পারেন না । অনেকেই আছে যারা জানে না যে, শিব বাবা কে, তাঁর থেকে কি প্রাপ্ত হবে । তারা গ্রিটিংস কি বুঝবে । নতুন বাচ্চারা একদমই বুঝতে পারে না । এ হলো জ্ঞান ডান্স । এমন তো মানুষ বলে থাকে যে, শ্রীকৃষ্ণ ডান্স করতেন । এখানে বাচ্চারা রাধা - কৃষ্ণ সেজে ডান্স করে, কিন্তু নৃত্যের তো কোনো ব্যাপারই নেই । সে তো সত্যযুগে ছোটবেলায় প্রিন্স - প্রিন্সেসদের সঙ্গে নৃত্য করবে । বাচ্চারা জানে যে - ইনি হলেন বাপদাদা । দাদাকে গ্র্যান্ড ফাদার বলা হয় । এই দাদা তো হলেন দেহের পিতা । এ তো হলো ওয়ান্ডারফুল কথা । ওই দাদা হলেন রুহানী আর ইনি হলেন দৈহিক, এদের বলা হয় বাপদাদা । বাবার কাছ থেকে দাদার দ্বারা উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয় । উত্তরাধিকার হলো গ্র্যান্ড ফাদারের । সব আত্মারা হলো ব্রাদার্স, তাই উত্তরাধিকার বাবার কাছ থেকে প্রাপ্ত হয় । বাবা বলেন, তোমাদের অর্থাৎ আত্মাদের নিজের শরীর, নিজের কর্মেন্দ্রিয় আছে । আমাকে নিরাকার বলা হয় - তাহলে অবশ্যই আমার শরীর চাই । তবেই তো বাচ্চাদের রাজযোগ শেখাবো অথবা মানুষ থেকে দেবতা, পতিত থেকে পাবন হওয়ার মার্গ বলে দেবো বা আবর্জনাযুক্ত দেহ রূপী বস্ত্র পরিস্কার করবো.... তাহলে অবশ্যই অনেক বড় ধোপা হবেন । সম্পূর্ণ বিশ্বের আত্মাদের আর শরীর ধুয়ে পরিস্কার করেন । জ্ঞান আর যোগের দ্বারা তোমাদের আত্মাকে শুদ্ধ করা হয় ।

আজ তোমরা বাচ্চারা এসেছো, তোমরা জানো যে, আমরা শিব বাবাকে অভিবাদন জানাতে এসেছি । বাবা তবুও বলেন, তোমরা যাকে গ্রিটিংস জানাও, সেই বাবাও তোমাদের গ্রিটিংস জানান, কেননা তোমরা হলেন অনেক বড় সর্বোত্তম ভাগ্যবান ব্রাহ্মণ কুল ভূষণ আত্মা । দেবতারা এতটা উত্তম নয়, যতটা তোমরা । ব্রাহ্মণ হলো দেবতাদের থেকে উচ্চ । উচ্চ থেকেও উচ্চ হলেন বাবা । তিনি আসেন ব্রহ্মার তনে । তাঁর সন্তান তোমরা অনেক উচ্চ ব্রাহ্মণ তৈরী হও । ব্রাহ্মণ হলো শিখা । তার নীচে হলো দেবতারা । সবথেকে উপরে হলেন বাবা । বাচ্চারা, বাবা তোমাদের ব্রাহ্মণ - ব্রাহ্মণী বানিয়েছেন - স্বর্গের উত্তরাধিকার দান করার জন্য । এই লক্ষ্মী - নারায়ণের দেখো, কতো মন্দির বানানো হয়েছে । মানুষ সেখানে মাথা ঠোকে । ভারতবাসীদের তো একথা জানা উচিত যে, এরাও মানুষ । লক্ষ্মী - নারায়ণ এরা দুইজন পৃথক । এখানে তো এক মানুষের দুই নাম রেখে দেয় । একজনের নাম লক্ষ্মী - নারায়ণ, অর্থাৎ নিজেকে বিষ্ণু চতুর্ভুজ বলে । l লক্ষ্মী - নারায়ণ অথবা রাধা-কৃষ্ণ নাম রেখে দেয়, তাহলে তো চতুর্ভুজ হয়ে গেলো, তাই না । এই বিষ্ণু তো হলেন সূক্ষ্ম বতনের এইম অবজেক্ট । তোমরা এই বিষ্ণুপুরীর মালিক হবে । এই লক্ষ্মী - নারায়ণ হলেন বিষ্ণুপুরীর মালিক । বিষ্ণুর হলো চার ভুজা । দুই লক্ষ্মীর, আর দুই নারায়ণের । তোমরা বলবে যে, আমরা বিষ্ণুপুরীর মালিক হচ্ছি । আচ্ছা, বাবার মহিমার গীত শোনাও । ( কতো মিষ্টি - কতো প্রিয় আমাদের শিব ভোলা ভগবান.... )

সম্পূর্ণ দুনিয়াতে শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত এই একজনের ছাড়া আর কারোরই এমন কোনো মহিমা নেই । নম্বরের ক্রমানুসার তো আছেই । সবথেকে বেশী সর্বোত্তম মহিমা হলো উঁচুর থেকেও উঁচু পরমপিতা পরমাত্মার, তোমরা সবাই যার সন্তান । তোমরা বলো যে, আমরা ঈশ্বরের সন্তান । ঈশ্বর তো স্বর্গের রচয়িতা, তাহলে তোমরা নরকে কেন পড়ে আছো । ঈশ্বরের এখানে জন্ম হয় । খ্রীস্টানরা বলবে, আমরা খ্রাইস্টের । এই ভারতবাসীরা ভুলে গেছে যে, আমরা পরমপিতা পরমাত্মা শিবের ডায়রেক্ট বাচ্চা । বাবা এখানে আসেন বাচ্চাদের নিজের বানিয়ে রাজ্য - ভাগ্য দান করতে । আজ বাবা খুব ভালোভাবে বোঝান কেননা অনেক নতুন বাচ্চাও আছে । এদের কাছে বোঝা মুশকিল । হ্যাঁ, তবুও তারা স্বর্গবাসী হয় । স্বর্গে সূর্যবংশী রাজা - রানীও আছে, আবার দাসদাসীরাও আছে । প্রজাও অনেক হয় । এদের মধ্যে কেউ গরীব, কেউ আবার বিত্তবান হয় । বিত্তবানদেরও দাসদাসী থাকে । সম্পূর্ণ রাজধানী এখানেই স্থাপন হচ্ছে । এ তো আর কেউই জানে না । সকলের আত্মাই তমোপ্রধান, কারোরই জ্ঞানের তৃতীয় নেত্র নেই । (গীত) এখন বাবার মহিমা শুনেছে । তিনি হলেন সকলের বাবা । ভগবানকে বাবা বলা হয়, অসীম সুখ প্রদানকারী পিতা । এই ভারতে একসময় অগাধ সুখ ছিলো, লক্ষ্মী - নারায়ণের রাজত্ব ছিলো । এই লক্ষ্মী - নারায়ণ ছোটবেলায় রাধাকৃষ্ণ, তারপর স্বয়ংবরের পরে লক্ষ্মী - নারায়ণ নাম হয় । এই ভারতে পাঁচ হাজার বছর পূর্বে দেবতাদের রাজত্ব ছিলো । লক্ষ্মী - নারায়ণ ছাড়া আর কারোর রাজত্ব ছিলো না । কোনো খণ্ড ছিলো না । তাই এখন ভারতবাসীদের জানা উচিত যে, লক্ষ্মী - নারায়ণ পূর্ব জন্মে কি কর্ম করেছিলেন । যেমন বলা হবে, বিড়লা কোন্ কর্ম করেছে যে এতো ধনবান হয়েছে । তখন অবশ্যই বলবে, পূর্ব জন্মে অনেক দান - পুণ্য করে থাকবে । কারোর কাছে অনেক ধন আছে, আবার কেউ খেতেও পায় না, কেননা কর্ম এমনই করেছে । কর্মকে তো মানো । কর্ম - অকর্ম আর বিকর্মের গতি গীতার ভগবান শুনিয়েছিলেন । যার মহিমা শুনেছো । শিব ভগবান হলেন এক । মানুষকে ভগবান বলা যায় না । বাবা এখন কোথায় এসেছেন ! বোঝানো হয় যে, সামনে মহাভারতের লড়াই উপস্থিত, তাই মিষ্টির থেকেও মিষ্টি বাবা বোঝান যে, তাঁকে দুঃখে সবাই স্মরণ করে । দুঃখে সকলে স্মরণ করে.... শিব বাবাকে দুঃখে সবাই স্মরণ করে । সুখে কেউই করে না । স্বর্গে তো দুঃখ ছিলো না । ওখানে বাবার থেকে অর্জিত উত্তরাধিকার ছিলো । পাঁচ হাজার বছর পূর্বে যখন শিব বাবা এসেছিলেন, তখন ভারতকে স্বর্গ বানিয়েছিলেন । এখন হলো নরক । বাবা এসেছেন স্বর্গ বানাতে । দুনিয়া তো এর খবরই রাখে না । তারা বলে, আমরা সবাই অন্ধ । অন্ধের লাঠি, প্রভু তুমি এসো, এসে দৃষ্টি প্রদান করো । বাচ্চারা, তোমরা জ্ঞানের তৃতীয় নেত্র পেয়েছো । আমরা আত্মারা যেখানে থাকি, সে হলো শান্তিধাম । বাবাও ওখানে থাকেন । তোমরা আত্মারা, আর আমি থাকি । এনার আত্মাকে বলেন - আমি তোমাদের সমস্ত আত্মাদের বাবা ওখানে থাকি । তোমরা পুনর্জন্মের পার্ট প্লে করো, আমি সেই পার্ট প্লে করি না । তোমরা বিশ্বের মালিক হও, আমি হই না । তোমাদের ৮৪ জন্মগ্রহণ করতে হয় । তোমাদের বুঝিয়েছিলাম - হে বাচ্চারা, তোমরা নিজের জন্মকে জানো না । ৮৪ লাখ জন্ম বলে থাকে - এ হলো মিথ্যা কথা । আমি জ্ঞানের সাগর, পতিত পাবন, আমি আসি যখন সবাই পতিত হয় । আমি তখনই এসে সৃষ্টির আদি - মধ্য এবং অন্তের রহস্য বুঝিয়ে তোমাদের ত্রিকালদর্শী বানাই । অনেকেই জিজ্ঞাসা করে, সর্বপ্রথমে মানুষের রচনা কিভাবে হয়েছিলো? ভগবান কিভাবে সৃষ্টি রচনা করেছিলেন? এক শাস্ত্রতেও দেখানো হয় - প্রলয় হলো, তারপর অশ্বত্থ পাতায় শ্রীকৃষ্ণ এলেন । বাবা বলেন, এমন কোনো কথা নয়, এ হলো অসীম জগতের ড্রামা । দিন হলো সত্যযুগ আর ত্রেতা, আর রাত হলো দ্বাপর আর কলিযুগ ।

বাচ্চারা বাবাকে অভিবাদন করেন । বাবা বলেন তৎত্বম্ । তোমরাও একশো ভাগ দুর্ভাগ্যবান অবস্থা থেকে একশো ভাগ সৌভাগ্যবান হও । তোমরা ভারতবাসীরা তেমনই ছিলে, কিন্তু তোমরা জানোই না । বাবা এসেই বলেন । তোমরা নিজের জন্মকে জানো না । আমি এসে বলি - তোমরা ৮৪ জন্মগ্রহণ করেছো । বাবা তোমাদের এই সঙ্গম যুগে সম্পূর্ণ সৃষ্টির সমাচার শোনান । সত্যযুগে তো শোনাবেনই না । যেই সময় সৃষ্টির আদি - মধ্য - অন্ত হয়নি, তখন তার সমাচার কিভাবে বোঝাবেন? আমি আসি অন্তিমে, কল্পের সঙ্গম যুগে । শাস্ত্রে লেখা হয়েছে যুগে - যুগে, শ্রীকৃষ্ণ ভগবান উবাচঃ -- গীতাতে লিখে দেওয়া হয়েছে । সব ধর্মের মানুষ তো শ্রীকৃষ্ণকে ভগবান মানবে না । ভগবান তো নিরাকার, তাই না । তিনি হলেন সব আত্মাদের পিতা । বাবার থেকে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয় । তোমরা সব আত্মারা হলে ভাই - ভাই । পরমাত্মাকে সর্বব্যাপী বললে তো ফাদারহুড হয়ে যায় । ফাদার কি কখনো উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করে? উত্তরাধিকার বাচ্চারা প্রাপ্ত করে । তোমরা আত্মারা সবাই বাচ্চা । বাবার উত্তরাধিকার অবশ্যই প্রয়োজন । জাগতিক উত্তরাধিকারে তোমরা খুশী হও না, তাই তোমরা ডাকতে থাকো - তোমার কৃপায় আমরা অগাধ সুখ প্রাপ্ত করেছিলাম । এখন আবার রাবণের দ্বারা দুঃখ প্রাপ্ত করার কারণে ডাকতে শুরু করেছো । সকলের আত্মাই ডাকতে থাকে, কেননা এদের দুঃখ আছে তাই স্মরণ করে, বাবা এসে সুখ প্রদান করো । এখন এই জ্ঞানের দ্বারা তোমরা স্বর্গের মালিক হও । তোমাদের সদ্গতি হয়, তাই গায়ন হয় - সকলের সদ্গতি দাতা এক বাবা । এখন সকলেই দুর্গতিতে আছে, এরপর সকলের সদ্গতি হয় । যখন লক্ষ্মী - নারায়ণের রাজত্ব ছিলো, তখন তোমরা স্বর্গে ছিলে । বাকি সবাই মুক্তিধামে ছিলো । এখন আমরা বাবার কাছে রাজযোগ শিখছি । বাবা বলেন, কল্পের সঙ্গমে আমি তোমাদের পড়াই । মানব থেকে দেবতা বানাই ।

বাচ্চারা, আমি তোমাদের সমস্ত রহস্য বুঝিয়ে বলি - শিবরাত্রি কবে হয়েছে, তা তোমাদের জানা উচিত । কি হয়েছিলো, শিব বাবা কবে এসেছিলেন? মানুষ কিছুই জানে না । তাহলে তো পাথর বুদ্ধিরই হলো । এখন তোমরা পরশ পাথর তুল্য বুদ্ধির তৈরী হও । ভারত পারসপুরী গোল্ডেন এজ ছিলো । লক্ষ্মী - নারায়ণকেও ভগবান - ভগবতী বলা হয় । তাঁদের উত্তরাধিকার ভগবানই দিয়েছিলেন, আবারও দিচ্ছেন । তোমাদের আবার তিনি ভগবান - ভগবতী বানাচ্ছেন । এখন এ হলো তোমাদের অনেক জন্মের অন্তিম জন্ম । বাবা বলেন, বিনাশ সামনে উপস্থিত । একে বলা হয় রুদ্র জ্ঞান যজ্ঞ । দুনিয়ার যে যজ্ঞ হয়, তাকে বলা হয় মেটিরিয়াল যজ্ঞ । এ হলো জ্ঞানের কথা । এখানে বাবা এসে মানুষকে দেবতা বানান । তোমরা শিব বাবার আগমনের জন্য তাঁকে অভিবাদন জানাও । বাবা আবার বলেন, আমি একা তো আসিই না । আমারও শরীরের প্রয়োজন । আমাকে ব্রহ্মা তনে আসতে হয় । সর্বপ্রথমে সূক্ষ্ম বতন রচনা করতে হয় । তাই এনার মধ্যে প্রবেশ করেছি । ইনি তো পতিত ছিলেন । ৮৪ জন্মগ্রহণ করে পতিত হয়েছিলেন । সবাই বাবাকে ডাকতে থাকে । বাবা এখন বলছেন - বাচ্চারা, আমি আবার তোমাদের উত্তরাধিকার দান করতে এসেছি । বাবাই ভারতকে স্বর্গের উত্তরাধিকার দান করেন । স্বর্গের রচয়িতা হলেন বাবা, তাহলে অবশ্যই তিনি স্বর্গের উত্তরাধিকারই দান করবেন । তোমরা এখন স্বর্গের মালিক হচ্ছো । এ হলো পাঠশালা - ভবিষ্যতে মানুষ থেকে ২১ জন্মের জন্য দেবতা হওয়ার । তোমরা স্বর্গের মালিক হচ্ছো । ২১ জন্ম তোমরা সুখ ভোগ করো । ওখানে অকালে মৃত্যু হয় না । শরীরের আয়ু যখন সম্পূর্ণ হয়, তখন সাক্ষাৎকার হয় । আত্মা এক শরীর ত্যাগ করে অন্য শরীর ধারণ করে । সাপের উদাহরণ তো আছে !

বাচ্চারা, তোমরা এখন বাবাকে অভিবাদন জানাও । বাবাও আবার তোমাদের অভিবাদন জানান । তোমরা এখন দুর্ভাগ্যবান থেকে সৌভাগ্যবান হচ্ছো । পতিত মনুষ্য থেকে তোমরা পাবন দেবতা হও । চক্র তো ঘুরতেই থাকে । বাচ্চারা, এ তো তোমাদের বোঝাতে হবে । এরপর এ প্রায় লোপ হয়ে যায় । সত্যযুগে জ্ঞানের প্রয়োজন থাকে না । তোমরা এখন দুর্গতিতে আছো, তাই এই জ্ঞানের দ্বারা তোমরা সদ্গতি প্রাপ্ত করো । বাবা এসেই স্বর্গের স্থাপনা করেন । সকলের সদ্গুরু একজনই । বাকি ভক্তিমার্গের কর্মকাণ্ডের দ্বারা কারোর সদ্গতি হয় না । সকলের সিঁড়িই নীচে নামতে থাকবে । ভারত সতোপ্রধান ছিলো, তারপর ৮৪ জন্মগ্রহণ করতে হয়, তোমাদের আবার এখন উত্তরণে যেতে হবে । মুক্তিধাম, নিজের ঘরে ফিরে যেতে হবে । এখন এই নাটক সম্পূর্ণ হয়ে এসেছে । এই পুরানো দুনিয়া শেষ হয়ে যাবে । ভারতকে অবিনাশী খণ্ড বলা হয় । বাবার জন্মস্থান কখনোই শেষ হয়ে যায় না । তোমরা শান্তিধামে গিয়ে আবারও আসবে, এসে রাজত্ব করবে । পাবন এবং পতিত ভারতেই হয় । তোমরা ৮৪ জন্মগ্রহণ করতে করতে পতিত হয়ে গেছো । যোগী থেকে ভোগী হয়ে গেছো । এ হলো ভয়ানক নরক । এখন হলো গভীর দুঃখের সময় । এখনও তো অনেক দুঃখ আসবে । রক্তের খেলা চলবে । বসে বসে বোম্ব পড়বে । তোমরা কি অপরাধ করেছো? অকারণেই সকলের বিনাশ হয়ে যাবে । বাচ্চারা তো বিনাশের সাক্ষাৎকার করেছে ।তোমরা এখন এই সৃষ্টিচক্রের জ্ঞান জেনে গেছো । তোমাদের কাছে জ্ঞানের তলোয়ার , জ্ঞান খড়্গ আছে । তোমরা হলে ব্রহ্মা মুখ বংশাবলী ব্রাহ্মণ । প্রজাপিতাও বাবা । পূর্ব কল্পেও ইনি মুখ বংশাবলীর জন্ম দিয়েছিলেন । বাবা বলেন, আমি কল্পে - কল্পে আসি । আমি এনার মধ্যে প্রবেশ করে তোমাদের মুখ বংশাবলী বানাই । আমি ব্রহ্মার দ্বারা স্বর্গের স্থাপনা করাই । স্বর্গে তো ভবিষ্যতেই যাবে । এই ছিঃ - ছিঃ দুনিয়া তো শেষ হওয়া উচিত । অসীম জগতের পিতা আসেনই নতুন দুনিয়া রচনা করতে । বাবা বলেন - বাচ্চারা, আমি তোমাদের জন্য হাতে করে স্বর্গ নিয়ে আসি । আমি তোমাদের কোনো কষ্টই দিই না । তোমরা সবাই হলে দ্রৌপদী । আচ্ছা !

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ - সুমন এবং সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদের নমস্কার জানাচ্ছেন ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১) দেবতাদের থেকেও উচ্চ আমরা সর্বোত্তম ব্রাহ্মণ - এই রুহানী নেশাতে থাকতে হবে । জ্ঞান এবং যোগের দ্বারা আত্মাকে স্বচ্ছ বানাতে হবে ।

২ ) সবাইকে শিববাবার অবতরণের অভিনন্দন জানাতে হবে । বাবার পরিচয় দান করে পতিত থেকে পাবন বানাতে হবে । শত্রু রাবণের থেকে মুক্ত করতে হবে ।

বরদান:-
বিস্তারের রং - বেরং বিষয় থেকে পৃথক থেকে মুশকিলকে সহজ করে সহজযোগী ভব

বাবাকে দেখার পরিবর্তে যখন বিষয়কে দেখতে শুরু করো তখন অনেক প্রশ্ন উৎপন্ন হয় আর সহজ কথাও মুশকিল অনুভব হতে থাকে কেননা এই বিষয় বা কথা হলো বৃক্ষ আর বাবা হলেন বীজ । যারা এই বিস্তারের বৃক্ষকে হাতে তুলে নেয় তারা বাবাকে পৃথক করে দেয়, তখন বিস্তার এক জাল হয়ে যায় যাতে তারা আটকে যায় বা ফেঁসে যায় । এই বিষয়ের বিস্তারে রং - বেরংয়ের কথা থাকে যা নিজের প্রতি আকৃষ্ট করে, তাই বীজ রূপ বাবার স্মরণে বিন্দু লাগিয়ে সেই বিস্তার থেকে পৃথক হয়ে যাও, তাহলে সহজ যোগী হয়ে যাবে ।

স্লোগান:-
আমি এবং আমিত্ব ভাবের খাদকে সমাপ্ত করাই হলো রিয়েল গোল্ড হওয়া ।

অব্যক্ত ইশারা :- একতা আর বিশ্বাসের বিশেষত্বের দ্বারা সফলতা সম্পন্ন ভব

এখন সবাই মিলে একমত হয়ে সেবার যে কোনো কার্য ধুমধামের সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে চলো । প্রতিটি ব্রাহ্মণ আত্মার সহযোগে, শুভ কামনায়, শুভ ভাবনায় এই সেবাতে সাড়া ফেলে দাও । কেউ যদি মুখে বলতে নাও পারে, তাহলে মনের বায়ুমণ্ডলের দ্বারা সুখের বৃত্তি, সুখময় স্থিতির দ্বারা সুখময় সংসার তৈরী করো । কোথাও যদি যেতে না পারো, শরীর যদি ঠিক না থাকে তাহলে ঘরে বসে এই সেবা করো, সেবাতে অবশ্যই সহযোগী হও, তবেই সকলের সহযোগে সুখময় সংসার তৈরী হবে ।